শহীদ মিনার: চেতনার বাতিঘর

ফরিদ আহমদ দুলাল | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন

ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে যে-সৌধ নির্মিত হয়েছে, যে সৌধে প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারি তারিখে তো বটেই, বিভিন্ন উপলক্ষে বাঙালি মিলিত হয় তা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শহীদ মিনার-এর নকশা সারাদেশেই যে এক তা নয়। বিভিন্ন নকশার শহীদ মিনারের স্থাপত্যে শিল্পীর কী দৃষ্টিভঙ্গি তা আমরা সবাই জানি না; এমন কী কেন্দ্রীয় যে শহীদ মিনার, তার স্থাপত্যে মা ও সন্তানের সমন্বিত উপস্থাপনের যে শিল্পিত উপস্থাপনা, তা-ও বোধকরি বাঙালি মাত্রই অবগত, তা-ও নিশ্চয়ই সঠিক নয়; কিন্তু শহীদ মিনারের চেতনার যে বিষয়টি সে-টি বাঙালি মাত্রই জানেন। অবশ্য এ-ও তো সত্য, বাঙালির এই চেতনার আঙিনা শহীদ মিনার প্রসঙ্গে এক শ্রেণির বাঙালির (?) অবজ্ঞা অথবা কটুক্তি যে আমরা শুনিনি তা কিন্তু নয়; এবং অপ্রিয় হলেও সত্যি সেইসব কটুক্তিকারীদের কখনো আইনের আওতায় এনে দণ্ডিত করা হয়েছে তেমনটি কখনো শুনেছি বলে স্মরণে আসছে না। এ কথা অবশ্যই সত্যি, যারা শহীদ মিনার নিয়ে কটুক্তি করে, তারাও এর চেতনার শক্তি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল; যেমন ওয়াকিবহাল ছিলো পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী। কিন্তু বাঙালির আধুনিক-বিজ্ঞানমনষ্ক-প্রাগ্রসর অংশ নিজেদের চেতনার সাথে শহীদ মিনারের সম্পৃক্তির বিষয়টি কোনোদিন কোনো অবস্থায় বিস্মৃত হননি; যে কারণে বাঙালি তাদের সংকটে-সংগ্রামে-হতাশায়-বঞ্চনায় শহীদ মিনারের শরণাপন্ন হয়ে নিজের ভেতরের চেতনাছুরিটিকে শান দিয়ে নিয়েছে। (সম্পূর্ণ…)

প্রকাশ বিশ্বাসের অনুগল্প: কারাগার

প্রকাশ বিশ্বাস | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ৩:১৫ অপরাহ্ন

প্রিজন ভ্যানের কেবিনে কারাগার থেকে আদালতে বয়ে নেয়া বেশ কয়েকজন
বিচারপ্রার্থী লোক। আসামী হিসাবে অপেক্ষাকৃত ছোট শহরের কারাগার থেকে
রাজধানীর আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাদের মামলার শুনানির তারিখে। এদের
মধ্যে নারী, পুরুষ এমনকি শিশুও রয়েছে।
রাতের শেষভাগ। ফাঁকা রাস্তায় ভ্যানটি চলছে দ্রুত লয়ে। গাড়ির যান্ত্রিক
শব্দ ছাড়া আর কোনো সচল শব্দ নেই। সরু জানালা বেয়ে বাইরে থেকে জ্যোৎস্নার
আলো ঠিকরে পড়ছে গাড়ির ভেতরে।
নতুন জেগে ওঠা নদী চরের ধান কাটা মামলার আসামী তারা। এদের মধ্যে কারো
কারো মুখে বেশ একটা ধারালো ভাব থাকলেও চোখে লেগে রয়েছে রাজ্যের বিষন্নতা।
এ সব লোকজনের মধ্যে অধিকাংশই এ মূহূর্তে বেঞ্চিতে বসে ঘুমে ঢুলছে যেন
মহাকাল থেকে সময় যন্ত্রে চড়ে এরা হঠাৎ জানালা ফুঁড়ে এই ভ্যানের ভেতরে এসে
জালে আটকানো মাছের মতো নিঃসাড় পড়ে আছে।
এদের মধ্যে এক যুবতী নারীর মাছের মতো চোখ, যেহেতু তার চোখের পাতা পড়ছে
না, লেগেও আসছে না। তার চোখ আসলে এমনই যে, যে কোন সময় এই চোখ থেকে
আশপাশের জঙ্গল আর শুকনো লতা পাতায় দাবানল লেগে যেতে পারে। (সম্পূর্ণ…)

