স্বদেশ রায়ের কবিতা: মন্ত্রী হবার পরে

স্বদেশ রায় | ২৭ মে ২০১৮ ১:২৪ পূর্বাহ্ন


মন্ত্রী হবার পরে আমার শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রাটা একটু বেড়ে গেলো
নিজের কাছে এ তাপমাত্রাটা ভালোই লাগে।
আগে এ তাপমাত্রা হলে আমি জ্বরাক্রান্ত রোগীর মত শুয়ে থাকতাম
শ্রমিক এলাকার খুপরী ঘরটিতে তখন কোন ফ্যান ছিলো না
তারপরেও আমার শীত করতো। আর এখন এ তাপমাত্রায় এসিটা
যত বেশি চালিয়ে দেই ততই আমার ভালো লাগে।
এখন হাঁটতে গেলে নিজেকে একটু বেশি দীর্ঘদেহী মনে হয়,
আগে যাদের দেহ দীর্ঘ বলে জানতাম তাদেরকে এখন খাটো মনে হয়-
যাদের বিদ্যাবুদ্ধির জন্যে সম্মান করতাম, তাদের সকলকে
এখন আমার নির্বোধ মনে হয়। (সম্পূর্ণ…)

শিল্পী মুর্তজা বশীর: বাংলাদেশে কেউ শহীদুল্লাহকে নিয়ে কোনো গবেষণা করেনি

রাজু আলাউদ্দিন | ২৪ মে ২০১৮ ৩:১৪ অপরাহ্ন

শিল্পী মুর্তজা বশীরের এই সাক্ষাৎকারটি গৃহীত হয়েছিল গত বছরের নভেম্বরে তার বাসায়। এই সাক্ষাৎকারে আলোচনার প্রধান বিষয় ছিলেন তার পিতা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিলেন কবি ও প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিন। অডিও সাক্ষাৎকারটির শ্রুতিলিপি তৈরি করেছেন তরুণ গল্পকার সাব্বির জাদিদ। বি.স.
Shahidulla n Murtaja
রাজু আলাউদ্দিন: ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে নিয়ে আমাদের সমাজে কিছু ধারণা অথবা ভুল ধারণা আছে। সেটা হলো, তার আচরিক জীবনে এমন কিছু ছিল যেগুলো পশ্চাৎপদতা বলে অনেকে মনে করেন। কিংবা প্রগতিশীল ধারণার অনুকূল না–এ রকম মনে করা হয়। যেমন ধরেন, ছবি আঁকা পছন্দ করতেন না। গান শুনতে উনি পছন্দ করতেন না। বা গানকে উৎসাহিত করতেন না। ছবি আঁকাকে উৎসাহিত করতেন না। আরো এমন সাংস্কৃতিক দিক আছে, যেগুলো সম্পর্কে উনার ভূমিকা নেতিবাচক বলে ধারণা করা হয়। এ ব্যাপারে আপনার মতামত জানতে চাই। কারণ, আপনি উনার অন্যতম সন্তান। আপনি নিজে ছবি আঁকেন। আপনি তাকে পিতা হিসেবে দেখেছেন।

মুর্তজা বশীর: আমার বড়বোনের লেখার মাধ্যমে গানবাজনা সম্পর্কে আমার পিতার কথা যেটা আমি জেনেছি সেটা এরকম: আমার বোন নাকি হারমোনিয়াম দিয়ে গান গাচ্ছিলেন, আমার বাবা হারমোনিয়াম ভেঙে ফেলেছেন। অন্যান্যদের কাছে শুনেছি, কোনো সভা-সমিতিতে যখন গান হতো, তিনি কানে আঙুল দিয়ে থাকতেন। আবার ঢাকার জগন্নাথ হলের এক প্রাক্তন ছাত্র, নামটা মনে নেই, সে লিখছে, সে একটু গানবাজনা করত, শহীদুল্লাহ তাকে ধরে নিয়ে প্রভিন্সিয়াল লাইব্রেরির মালিক আবদুর রশীদ সাহেবের যিনি মালিক, তার বাড়িতে নিয়ে গেলেন, এবং সেখানে শহীদুল্লাহ তার বগলদাবা থেকে তার অনুবাদ হাফিজের লেখা গান বের করলেন এবং বললেন যে, তুমি এটার সুর করো। Daily Star পত্রিকায় একটি ছবি দেখেছি সুরকার আবদুল আহাদ পিয়ানোয় সুর তোলা অবস্থায় শহীদুল্লাহর দিকে তাকিয়ে আছেন। তাহলে দেখা যাচ্ছে তিনি গান পছন্দ করছেন না এটা ঠিক সত্য না। আর ছবি আঁকার ব্যাপারটা আমি ভালো বলতে পারব এই জন্য, যেহেতু আমি তার সন্তান হিসেবে ছবি এঁকেছি। তবে আমার আর্ট ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়ার পেছনে, এটা সত্যি যে তার আগ্রহ বা অনাগ্রহ কোনোটাই ছিল না। আমি কমিউনিস্ট পার্টির নির্দেশে ওখানে ভর্তি হই। আমার নিজেরও কোনো ছবি আাঁকার ইচ্ছে ছিল না। এবং আমি ছোটবেলা থেকে ছবি আঁকতাম না। এবং স্কুল লাইফে ক্লাশে যে ড্রইং হতো, সেই ড্রইংয়ে আমি সব (সম্পূর্ণ…)

