arts.bdnews24.com » গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ২৪ জুন ২০১৫ ৯:৩১ অপরাহ্ন

garcia_marquez.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.

অনুবাদ: আনিসুজ্জামান

———————————————————————————
ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ২৩

কোন কিছু না ভেবেই কথাটা বলে আমারান্তা। কিন্তু কথাটা বলেছিল একই সময়ে, যখন সরকার রিওআচা দিয়ে না দিলে হেরিনালদো মার্কেসকে গুলি করার হুমকি দিয়েছিল। জেলখানায় সাক্ষাতের নিয়মটা তখন বন্ধ করে দেয়া হয়। রেমেদিওসের মৃত্যুতে যে আপরাধ বোধ হয় সেই একই বোধে পীড়িত হয়ে ঘর বন্ধ করে কাঁদে আমারান্তা, যেন তার বিবেচনাহীন কথা আরেকজনের মৃত্যুর কারন হতে বসেছে।ওর মা তাকে সান্ত্বনা দেয়। ওকে আশ্বাস দিয়ে বলে যে কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া নিশ্চয়ই কিছু করবে এর মৃত্যুদণ্ড রোধ করতে, আর প্রতিজ্ঞা করে যুদ্ধ শেষে হেরিনালদো মারকেসকে আমারান্তার প্রতি আকৃষ্ট করার। নির্দিষ্ট করে রাখা সময় উতরে যাবার আগেই প্রতিজ্ঞা রক্ষা করে সে। সামরিক এবং বেসামরিক নেতার নতুন সম্মান নিয়ে যখন হেরিনালদো মার্কেস বাড়িতে আসে, তাকে নিজের ছেলের মত বরণ করে নেয় উরসুলা; বিভিন্ন তোষামুদে অবস্থার সৃষ্টি করে তাকে বেশিক্ষণ বাড়িতে আটকে রাখার জন্য, আর সমস্ত হৃদয় দিয়ে প্রার্থনা করে যেন আমারান্তাকে বিয়ে করার প্রস্তাবটা তার মনে পড়ে যায়। তার প্রার্থনা মনে হয় সফল হয়েছে। যে দিনগুলিতে দুপুরের খাবার খেতে বাড়িতে যেত, কর্নেল হেরিনালদো মার্কেস বিকেলটা কাটিয়ে দিত বেগনিয়া ভরতি বাগানে, আমারান্তার সাথে চাইনিজ চেকার খেলে। উরসুলা বিস্কুট আর দুধকফি নিয়ে যেত আর লক্ষ্য রাখত বাচ্চারা যেন ওদের বিরক্ত না করে। সত্যি বলতে আমারান্তা তার হৃদয়ে ভুলে যাওয়া যৌবনের প্রেমের ভস্মে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করতে থাকে। অসহ্য উৎকণ্ঠা নিয়ে সে অপেক্ষা করত দুপুরে খাবারের দিনগুলোর জন্য, চাইনিজ চেকারের বিকেলগুলোর জন্য আর সময় উড়ে যেত সেই যোদ্ধার সঙ্গে যার নাম স্মৃতিকাতরতায় ভরা আর যার আঙ্গুলগুলো কেঁপে উঠত সুক্ষ্ণভাবে, গুটি চালার সময়। কিন্তু যেদিন কর্নেল হেরিনালদো মার্কেস তাকে বিয়ের ইচ্ছেটা আবার্ও জানায়, সে তাকে প্রত্যাখান করে। -‘আমি কারো সাথেই বিয়ে করব না’ বলে ওকে, “ তোমাকে তো নয়ই। কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়াকে তুমি এতই ভালবাস যে, ওকে বিয়ে করতে পারবে না বলেই তুমি আমাকে বিয়ে করতে চাইছ”।
কর্নেল হেরিনালদো মার্কেস ছিল ধৈর্যসম্পন্ন লোক। “আবার জোর করতে আসব আমি” বলে, “আগে বা পরে , তোমাকে রাজি করাবই।” বাড়িতে আসাটা চালিয়ে যায় সে। ঘরে আবদ্ধ হয়ে গোপনে অশ্রু রোধ করত, উরসুলাকে বলা যুদ্ধের শেষ খবরগুলো বলতে থাকা পাণিপ্রার্থীর গলার স্বর না শোনার জন্য কানে আঙ্গুল দিত; আর যদিও তাকে দেখার জন্য প্রাণ বেরিয়ে যেত তবুও বের না হওয়ার মত শক্তি সঞ্চয় করতে পারত সে। সে সময়টাতে কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া প্রতি দু সপ্তাহে বিস্তারিত খবর পাঠাত মাকোন্দোতে। কিন্তু একবার , চলে যাবার প্রায় আট মাস পর সে