তারিক সুজাতের কবিতা: কালের ক্যাসিনো থেকে

তারিক সুজাত | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ৮:৪৩ পূর্বাহ্ন

শরণার্থী

যে প্রহরে আলোছায়া খুলে দিচ্ছে
আকাশদুয়ার
তুমি কি তখন গভীর ঘুমের অতল থেকে
পাঠিয়েছিলে
স্বপ্নধোয়া সফেদ চাদর;
ঢেউয়ের চূড়ায় ডানা মেলে
ঝাঁকে ঝাঁকে ওড়ে পাখি
মেঘে মেঘে স্রোত উঠেছে
দে দোল দোলায় …
আকাশ জুড়ে নীল বালুচর
শাদা মেঘের বসতবাড়ি
ভাসতে ভাসতে তুমি এলে– এই আঙিনায়
ভাসতে ভাসতে তুমি এলে, দলে দলে
আমরা তখন খুলে দিচ্ছি
পাহাড়ঘেরা সকল সবুজ …
তুমি আমার যমজ-প্রহর
ভেসে আসা শরণার্থী-দিন
যশোর রোডে ফেলে আসা
ভয়ার্ত চোখ, বিবর্ণ মুখ! (সম্পূর্ণ…)

বইমেলায় লেখকদের নতুন বইয়ের খবর-২

মুহিত হাসান | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১০:২৬ পূর্বাহ্ন

২০১৮-র অমর একুশে বইমেলা ইতিমধ্যেই পার করে এসেছে পনেরো দিন। ঢাকার বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া বাংলাদেশের লেখক-পাঠক-প্রকাশকদের এই প্রাণের উৎসব চলবে পুরো ফেব্রুয়ারি মাস জুড়েই। এই উপলক্ষে কয়েকজন স্বনামখ্যাত লেখকের কাছে আমরা জানতে চেয়েছিলাম তাঁদের নতুন বইয়ের হালহদিশ। প্রথম কিস্তির পর আজ দ্বিতীয় কিস্তিতে রইলো আরো আটজন বিশিষ্ট সাহিত্যিকের নতুন বইয়ের খবর। তাঁদের বক্তব্য গ্রন্থনা করেছেন মুহিত হাসান।

border=0

মুহম্মদ নূরুল হুদা
কবি-প্রাবন্ধিক

এবারের বইমেলায় আমার বেশ ক’টি বই বেরুচ্ছে বা বেরুবার অপেক্ষায় রয়েছে। বইমেলার শুরুতেই য়ারোয়া বুক কর্নার থেকে প্রকাশ পেয়েছে প্রয়াত সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হককে নিয়ে প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও কবিতার সংকলন দুটি লাল পাখি ও সব্যসাচী । বাংলাদেশ রাইটার্স ফোরাম সংগঠনের প্রকশনা সংস্থা লেখক প্রকাশ থেকে বেরিয়েছে কবিতা লেখার নিয়মকানুন ও কলাকৌশল সংক্রান্ত প্রবন্ধগ্রন্থ কবিতা কৌশল। অন্যধারা থেকে আরেকটি প্রবন্ধের বই এসেছে, এর শিরোনাম কবিতার ভবিষ্যৎ। কবি নজরুল বিষয়ে আমার নতুন পুরনো বেশ কটি প্রবন্ধ এক করে নজরুলের শ্রেষ্ঠত্ব শীর্ষক একটি সংকলন ছেপেছে বাংলাপ্রকাশ। নজরুল বিষয়ে আমার সামগ্রিক ভাবনা একত্রে এই বইটিতে পাওয়া যাবে বলা চলে।
প্রবন্ধ বা গদ্যের বই ছাড়াও এবার একাধিক কাব্যগ্রন্থও প্রকাশ পেয়েছে ও পাবে। অন্বয় প্রকাশন থেকে হুদা-কথা নামে একটি কাব্যগ্রন্থ বেরিয়েছে। আর পাঞ্জেরি পাবলিকেশন্স থেকে বেরিয়েছে একটি বিশেষ ধরনের কাব্যগ্রন্থ, স্বাধীন জাতির স্বাধীন পিতা। এটি মূলত ৭১টি গীতিকবিতার সমন্বয়ে গঠিত এক গীতিমহাকাব্য, এমন ধারার কাব্যগ্রন্থ অভিনবই বলা যায়। এখানে বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রাম, মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর উত্থান ও তাঁর হাত ধরে জাতির স্বাধীন হবার আখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। বইটির মুদ্রণমানও খুব চমৎকার হয়েছে। পাঞ্জেরি থেকে আরো বেরিয়েছে আমার অনুবাদে কবি ইউনুস এমরের কবিতার সংকলন ইউনুস এমরের কবিতা। শ্রাবণ প্রকাশনী থেকে আরেকটি কবিতার বই আসার কথা রয়েছে, সেটি মূলত গত এক বছরে আমার লেখা প্রধান কবিতাগুলোর সংকলন। শিরোনাম, আমিও রোহিঙ্গা শিশু। এখনও বাজারে না এলেও আশা করি দু-একদিনের মধ্যেই বইটি পাওয়া যাবে বইমেলায়। (সম্পূর্ণ…)

