সঙ্গীত

লা জওয়াব রফি সাহাব!

আশীষ চক্রবর্ত্তী | 3 Feb , 2008  

লাহোর কান পেতে আছে। আজ কুন্দন লাল সায়গল গান গাইবেন! সায়গল, যার চেহারা আর গানের জন্য সবাই দিওয়ানা। গানের আসরের জায়গাটা rafi.jpg………
মোহাম্মদ রফি (১৯২৪-১৯৮০)
………
লোকে গিজগিজ করছে। হিন্দি ছবির নায়ক-গায়ককে কাছ থেকে দেখতে, তার গান শুনতে ১২/১৩ বছরের এক কিশোরও এসেছে বড় ভাইয়ের হাত ধরে। সবার মাঝে অপেক্ষার উৎকণ্ঠা। শুরু হবে কখন? ‘এক্ষুনি শুরু হচ্ছে অনুষ্ঠান’–ঘোষণাটা যখন এই এলো বলে, সেই মুহূর্তেই বিপত্তি। বিদ্যুৎ বিভ্রাট! মাইক অচল। অনুষ্ঠান পণ্ড হওয়ার উপক্রম। হাজার অনুরোধ-উপরোধেও সায়গল গাইছেন না। অগত্যা লোকজনকে বসিয়ে রাখার জন্য ডাক পড়ল শ্রোতাদের ভিড়ে উপস্থিত স্থানীয় শিল্পীদের। সুযোগ পেয়ে ছুটে গেল সেই কিশোর। কয়েকটি গান গেয়ে দিলো নির্ভয়ে। সায়গল সস্নেহে কাছে ডেকে জানতে চাইলেন, ‘তোমার নাম কী?’ ছেলেটি বলল, ‘মোহাম্মদ রফি।’
sd-burman-with-rafi-sahab.jpg
শচীন দেব বর্মনের সঙ্গে মোহাম্মদ রফি

লাহোরের মানুষের কাছে রফি সেদিন থেকেই তারকা। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯২৪ সালে পাঞ্জাবের অমৃতসরের কোটলা সুলতানপুর গ্রামে জন্ম নেয়া যে ছেলেটির দিকে এতদিন কেউ ফিরে তাকাননি, সেদিন থেকে সাহেবেরাও তাকে সমাদর করে নিজেকেই সমাদৃত মনে করেন। অথচ তখনো উস্তাদ আব্দুল ওয়াহিদ খান আর বড়ে গোলাম আলী খানের কাছে ক্লাসিক্যালের তালিম শেষ করতে অনেক বাকি। বড় হওয়ার আগেই কোথাও কোথাও বড় শিল্পীর মর্যাদা পেতে শুরু করায় রফির ভালো তো লাগতোই, লজ্জাও লাগতো ভীষণ।

কোটলা সুলতানপুরের বাড়িতে এক ফকিরের গান শুনে শিল্পী হওয়ার বাসনা জাগে মনে। ফকির গান গেয়ে গেয়ে যে পথে চলতেন, রফিও ছুটতো সেই পথে। বাসায় একা একা গাইতো রাস্তায় ঘুরে ঘুরে শোনা গানগুলো। শিল্পী হতে হলে সাধনা তো করতেই হয়, রক্ষণশীল পরিবারে ওইটুকুই রফির সাধনা। কিন্তু বাবা ছিলেন শিল্পী হওয়ার পথের বাধা। ছেলে গান গেয়ে পেট চালাবে এটা ভাবতেই পারতেন না। তবে বড় ভাই মোহাম্মদ দ্বীন বুঝতে পেরেছিলেন ছোট ভাইটি সুরের মায়াজালে জড়িয়ে পড়েছে, সুরই তাকে আলোর দিশা দেবে, সুতরাং সে পথেই তাকে ছেড়ে দেয়া ভালো। তাতে রফির স্বপ্নপূরণ তো হবেই, সঙ্গীতেরও কল্যাণ হবে। নিজের যে সেলুনটা ছিল সেখানে প্রায়ই রফিকে বসিয়ে দিয়ে বলতেন, ‘এবার প্রাণ খুলে গাও।’ সঙ্গীতশিক্ষায় রফিকে যতটুকু সহায়তা করার দ্বীন পরেও তা করেছেন।

সায়গলের আসরে বাজিমাৎ করার পর থেকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। প্লেব্যাক গায়ক হওয়ার সুযোগ এসে যায় মাত্র ১৭ বছর বয়সে। অবশ্য হিন্দি বা উর্দু নয়, প্লেব্যাকে মোহাম্মদ রফির অভিষেক একটা পাঞ্জাবি ছবিতে। ছবির নাম গুল বালোচ। গানের প্রথম কলি, ‘সোনিয়ে হিরিয়ে’। গানটি খুব একটা হিট হয়নি, তবে ছবির সঙ্গীত পরিচালক শ্যাম সুন্দরজীর মন ভরে গিয়েছিল সদ্য কৈশোরোত্তীর্ণ শিল্পীর কণ্ঠমাধুর্যে, গায়কীর চমৎকারিত্বে। মুগ্ধ শ্যাম সুন্দর তার পরবর্তী সব ছবির জন্য চুক্তিবদ্ধ করলেন রফিকে। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই দেখা গেল রফির গান স্কুলপড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের মুখে মুখে। সে আমলের হিন্দি ছবির নামকরা অভিনেতা নাসির পরামর্শ দিলেন অবিভক্ত ভারতে আরো বড় শিল্পী হওয়ার জন্য মুম্বাই (তখন বোম্বে) যেতে। শুরু হলো মোহাম্মদ রফির জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল পর্ব।

মুম্বাইতে তার প্রথম ছবি গাও কী গোরি (১৯৪২)। সঙ্গীত পরিচালক আবার শ্যাম সুন্দর। তারপর মুম্বাইয়ের সেরা পুরুষ প্লেব্যাক গায়ক হতে আর বেশি সময় লাগেনি। অবশ্য তখনো সায়গল গেয়ে চলেছেন দাপটে। তাতে কী,rafi7.jpg…….
রেকর্ডিং স্টুডিওতে
……..
সায়গল তো আর ঠিক সেই অর্থে প্লেব্যাক গায়ক ছিলেন না, নিজের অভিনীত ছবিতেই গাইতেন। সে যা-ই হোক, রফি’র ‘রফি সাহাব’ হয়ে ওঠার শুরু সঙ্গীত পরিচালক নওশাদ আলীর সঙ্গে কাজ শুরুর পর থেকে। নওশাদের সুর, শাকিল বাদায়উনির কথা আর রফির কণ্ঠের মিলিত কিছু প্রয়াস সে যুগে অসম্ভব লোকপ্রিয়তা পেয়েছে। এর মধ্যে বৈজু বাওরা ছবির ‘ও দুনিয়াকে রাখোয়ালে’ গানটি তো রাতারাতি মহাতারকা বানিয়ে দেয় রফিকে। সে গানের জনপ্রিয়তার ফলে দুটো ঘটনা ঘটলো। প্রথমত দেখা গেল যে প্রায় সব ছবিতে ‘দুনিয়াকে রাখোয়ালে’র মতো চড়া সুরের একটা গান রাখাটা নিয়মে দাঁড়িয়েছে। দ্বিতীয়ত নওশাদ-রফি জুটিটা স্থায়ী রূপ নিলো। নওশাদ সাহেবের একটা সমালোচনা ছিল–রফি ছাড়া আর কোনো পুরুষ শিল্পীকে তিনি নেন না। এ সমালোচনাও নওশাদজীর রফিনির্ভরতা চুল পরিমাণ কমাতে পারেনি। দেশবিভাগের পর দুজনই ঠিক করেন, ভারতে থেকে যাবেন, জন্মভূমি পাকিস্তানে যাবেন না। রফির মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাদের জুটি ভাঙার প্রশ্নও ওঠেনি।

হিন্দি ছবির গানে ওই সময়টাও ছিল অসাধারণ। স্বর্ণযুগ বেছে নিতে চাইলে পঞ্চাশ থেকে সত্তর বা একটু এগিয়ে আশির দশক পর্যন্ত সময়টাকে অগ্রাধিকার দিতেই হবে। সঙ্গীত পরিচালকদের নামগুলো দেখলেও একজন ভালো শ্রোতা অনুমান করতে পারবেন, ওই সময়টায় কী সেবাটা পেয়েছে মুম্বাই ফিল্ম সঙ্গীত। শচীন দেব বর্মন, গুলাম মোহাম্মদ, বসন্ত দেশাই, খেমচান্দ প্রকাশ, সি রামচন্দ্র, খৈয়াম, রোশন, শঙ্কর-জয়কিষেন, মদনমোহন, ওপি নাইয়ার, কল্যাণজী-আনন্দজী, লক্ষিকান্ত-পেয়ারেলাল, জয়দেব, সলিল চৌধুরী, রবীন্দ্র জৈন, ইকবাল কুরেশি, ঊষা খান্না, রবি, চিত্রগুপ্ত এবং রাহুল দেব বর্মনের মতো সুরস্র’াদের সবাই-ই রফির কণ্ঠকে কম-বেশি ব্যবহারও করেছেন সার্থকভাবে।

কী গাননি মোহাম্মদ রফি? হিন্দি গানের কোন শ্রোতা তার গানের ভুবন ঘুরে এসে বলতে পারবেন, ‘কই আমার জন্য কিছুই তো গাননি?’ হ্যায় না বোলো বোলো, চাক্কে মে চাক্কা, রে মামা রে মামা রে, ছু ছু কারতি বা নানহে মুনহে বাচ্চে শুনলে বাচ্চারা তো বটেই, এমনকি বয়সে প্রবীণরাও আবেগে ভাসবেন। দেশের গান শুনবেন? আছে অ্যায় ওয়াতান কে ওয়াতান, হাম লায়ে হ্যায় তুফান, আব তুমহারে হাওয়ালে, ইয়ে দেশ হ্যায় বীর, আপনি আযাদী কো হাম বা হিন্দুস্তান কি কসম-এর মতো অসংখ্য গান। বিয়ের গান খুঁজতে গেলে চালো রে ডোলি উঠাও, মেরা ইয়ার বানা হ্যায়, আজ মেরে ইয়ারকে শাদি হ্যায়, তেরি রবনে বানাদি বা বাবুল কি দুয়ায়ে লেতি যা শুনে মুগ্ধ হয়ে যাবেন। আছে বন্ধুর জন্য, বন্ধুত্বের জন্য গান–দুনিয়া ছোটে ইয়ার, বাড়ি দুরসে আয়ে হ্যায়, বড়ে মিয়া দিওয়ানে, মেরি দোস্তি মেরা পেয়ার, এক রাস্তা দো রাহি …।

