শিশুদের চিঠির জবাবে অজানা আইনস্টাইন

হোমায়রা আদিবা | ১৮ মে ২০১৮ ৫:২১ অপরাহ্ন

১৯১৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন তাঁর সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব নিয়ে কাজ শেষ করেন। দু’পাতার এই মাস্টারপিসই পরবর্তীতে তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এবং সর্বকালের শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দেয়। একই বছরের ৪ নভেম্বর বার্লিন থেকে আইনস্টাইন ভিয়েনাতে তাঁর ১১ বছরের ছেলে হান্স আলবার্ট আইনস্টাইনকে লিখলেন,

‘প্রিয় আলবার্ট,
তোমার মিষ্টি চিঠি পেয়ে আমি অনেক খুশি হয়েছি। আমি আনন্দিত যে তুমি পিয়ানো বেশ উপভোগ করছ, আমার মতে তোমার বয়সীদের জন্য এটা আর ছুতোরের কাজটি অবসরের প্রিয় বিনোদন, এমনকি স্কুলের চেয়েও বেশি প্রিয়। পিয়ানোর ক্ষেত্রে সেই সুরগুলোই বাজিয়ো যা তুমি উপভোগ করো, তোমার শিক্ষক যদি তা নাও বলে থাকে, তবুও। যে-কাজ করে তুমি এত বেশি আনন্দ পাও যে কখন সময় পার হয়ে যায় তা তুমি টেরই পাও না—এই ধরনের কাজ থেকেই তুমি সবচেয়ে বেশি শিখবে। মাঝে মাঝে আমি কাজে এতোটাই মগ্ন হয়ে যাই যে দুপুরের খাবার খেতেও ভুলে যাই। টেটের সাথে রিং টসও(এক ধরনের খেলা) খেলতে পারো, এতে তুমি আরও চটপটে হবে।
তোমাকে ও টেটেকে চুমু
বাবা

তোমাদের মাকে শুভেচ্ছা’


আলোকচিত্র: ডানদিকে বড় ছেলে হ্যান্স আলবার্ট আইনস্টাইন ও এডওয়ার্ড আইনস্টাইন(টেটে)

আইনস্টাইন বিজ্ঞানী হয়েও ছেলেকে সৃষ্টিশীল কাজের প্রতি শুধু অনুপ্রেরণাই দেননি, বরং যে কাজ করে আনন্দ পাওয়া যায় সে কাজই যে শিক্ষামূলক তা বুঝিয়েছেন। আইনস্টাইন গবেষণা করে আনন্দ পেতেন, আর এই গবেষণাই তাকে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী করে তুলেছে। বাবা হিসেবে ছেলের প্রতি এই উপদেশ আধিপত্যবিস্তারি অভিভাবকসুলভ তো নয়ই বরং বন্ধুসুলভ, সরল। আইনস্টাইন বাবা হিসেবে যেমন ছিলেন আন্তরিক, মানুষ হিসেবে কিন্তু রসিকও কম ছিলেন না।

‘লে’কে লেখা চিঠি
এলিজাবেথ লে কে, স্টুটগার্ট
সেপ্টেম্বর ৩০, ১৯২০

প্রিয় মিস লে,
এলসা জানালো যে তুমি তোমার আঙ্কেল আইনস্টাইনকে দেখতে পারনি বলে মন খারাপ করেছ। তাই, তোমাকে লিখছি আমি দেখতে কেমন: ফ্যাকাসে চেহারা, লম্বা চুল আর একটি হাল্কা ভুঁড়ি। তার সাথে বেমানান এক চলন, সিগার- যদি থাকে ঠোঁটে, একটি কলম পকেটে কিংবা হাতে। তবে এই আঙ্কেল নয় বেঁটে, মুখেও নেই কোনো আঁচিল, তাই তাকে সুদর্শন বলাই যায়। তাছাড়া কুৎসিত লোকের মতো নেই হাতভর্তি লোম। অতএব, এটা সত্যি তোমার দুর্ভাগ্য যে তুমি আমাকে দেখতে পাওনি।
শুভেচ্ছান্তে,
তোমার আঙ্কেল আইনস্টাইন’

