রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পে নারীর ক্রমবিকাশ

শান্তা মারিয়া | ২৩ অক্টোবর ২০১৭ ১০:৩১ অপরাহ্ন

tagoreরবীন্দ্রসৃষ্টির কল্যাণে বাংলা সাহিত্য পেয়েছে অবিস্মরণীয় সব নারী চরিত্র। উপন্যাস ও বড়গল্পে ‘শেষের কবিতা’র লাবণ্য, ‘ল্যাবরেটরি’র সোহিনী, ‘যোগাযোগে’র কুমু, ‘দৃষ্টিদানে’র কুমু, ‘মালঞ্চ’র সরলা ও নীরজা, ‘দুইবোনে’র শর্মিলা ও ঊর্মিলা, ‘গোরা’র সুচরিতা, ‘নৌকাডুবি’র হেমনলিনী, ‘নষ্টনীড়ে’র চারুলতা, ‘ঘরে-বাইরে’র বিমলা, ‘চোখের বালি’র বিনোদিনীর, তুলনা পুরো বাংলাসাহিত্যেই বিরল। সেই সঙ্গে অবিস্মরণীয় ছোটগল্পের নারীচরিত্ররাও। ‘স্ত্রীর পত্রে’র মৃণাল, ‘সমাপ্তি’র মৃন্ময়ী, ‘দেনাপাওনা’র নিরুপমা, ‘হৈমন্তী’র হৈমন্তী, ‘রাসমণির ছেলে’র রাসমণি, ‘মণিহারা’র মণি, ‘পোস্টমাস্টারে’র রতন, ‘ঘাটের কথা’র কুসুম, ‘সুভা’র সুভাষিণী, ‘খাতা’র ঊমা, ‘শাস্তি’র চন্দরা তাদের চরিত্রের দৃঢ়তায় বাংলা সাহিত্যের পাঠকের স্মৃতিতে নিজস্ব জ্যোতিতে ভাস্বর। বিচিত্র সব নারী চরিত্রের সমাবেশ ঘটেছে রবীন্দ্রনাটকেও। ‘রক্তকরবী’র নন্দিনী, ‘রাজা ও রাণী’র রাণী , নৃত্যনাট্য ‘শ্যামা’র সুন্দরীপ্রধানা শ্যামা, ‘মায়ার খেলা’র প্রমদা সকলেই অনন্যা।
রবীন্দ্রমানসে নারী শুধুই কোমলতা, স্নেহ বা প্রেমের প্রতিভু নয় বরং অনেক সময়ই নারী নীতির প্রশ্নে আপোষহীন, সভ্যতার সংকটে বিবেক এবং সমাজ কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে চিত্রিত। রবীন্দ্রবিশ্বের নারীরা পুরুষের ছায়ামাত্র নয় যা সেযুগের প্রেক্ষাপটে খুবই স্বাভাবিক বলে গণ্য হতে পারতো। বরং যুগের তুলনায় আশ্চর্যরকম অগ্রসর তার নারী চরিত্ররা। হয়তো ঠাকুরবাড়ির নারীদের মধ্যে এমন অনেকের দেখা রবীন্দ্রনাথ পেয়েছিলেন বলেই সাহিত্যে এমন স্বতন্ত্রবৈশিষ্ট্যমণ্ডিত নারী চরিত্রের সৃষ্টি তার পক্ষে সম্ভব হয়েছিল। ব্যক্তিজীবনে রবীন্দ্রনাথ দেখেছিলেন কাদম্বরী, জ্ঞানদানন্দিনী, স্বর্ণকুমারী, সরলা ঘোষাল, ইন্দিরা দেবীর মতো বিশিষ্ট প্রতিভার অধিকারী নারীদের। সেইসঙ্গে নিজের স্ত্রী মৃণালিনী দেবী, কন্যা মাধুরীলতা, রেণুকা, মীরাদেবীর মতো নারীর ছায়াও প্রতিফলিত হয়েছে তার সৃষ্ট চরিত্রে। নিঃসন্তান কাদম্বরী দেবীর বিপুল নিঃসঙ্গতা এবং নিঃসন্তান ও অকালমৃত বড়কন্যা মাধুরীলতাও নানাভাবে প্রতিফলিত হয়েছে তার লেখায়। তার তিনকন্যার একজনও দাম্পত্যজীবনে সুখী ছিলেন না। সেই অসুখী দাম্পত্যের প্রতিফলন ও আত্মহত্যাকারী কাদম্বরীর আদিগন্ত অভিমানের ছোঁয়াও পাওয়া যায় তার সৃষ্টির ভুবনে আকাশচারী নারীদের মানসে। বৈচিত্রের দিক থেকেও রবীন্দ্রসাহিত্যের নারীরা বিচিত্রগামী। গ্রাম্য বালিকা, কৃষক পরিবারের গৃহবধূ, বিধবা মুসলমান বৃদ্ধা, মোগল রাজকুমারী, ব্রাহ্ম পরিবারের তরুণী, হিন্দু কূলবধূ, স্বদেশী বিপ্লবী, অবাঙালি ও সংস্কারমুক্ত বিজ্ঞানমনস্ক নারী, স্বাধীন চাকরিজীবী নারীর ছবি তিনি এঁকেছেন। এই বিচিত্র সৃষ্টি সম্ভারের মধ্যেও গল্পগুচ্ছের এমন পাঁচটি নারী চরিত্র চোখে পড়ে যারা একে অন্যের প্রায় প্রতিরূপ। তবে পাঁচটি বিভিন্ন গল্পের মধ্য দিয়ে এরা এমনভাবে বিকশিত হয়েছে যে এ কথা ধারণা করা যায় রবীন্দ্রনাথ নিজেই এই পাঁচটি গল্পের ভিতর দিয়ে নারীর মুক্তির পথ অন্বেষণ করেছেন। তার চিন্তায় নারীর মুক্তির পথ যত বিকশিত হয়েছে গল্পগুলোর মধ্য দিয়েও নারীর স্বাধীনতার পথ তত উন্মোচিত হয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