মোহাম্মদ রফি এমন কিছু কাওয়ালি গেয়েছেন যেগুলো চিরকাল ভালো লাগার মতো। না তো কারাভান কি তালাশ, হাম কিসিসে কম নেহি, পর্দা হ্যায় পর্দা, ম্যায় ইধার যায়ু ইয়া, ইয়ে হ্যায় ইশ্ক ইশ্ক, রাজ কি বাত…বলতে থাকলে তালিকাটা বেশ বড় হয়ে যাবে। রফির এমন গানও আছে যা শুনে ধার্মিকেরা উপাসনার কাজ কিছুটা সেরে নিতে পারেন। সৃ’িকর্তার কাছে আত্মনিবেদনের গানগুলোর মাঝে সবার আগে বলতে হবে ও দুনিয়াকে রাখোয়ালে, ইয়া নবি সালামালাইকা, বৃন্দাবনকা কৃ‘া, মন তরপাত হরিদর্শন, বড়ি দের ভাই নন্দলালা এবং মেরি বিনতি সুনো ভাগোয়ান-এর কথা।

রফি ক্লাসিক্যাল কেমন গাইতেন তা বুঝতে চাইলে শুনুন মনরে তু কাহে, সাওন আয়ে না আয়ে, নাচে মন মোরা মগন বা মধুবনমে রাধিকা নাচেরে। হিন্দি ভাষাটা বুঝলে যে কোনো সঙ্গীতানুরাগীই বুঝতে পারবেন সুরে-কথায় অনন্য লোকগীতি আরো কত অসাধারণ হয়ে ওঠে রফির কণ্ঠে। ন্যায়েন লড় যাইহে, পিপড় কে পাতওয়া, গোভিন্দ আলারে আলা, দুখ ভারে দিন বিতে–সেরকম কিছু গানেরই উদাহরণ।

তবে কাওয়ালি, আধ্যাত্মিক, দেশাত্ববোধক, ক্লাসিক্যাল, লোকগীতি, ছোটদের বা বিয়ের–যে গানের কথাই বলি না কেন, সাধারণত জনপ্রিয়তায় এগিয়ে যায় আবেগকে নাড়া দেয়া রোমান্টিক গান। তেমন গানের শ্রোতাদের জন্য রফি রেখে গেছেন ইয়ে মেরা প্রেমপত্র, রাহা গার্দিশোমে হারদম, খিলোনা জানকার, আপ আয়ে বাহার আয়ি, কেয়াসে কেয়া হো গ্যায়া, দিলকে ঝড়োকেমে তুঝকো বিঠাকার, ইয়াদ না যায়ে বিতে দিনোকি, বাহারো ফুল বরসায়ো, ছু লেনে দো নাজুক, না ঝটকো জুলফসে পানি, খিলোনা জানকার তুম, দিন ঢল যায়ে হায়, টুটে হুয়ে খাবোনে, কাভি খুদপে, হাম তুম সে জুদা হোকে, তেরি পেয়ারি পেয়ারি সুরতকো, আনেসে উসকে আয়ে বাহার, চান্দ মেরা দিল, পুকারতা চলা হু ম্যায়, চওদভিঁকা চান্দ, মেরে মেহবুব তুঝে, ইয়ে রেশমি জুলফে…।

রফি সাহেবের সেরা সময়ে নায়করাও শর্ত জুড়ে দিতেন, তাদের ছবিতে রফিকে রাখতেই হবে। সমসাময়িক এমন নায়ক খুঁজে বের করা কঠিন যার রফির গানে ঠোঁট মেলানোর সৌভাগ্য হয়নি। গায়ক-নায়ক-পরিচালক কিশোর কুমারকে পর্যন্ত রফি সাহেবের গান গাওয়ার অভিনয় করতে হয়েছে। ষাটের দশকে শাম্মি কাপুরের জন্যে রফি ছাড়া অন্য কাউকে গাইতে দেখা ছিল অবাক হওয়ার মতো ঘটনা। দিলীপ কুমার, রাজেন্দ্র কুমার, রাজ কাপুর, দেব আনন্দ, ধর্মেন্দ্র বা শশি কাপুরদেরও খুব কমই দেখা যেতো অন্য শিল্পীদের গানে ঠোঁট মেলাতে। চাহে কোয়ি মুঝে জংলি ক্যাহে দিয়ে শাম্মি কাপুর সেই যে ‘ইয়াহু স্টার’ হলেন, এখনো মানুষ তাকে ওই নামেই চেনে। রাজেন্দ্র কুমারের ‘জুবিলি স্টার’ আর জিতেন্দ্রর ‘জাম্পিং জ্যাক’ হয়ে ওঠার পেছনেও রফির গানের ভূমিকা কম নয়।

চল্লিশ বছরের সঙ্গীত জীবনে ২৬ হাজারের মতো গান গেয়ে লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে যৌথভাবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন মোহাম্মদ রফি। এত বিশাল ভাণ্ডার থেকে কয়টা গানের কথা বলবেন? এমন শিল্পীর কী প্রশংসা করবেন! গান্ধিজীর প্রয়াণের পরপরই তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রফির গাওয়া একটা গান বাজারে এলো–সুনো সুনো অ্যায় দুনিয়াওয়ালো, বাপুকি অমর কাহানি (১৯৪৮)। রাজিন্দর কৃষনের লেখা আর হান্সরাজ ভগতরাম সুরারোপিত সে গান শুনে জওহর লাল নেহেরু কেঁদে ফেলেছিলেন।

আরাধনা (১৯৬৯) ছবির মাধ্যমে কিশোর কুমারের উত্থানে ভাটার টান লাগে রফির জনপ্রিয়তায়। পরের সময়টা নাকি তার ক্যারিয়ারের ব্যর্থ, অনুজ্জ্বল সময়। ওই অনুজ্জ্বল সময়েও রফির উজ্জ্বলতার বেশ কিছু নমুনা রয়েছে। আসলে রফির মতো শিল্পী জনপ্রিয় হয়েছিলেন সেটা খুবই ভালো কথা, কিন্তু জনপ্রিয়তা হারানো মানেই কি তার ব্যর্থতা, নিষ্প্রভতা? আরাধনা ছবিতেও রফি সাহেব কি শিল্পী হিসেবে নিজের জাত চেনাননি? শচীন দেব বর্মনের অসুস্থতায় সঙ্গীত পরিচালনার সুযোগ পেয়ে নতুন কিছু করে দেখানোর ইচ্ছায় বা কিশোর কুমারপ্রীতির কারণে রাহুল দেব বর্মন কিশোরকে দিয়ে রূপ তেরা মাস্তানা পেয়ার মেরা দিওয়ানা, মেরে সপ্নোকি রানী কাব আয়েগিতু বা (ডুয়েট, লতার সঙ্গে) কোরা কাগজ থা ইয়ে মন মেরা গাইয়ে সাড়া জাগাতে পারেন, তাই বলে সেই ছবিতে রফি তার চিহ্ন রাখেননি তা কি বলা যাবে? ছবিতে দুটো ডুয়েট গেয়েছিলেন রফি। একটা লতা মঙ্গেশকর (বাগোমে বাহার হ্যায়) আর অন্যটি আশা ভোঁসলের সঙ্গে (গুনগুনা র‌্যাহে rafi-6.jpg……..
রেকর্ডিং স্টুডিওতে
……….
হ্যায় ভাঁওয়ার)। দুটোই অসাধারণ। রফি সাহেবকে দিয়ে দুটো গানই গাইয়েছিলেন শচীন কত্তা। হলে কী হবে, তুমুল জনপ্রিয়তা পেল কিশোরের চটুল (এবং অবশ্যই ভালো) গানগুলো। সুযোগ পেয়ে সেটা দারুণ কাজে লাগালেন কিশোর কুমার।

সেটা অবশ্য দোষের কিছু নয়। রফি সাহেবও তো জীবনের সেরা ব্রেক পেয়েছিলেন স্রেফ ঘটনাচক্রে। নইলে বৈজু বাওরার গানতো গাওয়ার কথা তালাত মাহমুদের। রেকর্ডিংয়ের দিন নওশাদ দেখলেন, তালাত স্টুডিওতে বসে দেদারসে সিগারেট ফুঁকে যাচ্ছেন। তুচ্ছ ব্যাপার। সেটাই মানতে পারলেন না নওশাদ। ব্যস, তালাত মাহমুদ ‘আউট’ মোহাম্মদ রফি ‘ইন’। বাকিটা ইতিহাস। সেই ইতিহাস বলে, সম্ভাবনার ঝিলিক দেখিয়েও নায়ক-গায়ক হতে গিয়ে তালাত মাহমুদ বড় মাপে কোনোটাই হতে পারেননি; কিন্তু পড়ে পাওয়া সুযোগ লুফে, ঠিক সময়ে প্রতিভার বিচ্ছুরণ দেখিয়ে সঙ্গীতের সত্যিকারের নায়ক হয়েছেন রফি। শেষের বছরগুলোতেও নায়কই ছিলেন। হাতে ছবি আগের তুলনায় কম ছিল, জনপ্রিয়তার ইঁদুরদৌড়ে কিশোর তাকে পেছনে ফেলেছিলেন, সবই ঠিক, তারপরও এটুকু ভুললে চলবে না যে ওই সময়েও রফি সাহেব অসংখ্য ভালো গান গেয়েছেন। আনেসে উসকে আয়ে বাহার (জিনেকি রাহ, ১৯৬৯), বরবাদ-এ মোহাব্বত কি দুয়া (লায়লা মজনু, ১৯৭৬), চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে যো দিলকো (ইয়াদো কি বারাত, ১৯৭৩), গম ছুপাকে রাহো (নজরানা পেয়ারকা, ১৯৮০), হাম তো চলে পরদেস (সরগম, ১৯৭৯), জনম জনম কা সাথ হ্যায় (তুমসে আচ্ছা কওন হ্যায়, ১৯৬৯), ঝিলমিল সিতারোকা (জীবনমৃত্যু, ১৯৭০), খিলোনা জানকার (খিলোনা, ১৯৭০), কিসকো পেয়ার কারু (তুমসে আচ্ছা কওন হ্যায়, ১৯৬৯), কেয়া দেখতে হো সুরত তুমহারি (কুরবানি, ১৯৮০), মেরা মন তেরা পেয়াসা (গ্যাম্বলার, ১৯৭১), মেরে মিতোয়া মেরে গীত রে (গীত, ১৯৭০), সুখ কে সব সাথি (গোপী, ১৯৭০), তেরে বিন্দিয়ারে (অভিমান, ১৯৭৩), তুম বিন যায়ু কাহা (পেয়ার কা মওসম, ১৯৬৯), ওয়াদা কারলে সাজনা (হাথ কি সাফাই, ১৯৭৪), ইয়ে যো চিলমন হ্যায় (মেহবুব কি মেহেন্দি, ১৯৭১), হাম কো তো জানসে পেয়ারে (ন্যায়না, ১৯৭৩), আচ্ছাহি হুয়া দিল টুট গ্যায়া (মা বেহেন অওর বিবি, ১৯৭৪), পর্দা হ্যায় পর্দা (অমর আকবর অ্যান্টনি, ১৯৭৭), আদমি মুসাফির হ্যায় (আপনাপন, ১৯৭৮), চলোরে ডোলি উড়াও (জানিদুশমন, ১৯৭৯), দর্দ-এ দিল দর্দে জিগার (র্কজ, ১৯৮০), ম্যায়নে পুছা চান্দসে (আব্দুল্লাহ, ১৯৮০), মেরে দোস্ত কিস্সা ইয়ে ক্যায়া হো গ্যায়া (দোস্তানা, ১৯৮০), ইয়ে দুনিয়া ইয়ে মেহফিল (হীর-রাঞ্ঝা, ১৯৭০)–এতগুলো ভালো গান তো কত শিল্পীর সারাজীবনেই গাওয়া হয় না! ভক্তরা ভুলবেন কি করে, কিশোর-যুগে রফি সাহেব হাওয়াস ছবিতে গাওয়া ‘তেরে গালিয়োমে না রাখেঙ্গে কদম’ (১৯৭৪)- এর জন্য ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ম্যাগাজিন পুরস্কার আর হাম কিসিসে কম নেহি ছবিতে গাওয়া ‘কেয়া হুয়া তেরা ওয়াদা’র জন্য জাতীয় এবং ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও পেয়েছিলেন?

