কবিতা

আশরাফ জুয়েলের গুচ্ছ কবিতা

ashraf_jewel | 29 Mar , 2016  

চোখ খোলো কবি

(উৎসর্গ: কবি রফিক আজাদ)
তোমার চারপাশে চিত্রশালা ফেরত অসংখ্য চড়ুই,
যাদের ঠোঁট-ভর্তি ঘাগরা-পরা কবিতার শব্দ।
শাদা রুমালের নিস্তব্ধ চিত্রকল্পে এতোটা নিশ্চুপ কেন তুমি?
তোমার কবিতার খাতা এবং বিপরীতের অস্থিরতা
কাব্যগ্রন্থ ছেড়ে এসে বসেছে তোমার শয্যাপাশে।
শীতের আকস্মিকতায় উড়ে যাচ্ছে পাণ্ডুলিপি।
বিশ্রামের খেয়াঘাটে আরেকটু থাকো;
তুমি কি জানো না নিরবতার ওপারে কুসংস্কার,
মিথের জ্বলজ্বলে গন্ধ!
চড়ুই পাখির প্রচ্ছদে আঁকা চূড়ান্ত উত্তেজনা
তোমার জন্য মহান ঔচিত্য হয়ে জীবিত থাক পরিত্যক্ত আয়ুষ্কালব্যাপী।
চোখ খোলো কবি; খোলা রাখো চোখ।

নখ

বাঁ তর্জনীর নখ কেটে ফেলার পর
ভাবলাম, থাক না …
আমাকেও তো বাঁচতে হবে।
ধীরে ধীরে মানবশূন্য হয়ে উঠছে পৃথিবী।

পাখি ও হন্তারক

এই মাহফিলে আমার থাকার কথা নয়,
ভুল করে ঢুকে পড়েছি ভুলে।
এই মাহফিলে আমার থাকার কথা নয়,
যেখানে পাখি ও তার হন্তারক বাধ্য
হয় মুখোমুখি বসতে।

কৌতুকীয় ভবিষ্যৎ

(ইতালীয় নাগরিক বাসোলি মেরিস স্মরণে)
স্থিতিশীল স্রোতের দিকে সাময়িক বিরতি; বাসোলি মেরিস-
তোমার দেহ ঘড়ি জড়িয়ে অসংখ্য গুল্ম লতা ফুল,
বসন্তের পেয়াজ রঙা আকাশ তোমার দৃষ্টিদ্বয়কে জাগ্রত
রাখছে সযত্নে, উত্তাপের দূরবীণ সরে যাচ্ছে ভূ-অভ্যন্তরে।
মায়াময় পটভূমিতে আবহসঙ্গীত এবং
জীবনের অনুষঙ্গে বাজে কৌতুকীয় ভবিষ্যৎ।
আয়েশা, আমরা দিকভ্রান্ত পাখিদের দলভুক্ত নই

পৃথিবী পথ ভুলে এসে বসেছে

আমার পাশে;
আয়েশা, তুমিও কি বসবে খানিকটা সময় ?
পরস্পরের চোখে আমরা এঁকে দেবো বিষাদিত
অক্ষরেখা, দ্রাঘিমাংশের সঞ্চয়।
অভিযান শেষে ফিরতি স্বরূপদর্শী নাবিকের
চোখে দেখে নেবো আকাশচারী গাংচিলের
উড়ন কৌশল।
আয়েশা,
সম্পর্কের ঘুড়ি উড়িয়ে উড়ে যেতে যেতে
পৃথিবীকে বলব, দ্যাখো, আমরা দিকভ্রান্ত
পাখিদের দলভুক্ত নই।

আব্বা অথবা হাট বার
ছোট বেলায় জেদ ধরলে
আব্বা আমাকে নিয়ে হাটে যেতেন।
অনেক মানুষের ভিড়ে
অপেক্ষাকৃত ফাঁকা জায়গায় দাঁড় করাতেন,
মানুষের স্রোত ঠেলে জনারণ্যে হারিয়ে যেতেন।
ভয়ে ব্যস্ত হয়ে আব্বাকে খুঁজতাম।
হঠাৎ ভিড় থেকে ব্যাগ হাতে আব্বা বেরিয়ে
আসলে সাহস ফিরে পেতাম।
আমি বড় হয়ে গেছি এখন।
আব্বা বুড়ো হয়ে গেছেন।
মাঝে মাঝে আমরা বাইরে
যাই; আব্বাকে একটা জায়গায় দাঁড়
করিয়ে ভিড়ের ভেতর হারিয়ে যাই।
খেয়াল করি, আব্বা ভয় পাচ্ছেন কিনা;
খেয়াল করি আব্বা বিরক্ত হচ্ছেন কিনা।
দেখি তিনি ভীষণ ভয় পাচ্ছেন, ভয় পেয়ে
এদিক ওদিক তাকাচ্ছেন।
জিজ্ঞেস করি,
আব্বা হারিয়ে যাবার আশংকায় ভয় পাচ্ছিলেন?
মুচকি হেসে তিনি বলতেন, হ্যাঁ খুব ভয় পাচ্ছিলাম,
তুই হারিয়ে গেলি এই ভেবে খুব, খুব ভয় পাচ্ছিলাম।

Flag Counter


4 Responses

  1. Morshed says:

    যদিও আমি এতটা সমঝ্দার নই, কিন্তু লেখাটা সুন্দর হয়েছে ভাইয়া

  2. asif says:

    দারুন হঅইসে

  3. আব্বাগুলো কেন যে বুড়িয়ে যায়!
    আর কেন যে উল্টভয়েভীত হয়…রহস্য আছে অনুপম।

  4. সোহাগ সিদ্দিকীি says:

    আশরাফ জুয়েলের কবিতা স্বকীয়তায় অনন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.