জীবনানন্দ দাশ: হৃদয়ের কাছাকাছি যার বসবাস

লীনা দিলরুবা | ২২ অক্টোবর ২০১৭ ৭:২৮ অপরাহ্ন

J das-1
‘চিত্র: বিয়ের আসনে জীবনানন্দ ও লাবণ্য দাশ
এক.
মুহূর্তের আনন্দময় অনুভূতি যেন সুখ নয়। ওট প্রপঞ্চ, ইল্যুশন। দুঃখবোধ প্রকৃত প্রস্তাবে সুমহান করে তোলে মানবজীবন। যেমনটি ঘটেছিল জীবনানন্দ দাশ-এর জীবনে। প্রহেলিকার মতন দেখা দেয়া কিছু সুন্দর সময় বিপরীতে সুদীর্ঘ বিষাদময় অভিজ্ঞতা তাঁকে কখনোই স্বস্তিদায়ক কোনো পরিস্থিতির নিশ্চয়তা দেয়নি কিন্তু ঘটনাটিতে বাংলাসাহিত্য, সর্বোপরি বিশ্বসাহিত্য পেয়েছিল এমন এক নিভৃত কবিকে, এমন এক সুরেলা কবিকে, যার কবিতা না পড়লে অজানা থেকে যেত অনেক কিছু। অজানা থেকে যেত কারো কারো সকালের বিষন্ন সময় অলস মাছির শব্দে ভরে থাকে, আমার কথা সে শুনে নাই কিছুই তবু আমার সকল গান ছিল তাকেই লক্ষ্য করে…।
অজানা থেকে যেত, অন্ধকারের গায়ে ঠেস দিয়ে বসে থাকা যায়। যেমনটি তিনি লিখেছিলেন–
যেদিন শীতের রাতে সোনালি জরির কাজ ফেলে
প্রদীপ নিভায়ে র’ব বিছানায় শুয়ে।
অন্ধকারে ঠেস দিয়ে জেগে র’ব
বাদুড়ের আঁকাবাঁকা আকাশের মতো।
স্থবিরতা, কবে তুমি আসিবে বল তো।

এই বায়বীয় অন্ধকার কেমন? যার শরীর রয়েছে। যাকে স্পর্শ করা যায়? (সম্পূর্ণ…)

