শিল্পী যোগেন চৌধুরী: দেশভাগের অভিঘাত জীবনে, চিত্রকলায় ফেলেছিল বড় প্রভাব

জয়ন্ত সাহা | ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ৭:২১ অপরাহ্ন


৪৭- এর দেশভাগের যন্ত্রণার ক্ষত মনে এখনও দগদগ করছে; জন্মভূমি ছেড়ে যাওয়ার বেদনা এখনো কুড়ে খায় তাকে।
উপমহাদেশের প্রবীণ চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী বললেন, দেশভাগের সেই অভিঘাত তার ব্যক্তি জীবন ও চিত্রকলায় ফেলেছে ‘বড় প্রভাব’।
গোয়ালভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ সমৃদ্ধির সবটুকুই ছিল যোগেন চৌধুরীদের ডহরপাড়া গ্রামের আটচালা বাড়িটিতে; পূজা-পার্বণ, থিয়েটার আনন্দ আয়োজনের বাদ যেত না কিছুই।
তারপর এল ৪৭; দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভাগ হল ভারতবর্ষ। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ল গোটা ভারতবর্ষে। পরম প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে ভারতে চলে যেতে শুরু করলেন এ বাংলার সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারগুলো, তকমা জুটল শরণার্থীর।
আর্ট বিয়েনাল উপলক্ষে ঢাকায় আসা যোগেন চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আত্মীয়-পরিজনদের নিয়ে একটা বিশাল সমাজ ছিল আমাদের। সেটা যখন ভেঙ্গে গেল; তখন জীবনের সমস্ত জায়গা নড়বড়ে হয়ে গেল। একটা ডিজরাপশন তৈরি হল।”
যোগেন চৌধুরীর বাবা প্রমথনাথ চৌধুরী ছিলেন জমিদার। তৎকালীন ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ার ডহরপাড়া গ্রামে ছিল তাদের বসবাস। (সম্পূর্ণ…)

শিল্পী তেতসুয়া নোদা: শিল্প তার নিজ গুণেই বাজার তৈরি করে

জয়ন্ত সাহা | ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ৬:৩৬ অপরাহ্ন


অভিজ্ঞতা, চিন্তা আর মান- এই তিনের মিশেলে শিল্পকর্ম একসময় নিজেই তার বাজার তৈরি করে নেয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা সফররত বিশ্বখ্যাত ছাপচিত্র শিল্পী তেতসুয়া নোদা।
শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ১৮তম আন্তর্জাতিক আর্ট বিয়েনাল উপলক্ষে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসেছেন তিনি।
শনিবার দুপুরে আর্ট বিয়েনাল উদ্বোধনীর আগে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ক্ষণিকের জন্য মুখোমুখি হন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
ছাপচিত্রের ‘ডায়েরি’ সিরিজের জন্য জনপ্রিয়তা পাওয়া এই শিল্পী এবং জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি অব ফাইন আর্টস অ্যান্ড মিউজিকের ইমেরিটাস অধ্যাপক তেতসুয়া নোদা শিল্পকর্মের ধারা, বাজার সম্পর্কে নিজের মতামত জানান।
নোদা বলেন, “বাজারের কথা মনে রেখে ছবি আঁকতে হবে ব্যাপারটা এমন নয়। অভিজ্ঞতা, চিন্তা আর মান- এই তিনটি দিক যখন উন্নত হবে, তখন একটা শিল্পকর্ম নিজেই তার বাজার তৈরি করে নেবে। আর এভাবেই তো শিল্পকর্ম সারা বিশ্বে বিশাল একটি বাজার তৈরি করে ফেলেছে।”
“বাজারের কথা মাথায় রেখে শিল্পকর্ম আঁকাআঁকি একেবারে বোকামি” বলে মনে করেন তেতসুয়া নোদা। (সম্পূর্ণ…)