উরসুলাকে লিখে। এক বিশেষ সংবাদবাহক নিয়ে যায় সীল করা এক খাম যার মধ্যে কর্নেলের সুন্দর হাতের লেখাঃ বাবাকে অনেক যত্ন কোরো, কারণ সে শীঘ্রই মারা যাবে। উরসুলা ভয় পায় -আউরেলিয়ানো যেহেতু বলেছে, সে অবশ্যই জানে। আর সে সাহায্য চায় হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়াকে শোবার ঘরে নিয়ে যেতে। শুধু যে সে সবসময়ের মত ভারী ছিল তাই নয়, বরঞ্চ সুদীর্ঘ সময় চেষ্টনাট গাছের নীচে অবস্থানের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে ওজন বাড়ানোর এমন ক্ষমতা অর্জন করে সে, যার ফলে সাতজন পুরুষকে বহন করতে না পেরে তাকে টেনে হিঁচড়ে বিছানায় তুলতে হয়। রোদ আর বৃষ্টি আপ্লুত সেই প্রাচীন প্রমাণাকৃতির শরীর যখন শ্বাস নিতে শুরু করে তখন শোবার ঘরের আর আশপাশের বাতাস ভরে যায় কোমল ব্যাঙের ছাতা, আর ফ্লর দে পালোর (এক ধরনের বনফুল)প্রাচীন ও নিবিড় খোলা হাওয়ার সুবাসে। পরের সকালে সে আর বিছানায় জেগে ওঠে না। সমস্ত ঘরগুলোতে খোঁজার পর উরসুলা আবার ওকে পায় চেষ্টনাটের নীচে। তাকে বিছানায় বাঁধা হয়। শরীরে শক্তি অটুট থাকলেও হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার পক্ষে বাধা দেওয়ার মত অবস্থা ছিল না। ওর জন্য সবই ছিল সমান। সে চেষ্টনাট গাছের নিচে ফিরে গিয়েছিল নিজের ইচ্ছায় নয়, শরীরের অভ্যস্থতার কারনে। উরসুলা তাকে যত্ন করত, খাবার খেতে দিত, আর আউরেলিয়ানোর খবর দিত। কিন্তু, সত্যিকার অর্থে বহুদিন যাবত একমাত্র যার সঙ্গে সে যোগাযোগ করতে পারত, সে হচ্ছে প্রুদেনসিও আগিলার। মৃত্যুর গভীর জীর্ণতার কারণে প্রায় ধূলোয় পরিণত হওয়া প্রুদেনসিও আগিলার দিনে দুবার কথা বলতে যেত। লড়াকু মোরগের কথা বলত ওরা। স্থির করত চমৎকার সব মোরগের খামার প্রতিষ্ঠা করার। মৃত্যুর পর জেতার আর প্রয়োজন নাই বলে জেতার জন্য নয়; বরঞ্চ , একঘেয়ে মরণের রোববারগুলোতে বৈচিত্র্য আনতে। সে ছিল প্রুদেনসিও আগিলার, যে নাকি তাকে পরিষ্কার করত, খাবার দিত আর এক অপরিচিত আউরেলিয়ানো যে নাকি যুদ্ধে কর্নেল ছিল, তার কথা বলত। যখন একা থাকত, তখন হোসে আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া নিজেকে সান্ত্বনা দিত অগুনতি কামরার স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন দেখত, সে বিছানা থেকে উঠছে, দরজা খুলে একই রকম রট আয়রনের মাথার কাছে ঘেরওয়ালা বিছানা, একই রকম উইলো কাঠের চেয়ার, পেছনের দেয়ালে একই রকম কুমারী রেমেদিওসের ছবি্ওয়ালা একই রকমের কামরায় ঢুকেছে। সেই কামরা থেকে সে যেত আর এক কামরায় যেটা ছিল একেবারে একই রকমের, যার দরজা খুলে যেত একই রকম আরেকটিতে যাবার জন্য , তারপরে সম্পূর্ণভাবে একই রকম আরেকটিতে যাবার জন্য। ওর ভাল লাগত সমান্তরাল আয়নার গ্যালারির মতো এক কামরা থেকে আরেক কামরায় যেতে যতক্ষণ পর্যন্ত না প্রুদেনসিও আগিলার ওর কাঁধে টোকা দিত। আর তখন সে ফিরে আসত কামরার পর কামরা ধরে, উল্টো দিকের পথ বেয়ে বেয়ে। আর খুঁজে পেত প্রুদেনসিও আগিলারকে, ওর বাস্তবের কামরাটাকে। কিন্তু, এক রাতে, বিছানায় নিয়ে যাবার দু সপ্তাহ পর, যখন প্রুদেনসিও আগিলার ওর কাঁধে টোকা দিল, সে মাঝপথে এক কামরাকে বাস্তবের কামরা ভেবে সেখানেই চিরদিনের জন্য রয়ে যায়।

