অদৃশ্য আয়নার ছায়া

আশরাফ জুয়েল | ২০ নভেম্বর ২০১৭ ১১:২০ অপরাহ্ন

Murtaja Baseerসদ্যপ্রসূত আরেকটি শুক্রবার অতিক্রমের প্রাক্কালে ঠিক এর বিপরীত প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি আমি। আমার চেহারা জড়িয়ে রেখেছে বিছানা লেপটে থাকা আলস্য। বর্তমান থেকে ঘুমের কুঁড়েমিকে মুছে ফেলতে ব্যস্ত আমি। আমার খুলির ভেতরে বাস করা প্রায় সাড়ে বারশ গ্রামের ঘিলু আলোড়িত হবার প্রবণতার দিকে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে যাবার চেষ্টা করছে, অরক্ষিত ভাবনা-জগতে প্রবেশ করার জন্য সমস্ত প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে তারা।
‘গুড মর্নিং স্যার।’
‘গুড মর্নিং, হাউ আর ইউ?’ কৃত্রিম হাসির মুখোশটা চেহারায় ঠিকমতো সেঁটেছে কিনা তা যাচাই করতে করতে বললাম আমি।
‘স্যার, খুব সুন্দর দেখাচ্ছে আপনাকে।’ পুতুলের চেয়েও নিখুঁত সেজেছে মায়মুনা।
‘তাই নাকি মাইমুনা, থাঙ্ক ইউ।’ মায়মুনাও ইতোমধ্যে মুখোশ পরা শিখে নিয়েছে।
আঁধার ভাঙা ভোরের মুখে লেগে আছে সৈকত ধোয়া সূর্যরশ্মি। কাঁচের স্বচ্ছ বাধা উপেক্ষা করে অবজ্ঞা ভরে এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে সন্তর্পণে প্রবেশ করছে লবিতে। সেই আগুনভাষী সূর্যরশ্মি চোখের রেটিনাতে টোকা মারা মাত্র আমার দৃষ্টির সক্ষমতা সতর্ক কুকুরের মত আনাচকানাচে ঘুরে বেড়াতে থাকল।
‘নাজিব কোথায়? ইটস এইট থারটি…’ (সম্পূর্ণ…)

দেবাশীষ ধরের কবিতা: নভেম্বরের চিঠি

দেবাশীষ ধর | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ৬:১৮ অপরাহ্ন

Monirul Islam১.
হেমন্তের ঠান্ডা বাতাস শরীরী মেজাজে মনতাজ
তৈরি করলে রাত বারটা বাজে, বাঁশিতে সুর ওঠে।
ইতিহাস এস্রাজে প্রগলভ হচ্ছে জলপাই আচারের
মতো। শ্যামু, জন্মমাসে আরেকবার জন্ম নাও
এবার প্রসব করো শুক্রবারের একটি শীতের
সকাল, ধানখেতের ভেতর লুকিয়ে লুকিয়ে বেদনার ফুল ফোঁটাও। (সম্পূর্ণ…)

মিলটন রহমানের পাঁচটি কবিতা

মিলটন রহমান | ১৮ নভেম্বর ২০১৭ ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

Monirul Islam
নতুন

ঘুঙুর বাজছে কোথাও, এই সোনালী সকালে বাজছে
ঘূর্ণির মত উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে জং-ধরা হলুদাভ দিন
জলসার রূপোলী আলোয় আমি জেগে উঠছি মাতাল,
মন্দাকিনী তুমি নিজেকে আরো জলজ বিকর্ষিত করো
দেহের ভাঁজ থেকে উত্থিত আলোয় তুলে নাও অমসৃন
তোমার সম্মুখে সহস্র বছর বসে রইবো হে মথুরাদেবি।