শহীদ ভাইয়ের সঙ্গে আমাদের নিউইয়র্কের আড্ডার দিনগুলো

মাহফুজা শীলু | ৩১ আগস্ট ২০১৮ ১২:৪৫ অপরাহ্ন


শহীদ কাদরীর সঙ্গে আমি একই শহরে ছিলাম, এ বড় আনন্দের। আমি শহীদ কাদরীর পরিবারের একজন হতে পেরেছিলাম, এ বড় শ্লাঘার। কবিতা ভালোবাসি সে ছিল আমার প্রথম যোগ্যতা। তিরিশের কবিদের ভালোবাসি, সে আমার বাড়তি যোগ্যতা। আর বুদ্ধদেব বসুর লেখা ভালোবাসি বলে সরাসরি প্রিয়জনদের সামনের কাতারে চলে এলাম শহীদ ভাইয়ের। নিউইয়র্কের পারসন্স বুলেভার্ডের বাড়িটির দরোজা আক্ষরিক অর্থেই খোলা ছিল। শহীদ ভাই আর নীরা আপার খোলা হৃদয়টির মতো। কত মধুর সময় আমরা কাটিয়েছি সেখানে! দেশে প্রায় পাকাপাকিভাবে চলে আসি ২০০৯-এ। নিউইয়র্ক থাকাকালীন আমরা নিয়মিতই আড্ডা দিয়েছি শহীদ ভাইয়ের বাসায়, হাসান ফেরদৌস ভাইয়ের বাসায়, কখনও কোনো রেস্টুরেন্টে, কখনও অকালপ্রয়াত মোমেন ভাইয়ের বাসায়, কখনও আমাদের বাসায়, কখনও-বা আমার বড়বোন নীলুর রকল্যান্ডের বাসায়। আমি দেশে ফিরে আসার পরে শুনতাম আমার বড় ভাই লেখক ফেরদৌস সাজেদীনের সঙ্গে নীরা আপা আর শহীদ ভাইয়ের অন্তরঙ্গতার কথা। ততদিনে সাহিত্য একাডেমী নামে ওঁরা একটি সংগঠন করেছেন।

একবার হাসান ভাইয়ের বাসায় আড্ডা দিচ্ছিলাম আমরা। সেদিন অনেকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, আনন্দবাজার পত্রিকার সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত, পূরবী বসু, জোতিপ্রকাশ দত্তসহ আরও অনেকে। যতদূর মনে পড়ছে, বুদ্ধদেব বসুর কন্যা মীনাক্ষী দত্ত, বিখ্যাত সাংবাদিক জ্যোর্তিময় দত্তও ছিলেন সেদিন। শহীদ ভাইয়ের একটি নতুন কবিতার জন্য সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত খুব পীড়াপীড়ি করছিলেন। শহীদ ভাই কিছুতেই রাজি হলেন না। সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত উঠে গিয়ে কবিতার জন্য অগ্রিম পারিশ্রমিক জোর করে শহীদ ভাইয়ের পকেটে ঢুকিয়ে দিলেন। যেন টাকা পান না বলেই শহীদ কাদরী কবিতা লেখেন না! শহীদ ভাই টাকা ফিরিয়ে দিতে দিতে বললেন, ‘আরে, আমাকে দিয়ে হবে না। টাকা নিয়ে নাও,’ বলে ফেরত দিলেন টাকা। আমরা সবাই বিষন্ন হয়ে পড়ি। আ-হা কবিতার বরপুত্র! কোন অভিশাপে আজ কবিতায় এত বিমুখ! পরবাস মানুষকে এত নিষ্ফলা করে দেয়? (সম্পূর্ণ…)

জর্জ সেফেরিস-এর প্রবন্ধ ও কবিতা

কুমার চক্রবর্তী | ৩০ আগস্ট ২০১৮ ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন

অনুবাদ: কুমার চক্রবর্তী

আমাদের কালের শিল্প
প্রশ্নটি হলো: সময়ের রাজনৈতিক গোঁড়ামিতে ছড়িয়ে পড়া ধর্মান্ধতার মুখে একজন বুদ্ধিজীবীর করণীয় কী? আমি মনে করি, এ প্রশ্নের উত্তরদাতারা মোটা দাগে দু-ভাগে বিভক্ত: ক. যাঁরা নিজেদের তাঁদের কাজের মধ্যেই উৎসর্গ করতে পছন্দ করেন সচেতন বা অসচেতনভাবে এ কথা বিশ্বাস করেই যে, তাঁদের নিজেদের চেয়ে বরং তাঁদের কাজই এর উত্তম জবাব দেবে (এঁদের মধ্যে কিছু মানুষ প্রতিটি ধর্মান্ধতার বিরোধিতা করে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন); এবং খ. যারা সিদ্ধান্ত নেয়, আমি―একজন শিল্পী হিসেবে, রাজনৈতিক জীব হিসেবে নয়―সামাজিক আন্দোলনের চলমান শিবিরের একজন হিসেবে নিজেকে মনে করি; রাজনৈতিক দায়িত্ব এ আলোচনার কোনো অংশ নয়। আমার মনে হয়, এই পরবর্তী শ্রেণির মধ্যে তাঁরাই সর্বোত্তম যারা সম্পূর্ণ সচেতনতার সাথেই তাঁদের করণীয় পছন্দ করেছে। অর্থাৎ, তাঁরা নিজেদের সঠিকভাবে, স্বচ্ছভাবে বলেছে যে, ‘আজ আমরা সংগ্রামরত আর সবকিছুই আমাদের প্রধান সমরনায়কের নির্দেশের অধীন। আগামী সময়ে যুদ্ধশেষে আমরা শিল্পাচারের সময় পাব।’ আমি অবশ্যই বলব, এ কাঠামোর ভেতরে, এ মানুষগুলোকেই আমি পুরোপুরি শ্রদ্ধা করি, যেহেতু একমাত্র যে আলোচনা আমাকে আকৃষ্ট করে তাহলো, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা গলাবাজি ধরনের বিকৃতির দ্বারা জলঘোলা করার উদ্যোগ নেয় না।

আর প্রকৃতপক্ষে এটা বলা যৌক্তিক নয় যে, শিল্পের স্বশাসিত হওয়া উচিত কি না। শিল্পে স্বশাসন একটা স্বতঃসিদ্ধ সত্য। শিল্প হচ্ছে দ্বিতীয় বিষয় এবং এ মানদণ্ডে এটা স্বাধীনও হতে পারে আর শিল্প হলো কতিপয় রাজনৈতিক সুযোগের সাফল্য―চলমান এই নির্যাতিত সময়ের একজন শিল্পীর এ সিদ্ধান্ত সঠিক না বেঠিক, তা নিয়ে আমরা প্রশ্ন করতে পারি কি না। দেখুন, প্রতিটি সৎ ও মানবিক কাজের মতোই শিল্পেও আপনি দুজন প্রভুকে সেবা দিতে পারবেন না, বা এখানে অডেন-এর লেখা উল্লেখ করা যায় যিনি সামান্য হলেও স্পেনীয় গৃহযুদ্ধের গোলামি করেছেন (মি. অডেনের প্রতি সুবিচারের জন্য সম্ভবত বলতেই হয়, সম্প্রতি তিনি ঘোষণা করেছেন, স্পেনীয় গৃহযুদ্ধের ওপর তাঁর লেখা কবিতাটি এখন তাঁর নিজেরই কাছে মনে হয়েছে ‘বাজে’):
‘ শিল্প কোনো জীবন নয়, আর তা হতেও পারে না
সমাজের ধাত্রী ।’ (সম্পূর্ণ…)

