সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: রোবট লিখবে হাইব্রিড উপন্যাস?

বিপাশা চক্রবর্তী | ৭ এপ্রিল ২০১৬ ৭:১৭ অপরাহ্ন

চলে গেলেন ইমরে কারতেজ, গণহত্যায় বেঁচে যাওয়া নোবেল বিজয়ী
imre.jpgইমরে কারতেজ হাঙ্গেরিয় ঔপন্যাসিক যার কথাসাহিত্যে চিত্রিত হয়েছে নাৎসি বাহিনীর মৃত্যুশিবিরে বন্দী হিসেবে কাটানো তার অসহনীয় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। দীর্ঘ অসুস্থতার পর গত ৩১ মার্চ হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে নিজ বাসভবনে ৮৬ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একজন ইহুদী হিসেবে নাৎসি দ্বারা তাড়িত হওয়া, পরবর্তীতে একজন লেখক হিসেবে দমনমূলক হাঙ্গেরিয় কমিউনিস্ট শাসনের অধীনে বাস, সর্বোপরি বিংশ শতকের সবচেয়ে তীব্র যাতনার স্মৃতি পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষরূপে অথচ অতি সূক্ষ্মভাবে তাঁর গদ্যে বর্ণিত হয়েছে।
সুইডিশ নোবেল একাডেমীর মতে, তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও লেখনী ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বর ও নির্বিচার সময়কে ধারন করেছিল আর এজন্যই তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালে ১৪ বছর বয়সে কারতেজ অন্যান্য হাঙ্গেরিয় ইহুদীদের সাথে আউসভিস বন্দীশিবিরে আটক ছিলেন। সেখান থেকে তাদেরকে বাচেনওয়াল্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। আউসভিস, বাচেনওয়াল্ড এবং জিতেজের বন্দিশিবিরের ঘটনাবলীকে কেন্দ্র করে তিনি রচনা করেন তাঁর আলোচিত উপন্যাস ফেটলেসনেস
ইতিহাসের তিক্ততাপূর্ণ অভিজ্ঞতালব্ধ জীবনযাত্রাকে কথাসাহিত্যের মাধ্যমে তুলে আনায় ২০০২ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জয় করেন ।
ফেটলেসনেস ছাড়াও তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে, কাদ্দিস ফর এ চাইল্ড নট বর্ন, কাদ্দিস ফর এন আনবর্ন চাইল্ড, ফিয়াসকো, লিকুইডেশন, দ্য হলোকাস্ট এজ কালচার, ডিটেকটিভ স্টোরি ইত্যাদি।
তাঁর কাজগুলো বারবার ফিরে গেছে এডলফ ইটলারের তৃতীয় রাইখের সময়কালে। ঘুরে ফিরে বর্ণিত হয়েছে সেই সময়কার অভিজ্ঞতা আর স্মৃতি। জার্মান অধিকৃত পোল্যান্ড শিবির আউসভিসের কথা যেখানে এক মিলিয়নের অধিক ইহুদী আর অন্যান্য ভুক্তভোগীদের হত্যা করা হয়েছে।
মৃত্যুর আগে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পারকিনসন রোগে ভুগছিলেন। কাকতালীয়ভাবে ২০১৩ সালে ‘প্যারিস রিভিউ’ পত্রিকায় দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরে কারতেজ নিজের মৃত্যু সম্পর্কে বলেছিলেন, “ হ্যাঁ, আমি মেনে নিয়েছি যদিও আমি নিশ্চিত নই অসুস্থতা অথবা আমার কাজ কোনটা এখনই আমার মৃত্যুর কারন হবে। ঠিক আছে, আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি ততদূর যাওয়ার যতটুকু আমার পক্ষে সম্ভব। অবশ্যই এটা ঠিক যে, ইতিহাসের সাথে আমার যে বোঝাপড়া অন্তত এই কারনে ইতিহাসের কোন আক্রমনে আমি এখনও আমি মারা যাইনি। তবে আমার মনে হচ্ছে, ইতিহাসের বদলে একটি বুর্জোয়া রোগে আমার মৃত্যু হবে। পারকিনসনের মতো ভীষণ রকম একটি বুর্জোয়া রোগেই আমি মারা যাব”।

