মানবতার জননীর জয়

মুহম্মদ নূরুল হুদা | ১৬ december ২০১৭ ১:৪১ পূর্বাহ্ন

flagআজ বাঙালির বিজয়ের দিন, এই জয় অনন্ত অক্ষয়
আজ মানুষের বিজয়ের দিন, এই জয় অনন্ত অক্ষয়।

মানুষের জয় মানে মাতাধরণী ও ঘরনীর জয়
মুক্তিযুদ্ধে যুক্তিযোদ্ধা শুদ্ধ জাতিবাঙালির জয়;
যু্ক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা শুদ্ধ জাতিমানুষের জয়;
জাতিমঙ্গলের মানবতা আর তার জননীর জয়।

মানুষের জয় মানে মাতাধরণী ও ঘরনীর জয়
জলে-স্থলে হরিকেলে ক্ষিপ্র মুক্তিবাহিনীর জয়ঃ
রাঢ়ে-বঙ্গে-সমতটে মুক্তিপিতা মুজিবের জয়ঃ
দেশমঙ্গলের মানবতা আর তার জননীর জয়।

মানুষের জয় মানে মাতাধরণী ও ঘরনীর জয়:
ব্যক্তিমঙ্গলের মানবতা আর তার জননীর জয়
গণমঙ্গলের মানবতা আর তার সন্ততির জয়:
সর্বমঙ্গলের মানবতা আর তার জননীর জয়। (সম্পূর্ণ…)

আগরতলা মামলার উচ্চারিত ইতিহাস

প্রদীপ কর | ১৬ december ২০১৭ ১:৩৩ পূর্বাহ্ন

cover“ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মামলাটির প্রকৃত নাম ছিল ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবর রহমান ও অন্যান্য’। বঙ্গবন্ধুসহ মোট পঁয়ত্রিশ জন এই মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। ১৯৬৯ সালে মামলাটি যখন রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সারা দেশের মানুষের মনে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেই সময় পাকিস্তানিরা ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোরবেলায় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে পরিকল্পিতভাবে বন্দি অবস্থায় সার্জেন্ট জহুরুল হক, ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক ও হাবিলদার মুজিবুর রহমানকে বাথরুমে নিয়ে যাওয়ার সময় গুলি করে। প্রথমে সার্জেন্ট জহুরুল হককে ও পরে ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হককে গুলি করা হয় এবং হাবিলদার মুজিবুর রহমানকে গুলি করলেও তিনি শুয়ে পড়ায় গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পাকিস্তানিরা শুধু গুলি করেই ক্ষান্ত হয়নি। সার্জেন্ট জহুরুল হক ও ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হককে নির্মমভাবে বেয়োনেট চার্জ করেছিল। সে রাতেই সার্জেন্ট জহুরুল হক মারা যান। তাঁর নির্মম হত্যাকান্ডের সংবাদ ঢাকাসহ সারাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছড়িয়ে পড়ায় মানুষ অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছিল এবং ’৬৯-এর চলমান ছাত্র আন্দোলন আরো তীব্রতর হয়ে উঠেছিল। ছাত্রসহ সর্বস্তরের সাধারণ জনতার আন্দোলন ও বিক্ষোভের মুখে পাকিস্তানের আইয়ুব সরকার সান্ধ্য আইন জারি করেছিল। সান্ধ্য আইন জারির পর ছাত্র জনতা আরো বিক্ষুব্ধ হয়েছিল এবং গণ-আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তানের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পাকিস্তানে সামরিক বাহিনীতে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়, ফলে আইয়ুব সরকারের পতন ও ইয়াহিয়া খানের ক্ষমতা গ্রহণ ও সামরিক বাহিনীর তৎপরতা শুরু হয়।…” (সম্পূর্ণ…)