পুরস্কারের প্রসঙ্গ এলেই অনেক রফিভক্তের মন খারাপ হয়ে যায়। rafi-in-a-singing-mood.jpgতাদের প্রিয় শিল্পীকে ভারতসরকার পদ্মশ্রী (১৯৬৫) খেতাব দিয়েছে, লতাজীর মতো ভারতরত্ন (২০০১) খেতাবে ভূষিত করেনি। এটা তাদের আফসোস। অনেক ভক্ত অবশ্য এই ভেবেও সান্ত্বনা পান যে, আলফ্রেড হিচকক অস্কার পাননি, টলস্টয় নোবেল পাননি, পণ্ডিত রবিশঙ্কর, বালমুরালি কৃ‘ন, ভীমসেন যোশি, বড়ে গুলাম আলীর মতো সঙ্গীতসাধকও ‘ভারতরত্ন’ হননি, রফির ওই সম্মান না জুটলে কী আসে যায়?

বেঁচে থাকলে রফি সাহেব নির্ঘাত ‘ভারতরত্ন’ প্রসঙ্গ লজ্জায় এড়িয়ে যেতেন। কিংবা হয়তো লতা, এম এস সুব্বুলক্ষিকে নতমস্তক সালাম জানিয়ে, লাজুক হেসে বলতেন, ‘কত বড় শিল্পী তারা, এ পুরস্কার তারা না পেলে কে পাবেন?’ হ্যাঁ, নিছক কল্পনা হতে পারে, কিন্তু এমন আচরণই রফি সাহেবকে মানায়। রফি কত বড় শিল্পী ছিলেন তা অনেকেই জানেন, তবে মানুষ হিসেবে কত বিশাল ছিলেন তা খুব কম মানুষেরই জানা।

একেবারে নির্লোভ বলতে যা বোঝায় রফি ছিলেন তার খাঁটি উদাহরণ। টাকার জন্য দরকষাকষি করা তো দূরের কথা, কখনো প্রযোজক-সঙ্গীত পরিচালকদের কাছ থেকে পাওনা টাকাও প্রকাশ্যে দুবার চেয়েছেন বলে শোনা যায়নি। কম বাজেটের অনেক ছবির গান গেয়ে দিতেন বিনা পারিশ্রমিকে। আর ‘কন্ট্রাক্টমানি পেলে রয়্যালটির দাবি শিল্পীরা করতে পারেন না’ বলে এবং রয়্যালটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি তো মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে বড় এক সমস্যাতেই ফেলে দিয়েছিলেন! এ নিয়ে কয়েকবছর কথা বলা, গান গাওয়াও বন্ধ ছিল লতাজীর সঙ্গে। কোনো ঝগড়া-বিবাদ নয়, শুধু ওই রয়্যালটি প্রশ্নে মতবিরোধ–এ থেকেই কথা-বার্তা বন্ধ। পরে অবশ্য সব ঠিক হয়ে যায়।

রফি সাহেবের সারল্য, ঔদার্য, বন্ধুবাৎসল্যের অনেক গল্প এখনো মুম্বাই ফিল্ম দুনিয়ার পুরোনো মানুষদের মুখে মুখে ফেরে। সঙ্গীতপরিচালক মদনমোহনের ছেলে সঞ্জিব কোহলি ভুলতে পারেন না রফি সাহেবের বিষাদাত্মক গানের সংকলন বের করতে গিয়ে কী ভয়ানক বিপদে পড়েছিল এইচএমভি। দেখা গেল, কাভারে ব্যবহার করার উপযুক্ত ছবিই পাওয়া যাচ্ছে না। বিষাদের গানের প্রচ্ছদে তো বিষাদমাখা মুখ চাই, রফির সেরকম ছবি পাবেন কোথায়? শত শত ছবি হাতের কাছে, অথচ একটাতেও কাজ হবে না। কারণ, সব ছবিতেই রফি সাহেব হাসছেন! তারপরও কেউ যদি বলেন রফি সাহেবকে গোমড়ামুখে বসে থাকতে দেখেছেন, তার কথা কেউ বিশ্বাস করবেন?

রফি সাহেব কারো সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন এমন নজিরও কেউ দেখাতে পারবেন না। সন্তানদের বলতেন, ‘সবসময় মাথা নিচু করে
rafi-in-daughtergcos-weddin.jpg
মেয়ের বিয়েতে রফি

হাঁটবে। মাথা উঁচু করে হাঁটলে একসময় হোঁচট খেয়ে পড়বেই।’ সিনিয়রদের তো অবশ্যই, এমনকি জুনিয়রদেরও প্রাপ্য মর্যাদা দিতেন। মুম্বাইয়ে রফি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবার পর শঙ্কর-জয়কিষেনের গ্রুপে বেহালাবাদক হিসেবে যোগ দেন লক্ষিকান্ত-পেয়ারেলাল। একসময় লক্ষিকান্ত-পেয়ারেলালও সঙ্গীত পরিচালক হলেন। নামডাকও হলো প্রচুর। তাদের গান কম গাননি রফি। কিন্তু কখনোই অতীত ভেবে তাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেননি। বরং রফি সবসময়ই নাকি বলতেন, ‘ওরা আমার ওস্তাদ। ওদের গান গাইলে আমি অনেক কিছু শিখতে পারবো।’

একবার লক্ষিকান্ত-পেয়ারেলালের জন্য একদিনে ছয়টি গান রেকর্ড করিয়েছিলেন রফি। প্রয়োজনে এত বেশি গাইলেও বেশি গাইতে গিয়ে গানের প্রতি অবিচার করতেন এমন কথা ভুলেও ভাববেন না। ব্যস্ততার কারণে সেরকম আশঙ্কা দেখা দিলে গানের জন্য নিজেই অন্য কাউকে নিতে বলতেন।

শঙ্কর-জয়কিষেন তখন সবে সঙ্গীত পরিচালনায় এসেছেন। বরসাত ছবির ‘ম্যায় জিন্দেগিমে হরদম রোতাহি রাহাহু’ গানটি তারা রফিকে দিয়ে গাওয়াবেন। নির্ধারিত দিনে রফি এলেন। তরুণ পরিচালকেরা ভয়ে ভয়ে তাকে বললেন, ‘গানের সুরটা একটু শুনুন, পরে যেভাবে খুশি গেয়ে দেবেন।’ জবাবে রফি হেসে বললেন, ‘না, তা কেন, আপনারা কম্পোজার। সুতরাং আপনারা যেভাবে বলবেন আমি ঠিক সেভাবেই গাইবো।’

নতুনদের পাশে রফি কত নিঃস্বার্থভাবে দাঁড়াতেন তার উজ্জ্বল দৃ’ান্ত লক্ষিকান্ত-পেয়ারেলাল জুটির পেয়ারেলাল। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে রফির কাছ থেকে ৫শ টাকা (সে আমলে পাঁচশও কিন্তু অনেক টাকা) ধার নিয়ে পেয়ারেলাল বলেছিলেন, ‘এ টাকা আপনাকে আর ফেরত দেবো না।’ রফি সাহেব কোনোদিন সেই টাকা চাননি।

পারতপক্ষে কাউকে দুঃখ দিতেন না রফি। কারো কোনো অনুরোধ ফেলতে পারতেন না। জীবনের শেষ দিনও অনুরোধ রাখার আপ্রাণ চে’া করেছিলেন। ১৯৮০ সালের ৩১ জুলাই। সকাল থেকেই বুকে ব্যথা। তারপরও রেওয়াজ সেরে, নাশতা করে রেকর্ডিং স্টুডিয়োতে চলে গেলেন রফি। বিকেল পর্যন্ত কোনোরকমে সামলে নিলেও তারপর আর পারছিলেন না। সঙ্গীত পরিচালককে বললেন, ‘ আমার একটু বাসায় যাওয়া দরকার। যেতে পারিঁ?’ মোহাম্মদ রফির সেটাই শেষ যাওয়া। স্টুডিয়ো থেকে, সঙ্গীতভুবন থেকেও।

বিচিত্রিতা

বুটের জোরে প্রথম আয়!
মোহাম্মদ রফি খেলোয়াড় ছিলেন না, সুতরাং তার বুট পরে খেলতে নামার প্রশ্নই ওঠে না। সে কারণে জীবনের প্রথম আয়ে বুটের ভূমিকাটা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য শোনাবে। ১৯৪৪ সাল। শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সংগ্রামটা সবে শুরু করেছেন। গান শুনে মুগ্ধ হয়ে এক শুভানুধ্যায়ী রফিকে নিয়ে গেলেন সঙ্গীত পরিচালক নওশাদের বাবার কাছে। উনি বললে নওশাদ তো তরুণ শিল্পীটিকে একটা সুযোগ দিতেই পারেন। আশা অনুযায়ী কাজও হলো। নওশাদ সুযোগ দিলেন। ছবির নাম ‘প্যাহলে আপ’। দুররানী, শ্যাম কুমার, আলাউদ্দীন, মনিরামদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে একটা কোরাস গাইতে হবে। ‘হিন্দোস্তাঁকে হাম হ্যায়, হিন্দোস্তাঁ হামারা/হিন্দু-মুসলিম দোনো কি আঁখোকা তারা’ গানটি ছবিতে গাইতে দেখা যাবে সৈন্যদের। কুচকাওয়াজ করতে করতে সৈন্যরা গাইছেন এমন এক দৃশ্যের গান। সে আমলে এ যুগের মতো বেসুরোকেও শিল্পী বানানোর মতো উন্নত প্রযুক্তি ছিল না। একটা গান একবারেই রেকর্ড করাতে হতো। আবার সাউন্ড এফেক্ট তৈরিরও ব্যবস্থা ছিল না। গানে কুচকাওয়াজের বুটের আওয়াজ আসবে কোত্থেকে? বলা হলো, সেই দায়িত্ব শিল্পীদেরই নিতে হবে। সৈন্যদের বুট আনানো হলো। সেগুলো পরানো হলো শিল্পীদের। একরকম প্যারেড করতে করতেই গাওয়া হলো গান। রফির পা খানিকটা জখমও হলো ওভাবে গাইতে গিয়ে। তাতেও আনন্দ কিছু কম হলো না। ‘গাইয়ে’ জীবনের প্রথম আয় বলে কথা! ওই ছবিতে গান গেয়ে ৫০ রুপি পেয়েছিলেন ‘রফি সাহাব’।