নাভীমূলের সঙ্গীত

স্বদেশ রায় | ২৯ আগস্ট ২০১৮ ১০:১৭ পূর্বাহ্ন


নাভীমূল থেকে উৎসারিত একটা সুর শিহরণ জাগালো সারা শরীরে-
গভীর অন্ধকারে একাকী তখন প্রপিতামহের শেষকৃত্য’র স্মৃতিস্তম্ভে দাঁড়িয়ে।
পায়ের কূল ঘেষে বয়ে যাচ্ছে গঙ্গা, তারও সারা শরীরে গভীর অন্ধকার
আর জলের শরীর জুড়ে শুধু সুর আর সুর- যা হয়তো আরো আগে শুনে গেছে
অনেকে, এমনি অনেক রাত জেগে, প্রপিতামহের স্মৃতিস্তম্ভে দাঁড়িয়ে।
এ অন্ধকার কেন আমাকে এখানে টেনে নিয়ে এলো, কার কাছে আজ প্রার্থনা আমার?
নিশিথের প্রার্থনার সাক্ষী শুধু অন্ধকার একাকী কি- না, আরো অনেক কিছু চোখ মেলে থাকে?
চোখ মেলে শুধু নয়, কান পেতে থাকে, সেই সব কান যারা সুর ভালোবেসে চলে গেছে,
চলে যাচ্ছে বা চলে যাবে আরো অনেক গাঢ় কালো অন্ধকার রাতে।
গঙ্গার এলোমেলো বাতাস কি তাদের কেউ? আমার প্রপিতামহ কি আছেন তাদের দলে
যারা আজ রাতে আমার এই নাভীমূল থেকে উৎসারিত সুরের ভাগী হতে চায়। (সম্পূর্ণ…)

কাজী নজরুল আমাদের শেখালেন সূর্যকে মামা ডাকতে

আনিসুর রহমান | ২৭ আগস্ট ২০১৮ ১২:২০ অপরাহ্ন

নিজেকে প্রশ্ন করে দেখি নি নজরুল কিভাবে আমারে শৈশবকে জয় করে নিয়েছিলেন। কিন্তু আজ নিজেকে প্রশ্ন করে নজরুলের লেখা ছোটদের কবিতার বিশেষ করে শৈশবের পড়া কয়েকটি কবিতা আবার ঝালাই করে নিলাম। এখন বুঝি নজরুল কেন আমাকে জয় করে ছিলেন। প্রভাতি কবিতার কথা। এমন ঘটনা ঘটেনি এমন বালক কি আর এই বাংলায় খুঁজে পাওয়া যাবে?
প্রভাতি
ভোর হল দোর খোল
খুকুমণি ওঠরে
ঐ ডাকে জুঁইÑশাখে
ফুল খুকি ছোটরে
খুলি হাল তুলি পাল
ঐ তরী চলল,
এইবার এইবার
খুকু চোখ খুলল।
আলসে নয় সে
উঠে রোজ সকালে,
রোজ তাই চাঁদা ভাই
টিপ দেয় কপালে।

তারপর ‘লিচু চোর’ কবিতা, এই কবিতা নতুন করে আলোচনায় এলো প্রয়াত রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হোসেন তৌফিক ইমামকে যখন এই কবিতাটি পড়ার পরামর্শ দিলেন। সব কাগজে খবর হয়েছিল। এই লিচু চোর কবিতার বিষয়বস্তুর সঙ্গে আমাদের তো দুরন্ত দুর্বার সফল বালকের শৈশবের ঘটনা। (সম্পূর্ণ…)

‘মেমসাহেব’-এর নিমাই ভট্টাচার্য: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যার পেছনেও মৌলবাদীরা ছিল

মিন্টু চৌধুরী | ২৬ আগস্ট ২০১৮ ৭:৫৬ পূর্বাহ্ন

বহুল পঠিত উপন্যাস ‘মেমসাসেহব’-এর আলোচিত মেমসাহেব চরিত্রটি একেবারেই কাল্পনিক বলে জানালেন বইটির লেখক নিমাই ভট্টাচার্য। তার মতে, ‘রিপোর্টার’ যেমন একটি বই, ‘মেমসাহেব’ও তেমনি একটি। পাঠক পড়ে যেটা ভাববে সেটাই আসল কথা।

বিখ্যাত এ লেখক-সাংবাদিক সম্প্রতি কলকাতার টালিগঞ্জের মোর এভিনিউতে নিজ বাসায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাথে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।