পরদিন সকালে উরসুলা নাস্তা নিয়ে যাবার সময় বারান্দা ধরে এক লোককে আসতে দেখে। ছোটোখাটো , শক্ত সামর্থ্য মানুষটার পরনে ছিল কালো কাপড়ের কোট আর বিষাদমাখা চোখ পর্যন্ত নেমে আসা বিশাল আকারের টুপিটাও ছিল কালো। ‘হায় খোদা , উরসুলা ভাবে, ‘ আমি দিব্যি করে বলতে পারি যে, এ হচ্ছে মেলকিয়াদেস।’ সে ছিল কাতাউর; অনিদ্রা রোগের সময় বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ভিসিতাসিওনের ভাই, কখনই যার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ভিসিতাসিওন ওকে জিজ্ঞেস করে কেন ফিরে এসেছে। আর সে নিজেদের ভাষায় গাম্ভীর্য নিয়ে উত্তর দেয়, ‘ এসেছি রাজার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে।’ তখন সকলে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার ঘরে ঢুকে সমস্ত শক্তি দিয়ে সকলে একসঙ্গে ধাক্কা দেয়, কানের কাছে চিৎকার করে, নাকের ফুটোর কাছে এক আয়না ধরে। কিন্তু ওকে আর জাগাতে পারে না। কিছুক্ষণ পর যখন ছুতোর কফিন বানাতে মাপ নিচ্ছে, সকলে তখন জানালা দিয়ে দেখতে পায় একরাশ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র হলুদ ফুলের গুড়ি বৃষ্টি। সারা রাতভর গোটা গ্রামের উপর সেই নীরব ফুলের ঝড় বয়ে যায়, বাড়ির ছাদগুলো ঢেকে দেয়, দরজাগুলো আটকে দেয় আর খোলা বাতাসে ঘুমানো সব জীবজন্তুর দম বন্ধ হয়ে আসে। আকাশ থেকে এত ফুল ঝরে যে, রাস্তাগুলো জেগে ওঠে এক নিবিড় হলুদ ফুলের গালিচা হয়ে, আর শবযাত্রার জন্য সেগুলোকে বেলচা আর আঁচড়া দিয়ে পরিষ্কার করতে হয় ওদের ।