ঘুঙুর আর মন্দাকিনী দুই মিলে এই সকালে হাসছে
ভাসছে তুমুল কুঞ্জাভিভূত টঙ্কাপতির দেরাজে
কোথায় কোন কালে জেগেছিলো নতুন নগর
সেই বার্তা এতোদিন জানানো হয়নি কোথাও
এই ভোরে নতুন নগর পত্তন করো হে মন্দাকিনী
মুছে দাও সকল পাপ ও পঙ্কিল রাষ্ট্রের নাম
নতুন নগর তোলো, মন্দাকিনী নগর
যেখানে শুধুই প্রেম রইবে, জেগে রইবে সোনালী ঘুঙুর। (সম্পূর্ণ…)

এক বিস্ময়ের নাম ‘লাভিং ভিনসেন্ট’

আঞ্জুমান রোজী | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ৮:৫৫ অপরাহ্ন

Goghদু’ঘণ্টার এক অপার বিস্ময়ের মধ্যে ডুবে ছিলাম। যার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল ঘোরলাগা আবেশ! ‘লাভিং ভিনসেন্ট’ ওয়েল পেইন্টিং এনিমেশন মুভিটি আমাদের অন্যজগতে নিয়ে গেলো যেন। যেখানে ভ্যান গঘের তৈলচিত্রগুলো বাস্তবের ছোঁয়া পেলো। বিমূর্ত অনুভূতি; মূর্ত হয়ে কথা বলে উঠলো যা নতুন আঙ্গিকের এক এনিমেশন মুভি বটে । শুধুমাত্র ভ্যান গঘের পেইন্টিংয়ের ওপর বিশাল ক্যানভাস তৈরি করে মুভিটি হয়। তাঁর সমস্ত তৈলচিত্র এক ক্যানভাসে দেখার সৌভাগ্য হলো। ভ্যান গঘ এমনিতেই এক বিস্ময়; আর এই বিস্ময়কে মূর্ত করে তোলে ‘লাভিং ভিনসেন্ট’ নামের এনিমেশন মুভিতে, যা শিল্পবোদ্ধাদের কাছে এক অত্যাশ্চর্য হয়ে ধরা দেয়। আমি আর কবি ফেরদৌস নাহার টরেন্টোর সিনেপ্লেক্সে প্রথম প্রদর্শিত ঐতিহাসিক এই মুভি দর্শনের মধ্যদিয়ে কালের সাক্ষী হয়ে যাই।

ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের শিল্প ও জীবন ১২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। চলচ্চিত্র নির্মাতাদের একটি দল বিশ্বব্যাপী একশরও বেশি শিল্পীর সাহায্যে ভ্যান গঘের পেইন্টিং দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রথম পদক্ষেপ নেন। বলতে গেলে, “লাভিং ভিনসেন্ট” চলচ্চিত্র জগতে প্রথম চিত্রকলাভিত্তিক এনিমেশন মুভি। ভ্যান গঘের লেখা চিঠি ব্যবহার করে তার সৃজনশীল প্রতিভা ও হঠাৎ মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পেইন্টিংগুলো সাজানো হয় এবং সেই দৃশ্যের সাথে অভিনয় শিল্পীদের কথোপকথন ও অভিনয় সঞ্চালিত হয়। তাও প্রথমে চলচ্চিত্রে ধারণ করে, পরে তা এনিমেশনের সঙ্গে আর্ট ফর্মে যুক্ত করে দেওয়া হয়। (সম্পূর্ণ…)

ইকতিজা আহসানের কবিতা

ইকতিজা আহসান | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

Fakirতোমার সঙ্গে তোমার

তোমার সঙ্গে তোমার থাকা নিয়া আলাপ
থাকা না থাকার মাঝখানে শূন্য জায়গাটারে
দেখি খুব ফাল মারে…
মাঝেসাজে তোমারে গায়েব কইরা দেয়।
গায়েবিগঞ্জের আদ্য কানা তুমি
বোবধরা ঘুমে ডিগবাজি খেতে থাক
তোমার মতো দেখতে এক আকৃতি কুয়াশাকে
আলিঙ্গন করে
ঢেকুর তোলো তোমাকে পাওয়ার
তুমি আসলে নাই
বহুদিন তুমি তোমার সঙ্গে থাক না। (সম্পূর্ণ…)