‘মেমসাহেব’ ছাড়াও ‘রিপোর্টার’, ‘ডিপ্লোম্যাট’, ‘বংশধর’, ‘পিকাডেলি সার্কাস’, ‘চিড়িয়াখানা’, ‘কয়েদী’সহ অসংখ্য বই লিখেছেন নিমাই ভট্টাচার্য। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দেড়শ’র অধিক। তিনি তার লেখক ও সাংবাদিকতা জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন সাক্ষাৎকারে।

এপার এবং ওপার বাংলা মিলিয়ে তার সবচেয়ে বেশি পঠিত ও জনপ্রিয় উপন্যাস ‘মেমসাহেব’ নিয়ে জানতে চাওয়া হয়। ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত এ উপন্যাসটি এ বছর প্রকাশের ৫০ বছর হয়েছে।

নিমাই ভট্টাচার্য জানান, ‘‘আমার ৩৫ বছর বয়সে বইটি লিখেছি। তখন আমি রিপোর্টার। এটি অসম্ভব জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে বিক্রিত বই। এবারে এটি প্রকাশের ৫০ বছর হয়েছে। আমার লেখা বইয়ের মধ্যে এটি এখনও পর্যন্ত সমানভাবে জনপ্রিয় বই।’’

‘মেমসাহেব’ প্রকাশের ৫০ বছরে এসে অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘খুবই খুশি। ৫০ বছর ধরে একটা বই সমানভাবে জনপ্রিয় তা খুব একটা দেখা যায় না।’’ (সম্পূর্ণ…)

আমি তোমাদের কবি

মুহাম্মদ সামাদ | ২৪ আগস্ট ২০১৮ ১২:৪৮ অপরাহ্ন


আমি তোমাদের কবি–তোমরা আমাকে নাও

ছায়াঢাকা গাঁয়ের মাটির মসজিদ–সুরেলা আজান
প্রাচীন মন্দির, ঊলুধ্বনি, কীর্তন, গাজনের গান
পুরনো গির্জার ঘণ্টা, প্রণত প্রার্থনা, যিশুর বন্দনা
কিয়াঙে কিয়াঙে জোড়হাতে– বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি…

লাল হালখাতা, হাওয়াই মিঠাই, চিনির হাতি-ঘোড়া
কুমোরের চাকা, মাটির পুতুল, ঢেঁকিতে গাঁয়ের বধূ
নাগরদোলার ঘূর্ণি, রাতভর যাত্রাপালা, লালনের গান
কবি নজরুল-রবীন্দ্রনাথ, বঙ্গবন্ধু মুজিবের মুখ;

রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, শোকার্ত প্রভাতফেরি
ঊনসত্তুরের গণঅভ্যুত্থান– আসাদের রক্তমাখা শার্ট;
সাতই মার্চের রেসকোর্স, জয় বাংলা, মুক্তিযুদ্ধ
লক্ষ লক্ষ শহিদের রক্তেভেজা প্রিয় স্বাধীনতা;

আমি তোমাদের কবি–তোমরা আমাকে নাও। (সম্পূর্ণ…)

চাঁদহীন এক আকাশের নিচে

সাধনা আহমেদ | ২২ আগস্ট ২০১৮ ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