সায়গল ভক্ত রফি
কুন্দন লাল সায়গলের একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন মোহাম্মদ রফি। শুধু রফি কেন, লতা, মুকেশ আর কিশোর কুমারও ছিলেন সায়গল বলতে অজ্ঞান। প্রত্যেকেরই স্বপ্ন ছিল একবার অন্তত সায়গলের সঙ্গে গান গাওয়া। রফি সে সুযোগ পেলেন। ছবি : শাহজাহান। মাজরুহ সুলতানপুরীর লেখা ‘রুহি রুহি রুহি মেরে সপ্নোকে রানী’ গানটাতে সায়গলের সঙ্গে মাত্র দুটো লাইন গাওয়ার সুযোগ পেলেন রফি। ওইটুকুতেই বুক ভরে গেল আনন্দে। ছবির সঙ্গীত পরিচালক নওশাদ পরে বলেছেন, ১৯৪৬ সালের ওই দিনটির মতো রফিকে আর কখনো রেকর্ডিংয়ের সময় এতটা আনন্দে ভাসতে দেখেননি।

ধর্মভীরু রফি
মোহাম্মদ রফি গান গাইবেন না। কেন? কারণ, সদ্যই তিনি হজ করে এসেছেন আর আসতে-না-আসতেই কে যেন তাকে বলেছে, গান গাইলে ভয়ানক গুনাহ্ হয়। ধর্মভীরু ‘রফি সাহাব’ ঠিক করলেন, আর গাইবেন না, বাকি জীবন নামায-কালামেই কাটিয়ে দেবেন। সেই ভাবনা থেকে নতুন কিছু প্রস্তাব ফিরিয়েও দিলেন। আগের চুক্তির কাজগুলো সেরে ধর্ম-কর্মের পথে পা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিতে চলে গেলেন লন্ডনে। তবে সেখানে কয়েকদিন থাকার পর ভারতে ফিরতে হলো, পরিবারের সদস্যদের কথায় সঙ্গীতেও ফিরতে হলো তাকে।

এক টাকায় গান
পেশাদার গায়ক হলেও মোহাম্মদ রফি টাকার জন্যই গাইতেন এ কথা তার কঠোর সমালোচকরাও বলতে পারবেন না। ‘কত দেয়া হবে’ – জাতীয় প্রশ্ন তিনি নাকি প্রযোজকদের করতেই পারতেন না। কোনো ছবি হয়তো বাজারে তেমন একটা চললো না, প্রযোজকের কাছে কিছু টাকা তখনো পাওনা, রফি সেই টাকাও চাইতেন না। প্রযোজক টাকার অভাবে ছবির কাজ শেষ করতে পারছেন না জানলে রফি বিনা পারিশ্রমিক বা নাম মাত্র পারিশ্রমিকে গেয়ে দিতেন। নিসার কাজমি তার ‘খোঁজ’ ছবির কাজ বন্ধ রেখেছিলেন টাকার অভাবে। কথাটা কানে আসার পর রফি ‘চান্দা কা দিল টুট গ্যায়া, রোনে লাগে সিতারে’ গানটি গাইলেন, বিনিময়ে পারিশ্রমিক হিসেবে নিলেন মাত্র এক রূপি। টাকার জন্য, সামান্য একটু খ্যাতির জন্য নকলবাজি, কাদা ছোড়াছুড়ির এ যুগে মোহাম্মদ রফিকে স্রেফ শিল্পী বলা কি ঠিক হবে?

গুলাম আলীর স্মৃতিতে…
১৯৮০ সালের ঘটনা। গুলাম আলী প্রথমবারের মতো গিয়েছেন ভারতে। বরাবরের মতো সেদিনও মোহাম্মদ রফির ঘুম ভেঙেছে ভোর সাড়ে পাঁচটায়। পত্রিকা হাতে নিতেই একটা খবর চোখে পড়ল। গুলাম আলী এসেছেন, উঠেছেন তাজ হোটেলে। পাকিস্তানী গজল শিল্পীর দেখা পেতে রফি তো অস্থির। সাতটা নাগাদ ফোন করলেন । তড়িঘড়ি ঘুম থেকে উঠে ফোন ধরলেন, তবে কণ্ঠ শুনে ওপারের লোকটিকে চিনতে পারলেন না গুলাম আলী। মোহাম্মদ রফি নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন, ‘ আজ রাতে আমার বাসায় আসতে পারবেন?’ এমন দাওয়াত কবুল না করার তো প্রশ্নই ওঠে না। রাতে যথাসময়ে বান্দ্রার বিখ্যাত বাড়িটিতে গুলাম আলী হাজির। সারা বাড়িতে পুরস্কারের ছড়াছড়ি। পাকিস্তানের সঙ্গীত তারকা সেগুলো ঘুরে ঘুরে দেখছেন। এমন সময় রাতের পোশাক পরে, খালি পায়েই চলে এলেন রফি। গৃহকর্তার উদ্দেশ্যে গুলাম আলীর প্রথম কথাটা ছিল, ‘আপনার গান তো সারা পৃথিবী শোনে…।’ মুখের কথা কেড়ে নিয়ে রফি বললেন, ‘কিন্তু আমি শুনি আপনার গান।’ ‘রফি সাহাব’ সেদিন সোনার আংটি আর চাদর উপহার দিয়েছিলেন অতিথিকে। তারপর নিজহাতে গুলাম আলীর ছবিও তুলেছিলেন। পরে পাকিস্তানের পত্রপত্রিকায় নাকি সেদিনের কিছু ছবি ছাপাও হয়েছে।

হাটে হাঁড়ি ভাঙা
রফির চিরবিদায়ের দু’বছর পর ভারতের কয়েকটি পত্রিকা জানালো, রফি সাহেবের পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছে মীরা রোডেরmohd-rafi-grand-daughter-a.jpg……..
স্ত্রী বিলকিস ও নাতনীর সঙ্গে মোহাম্মদ রফি
………
এক বস্তিতে। রফির স্ত্রী সংসার চালানোর জন্য দর্জির কাজে নেমেছেন, তাকে কয়েকবার অটোরিক্সায় চড়তে দেখা গেছে। এ খবর জানাজানি হতেই রীতিমতো হৈচৈ পড়ে গেল। অবশ্য সব হৈচৈ আর জল্পনা-কল্পনা শেষ করে দিল মোহাম্মদ শাহিদের একটি সাক্ষাতকার। সেখানে রফির ছোট ছেলে শাহিদ বললেন, ‘বাবা আমার মায়ের জন্য যথে’ (সম্পদ) রেখে গেছেন। তারপরও আমার মা একটা জরিহাউস চালান। তাছাড়া কোনো সমস্যা হলে তাকে দেখার জন্য আমরা চার ভাই তো আছিই। এর বাইরেও একটা কথা জানিয়ে রাখি, আমার মা বিলকিস রফি কোনোদিন অটোরিক্সায় চড়েননি আর আশা করি চড়বেনও না। আল্লাহ্ আমাদের যথেষ্ট দিয়েছেন।’

অভিনেতা রফি
কে এল সায়গল, কিশোর কুমার, অশোক কুমার, তালাত মাহমুদ, অমিতাভ বচ্চন এমনকি এ যুগের গোবিন্দ, আমির খান, কুমার শানু, সোনু নিগমরাও ছবিতে অভিনয় করেছেন, পাশাপাশি কম-বেশি গান গেয়েছেন কিংবা গান গাওয়ার পাশাপাশি অভিনয়ও করেছেন। এ তালিকায় মোহাম্মদ রফির নামটা রাখতেও ভুলবেন না যেন! গান গেয়ে রফি সাহাব তো দুনিয়ামে মশহুর। শিল্পী রফি তিন তিনটি হিন্দি ছবিতে অভিনয়ও করেছেন। সমাজকো বদল ডালো, লায়লা মজনু, জুগনু–এই তিনটি ছবি কখনো দেখার সুযোগ পেলে অবশ্যই অভিনেতা রফিকেও দেখে নেবেন।

গায়কের জন্য গান
একটা সময় ছিল যখন মুম্বাই ফিল্মে নায়ক বা অন্য কোনো পুরুষ চরিত্রের গানে রফি ছাড়া অন্য কাউকে ভাবাই যেতো না। ভাবলে ছবি ফ্লপ করার শঙ্কা যেতো বেড়ে। তা আর কে চায় বলুন! বরং সাফল্য নিশ্চিত করতে অন্তত একটা গান হলেও রফিকে দিয়ে গাওয়াতেনই সঙ্গীতপরিচালকেরা। সেই নিয়মে নায়ক-গায়ক কিশোর কুমারকেও তিন তিনটি ছবিতে ঠোঁট মেলাতে দেখা গেছে রফির গানে। ছবি তিনটির নাম রাগিনী, বাঘি শেহজাদা ও শারারত।

কৈশোরের হিরো
কৈশোরে রফির হিরো ছিলেন এমন একজন যাকে এ যুগে অনেকেই হয়তো চিনবেন না। জি এম দুররানী নামটি তখন কিন্তু সঙ্গীত অঙ্গনে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। দীদার, ঘায়েল, পেয়ার কি বাতে (১৯৫১), বেকসুর (১৯৫০) ছবিতে তার গান অনেকের হৃদয়েই দোলা দিয়েছিল। মোহাম্মদ রফি তাদেরই একজন। গান ভালোবাসতেন বলে যেখানেই যেতেন, গুনগুন চলতোই। প্রায় সবসময়ই দুররানীর গানের সুর ভাজতেন। আর যখন অনুরোধের আসরে বসতেন? কণ্ঠ নকল করে যেন জি এম দুররানীই হয়ে যেতেন মোহাম্মদ রফি।

মজার ভুল
‘মেরা জুতা হ্যায় জাপানি’ গানটির বদৌলতে রাজকাপুর যে পূর্ব ইওরোপের কয়েকটি দেশ, বিশেষ করে রাশিয়াতে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তা অনেকেই জানেন। তবে মোহাম্মদ রফির ‘সুহানি রাত ঢল চুকি’ জনপ্রিয়তায় ওই গানকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল ওয়েস্টইন্ডিজের ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো আর সুরিনামে। শোনা গেল দুলারি ছবির গানটি নাকি ওই দুটো দেশে জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা পেয়েছে। এ গান লোকপ্রিয়তা পেতেই পারে, তাই বলে জাতীয় সঙ্গীত…! দেশপ্রেম প্রকাশ করার মতো একটা শব্দও তো নেই, এমন গান ভিনদেশে জাতীয় সঙ্গীত হয়ে যায় কী করে? কয়েকজন সাংবাদিক নেমে পড়লেন সত্য অনুসন্ধানে। ভালোভাবে তথ্যতল্লাশের পর তারা জানতে পারলেন, ‘সুহানি রাত’ ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো আর সুরিনামে দিন-রাত শোনা হয় ঠিকই, তাই বলে সরকার ভিনদেশী গানটিকে জাতীয় সঙ্গীত বানিয়ে বসেনি।

ইংরেজীতেও …!
পাঞ্জাবি, মারাঠি, সিন্ধি, গুজরাটি, তেলেগু, কান্নাড়া…বলতে গেলে ভারতের সব ভাষাতেই গান গেয়েছেন মোহাম্মদ রফি। শুধু কি তাই? ইংরেজীতেও গেয়েছেন দুটো গান। দুটোই ১৯৭০ সালে। ফিল্মের বাইরের এই গানগুলোর প্রথম কলি হলো; Although we hail from Ges I love her, love her, love her…

1.
Musician: Shankar Jaikishan
Lyrics
Although we hail from different lands,
we shone earth and sky and sun,
remember friends, the world is one..