জন্মদিনে আবারো আলোচনায় মারিও বার্গাস যোসা
mario-vargas.jpgলেখকরা কদাচিৎ সংবাদ হয়ে ওঠেন। কিন্তু মারিও বার্গাস যোসার ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ছিল তার প্রথম উপন্যাস শহর ও সারমেয় প্রকাশের পর থেকেই। এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে তিনি স্প্যানিশ সাহিত্যে রীতিমত সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন, বয়স তখন তার মাত্রই ২৬। বইটির স্প্যানিশ নাম হচ্ছে লা সিউদাদ ই লোস পেররোস (১৯৬৩) । ঐ বছরই তা জিতে নেয় স্পেনের সম্মানজনক বিবলেওতেকা ব্রেবে পুরস্কার। ২০১০ সালে নোবেল বিজয়ে বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমে সংবাদের শিরোনাম হয়েছিলেন। আর ২০১৫ সালে ৭৯ বছর বয়সে এই নোবেলজয়ী লেখক সংবাদ হয়েছিলেন স্পেনের বিখ্যাত মডেল তারকা ইসাবেল প্রেইসলারের সাথে জুটি বেঁধে। ও হ্যাঁ, সত্তরের দশকে তিনি আরও একবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছিলেন তার এককালের জানে-দোস্ত, আরেক নোবেলজয়ী লেখক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসকে মেহিকোর এক থিয়েটার-হলে ঘুষি মেরে।
আর এবার তার আশিতম জন্মদিনে সংবাদ হলেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর টুইটের জবাব দিতে গিয়ে। কী বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী? মারিওকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজই এক টুইট বার্তায় বলেন-
“মারিও বার্গাস যোসাকে অভিনন্দন। ৮০ বছর বয়সী! আমাদের একমাত্র জীবিত নোবেল পুরস্কারবিজয়ী। স্বাধীনতার রক্ষক। স্পেন ও গোটা আমেরিকার গর্ব”।(Felicidades a Mario Vargas Llosa ¡80 años! Nuestro único Premio Nobel vivo. Defensor de la libertad, orgullo de España y de toda América. MR)

twit.jpg
উত্তরে যোসা তার টুইটার একাউন্ট থেকে বলেছেন-
“অনেক ধন্যবাদ। কিন্তু আমি নিশ্চিত করে বলতে চাই, প্রথমত আমি পেরুর এবং একজন পেরুভীয় লেখক”। (Gracias. Pero deseo afirmar que soy ante todo un peruano. Y un escritor peruano.)

যোসার এই উত্তরের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন গভীর দেশপ্রেম অন্যদিকে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভই কি প্রকাশিত হলো?
দক্ষিন আমেরিকার দেশ পেরুর আরেকিপা শহরে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে ১৯৩৬ সালের ২৮ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন মারিও বার্গাস যোসা। পেরু দেশটি ষোড়শ শতক থেকে উনিশ শতকের গোড়া পর্যন্ত স্প্যানের উপনিবেশ ছিল। ইনকা সাম্রাজ্যের পতনের পাশাপাশি দীর্ঘকাল ঔপনেবিশক শোষণ ও শাসনের ফলে সে দেশে স্প্যানিশ ভাষাটাও প্রতিষ্ঠিত হয়। সংখ্যালঘু অভিজাত স্প্যানিয় শ্রেণী শাসন করে সংখ্যাগুরু আমেরিকান আদিবাসীদের।
এর ফলে পেরুতে সৃষ্টি হয় শ্রেণী ও জাতিগত বৈষম্য যা আজও বিরাজমান। আগেই বলেছি যোসার প্রথম উপন্যাস ‘শহর ও সারমেয়’ যা ইংরেজী অনুবাদে ‘ দ্য টাইম অফ দ্য হিরো’ নামে প্রকাশিত হয়েছিল; এটি তৎকালীন পেরুর মিলিটারী একাডেমীর প্রেক্ষাপটে রচিত। এখানে তিনি কিছুকাল অধ্যয়ন করেছিলেন। বিক্ষুব্ধ সামরিক বাহিনী বইটির এক হাজার কপি পুড়িয়ে দিয়ে যোসার প্রতিবাদী কন্ঠস্বরকে যেন আরো জোরালো করে তোলে। সেই থেকে সূত্রপাত, এরপর থেকে মারিও বার্গাস যোসার প্রতিটি লেখনী রাষ্ট্রযন্ত্রের মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড, সামরিক বাহিনীর দাপট, মুনাফালোভী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছে। রাজনৈতিক সমাজচেতনামূলক কথাসাহিত্যের কারনে তাঁকে ‘ল্যাটিন আমেরিকার রাজনৈতিক বিবেক’ বলা হয়। তাঁর অধিকাংশ রচনা পেরুর জাতীয় ও সামাজিক পেক্ষাপটে রচিত হলেও ক্রমশ তা সারা বিশ্বব্যাপী বিংশ শতকের মানুষের রাজনৈতিক অসহায়ত্ব ও বিপন্নতাকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়। রাজনৈতিক সচেতনতার কারনে সমাজ পরিবর্তনের এক অনমনীয় ইচ্ছে থেকে তিনি আশির দশকের শেষদিকে সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৯০ সালে পেরুর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। এই পরাজয়ে বিক্ষুব্ধ যোসা স্পেনে অভিবাসন গ্রহণ করেন। এবং টানা সাত বছর পেরুতে ফিরে আসেননি। যদিও পরে তাঁর মনে হয়েছে এই সিদ্ধান্তটা ঠিক ছিল না। তবুও তিনি সেই অতি কমসংখ্যক সাহিত্যিকদের একজন যিনি সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের সবচেয়ে কাছাকাছি গেছেন। বর্তমানে যোসা ক্ষমতালাভের রাজনীতির সাথে জড়িত না থাকলেও রাজনৈতিক চেতনা সৃষ্টি ও দ্রোহের গভীর অনুপ্রাণন তাঁর কথাসাহিত্যের মূল প্রতিপাদ্য হয়ে আছে। তিনি মনে করেন রাজনীতি কেবল রাজনীতিবিদদের নয়, লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীরাও রাজনীতিতে গভীর অবদান রাখতে সক্ষম। বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতিকে এড়িয়ে থাকার অবকাশ নেই। বর্তমান সমাজের প্রধান সমস্যা সহনশীলতার অভাব যার দরুন গণতন্ত্র আর গণতন্ত্র থাকছে না। আর একবিংশ শতকের মূল আন্তর্জাতিক সমস্যা সন্ত্রাসবাদের উৎপত্তি উগ্রপন্থা থেকে মনে করেন। এই পন্থার অনুসারীরা নিজের বিশ্বাসকে এক ও অদ্বিতীয় সত্য ধরে নিয়ে বিপরীত বিশ্বাসকে ধ্বংসের নীতিতে কাজ করে। আর এ সবকিছুর মূলে তিনি বিশ্বব্যাপী ক্ষমতাসীনদের ভ্রষ্ট রাজনীতিকে দায়ী করেন।

