ক্লাশ টেন-এ পড়বার সময়ে আমাদের এক স্যার এসেছিলেন। বেজায় পান খেতেন তিনি। ফলে পানের রসে মুখ ভরে উঠত। সেই রস মুখে নিয়ে পড়াতে গিয়ে উচ্চারণ হতো অদ্ভুত। বিদ্যাসাগর বলতে গিয়ে ‘বিদ্যা’ টুকু ঠিকই বললেন তারপরে ‘সা’ বলতে গিয়ে মুখে রস ধরে রাখা হচ্ছে না বলে শেষটুকু বললেন ‘হাগর’। হাসতে হাসতে পেট ফেটে যাবার দশা। সেই […]
দেশবিভাগের ঝক্কি-ঝামেলা শেষ হলে কামরুননেসা স্কুলে পড়াশোনা শুরু হলো। নতুন স্কুলে ক্লাস নাইনে পড়া আরম্ভ করলাম। এই ক্লাসে `Cloister and the Hearth’ নামের ইংরেজি র্যাপিড রীডার পেয়েছিলাম। ইংরেজি পড়ে ভালো বুঝতে পারতাম না। হঠাৎ একদিন এক সহপাঠীর বইয়ের দিকে চোখ পড়তে, অনুবাদে গল্পটা গড়গড় করে পড়ে ফেলা গেল। দারুণ লাগল গল্পটা।
দেশভাগের আগেই সদরঘাট থেকে ইডেন স্কুল আর কলেজ ইডেন বিল্ডিংস (বর্তমান সচিবালয়)-এ চলে এসেছিল। সে ভবন পুরো শেষ হয়নি তখনো। কয়েকটি উইং শেষ হলেই আমাদের ওবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে দেখি ভিতর দিকের মাঠ অসংখ্য আলকাতরার টিন দিয়ে বোঝাই। ফুল বাগন আর বড় বড় গাছে সুশোভিত খোলামেলা বড় কাঠের ভবন ছেড়ে এসে মন-খারাপ হয়ে […]
আমার চার বছরের বড়ো সেজদি আর আমি পড়তাম ইডেন স্কুলে। সেজদির সঙ্গেই পড়তেন লায়লাদি– লায়লা আরজুমান্দ বানু। কত রবীন্দ্রসঙ্গীত যে উনি জানতেন কী বলব। ‘কাঁদার সময় অল্প ওরে, ভোলার সময় বড়ো, খাবার দিনে শুকনো বকুল মিথ্যে করিস জড়ো’ গাইতেন বিদায় সংবর্ধনার অনুষ্ঠানে। আরো এক গান ছিল ‘কেন রে এতই যাবার ত্বরা কেন?’
এবারে তৃতীয় স্কুল, ইডেন বালিকা বিদ্যালয়ের পালা। ভর্তি হওয়া ছিল কঠিন। ইংরেজি, অঙ্ক, বাংলা তিন বিষয়েই পাস করতে হবে। আবার ইংরেজি আর অঙ্কের ফল অতি করুণ। মায়ের বিশ্বাস ছিল ‘একবার না পারিলে দেখ শতবার’। ভর্তির জন্যে পরীক্ষা দিতেই হতো। হয় না হয় না হয় না– শেষে ক্ষীরোদমনি দিদির বাংলা পরীক্ষায় রচনা লিখে তাঁর সন্তোষ অর্জন […]
নারীশিক্ষামন্দিরের পরে মা আমাদের দু বোনকে ভর্তি করালেন আনন্দময়ী গার্লস স্কুলে। যতদূর মনে হয় এ স্কুলে এসেছিলাম ক্লাস ফাইভে। নারীশিক্ষার মতো এখানেও স্কুলের ব্যবস্থা-করা ঘোড়ার গাড়িতে আসা-যাওয়া। আরমানিটোলা ময়দানের সামনে পৌঁছাবার আগে আগে ডানদিকে আনন্দ রায়ের বিশাল ভবন রায় হাউজ, আর বামদিকে লাল ইটের বাড়িটা ছিল উৎপলা ঘোষ সেনের বাপের বাড়ি। আনন্দ রায়ই নাকি আনন্দময়ী […]