নির্মলেন্দু গুণ: তিনি এতই অকৃতজ্ঞ যে সেই বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে কোনো কবিতা লেখেননি

রাজু আলাউদ্দিন | ১৩ নভেম্বর ২০১৭ ১১:২৭ অপরাহ্ন

Goon
আলোকচিত্র: রাজু আলাউদ্দিন
২৩ অক্টোবর ২০১৭ সালে কবি নির্মলেন্দু গুণের সঙ্গে কবি-প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনের সাথে যে-ফোনালাপ হয় তার লিখিত রূপ তৈরি করেছেন গল্পকার সাব্বির জাদিদ। বি.স.

রাজু আলাউদ্দিন: গুণদা কেমন আছেন?
নির্মলেন্দু গুণ: আছি মোটামুটি।
রাজু আলাউদ্দিন: কোনো একটা চিত্রপ্রদর্শনীতে গেছিলেন দেখলাম!
নির্মলেন্দু গুণ: হ্যাঁ, গেছিলাম।
রাজু আলাউদ্দিন: আপনি ছবি আঁকতেছেন না নতুন করে?
নির্মলেন্দু গুণ: না না। আঁকা হচ্ছে না। সামনে আঁকার ইচ্ছা আছে। সময় সুযোগ হলে আঁকব।
রাজু আলাউদ্দিন: গুণদা, আপনি এ্খন কী নিয়ে ব্যস্ত?
নির্মলেন্দু গুণ: আমার রচনাবলী বের হচ্ছে, সেজন্য চর্যাপদ থেকে শুরু করে অদ্যাবধি যেসব কবি সাহিত্যিকরা কন্ট্রিবিউট করেছে ইন ডেভেলপমেন্ট অব বাংলা লিটারেচার, তাদের মধ্যে যারা গুরুত্বপূর্ণ, তাদেরকে আমার নয় দশ খণ্ডের রচনাবলী উৎসর্গ করব। সেজন্য আমাকে ব্যাপক পড়াশোনা করতে হচ্ছে, সেই চর্যাপদ থেকে শুরু করে একেবারে আধুনিক কাল পর্যন্ত। রিসার্চ করতে হচ্ছে আর কি। আচ্ছা, ডক্টর শহীদুল্লাহর জন্মসাল এবং মৃত্যুসাল কি মনে আছে? (সম্পূর্ণ…)

রবিরশ্মিতে আলোকিত পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়

শান্তা মারিয়া | ১২ নভেম্বর ২০১৭ ১১:২৪ অপরাহ্ন

Tagoreসুদূর বেইজিং শহরে যখন একদল চীনা তরুণ তরুণীর কণ্ঠে শোনা যায় রবীন্দ্রসংগীত ‘মায়াবন বিহারিণী হরিণী’ তখন মনটা ভরে ওঠে প্রিয় মাতৃভাষার জন্য ভালোবাসার আবেগে। এরা চীনের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় ‘পিকিং বিশ্বদ্যিালয়ে’র শিক্ষার্থী। তারা এখানে পড়ছেন বাংলাভাষা। চর্চা করছেন রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে। বাংলাদেশে অবস্থিত চীন দূতাবাস আয়োজিত গণমাধ্যম কর্মীদের চীনসফর কর্মসূচির আওতায় সম্প্রতি কয়েকজন সাংবাদিকের চীন সফর। সেই সুযোগেই বেইজিং ভ্রমণ। সফরসূচিতে ছিল পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাবিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত অনুষ্ঠান দেখার আমন্ত্রণ। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় আমরা ক’জন সাংবাদিক গেলাম সেই ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রচর্চার ইতিহাস অনেক পুরনো। ১৯২১ সাল থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্মের চীনা ভাষায় অনুবাদ, প্রচার ও গবেষণার কাজ চলছে। আলাপ হলো বিখ্যাত রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. দং ইউচেন-এর সঙ্গে। তিনি সরাসরি বাংলা থেকে চীনা ভাষায় রবীন্দ্রনাথের রচনার একটি বিশাল অংশ অনুবাদ করেছেন। বললেন, রবীন্দ্রসাহিত্য ও বাংলাভাষার একজন অনুরাগী তিনি। (সম্পূর্ণ…)