আশেক ইব্রাহীমের কবিতা: অপেক্ষা

আশেক ইব্রাহীম | ২৩ মে ২০১৮ ১:১৪ পূর্বাহ্ন

মোহাম্মদ ইকবালের চিত্রকর্ম

১.
আমার পূর্বপূরুষের মৃত্যু
আমাকে ব্যাথিত করেনি
পৃথিবীর যত ক্লেদ-কান্না আর বিভৎস পাপ
আমাকে আহত করেনি
আমি অপেক্ষা করতে শিখেছি

আমার ঘরে
দরজার ওপাশে ওৎ পেতে অপেক্ষায় আছে মৃত্যু—
কাঁচের জানালার ওপাশ থেকে মিহিন আঙুলের ইশারায়
আমার ঘরের সমস্ত আসবাব অদ্ভুদ এক কোরাসে
আমাকে ঘুমিয়ে রাখে ঘুমের ভেতর
কোন কোন গভীর রাতে
অদ্ভুদ রিংটোনে বেজে ওঠে সিম্ফনি
ঘুম ভেঙ্গে গেলে দেখি সেলফোনটা অন্ধ হয়ে পড়ে আছে
আমি নৈঃশব্দকে কাছে ডাকি—
কাছে এসো, আমার বাহুতে মাথা রেখে
একটু ঘুমোও
কি হবে আর
আমাকে অহেতুক শত্রুর মত পাহারায় রেখে! (সম্পূর্ণ…)

মারুফুল ইসলামের কবিতা: সাতজনের সংসার

মারুফুল ইসলাম | ২১ মে ২০১৮ ১২:০৩ অপরাহ্ন

১.

শায়েস্তানগরে আমাদের পাশের বাসায় এক সকালে ওরা এলো
ফুটফুটে ছোট্ট মেয়েটার নাম নাহিন

আমরা তখন তিন ভাই
এক বোন
নাহিনের মাকে আমি খালা ডাকতাম
তিনি সারাদিন খাটে শুয়ে থাকতেন
আমি আর নাহিন খেলতাম
কখনো আমদের বাসায়
কখনো ওদের
দুজনেই তখন পাঁচ


জলরংয়ে আঁকা ফাহমিদা জামান ফ্লোরার চিত্রকর্ম

এক রাতে নাহিনের মার মৃত্যু হলে ওরা চলে গেল
আমাদের আর কখনোই দেখা হয়নি
আম্মাকে বললাম
আমার একটা বোন হলে ওর নাম রাখব
নাহিন (সম্পূর্ণ…)

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের কবিতা: মানুষের দেশে

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল | ২০ মে ২০১৮ ৮:৩৮ অপরাহ্ন


চিত্রকর্ম:শিল্পী মোহাম্মদ ইকবাল

কিছুকাল মানুষের দেশে বসবাস করেছি,
নিজের ছায়াও তাদের শত্রু।
তারা হুমায়ূন আজাদকে খুন করে, নিহত করে ভোর।
বইয়ের বুকে চালায় চাকু, কালো অক্ষর রক্তাক্ত হয়ে কাঁদে।

পরশ্রীকাতর। স্ত্রীর চেয়ে বেশি ভালোবাসে অন্য নারী,
তার চেয়েও অনেক বেশী পছন্দ করে টাকা এবং মিথ্যে
মানুষ ছাড়া আর কোনো প্রাণী মিথ্যে বলেনা,
অদ্ভূত দেশে সেই মানুষের সাথ বসবাস করে না পরীরা,
চাঁদও ভ্রমণে আসেনা, পাঠিয়ে দেয় জোছনা।