উইলো কাঠের দোলচেয়ারে বসে, হাতের কাজটা কোলের উপর ফেলে রেখে আমারান্তা দেখছিল আউরেলিয়ানো হোসেকে, চিবুকে ফেনা মেখে, চামাটিতে ক্ষুর ধার দিতে, জীবনে প্রথমবারের মত দাড়ি কামানোর জন্য। তার ব্রন থেকে রক্ত বেরিয়ে পড়ে, আর উপরের ঠোঁটের মিহি গৌরবর্ণ গোঁফ বাগে আনতে গিয়ে কেটে ফেলে । আর, সব শেষ করার পর, থেকে যায় আগে যেমন ছিল তেমনি । কিন্তু, তার এই কষ্টসাধ্য প্রক্রিয়া আমারান্তার মনের উপর এক তাৎক্ষনিক ছাপ ফেলে । তার বয়স বাড়তে শুরু করেছে। “যখন আউরেলিয়ানো তোর বয়সী ছিল, তুই দেখতে অবিকল তারই মত” বলে, “এখন তুই এক পুরুষ মানুষ”। অনেক আগে থেকেই সে পুরুষ ছিল। সেই পুরোনো দিনটি থেকে যখন আমারান্তা এখনও শিশু ভেবে গোছলখানায় ওর সামনে নগ্ন হত; পিলার তেরনেরা ওকে লালন করার জন্য যখন ওর হাতে তুলে দেয় সেই দিনটি থেকে, যেমনটি সে অভ্যস্ত হয়েছে তখন থেকেই। প্রথম বারের মত আউরেলিয়ানো যখন ওকে দেখে, একমাত্র যেটা তার নজর কাড়ে, সেটা হচ্ছে তার বুকের মাঝের গভীর খাঁজ। তখন সে এতই নিষ্পাপ ছিল যে প্রশ্ন করে ওখানটায় কি হয়েছে, আর আমারান্তা আঙ্গুলের ডগা দিয়ে বুকের মাঝে অনুসন্ধানের ভঙ্গিতে বলে, “এখান থেকে ওরা বিভিন্ন টুকরাগুলো কেটে তুলে নিয়েছে।” আরও পরে, যখন পিয়েত্রি ক্রেসপির আত্মহত্যার ধাক্কা কাটিয়ে উঠে, আবার ওর সঙ্গে গোসল করে তখন তার বুকের গভীরতা আউরেলিয়ানো হোসের আর মনোযোগ টানে না। বরং অনুভব করে এক অচেনা গায়ে কাটা দিয়ে ওঠার অনুভূতি। আমারান্তাকে খুঁটিয়ে দেখতে থাকে আর আবিষ্কার করে একটু একটু করে তার গূঢ় অলৌকিকতা। অনুভব করে তার গায়ের চামড়ার লোম খাঁড়া হয়ে ওঠা, যেমনটি আমারান্তার বেলায় ঘটে ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে। শিশুকাল থেকেই হ্যামক ত্যাগ করে সকালবেলা আমারান্তার বিছানায় জেগে ওঠার অভ্যেস ছিল তার; যার উদ্দেশ্য ছিল অন্ধকারের ভয়টা দূর করা। কিন্তু যেদিন থেকে নগ্নতার ব্যাপারে সে সচেতন হয়, সেদিন থেকে অন্ধকারের ভীতি তাকে আমারান্তার মশারির ভিতর ঠেলে না দিয়ে বরঞ্চ ভোরে তাকে ধাবিত করতো আমারান্তার কোমল নিঃশ্বাসের তীব্র আকর্ষণ। এক কাক ভোরে, সেই সময় যখন সে ফিরিয়ে দিয়েছিল হেরিনালদো মার্কেসকে, আউরেলিয়ানো হোসে জেগে ওঠে দমবন্ধ করা অনুভুতি নিয়ে। অনুভব করে, আমারান্তার