অনুবাদ গল্প

হোর্হে লুইস বোর্হেসের প্যারাবোল : স্বপ্নবাঘেরা

আবদুস সেলিম | 12 May , 2017  

Tigerশৈশব থেকে বাঘ নিয়ে আমার অন্তহীন আবেগাকীর্ণ আরাধনা ছিল: না, পারানা নদীর পাড়ের হলদে বাঘ নয় কিংবা আমাজনের বড় বড় লোমঅলা বাঘও নয়, এশিয়ার সেই রাজকীয় বাঘ, যাদের শুধুমাত্র কেল্লাবাসী অস্ত্রবাজ হাতী-সওয়ার শিকারীরাই শিকার করতে পারে। আমি চিড়িয়াখানার বাঘেদের খাঁচাগুলোর সামনে সীমাহীন ঘোরাঘুরি করতাম: ভারি ভারি জ্ঞানকোষ আর নিসর্গের তথ্যাকীর্ণ বইয়ে তন্নতন্ন করে খুঁজে বের করার চেষ্টা করতাম ঐসব চিড়িয়াখানার বাঘেদের চমৎকৃতির ইতিবৃত্ত। (আমার স্মৃতিতে এখনও সেইসব পরিচ্ছন্ন সচিত্র বর্ণনা অত্যুজ্জল– সেই আমি যার স্মৃতি রোমন্থনে উঠে আসে না কোনো সুন্দরী নারীর লাস্যময় স্মিত হাসি।) আমার শৈশব-অন্তে সেই আবেগ-বিধুর বাঘেরা হয়ে গেল বিবর্ণ, স্থিত হলো আমার স্বপ্নে। এক অবচেতনে কিংবা বিশৃঙ্খল ব্যাপ্তিতে তাদের অস্তিত্ব এখন, কিন্তু স্থায়ী হলো অনড় অবস্থানে ঠিক এভাবে: আমার ঘুমের ভেতর কোনো-না-কোনো স্বপ্ন আমাকে করে উথাল-পাথাল আর আচমকা অনুভব করি আমি তো স্বপ্নই দেখছি। আর সেই সব মুহূর্তে আমি ভাবতে চেষ্টা করি: এ তো শুধুই স্বপ্ন, আমারই মনের কল্পিত আকাঙক্ষার রূপ; আর যেহেতু আমার শক্তি অপরিসীম, আমার সেই স্বপ্নবাঘ আমি সৃষ্টি করব নিশ্চয় একদিন।

নিদারুণ অক্ষমতা! আমার স্বপ্নকল্প কখনই জাদুবাস্তবতায় প্রাণ খুঁজে পেল না। বাঘ এক জন্মাল ঠিক কিন্তু সে এক দুর্গত অসহায় প্রাণী, সে এক খড়ের বাঘ, গড়নে-মননে বেমানান, আকারে অসমঞ্জস, ক্ষণে দৃশ্যমান, কিংবা সম্ভবত সারমেয় এক, কিংবা খেচর কোনো।

Flag Counter


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.