শীতের রাত, প্রকৃতি কিংবা ‘মৃত্যুর আগে’

নাহিদ আহসান | ২২ অক্টোবর ২০১৭ ৫:৫০ অপরাহ্ন

winterব্যাখ্যায় কবিতার স্নিগ্ধতা ঝলসে যায়–এটা বহু সময় অনুভব করি। তবু কিছু কিছু পংক্তি আমাদের এমন বোধের ভেতর নিক্ষেপ করে; আনন্দময় অনুরণনে এমনভাবে কম্পিত করে, যাতে পাঠক হিসেবে নীবর ভূমিকা আর পালন করা যায় না। কাউকে বলতে ইচ্ছে করে, বহুকে বলতে ইচ্ছে করে। মনের ভেতর গুঞ্জন সৃষ্টি হয় যা আসলে অব্যক্ত, কিন্তু তা ব্যক্ত করার দুঃসাধ্য চেষ্টা আমাদের পেয়ে বসে।
আমরা বেসেছি যারা অন্ধকারে দীর্ঘ শীত-রাত্রিটিরে ভালো:
চমক্ দেয়া চিত্রকল্প, সাংগীতিক মাধুর্য, গভীর বক্তব্য- তেমন কিছুই নেই এখানে; তবু জীবনানন্দ দাশের ‘মৃত্যুর আগে’ কবিতাটির এই পংক্তি আমাকে আলোড়িত করে যায় একমাত্র প্রকৃতিকে যারা প্রতিটি রোমকূপ দিয়ে অনুভব করে– ত্বকে তার স্পর্শ পায়– তারাই এর বক্তব্যকে সনাক্ত করতে পারবে হৃদয়ের মধ্যে। ‘অনুভব’ এই শব্দটির ওপর আমি জোর দিতে চাই। কারণ এখানে মস্তিস্ক দিয়ে বোঝার প্রায় কিছুই নেই। মনে হয়, একটি শীতের রাত তার সমস্ত কুহকী বৈশিষ্ট্য নিয়ে এই বাক্যে উপস্থিত হয়েছে।
প্রকৃতির বহু ঐশ্বর্য আছে যা ঝলমলে; চোখকে নিমেষেই অধিকার করে নেয়। ধরা যাক-একটি ফুলে ফুলে রঞ্জিত কৃষ্ণচূড়া কিংবা ঘোর কৃষ্ণবর্ণ ঝমঝমে বর্ষা। (সম্পূর্ণ…)

কার্তিকের গলে যাওয়া রাত্তিরে!

মারুফ কবির | ২১ অক্টোবর ২০১৭ ১১:৩১ অপরাহ্ন

jibananandaঅশত্থের ফাঁক গলে জীবনানন্দের শিয়রে পঞ্চমীর চাঁদ আলো ঢালে,
বেনো জলে ভেসে যায় বিপন্ন বিস্ময়, কার্তিকের বাতাসে এসে মেশে লক্ষ্মীপেঁচার দীর্ঘশ্বাস,
সোনালি ডানার চিল ছোঁ মেরে নিয়ে গেল বেঁচে থাকার সব অভিলাষ,
শুঁয়ো পোকার মতন ট্রাম এগিয়ে আসে জ্যোৎস্নার আলোতে কলকাতার রাজপথে,
শিশির ভেজা রাতে নক্ষত্রেরা মৃত আকাশ থেকে খসে পরে সফেদ সমুদ্রে।
স্বপ্নের পাণ্ডুলিপিতে রোদ্দুরের ঘ্রাণ তখনো ময়ূরের পেখম ব্যাকুল মুছে নিতে,
শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে রাত এগারটা পনের বাজে,
হেমন্তের রাত্রি চিরে স্থির হন কবি অবশেষে,
ঘন অন্ধকারে জোনাকির মতন হারিয়ে যায় কীর্তিনাশার দিকে। (সম্পূর্ণ…)