বিজয়োৎসব: আনন্দ-বেদনার কাব্য

ফরিদ আহমদ দুলাল | ১৬ december ২০১৭ ১:১৩ পূর্বাহ্ন

আমাদের উৎসবের আরও একটি দিন সমাগতপ্রায়; যে উৎসবে আমাদের পরম পুলক আর অনিন্দ্য আনন্দ; যে উৎসব আমাদের গভীর বেদনারও দিন। আসন্ন উৎসব আনন্দের, আনন্দের কারণ একটাই, কিন্তু বেদনার কারণ একাধিক। উৎসব আনন্দের; আনন্দের কারণ, এ দিনে আমরা বাঙালি জাতি চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিলাম; বাংলা ভাষাভাষি মানুষের নিজস্ব ভূখ- চিহ্নিত করতে পেরেছিলাম, নিজস্ব পতাকা–নিজস্ব জাতীয় সঙ্গীত–নিজস্ব মানচিত্র শনাক্ত করতে পেরেছিলাম; স্বতন্ত্র-স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছিলাম। আনন্দ আমাদের সৌর্য-বীর্য, আমাদের আত্মত্যাগ এবং আনন্দ আমাদের ঐক্যের– বঙ্গবন্ধুর তর্জনীর মাথায় সাড়ে সাতকোটি বাঙালির অবিস্মরণীয় ঐক্যের; আর বেদনা? বিজয় দিবস মানে ত্রিশলক্ষ বাঙালি-স্বজনের রক্তনদীর দুঃসহ স্মৃতি, বেদনা ১৯৭১-এর ৯ মাস অবরুদ্ধ বাংলাদেশে নির্যাতন-নিপীড়ন-অগ্নিসংযোগ-ধর্ষণ-উৎকণ্ঠার মুহূর্তগুলো, বেদনা আমাদের মা-বোনের সম্ভ্রমহানীর; বেদনা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে নির্বিচারে শিশু-নারীহত্যা–ধর্মীয় সংখ্যালঘু মানুষের জীবন-সম্পদ লুন্ঠণ, বেদনা প্রায় এককোটি বাঙালির উদ্বাস্তু হয়ে দেশান্তর হওয়া মানুষের জন্য–তাদের মানবেতর জীবনযাপনের জন্য; এবং বেদনা ১৯৭৫-এর রক্তাক্ত ক্ষতের জন্য। আসন্ন বিজয় দিবসে আরও এক গভীর বেদনা, যখন আমরা বিজয়ের অর্ধশতাব্দী অতিক্রমণের দ্বারপ্রান্তে তখনো আমরা লক্ষ করছি, ১৯৭১-এর ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স মাঠে যে জগৎখ্যাত ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, সে ভাষণে তিনি যা-কিছু বাণী উচ্চারণ করেছিলেন, তার অধিকাংশই আমরা সত্যে রূপান্তরিত করেছিলাম; কিন্তু ‘স্বাধীনতা’ শব্দটির পাশাপাশি ‘মুক্তি’র আকাক্সক্ষা বঙ্গবন্ধু উচ্চারণ করেছিলেন, সে ‘মুক্তি’ আজও আমরা অর্জন করতে পারিনি। (সম্পূর্ণ…)

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের চোখে সালভাদোর আইয়েন্দের মৃত্যু

এনামুল হাবীব | ১৪ december ২০১৭ ৯:০৪ অপরাহ্ন


মূল: গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস

অনুবাদ: এনামুল হাবীব

Allendeচিলির সান্তিয়াগোর লা মনেদা প্রাসাদে চিলির নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সালভাদর আইয়েন্দের মৃত্যুর ৪৫ বছর গত হয়েছে, যে প্রাসাদে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে আইয়েন্দে ফিদেল কাস্ত্রোর উপহার দেয়া AK-47 রাইফেল দিয়ে নিজেকে প্রতিরোধের শেষ চেষ্টা চালিয়েছিলেন। সালভাদর আইয়েন্দের মৃত্যুর (১১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩) পর নিউ স্টেটম্যান্ট জার্নালে ১৯৭৪ সালের মার্চে নোবেল বিজয়ী কথাসাহিত্যিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস চিলিতে আইয়েন্দের উত্থান, তার বামপন্থী পপুলার ইউনিটি পার্টির রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল, রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরের বুর্জোয়া দল ও সামরিক বাহিনীর একাংশের সাথে আইয়েন্দেকে উৎখাতে সিআইয়ের গোপন আঁতাত আর রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একনায়ক সামরিক জেনারেল আগাস্তো পিনোচেট-এর ক্ষমতা দখল নিয়ে যে ইতিহাসভিত্তিক সাড়া জাগানো প্রবন্ধ লিখেন তারই নাম – The Death of Salvador Allende। বি.স.