রোহিঙ্গা নিয়ে সরকারি উদ্যোগের প্রশংসায় পেন বাংলাদেশ

সাইফ বরকতুল্লাহ | ১২ নভেম্বর ২০১৭ ৩:১৫ অপরাহ্ন

pen-1পেন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি কথাসাহিত্যিক জনাব মাসুদ আহমদের সভাপতিত্বে ১০ নভেম্বর ২০১৭, শুক্রবার, বিকেল তিনটায় শাহবাগস্থ বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাবের সেমিনার কক্ষে বর্তমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতেই সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল এম. এ. কাইয়ুমের মৃত্যুতে তাঁর সম্মানে এক মিনিট নীরবতা পালন ও শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়।
তারপর উপস্থিত সদস্যবৃন্দ বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে নিম্ন লিখিত সিদ্ধান্তগুলো হলো:
১. রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে মানবিক কারণে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত উদ্যোগ ও কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। এই প্রসঙ্গে কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের সাথে একাত্মতা ঘোষণা ও তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। (সম্পূর্ণ…)

অলভী সরকারের পাঁচটি চৌপদী

অলভী সরকার | ১১ নভেম্বর ২০১৭ ১১:১০ অপরাহ্ন

১.
মাছেরা আকাশে ওড়ে নাকি? মানুষেরা
যা খুশি তাই নিচ্ছে ভেবে তুমুল সৃষ্টিছাড়া!
এ তো গল্প, নিছক অল্প, থাকতেই পারে ডানা!
গল্পের মাছ উড়তেই পারে। মানুষের ওড়া মানা।

২.
একটি পা চৌকাঠে রেখে দাঁড়িয়ে আছি ঘরে
সময় এখন অল্প ভীষণ নিঃস্ব ভরদুপুরে।
প্রবল প্রেমে আহত হই প্রবল ঘৃণার মতো,
মরবে জেনেও মানুষগুলো সারিয়ে তুলছে ক্ষত।

৩.
শুক্রবারের দিনগুলোতে কোথায় গিয়েছিলে?
তোমার জন্য সোমেশ্বরী পাল্টে গেল ঝিলে!
সহস্র দিন চিত্রা হরিণ মেঘশিরীষের মাঠে
আমার শহর দেখছে নহর সোম-ঈশ্বরী ঘাটে। (সম্পূর্ণ…)