We want all enmity to seize,
for we want peace, we all want peace,
we want no hate, we want no strife,
since we were born for love and life,
come let us chant while joining hands,
we shall not rest till wars are done,
remember friends, the world is one..

Although we hail from different lands,
we shone earth and sky and sun,
remember friends, the world is one..

we have matured to dream and build,
we want our dreams to be fulfilled,
we have come here to dream and plan,
a world of joy and hope for man,
a world is dignity demesne,
a world that we shall see begun,
remember friends, the world is one..

Although we hail from different lands,
we shone earth and sky and sun,
remember friends, the world is one..

2. Musician(s): Shankar Jaikishan
Lyrics
I love her, love her, love her…
(Hum kale hai to Kya hua dilwale hai)

Singer : Mohammad Rafi
Lyric : Harindra Nath Chattopadhyay
Music : Shanker Jaikishan

I love her, love her, love her, love her, so will you,
The she I love is a beautiful, beautiful dream comes through.

Because she thinks it pleases me,
Like a cat, rat she seizes me,
She tickles me, she teases me,
She warms me up, she freezes me

I love her, love her, love her, love her, what shall I do,
The she I love is a beautiful, beautiful dream comes through.

O she is a flower lovely and rare,
Her beautiful body seems to bear,
The magical mood of morning air,
And black as night is her raven hair,

I love her, love her, love her, love, my love is true
The she I love is a beautiful, beautiful dream comes through

রফিবন্দনা

শুধু শিল্পী হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেও মোহাম্মদ রফি ছিলেন অসাধারণ। মৃত্যুর আগে-পরে সঙ্গীত ও ফিল্ম দুনিয়ার বিশি’জনদের কথায় তারই অনুরণণ।

ও পি নাইয়ার
সঙ্গীত পরিচালক
মোহাম্মদ রফির মৃত্যু আমার জন্য খুব বড় ক্ষতি। শাম্মি কাপুর বা জনি ওয়াকারের জন্য যখন গান তৈরি করতাম উনি (রফি) কণ্ঠটাকে ঠিক তাদের মতো করে গানগুলো গেয়ে দিতেন। আমার জন্য অসংখ্য অসাধারণ গান গেয়েছেন তিনি। ‘রফি মিয়া’ মানুষ হিসেবেও ছিলেন অসাধারণ। তার সঙ্গে কোনোদিনই কারো তুলনা করা ঠিক হবে না।

লতা মঙ্গেশকর
সঙ্গীত শিল্পী
ওনার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ‘ডুয়েট’ গেয়েছি এটা আমার সৌভাগ্য। সব ধরনের গান উনি এত চমৎকারভাবে গেয়েছেন যে যারা গানের ‘গ’ বোঝেন না তারাও শুনে মুগ্ধ হয়ে ’বাহ্, বাহ্’ বলে উঠবেন। মোহাম্মদ রফির মতো শিল্পী প্রতিদিন জন্ম নেয় না।

আশা ভোঁসলে
সঙ্গীত শিল্পী
ওনার সবচেয়ে বড় ক্ষমতা হচ্ছে, হাই পিচে গাইতে গাইতে হঠাৎ অবলীলায় কণ্ঠ একেবারে খাদে নামিয়ে আনতে পারা। আমার কাছে ওনার গাওয়া সবচেয়ে প্রিয় গান, ‘সুহানি রাত ঢল চুকি।’

জনি ওয়াকার
অভিনেতা
মোহাম্মদ রফি সঙ্গীতে এতটাই নিবেদিত ছিলেন যে, তার গানের সঙ্গে অভিনেতাদের চালচলন, বাচনভঙ্গি আর উচ্চারণের মিল নিশ্চিত করতে মাঝে মাঝেই তিনি অভিনেতাদের সঙ্গে কথা বলতে চলে আসতেন। রফি সাহেব যখন আমার জন্য গাইতেন, মনে হতো, যেন গানটা আমিই গাইছি।

জগজিৎ সিং
সঙ্গীত শিল্পী
যে নায়কের জন্য গানটি চিত্রায়িত হবে গানে তার ব্যক্তিত্ব তুলে ধরার অসাধারণ এক ক্ষমতা ছিল রফি সাহেবের। যখনই রফির গান শুনবেন, চোখের সামনে ভেসে উঠবে নায়কের চেহারা। গানের দৃশ্যের পারিপার্শ্বিকতা, অন্তর্গত ভাব–এসবও বেশ পরিষ্কার হয়ে উঠবে তখন।

রাজ কাপুর
অভিনেতা, পরিচালক
সঙ্গীতজগতের মুকুটহীন গায়করাজা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।

দিলীপ কুমার
অভিনেতা
রফি সাহেব এত আবেগ দিয়ে গাইতেন যে গানের দৃশ্যায়নের সময় অভিনেতার কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতো।

শাম্মি কাপুর
অভিনেতা
আমি যেভাবে চাইতাম রফি সাহেব কেমন করে যেন নিজেকে ঠিক সেভাবে মানিয়ে নিতেন। rafi_5.jpgএটা সত্যিই বিস্ময়কর। আমি গানের সঙ্গে একেবারে মিশে যেতাম। প্রায়ই রেকর্ডিংয়ে যেতাম। কোন লাইনটা কীভাবে গাওয়া উচিত মনে করি আমি তা-ও বুঝিয়ে বলতাম। রফি সাহেব সবসময় আমার কথা রাখতেন। মনে পড়ে, ‘তারিফ কারু কেয়া উসকি’ গানটার রেকর্ডিং হচ্ছে। সিগনেচার লাইন ‘তারিফ কারু’কে আমি বারবার গাইতে গাইতে একেবারে চড়ায় নিয়ে যেতে বললাম। আমার বন্ধু, সঙ্গীত পরিচালক ওপি নাইয়ার আপত্তি জানালো। তার মনে হলো, ব্যাপারটা খুব বিরক্তিকর শোনাবে। কিন্তু হঠাৎ রফি সাহেব বলে উঠলেন, ‘ও যেভাবে বলছে সেভাবেই গাইতে চাই, কারণ, আমি জানি ও কী চাচ্ছে।’ ছবি মুক্তি পেল। সুপারহিট হলো গানটা। রফি সাহেবের জন্যই সেটা সম্ভব হয়েছিল। ওই জায়গাটা উনি বারবার গেয়েছিলেন ঠিকই, তবে প্রত্যেকবারই গেয়েছিলেন একদম ভিন্নভাবে। ভাবতে ভালো লাগে, রফি সাহেব তো দিলীপ কুমার থেকে জনি ওয়াকার পর্যন্ত সব অভিনেতার জন্যই গেয়েছেন, কিন্তু তার বিশেষ একটা পরিচিতি গড়ে উঠেছিল আমার গানের জন্য। ওনার গাওয়া কিছু গানের দৃশ্যে অভিনয় করেছেন জয় মুখার্জি এবং বিশ্বজিৎ, যেগুলো একেবারে আমার স্টাইলের গান। ‘বাহারো ফুল বরসায়ো’, ‘পুকারতা চলা হু ম্যায়’ বা ‘তেরি পেয়ারি পেয়ারি সুরতকো’–এসব রফি সাহেবের বিশেষ ভঙ্গিতে আমার জন্য গাওয়া গান। মনে আছে, ব্রক্ষ্মচারি ছবির জন্য রফি সাহেব ‘ম্যায় গায়ু তুম সো যায়ো’ গানটা গাইছেন, তখন একটা লাইন কীভাবে গাওয়া যেতে পারে তা বলেছিলাম। গানটির দৃশ্যায়ন শেষে তা দেখে রফি সাহেব আমার হাতে চুমু দিয়ে বলেছিলেন, ‘খুব সুন্দর। কেন এটা আমার মাথায় এলো না?’ রফি সাহেবের মৃত্যুর খবরটা যখন শুনলাম মনে হলো যেন আমি আমার কণ্ঠ হারিয়েছি, কয়েক ঘণ্টা কোনো শব্দই ঊচ্চারণ করতে পারছিলাম না!

আনন্দ বকশি
গীতিকার
আজো কোনো গান লিখলে গানটা রফি সাহেব গাইলে কেমন শোনাতো তা কল্পনা করে নিই। তার শূন্যস্থান কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।

নিতিন মুকেশ
সঙ্গীতশিল্পী, মুকেশের ছেলে
সমসাময়িকদের মধ্যে আমার বাবার প্রিয় শিল্পী ছিলেন মোহাম্মদ রফি। বাবা রফি সাহেবের কণ্ঠ খুব পছন্দ করতেন এবং বিশ্বাস করতেন তার (রফি) অভাব কেউ পূরণ করতে পারবে না।

উদিত নারায়ণ
সঙ্গীত শিল্পী
স্বপ্ন পূরণের দিন বলে সেদিন স্বভাবতই আমি একটু উত্তেজিত ছিলাম। উত্তেজনা আরো বেশি হওয়ার কারণ, আর কেউ নন আমি গান গাইতে চলেছি রফি সাহেবের সঙ্গে, সেই গায়ক–যাকে গুরু মেনে এসেছি। যার গান এতকাল রেডিওতে শুনতাম আজ তিনি আমার সামনে! কী যে আনন্দ হচ্ছিল ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। একটু নার্ভাসও লাগছিল। সেটা বুঝতে পেরে রফি সাহেব বললেন, ‘তোমাকে দেখে আমার নিজের কথাই মনে পড়ছে। এই ইন্ডাস্ট্রিতে যখন আসি তখন আমার বয়সও তোমার মতোই ছিল। চালিয়ে যাও, কিচ্ছু ভেবো না।’

খৈয়াম
সঙ্গীত পরিচালক
রফি সাহেব ভারতের গর্ব। তার শরীর আমাদের ছেড়ে গেলেও কণ্ঠ আর স্মৃতি আজো সঙ্গেই আছে।