১৯৬৯ সালের শেষের দিকের ঘটনা। পেন্টগনের তিনজন জেনারেল ওয়াশিংটনের কোনো এক শহরতলীতে চিলির পাঁচজন মিলিটারি অফিসারের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে ব্যস্ত। আমন্ত্রিত এই পাঁচজন অতিথির মধ্যে অন্যতম ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্ণেল হেরার্দো লোপেস (আমেরিকায় চিলির সামরিক মিশনের সহকারী বিমান এটাশে)। অন্যান্য অতিথিরা লোপেসেরই সহকর্মী। মধ্যাহ্নভোজটি যার সম্মানে আয়োজন করা হয়েছে তিনি চিলির বিমান একাডেমীর পরিচালক জেনারেল কার্লোস তরো মাসোতে, মাত্র একদিন আগে আমেরিকায় এক শিক্ষা সফরে মেসোত হাজির হয়েছিলেন। আটজন অফিসার অধিকাংশ কথাবার্তাই বলছিলেন ইংরেজিতে। আলোচনা মূলত কেন্দ্রীভূত ছিলো একটি মাত্র বিষয়ে: চিলিতে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। ভোজসভার শেষের দিকে পেন্টাগনের একজন জেনারেল প্রশ্ন করলেন, বামপন্থীদের মনোনীত কোনো প্রার্থী, ধরা যাক সালভাদোর আইয়েন্দে, নির্বাচনে জয়ী হলে সেনাবাহিনী কী ভূমিকা নেবে। জেনারেল মাসোতে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলেন, আমরা আধ ঘন্টার মধ্যে মনেদা প্রাসাদ দখল করে নেবো। এজন্য যদি ঐ প্রাসাদ জ্বালিয়ে দিতে হয়,তবু। (সম্পূর্ণ…)

ওডেসি অনুবাদে প্রথম নারী: অনুবাদকের সৃষ্টিশীলতাকে উপেক্ষা করা হয়

ফাতেমা খান | ১৩ december ২০১৭ ১:৪০ অপরাহ্ন

translatorগ্রীক পুরানের কাহিনীকে ভিত্তি করে রচিত হোমারের তিন হাজার পংক্তি সম্বলিত অমর আখ্যান ওডিসি মহাকাব্য গ্রীক থেকে ইংরেজীতে অনূদিত হয়েছে সম্প্রতি। এই প্রথম কোনো নারী এটি অনুবাদ করলেন। তার নাম এমিলি উইলসন।
ওয়াট ম্যাসন প্যারিসের অপসৃয়মান গ্রীস্মের পড়ন্ত আলোয় এমিলি উইলিয়ামের এই অনুবাদটি পড়তে পড়তে অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন। ওয়াট ম্যাসন বলেন, ওডিসি আমাকে এতটা আচ্ছন্ন আগে কখনও করেনি। পাঁচমাত্রার নিখুঁত কাব্যের গাঁথুনীতে রচিত এর কাহিনী। এটি অনুবাদ করা তার পক্ষে সম্ভব হত না যদি তার কাব্য প্রতিভা এবং শিল্প আঙ্গিকের রূপ-রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা না থাকতো।