‘যখন এসেছিলে, অন্ধকারে’: অভিজাত প্রেম

কুমার চক্রবর্তী | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ৭:২৬ অপরাহ্ন

ফ্রান্সের প্রভাঁস নগরীতে, দ্বাদশ শতাব্দে, অপূর্ণ বাসনাজাত এক বিশেষ ধরনের গীতিকবিতার জন্ম হয়
যার কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল প্রেমের কাব্যময় উদ্ভাসন, যা সভ্যতার ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য
পরিবর্তনের সূচনা করে। প্রাচীনকালেও প্রেমের বেদনাময় গীতি রচিত হয়েছিল, কিন্তু সুখান্বেষণজাত
অভীপ্সা বা দুঃখজাত বিষাদের যে করুণ ছবি এবার ফুটে উঠল তা আগে কখনও ঘটেনি।…
প্রেম যেন এখন হয়ে উঠল সকল নৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিপূর্ণতার ফুলবাগান। আর এই প্রেমের কারণেই
বিনয়ী প্রেমিক যেন হয়ে গেল নিষ্পাপ এবং পবিত্র।

[মধ্যযুগের অবক্ষয়: দ্য ওয়েনিং অফ মিডল এজেস: ইয়োহান হাইজিংজা ]
প্রেমমাত্রই কাম থেকে উদ্ভূত কিন্তু কিছু প্রেমধারণা আছে যা কামকে পরিহার করে, অন্তত আচরণগতভাবে। এই বিষয়টি প্রাচীন নয়জ্জপ্রাচীন গ্রিক, রোমক বা ভারতীয় পুরাণ বা দর্শনে এর নজির দেখা যায় না, বরং সেখানে দেখা মেলে নানা যৌনপ্রতীকের যা কামকেই অগ্রবর্তী করে। ভারতীয় ও গ্রিক, উভয়েরই প্রেমদেবতা কামের ধনুর্ধারী। প্রাচীন ভারতে প্রেমধারণা আসলে কামধারণা। যৌনমিলনের অনেক স্থূলচিন্তা রয়েছে ভারতীয় পুরাণে। বড়ো প্রমাণ গৌরীপট্ট ও শিবলিঙ্গ। এখনও এই প্রতীক ব্যবহৃত হচ্ছে বামাচারী, তান্ত্রিক ও বাউলদের মধ্যে। কাম থেকে মুক্তির জন্য এরা কামকেই ব্যবহার করছে। তাছাড়া যাকে আমরা বলি প্লেটোনিক লাভ তা-ও মূলত কাম থেকে জন্ম নিয়ে একটি অবস্থাকে বোঝায় যা বর্ণিত সিম্পোজিয়াম-এ দাইআতাইমার বাচনে, যদিও মধ্যযুগে এই ধারণাকে নবরূপ দিয়ে তাকে অযৌন রং দেওয়া হয়েছে। প্রেম অবশ্যই কামসংশ্লিষ্ট কিন্তু তা তাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। কামের নদীর পারে সে গড়ে তোলে প্রেমের নন্দনকানন। বাট্রান্ড রাসেল বলেছেন, প্রেম হলো বৃক্ষ যার শিকড় মাটিতে প্রোথিত আর শাখাপ্রশাখাগুলো ছড়িয়ে আছে স্বর্গে। রাসেলের এ কথায় রয়েছে কামবাস্তবতা ও কাম-অবাস্তবতা; প্রেমে কামকে ছাড়িয়ে যাওয়ার কথাই বুঝিয়েছেন রাসেল। (সম্পূর্ণ…)