আঙ্গুলগুলোকে কতগুলো গরম কেন্নোর মতো, তার পেটের উপর উৎকণ্ঠিতভাবে কি যেন খুঁজছে। তার কাজ সহজ করে দিতে ঘুমের ভান করে পাশ ফিরে সে; আর অনুভব করে কালো কাপরের ব্যান্ডেজবিহীন হাতটা এক অন্ধ শামুকের মত ডুব দিচ্ছে উৎকণ্ঠার শৈবালের দঙ্গলে। যদিও দুজনেই যা জানে তা অগ্রাহ্য করার ভান করে, তবুও একজনে যা জানত , অন্যজনও তা জানে। আর, সেই রাত থেকে ওরা বাঁধা পড়ে যায় এক অলঙ্ঘনীয় নিষিদ্ধ কাজের বন্ধনে। বৈঠকখানার ঘড়িতে বারোটার ওয়াল্টজ শোনা পর্যন্ত আউরেলিয়ানো হোসের চোখে ঘুম আসত না , আর সেই পরিণতা কুমারী –যার চামড়া দুঃখভারাক্রান্ত হতে শুরু করেছে; সে এক মুহূর্ত শান্তি পেত না যতক্ষণ না অনুভব করতো মশারীর ভিতর নিশিপাওয়া ছেলেটাকে পিছলে ঢুকে পড়তে, যাকে সে লালন করেছে, আর কখনোই ভাবেনি যে সেই হবে তার নিঃসঙ্গতার উপশম। পরে শুধু নগ্ন হয়ে শুয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়া পর্যন্ত পরস্পরকে আদর করত, তাই নয়, একে অপরকে তাড়া করে বেড়াত বাড়ির আঙ্গিনার অন্ধকার কোনগুলিতে। আর ঘুমানোর ঘরগুলোতে ঢুকে দরজা লাগাত দিনের যেকোন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন উত্তেজনা নিয়ে। একবার যখন গোলাঘরে চুমু খেতে উদ্যত, তখন উরসুলার কাছে প্রায় ধরা পড়ে যাচ্ছিল ওরা। ‘খুব ভালোবাসিস ফুফুকে?’ নিষ্পাপভাবে প্রশ্ন করে উরসুলা আউরেলিয়ানো হোসেকে। সে ইতিবাচক জবাব দেয়। ‘ভালই করিস’ –ইতি টানে উরসুলা আর রুটি তৈরির জন্য ময়দা মেপে রান্নাঘরে ফিরে যায়। এই ঘটনা চিত্তবিভ্রম থেকে মুক্ত করে আমারান্তাকে। সে অনুধাবন করতে পারে যে, অনেকদূর এগিয়ে গেছে, তারা আর শিশুদের চুম্বনের খেলা খেলছে না, বরং, এক শারদীয় কামনায় মাতামাতি করছে। আর ভবিষ্যৎহীন এই কামনায় ইতি টেনে দেয় সঙ্গে সঙ্গেই। এই সময়ে আউরেলিয়ানো হোসে তার সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ করতে চলেছে। সে বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে ঘুমাতে যেত সৈন্য শিবিরে। আর শনিবার দিন সৈন্যদের সঙ্গে যেত কাতারিনোর দোকানে তার এই অপ্রত্যাশিত নিঃসঙ্গতাকে আর অপরিণত বয়ঃসন্ধির অন্ধকারকে মাঝে মাঝে সান্ত্বনা দিতে; আর, মৃত ফুলের গন্ধযুক্ত মেয়েদের দিয়ে আর উৎকণ্ঠিত কল্পনাশক্তি দিয়ে ওদেরকে রূপায়িত করত আমারান্তায়।