সাহিত্য কি রোবটদের দখলে চলে যাবে?
file.jpegঅতিসম্প্রতি জাপানে একটি সাহিত্য বিষয়ক প্রতিযোগিতায় মানুষের পাশাপাশি অংশগ্রহণ করেছে রোবট-লেখক। রক্তমাংসের লেখকের সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স/এআই) বা রোবট যৌথভাবে রচনা করেছে একটি ছোটখাট উপন্যাস।
শুধু তাই নয়, বিজয়ী হতে না পারলেও প্রতিযোগিতার চারটি ধাপের প্রথম ধাপটি অনায়াসে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে মানুষ আর রোবটের সমন্বয়ে রচিত উপন্যাসিকাটি।

রোবট তো মানুষের উপকারে অনেক কিছুই করে কিন্তু লেখালেখিতে মানুষকে সাহায্য করার ব্যাপারটা অভিনব বটেই। আর এই অভিনব কাজটি করে দেখিয়েছেন জাপানের একদল গবেষক। জাপানে এ বছর তৃতীয় বারের জন্য অনুষ্ঠিত ‘নিক্কেই হোশি সিনঝি’ সাহিত্য পুরস্কারের জন্য মানুষের পাশাপাশি সফটওয়্যার দ্বারা রচিত সাহিত্যও গ্রহণ করা হয়। জাপানের বিখ্যাত সায়েন্সফিকশন লেখক হোশি সিনঝি’র নামেই নামকরণ করা হয়েছে এই সাহিত্য পুরস্কারটি। এবার জমা পড়া মোট ১৪৫০টি লেখার মাঝে ১১টি ছিল রোবটিক লেখা। তবে বিচারকরা তাদের বিচারকার্য শেষ করার আগে এ তথ্যটি জানতে পারেননি। রোবট আর মানুষ-লেখকের মাঝে যাতে কোনো ধরনের পক্ষপাত তৈরি না হয় সেজন্য এই ব্যবস্থা ছিল। ঐ ১১টি লেখা থেকে মাত্র ১টি লেখাই কেবল প্রথম রাউন্ড অতিক্রম করতে পেরেছিল। আর ঐ উপন্যাসিকার শিরোনাম ছিল ‘দ্য ডে কম্পিউটার রাইটস আ নভেল’। জাপানের ফিউচার ইউনিভার্সিটির ঐ গবেষকদল লেখালেখির জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা সফটওয়্যার ব্যবহার করে এটি সম্পন্ন করেছেন । তবে এখানে সফটওয়্যার বা লেখক রোবটের অবদান মাত্র ২০%। বাকী আশিভাগ মানুষকেই করতে হয়েছে। অর্থাৎ গল্পের প্লট, ক্লাইম্যাক্স, চরিত্র, সংলাপ ইত্যাদি মানুষ-লেখককেই ঠিক করতে হয়েছে। তাছাড়া মানুষের রচিত একটি উপন্যাসের শব্দ ও শব্দসমষ্টি সেই লেখক-কম্পিউটারের প্রোগ্রামে দেয়া ছিল। বাকী যে কাজটুকু কম্পিউটার বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে করতে হয়েছিল সেটা হচ্ছে লেখা সাজানো ও টাইপ করা। এই প্রতিযোগিতার অন্যতম বিচারক ও সায়েন্সফিকশন লেখক সাতোশি হাশে উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বলেন ,‘ কাজটি দেখে আমি চমৎকৃত হয়েছিলাম কারণ সেটি ছিল বেশ সুসংগঠিত”! তবে মানুষ লেখকদের এখনই চিন্তিত হবার কিছু নেই- রোবট সম্ভবত এখনও মানুষের মতো লিখবার বা কাজ করবার যোগ্য হয়ে