স্বদেশ রায়ের কবিতা: জাহাজের ডেকে

স্বদেশ রায় | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১০:২৯ অপরাহ্ন

সাগরের বুকে আমি কখনও আলবাট্রস দেখিনি,
স্থলভাগের জনারণ্যে- শুভলক্ষ্মী গুপ্ত, আমি তোমাকে দেখেছি।
তোমার সেই অসহ্য সুন্দর রূপে তুমি নিয়ে গিয়েছিলে
নিজেকে কোন এক ঝড়ের আকাশে, যেখানে সকলেই ডানা ভেঙ্গে পড়ে।
তোমার চোখের পাপড়িতে যে ঝড়ো বাতাস ছিলো, তা সারা রাত বয়ে যেতো
উম্মত্ত সাগর -ঝড়ের মত নতুন সাগর যাত্রার জাহাজে- সে ঘুমুতে দিতো না,
ঘুমুতে দিতো না, কেবলই দোলাতো জাহাজের সারা শরীর।
শুভলক্ষ্মী গুপ্ত! ওই বিশাল ঝড়ের আকাশে তুমি কীভাবে সারা রাত অমন
শরীর দিয়ে ছবি একে ঘুমাতে? ঘুমন্ত তুমি- ছিলে কোন এক শিল্পীর তুলিতে আঁকা- যা ভাসছে
আকাশে দূরন্ত ঝড়ের সঙ্গে। তোমাকে নিরাভরণ করে আমি গড়ে (সম্পূর্ণ…)

প্রিয়তমো, সুন্দর সময় চলিয়া যায়

মাজহার সরকার | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ৭:৫১ অপরাহ্ন

১.
আজ সন্ধ্যায় সাতটি রাজহাঁস আমার বুকের ভেতর ডুব দিয়ে পালিয়ে গেলো
সাতটি পাখার উষ্ণ অধ্যায়ে সবুজ পালক থেকে ঝরে পড়ে তৃষ্ণার জল
ত্বকের ভেতর ভূমিকম্প আর চোখের আয়ুতে উজ্জ্বল
আজ তোলপাড়, শিরা উপশিরায় লাল লোহিতের ঢেউ
কোন লোকে কোন চরে, কার আঙুলে নীল শব্দের চাবি ওঠে বেজে?
আজ সন্ধ্যায় সাতটি রাজহাঁস আমার হৃৎপিণ্ড ছিঁড়ে উড়ে গেলো
সাতটি নখের চুমুতে বুকের স্তব্ধ বাগান থেকে মিথুন ফল ছিঁড়ে নিয়ে
সেই শোভা আর তার মুখ প্রগাঢ় চুমুতে নির্মাণ করতে আজ এই
উৎসবে, সাতটি রাজহাঁস আমার বুকের রক্ত পান করে চলে গেলো
আজ সন্ধ্যায় পাঁজরের জানালায় তারা ডেকে ডেকে অভিষিক্ত হলো
রাতের কাতরতা ছুঁয়ে। আমি কি আর একবার তাকিয়ে দেখবো
বাসনারা অন্তিম দুঃখ নিয়ে কি করে দু’ঠোঁটে জমা রাখে চুমুর দাগ!
এই বিভক্ত পৃথিবীতে এই খণ্ডিত মানবিকী সময়ে এই রুগ্ন ইতিহাসে
আমাদের প্রেম কি সইবে ডানার আঘাত?
আহত আঙুল থেকে ঝরে পড়বে শোক!
আজ সন্ধ্যায় সাতটি রাজহাঁস কুরেকুরে খায় আমার বুকের মাংশ
সাতটি ডানায় উমের পালক ছড়িয়ে চারদিক ঘিরে মিলে ছিঁড়ে খায়
প্রার্থিত সোনালি আপেল। (সম্পূর্ণ…)