বুড়িগঙ্গার ওপাড়ে কন্যাসন্তান হলে তারা দুধের বদলে
খেতে দেয় জলগলানো আটাদুধ।
তারা বই পড়েনা কিন্তু বই লেখে, অযথা কবিতা লিখে
বাদ মাগরেবে আর কোনো কাজ করেনা! (সম্পূর্ণ…)

শিশুদের চিঠির জবাবে অজানা আইনস্টাইন

হোমায়রা আদিবা | ১৮ মে ২০১৮ ৫:২১ অপরাহ্ন

১৯১৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন তাঁর সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব নিয়ে কাজ শেষ করেন। দু’পাতার এই মাস্টারপিসই পরবর্তীতে তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এবং সর্বকালের শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দেয়। একই বছরের ৪ নভেম্বর বার্লিন থেকে আইনস্টাইন ভিয়েনাতে তাঁর ১১ বছরের ছেলে হান্স আলবার্ট আইনস্টাইনকে লিখলেন,

‘প্রিয় আলবার্ট,
তোমার মিষ্টি চিঠি পেয়ে আমি অনেক খুশি হয়েছি। আমি আনন্দিত যে তুমি পিয়ানো বেশ উপভোগ করছ, আমার মতে তোমার বয়সীদের জন্য এটা আর ছুতোরের কাজটি অবসরের প্রিয় বিনোদন, এমনকি স্কুলের চেয়েও বেশি প্রিয়। পিয়ানোর ক্ষেত্রে সেই সুরগুলোই বাজিয়ো যা তুমি উপভোগ করো, তোমার শিক্ষক যদি তা নাও বলে থাকে, তবুও। যে-কাজ করে তুমি এত বেশি আনন্দ পাও যে কখন সময় পার হয়ে যায় তা তুমি টেরই পাও না—এই ধরনের কাজ থেকেই তুমি সবচেয়ে বেশি শিখবে। মাঝে মাঝে আমি কাজে এতোটাই মগ্ন হয়ে যাই যে দুপুরের খাবার খেতেও ভুলে যাই। টেটের সাথে রিং টসও(এক ধরনের খেলা) খেলতে পারো, এতে তুমি আরও চটপটে হবে।
তোমাকে ও টেটেকে চুমু
বাবা

তোমাদের মাকে শুভেচ্ছা’ (সম্পূর্ণ…)

লতিফুল ইসলাম শিবলীর কবিতা ‘ফাদি আবু সালাহ্’

লতিফুল ইসলাম শিবলী | ১৬ মে ২০১৮ ৮:৫১ অপরাহ্ন


তোমাকে দেখার আগে
জানা ছিল না-
মানুষের পা কেড়ে নিলে
তার পিঠে গজায় ডানা,
আর হাঁটতে বাধা দিলে
মানুষ শিখে যায় উড়তে।

ওরা শুরু করেছিল তোমার পায়ের নিচের মাটি থেকে,
তাই প্রথমে ওরা কেড়ে নিয়েছে তোমার জমিন।

দেশ নামের যে এক চিলতে জেলখানায় তুমি থাকতে
সে জমিন শত শত শহীদের ভিড়ে কবেই হয়ে গেছে মর্ত্যের জান্নাত।

এরপর ওরা কেড়ে নিয়েছে তোমার শৈশব,
অথচ তুমি কখনোই শিশু ছিলে না,
তুমি ছিলে সেই জান্নাতের সবুজ আবাবিল। (সম্পূর্ণ…)