উইলসন ইংরেজী ক্লাসিক ও দর্শন নিয়ে ব্যাচেলর করেন অক্সফোর্ড থেকে। তারপর পিএইচডি শেষ করেন ইয়েল ইউনিভার্সিটির ক্লাসিক এবং তুলনামূলক ইংরেজীতে সাহিত্যে। ব্যাচেলর শেষ করার পর তার প্রিয় লেখকদের প্রিয় বইগুলি পূনরায় পড়া শুরু করেন। বিশেষ করে মিলটনের লেখার প্রতি ছিল তাঁর ভীষন ঝোঁক। মিলটনের ‘প্যারাডাইস লস্ট’ এর কথা অনেক জায়গায় বলেছেন। প্যারাডাইজ লস্ট এতটাই প্রিয় যে তার ডায়ালগও ব্যবহার করেছেন।
দাদীমা এলিসকে উৎসর্গ করা তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই ‘মক উইথ ডেথ’ ওডিসিয়াসের ত্বত্তালোচনাকে বর্ধিত করেছিল । বইটি ছাপা হয়েছিল ২০০৪ এ। মিলটন, শেকস্পীয়ার, সেনেকা আর ইউরিপিডিস যেভাবে নশ্বরতাকে অবলোকন করেছেন সেভাবে এই বইটিতে তার মৃত্যু ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে। যে ভাবনা মানুষ আদিকাল থেকে উপলব্ধি করে আসছে, “ আমরা একদিন হারিয়ে যাব এই পৃথিবী থেকে; সত্যি প্রতিদিন একটু একটু করে হারাচ্ছি আমরা।” (সম্পূর্ণ…)

তাপস গায়েনের দুটি `বিভ্রম’

তাপস গায়েন | ১১ december ২০১৭ ১১:১৫ পূর্বাহ্ন

eyeবিভ্রম-১

একদিন এই আকাশ ছিল ঈশ্বরের প্রকাশ, আজ সেইখানে শুধু নক্ষত্রের সমাহার। এতো যে চুম্বকগতি, এতো যে বিদ্যুৎ বলরেখা, এইসব উপস্থিতি নিয়েও আমার আচ্ছন্নতায় আমি থেকে যাই নির্বাক। ফুলের শুভ্রতা আর বর্শার ফলকের মতো ক্ষিপ্রতা নিয়ে ধূমকেতু চলে গেছে, যেভাবে এই পৃথিবী পাড়ি দিয়ে চলে যায় সোনার সংসার, কিন্তু রেখে যায় অপরিচ্ছন্ন দর্পণ, ভাঙা আধুলির মতো কিছু সঞ্চয়, আর শরীরে অপরিচিতের প্রেম।

শেষ বিকালের আলোয় অপসৃয়মান হতে থাকে প্রিয় নদীর বাঁক, যেভাবে হারিয়ে ফেলেছি পিতার আদল আর মাতৃমুখ! তবু জেটিতে নোঙ্গর করেছে যে জাহাজ, তার মাস্তুলে চক্রাকারে পাক খায় সিগ্যল, আর তাদের ডানা থেকে খসে পড়ে অনির্নীত সময়। এই পৃথিবীতে এসে দেখে গেলাম অগ্ন্যূৎপাত, ভূমিকম্প, কালবৈশাখীর ঝড়, আর মানুষের উৎসব। প্রাণের প্রকাশ নিয়ে বাজে যুদ্ধের দামামা, আর বীরের শরীর নিয়ে উড়ে চলে পরিযায়ী পাখি মহাদেশব্যাপী। এই যে মহানগরী, যেখানে ভীড়েছি আমি, ভীড়েছে বিভিন্ন গোত্র আর বর্ণের মানুষ আর তাদের অভিজ্ঞান, তাদের ব্যর্থ প্রেম, আর ধ্বংসের প্রবৃত্তি। বিবিধ পানশালায় মাতাল আমি জীবনকে নিরন্তর পুণ্য করে তুলি। (সম্পূর্ণ…)

হৃদয়হীনা সোফিয়া

স্বদেশ রায় | ১০ december ২০১৭ ৯:৫১ অপরাহ্ন

Sofia
সোফিয়া তুমি কি পুরবী দাশের চেয়েও হৃদয়হীনা? সৌমিক সারা রাত কাটিয়েছিলো
রাস্তায়, আকাশে চাঁদ গিয়েছিলো ক্ষয়ে। নীরবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো
পুরবী দাশের জানালা। সকালের আলোয় নীরব সৌমিক দেখেছিলো ঘুম ভাঙ্গা চোখের
পুরবী দাশ নেমে এসেছিলো মর্নিং ওয়াকে, বৃদ্ধা ঠাকুমার সাথে কত কথা তার –
মনে হয়নি একবারও সৌমিককে বলে, কোথা থেকে এলে, চোখ এত লাল কেন?
রাত জাগা ওই লাল চোখ দেখলে সোফিয়া তুমি নিশ্চয়ই বলতে, এত লাল কেন চোখ?
সোফিয়া তোমাকে দেখে, খুশি ডগমগ ফিরে গেছে সবাই, কাঁদেনি কেউ।
সৌমিক পাহাড়ের সিডি বেয়ে ফিরে গিয়েছিলো লজে, অনেক ক্লান্ত পায়ে । (সম্পূর্ণ…)