মান্না দে
সঙ্গীত শিল্পী
একজন ‘শিক্ষিত’ সঙ্গীতশিল্পী হয়েও আমি কখনো জনপ্রিয়তায় রফির উচ্চতা ছুঁতে পারিনি। উনি এমন অনেক ভালো গান গেয়েছেন যেগুলো গাওয়ার সুযোগ পাবো এ কথা আমি ভাবতেও পারিনি। তার গায়কীটা ছিল চমৎকার। একা হলে রফির গানগুলো আমি নিজের উদ্দেশ্যে গাই। শিল্পী হিসেবে তিনি অসাধারণ ছিলেন। লতার মতো তিনিও সঙ্গীতে যাকে বলে ‘শিক্ষিত’, ঠিক তা ছিলেন না, তবে তাদের দুজনেরই কণ্ঠ তো ঈশ্বরের দান। অনেক বছর ধরে গান করছি আমি। অনেক শিল্পী দেখেছি, অনেকের গান শুনেছি। আজ এটুকু অন্তত বলতে পারি, সব শিল্পী আর গানের মধ্যে রফির গাওয়া গানগুলো অনন্য। মোহাম্মদ রফি ছিলেন রাজা এবং মান্না কখনোই তার সাফল্যকে ঈর্ষা করেনি, কারণ, সে (মান্না) সত্যি সত্যিই জানতো, রফি তার চেয়ে ভালো শিল্পী। আমাদের সময় অনেক বড় বড় শিল্পী ছিলেন। রফিও ছিলেন। উনি নায়ক, খলনায়ক, কৌতুক শিল্পী–এক কথায় সবার জন্যই গান করতেন। কিংবদন্তীর গায়ক রফির মতো গান গাওয়ার স্বপ্ন আপনি কখনো দেখতে পারবেন? সেই পর্যায়ে যেতে পারবো এ দাবি আমি অন্তত করি না।

ধর্মেন্দ্র
অভিনেতা
আমার ক্যারিয়ার গড়ায় মোহাম্মদ রফির অনেক অবদান। ‘জানে কেয়া ঢুন্ডতি র‌্যাহতি হ্যায়’ (ছবি : শোলা অওর শবনম) বা ‘ম্যায় জাট ইয়া পাগলা দিওয়ানা’র (প্রতিজ্ঞা) মতো গান তো চিরসবুজ। অন্য শিল্পীরাও আমার ক্যারিয়ারে বিশাল অবদান রেখেছেন। সে কথা আমি কখনো ভুলবো না। তবে এটা ঠিক, সব শিল্পীর মধ্যে আমার কাছে রফিই বেশি প্রিয়।

সোনু নিগম
গায়ক
আমার কাছে রফি সাহেব হলেন ঈশ্বর। তার গান শুনেই আমি বড় হয়েছি। শৈশবে আমি তাকেই অনুকরণ করতাম। ‘জংলি’ ছবির ‘চাহে কোয়ি মুঝে জংলি ক্যাহে’ বা ‘বৈজুবাওরা’ ছবির ‘মন তড়পাত হরি দর্শনকো’–যে গানই শুনুন, রফির কণ্ঠ কিন্তু রফির মতোই শোনাবে। এই ব্যাপারটিই তাকে কিংবদন্তী বানিয়েছে।

pm-sanjeeva-reddy-gives-awa.jpg
প্রধানমন্ত্রী সঞ্জীব রেড্ডি পুরস্কার দিচ্ছেন রফিকে