এলগিনটন স্কোয়ারে কানাডা এবং বাংলাদেশের দুই কবি

অনন্যা শিলা শামসুদ্দিন | ২১ অক্টোবর ২০১৭ ১১:০৩ অপরাহ্ন

canadaকানাডা এবং বাংলাদেশের দুই কবিকে নিয়ে এক আয়োজন ছিলো বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর। দর্শন-সমাজ-সংস্কৃতি-সাহিত্য-শিল্পকলা-বিজ্ঞানচর্চ্চা কেন্দ্র “পাঠশালা”র দ্বিতীয় আসরে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন বাংলাদশের কবি আসাদ চৌধুরী এবং কানাডার কবি রিচার্ড গ্রিন। পূর্ব ও পশ্চিমের দুই অগ্রগন্য কবির সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং নিজের লেখা কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে আসরটি ভিন্নরকম এক ব্যঞ্জনা পায়।

এগলিনটন স্কোয়ার টরন্টো পাবলিক লাইব্রেরীতে অনুষ্ঠিত আসরে শুরুতে স্মরণ করা হয় সদ্য প্রয়াত আমেরিকার অন্যতম জনপ্রিয়-শক্তিশালী বর্ষীয়ান কবি জন অ্যাশব্যারীকে ও অভিনন্দন জানানো হয় সাহিত্যে সদ্য নোবেল পুরষ্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক কাজ্যুও ইশিগুরোকে। সঞ্চালক ফারহানা আজিম শিউলী জন অ্যাশব্যারী ও কাজ্যুও ইশিগুরোর সাহিত্য জীবন নিয়ে এই পর্বে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করেন।

মূল পর্বের প্রথমার্ধে বাংলাদেশের অগ্রগণ্য কবি আসাদ চৌধুরী তাঁর কাব্য ভাবনা, কবির দায় ইত্যাদি তুলে ধরেন এবং তাঁর অসংখ্য সৃষ্টিসম্ভার থেকে কিছু কবিতা স্বকন্ঠে পাঠ করে শোনান। তাঁর অতি বিখ্যাত “বারবারা বিডলারকে” কবিতাটির কবীর চৌধুরী কৃত অনুবাদটি পাঠ করেন সানন্দা চক্রবর্ত্তী। কবি আসাদ চৌধুরী এবং তাঁর সমসাময়িক কবি-সাহিত্যিকদের দীর্ঘসময়ের আড্ডার কেন্দ্র – একসময়ের ঢাকার শাহবাগের “রেখায়নে”র প্রাণপুরুষ রাগিব আহসান নিউইয়র্ক থেকে স্কাইপে যোগ দিয়ে তুলে ধরেন সেই সময়কার কিছু স্মৃতিকথা। (সম্পূর্ণ…)

তারিক সালমনের দশটি কবিতা

তারিক সালমন | ২১ অক্টোবর ২০১৭ ১:০১ অপরাহ্ন

Rashid Chowdhury
উড়াউড়ির দিন

এইখানে ধুলো নেই। বসবে এখানে?
ফুটপাথ রয়ে গেছে রৌদ্র যেখানে।

সেইখানে তুমি ছিলে। আমিও ছিলাম।
লেখা আছে ওইখানে রাস্তার নাম।

কেউ তা দেখে না, শুধু দেখি আমরাই।
আমরা এখানে বসি। ওখানেও যাই।

এখানেই আছো তুমি। আছো ওখানেও।
এখানে একটু বসো। ওখানেও যেও।

দৃশ্যাবলি

তুমিও থাকলে শব্দের মতো জড়িয়ে
একটিই শুধু খুলে পড়েছিল অক্ষর
ছাউনিও ছিল নিঃসীম এক আকাশে
দূরে দুলছিল তোমার কণ্ঠস্বর

একটানে এঁকে ছবিটি আবার মুছে দিচ্ছিল কেউ
বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছিল সেই ছবিটি
বাসের প্রথম সিটটিতে বসে তুমি
আমি লাস্ট বেঞ্চ, দূরে এক মেগাসিটি। (সম্পূর্ণ…)