জলের উপর ভেসে থাকা কচুরিপানা কলমীলতা আর পাড়ের ধারে গজিয়ে ওঠা ঢোলকলমীর ফুলে রোদজ্বলা নীল পড়েছে কিছুটা বেগুনী হয়ে। রূপমতিচরের পাশেই চারদিক ধইঞ্চা ঝোপে ঘেরা পানাউল্লারচর–কোনো রকমে ভেসে আছে। অনেক দূরে নদীর দক্ষিণ কিনারে দেখা যায় মুছাপুর আর ইব্রাহিমপুরের সুপারি নারকেল গাছগুলোর মাথায় চকচকে রোদ পিছলে পড়েছে। উত্তরের শিবপুর-কৃষ্ণনগর-শম্ভুপুর-রঘুনাথপুর-নদী থেকে দূরে হলেও গ্রামের মাঝখানের ফসলি জমিগুলো বর্ষার ভাসাজলে ডুবে থাকে চার মাস। পুর্বদিকে-লক্ষ্মীপুর-জগন্নাথপুর পার হয়ে মেঘনা যেখানে তার নীল হাত বাড়িয়ে ব্রহ্মপুত্রের কালকেউটের মতো কালো হাত ছুঁয়েছে মাত্র–কিন্তু বুকে ভরে নেয়নি বলে পাশাপাশি চলা দুই নদীর আলাদা রং বহুদূর থেকেও চেনা যায়। দুইধারা মিলে না কিছুতেই–শুধু একে অপরের চারদিকে ঘোরে আর গরজায়। তাতেই সেখানে সৃষ্টি হয়েছে ভয়ঙ্কর এক ঘূর্ণিপাক। কোনো নৌকা–এই পাঁকে পড়ামাত্র খাড়া হয়ে ঢুকে যায় নদীর গভীরে। মানুষগুলো মেঘনা নদীর তলদেশ বেয়ে দশক্রোস দূরের লালপুরে গিয়ে লাশ হয়ে ভেসে ওঠে। আবার লাশের সন্ধানও মেলে না কখনো। এই ঘূর্ণিপাকের দুইপাড়ে পঞ্চবটি ও গৌরীপুরের মাঝদিয়ে পুর্বদিকের সেই মেঘনায় তাকালে শুধু জল আর জল। সবগুলো চরের মাঝে বিশাল ফসলিহাওর তলিয়ে যায় বর্ষায়। পানাউল্লারচর থেকে লক্ষ্মীপুরের বাঁক পর্যন্ত শ-দুয়েক বিঘা উচু খেতগুলোকে আলগড়া নামে ডাকে সবাই। আলগড়ার ঠিক মাঝখানে বটগাছের মত ছড়িয়ে পড়া বিরাট ঝাকড়া মাথাওয়ালা একটি জাম গাছ। আলগড়াও বর্ষায় দুই-মানুষ ডুবে তলিয়ে থাকে। গাছটিতে–দুই বন্ধু–রাম আর সবুরের বাস। বর্ষায় যখন গাছটি মাথা ভাসিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে–তখনও তারা গাছেই থাকে। মাঝিরা দুজনকে নিজেদের খাবার থেকে একটু করে খাবার দিয়ে যায়। আবার তিনটা চর থেকেই কেউ না কেউ মানতের খাবার পাঠায় ওদের জন্য। গাছের মাথায় ধবলবক আর কানিবক বাসা বানায়। শাপলা পাতার উপর হেঁটে হেঁটে জলপোকা খেতে খেতে গিয়ে গাছের ডালে বসে জলপিপিও। রাম আর সবুর পাখিদের স্বজন–মোটেও ভয় পায় না পাখিরা। তবে রাত গভীর হলে বকের ডিম আর বাচ্চার লোভে যখন পানস আর জলঢোরা সাপেরা উঠে যায় গাছে তখন বকের দল একযোগে ক্বউক-ক্বউক করে উঠলে ভয়ে আবার নেমে যায় সাপগুলো। বর্ষাশেষে বকেরা ছানা নিয়ে উড়ে গেলে কাঠঠোকরা-টিয়া-ধানশালিক-গোবরেশালিক-ছাতারে-বটকল- আরো কতো পাখির মেলা বসে এই গাছে। মাঝি–দিনমুনিষ ও দাতব্দিরা–দুপুর বেলা দল বেধে গাছের ছায়ায় খেতে বসে। সবার দেওয়া খাবার পেটপুরে খেয়ে রাম ও সবুর ডালে ঝুলেই প্রতিদিন একই কিচ্ছা বলে। জাম গাছের জন্মকিচ্ছা । (সম্পূর্ণ…)

বিরিয়ানি — যাত্রা থেকে গন্তব্য

তানবীরা তালুকদার | ২২ আগস্ট ২০১৮ ৮:২০ পূর্বাহ্ন


যদিও বিরিয়ানি এখন আমাদের নিজস্ব খাদ্য হিসেবেই পরিচিত কিন্তু তারপরও কি জানতে ইচ্ছে করে না কিভাবে কখন কোথা থেকে এ খাবারটি আমাদের দেশে এসেছে?

