ভালোবাসা তার মনে নিভৃতে নির্মাণ করে সহজেই/ আবেগান্ধ তাজমহল মর্মরে পাথরে
Published : 04 Apr 2025, 08:43 PM
উৎকণ্ঠার হেতু কম নয়
যে নিঃসঙ্গ পরিযায়ী পাখিটির
ডানায় কিছুটা ক্ষত
ক্লান্তি জমে আছে
ধু ধু শীতে চিনতে পারো তাকে?
হিমদুঃখ ক্ষত কিংবা দাগা
জ্ঞাতসারে দিয়েছ তুমিই,
সাক্ষী আছে দিগন্ত ও চরাচর
তারা মৌন ভাষাহীন বলে
বিবৃতি বা প্রতিবাদে অপারগ
এ ভূখণ্ডে গুম ছিল আয়নাঘর ছিল
কালোমেঘ-প্রতারণা ছিল
এমন জমাট শীতে সেই দৈন্য ধুলোময়লা
সামান্যই ক্ষয়াটে হয়েছে--
দহনদংশন বীজ কিছুমিছু
রয়ে গেছে অন্তরালে আজও
সুতরাং উৎকণ্ঠা যে অহেতুক--বলতে পারো না
বাধা নেই, অতএব
আলগোছে ব্যাকুলিত হাতখানি ধরো
বয়ে যাচ্ছে মোলায়েম হাওয়ার মধুতা
পান করো বুঁদ হও শিহরিত হও
বাস্তবে না হোক না হলো, মনে মনে হোক!
এ ফাল্গুন বৃথা যাবে, আমাদের দেখা যদি কোনোদিন
না হয়, তাহলে-- প্রকৃতিও কষ্ট পাবে খুব
আমরা কেন প্রকৃতিকে বিষণ্ণতা উপহার দেব,
হাত ধরো, গুনগুন করে তোলো লুকোনো ঝরনার ধ্বনি
আলতো করে চিবুকের সীমানায় হাতের প্রসার হোক
আপাতত একটুকুই, এর কিছু বেশি নয়, মাত্রা কিছু থাক
হাত ধরো, গুঞ্জনে মাতেলা হোক শান্ত সৌম্য হোক
বাস্তবে না হোক না হলো, মনে মনে হতে বাধা নেই!
ঐতিহ্য-বাঁধন তুমি শেকড়ের
‘বৈশাখ’ শব্দটি এক নিপুণ শিল্পীর
জলরঙে আঁকা ছবি
লাবণ্য টলটল করে
অন্তঃস্থিত সুঘ্রাণে মাতাল হই
এর দীপ্তি বিহ্বলতা রসের আবেশ
জড়িয়ে ভরিয়ে থাকে
মধুক্ষরা সম্মোহনে
নতুন স্বপ্নের বীজ বুনে চলে
মনোভূমে বৃষ্টিভেজা উর্বরা মাটিতে
আসবে শস্যমতী দিন, থাকবে না আকাল কাহাত
এইমত সনাতনী প্রগাঢ় বিশ্বাসে
‘বৈশাখ’ শব্দটি এক মায়াচ্ছন্ন প্রেরণারও উৎস বটে
প্রগতি পথের দিশা
শেকড়ের ঐতিহ্য-বাঁধন
অনিন্দ্য উজ্জ্বল কান্তি
অহঙ্কারও--আশ্চর্য পরম!
শব্দ বলি ভালোবাসা বলি
পাখি নয়, তাও ওড়ে, এরকম উড্ডয়ন
জন্মগত যেন। উড়তে থাকে সৌরলোকে
ছায়াপথে আকাশে আকাশে
ইন্দ্রিয় বোধের মধ্যে সঞ্চালিত
অলৌকিক জাদুর ক্ষমতা
অপ্রেমে ঘৃণায় কিংবা নির্লিপ্তির তটে
ফোটায় সে আলো-আশা সুগন্ধিয়া ফুল
নৈরাশার কালো চশমা অনাসক্তি
জীবন বৈমুখ করে দিয়েছে যাদের
পুনরায় ফুল্ল আর উদ্দীপিত
করে তুলতে সে দেখছি সক্ষম
শব্দ বলে ডাকি তাকে ভালোবাসা বলি
আছে তার ব্রহ্মতেজ ক্ষমতা অপার
তাকে তোমরা যত্ন কোরো সাধ্যমত
হারিয়ে ফেললে পরে পস্তাবে আখেরে...
বিদীর্ণ বলেই পুষ্প বিকশিত
পাথরের মধ্যে যদি কোনোদিন ফুল ফোটে
বঞ্চিত লাঞ্ছিত কোনো দুর্ভাগা প্রেমিক
ফুল হয়ে ফুটিয়াছে এই সত্য জেনো
ভালোবাসা তার বুক ব্যথাদীর্ণ করেছে বলেই
এমত পুষ্পের মত ফুটতে সে পেরেছে।
তারও ছিল স্বাভাবিক তৃষ্ণা ক্ষুধা অভিমান ও জেদ
অতিরিক্ত আনুগত্য নিবেদিত মনোবৃত্তি
তাকে এই দুর্ভাগ্য দিয়েছে
ভালোবাসা তার মনে নিভৃতে নির্মাণ করে সহজেই
আবেগান্ধ তাজমহল মর্মরে পাথরে
তার আত্মা অনুভূতি মর্মতাপ ওই স্মৃতিসৌধের ভিতরে
সাক্ষাৎ সৌন্দর্য হয়ে প্রস্ফুটন পায়
নিজেকে চূর্ণিত ধ্বস্ত করে করে এ কেমন প্রতিশোধ
নিয়েছে সে নিরাপোস মহৎ প্রেমিক
আমরা তাকে সম্ভ্রমে কুর্নিশ করি তার কাছে কৃপাভিক্ষা করি
তার দেখা পাচ্ছি বলে নিজেকেও ধন্য জ্ঞান করি...
রিমান্ড-বিরোধী কয়েক পংক্তি
ইচ্ছেফুল হয়ে ফোটো
ওগো শব্দ
কবির মগজে মনে
হৃৎপিণ্ড মাঝারে
তুমি শব্দ জল হাওয়া
তুমি শব্দ ঋতুমতী বীজধান
সুগন্ধি কামিনী ফুল
শ্রমিকের নোনতা ঘাম
নিঃশব্দে নীরবে তুমি
নিতে পারো অধিষ্ঠান
তোমাকে রিমান্ডে নিয়ে
করা হলে নির্যাতন
দৈহিক ও মানসিক
কী করে থাকবে থিতু
বৈকল্য ও দুঃখতাপ
কী করে তাড়াবে?