আমার বন্ধুর মুখ

বিপাশা আইচ | ১৯ অক্টোবর ২০১৭ ১১:৫৬ অপরাহ্ন

Aniআমার অনেক দিনের বান্ধবী এ্যনি (Anne )। যার সাথে টিফিন টাইমে খাবার ভাগাভাগি থেকে শুরু করে কতো কিছুই না করেছি সারা জীবন। ও ক্লাসে আগে এলে পাশের সিট আমার জন্য রিজার্ভ থাকতো
। আমি আগে গেলেও ওরকমই হতো। কিছু দিন পরে ক্লাসের সবাই এটা জেনে গেল বলে কষ্ট করে জায়গা রাখতে হতো না।

বেশির ভাগ ও-ই টিফিন আনতো। সবচেয়ে প্রিয় টিফিন ছিল গরুর মাংস ভুনা ও ঘিয়ে ভাজা পরোটা। পরোটা আমার খুবই প্রিয় খাবার। সংগে গরুর মাংস থাকলে তো কথাই নেই। আহ জিবে জল এসে যায় এখনো। খালাম্মা ছিলেন রান্নায় খুব পটু। এ্যনির কল্যাণে ও বাড়ির সব খাবারই আমার রসনাকে তৃপ্ত করতো। শুধু কি বাসার টিফিন? কিনে খাওয়া আটকাবে কে? ডাসা পেয়ারা, সমুচা, সিঙ্গারা, জিভ লাল করা আইসক্রিম। কতো কি খেতাম।

আমরা যখন গিন্নীবান্নী হয়েছি তখনও বেড়াতে বেড়িয়ে খালাম্মার উত্তরসূরি এ্যনির হাতের মাংস পরোটা থাকতো আমাদের দুপুরের খাবার। (সম্পূর্ণ…)

কিশোর রাসেল

মোস্তফা তোফায়েল | ১৯ অক্টোবর ২০১৭ ১২:৪৫ অপরাহ্ন

russelবেহুলা বোনেরা যায় কলার ভেলায়
স্বর্গদেশ অভিমুখে, মুজিবের খোঁজে
বঙ্গবন্ধু মুজিবুর, শেখ মুজিবুর।
সে এক অনন্তপুরী স্বর্গভূমি দেশ,
হাজারো ঝরনাধারা ঝংকৃত পুরী:
সেখানে দিগন্ত জুড়ে বীথিকা বিলাস;
সেখানে অনন্তপুরে শারদ শাপলা;
হেমন্তের কুন্দকলি, শীতে লোধ্ররেণু;
বসন্তের কুরুবাক, গ্রীষ্মের শিরীষ;
বরষা বর্ষণ কালে কদম ও কেয়া।
ঈষৎ নীলাভ লাল মহুয়ার গুটি
ঝুলে আছে, দোল খাচ্ছে মৃদুমন্দ বায়ে;
ঠোঁটের সমুখে অতি সন্নিকটে ঝুলে
ইশারায় দিচ্ছে ডাক চুম্বন আবেগে। (সম্পূর্ণ…)

যে পেল সেই রূপের সন্ধান

ফিরোজ এহতেশাম | ১৭ অক্টোবর ২০১৭ ১২:০৯ অপরাহ্ন

tuntun১লা কার্তিক ১৪২৪ (১৬ অক্টোবর ২০১৭) ফকির লালন সাঁইয়ের ১২৭তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়ায় আয়োজন করা হয়েছে তিন দিনের লালন স্মরণোৎসব। এ উপলক্ষে টুনটুন ফকিরের এ সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফিরোজ এহতেশাম।
২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার পান্থপথে একটি বাড়িতে টুনটুন ফকিরের সাথে আমার কথা হয়। যথাসম্ভব তাঁর ভাষা অক্ষুণ্ন রেখে কথপোকথনটি এখানে তুলে দিচ্ছি-
ফিরোজ এহতেশাম: বাউলদের মধ্যে একটা কথা প্রচলিত আছে-‘আপন ভজন কথা, না কহিবে যথা-তথা, আপনাতে আপনি সাবধান’- ভজন কথা কহিলে সমস্যা কী?
টুনটুন ফকির: আসলে সাধনের যে কথা সে বড় গুপ্ত কথা, গোপন কথা। যে লোক, গোপনে সাধন করার যার ইচ্ছা জাগবে তার কাছে বলা যায়। বলা যাবে না এমন কোনো কথা না। ইশারা-ইঙ্গিতে ওটাকে বুঝায়ে দেয়া যায়। এবং সাধারণ মানুষকে ইশারা-ইঙ্গিতের ওপরই বোঝানো হয়। যেমন, ধর্মটা কী? বাউল মানে- বাও মানে বাতাস, উল মানে সন্ধান। বাউল বাতাসের সন্ধান করে। নাসিকাতে চলে ফেরে। বাউল, ফকির এসব একই স্তরেরই জিনিস। তো, আপন ধর্মকথা না কহিও যথা-তথা, তার মানে কী? আমার গুরু আমাকে যে পথ দেখিয়েছেন, সেই পথে আমি হইছি কিনা জানার পর তখন তিনি যোগ্য পাত্র পাইল একটা, যোগ্য পাত্র তিনি খুঁজে পান। (সম্পূর্ণ…)