বিরিয়ানি’র যাত্রা ইরান থেকে শুরু হয়েছে এ নিয়ে খুব বেশি সন্দেহের অবকাশ নেই, পার্সিয়ান শব্দ “বিরিয়ান” যার আক্ষরিক মানে রান্নার আগে ভেজে নেওয়া। আর পার্সি শব্দ ব্রিনিজ মানে হচ্ছে চাল। এ শব্দটি যে বিরিয়ানি নামের উৎস সে ব্যাপারে মোটামুটি সবাই নিশ্চিত। এ পক্ষের দাবি বিরিয়ানিটা পশ্চিম এশিয়া থেকেই ভারতে এসেছে। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের মাধ্যমে উৎপত্তি লাভ করে। ইরানে “ডেগ” মানে হাড়ি যাতে মসলা মাখানো মাংস খুব কম জ্বালে বসিয়ে রেখে মাংসের ভেতরের নিজের রসেই এটিকে
সেদ্ধ করা হতো যাকে বলা হতো “দমে” দেয়া আর তার সাথে স্তরে স্তরে দেয়া থাকতো চাল আর সুগন্ধি মশলা। বিরিয়ানিতে কমপক্ষে ১৫ ধরনের মসলার ব্যবহার হয় যার মধ্যে কেওড়া পানি, জাফরান, গোলাপ জল কিংবা আতর থাকেই। হাড়িতে দেয়ার আগে চাল মৃদ্যু ভাজা হত।

ইতিহাসের পাতায় খাবারের ব্যাপারটা বেশ গুরুত্ব দিয়েই উল্লেখ করা থাকে। পনের শতাব্দী থেকে উনিশ শতাব্দী পর্যন্ত মুঘল শাসনামলে ভারতে, পোলাও, কাবাব, বিরিয়ানি ইত্যাদি’র আগমন ও চর্চা হয় ব্যাপক আকারে। এ নিয়ে একটি গল্পও প্রচলিত আছে, বলা হয় সম্রাট শাহজাহানের বেগম মমতাজ (১৫৯৩- ১৬৩১) একবার সেনাদের ছাউনি পরিদর্শনে যান এবং সেনাদের দেখে তাঁর মনে হয়েছিলো, সৈন্য’রা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। তিনি তখন সৈন্যদের বাবুর্চিকে তাদের জন্যে পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করতে বলেন, সেই থেকেও হয়ত চাল, মাংস, ঘিতে রান্না এই সুস্বাদু খাবারটি’র প্রচলন হয়ে থাকতে পারে। মুঘলরা সারা বিশ্বে চরম বিলাসি জীবন যাপনের জন্যে বিখ্যাত। এই খাবারটি সাধারণত মুঘলদের বিশেষ অনুষ্ঠানে পরিবেশন হত। নিঃসন্দেহে ভারতে এই খাবারটি বিভিন্ন স্বাদে ও বৈচিত্র্যে প্রচার ও প্রসার লাভ করে। (সম্পূর্ণ…)

কুরবানী

মানিক বৈরাগী | ২২ আগস্ট ২০১৮ ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

শোণিতে বেদ ত্রিপিটক
বাম হাতে বাইবেল ডান হাতে কুরআন
মগজে মনসুর হাল্লাজ
বাম হাতে গীতাঞ্জলি ডান হাতে মসনবি শরিফ
চেতনায় নজরুল খৈয়াম হাফিজ।

“এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির কাবা নাই”
বিবেকি পরান শুধু আকুলি-বিকুলি করে প্রাণ হরণে
বিগত জিকির ধ্যানে, পঠন পাঠনে বিবর্তিত চিন্তায়
মনের বিরিষ শিং উছিয়ে গুতা দেয় বিবেকি কলবে (সম্পূর্ণ…)