সুরমা জাহিদ: আমি আমার নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করছি

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১২:২৪ অপরাহ্ন

ভূমিকা ও সাক্ষাৎকার: শিমুল সালাহ্উদ্দিন

অন্য অনেকের মতোই, ঊনপাঠক আমি, সুরমা জাহিদের নাম এবারই প্রথম শুনলাম। বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্তির পর। এবং তাকে পাঠ করার পর মনে হলো, আমাদের অগোচরে কত মানুষ যে নিভৃতে কত অমূল্য কাজ করে চলেছেন, তাদেরই একজন তিনি। রক্তক্ষয়ী এক মুক্তিসংগ্রামের ভেতর দিয়ে স্বাধীন দেশ পেয়েছি আমরা, অন্তত দুই লক্ষ নারীর সম্ভ্রমও হয়েছে লুট। বঙ্গবন্ধু তাদের দিয়েছিলেন সান্মানিক বীরাঙ্গনা উপাধী। ডেকেছিলেন বোন বলে। কিন্তু এই সমাজে এখনো অনেক বীরাঙ্গনাই বেঁচে আছেন কায়ক্লেশে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে তাদের ঠিকানা সংগ্রহ করে, তাদের সাথে কথা বলেছেন সুরমা জাহিদ। লিখেছেন বীরাঙ্গনাদের নিয়ে একাধিক বই। সেসব বইয়ে তাদেরই জবানীতে উঠে এসেছে একাত্তরে নির্যাতনের শিকার মানুষদের রোমহর্ষক বর্ণনা। তাদের ভয়ানক বেঁচে থাকার দলিল, নিঃসন্দেহে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসেরই আরেক অধ্যায়। ১৯৯৭/৯৮ থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত সুরমা জাহিদ কাজটি অবিরত রেখেছেন। সহজ সরল নির্মোহ এই মানুষটির সাথে আলাপে তার সারল্য গভীরভাবে স্পর্শ করেছে আমাকে। সুরমা জাহিদের জন্ম নরসিংদীর রায়পুর থানার রাজাবাড়ি গ্রামে ১৯৭০ সালের দশই অক্টোবর। পিতা মরহুম আলফাজ উদ্দিন আহমেদ, মাতা আম্বিয়া আকতার, স্বামী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন। দুই সন্তানের এ জননী বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সদস্য।

মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য বিভাগে এ বছর বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়ে একেবারেই স্বল্পপরিচিত লেখক থেকে আলোচিত সাহিত্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন বর্ষিয়ান মুক্তিযুদ্ধ গবেষক সুরমা জাহিদ।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন: স্লামালিকুম আপা, শুভসকাল। কেমন আছেন?
সুরমা জাহিদ: জ্বী,আসসালামু আলাইকুম, ভালো আছি।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: স্যরি আপা, ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গেলো।
সুরমা জাহিদ: না ঠিক আছে, আপনার ফোনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। (পাশে শিশুর কান্নার শব্দ)
শিমুল সালাহ্উদ্দিন: আপনার নাতী মনে হয় উঠে গেছে, এখন আমরা কথা বলতে পারবো তো?
সুরমা জাহিদ: এখন কথা বলা, আহা, ও তো উঠে গেছে। ঘুমিয়েছিলো একটু আগে। যখন ঘুমায় তখনি আপনাকে ফোন করতে বলেছিলাম। ওর শব্দে কী সমস্যা হবে? (সম্পূর্ণ…)

মক্কা মেটাল ইন্ডাস্ট্রি প্রাইভেট লিমিটেড

সোহেল হাসান গালিব | ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ৮:৪৬ অপরাহ্ন

সম্ভ্রান্ত হিন্দু-বংশের অনেকেই পায়জামা-শেরওয়ানি-টুপি ব্যবহার করেন, এমনকি লুঙ্গিও বাদ যায় না। তাতে তাঁদের কেউ বিদ্রুপ করে না, তাঁদের ড্রেসের নাম হয়ে যায় তখন ‘ওরিয়েন্টাল’। কিন্তু ওইগুলোই মুসলমানেরা পরলে তারা হয়ে যায় ‘মিয়া সাহেব’। মৌলানা সাহেব আর নারদ মুনির দাড়ির প্রতিযোগিতা হলে কে যে হারবেন বলা মুশকিল; তবু ও নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপের আর অন্ত নেই।

আমি ত টুপি-পায়জামা-শেরওয়ানি-দাড়িকে বর্জন করে চলেছি শুধু ঐ ‘মিয়া সাহেব’ বিদ্রুপের ভয়েই–তবুও নিস্তার নেই।

[নজরুল রচনাবলী, চতুর্থ খণ্ড, বাংলা একাডেমি, ২৫ মে ১৯৯৩, পৃ ২৬-২৭]

