সল বেলোর গল্প: বাবা হওয়ার আগে

মোস্তফা তারিকুল আহসান | ১৬ জানুয়ারি ২০১৮ ৮:১০ অপরাহ্ন

অনুবাদ: মোস্তফা তারিকুল আহসান

সল বেলো আমেরিকান-কানাডিয়ান বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক। জন্ম কানাডায়। ইহুদী পরিবারে জন্ম। বিশ্বসাহিত্যের এই খ্যাতিমান লেখক একাধারে নোবেল,পুলিতজার, ও ন্যাশনাল মেডেল ওব আর্টস পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো: Herzog, the adventures of of Augie, Humbold’s Gift, Henderson the Rain King, Ravelstein, Seize the day,Dangling man, More Die of Heartbreak; জন্ম :১৯১৫ মৃত্যু: ২০০৫: অনূদিত গল্পটি Mosby’s Memoirs and Other Stories ,1968 Viking Penguin,Inc. নেয়া হয়েছে।

রগিনের মনে অদ্ভুদ কিছু ধারণা তৈরি হলো। সে মাত্র একত্রিশ বছরের মোটামুটি মানানসই যুবক; মাথায় কালো ছোট ছোট চুল, ছোট চোখ তবে উঁচু চওড়া কপাল। সে একজন রসায়নবীদ। আর তাকে মনের দিক থেকে বেশ সিরিয়াস এবং নির্ভরশীল বলতে হবে। তবে একদিন যখন এক তুষারপাতের সন্ধ্যায় এই শক্তসোমত্ত যুবক ঠাণ্ডা নিবারণের জন্য বারবেরি কোর্ট পরে এলোমেলোভাবে হাঁটছিল সে যেন অন্যরকম কিছু ভাবতে শুরু করলো। সে যাচ্ছিল সাবওয়ে দিয়ে। তখন নিজেকে নতুন এক রাজ্যের অধিবাসী মনে হলো তার।
সে যাচ্ছিল তার প্রেমিকের সাথে রাতের খাবার খেতে। সে তাকে কিছুক্ষণ আগে ফোন করে বলেছে,‘তুমি বরং আসার সময় কিছু জিনিসপত্র নিয়ে এসো।’
তোমার কী দরকার?
একটা ডিসের জন্য সামান্য ভাজা গরুর মাংশ। আমি খালার কাছ থেকে এক পাউন্ডের কোয়ার্টার খানেক কিনেছি।
কেন কোয়ার্টার কিনলে, জন? রগিন বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলো।
একটা ভালো স্যান্ডউইচের জন্য এইটুকু মাংশ যথেষ্ট। (সম্পূর্ণ…)

অনুপম মণ্ডলের পাঁচটি কবিতা

অনুপম মণ্ডল | ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

জল
শান্ত জল,
তার কেশভার নত হয়ে আছে
নিরাশ্রয়, মাটির দেয়াল বেয়ে সন্ধ্যা নামছে।

শীর্ণ আলোকের রেখা
শূন্যতায় একে একে নিজেকেই তুলে ধরছে।

ফলে ঐ কম্পিত অশোকশাখার তলে
ধীরে ধীরে,

নক্ষত্রবেশে রাত্রি জেগে উঠেছে। (সম্পূর্ণ…)