আইনস্টাইন তাঁর জীবদ্দশায় অকল্পনীয় খ্যাতি পেয়েছিলেন। পৃথিবীর ইতিহাসে কোন বিজ্ঞানী এভাবে সর্বস্তরের মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেনি। তাঁর প্রতি শিশুদের ছিল প্রবল কৌতুহল। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক শিশুই তাঁর কাছে চিঠি লিখে, কেউ শুধু সাধুবাদ জানিয়ে, আবার কেউ কেউ জানতে চেয়েছে সূর্য কিভাবে আকাশে ঝুলে থাকে? কারো অনুপস্থিতিতে যদি একটি গাছ পড়ে যায় তাহলে শব্দ হবে কিনা। সময় আসলে কি। চিঠিগুলো ছিল এমন নানান সব কৌতূহল নিয়ে। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, বিজ্ঞানী আইনস্টাইন ব্যস্ত থাকলেও সময় করে অনেক চিঠির উত্তর দিয়েছেন। এই চিঠিগুলো সঙ্কলন করে একটি বই বের করেন তাঁর নাতনি এভেলিন আইনস্টাইন। ‘ডিয়ার প্রফেসর আইনস্টাইন’ নামের এই বইয়ের ভূমিকাতে এভেলিন বলেন, এ যেন এক আশীর্বাদ আবার একই সাথে ভীষণ বোঝা যে তাঁর নামের সাথে আইনস্টাইন নামটি জড়িত। এই নামের কারণে সবকিছুতেই মানুষের যেন তাঁর প্রতি প্রত্যাশা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল। এলিস কালাপ্রিস, যে কিনা ২৫ বছর ধরে আইনস্টাইনকে নিয়ে গবেষণা করেছেন, তাঁর সম্পাদনায় বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় আইনস্টাইন মারা যাবার প্রায় ৫০ বছর পর, ২০০২ সালে । এসিডমুক্ত কাগজে ছাপা বইটি পৃথিবীর সকল শিশুকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

বইটিতে আইনস্টাইনের নাতনি এভেলিনের প্রিয় হচ্ছে সাউথ আফ্রিকান মেয়ে টিফানির সাথে আদানপ্রদান করা চিঠিগুলো। এভেলিনের মতোই টিফানিরও ছিল মহাকাশের ব্যাপারে দারুণ কৌতূহল। টিফানির চিঠি পড়ে আইনস্টাইনের তাঁর নাতনির কথা মনে পরেছিল বলেই হয়তো এতোটা সময় নিয়ে উনি উত্তর দেন।

‘জুলাই ১০, ১৯৪৬
আমাকে যা সবচেয়ে বেশি ভাবায় তা হল মহাবিশ্ব চিরকাল কিভাবে চলতে থাকে? আমি এ বিষয়ে অনেক বই পড়েছি কিন্তু কোন বইয়েই এমনভাবে এর বিবৃতি দেয়া নেই যা সাধারণ পাঠকের বোধগম্য হবে। আপনি যদি কিছু মনে না করেন, আমি বুঝে উঠতে পারছিনা এটা কিভাবে প্যাঁচানো হতে পারে। তবে অবশ্যই আপনি জানেন আপনি কি বলছেন, আমি আপনার সাথে তর্কে যাবো না।’

(টিফানির প্রথম চিঠির একাংশ)

‘আগস্ট ২৫, ১৯৪৬
মহাবিশ্বের বক্রতা(Curved) নিয়ে দুশ্চিন্তা করো না। একসময় তুমি বুঝতে পারবে যে এই অবস্থানই হয়ত সবচেয়ে সহজতম। যদি কিনা আমরা বুঝতে পারি মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে ‘বক্র’ শব্দটি আমাদের নিত্যদিনের বোঝাপড়ার বক্র শব্দ থেকে আলাদা।’

(আইনস্টাইনের উত্তরের একাংশ)