নৈঃশব্দের সংস্কৃতি: কথা না বলার যতো অজুহাত

পূরবী বসু | ১৬ অক্টোবর ২০১৭ ৭:৩১ অপরাহ্ন

comunicatonআধুনিকতা কিংবা ভদ্রতার আরেক নাম কি পরস্পরের সঙ্গে কথা না বলা? লিখিত রূপে কিংবা মৌখিকভাবে অন্য কারো সঙ্গে নিজের কথা বা ভাবের আদানপ্রদান না করাই কি আজকের সভ্যতা? চারদিকে দেখে শুনে তো তাই মনে হচ্ছে। যত দিন যাচ্ছে, কী ব্যক্তিগত পর্যায়ে, কী কর্মক্ষেত্রে, কী অফিস-আদালতে-ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে, আজকের দিনে কেউ যেন কারো সঙ্গে একান্ত বাধ্য না হলে কথা বলতে চায় না। অন্তত এখানে, এই মার্কিন মুল্লুকে। যেহেতু জগৎ জুড়ে অনেক তরঙ্গেরই উৎস এখানে যা অতিদ্রুত তরঙ্গায়িত হয়ে মৃদু থেকে শুরু করে বিশাল আকারের ঢেউ তোলে আমাদের মতো সমাজে, ভাবছি এই ছোঁয়াচে রোগটির আক্রমণ যদি প্রতিহত করতে না পারা যায়, আসলেই কী হবে আমাদের প্রাণপ্রিয় আড্ডার, নিশ্বাস প্রশ্বাসের মতো যা নিয়ে আমরা বেঁচে থাকি অনুক্ষণ? আড্ডা হলো সেই বস্তু যা দিয়ে শূণ্য থলে বগলে নিয়ে, জাগতিক বা মূল্যবান কিছু না থা্কা সত্বেও কথার ফুলকি দিয়ে ভরে রাখি জীবন। আড্ডা দিতে দিতে আমরা স্বপ্নের ঘোরে প্রবল জ্যোত্স্নার আলো ক্রমাগত চষে বেড়াই, ঘুরে বেড়াই বন্ধুর বাইরের ঘরে অথবা পেছনের খোলা মাঠে, তছনচ করি মেঘলা ঘোলা ঘোলা আকাশের নিচে সরু বুনো পথ, কিংবা বৃষ্টিস্নাত প্রভাতে দিঘির কিনারায় হেলে পড়া হিজল গাছের ডালে শাখামৃগের মতো ঝুলতে ঝুলতে কথার খৈ ফোটাই। আড্ডার রূপ, রস, আনন্দ, আবেগ, উত্তেজনা আমাদের বাঁচার রসদ – আরেকটি নতুন ভোরে জেগে ওঠার প্রত্যয়-প্রেরণা। কথা ছাড়া আড্ডা কী করে সম্ভব? আড্ডা মানেই তো একটানা কথা বলা-নিরর্থক গল্পগুজব, তলাবিহীন তর্ক, পরনিন্দা, নিরন্তর হাসি, ঠাট্টা, কৌতুক, কাচা গলায় প্রিয় সুর ভাজার নিরলস ব্যর্থ প্রচেষ্টা।