উত্তরাধুনিক সাহিত্য এবং রোকেয়ার ‘জ্ঞানফল’

মোস্তফা তোফায়েল | ১০ december ২০১৭ ৩:২৪ অপরাহ্ন

Rokeya‘জ্ঞানফল’ রোকেয়া এস. হোসেনের একটি রূপকথা গল্প, বা অ্যালেগরি। এ গল্পটি আছে তাঁর ‘মতিচূর’ দ্বিতীয় খন্ডে। ‘জ্ঞানফল’ গল্পটি রোকেয়ার অন্য অনেক গল্প বা গল্পাকৃতির প্রবন্ধের মতো নারীচরিত্রপ্রধান। এই রূপকটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছে ‘হাভা’ বা হাওয়া, ইংরেজিতে যিনি ‘ইভা’, তার সাথে যুগল চরিত্র হিসেবে আছে ‘আদম’। তার রূপক কহিনিটি এখানে পুনর্সৃষ্ট। রোকেয়া পাদটীকায় উল্লেখ করেছেন, “এস্থলে কোরান শরিফ বা বাইবেলের বর্ণিত ঘটনার অনুসরণ করা হয় নাই।”

রূপক গল্পটির চতুর্থ অনুচ্ছেদেই একটি প্রমিথীয় দ্রোহের লক্ষণ স্পষ্ট। প্রমিথিউজ দেবতাকুলে সম্মান ও মর্যাদার আসনে ছিলেন; ছিলেন দেবরাজ জিউসরে প্রিয় পাত্র। কিন্তু স্বর্গীয় সুখ তার ভাল লাগেনি।শুধু আদেশ আজ্ঞা পালন জিউসের সমর্থনে শোভাযাত্রায় শরিক হয়ে ‘ধন্য ধন্য, জিউস দেব’ বলতে বলতে তাঁর বিরক্তি এসে গিয়েছিল। মর্ত্যের মৃত্তিকা তার মাতা; মাতার সন্তান মানবকুল অনাহারে অর্ধাহারে, ছিন্নবস্ত্রে, বিনাবস্ত্রে বসবাস করে। তারা জ্ঞান-বুদ্ধি-বিবেচনা ও উদ্ভাবনী জানে না; বঞ্চনা ও প্রতারণা বুঝে না; সম্পদ সৃষ্টির প্রণোদনা উপলব্ধি করে না। তাই প্রমিথিউজ স্বর্গে আয়োজিত একটি শোভাযাত্রা থেকে আগুনের মশাল চুরি করে এনে মর্ত্যের মানবজাতির হাতে দিলেন। বললেন, ‘তোমরা আমার ভাই। এই মশাল জ্বালিয়ে রেখ; জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা করো; কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করো। শ্রমের ঘাম আর ত্যাগের রক্ত এক সাথে প্রবাহিত করো; কেউ তোমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না।’ জিউস প্রমিথিউজের এই বিদ্রোহে মহা ক্ষুব্ধ হলেন। তিনি প্রমিথিউজকে স্বর্গ থেকে বহিষ্কার করে দিলেন। তাকে লোহার শেকলে বেঁধে ককেশাস পর্বতে বন্দি করে রাখা হলো।
‘জ্ঞানফলে’ রোকেয়া লিখলেন, (সম্পূর্ণ…)