সেলিম আল দীনের ঐতিহ্যবিকাশী ভাবনা

আবু সাঈদ তুলু | ১৪ জানুয়ারি ২০১৮ ১২:২৯ পূর্বাহ্ন

সেলিম আল দীন বাংলা সংস্কৃতিচর্চায় কিংবদন্তিতুল্য ব্যক্তিত্ব। শিল্প-সাহিত্যের পথপরিক্রমায় তিনি হেঁটেছেন আবহমান বাঙলার ঐতিহ্যের পথ ধরে। হাজার বছরের বাঙলার নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরেছেন সমকালীন শিল্পনন্দনে। উপনিবেশের দু’শ বছরের মধ্যখ-নকে পাশ কাটিয়ে হাজার বছরের বাঙলার নিজস্ব ঐতিহ্যের বিকাশী প্রচেষ্টায় আমৃত্যু সংগ্রামী ছিলেন তিনি। উপনিবেশ জ্ঞানতত্ত্বকে প্রত্যাখ্যান করে বাঙালির জারিত রসের নিজস্ব নন্দনভাবনার একছত্র প্রচেষ্টা সত্যিই বিস্ময়জাগানিয়া। শুধু ইউরোপীয় আধিপত্য নয়; সংস্কৃত নন্দনতত্ত্বের আগ্রাসী মনোভাবের মধ্যেও তিনি ছিলেন হাজার বছরের বাঙলার নিজস্ব শিল্পদর্শনে স্থিত। সেলিম আল দীন বাঙলার গ্রামগঞ্জে পালা, জারি, যাত্রাগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন গভীরভাবে। নানা আঙ্গিককে তুলে এনে সমকালীন বৈশ্বিক রুচিবোধের অনুকুলে উপস্থাপন করেছেন। বিষয়বস্তু থেকে শুরু করে রচনারীতিসহ সামগ্রিকতায় তিনি বাঙালির বহমান রীতিকেই গ্রহণ করেছিলেন। বক্ষমান প্রবন্ধে আমরা অনুসন্ধান করবো কীভাবে সেলিম আল দীন তার রচিত নাটকে হাজার বছরের ঐতিহ্যকে ধারণ করে সমকালীন রুচির আলেখ্যে উপস্থাপন করেছেন। তিনি কীভাবে সংস্কৃতির পরনির্ভরতাকে পুরোপুুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সেলিম আল দীন বিশ্বাস করতেন নিজ সংস্কৃতির চর্চার মাধ্যমেই আত্মমর্যাদায় অধিষ্ঠান হওয়া উচিত এবং এতেই গৌরব। (সম্পূর্ণ…)

হাসান রোবায়েতের কবিতা: রুজা

হাসান রোবায়েত | ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ১১:৪৩ অপরাহ্ন

এই তো, আমারই পাশে যে রৌদ্রশিস ধরে উঠে গেছে শিমলতা—ক্রমশ
তাদের বক্রতা নিরর্থ এক শূন্যে গিয়ে শেষ হয়—তার ফুলের কাছে
আমারও বলার ছিল: —‘অতদূর উন্মীলনে তুমিও হতে পারো দণ্ডিত, অপার
বর্তুল—’

যেন প্রতিটা মরণশেষে ফুটছে কার্পাস—

তোমাকে ডাকছি, জান্নাত—চিরকাল ঢেউ দিয়ে চলে যাও বিরহী ঘুঙুর

শালঢেউ—
নুয়ে আছে ট্রেনের ওপার
তার চোখহাসি প্রভূত তাসের চাল
হাওয়ার মর্মের ধারে
ঝরে যাচ্ছে শাঁ শাঁ— (সম্পূর্ণ…)

সাবেক বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান: ধর্ম সাধারণত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভেতরে অনৈক্যই সৃষ্টি করে বেশি

রাজু আলাউদ্দিন | ১১ জানুয়ারি ২০১৮ ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

জীবদ্দশায় দেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংক্ষিপ্ত অভিমত ও মন্তব্য জানালেও মুহম্মদ হাবিবুর রহমান সাক্ষাৎকার দানে ছিলেন পুরোপুরি অনীহ। ইতোপূর্বে তার একমাত্র যে-সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছিল সেটি গ্রহণ করেছিলেন ইতিহাসবিদ গবেষক জাতীয় অধ্যাপক ড. সালাহউদ্দীন আহমদ যা একটি দৈনিক পত্রিকার ঈদসংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল তার জীবদ্দশায়। কবি ব্রাত্য রাইসু ও আমি তার একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণের প্রস্তাব করায় তিনি এক কথায় আমাদেরকে নিরুৎসাহিত করেন। পরে রাইসুর কথার কুহকী জালে আবদ্ধ হয়ে সাক্ষাৎকার দিতে সম্মতি জানিয়ে আমাদেরকে সময় দিলেন এক সকালে তার সাথে দেখা করার জন্য। ২০১১ সালের মাঝামাঝি নির্ধারিত সময়ে এক সকালে তার বাসায় হাজির হয়েছিলাম। তিনি তখন গুলশান-১-এ থাকতেন। রাইসু, আমি আর রাইসুর তৎকালীন এক সহকারীসহ যথাসময়ে উপস্থিত হই। রাইসুকে তিনি খুব স্নেহ করতেন। আমাকে তিনি অনেক আগে থেকে চিনলেও তার সাথে ঘনিষ্ঠতা রাইসুর পর্যায়ে ছিল না। কিন্তু ২০১০ সালে দেশে ফেরার পর থেকে রাইসুসহ তার সাথে আমার যোগযোগ শুরু হলে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। এই ঘনিষ্ঠতার ফলে বহুমুখী বিদ্যায় ঋদ্ধ এক পরিশ্রমী ও সৃষ্টিশীল ব্যক্তিত্বকে জানার সুযোগ হয়েছিল আরও কাছ থেকে। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন সৎ ও সজ্জন, কর্তব্য ও স্নেহপরায়ন। নানান বিষয়ে আমাদের লেখার আবদার তিনি রক্ষা করতেন আন্তরিকতার সাথে। সাক্ষাৎকারটি আয়োজন করার পেছনে রাইসুর উদ্যোগ ও উৎসাহ প্রধান হলেও প্রশ্নপর্বে তিনি উপস্থিত থাকেননি, তবে নেপথ্যে থেকে তিনি পুরো সাক্ষাৎকারটি ভিডিওতে ধারন করেছেন। আজ ১১ জানুয়ারি তার মৃত্যুদিবসে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাক্ষাৎকারটি ভিডিওসহ প্রকাশ করা হলো। সাক্ষাৎকারটির শ্রুতিলিপি তৈরি করেছেন তরুণ গল্পকার অলাত এহসান। — রাজু আলাউদ্দিন (সম্পূর্ণ…)

