মুহাম্মদ শামসুল হক

shamsul-hoquep1.gifমুহাম্মদ শামসুল হক লেখক-সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষণাকর্মী। স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক ও কথিত ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’র ব্যাপারে তাঁর কৌতুহল ছাত্রাবস্থা থেকে। মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যা, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডের প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রচার, সৃজনশীল কাজে নানা ক্ষেত্রে অবদান আছে এমন বিশিষ্ট জনদের জীবনক্ষণিকা সংগ্রহ করে তা তুলে ধরার ব্যাপারে তিনি আগ্রহী। সমসাময়িক আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক বিষয় এবং সাংবাদিকতা বিষয়েও লেখালেখি করেন।

প্রকাশনা: মুহাম্মদ শামসুল হকের প্রকাশিত বই পাঁচটি। এগুলো হচ্ছে ১. স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু প্রামাণ্য দলিল (আগামী প্রকাশনী, ঢাকা, ১৯৯৬, ১৯৯৭), ২. স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রস্তুতি ও বেতার ঘোষণার ইতিবৃত্ত (শৈলী প্রকাশন, চট্টগ্রাম, ১৯৯৯, ২০০০) ৩. চোখে দেখা ৭১ (প্রথম পর্ব), (নেহলিন প্রকাশন, চট্টগ্রাম, ২০০৫) ৪. স্বাধীনতার সশস্ত্র প্রস্তুতি-আগরতলা মামলার অপ্রকাশিত জবানবন্দি (বলাকা প্রকাশন, চট্টগ্রাম, প্রথম প্রকাশ-ফেব্রুয়ারি ২০০৯, দ্বিতীয় সংস্করণ-ফেব্র“য়ারি ২০১২) ৫. খ্যতিমানদের নানা রঙের দিনগুলি, (বাতিঘর, চট্টগ্রাম, প্রথম প্রকাশ-মার্চ ২০১১, দ্বিতীয় সংস্করণ-ডিসেম্বর ২০১১)।

সাংবাদিকতায় অভিজ্ঞতা: সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি ১৯৭৭ সালে দৈনিক জমানায়। পরবর্তী সময়ে দৈনিক স্বাধীনতা, দৈনিক নয়াবাংলা, দৈনিক আল আমীন, সাপ্তাহিক চট্টলায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৮ সালের নভেম্বরে প্রকাশনার শুরু থেকে যোগ দিয়ে এখনো কাজ করছেন দৈনিক প্রথম আলোতে। এছাড়া, প্রদায়ক হিসেবে প্রতিবেদন ও প্রচুর উপসম্পাদকীয় লিখেছেন ভোরের কাগজ, জনকণ্ঠ, সুপ্রভাত বাংলাদেশ, পূর্বকোণ ও সাপ্তাহিক একাত্তরে।

সাংগঠনিক কর্মকান্ড: চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, দু দুবার সহসভাপতি, দু বার নির্বাহী সদস্য ছিলেন। বর্তমানে চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির সহসভাপতি।

প্রশিক্ষণ: ১৯৭৯-৮০ সালে দৈনিক নয়াবংলা ও প্রেস ইন্সটিটিউটের আয়োজনে সাংবাদিকতা বিষয়ে ৮-৯ দিনের পৃথক দুটি কর্মশালা, ২০০১ সালে পরিবেশ সাংবাদিকতা বিষয়ে তিন দিন, ২০০৩ সালে ঢাকায় ইলেকশান রিপোর্টিং বিষয়ে তিন দিন, ২০১০ সালে চট্টগ্রামে উপজেলা বাজেট রিপোর্টিং বিষয়ে তিন দিনসহ নানা বিষয়ে ৯-১০ টি সংক্ষিপ্ত কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন।

বাংলা একাডেমীর উদ্যোগে ২০০০ সালে জেলাভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রণয়ন প্রকল্পের আওতায় দু দিনের কর্মশালায় অংশগ্রহণ এবং চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গ্রন্থের লেখক নির্বাচিত (যৌথভাবে ডা. মাহফুজুর রহমানসহ)।