প্রকাশ বিশ্বাসের গল্প: আমাদের ইন্দ্রনাথ

প্রকাশ বিশ্বাস | ১৬ মে ২০১৮ ৮:৫৩ পূর্বাহ্ন

১.
গাবের ম্যাজেন্টা রংয়ের পাতা আর জামের পাতলা কিশলয়, বরুণ—বৈন্যা গাছের সাদা ফুলের ঝাড়, বান্দরনলা–সোনালু গুচ্ছের আবডাল থেকে ঝিরঝিরি বাতাস হঠাৎ বেগ পেয়ে বাউকুড়ানির রূপ নিয়ে ধেয়ে আসে। চৈত্রের এই সব দুপুরে রোদে জ্বলা দোআঁশ মাটির গ্রাম হালটের বুক পিঠে বাতাসের ঝাপটা এসে লাগে নাকে মুখে, খসে যাওয়া ঝরা পাতা আর ধুলার ঘূর্ণি পমেট, ট্যালকম পাউডারের মতো আমাদের সবার কাঁচা মুখগুলো ধূসরিত করে যায়।
আমাদের গ্রামগুলোতে সে মাসে দোল আসে, শিবের গাজন, আর দেল নামে, চড়ক পূজা হয় দূরের গ্রামে, আসে মুইখ্যা কাচ (মুখোস নৃত্য) খেলার বাহার।

অলংকরণ: ফাহমিদা জামান ফ্লোরা
আমরা তখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ বেজায় দুরন্ত, কেউ আলাভোলা, কেউ বা পরিপাটী কেতা দুরস্ত ভালোছাত্র। কেউ স্কুলে যাওয়ার নাম করে ঘুড্ডি উড়িয়ে বেড়ায়, কেউ মার্বেল-ডাংগুলিতে আসক্ত, গরু চড়ানোর নড়ি দিয়ে ছ্যুল খেলা খেলে, আবার কেউ সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত দাঁড়িয়াবান্ধা। (সম্পূর্ণ…)

বিশ শতকের বহুলপঠিত নারীবাদী কথাসাহিত্য

বিপাশা চক্রবর্তী | ১৪ মে ২০১৮ ১:২৬ পূর্বাহ্ন


যদিও অসামান্য এই কথাসাহিত্যগুলো নিষ্ক্রান্ত হয়েছিল নারীদের হাত থেকে, তার বিষয়বস্তুও ছিল নারী, কিন্তু তার পাঠক কেবল নারীতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, সর্বজনীনতার গুণে তার পাঠক ছিল নারীপুরুষ নির্বিশেষে সকলেই।
অন্য অনেক কিছুর মতোই অনেক আগে থেকেই সাহিত্য জগতও পুরুষশাসিত। সেখানে নারীদের লেখালেখি অনেকের জন্য যন্ত্রণাদায়কও বটে। .আঠারো শতকের শেষের দিকে গল্প পড়া–বিশেষ করে সেই লেখা যদি কোন নারীর হতো–তাহলে তা নারীদের জন্য মানসিক ও শারিরীকভাবে বিপদের কারণ হয়ে দেখা দিত। পরিস্থিতির উদাহরণ দিতে গেলে ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের বিখ্যাত দুই লেখিকা বোনের কথা বলা যেতে পারে, যারা ব্রন্টি সিস্টারস নামে সাহিত্য জগতে পরিচিত লাভ করেছেন; শুরুতে তারাও পুরুষের ছদ্মনামে লেখা প্রকাশ করতেন। প্রেম-ভালোবাসার গল্প রীতিমত নিষিদ্ধ এক বস্তু ছিল তাদের জন্য। ইংল্যান্ডে তখন বিদ্যমান ছিল এক কর্তৃত্বপূর্ণ সংস্কৃতি, নারীদের শিল্প-সাহিত্য চর্চা ছিল বিপজ্জনক। সেই পরিস্থিতি বদল হতে অনেক কাল লেগেছিল।

বর্তমানে প্রকাশক, বিক্রেতা ও সমালোচকরা কোন সাহিত্য কি ধরনের, তার জন্য শুরুতেই তারা একটি লেবেল বা মার্কা দিয়ে দেন; যাতে করে পাঠকরা সহজেই নির্দিষ্ট বইটি খুঁজে পেতে পারেন। যেমন একটি বইকে যদি “গোয়েন্দা গল্প” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তাহলে গোয়েন্দা বইয়ের পাঠকদের জন্য তা বিশেষভাবে সহায়ক হয়। প্রকাশক ও বই বিক্রেতারা এমন যুক্তিই তুলে ধরেন। (সম্পূর্ণ…)