মাসুদ পারভেজের গল্প: জানো না মন

মাসুদ পারভেজ | ৯ জানুয়ারি ২০১৮ ৯:৪৩ অপরাহ্ন

জিআরপি ক্যান্টিনের হেড বাবুর্চি তার আব্বার চাওয়া ছিল সে যেন রেলের টিকিট চেকার হয়। এই আশা জমা করে হেড বাবুর্চি তাকে মেট্রিক পাশ করায়। কিন্তু হেড বাবুর্চি আব্বার জানা ছিল না রেলের টিকিট চেকার হতে গেলে কী পাশ দেওয়া লাগে। আর তখন সেও মেট্রিক পাশ দেওয়ার পর লাইন থেকে সটকে পড়ে। সফেদ পোশাকআশাক গায়ে চাপিয়ে যাত্রীদের কাছে হাত পেতে টিকিট নেওয়ার চেয়ে খামচা মেরে নেওয়াটাই তার মগজ জুড়ে থাকে। ফলে রেলের টিকিটচেকার হওয়া তার আর হয় নাই। খামচা দিয়ে জিনিসপাতি নেওয়ার জন্য সে একটা দল বানিয়েছিল। ওরা দিনেরবেলা ট্রেনে তালাচাবি, সেফটিপিন, চিরুনি এইসব বেচার কাজ করতো আর রাতে করতো ডাকাতি।
তার শুরুটা হয় একটা লোকাল ইস্টিশন ঘিরে। যে-ইস্টিশনে ট্রেন আসার কোনো ঠিক ঠিকানা থাকে না। আন্তনগর থামে না। খানিক দূরে দু-তিনটা জংধরা বগি পড়ে থাকে নিম-ইতিহাস হওয়ার আশায়। এমন একটা ইস্টিশনে বসে ঝিমাতে ঝিমাতে পাঁচপাঁচটা সিগারেট শেষ করার পরও ট্রেন না এলে তার মাথাটা গরম হয়। এই গরমে তাল দেওয়ার জন্য ঝাঁঝাল রোদ তার সমস্ত শক্তি নিয়ে যখন নামে তখন মাথা ঠিক রাখা দায় হয়ে পড়ে। সেও তখন এমন একটা দশায় পড়লে খানিক দূরের জংধরা বগির দিকে যায়। কি-বা মনে করে বগির ভেতর ঢোকে। তখন অচেনা গুমোট বাতাস পাক খায় আর মস্তিষ্ক অসাড় হয়ে পড়ে। (সম্পূর্ণ…)

টি এম আহমেদ কায়সারের দশটি কবিতা

টি এম আহমেদ কায়সার | ৮ জানুয়ারি ২০১৮ ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন


স্মৃতি

শীতকাল আসছে
ঠান্ডা পড়তে শুরু করেছে
সেদিন সুইন্সটি লেকে খড়ের আগুন পোহাতে পোহাতে কেউ একজন বলল –
এবার ডিসেম্বরে নাকি ভারি ঠান্ডা পড়বে
এন্টার্কটিকার আয়তন হু হু করে বাড়ছে
জগতের কোথায় কোথায় নাকি জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে
কোথায় কোথায় কী সব যেন হচ্ছে …
লোকটা খড়ের আগুন পোহাতে পোহাতে বলেছে,
এমন শীত আসছে যে মানুষের মুখ সহসা কুঁকড়ে যেতে পারে
হাঁটু জমে যেতে পারে
জিভ অবশ হয়ে যেতে পারে