মোহাম্মদ রফির গাওয়া কিছু হিন্দি ছবির গান

১. চালে আজ তুম জাহাঁসে, শিল্পী – মোহাম্মদ রফি, ছবি – উরান খাটোলা
২. ইয়ে হুসন্ র‌্যাহে মেরা ইশ্‌ক র‍্যাহে, রফি, দো দিল
৩. কাভি না কাভি, রফি, শারাবি
৪. ইয়ে হাসরাত থি, রফি, নওশেরওয়ান-ই-দিল
৫. কারাভান গুজার গ্যায়া, রফি, নয়ি উমর কি নয়ি ফসল
৬. মোহাব্বত জিন্দা র‌্যাহতি হ্যায়, রফি, চেঙ্গিস খান
৭. উস পার ইস দিওয়ারপে জো র‌্যাহতে হ্যায়, রফি, সাইয়াঁ
৮. তুঝে কেয়া সুনায়ু ম্যায় দিলরুবা, রফি, আখরি দাও
৯. মেরি কাহানি ভুলনে ওয়ালে, রফি, দিদার
১০. হাম তুম জিসে ক্যাহতা হ্যায়, রফি, কাগজ কি ফুল
১১. দেখো রুঠা না কারো, রফি ও লতা মঙ্গেশকর, তেরে ঘরকে সামনে
১২. দিলকা ভাঁওয়ার কারে পুকার, রফি, তেরে ঘরকে সামনে
১৩. এক ঘর বানাউঙ্গা, রফি ও লতা, তেরে ঘরকে সামনে
১৪. যব পেয়ার কিসিসে হোতা হ্যায়, রফি, যব পেয়ার কিসিসে হোতা হ্যায়
১৫. কাল কি দওলত, রফি, আসলি নকলি
১৬. পেয়ার কা সাজ ভি হ্যায়, রফি, আসলি নকলি
১৭. রামাইয়া ভাস্তাভাইয়া, রফি, লতা ও মুকেশ; শ্রী ৪২০
১৮. স সাল প্যাহলে, রফি ও লতা, যব পেয়ার কিসিসে হোতা হ্যায়
১৯. তেরি জুলফোসে জুদায়ি তো, রফি, যব পেয়ার কিসিসে হোতা হ্যায়
২০. তু কাহাঁ ইয়ে বাতা, রফি, তেরে ঘরকি সামনে
২১. তু গঙ্গাকি মওজমে, রফি ও লতা, বৈজু বাওরা
২২. তুঝে জীবনকি ডোর সে, রফি ও লতা, আসলি নকলি
২৩. ইয়াহা বদলা ওয়াফা কা, রফি ও নুরজাহান, জুগনু
২৪. ইয়ে জিন্দেগি কে মেলে, রফি, মেলা
২৫. মাঙ্গকে সাথ তুমহারা, আশা ভোঁসলে ও রফি, নয়া দওড়
২৬. উড়ে যব যব জুলফে তেরি, আশা ও রফি, নয়া দওড়
২৭. এক পরদেশি মেরা দিল লে গ্যায়া, আশা ও রফি, ফাগুন
২৮. সর যো তেরা চকরায়ে, রফি, পেয়াসা
২৯. দিল দে-কে দেখো, রফি, দিল দে-কে দেখো
৩০. লেকে প্যাহলা প্যাহলা পেয়ার ;রফি, শামসাদ বেগম ও আশা ; সিআইডি
৩১. তুমসা নেহি দেখা, রফি, তুমসা নেহি দেখা
৩২. কেয়া হুয়া তেরা ওয়াদা, রফি ও সুষমা শ্রেষ্ঠা, হাম কিসিসে কম নেহি
৩৩. হাম ইন্তেজার কারেঙ্গে, রফি ও আশা, বহু বেগম
৩৪. সুহানি রাত ঢল চুকে, রফি, দুলারি
৩৫. আজ মওসম বড়া বেঈমান হ্যায়, রফি, লোফার
৩৬. আনে সে উসকে আয়ে বাহার, রফি, জিনে কি রাহ্
৩৭. এক বানজারা গায়ে জীবনকে গীত, রফি, জিনে কি রাহ্
৩৮. চাহুঙ্গা ম্যায় তুঝে, রফি, দোস্তি
৩৯. মেরি দোস্তি তেরা পেয়ার, রফি, দোস্তি
৪০. কোয়ি যব রাহ্ না পায়ে, রফি, দোস্তি
৪১. যানে ওয়ালো, রফি, দোস্তি
৪২. ঝিলমিল সিতারোঁকা, রফি ও লতা, জীবন-মৃত্যু
৪৩. পাত্থর কে সনম, রফি, পাত্থর কে সনম
৪৪. উয়ো হ্যায় খাফা খাফা, রফি ও লতা, শাগির্দ
৪৫. ইউহি তুম মুঝসে বাত, রফি ও লতা, সাচ্চা ঝুঠা
৪৬. তেরে পেয়ারনে মুঝে গম দিয়া, রফি, ছাইলা বাবু
৪৭. মেরে দুশমন তু মেরি দোস্তিকো, রফি, আয়ে দিন বাহারকে
৪৮. আকেলে হু ম্যায় হামসফর, রফি, জাল
৪৯. তুম কমসিন হো নাদা হো, রফি, আয়ে তুফান
৫০. ও মাই লাভ, নজর না লাগ যায়ে, রফি, নাইট ইন লন্ডন
৫১. আঁখ মিলায়ে না মুসকুরায়ে না, রফি, মিলন কি রাত
৫২. মাস্ত বাহারো কো ম্যায় আশিক, রফি, ফার্জ
৫৩. গোরে হাথো পর না ঝুম কারো, রফি, পেয়ার কিয়ে যা
৫৪. বড়ে মিয়া দিওয়ানে, রফি, শাগির্দ
৫৫. দুনিয়া পাগল হ্যায়, রফি, শাগির্দ
৫৬. যব যব বাহার আয়ি, রফি, তকদির
৫৭. আয়ি বাহারো কি শাম, রফি, ওয়াপাস
৫৮. দূর হ্যায় ও আঁচল, রফি, ওয়াপাস
৫৯. গুড়িয়া সি মেরি, রফি, ওয়াপাস
৬০. ও ফিরাকি ওয়ালে তু কাল ফির আনা, রফি, রাজা অওর রানি
৬১. মেহবুবা মেহবুবা বান্দো মুঝে, রফি, সাধু অওর শয়তান
৬২. না যা কাহি আব না যা, রফি, মেরে হামদম মেরে দোস্ত
৬৩. ছলকায়ে জাম আয়ে আপকে, রফি, মেরে হামদম মেরে দোস্ত
৬৪. হুয়ি শাম উনকা খায়াল, রফি, মেরে হামদম মেরে দোস্ত
৬৫. কেয়া মিলিয়ে অ্যায়সে লোগোসে, রফি, ইজাজত
৬৬. ম্যায় রাহি আনজান গীতোকা, রফি, আনজানা
৬৭. মেরি মোহাব্বত তেরি জওয়ানি, রফি, আনজানা
৬৮. ইয়ে শামা তো জ্বলি, রফি, আয়া সাওন ঝুমকে
৬৯. মাঝি চল মাঝি, রফি, আয়া সাওন ঝুমকে
৭০. বুরা মত সুনো বুরা মত দেখো, রফি, আয়া সাওন ঝুমকে
৭১. ইয়ে রেশমি জুলফে, রফি, দো রাস্তে
৭২. যো উনকি তামান্না হ্যায়, রফি, ইনতিকাম
৭৩. মেরে দেসমে পবন চলে, রফি, জিগরি দোস্ত
৭৪. সাজন সাজন পুকারু গালিয়োঁমে, রফি, সাজন
৭৫. কোয়ি নজরানা লেকার আয়া, রফি, আ মিলো সাজনা
৭৬. আয়ারে খিলোনে ওয়ালা, রফি, বাচপান
৭৭. শাদি কে লিয়ে রাজা, রফি, দেবী
৭৮. অ্যায় শুকুর কে হ্যায়, রফি, হিম্মত
৭৯. খিলোনা জানকার তুম তো মেরি, রফি, খিলোনা
৮০. খুশ র‌্যাহে তু সদা, রফি, খিলোনা
৮১. চালি মেরি দুলহান কি ডোরি, রফি, দর্পণ
৮২. দিল কাহে রুক যারে, রফি, মান কি আঁখে
৮৩. হাম বেখুদিমে তুমকো, রফি, কালাপানি
৮৪. হুসন্ ওয়ালে তেরা, রফি, ঘরানা
৮৫. ডাফলিওয়ালে ডাফলি বাজা, রফি ও লতা, সরগম
৮৬. আচ্ছা জি ম্যায় হারি চালো, কালা পানি
৮৭. বাবুলকি দুয়ায়ে লেতি যা, রফি, নীলকমল
৮৮. তেরে মেরে সপ্নে আব এক রং, রফি, গাইড
৮৯. কেয়া হুয়া তেরা ওয়াদা, রফি, নয়া দওড়
৯০. মেরা মন তেরা পেয়াসা, রফি, গ্যাম্বলার
৯১. মেরে মেহবুব তুঝে, রফি, মেরে মেহবুব
৯২. ধীরে ধীরে চল, রফি, লাভ ম্যারিজ
৯৩. আঁখো হি আঁখোমে, রফি, সিআইডি
৯৪. চালো দিলদার চালো, রফি, পাকিজা
৯৫. মন তড়পতা হরি দর্শন, রফি, বৈজু বাওরা
৯৬. ওয়াদা কারলে সাজনা, রফি, হাথ কি সাফাই
৯৭. যো ওয়াদা কিয়া ও নিভানা পড়েগা, রফি, তাজমহল
৯৮. মধুবনমে রাধিকা, রফি, কোহিনুর
৯৯. যো বাত তুঝমে হ্যায়, রফি, তাজমহল
১০০. বদনপে সিতারে লাপিটে হুয়ে, রফি, প্রিন্স
১০১. বহত শুকরিয়া, রফি, এক মুসাফির এক হাসিনা
১০২. তুম মুঝে ইউ ভুলা না পায়োগে, রফি, পাগলা কাহি কা
১০৩. নানহে মুনহে বাচ্চে তেরি, রফি, বুটপলিশ
১০৪. অ্যায় ফুলোকি রানী, রফি, আরজু
১০৫. আকেলে আকেলে কাহা যারাহেহো, অ্যান ইভিনিং ইন প্যারিস
১০৬. নাচে মন মোরা তেরা মগন, রফি, মেরি সুরত তেরি আঁখে
১০৭. জারা সামনে তো আও, রফি ও লতা, জনম জনম কে পেয়ার
১০৮. লাগি ছুটে না, লতা ও রফি, কালি টোপি লাল রুমাল
১০৯. দো সিতারোকা জমিন, লতা ও রফি, কোহিনুর
১১০. দিল তেরা দিওয়ানা, লতা ও রফি, দিল তেরা দিওয়ানা
১১১. মুঝে কিতনা পেয়ার, রফি ও লতা, দিল তেরা দিওয়ানা
১১২. আওয়াজ দেকে, রফি ও লতা, প্রফেসর
১১৩. পায়ো ছু লেনেদো, রফি ও লতা, তাজমহল
১১৪. এক শাহেনশানে, লতা ও রফি, লিডার
১১৫. দিল পুকারে আ রে আ রে, লতা ও রফি, জুয়েল থিফ
১১৬. রিমঝিম কে গীত, লতা ও রফি, আনজানা
১১৭. উয়ো হ্যায় খাফা খাফা, লতা ও রফি, শাগির্দ
১১৮. নি সুলতানারে, রফি ও লতা, পেয়ার কা মওসম
১১৯. রেশম কি ডোরি, লতা ও রফি, সাজন
১২০. মেরে মিতওয়া মেরে মিত রে, রফি ও লতা, গীত
১২১. মুঝসে ভালা ইয়ে কাজল, রফি ও লতা, দ্য ট্রেন
১২২. কিতনা পেয়ারা ওয়াদা, লতা ও রফি, ক্যারাভান
১২৩. জনম জনম কা সাথ, রফি ও লতা, ভিগি পালকে
১২৪. ইতনা তো ইয়াদ হ্যায় মুঝে, রফি ও লতা, মেহবুব কি মেহেদি
১২৫. কুছ ক্যাহতা হ্যায় ইয়ে সাওন, লতা ও রফি, মেরা গাঁও মেরা দেস
১২৬. আঠারা বরস কি, লতা ও রফি, সুহাগ
১২৭. পর্বত কে ইস পার, লতা ও রফি, সরগম
১২৮. কোয়েল বোলি, লতা ও রফি, সরগম
১২৯. তেরে মেরে ইয়ারানে, রফি ও লতা, নাগিন
১৩০. পাত্তা পাত্তা বুটা বুটা, লতা ও রফি, এক নজর
১৩১. তুমসে দূর র‌্যাহকে, রফি ও লতা, আদালত
১৩২. দিওয়ানে হ্যায় দিওয়ানোকো, রফি ও লতা, জঞ্জির
১৩৩. ম্যায় তুঝসে মিলনা আয়ি, লতা ও রফি, হীরা
১৩৪. তেরে ন্যায়নো কে দীপ, রফি ও লতা, অনুরাগ
১৩৫. চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে, রফি ও আশা ভোঁসলে, ইয়াদো কি বরসাত
১৩৬. আভি না যায়ো ছোড়কার.রফি ও আশা
১৩৭. আচ্ছা জি ম্যায় হারি, আশা ও রফি
১৩৮. ও হাসিনা জুলফোওয়ালে, রফি ও আশা, তিসরি মঞ্জিল
১৩৯. দিওয়ানা হুয়া বাদল, রফি ও আশা, কাশ্মির কি কলি
১৪০. গুনগুনা র‌্যাহে, আশা ও রফি, আরাধনা
১৪১. ও মেরে সোনা রে, আশা ও রফি, তিসরি মঞ্জিল
১৪২. হামদম মেরে, আশা ও রফি
১৪৩. চানাচুর গরম; রফি, লতা, কিশোর ও মুকেশ; ক্রান্তি
১৪৪. সারফারোশি কি তামান্না; রফি, মান্না দে ও রাজেন্দ্র ভাটিয়া; শহীদ
১৪৫. বনে চাহে দুশমন, কিশোর কুমার ও রফি, দোস্তানা
১৪৬. এক রাস্তা দো রাহি, রফি ও কিশোর, রামবলরাম
১৪৭. সারেগামা, রফি ও কিশোর কুমার, চুপকে চুপকে
১৪৮. হাম ঝুট বোলতে হ্যায়, রফি ও কিশোর, ঈমানধরম
১৪৯. জানু মেরি জান ; রফি, আশা ও কিশোর, শান
১৫০. হামকো তুমসে হো গ্যায়া হ্যায় পেয়ার ; রফি, কিশোর, মুকেশ, লতা ও আশা, অমর আকবর অ্যান্টনি
১৫১. দেখি জামানে কি ইয়ারি, রফি, কাগজ কি ফুল
১৫২. ইয়ে দুনিয়া আগার মিল ভি যায়ে, রফি, পেয়াসা
১৫৩. ইয়ে দুনিয়া ইয়ে মেহফিল, রফি, হীর রান্ঝা
১৫৪. কার চালে হাম ফিদা, রফি, হাকিকত
১৫৫. ম্যায়নে পুছা চান্দসে, রফি, আব্দুল্লাহ
১৫৬. পুকারতা চালা হু ম্যায়, রফি, মেরে সনম
১৫৭. খোয়া খোয়া চাঁদ, রফি, কালা বাজার
১৫৮. সালাম কি যিয়ে জনাব আয়ে হ্যায়, রফি, আন্ধি
১৫৯. অ্যায় ওয়াতন, রফি, শহীদ
১৬০. এহসান তেরা হোগা মুঝপর, রফি, জংলি
১৬১. কিসকো পেয়ার কারু, রফি, তুমসে আচ্ছা কওন হ্যায়
১৬২. ইয়ে পর্দা হাটাদো, রফি ও আশা, এক ফুল এক মালি
১৬৩. ইয়ে বাদিয়া ইয়ে ফিজায়ে, রফি, আজ অওর কাল
১৬৪. ইয়ে মেরা প্রেমপত্র পড়কার, রফি, সঙ্গম
১৬৫. ইয়াদ না যায়ে বিতে দিনোকি, দিল এক মন্দির
১৬৬. ঈশ্বর আল্লাহ্ তেরে নাম, রফি, নয়া রাস্তা
১৬৭. তুম কমসিন হো, রফি, আয়ি মিলনকি বেলা
১৬৮. তুম বিন যায়ু কাহা, রফি, পেয়ার কা মওসম
১৬৯. তু হিন্দু বনো না মুসলমান, রফি, ধূল কা ফুল
১৭০. তেরি বিন সুনে ন্যায়ন হামারে, রফি, মেরি সুরত তেরি আঁখে
১৭১. তেরি পেয়ারি পেয়ারি সুরতকো, রফি, সসুরাল
১৭২. তেরি বিন্দিয়ারে, রফি, অভিমান
১৭৩. তেরা খিলোনা টুটা বালক, রফি, আনমোল ঘড়ি
১৭৪. তসবির তেরে দিলমে, রফি, মায়া
১৭৫. তসবির বানাতা হু, রফি, দিওয়ানা
১৭৬. তারিফ কারু ক্যায়া উসকি, রফি, কাশ্মির কি কলি
১৭৭. রাহা গর্দিশোমে হারদম, রফি, দো বদন
১৭৮. পরদেসিয়োসে না আঁখিয়া মিলানা, রফি, যব যব ফুল খিলে
১৭৯. ও দুনিয়াকো রাখোয়ালে, রফি, বৈজুবাওরা
১৮০. ম্যায় গায়ু তুম সো যায়ো, রফি, ব্রক্ষ্মচারি
১৮১. মনরে তু কাহে না, রফি, চিত্রলেখা
১৮২. কেয়া দেখতেহো সুরত তুমহারি, রফি ও আশা, কুরবানি
১৮৩. খুশ র‌্যাহে তু সদা, রফি, খিলোনা
১৮৪. খুলি পলকমে ঝুটা গুস্সা, রফি, প্রফেসর
১৮৫. কওন হ্যায় যো সপ্নোমে আয়া, রফি, ঝুক গ্যায়া আসমান
১৮৬. কাভি না কাভি, রফি, শারাবি
১৮৭. হ্যায় দুনিয়া উসিকি, রফি, কাশ্মির কি কলি
১৮৮. গুলাবি আঁখে, রফি, দ্য ট্রেন
১৮৯. দিন ঢল যায়ে, রফি, গাইড
১৯০. দিল পুকারে, রফি, জুয়েল থিফ
১৯১. দিলমে ছুপাকে পেয়ারকা, রফি, আন
১৯২. দিলকে ঝড়োকেমে তুঝকো, রফি, ব্রক্ষ্মচারি
১৯৩. ধীরে ধীরে চল, রফি, লাভ ম্যারিজ
১৯৪. দিওয়ানা মুঝসা নেহি, রফি.তিসরা মঞ্জিল
১৯৫. চওদভিঁকা চান্দ হো, রফি, চওদভিঁকা চান্দ
১৯৬. চালেথে সাথ মিলকে, রফি, হাসিনা মান যায়েগি
১৯৭. চল উড় যা রে পঞ্ছি, রফি, ভাবী
১৯৮. চাহে কোয়ি মুঝে জংলি ক্যাহে, রফি, জংলি
১৯৯. বান্দা পারওয়ার, রফি, ফির ওহি দিল লায়া হু,
২০০. বাহারো ফুল বরসায়ো, রফি, মেরি সুরজ
২০১. বাবুল কি দুয়ায়ে, রফি, নীলকমল
২০২. বারবার দেখো হাজারবার দেখো, রফি, চায়না টাউন
২০৩. আকেলা হু ম্যায় ইস দুনিয়ামে, রফি, বাত এক রাতকি
২০৪. আযা পঞ্ছি আকেলা হ্যায়, রফি, ন দো গ্যায়ারা
২০৫. আযারে আ জারা আ, রফি, লাভ ইন টোকিও
২০৬. আপকি হাসিন রুখপে, রফি, বাহারে ফিরভি আয়েঙ্গি
২০৭. আপনে ইয়াদ দিলাদি, রফি, আরতি