ওঠেনি। বিশেষ করে পুরস্কার জিতবার মতো উপযুক্ত হয়নি। হাশে আরো যোগ করেন- বেশ কিছু জায়গায় এ আই পোগ্রামকে আরো উন্নত করতে হবে। যেমন- চরিত্র বর্ণনা ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে। এই স্থানে এসে আমার মনে পড়েছে মানুষের এক অনন্য দক্ষতার কথা যা দিয়ে আমরা একে অন্যকে প্রভাবিত করতে পারি এবং যার কারণে মানুষের লেখনী শক্তিশালী রূপ পায় সেটা হচ্ছে ‘আবেগ’। আর এ জন্যই আজ অবধি কোনো সাহিত্য পুরস্কারবিজয়ী রোবট নেই। তবে প্রতিবারের জন্যই আগামী বছর অপেক্ষা করে। হোশের এই কথা ইঙ্গিত করছে অনাগত সেই ভবিষ্যতের, কে জানে আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে। এখন অনেকেই এরকমটি ভাবতে পারেন যে হয়তো দূর ভবিষ্যতে রোবট মানুষকে সাহায্য করা বাদ দিয়ে গল্প উপন্যাস লেখা শুরু করবে।
rawling.jpg কিংবা বর্তমানের জে কে রাউলিংয়ের মতো জনপ্রিয় লেখক হবে কোনো আধা-মানুষ আধা-রোবট যাকে আমরা সাইবর্গ বলি তেমন কিছু যা কিনা ভবিষ্যতের মানুষদের জন্য সাহিত্য রচনা করবে। তাহলে মানুষ সাহিত্যিকদের কিছুটা আতঙ্কগ্রস্ত হতেই হয়। তবে এটা ভবিষ্যতের কথা। এমনটি হতে পারে আবার নাও হতে পারে। কেননা রোবট মানুষের দেয়া তথ্য ও নির্দেশনার ভিত্তিতেই কাজ করে। তাই মানুষকেই ঠিক করে নিতে হবে তারা আসলে সাহায্যকারী রোবট চায়, নাকি লেখালেখির মতো সৃষ্টিশীল কাজের দক্ষতাসম্পন্ন লেখক-রোবট চায়? যদি চায় তাহলেও মানুষকেই সৃষ্টি করে নিতে হবে সেই রোবট। বর্তমানেই মানুষ অতিব্যস্ত সময় পার করছে, লেখকরাও বাদ যাচ্ছেন না। ভবিষ্যত পৃথিবীর মানুষদেরও ব্যস্ততা বাড়বে বৈ কমবে না– তা এখনই অনুমান করা যায়। এ প্রেক্ষিতে লেখা নির্ভুলভাবে টাইপ করা, শুদ্ধ বানান, শব্দ ও বাক্য গঠন, বাক্যে ক্রিয়াপদের ব্যবহার, কাহিনীর ধারাবাহিকতা রক্ষা, সুবিশাল বৈদ্যুতিন সাইবার দুনিয়া থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, কাহিনী অনুযায়ী গ্রাফিক্স ইত্যাদি তৈরিতে ভবিষ্যতের লেখক হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিতে পারেন। কিন্তু সেই আধা রোবটিয় লেখনীর মানবিক ব্যাপারগুলো মানুষ লেখকের মানবীয় মস্তিষ্কের উপরই নির্ভর করবে। আমরা হয়তো আর কখনোই মহান ফরাসি লেখক ভিক্টর উগোর মতো দীর্ঘ আঠার বছর ধরে লেখা ল্য মিজারেবল-এর মতো কোনো চিরায়ত রচনা পাব না। আর এখন জাপানে যা হলো তাকে মানুষের তৈরি হাইব্রিড উপন্যাস বলা যেতে পারে। এ ছাড়া আর কিই বা বলা যায়?