আমার ভয় নেই
শীতবস্ত্র ছাড়াই দিব্যি আমার শীতকাল কেটে যায়
আর তাতে বিস্মিত হন পাড়া প্রতিবেশিরা

ডিসেম্বর আসুক
শীত আরো ঘন হয়ে পড়তে শুরু করলে
আমিও ধীরে ধীরে গোপন সিন্ধুক থেকে বের করবো
আমাদের ধ্বংসোন্মুখ, প্রলয়োন্মুখ, প্রজননোন্মুখ গুঢ় চুম্বনের স্মৃতি!! (সম্পূর্ণ…)

স্বদেশ রায়ের কবিতা: গ্রাফিতি

স্বদেশ রায় | ৬ জানুয়ারি ২০১৮ ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

Fakir একেবারে নিখুঁত গোয়েন্দার মত আমরা এগিয়ে চলেছি,
আমাদের চলার সঙ্গে শুধু সর্ন্তপন ছিলো না, আমরা সকলের মধ্যে
থেকেও সকলের চোখ এড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।
রেল স্টেশনের লোক সব সময়ই ব্যস্ত থাকে, তীক্ষ্ম চোখ শুধু ফেরিওয়লার।
শুধু তীক্ষ্ম নয়, অভিজ্ঞও – তাকানোর আগেই যেন বুঝতে পারে -কে
খরিদ্দার আর কে নয়। আমরা তাই সহজেই ছিলাম তাদের চোখের বাইরে।
আমাদের গন্তব্যের পথটা দীর্ঘও নয়, দুর্গমও নয় তবে সে এক অন্য পথ।
তবুও সবাইকে এড়িয়ে, সব চোখ ফাঁকি দিয়ে আমরা ঠিক পৌঁছে যাই
নির্দিষ্ট শিমুল তলায়। বিশাল আকৃতির শিমুল, কত কালের সাক্ষী তাও বা কে জানে!
গায়ের অনেক কাটা পড়ে গেছে, অনেকগুলো কেউ কেউ উঠিয়ে সেখানে এঁকেছে গ্রাফিতি।
আমাদেরও হাতে অল্প সময়, ফিজিক্স ল্যাবরেটরি থেকে বের করে এনেছি একটি ছোট্ট হ্যামার
আর বেশ বড় কয়েকটি পিন। দুটো সম্বলই জ্যাকেটের পকেটে – যেন বিপ্লবীর রিভলবার। (সম্পূর্ণ…)

রওশন আরা মুক্তার গল্প: মেট্রোপলিটন আকাশ

রওশন আরা মুক্তা | ৩ জানুয়ারি ২০১৮ ৮:৪৮ অপরাহ্ন

intimate-coupleসিএনজিতে প্রায় একই বয়সী মুনা আর প্রয়াস বসা। যদিও মুনা তাকে মামুন নামে ডাকে। মুনার সাথে মামুনের সম্পর্ক হবে, বিয়ে হবে এটাই স্বাভাবিক। অক্ষরে অক্ষরেও মিল আছে। মুনা, মামুন। মুনা প্রয়াসকে মাঝে মাঝে মুন নামেও ডাকে। মুন থেকে মুনা। কিন্তু প্রয়াস কিছুটা বিরক্ত মুনার মামুন, মুন ডাকা নিয়ে। প্রয়াস কেন যেন মেনেই নিতে পারে না ওর নাম আব্দুল্লাহ আল মামুন।

কোথাকার কোন এক দাওয়াতখেকো আলেম মামুনের মাকে ছেলের নাম রাখতে বলেছিলেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিন বোনের পর একটিমাত্র ভাই এলো, আর মা সেই পোলাও-কোরমাপ্রিয় সেই আলেমের কথামতো শিশুটির নাম রাখলেন। কিন্তু প্রয়াস ক্লাস নাইনে উঠে নিজের নাম পরিবর্তন করে ফেললো। স্কুলের দেয়াল পত্রিকার জন্য রচনা লিখেছিল একটা। পত্রিকার নাম ছিলো দীপশিখা। সে পত্রিকায় আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে লেখা যাক, সম্পাদক তা চায়নি। আর প্রয়াসের নিজেরও ভালো লাগেনি, এমন ব্যাকডেটেড নামে রচনা লিখতে। তখন সে নিজের নাম রাখে প্রয়াস প্রাচুর্য। এছাড়া টেলিভিশন-ফ্রিজ অপরিহার্যতামূলক এই বিজ্ঞানভিত্তিক জীবনে এমন ইসলামিক নাম বহন করার কোনোই মানে নেই, এটা প্রয়াস জানে। (সম্পূর্ণ…)