দেশে বিদেশে-র নেপথ্যকাহিনি

মুহিত হাসান | ৯ december ২০১৭ ১০:২৩ পূর্বাহ্ন

12107115_10206549098980001_4721273367198876708_n
‘চিত্র: সৈয়দ মুজতবা আলী
সৈয়দ মুজতবা আলীর সবচেয়ে বিখ্যাত ও তাঁর প্রথম বই, দেশে বিদেশে রচনার নেপথ্যে দুটি ঘটনা নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছিল বলে বর্তমান নিবন্ধকারের মনে হয়। ১.ভ্রাতুষ্পুত্রী জাহানারার প্রেরণা ও ২.বন্ধু বীরভদ্র রাও-এর প্ররোচনা।
একবার ঘটনাক্রমে সিলেটে মুজতবা আলীর সঙ্গে আবু সয়ীদ আইয়ুবের প্রথম পরিচয় হয়েছিল। তখন দুজনেই বয়সের দিক থেকে নিতান্ত কিশোর। ১৯৪৫ সালে কাবুল-জার্মানি ফেরতা ও বরোদার চাকরি ছেড়ে আসা মুজতবা আলী শুধু লেখালেখি করে জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে কলকাতায় খানিক থিতু হওয়াতে দুজনের মধ্যে ফের একটি যোগাযোগ তৈরি হলো। বরোদা থেকে কলকাতায় আসার পর আইয়ুবের ৫ নম্বর পার্ল রোডের বাড়িতেই আশ্রয় নিলেন মুজতবা। তবে আইয়ুবের নিজের স্বাস্থ্যও তখন খুব ভালো যাচ্ছিল না। এর মধ্যে ছেচল্লিশের দাঙ্গা কলকাতা শহরকে তছনছ করে দিয়ে গেছে। এমন সময় আইয়ুবের দেহে যক্ষ্মা ধরা পড়লো। অতএব আইয়ুবের চিকিৎসার জন্য ছোটাছুটি আরম্ভ করতে হলো মুজতবাকেই। চিকিৎসকরা একসময় সুস্থতার জন্য হাওয়া বদলের পরামর্শ দিলেন। অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই মুজতবা বন্ধু আইয়ুবকে নিয়ে ছুটলেট দাক্ষিণাত্যের মদনপল্লীর বিখ্যাত স্যানেটোরিয়ামে। আইয়ুব সেখানকার উত্তম পরিবেশে কয়েকমাস থেকে আরোগ্য লাভ করলেন বেশ দ্রুততার সাথেই। সুস্থ হয়ে আইয়ুব কলকাতায় ফিরে গেলেও মুজতবা দক্ষিণ ভারত ভ্রমণের জন্য সেখানেই থেকে গেলেন। চললেন রমণ মহর্ষির অরুণাচল আশ্রমে। সেখানে বেশকিছু দিন থাকবার পর যান তাঁর আরেক বন্ধু, অন্ধ্রপ্রদেশের বীরভদ্র রাওয়ের বাড়িতে। তৎকালীন মাদ্রাজের এক সমুদ্রসৈকতের ধারে ছিল বীরভদ্রের গৃহ। সমুদ্রতটের চিত্র দেখে তাঁর দিন মন্দ কাটছিল না। ওই সময়ের বর্ণনা দিয়েছেন তিনি এভাবে: ‘মাদ্রাজের বেলাভূমিতে…সমুদ্রের ওপারে চমৎকার সূর্যোদয় হয়। সূর্যাস্ত অবশ্য সমুদ্রগর্ভে হয় না। অর্থাৎ পূর্বাকাশে যে রঙে রঙে রঙিন চিত্রলেখা অঙ্কিত হয় সেটি কারো দৃষ্টি এড়াতে পারে না। আমি মাঝে মাঝে তারই বর্ণনা আপন ডাইরিতে লিখি। বীরভদ্র রাওকে মাঝে মধ্যে পড়ে শোনাই…।’ (সম্পূর্ণ…)

নির্মলেন্দু গুণ: মুসলমানদের মধ্যে হিন্দুদের চেয়ে ভিন্ন সৌন্দর্য আছে

রাজু আলাউদ্দিন | ৭ december ২০১৭ ১:০৯ অপরাহ্ন

Goon-1গত নভেম্বরের মাঝামাঝি কবি নির্মলেন্দু গুণের সাথে কবি আল মাহমুদ, কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, হুমায়ুন আজাদের সাথে তার অম্লমধুর সম্পর্ক, রোহিঙ্গা ইত্যাদি প্রসঙ্গে প্রাবন্ধিক রাজু আলাউদ্দিনের যে-ফোনালাপ হয় তারই শ্রুতিলিপি এই সাক্ষাৎকার। শ্রুতিলিপি তৈরি করেছেন তরুণ গল্পকার সাব্বির জাদিদ। বি. স.