বাঙালি মুসলমানের একটা বিরাট দায় বাঙালি হবার। আরব-ভূখণ্ডের সাথে তার যে একটা সম্পর্ক আছে, এই বুঝি তা ফাঁস হয়ে পড়ে। এমন একটা শঙ্কা তাকে তাড়িয়ে বেড়ায় সর্বদাই। ভাব দেখলে মনে হয়, এটা যেন কেউ জানে না। ইতিহাসের কোন সন্ধিক্ষণে ইন্দো-ইরানীয় সভ্যতার আছর এসে পড়েছিল ভারতীয় জীবনে, তা নিয়ে দামোদর ধর্মানন্দ কোসম্বী যাই বলুক না কেন, বাঙালি হিন্দুর কোনো মাথাব্যথা নেই। কেননা ঐসব সংশ্রব-সংযোগ কবেই ছিন্ন হয়ে গেছে। নতুন করে তা ঘুচাবার প্রশ্ন ওঠে না। (সম্পূর্ণ…)

জ্ঞান ও সভ্যতা গ্রন্থমালা

ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী | ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ৮:৪৯ অপরাহ্ন

কৈশোরের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আইনস্টাইন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন ১২ বছর বয়েসে পাওয়া সস্তায় ছাপা কতগুলো বিজ্ঞানের বইয়ের প্রতি, বালক কিংবা কিশোর আইনস্টাইনের চিন্তায় যে ভাঙচুর এনেছিল তারা, পরবর্তীকালের বিজ্ঞান চিন্তা জগতের এই দিকপালকে গড়ে তুলতে সেটাই বিরাট ভূমিকা রেখেছিল। কৈশোর কিংবা প্রথম তারুণ্যে তৈরি হওয়া আলোড়ন আরও অজস্র মানুষের জীবনে স্থায়ী আলোড়ন তুলেছিলো, আজও তুলছে, আমরা জানি। আমাদের এই ‘জ্ঞান ও সভ্যতা গ্রন্থমালা’র প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্যও আসলে তাই। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হলো যে কোন অবিশেষজ্ঞ পাঠক যেন কোন একটি বিষয় নিয়ে তার কৌতুহল মোটামুটি পাবেন, এমন কতগুলো সুনির্বাচিত গ্রন্থ প্রকাশ। জ্ঞান ও সভ্যতা গ্রন্থমালার সূচনার তাগিদটুকু এই।

বাংলাদেশে কিশোর-তরুণ-অনতিতরুণ কিংবা সাধারণ বিদ্যোৎসাহী পড়ুয়ার জন্য জ্ঞানের উৎস ক্রমশ সঙ্কুচিত হচ্ছে। সমৃদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য বই এক্ষেত্রে একটা বড় সম্পদ, কিন্তু সে সংখ্যাও খুবই কম। বই নির্ভরযোগ্য হলে তার পাঠযোগ্যতা আরেকটি মাথাব্যথার বিষয়। কেননা আমাদের বিশেষজ্ঞরা জ্ঞানে যত পারদর্শী, ভাষায় ততটা নয়। ফলে তাঁদের সমৃদ্ধশালী লেখা বাংলায় অনেকসময় সুখপাঠ্য হয়না। অন্যদিকে, ইংরেজিতে রচিত চমৎকার গ্রন্থাদি আমাদের পাঠক সমাজের কাছে অনেকটাই ব্রাত্য। কেননা ইংরেজিতে আমাদের সব কিংবা অধিকাংশ পাঠক সড়গড় হবে, এটা বাস্তব সম্মত নয়। কোন দেশেই তা হয়নি। কাজেই বিশ্ববিদ্যার পাঠ নেবার অতি পুরাতন কিছু উৎস ভিন্ন আমাদের আধুনিক পাঠকের কাছে তেমন কিছু নেই। (সম্পূর্ণ…)

মজনু শাহ: ‘বাল্মীকির কুটির’ থেকে একগুচ্ছ কবিতা

মজনু শাহ | ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ৮:১৩ অপরাহ্ন

গহন

এই মহী মণ্ডল, তোমার দেহরূপ,
এক আদি ঘুম-চকলেট।
তোমাকে গিলে খায় যা-কিছু চিরন্তন।
তোমাকে অতিক্রম করে বিশাল কোনো দস্যু মেঘ।
তখন সব কিছু তিমির বলে মনে হয়,
শিউলি গন্ধ-মাখা মাটি ফিরে পাব আর!
পুঁতে চলেছ আতঙ্কের বীজ। তোমার স্বপ্নে ঢুকে
তবু ঘুরে বেড়াবার কাল না ফুরায়,
না ফুরায় হিম, শিশির পতন।