তথ্যসূত্র: জাপান নিউজ, দ্য গার্ডিয়ান, টুইটার ডটকম, প্যারিস রিভিউ।

আর্টস বিভাগে প্রকাশিত বিপাশা চক্রবর্তীর আরও লেখা:
জীবন ও মৃত্যুর সঙ্গম: অর্ধনারীশ্বর অথবা তৃতীয় প্রকৃতি

মানব তুমি মহীরুহ তুমি

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: আইনস্টাইন, শেক্সপিয়র, আঁদ্রে গ্লুক্সমাঁ, ফের্নান্দো ও বিয়োরো

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: স্রোতের বিরুদ্ধে স্নোডেন, অরুন্ধতী, কুসাক

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: ভিক্টর হুগো ও টেনেসি উইলিয়াম

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: আরবমুখী ফরাসী লেখক ও মার্গারেটের গ্রাফিক-উপন্যাস

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: গত বছরের সেরা বইগুলো

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: নতুন বছরে নারীরাই রবে শীর্ষে

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতি: নতুন এলিয়ট, ব্যাংকসির প্রতিবাদ ও তাতিয়ানার রসনা

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য:চিরকালের শত শ্রেষ্ঠ

নারী দীপাবলী: তুমি হবে সে সবের জ্যোতি

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য:চিরকালের শত শ্রেষ্ঠ ননফিকশন

গ্রন্থাগারের জন্য ভালোবাসা

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: যাদুবাস্তবতার শাহেনশাহ মার্কেসের মানসিক গ্রন্থাগার

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য:ভাষারাজ্যের তীর্থযাত্রী ঝুম্পা লাহিড়ী ও টেন্টাকলের মার্গারেট এটউড

সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য: প্রত্যাখ্যাত রাউলিং ও পুনর্বাসনে লুইয এলিজাবেত ভিযে ল্য ব্রাঁ

Flag Counter

প্রতিক্রিয়া (2) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন saifullah mahmud dulal — এপ্রিল ৭, ২০১৬ @ ১১:০২ অপরাহ্ন

      সেদিন এক সেমিনারে অংশ নিয়েছিলাম; সেখানে বক্তা আলবার্ট প্রসঙ্গক্রমে বললেন, তুলতুলে রবোট নারী-পুরুষের বিকল্প হিসেবে হুবহু Sex করতে পারবে। এতে তৃপ্তিরও কোনো তারতম্য হবে না! ফলে প্রকৃত পার্টানারের প্রয়োজন হবে না।
      আর এখন দেখছি, ‘লেখালেখির মতো সৃষ্টিশীল কাজের দক্ষতা সম্পন্ন করবে লেখক-রোবট!’
      বিজ্ঞান আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? আমরা কোথায় যাচ্ছি! বাস্তব-অবাস্তব-পরাবাস্তব একাকার হয়ে যাচ্ছে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিপাশা চক্রবর্তী — এপ্রিল ৮, ২০১৬ @ ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

      দুলাল সাহেব, সেমিনারে অংশ গ্রহণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। বক্তা নিশ্চয়ই একজন বিশেষজ্ঞ, তবে সেক্স বা সৃষ্টিশীলতার মতো একটা আবেগীয় ব্যাপারকে মানুষের মতো শতভাগ পরিপূর্ণতায় সম্পন্ন করতে পারবে বলে কেন জানি আমার বিশ্বাস হয় না। একটা নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত রোবট যেতে পারবে, তবে সবটাই মানুষের মতো পূর্বনির্ধারনহীন কল্পনাশক্তি ও পরিকল্পনাবিহীন তাৎক্ষণিক সৃজনশীলতা দিয়ে সেক্স বা অন্যান্য মানবীয় কাজ করতে পারবে বলে মনে হয় না। তাৎক্ষণিক কল্পনাশক্তি ও আবেগের মিশ্রণ সে কিভাবে করবে?
      আরেকটি কথা, লেখাটিতে সাহিত্যসৃষ্টিতে রোবটের অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে বটে, তবে একজন মহৎ লেখকের সাফল্যের জায়গায় আদৌ পৌঁছাতে পারবে কিনা–সে নিয়ে আমার ঘোরতর সন্দেহ আছে।
      আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমার লেখাটি সময় করে পড়েছেন বলে।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।