জীবনবোদ্ধা গল্পকার নাসরীন নঈম

দিল মনোয়ারা মনু | ১৩ মে ২০১৮ ১০:৩২ অপরাহ্ন

নাসরীন নঈম কবি হিসেবে জনপ্রিয়। আমি যতদুর জানি তিন দশক ধরে কবিতার সাথে তার বসবাস। দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় তার কবিতা প্রকাশিত হয়। আমি দীর্ঘদিন দুটি পত্রিকায় সম্পাদনার দায়িত্বে থাকায় তার কবিতার সাথে আমার নিরবচ্ছিন্ন জানাশোনা। আমি জানি কতখানি ভালোলাগা ও ভালোবাসায় তার কবিতার বেড়ে ওঠা এবং সেই কারণে ক্রমান্বয়ে তার কবিতার বহুমাত্রিক বিষয়, শব্দচয়ন ও মুক্তচিন্তা ও প্রগতির পথে ধাবমানের আধুনিক মনোভঙ্গী সহ প্রকাশের অভিনবত্ব, তাকে সকল কবিতাপ্রিয় মানুষের কাছে নিয়ে যায়। কবি হিসেবে পেয়েছেন স্বীকৃতি। কিন্তু একমাত্র কবিতায়ই নিবিষ্ট থাকতে চাননি তিনি। তার চারপাশে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া ঘটনা তাকে নাড়া দেয়। তার ভাবনাকে প্রসারিত করে। একসময়ে এইসব ঘটনা তিনি জনসমক্ষে আনতে চান। কারণ ছোটবেলা থেকেই তিনি গল্প শুনতে এবং বলতে খুব ভালবাসতেন। এ প্রসঙ্গে নাসরিন বলেছেন জীবন জগৎ সম্পর্কে তার নিরন্তর কৌতুহলের কথা। জোৎস্নায় ভিজে যেতে যেতে তাই বাবার কাছ থেকে হিন্দুস্তান পাকিস্তান রায়টের গল্প নিমগ্ন হয়ে শুনতেন, শুনে শুনে স্বার্থপরতা, নৃশংসতা, ভাঙ্গাগড়ার ঘটনা তার মনের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি করে। ধর্ম শিক্ষকের ছাত্রীর প্রতি নোংড়া আচরণসহ সমাজের চারপাশের অসংগতি বৈষম্য, অকথিত যন্ত্রণার নানা ঘটনা তার ভেতর বাহিরকে মোহিত ও মথিত করে রাখতো। আর তা প্রকাশের আকুলতাই পরবর্তী সময়ে তাকে গল্প লেখার প্রেরণা দিয়েছে। গল্প লেখার হাতটিও চমৎকার। সহজ সরল শব্দ ব্যবহারের নিপুনতা, গল্পের মজবুত গাঁথুনী, প্রকাশের সাবলীলতা এবং সর্বোপরি লেখকের দৃষ্টিভঙ্গী তার গল্পকে সুখপাঠ্য এবং অনবদ্য করে তোলে। পাক্ষিক অনন্যায় তার বেশ কিছু গল্প প্রকাশ করার সুযোগ হয়েছে আমার। তার একটি গল্প যার নাম ‘উঠলো বাই কটক যাই’। আমার পড়া গল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম। গল্পটির চমৎকার বিষয়ের সাথে লেখকের প্রচন্ড রসবোধ ও আধুনিক চিন্তা এক ধরনের ভিন্নতা দিয়েছিলো। চারপাশের পারিপার্শ্বিকতাকে মজা করে তুলে ধরার চমৎকার একটি অসাধারন গুন রয়েছে তার। এই বিষয়টি তিনি এখনও বিবেচনায় রাখতে পারেন। যদিও তিনি নিজেকে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় ও সময়ে বেধে রাখতে চাননা। তিনি মনে করেন লেখক সর্বক্ষণের সর্বযুগের। তবে নারীর বেদনা যন্ত্রণা সর্বোপরি নারীর প্রতি সহিংসতা অবমূল্যায়ন তাকে বিদ্রোহী করে তোলে এবং গল্পে প্রতিভাত হয়ে তার অন্যরকম মর্যাদা পায়। (সম্পূর্ণ…)