ভাবি, এই নৈঃশব্দের সংস্কৃতি কি পরোক্ষে আপন চিন্তা, মনোভাব বা অনুভূতি পাশের মানুষটির কাছে, প্রিয় বন্ধুর কাছে খুলে ধরার, প্রকাশ করার অনীহা বা অনাগ্রহই প্রমাণ করে না? বহুকাল ধরেই একটি মন্তব্য লেখালেখির জগতে গুঞ্জরিত হয়ে আসছে। বলা হয়, সাহিত্য রচনায় পুরুষ লেখক আর নারী লেখকের এক মৌলিক পার্থক্যের কথা। কথিত আছে, যার সত্যতাও অনেক ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যে নারীদের লেখায় থাকে অনেক আবেগ, তারা সাধারণত স্পর্শকাতর। নারীরা নিজের ও অপরের বোধ, অনুভুতির হেরফের, বিচিত্র মনোভাব ও তার প্রকাশভঙ্গির কথা বিষদভাবে প্রকাশ করতে ভালোবাসে। মানুষে মানুষে সম্পর্ক নিয়ে তারা বেশি কথা লেখে। অন্যদিকে পুরুষ লেখকরা অনুভব প্রকাশে সংযত, পারস্পরিক সম্পর্কের চাইতে তাদের লেখায় ঘটমান জগৎ, বস্তু ও পরিপার্শ্ব, রাজনীতি, বেশি উপস্থিত থাকে। অনুভূতির প্রকাশের চাইতে কর্মের মনস্তাত্বিক বিশ্লেষন তাদের রচনায় অপেক্ষাকৃত বেশি প্রাধান্য পায়। (সম্পূর্ণ…)

কাজুও ইশিগুরো: ১৯৮৯-এ ম্যান বুকার , ২০১৭-এ নোবেল বিজয়

আবদুস সেলিম | ১৫ অক্টোবর ২০১৭ ৯:৪২ অপরাহ্ন

unnamed২০০৯ সালে আমি আমার এক ইংরেজি ফিচারে (৯ই অক্টোবর ২০০৯-এ ‘স্টার ইউকএএন্ড’ প্রকাশিত) কাজুও ইশিগুরোর প্রসঙ্গে কিছু মন্তব্য করেছিলাম। সেখানে বলেছিলাম ঠিক কবে আমি তার লেখা পড়েছি আমার স্মরণে নেই–সম্ভবত ১৯৮৯-এ লেখা তার ‘দ্য রিমেইন্স অফ দ্যা ডে’ উপন্যাসটিই যেটি ঐ বছরই ম্যান বুকার পুরস্কার পেয়েছিল– আমার প্রথম পড়া কাজুওর লেখা। পড়েছিলাম ১৯৯০ সালে এবং বলতে দ্বিধা নেই, আমার এই উপন্যাস পড়াটি কোন বিচারেই সুখকর ছিল না এবং ফলে তার লেখা অপরাপর সাহিত্যকৃতি নিয়ে আমি আর উৎসাহিত বোধ করিনি। কাজুও সম্মন্ধে আমার কৌতুহলের সেখানেই সাময়িক অবসান ঘটে। আমার এই মনোভাবের সমর্থন পরবর্তীতে খুঁজে পাই ‘দ্য টাইমস্’ পত্রিকায় প্রকাশিত নীল মুখার্জির সমালোচনা নিরীক্ষায়। তিনি লিখেছিলেন, কাজুও ইশিগুরো-র পাঁচটি ছোটগল্পের সংকলন ‘নকটার্নস্’ প্রসঙ্গেঁ, “… কাজুও ইশিগুরো তর্কাতিতভাবে অস্পষ্টতা, প্রান্তিক অবস্থান এবং অবিরাম পরিবর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব।” স্পষ্টতই বোঝা যায় নীল-এর মন্তব্য কূটাভাস আকীর্ণ এবং স্ববিরোধীও বটে কারণ একজন গল্প-উপন্যাস লেখক তার গল্পগাঁথুনীতে অস্পষ্ট, প্রান্তিক এবং অবিরাম পরিবর্তমান হয়েও প্রতিভাবান হতে পারে তার উদাহরণ বেশ অপ্রতুল।