রাজু আলাউদ্দিন: কেমন আছেন, গুণদা?
নির্মলেন্দু গুণ: এই তো আছি মোটামুটি।
রাজু আলাউদ্দিন: গুণদা, একটা ব্যাপার নিয়ে আলাপ করা দরকার আপনার সাথে। যেহেতু বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবি আল মাহমুদের কবিতা আছে, ফলে ঐতিহাসিকভাবে আপনার ওই বক্তব্যটা একটু দুর্বল হয়ে পড়বে। সেটা নিয়ে আমার মনে হয় আপনার একটু ইয়ে করা উচিত।
নির্মলেন্দু গুণ: ওটা কোথায় আছে, কবে প্রকাশিত হয়েছে এটা জানা দরকার।
রাজু আলাউদ্দিন: আমি একটা তথ্য পেয়েছি। তথ্যটা হইল, বেবী মওদুদ আপা, উনি একটা বই করেছিলেন, ‘বাঙালির শুদ্ধ নাম শেখ মুজিবুর রহমান’, ওখানে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত যে কবিতাগুলো ছিল সেখানে আল মাহমুদের ‘নিশিডাক’ কবিতাটা আছে।
নির্মলেন্দু গুণ: এটা কোনো গ্রন্থে যায় নাই?
রাজু আলাউদ্দিন: আমার হাতে যেহেতু আল মাহমুদের বইগুলো নাই, এ জন্য আমি নিশ্চিত হতে পারছি না। হয়ত বইয়ে নাই।
নির্মলেন্দু গুণ: তাকে জিজ্ঞেস করলেই তো উনি বলতে পারবেন।

রাজু আলাউদ্দিন: উনি তো এখন আর ফোনে কথা বলতে পারেন না–এই রকম অবস্থা আর কি। তো যাই হোক, ওটা দেখেই জানতে হবে। যদি লিখে থাকেন তো ভালো। খারাপ না। আর কবিতাটাও তো বেশ ভালো। ভালো কবিতা। ওটাকে কবিতা করে তুলতে পেরেছেন। স্লোগানে পরিণত হয়নি। অনেকে তো শুধু প্রোপাগাণ্ডা করে ফেলে। কবিতার শিল্পরূপটা থাকে না। তো সেটা দেখলাম যে উনার এই কবিতাটায় আছে। এটা ভালো। খারাপ না। (সম্পূর্ণ…)