‘সেপ্টেম্বর ১৯, ১৯৪৬
আমি আমার গত চিঠিতে বলতে ভুলে গিয়েছিলাম যে আমি একজন মেয়ে ছিলাম। মানে আমি এখনো একজন মেয়ে। আমার সবসময়ই এ ব্যাপারে ভীষণ অনুশোচনা কাজ করে, তবে এখন আমি এ বিষয়ে কমবেশি অভ্যস্ত হয়ে গেছি। যাহোক আমি ড্রেস বা নাচ বা যা যা পঁচা মেয়েরা পছন্দ করে তার কিছুই পছন্দ করি না। আমি এর চেয়ে অনেকবেশি পছন্দ করি ঘোড়া এবং ঘোড়ায় চড়া। বিজ্ঞানী হওয়ার ইচ্ছারও অনেক আগে আমি ঘোড়দৌড়ের ঘোড়সওয়ার হতে চাইতাম। যদিও তা বহুদিন আগের কথা। আমি আশা করি আমি মেয়ে হওয়াতে আপনি আমাকে ছোট মনে করবেন না।’

(টিফানির দ্বিতীয় চিঠির একাংশ)

‘সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১৯৪৬,
তুমি যে মেয়ে তাতে আমি কিছু মনে করিনি, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই যে তুমি নিজেকে ছোট মনে করো না। আমি এর কোন কারণ দেখি না।’

(আইনস্টাইনের উত্তরের একাংশ)

আইনস্টাইনের এই উত্তর হয়তো টিফানিকে আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করেছিল, আর এই চিঠি প্রকাশের মাধ্যমে হয়তো আরও অনেক মেয়েকেই নিজেকে ছোট মনে না করতে উদ্বুদ্ধ করে থাকতে পারে। আইনস্টাইনের নিজের জীবনেও নারীদের অনেক বড় ভূমিকা ছিল, তাঁর স্ত্রী মিলেভা নিজেও একজন বুদ্ধিমতী পদার্থবিজ্ঞানী ছিলেন, আইনস্টাইনের তত্ত্বগুলোর অনুপ্রেরণা আসে তাঁর কাছ থেকেই। তবে মিলেভা বিয়ের পড় সংসারের ভারে গবেষণা নিয়ে তেমন এগোতে পারেননি। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক-এর বানানো ‘জিনিয়াস’ নামক এক ধারাবাহিকে মিলেভার জীবন এবং আইনস্টাইনের সাথে তাঁর সম্পর্কের উপর আলোকপাত করা হয়। এবং আইনস্টাইনের জীবনে তাঁর মা, তাঁর প্রথম স্ত্রী মিলেভা, তাঁর বোন মাজা, এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী এলসার ভূমিকাও বোঝা যায়।

আলোকচিত্র: স্ত্রী মিলেভা মারিক এবং পুত্র হান্স আলবার্ট আইনস্টাইন এর সাথে আলবার্ট আইনস্টাইন

এখানে এভেলিনের কথা না বললেই নয়, যার সাধনায় আমাদের হাতে আইনস্টাইনের লেখা চিঠিগুলো পৌঁছেছে।শিশুদেরকে লেখা আইনস্টাইনের কিছু চিঠি যেন সর্বকালের সকল শিশুর জন্যেই লেখা। চিঠিগুলোতে বিজ্ঞানী আইনস্টাইনকে মানুষ হিসেবে যেমন কাছে থেকে চেনা যায়, বোঝা যায় তাঁর রসবোধ, আবেগ। তেমনি জীবন সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও বোঝা যায়।

আলোকচিত্র: রিভারসাইড চার্চের দেয়ালে আইনস্টাইনের মূর্তি, তিনিই প্রথম বিজ্ঞানী, ইহুদি
এবং জীবিত ব্যক্তি যে এই সম্মান পান।

‘রিভারসাইড চার্চ
জানুয়ারি ১৯, ১৯৩৬

প্রিয় আইনস্টাইন,
আমাদের স্কুলে রবিবারের ক্লাসে এ প্রশ্ন উঠেছে যে, বিজ্ঞানীরা কি প্রার্থনা করেন? একই সাথে বিজ্ঞান ও ধর্মে বিশ্বাস করা যায় কিনা, এ ধারণা থেকেই এ প্রশ্নের সূত্রপাত। আমাদের প্রশ্নের উত্তর পাবার আশায় আমরা বিভিন্ন বিজ্ঞানী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাক্তিত্বকে লিখছি।
আপনি আমাদের চিঠির জবাব দিলে আমরা ভীষণ সম্মানিত বোধ করবো; বিজ্ঞানীরা কি প্রার্থনা করেন? যদি করেন তবে কিসের জন্যে?
আমরা মিস এলিসের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
সম্মানের সহিত,
ফিলিস’