mohd-rafi-with-a-baby.jpg
শিশুকোলে রফি

বাংলা গান ও গজল

হিন্দি, ঊর্দ্দু, পাঞ্জাবি, মারাঠি, সিন্ধি, গুজরাটি, তেলেগু, কান্নাড়া…ভারতে প্রচলিত অনেকগুলো ভাষাতেই গান গেয়েছেন মোহাম্মদ রফি। এখানে তাঁর গাওয়া কিছু বাংলা গান ও হিন্দি ছবির বাইরের কিছু গজল

বাংলা

আজো মধুর বাঁশরি বাজে – নজরুলগীতি
আধো আধো বোল – নজরুলগীতি
আলগা করগো খোঁপার বাঁধন – নজরুলগীতি
ব্রজগোপী খেলে হরি – নজরুলগীতি
চেয়োনা সুনয়না – নজরুলগীতি
পাষানের ভাঙ্গালে ঘুম – নজরুলগীতি
তোমার হাতের সোনার রাখি – নজরুলগীতি
উচাটন মন ঘরে রয়না – নজরুলগীতি
এখনি বিদায় বলোনা, গীতিকার গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার, সুরকার সতিনাথ মুখোপাধ্যায়
না না না পাখিটার বুকে যেন তীর মেরোনা, গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার, সতিনাথ মুখোপাধ্যায়
তোমার নীল দোপাটি চোখ, গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার, সতিনাথ মুখোপাধ্যায়
এবার তাহলে আমি যাই, গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার, সতিনাথ মুখোপাধ্যায়
গুলমোহরের ফুল ঝড়ে যায় – মুকুল দত্ত বসু মন হরি
কোন চালবাজের মুখে – মুকুল দত্ত বসু মন হরি
কথা ছিল দেখা হলে – প্রনব রায়, বিনোদ চট্টোপাধ্যায়
নাইবা পরিলে আজ মালা – প্রনব রায়, বিনোদ চট্টোপাধ্যায়
তার চোখে নেমে আসা – মুকুল দত্ত বসু মন হরি
তোমাদের আশীর্বাদে এই শতদল – মুকুল দত্ত বসু মন হরি
এ জীবনে যদি আর কোনোদিন, গীতিকার ও সুরকার – অজ্ঞাত
ওই দূর দিগন্তের পারে, গীতিকার ও সুরকার – অজ্ঞাত

গজল

দো ঘড়ি ব্যায়ঠো, গীতিকার – অজ্ঞাত, সুরকার – শ্যাম সাগর
ম্যায় কব গাতা মেরে মন – অজ্ঞাত, শ্যাম সাগর
আরমান মাচাল র‌্যাহে হ্যায়, হাকিম ইউসুফ ঝুনঝুনি, জামাল সেন
তেরি তো চান্দ সিঁতারো – মুজাফ্ফর শাহজাহানপুরি, ইকবাল কোরেশি
ম্যায়নে সোচাথা আগার, নয়া শর্মা, বাবুল
কেয়া ইয়াদ তুমে আয়েঙ্গে হাম, গীতিকার ও সুরকার – অজ্ঞাত
তুম গীত হো সোলভা সাওনকে, গীতিকার ও সুরকার – অজ্ঞাত
পাগল ন্যায়না সাগরি র‌্যায়না, গীতিকার ও সুরকার – অজ্ঞাত
ইয়ে না থি হামারি কিসমত, মির্জা গালিব, খৈয়াম
পুছো না মুঝসে, জাঁনিসার আখতার, খৈয়াম
ফালসাফে ইশক্ মে – সুদর্শন ফকির, তাজ আহমেদ খান
বাস কে দুশওয়ার হ্যায়, মির্জা গালিব, খৈয়াম
জিক্র উস পরিওয়াসকা, মির্জা গালিব, খৈয়াম
এক হি বাত, সুদর্শন ফকির, তাজ আহমেদ খান
মেরি মোহাব্বত, খায়ের জামান, খৈয়াম
গজব কিয়া তেরি ওয়াদাপে, দাগ দেহলভি, খৈয়াম
কিতনি রাহাত হ্যায় দিল, শামিম জয়পুরী, তাজ আহমেদ খান
নুকতাচিন হ্যায়, মির্জা গালিব, খৈয়াম
আয়ে তাজা ওয়ারিদা-ই-বিসাত-ই হাওয়ায়ে দিল, মির্জা গালিব, খৈয়াম
দিল কি বাত ক্যাহি নেহি, মীর তকি মীর, তাজ আহমেদ খান
দর্দ মিন্নাত, মির্জা গালিব, খৈয়াম
মুদ্দত হুয়ি হ্যায়, মির্জা গালিব, খৈয়াম
দিয়া এ দিল আগার, মির্জা গালিব, তাজ আহমেদ খান
কাদ-ও – গেসু, মির্জা গালিব, খৈয়াম
সাকি কি হার নিগাহ পে, জিগার মোরাদাবাদি, তাজ আহমেদ খান
হ্যায় মেহমান কাহা, দাগ দেহলভি, তাজ আহমেদ খান
শওক হার রং, মির্জা গালিব, তাজ আহমেদ খান
না শওক-ই-ওয়াসল, আমীর মিনায়ী, তাজ আহমেদ খান
ইউ বেখুদিসে কাম সাবা আফগানী, ইশবাল কুরেশি
ক্কাশ খাবোমেহি, ন্যায়া শর্মা, বাবুল
জিনেকা রাজ ম্যায়নে, মুজাফ্ফর শাহজাহানপুরি, ইকবাল কুরেশি
যব তেরে পেয়ারকা আফসানা, আয়েশ কানওয়াল, মকবুল-ইকবাল হুসেন
কিসিকি ইয়াদমে পায়ি হ্যায়, নাক্শ লায়ালপুরি, মকবুল-ইকবাল হুসেন
তোড় দো অ্যায়েদ-এ – মোহাব্বত, আয়েশ কানওয়াল, মকবুল-ইকবাল হুসেন
আজ ইস খাতমে নয়ী বাত, আয়েশ কানওয়াল, মকবুল-ইকবাল হুসেন
ঘাটা হ্যায় বাগ হ্যায়, কে মহিন্দর সিং বেদি, মোহাম্মদ রফি
উঠা সুরাহি এ শিশা, কে মহিন্দর সিং বেদি, মোহাম্মদ রফি
চালে আ রাহে হ্যায় উয়ো, কে মহিন্দর সিং বেদি, মোহাম্মদ রফি
খুদাহি জানে ইয়ার আয়ে না আয়ে, কে মহিন্দর সিং বেদি, মোহাম্মদ রফি
ম্যায়নে যবসে তুঝে, সাবা আফগানি, তাজ আহমেদ খান
আ যা মেরে কারিব, নাক্শ লায়ালপুরি, রাজেশ্বর পাল
ম্যায় দ্বীপ জালায়ে ব্যায়ঠাহু, নাক্শ লায়ালপুরি, রাজেশ্বর পাল
ব্যায়ঠে হ্যায়, প্রচলিত, এম এল সোনিক
জ্বালো ওয়াক্ত, জিগার মোরাদাবাদি, তাজ আহমেদ খান
হামকো মিটা সাকে ইয়ে, জিগার মোরাদাবাদি, তাজ আহমেদ খান
হাসা গগন বিচ রোয়ে, শ্যাম শর্মা, শ্যাম শর্মা
ক্যাহকে ভি না আয়ে, লক্ষণ শাহাবাদি, শ্যাম শর্মা
প্যায়ার কিসিকা গাতা হ্যায়, গীতিকার ও সুরকার – অজ্ঞাত
মেরে লিয়ে তো বাস এহি, অজ্ঞাত, শ্যাম সাগর
পেয়ার নদীকে দ্বীপ জ্বালায়ে, গীতিকার ও সুরকার – অজ্ঞাত
শ্যামকে দিপক জ্বলে, গীতিকার ও সুরকার – অজ্ঞাত
পাগল চান্দা মেরে মনকি, গীতিকার ও সুরকার – অজ্ঞাত

ashishcb95@gmail.com


6 Responses

  1. আসাদ says:

    সংগীত যতদিন থাকবে মোহাম্মদ রফি ততদিন থাকবেন। আমাদের সৌভাগ্য যে রফি কিছু বাংলা গান গেয়েছেন, বিশেষ করে তার নজরুলগীতিগুলো অসাধারণ।

  2. tania says:

    মোহাম্মদ রফিকে নিয়ে অনেক অজানা তথ্য এই লেখার মাধ্যমে জানতে পারলাম। হিন্দি সিনেমার স্বর্ণালী সময়ের গান মানেই রফির গান। সত্যিই তিনি অতুলনীয়। অনন্য। অসাধারণ।

  3. Md. Amdad Hossen says:

    আমি শিল্পী ’রফি’ কে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আমার সশ্রদ্ধ সালাম জানাই। আমি রফি’র একজন গুণমুগ্ধ ভক্ত এবং শ্রোতা। এই লেখার মাধ্যমে আমি তাঁর সম্বন্ধে অনেক কিছু জেনেছি এবং যুগপৎ রোমাঞ্চিত ও শিহরিত হয়েছি। লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ।

    Md. Amdad Hossen

  4. Md. Amdad Hossen says:

    হেমন্ত, লতা সহ আরও বিখ্যাত সংগীত ব্যক্তিত্বের এ ধরনের বিস্তারিত জীবনী সংযুক্ত করা হলে খুশি হব।

    Md. Amdad Hossen

  5. অসাধারণ লেখার জন্য লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ। অন্যান্য কিংবদন্তী শিল্পীদের জীবনী আশা করছি।

  6. মিতুল দত্ত says:

    বিরাট কাজ করেছেন তো আশীষ…খুব ভালো লাগল…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.