মাটির ময়না এবং রানওয়ে: সবাক মাধ্যমে মহৎ এক নীরবতা

চঞ্চল আশরাফ | ৫ december ২০১৭ ১১:২৭ অপরাহ্ন

Tarek masudবাংলাদেশের চলচ্চিত্র মূলত দুটি সমান্তরাল ধারায় তৈরি হয়ে আসছে। একটি বিনোদনমুখ্য ও বাণিজ্যিক এবং অন্যটি বক্তব্যভিত্তিক ও নন্দনমুখ্য– এটা আমরা কম-বেশি জানি। বাঙালি চলচ্চিত্রকারদের বেশির ভাগই কোনো-না-কোনোভাবে উভয় ধারাতেই এই জনপদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধারণ করতে চেয়েছেন। যদিও ১৯৭৫ সালের পর বাংলাদেশের চলচ্চিত্র প্রায় পুরোপুরি ভিন্ন খাতে বইতে শুরু করেছিল। স্বাধীনতার আগে জহির রায়হান নির্মিত ‘জীবন থেকে নেয়া’য় (১৯৭০) বাঙালি জাতির মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত হয়েছিল, তাতে সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার স্বপ্ন উহ্য ছিল না, যদিও তা ছিল শহুরে মধ্যবিত্তকেন্দ্রিক। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যার পর দেশের চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’য় মূর্ত বাঙালির আকাঙক্ষার উল্টা দিকে চলতে শুরু করে। ‘বেদ্বীন’, ‘হুর এ আরব’, ‘বানজারান’ থেকে ‘আবেহায়াত’ পর্যন্ত নামগুলি দেখলে বোঝা যায়, বাংলা চলচ্চিত্র কোন দশায় ছিল। এর মধ্যেও যে ভালো কিছু ফিল্ম তৈরি হয় নি, তা নয়; ব্যবসার লক্ষ্য নিয়ে কিছু বক্তব্যপ্রধান ছবিও বানানো হয়েছিল; সাহিত্যনির্ভরও কিছু হয়েছে; কিন্তু বাঙালির আত্মপরিচয়, তার জাতিগত উত্তরণের সংকট ও প্রশ্ন কোনো চলচ্চিত্রে উত্থাপিত হয় নি, ভরকেন্দ্র হওয়া তো দূরের কথা। জীবন থেকে নেয়ায় যে সংগ্রামটি শুরু করেছিলেন জহির রায়হান, স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েও আমরা এর বিকাশের পথে চলতে পারি নি। এবং ওই ছবিতে যে সীমাবদ্ধতা ছিল, তা বুঝিয়ে দেয়ার চেষ্টাও কোনো চলচ্চিত্রে দেখা য়ায় নি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস যদি রচিত হয়, তাহলে তারেক মাসুদের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা মূলত এখানেই দ্রষ্টব্য হয়ে যায়। (সম্পূর্ণ…)

ফারাও ভূমিতে

ইকতিয়ার চৌধুরী | ৪ december ২০১৭ ৯:২৯ অপরাহ্ন

Farao
১৯৯২।
ঈজিপ্টে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মসিয়ু লেকলার্ক আমাকে লিখেছিলেন, ‘তুমি কায়রোতে দূতাবাসের এ্যাপার্টমেন্টে ইচ্ছে করলে থাকতে পারবে।’ আমি তখন প্যারিস থেকে দুমাসের জন্যে কায়রো আসার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সেখানকার ফরাসি দূতাবাসে শিক্ষানবিশের কাজে। ইচ্ছে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা ইসরাইলে এই দুমাস কাটানোর। কিন্তু প্রিটোরিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তেল আবিবের সাথে ঢাকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনা করে ফরাসি পররাষ্ট্র দপ্তর আমার অনুরোধ নাকচ করল। তারা আমাকে কানাডায় পাঠাতে চাইল কিন্তু শেষ পর্যন্ত কায়রো আসাই স্থির হলো। আমার পছন্দের তালিকায় কায়রোও ছিল। পর্যটন মওসুমে মিসরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় চার হাজার ভ্রামনিক আসেন। সে রকম একটি দেশে যেতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়।
শেরাটন (কায়রো) হোটেলের কাছাকাছি ফিনি স্কোয়ারে আমার আবাস। দূতাবাসের এ্যাপার্টমেন্টেই উঠেছি আমি। বারোতলা ভবনের আটতলায় চার বেড রুমের বিশাল ফ্ল্যাট। বাসিন্দা একমাত্র আমি। ফ্ল্যাটটি পরিত্যক্ত। বহুদিন হলো এখানে কেউ বসবাস করছেন না। রাতে নির্জন বাসায় গা ছমছম করে। খাট, বেতের কয়েকটি নড়বড়ে চেয়ার এবং টেবিল ছাড়া বিশেষ কোনো আসবাব নেই। আমার আগমন উপলক্ষ্যে কিচেনসহ একটি বেডরুম এবং বসবার ঘর পরিষ্কার করা হলেও বাকি ঘরগুলো ধুলোয় ঠাসা। কিচেনটি সজ্জিত। দুটো ফ্রিজ, গ্যাসের চুলো ও অন্যান্য তৈজস রয়েছে সেখানে। বিছানাপত্র পেয়েছি ধারে। আমার এ্যাপার্টমেন্টের কাছেই দূতাবাসের কাউন্সিলর মসিয়্যু স্টেফান গোমপার্দের বাসা। যে রাতে কায়রো পৌঁছুলুম সেদিন ওঁর ইতালীয় স্ত্রী ক্রিস্টিনা একজোড়া চাদর, দুটো করে তোয়ালে ও বালিস আমাকে ধার দিয়েছেন। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com