সেলিম জাহানের ‘বেলা-অবেলার কথা’-র সূত্র ধরে

সনৎকুমার সাহা | ১০ মে ২০১৮ ৩:২০ অপরাহ্ন

সেলিম জাহানকে প্রথম দেখি বোধ হয় তিন দশকেরও আগে। আমার স্যর ডক্টর মুশাররফ হোসেন তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর থাকা মানেই উন্মুখ মেধাবী মনকে আকর্ষণ করা। ফুলার রোডে পুরোনো লাল বাংলোটিতে তিনি থাকতেন দোতলায়। নিচের তলায় প্রবাদ-প্রতিম জ্ঞানবৃদ্ধ প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক। দুজনই আকর্ষণ করেন মেধাকে। অবশ্য একই ধাঁচের নন দুজন। আমার স্যর উচ্ছল, প্রাণবন্ত। আকর্ষণী ক্ষমতা চুম্বকের মতো। কেউ ফাঁকা মন নিয়ে তাঁর কাছে গেলেও ফিরে আসে ভাবনা-চিন্তার নানা বিষয় মাথায় নিয়ে। ছক বেঁধে তত্ত্ব সাজাবার মতো তিনি সেসব গেঁথে দেন না। হৈ-চৈ হুল্লোড়ের ভেতরেও তাঁর শাণিত বুদ্ধিদীপ্ত কিন্তু অন্তরঙ্গ কথার তোড়ে তারা অবলীলায় বেরিয়ে আসে। চারপাশে ছড়ায়। কখনো কখনো জমাট বাঁধে। যখনই গেছি, দেখেছি ওই সময়ে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ সহকর্মীরা, তাঁদের মতো বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সম্ভাবনাময় উচ্চাভিলাষী মেধার কারবারিরা কেউ কেউ– আরো অনেকের সঙ্গে সেখানে আসর জমিয়ে মশগুল। স্যর-এর সমসাময়িক তুখোড় পণ্ডিতরা থাকতেন। এতটুকু বেমানান মনে হতো না। অপরদিকে প্রফেসর রাজ্জাকের, আমার মনে হয়েছে, কিছু বাছ-বিচার ছিল। যদিও চলনে-বলনে খাস মাটির কাছাকাছি অতি সাধারণ এক মানুষ। তারপরেও যাঁদের তিনি দীক্ষা দেন, তাঁদের তিনি বাজিয়ে নেন। তাঁর সঙ্গে মনের তরঙ্গদৈর্ঘ্যে মিললে তবেই তিনি সহজ হন। এছাড়া তাঁকে লাজুক-মুখচোরাই মনে হতো। যেন অনেকের জন্য তিনি নন। তাঁর কৃপা বাছাই করা কতিপয়ের জন্য। এবং সেই কতিপয় অবশ্যই ভাগ্যবান। (সম্পূর্ণ…)

মুজতবা আলীর অগ্রন্থিত রচনা: উইন্টারনিৎসকৃত কবি রবীন্দ্রনাথের ধর্ম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন

সৈয়দ মুজতবা আলী | ৮ মে ২০১৮ ৯:২৭ পূর্বাহ্ন

রবীন্দ্রনাথের সাথে সৈয়দ মুজতবা আলীর সম্পর্ক যৌবনের শুরু থেকেই। ১৯২১ সালে সিলেট ছেড়ে তিনি রবীন্দ্রনাথের প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতন-এ ভর্তি হন। রবীন্দ্রনাথের সরাসারি ছাত্র হওয়া ছাড়াও মুজতবা আলী রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে সত্যিকার অর্থেই ছিলেন বিশেষজ্ঞ। তথাকথিত বিশেষজ্ঞদের মতো তিনি গবেষণাধর্মী কোনো গ্রন্থ লেখেননি বটে, কিন্তু ছোট ছোট যে-সব লেখা রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তিনি লিখেছেন তা বহুভাষী মুজতবা আলীর পাণ্ডিত্য ও তুল্যমূল্যের বিচারে অনন্য হয়ে উঠেছে। মুজতবা আলীর মৃত্যুর পর স্মৃতি আর মূল্যায়নধর্মী বেশ কিছু লেখার একটি সংকলন বেরিয়েছিল গুরুদেব ও শান্তিনিকেতন নামে। তবে এই বইটি ছাড়াও রবীন্দ্রনাথ নিয়ে মুজতবা আলীর দুএকটি লেখা রয়েছে যা এখনও পর্যন্ত তার রচনাবলীর অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এটি সেই অগ্রন্থিত লেখাগুলোর একটি। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল রবীন্দ্রজন্মশতবর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে দেশ পত্রিকায় বাংলা ১৩৬৯ সনে। বিডিআর্টসের পাঠকদের জন্য লেখাটি পত্রস্থ করা হলো।


আলোকচিত্র:১৯২৬ সালের অক্টোবরে প্রাগ শহরে রবীন্দ্রনাথের ডান পাশে মরিস উইন্টারনিৎস, বাদিকে ভারততত্তবিদ ভিনসেঙ্ক লেসনি। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com