——————————-

আর্হেন্তিনার বুয়েনোস আইরেস-এর
এদিতোরিয়াল সুদামেরিকানা প্রকাশনী থেকে
প্রকাশিত ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’ উপন্যাসের
প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ

——————————-
border=0
কিছুদিন পরই সকলে পেতে থাকে পরস্পরবিরোধী যুদ্ধবার্তা। যখন খোদ সরকার বিদ্রোহীদের অগ্রগতির কথা স্বীকার করছে তখন মাকন্দোর অফিসারদের কাছে গোপন খবর ছিল দরাদরি করা এক অত্যাসন্ন শান্তি চুক্তির বিষয়। এপ্রিলের প্রথম দিকে বিশেষ এক সংবাদবাহক আত্মপরিচয় দেয় কর্নেল হেরিনালদো মার্কেসের কাছে। সে নিশ্চিত করে যে, সত্যিই দলের নেতারা দেশের অভ্যন্তরে বিদ্রোহী নেতাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছে; আর উদারপন্থীদের জন্য তিনটে মন্ত্রীত্ব, পার্লামেন্টে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব ও অস্ত্র জমা দেওয়ার সাধারণ ক্ষমার বিনিময়ে এক সন্ধি সন্নিকট। কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার কাছ থেকে সংবাদবাহক এক অতি গোপন আদেশ নিয়ে এসেছে যে সে এই শর্তগুলোর সাথে একমত নয়। পাঁচজন সেরা লোককে বেছে নিয়ে কর্নেল হেরিনালদো মার্কেসকে দেশ ত্যাগে প্রস্তুত হতে হবে। সে এই আদেশ পালন করে অতি গোপনীয়তার সঙ্গে। সন্ধিচুক্তি ঘোষণার এক সপ্তাহ পূর্বে, পরস্পরবিরোধী গুজবের ঝড়ের মাঝে, কর্নেল রোকো কারনিসেরোসহ দশজন বিশ্বস্ত অফিসার নিয়ে কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া মধ্যরাতের পর নিঃশব্দে মাকন্দো এসে হাজির হয়ে গ্যারিসনটাকে ভেঙ্গে দেয়; সমস্ত অস্ত্র মাটির নিচে পুতে ফেলে ধ্বংস করে রেকর্ডসহ সমস্ত ফাইল। কর্নেল হেরিনালদো মার্কেস তার পাঁচ অফিসারসহ প্রভাতের আগেই উধাও হয়ে যায়। অপারেশনটা এতই গোপনীয়তা ও দ্রুততার সাথে সারা হয় যে, উরসুলা একেবারে শেষ মুহূর্তে ব্যাপারটা জানতে পারে যখন একজন কেউ তার শোবার ঘরের জানালায় আলতো করে টোকা দিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে: কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়াকে দেখতে চাইলে এখনই দরজার দিকে আসুন। উরসুলা লাফ দিয়ে বিছানা থেকে নেমে রাতের পোষাক গায়ে নিয়েই দরজা দিয়ে বেরিয়ে কেবলমাত্র দেখতে পায় নিঃশব্দ ধুলোর ঝড় তুলে গ্রাম ছেড়ে বেড়িয়ে যাওয়া ঘোড়সওয়ারদের। পরদিন সকালেই কেবল জানতে পারে যে আউরেলিয়ানো হোসে চলে গেছে তার বাবার সাথে। সরকার এবং বিরোধীদল যুক্ত বিবৃতিতে ঘোষিত যুদ্ধ বিরতির দশ দিনের মাথায় কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার পশ্চিম সীমান্তে প্রথম সশস্ত্র বিদ্রোহের খবর পায় ওরা। অস্ত্রসহ তার ছোট্ট দলটা এক সপ্তাহেরও কম সময়ে হেরে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। কিন্তু একই বছরে যখন উদারপন্থী আর রক্ষনশীলেরা সমঝোতার কথা সারা দেশকে বিশ্বাস করাতে ব্যস্ত, কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া আরও সাতটি সশস্ত্র বিদ্রোহ ঘটানোর চেষ্টা করে। এক রাতে রিওআচার উপর কামান দাগে এক স্কুনার থেকে আর এর ফলে নগররক্ষী সৈন্যরা সবচেয়ে উদারপন্থী হিসাবে পরিচিত এলাকার চৌদ্দজন লোককে বিছানা থেকে নামিয়ে এনে গুলি করে প্রতিশোধ হিসাবে। সে দু সপ্তাহেরও বেশী সময় ধরে দখল করে রাখে সীমান্তের এক শুল্ক আদায়ের অফিস আর সেখান থেকে জাতির উদ্দেশ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের আহবান জানানো হয়। রাজধানী শহরের উপকন্ঠে যুদ্ধ ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছেয় পনেরশ কিলোমিটারের বেশি দুর্ভেদ্য জঙ্গল পাড়ি দেবার উদ্ভট প্রচেষ্টায় তার এক সামরিক অভিযাত্রীদল তিনমাসের জন্য হারিয়ে যায়। একেকবার মাকন্দোর বিশ কিলোমিটারের মধ্যে চলে আসে আর সরকারের পাহারাদার সৈন্যদের কারণে বাধ্য হয় যেখানে তার বাবা বহু বছর আগে স্প্যানিশ জাহাজের অবশেষ আবিষ্কার করেছিল সেই মায়াবী জায়গার খুব কাছের পাহাড়ে আশ্রয় নিতে।