প্রজাপতির ভেজা পাখায় ক্ষুদ্র জলের ভারি আহবান

রুবাইয়াৎ সিমিন | ৯ নভেম্বর ২০১৭ ৮:২৭ অপরাহ্ন

butterflies
‘চিত্রকর্ম: সালভাদর দালির আঁকা The Landscape with Butterflies,1956
মনমোহর গিলাফের মধ্যে চারু প্রজাপতি ভাবনার দিনে কেউ সত্যিই ভাবে না প্রজাপতিটা চারুর জন্যই অপেক্ষা করেছিল একদীর্ঘ ঘন কুয়াশাময় রাতের শেষটা ধরে। ঘন কুয়াশার টুপ টুপ ঝরে পড়বার শব্দে সচকিত জনদের একজনের খেয়ালে আসে গিলাফ! ফুল তোলা গিলাফ। ঝালরশোভিত চমৎকার লালকাপড়, লেস, চুমকির কারুকার্যময় গিলাফ। প্রয়োজনীয়তা আর অপ্রয়োজনীয়তার দ্বন্দে তাদের কথা হয়, খাজা মইনুদ্দিন চিশতির নাম আসে, তাকে ধরেই চিনিয়ে দিতে হয় এটা গিলাফ। পুণ্যাত্মার চিরঘুমকে স্তব্ধতা, শীতলতা, মোহ, বাসনা, দ্বারা ঢেকে বুকে চাঁপা পাষাণের বেদনাসম টানটান বিছিয়ে থাকা গিলাফের কথা উঠতে কারো আর চিনতে অসুবিধা হয় না। এখানে স্তব্ধতা নেই, কন্ঠ আছে। বহু কন্ঠ নয়, জোড়কন্ঠের অনুচ্চরব যা পরস্পর লগ্ন হয়ে মেতে রয় রাত্রির নিস্তব্ধতাকে না মাড়িয়ে বরং নিস্তব্ধ রাত্রিকে সঙ্গ দিতে দিতে।
খাজা মইনুদ্দিন চিশতির পরিবর্তে নিজেদেরই গিলাফের মধ্যে আবিষ্কার করার আনন্দ উষ্ণতা হয়ে ঘন হয় শূন্য দূরত্বের মধ্যকার স্থানটাকেও না-থাকার করে দিতে। গিলাফের নিচে জীবন্ত মানুষ! অনুচ্চ কন্ঠে প্রশ্ন! খাজা মইনুদ্দিন তো মরে নাই, বরং জীবিত, গিলাফের প্রান্ত ধরে ঝুলে ড্যাবড্যাবিয়ে মানুষসঙ্গ উপভোগ করে যাচ্ছে।
নক্ষত্রদের বাবার বাড়ি, শশুরবাড়ি ঘুরে আবার এই মুলুকে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে কেটে যায় এক একটি ঋতুচক্র; বদলে যায়, যোগ হয় নতুন স্তরের মাটি! তারপর এমন শতরাত পেরিয়ে যায় তবুও মানুষের মনে শঙ্কা কাটে না এই মাটি কিভাবে দাঁড়িয়ে রয়। সূচিমুখ সমেত আর একটি ভূ-ভাগে গেঁথে দাঁড়িয়ে থাকার শঙ্কা জাগে, শঙ্কা জাগে ভাসমান হয়ে ভেসে থাকা না থাকার অবস্থায় ভেসে যাবার। ভেসে যাওয়াটা উজানে না ভাটিতে বুঝে উঠতে সময় নিতে হয়, সে সময় অতিক্রান্তির ব্যাপ্তি এতটাই বিস্তৃত হয় যে তা কল্পনার ছায়াকেও মায়ায় পরিণত করে আরো দূরে সরে যায়, যেখান থেকে আঁধার আলো অপেক্ষা অধিকতর নিকটবর্তী হয়ে ওঠে। (সম্পূর্ণ…)

নওশাদ জামিলের তিনটি কবিতা

নওশাদ জামিল | ৮ নভেম্বর ২০১৭ ৮:৩৮ পূর্বাহ্ন

Fakirনীল শাড়ি

যেখান থেকে যাত্রা শুরু করি
আবার আমি সেখানে আসি ফিরে
অনেক পথ পেরিয়ে এসে দেখি
ফেরার পথে কুহক আছে ঘিরে।

পাহাড় নদী পেরিয়ে মেঠোপথ
এসেছি ফিরে হৃদয় আহ্লাদে
অন্ধ ফুলে পরাগ ঢেলে দিয়ে
আবেগ ছাড়া কে আর পড়ে ফাঁদে?