‘জানুয়ারি ২৪, ১৯৩৬
প্রিয় ফিলিস, আমি সহজ ভাষায় তোমার প্রশ্নের উত্তর দেবার চেষ্টা করবো। আমার উত্তর এরূপ:

বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, যেকোনো ঘটনা, এমনকি মানব সম্পর্কিত ব্যাপারগুলোও ঘটে প্রাকৃতিক নিয়ম মেনে। কাজেই প্রার্থনার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে, অর্থাৎ অতিপ্রাকৃতিকভাবে ইচ্ছা পূরণের মাধ্যমে ঘটনাপ্রবাহ প্রভাবিত হতে পারে বলে কোনো বিজ্ঞানী বিশ্বাস করতে পারেন না।
কিন্তু, আমরা অবশ্যই স্বীকার করি এই শক্তিসমূহের ব্যাপারে আমাদের জ্ঞান অসম্পূর্ণ, তাই পরিশেষে কোন পরম, মৌলিক আত্মার অস্তিত্বে বিশ্বাস নির্ভর করে বিশেষ ধর্মমতের উপর। বিজ্ঞানের বর্তমান অর্জন সত্ত্বেও এরূপ ধর্মমত ব্যাপক আকারে বিরাজ করে।
তবে, যারা কিনা গুরুত্বসহকারে বিজ্ঞান সাধনায় নিয়োজিত, সকলেই নিশ্চিত যে মহাবিশ্বের নিয়মগুলো মানুষের চেয়ে উচ্চতর কোন এক সত্তাকে প্রকাশ করে। এভাবে বিজ্ঞানের সাধনা এমন এক বিশেষ ধর্মানুভূতির দিকে চালিত হয়, যা নিশ্চিতভাবে আর দশজন মানুষের ধর্মবোধ থেকে আলাদা।
শুভেচ্ছান্তে,
আলবার্ট আইনস্টাইন’

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (3) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুহম্মদ আবু রাজীণ — মে ২১, ২০১৮ @ ১:২০ পূর্বাহ্ন

      হোমায়রা আদিবা,
      আপনাকে ধন্যবাদ দিতে চাই কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ধন্যবাদের ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। এত দারুণ, এত মূল্যবান একটা কাজ আপনি করেছেন যার সত্যিই তুলনা হয় না। আমি বিজ্ঞানের লোক, কোন কিছু নিয়েই গবেষনা করার মধ্যে আমি নেই। আমি একজন অতি তুচ্ছ টিভি নাট্যকার। ‘মোটাদাগের’ গল্প ফেঁদে মোটা চালের ভাত খাই আর নাক টেনে ঘুমাই; তবুও আপনার কর্ম আমাকে যথেষ্ট আনন্দ দিয়েছে- কৌতূহল জাগিয়েছে আইস্টাইনের বাকি চিঠি, সম্ভব হলে সবগুলো পড়ার। যে বইটির কথা আপনি বলেছেন সেটি কি উপায়ে সংগ্রহ করা যেতে পারে জানালে উপকৃত হব।

      এমন লেখা আরও চাই। শুভকামনা।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হোমায়রা আদিবা — মে ২৫, ২০১৮ @ ২:০৭ অপরাহ্ন

      মুহম্মদ আবু রাজীণ,
      বইটা আপনি আমাজনে পাবেন। অনলাইনে পিডিএফ এও একটু খুঁজলেই পেয়ে যাবেন। আপনার অনুপ্রেরণার জন্যে ধন্যবাদ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুহম্মদ আবু রাজীণ — মে ২৫, ২০১৮ @ ১১:৪৬ অপরাহ্ন

      ধন্যবাদ হোমায়রা আদিবা।
      আমি অবশ্যই খুঁজে বের করব। এধরনের আরও কিছু বই’র সাজেশন দিলে উপকৃত হতাম। ‘ধরন’ বলতে আমি বোঝাচ্ছি বিজ্ঞানের বই অবশ্যই, তবে শক্তশক্ত তত্ত্ব-উপাত্তের বদলে একটু সহজ, মজার- যা সাধারণ মস্তিষ্কের খোরাক হতে পারে।

      আর একটা কথা, আপনার লেখালেখি চলুক। শুভকামনা…

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com