অবশ্য উপরোক্ত সমালোচনাটি পড়েই আমি ২০০৯ সালে আরও একবার কাজুও ইশিগুরো পড়ায় উদ্বুদ্ধ হই। আমার এক পরদেশি সংযোগের মাধ্যমে বইটি সংগ্রহ করি। আগেই বলেছি বইটি এক ছোটগল্প সংকলন। সর্বমোট পাঁচটি গল্প সম্বলিত এই বইয়ের একটি উপনামও আছে–‘ফাইভ স্টোরিজ অব মিউজিক এ্যান্ড নাইটফল’-এই সংকলনের মূল শিরোনাম ‘নকটার্নস্’-এর সাথে মিল রয়েছে, যার অর্থ, ‘স্বপ্নিল সংগীতাংশ’। এ বইটি পড়ার অভিজ্ঞাও তেমন আনন্দদায়ক ছিল না আমার যদিও লেখক ভালবাসা, সংগীত এবং সময়ের গতিময়তার কথা পাঁচটি গল্পেরই প্রতিপাদ্য রূপে উত্তম পুরুষীয় বৃত্তান্তে লিপিবদ্ধ করেছে। এই বৃত্তান্তলিপিকে কাজুও ইশিগুরো সংজ্ঞায়িত করেছেন ‘অদ্যন্ত এক সমরূপী, সংগঠিত প্রক্ষেপ রূপে’ অর্থাৎ পুরো সংকলনে এক ঐক্যতানের অন্তস্রোত পাঁচটি গল্পকে একীভূত করেছে। এই অভূতপূর্ব পরিকল্পনাটিই কাজুও ইশিগুরোকে লেখকরূপে স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত করে। সম্ভবত ২০১৭ সালে তার সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পাবার একটি অন্যতম মানদন্ড এই স্বাতন্ত্র্য। (সম্পূর্ণ…)

জীবনের অকপট ও অন্তরঙ্গ বয়ানে বারট্রান্ড রাসেল

লীনা দিলরুবা | ১৪ অক্টোবর ২০১৭ ১২:০৬ অপরাহ্ন

Russel picরাসেল-এর আত্মজীবনী-‘দ্য অটোবায়োগ্রাফি অব বার্ট্রান্ড রাসেল’কে পৃথিবীর ইতিহাসে এ-পর্যন্ত লিখিত আত্মজীবনীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ আত্মজীবনী বলা হয়ে থাকে। ১৯৫০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন তিনি। তাকে বিশ্লেষণী দর্শনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিবেচনা করা হয়। জীবনের আলোকিত দিকের গুণকীর্তন কেবল নয়, নিজের জীবনের অন্ধকার দিকের কথা রাসেল তাঁর আত্মজীবনীতে লিখে গেছেন। বয়ঃসন্ধিতে শারীরিক পরিবর্তনের যে অভিজ্ঞতা সেটি তাঁর মনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। স্ব-মেহনের অভ্যেস বিশ বছর পর্যন্ত বজায় রেখে তিনি মনে মনে পুড়তেন। এটি বন্ধ করার অভিপ্রায়ের কথাও বলেন। যখন প্রেমে পড়েন তখন অভ্যেসটি বন্ধ হয়ে যায়। নারী শরীরের প্রতি অতি আগ্রহ কমিয়ে আনতে নানা কায়দা-কানুনের আশ্রয় নিতেন। কিন্তু এক সময় এসব নিয়ে মনোযাতনায় ভুগলেও বিষয়গুলিকে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান অর্জন ধারণা করে মানসিক ব্যাধিগ্রস্ততা বলে মনে করতেন না। নারী শরীরের প্রতি মোহমুগ্ধতার কারণেই কবিতার প্রেমে পড়ে যান। ষোল-সতের বছর বয়সেই মিলটন, বায়রন, শেলীর কবিতা পড়ে শেষ করেছিলেন। তাঁর প্রকৃত নাম বার্ট্রান্ড আর্থার উইলিয়াম রাসেল। ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করা এই মহান দার্শনিক ৯৭ বছর আয়ু পেয়েছিলেন। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com