পথের বাঁকে বাতাস ছেঁড়া মেঘ
উড়ল বুঝি আগুন হাতছানি
ধোঁয়ার রেখা মাড়িয়ে বহুদূর
পেলাম দেখা পরম ঝলকানি।

হৃদয় টানে আবার আসি ফিরে
ফেরার পথে কুহক ছড়াছড়ি
কুয়াশাজাল ছিন্ন করে দেখি
পথের বাঁকে উড়ছে নীল শাড়ি। (সম্পূর্ণ…)

আমি তাকে যে-কারণে খুন করেছিলাম

মোস্তাক শরীফ | ৬ নভেম্বর ২০১৭ ৪:২৯ অপরাহ্ন

mostakআমি যখন ধলপুরে ফিরে এলাম তখন সন্ধ্যা নেমেছে।
ট্রেনটা আমাকে নামিয়ে দেয়ার পর খানিক ইতস্তত করল, বোধহয় বুঝতে চাইল জনমানুষহীন এই ছোট স্টেশনে আসলেই আমি একা থেকে যাব, নাকি ফের আশ্রয় খুঁজে নেব তার উষ্ণ অভ্যন্তরে।
আমি ট্রেনটার দিকে তাকিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম। একসময়, যেন আমার নীরব প্রত্যাখ্যান বুঝতে পেরেই ধীরে ধীরে নড়ে উঠল তার শরীর। লম্বা একটা হুইসেল বাজিয়ে রওনা দিল পরের স্টেশনের দিকে। এক এক করে ট্রেনের এগারোটা বগিকে চোখের আড়ালে চলে যেতে দেখলাম। রেল লাইনটাকে মনে হল মাছের শুকনো কাঁটার মত, আর তার ওপর দিয়ে প্রাগৈতিহাসিক কোনো সরীসৃপের মত চলে গেল ট্রেনটা। দৃশ্যটার মধ্যে চূড়ান্ত কী একটা ব্যাপার যেন আছে। এ যেন সিনেমার শেষ দৃশ্যটা দেখে ফেলা।
সকালবেলা বাড়ি থেকে বেরোনোর পর এই প্রথম খারাপ লাগার একটি বোধে আক্রান্ত হলাম আমি। খুব কি দরকার ছিল ধলপুরে ফিরে আসার?
কাঁধ থেকে ছোট ব্যাগটা নামিয়ে এদিক সেদিক তাকালাম। একসময় প্রতিদিন অন্তত একবার পাহাড়ি এই ছোট স্টেশনে আসতাম, স্টেশন মাস্টারের লাল দালানের পাশের ঝুপড়ি দোকানের বেঞ্চিতে পা ছড়িয়ে বসে চা খেতাম, গল্প গুজব করতাম। বলতে গেলে, ধলপুর আর তার ছোট্ট এই স্টেশনআমার আত্মার আত্মীয় ছিল। এ এলাকার প্রতিটি মানুষকে আমি চিনতাম, প্রতিটি ঘরে আমার পা পড়েছিল।
কেন আবার ফিরে এলাম? খুব কি দরকার ছিল এই প্রত্যাবর্তনের?
স্টেশনমাস্টারের লাল দালান এখনও আছে, তবে দেখে মনে হয় পোড়োবাড়ি। বৃটিশদের হাতে তৈরি তিন রুমের ছোট্ট ভবনটা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এটা স্পষ্ট, এখন আর এখানে কেউ থাকে না। ওটার হাত বিশেক দূরে টিনশেড হলুদ একটা দালান চোখে পড়ছে। দালানটার দেয়াল বেয়ে ছাদের ওপর উঠে গেছে শিম লতা, ওগুলো ছাপিয়ে একটা টিভি অ্যান্টেনা মাথা তুলে আছে। বাড়িতে কোনো আলো চোখে পড়ছে না। কেউ কি থাকে ওখানে? লাল দালানের পাশের চায়ের দোকানটাও আর নেই। একটা জায়গা আমূল বদলে যাওয়ার জন্য পাঁচ বছর আসলেই যথেষ্ট। আমি চোখ ফিরিয়ে স্টেশনের দিকে তাকালাম। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com