শরের জঙ্গল

যেতে হবে আরেক উদয়ে।
কামীনিগাছের নিজস্ব ভূত চলে গেছে যেভাবে।
মধুর তোমার অন্ত না পেয়ে পৌঁছলাম শরের জঙ্গলে।
আবার রাত হলে, প্যাঁদাবে তিমির! শূন্য থেকে উঠে আসে
একটি মূর্চ্ছনা। হোরেসিও, এসো আমার সঙ্গে,
দেখো, রাত্রির ভ্রমণক্লান্ত মেঘ
কিভাবে ছিঁড়ে ফালাফালা হয় আর
শূন্যে মিলায়। (সম্পূর্ণ…)

একাকিত্বের স্তোত্র রচনা ভালোবাসার অন্বেষা

আহমদ রফিক | ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১:২৭ অপরাহ্ন

বাংলা সাহিত্যে কবিতার ঐতিহ্যধারায় মাঝে মাঝে ঘটনা তথা বিষয়ের হঠাৎ আবির্ভাবে কাব্যসৃষ্টির মূলধারা বা মূল স্রোত তৈরি হতে দেখা গেছে। কখনও কবিতাই মূলধারার জনক। কবিদের ভিন্ন ভিন্ন কণ্ঠস্বর সত্ত্বেও বিষয়ের একটি বিন্দুতে তারা এক ও অভিন্ন। যেমন অবিভক্ত বঙ্গে স্বদেশ ও স্বাধীনতা প্রসঙ্গে, চল্লিশের দশকে সমাজবদলের প্রত্যয়ে, বিভাগোত্তর পূর্ববঙ্গে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের প্রেরণায় একুশের কবিতা এবং ষাটের দশকে জাতীয়তাবাদী চেতনার স্বদেশ ও একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের কবিতা।
আবার এর মধ্যেই অবিভক্ত বঙ্গীয় সাহিত্যে প্রকাশ পেয়েছে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি বৈশিষ্ট্যের কবি ও কবিতা যেখানে বিষয়ের চেয়ে প্রাকরনিক অভিনবত্বের প্রকাশ অধিক। নাম উল্লেখ না করলেও কাব্যামোদী পাঠকের তা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। বিভাগোত্তর পূর্ববঙ্গের কাব্যসাহিত্যে শেষোক্ত ধারাটি কিছু না কিছু প্রভাব রেখেছে পঞ্চাশের দশক থেকে।
এর সূচনা অবশ্য স্বাধীন বাংলাদেশে অপ্রত্যাশিত সমাজ বাস্তবতার টানে। কবিকণ্ঠে ভাঙনের সুরে বিচ্ছিন্ন চেতনার সূচনা ক্ষোভ, হতাশা ও নেতিবাদী চেতনার পথ ধরে। কবিতার বিচ্ছিন্নযাত্রা, বিচ্ছিন্ন কবিব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটিয়ে যে ধারার সৃষ্টি তা কবিতাকে ব্যক্তিত্ববাদী করে তোলে। তাতে বৈচিত্র্যের নানামুখী প্রকাশ আপন বৈশিষ্ট্য নিশ্চিহ্ন করে। কবিতা সেক্ষেত্রে কখনও একাকিত্ববোধের বা নিঃসঙ্গ চেতনার প্রকাশ ঘটায়। তাতে উপভোগ্যতায় ঘাটতি দেখা যায় না।
বাংলাদেশের কবিতা গত কয়েক দশক ধরে এই স্বাতন্ত্র্য-বৈশিষ্ট্যের পথ ধরে চলেছে এবং কবিতার শৈল্পিক প্রকাশ ঘটিয়েছে, এখনও ঘটিয়ে চলেছে। কবিব্যক্তিত্বের অনন্য এককতা সেখানে প্রধান হয়ে উঠেছে। তারুণ্য ও যৌবনের বিষয় ভাবনা এবং প্রাকরণিক আকর্ষণ; সময় সেক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা। আর তা যেমন আত্মপ্রকাশের তেমনি আত্মবৈশিষ্ট্য পরিস্ফুট করে তোলার সহায়ক। প্রেম-ভালোবাসা তখন অন্যতম মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com