শামসুজ্জামান খান: নিজের দলের কোনো সমালোচনা করব না, অন্যদের করব– তাহলে তো সে পার্সিয়াল হয়ে গেল

রাজু আলাউদ্দিন | ১৯ আগস্ট ২০১৮ ৭:২০ পূর্বাহ্ন


রাজু আলাউদ্দিন: আমি যদ্দুর জানি, লেখালেখির একদম শুরুর দিকে আপনি গল্প এবং কবিতা লিখতেন। এখন আপনি আর গল্প কবিতা লেখেন না। প্রচুর ননফিকশন, অর্থাৎ গবেষণা বা প্রবন্ধ এইগুলোতে আপনি এখন অনেক বেশি লিপ্ত। তো এরপরে আর কখনোই কেন গল্প এবং কবিতা লিখলেন না?
শামসুজ্জামান খান: এটা বলতে গেলে আমাকে শুরু করতে হবে একেবারে প্রাইমারি স্কুল থেকে। আমার প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা সব্বাই খুবই বিদ্বান তো ছিলেনই, সেই সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বাংলার যিনি শিক্ষক ছিলেন, তিনি জীবনানন্দ দাশ সম্পর্কে খুবই আগ্রহী ছিলেন। তিনি জীবনানন্দ দাশের কবিতা পড়তেন, আমরা বুঝতাম না, তবু তিনি আমাদের সামনে সেসব কবিতা পড়তেন। সাহিত্যের ব্যাপারে আমার আগ্রহটা তখন থেকেই শুরু হয়েছিল। তার চার বা পাঁচ বছর পরে যখন আমি হাইস্কুলে এলাম, আমার বাড়ি হলো বর্তমান মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানার চারিগ্রামে। এই গ্রামের স্কুলের নাম হলো এস. এ. খান হাইস্কুল। আমার দাদা-শ্বশুর এই স্কুলটা দিয়েছিলেন। তো সেই স্কুলে আমি ভর্তি হলাম। ভর্তি হওয়ার পর যে শিক্ষকদের পেলাম, তারা সব্বাই ভালো লেখাপড়া জানা মানুষ। প্রধান শিক্ষক ছিলেন ইংরেজির শ্রীযুক্ত বাবু রাজ্যেশ্বর চৌধুরী। অসাধারণ ইংরেজি জানতেন।
রাজু আলাউদ্দিন: তখনকার দিনে বোধহয় সব স্কুল বা কলেজের শিক্ষকরাই একটা স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেন করতেন।
শামসুজ্জামান খান: খুব স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেন করতেন। বাংলার শিক্ষক যারা ছিলেন, তাদের মধ্যে ফজলুল করিম স্যার ছিলেন, আনোয়ারুল ইসলাম সাহেব ছিলেন, এঁরাও খুব ভালো বাংলার শিক্ষক ছিলেন। এবং আরেকজন শিক্ষক এলেন, তিনি বাংলা ছাড়াও অন্য বিষয় পড়াতেন। তার নাম খলিলুর রহমান। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন। এইটুকু আমরা পরে জানতে পেরেছি। তিনি বামপন্থী চেতনার সাথে আমাদের পরিচিত করেন। তিনি এবং কার স্ত্রী রুকাইয়া সুলতানা; রুকাইয়া সুলতানা পরবর্তীকালে ডক্টর জি. সি. দেবের পালিতা কন্যা হয়েছিলেন। এই দুইজনই আমাদের গ্রামে তখন থাকেন। তারা আমাকে নিয়ে ‘পূর্বাভাস’ নামে একটা পত্রিকা বার করলেন।
রাজু আলাউদ্দিন: এটা কত সালের ঘটনা বলছেন?
শামসুজ্জামান খান: ১৯৫৩/৫৪ সন। এই সময় পত্রিকা বার করলেন। তো একটা মজার ব্যাপার হলো, আমাদের গ্রামেরই কবি মঈনুদ্দীন সাহেব.. (সম্পূর্ণ…)

« আগের পাতা | পরের পাতা »

Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com