দেবতারে প্রিয় করি প্রিয়রে দেবতা

দেবলীনা সুর | ২ জানুয়ারি ২০১৮ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

tagore“দেবতারে প্রিয় করি প্রিয়রে দেবতা”- রবীন্দ্রনাথ যিনি দূরকে নিকট করেছেন,দেবতাকে প্রিয় করেছেন। বিশালের সাথে তুচ্ছের যোগ ঘটিয়েছেন। ছোটকে বড়র কাছে বড়কে ছোটর কাছে নিয়ে গেছেন। সীমাকে অসীমের কাছে অসীমকে সীমার মধ্যে একটা বিন্দুতে মিলিয়েছেন, পৃথিবীর সব রূপ-রস-গন্ধ-আলো-বাতাস-জল-স্থল-পাহাড়-প্রকৃতি-অরণ্য-পাখির ডাক-সাগরের গর্জন-মানুষের চিরদিনের কামনা বাসনা, প্রেম-দুঃখবেদনা-আবেগ সব কিছুকে একটি পরিবারের বাঁধনে বেঁধেছেন। এ কারণেই রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লিখতে গেলে দিশাহারা হতে হয়। দিশাহারা হই শুধু তার রচনা সম্ভারের বিশালতায় নয়, তার বৈভবে-বৈচিত্রে। তিনি যেন পৃথিবী জুড়ে একটা শিল্পের মেলা বসিয়ে রেখেছেন। সে মেলার কোলাহল কান-মনকে আকুল করে। কি নেই সেই মেলায়! খুব ছোট করে তাকে বলা বড় কষ্টসাধ্য তবু এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয় জলে স্থলে আকাশে নক্ষত্রে অন্ধকার গুহা মাটির স্তর ভেদ করে কোথায় ফেলেননি তার মন্থন রজ্জু? সেখান থেকে কুড়িয়ে অজস্র মনিমুক্তা যা দিয়ে গেঁথেছেন মনিহার। সে মনিহার বাংলাসাহিত্য সম্ভারকে অপরূপ করে তুলেছে। (সম্পূর্ণ…)

প্রকাশ বিশ্বাসের অনুগল্প: বনভূমি

প্রকাশ বিশ্বাস | ৩১ december ২০১৭ ১:১৮ অপরাহ্ন

bow-and-arrowবনভূমির ঠিক মধ্যিখানে অনেকগুলো আপেলগাছ হরেক রকমের গাছের সাথে মিলেমিশে দাঁড়িয়ে। সেখানে চোখবাঁধা অবস্থায় এই মাত্র একদল তীরন্দাজদের ধরে নিয়ে আসা হলো। তাদের বলা হলো তোমাদের সামনে ঐ যে বড় আপেলবৃক্ষ যা তোমরা দেখতে পাচ্ছোনা তাতে অসংখ্য লাল টুকটুকে পাকা আপেল ফল ঝুলে আছে। তোমরা প্রত্যেকেই তীর ছুঁড়ে সেগুলোকে ভূপাতিত করবে। আর তখন এক এক করে এই সব অন্ধ তীরন্দাজরা তাদের তীর ছুঁড়তে লাগলো। আর আশ্চর্য প্রত্যেক তীরের মাথাই সেগুলোকে বিদ্ধ করে নীচে ফেলে দিল এবং চারদিকের বাতাস মিষ্টি আপেলের গন্ধে দ্রবীভূত হয়ে গেল। (সম্পূর্ণ…)

সোহরাব সুমনের কবিতা: জন্মদাগ

সোহরাব সুমন | ২৮ december ২০১৭ ১১:৪৬ অপরাহ্ন

butterflies
চুপথাকে
ভালোবাসা চুপথাকে
না পাওয়ার নির্বাকে
কিছু কি বলার থাকে?
চুপ থাকে!
বলার যখন কিছু নেই
ফেরাবার বৃথা চেষ্টাতেই
তুমি যে ছাড়িয়ে নিলে হাত
পাশাপাশি বসে থেকে থেকে…

মন বোঝ না
ডাকো শরীরের টানে
দেহ কি মনের মতো
ওত যাদু জানে

গহীনে শব্দেরে রেখে বলি কার কথা
নৈঃশব্দেরা কি বোঝে
নীরব মনের
ভাষা (সম্পূর্ণ…)

পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com