(চলবে)

কিস্তি-১ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৩ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৪ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৫ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৬ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৭ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৮ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৯ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১০ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১১ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১২ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৩ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৪ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৫ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৬ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৭ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৮ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৯ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২০ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২১ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২২ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (5) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিমুল সালাহ্উদ্দিন — জুন ২৫, ২০১৫ @ ৮:৪৮ পূর্বাহ্ন

      যথারীতি মুগ্ধতাপাঠ। তবে “রেমেদিওসের মৃত্যুতে যে আপরাধ বোধ হয় সেই একই বোধে পীড়িত হয়ে ঘর বন্ধ করে কাঁদে আমারান্তা, যেন তার বিবেচনাহীন কথা আরেকজনের মৃত্যুর কারন হতে বসেছে।” এই বাক্যে অপরাধ মুদ্রণপ্রমাদসহ ‘আপরাধ’ হয়ে গেছে। একজন নিয়মিত পাঠক হিসেবে প্রুফটা আরো ভালো করে দেখার দাবি জানাচ্ছি সম্পাদনা পর্ষৎ এর কাছে।

      অনুবাদকের জন্য অজস্র আলিঙ্গন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Mostafa Tofayel — জুন ২৯, ২০১৫ @ ২:১১ অপরাহ্ন

      The word ‘ solitude’ is the English translation of the Spanish word ‘Soledad’ , which means an environment meant for the blissful life of a certain innocent group of men and women who prefer living in a land of natural abundance, to the busy hum of industries and politics. It is significantly a life of primitive innocence, where there is no sensualist lust for carnal pleasure and sin.
      In the novel, entitled ‘One Hundred Years of Solitude’, Gabriel does not speak of loneliness or arbitrary seclusion in the life of a man or group of men and women. He rather places his main characters in a remote village called Macondo , which has similarity with the biblical heaven or the Eden Garden. It is completely free from the quarrelsome, selfish and greedy life of the self-seeking modern society. It is a place of peace, bliss and magic. It is a place, initially intended to be far away from the common world where there is “the ceremony of innocence” ,told by W.B.Yeats, in his poem, ‘The Second Coming’. In this novel, Macondo is a village situated by the side of the sea, away from the society. Jose Arcadio Buendia is the guardian of a family. He has a wife named Ursula. Jose Arcadio Buendia sets up the placement of the houses in Macondo in such a way that from all of them one could reach the river and draw water with the same effort. Streets there are lined up with such good sense that no house gets more sun than another during hot time of day. It is an ideal village consisting of three hundred inhabitants. It is a truly happy village and an ideal one where no one is over thirty years of age and where no one has died. Jose Arcadio has filled up the village with various singing birds like canaries, bee-eaters and readbreasts.
      The novel can be seen as a parable for the human quest for knowledge. Jose Arcadio represents Adam in this novel. In the Bible, Adam’s job is to name the animals, exercising his power over them. In establishing the village called Macondo, Jose Arcadio Buendia does the same thing. Before the priest’s arrival, shame was unknown in Macondo, like the life-style of Adam and Eve before their fall from heaven. The inhabitants of Macondo, in the novel, are subject to natural laws only. They worship God without a church. Father Nicanor’s arrival disturbs that innocence and life in solitude.
      In the novel, Ursula, the mother-grandmother-great grandmother and great great grandmother lives for about one hundred years with her firm choice for the ancient solitude of the village. Remedios the Beauty symbolizes beautiful innocence as well as absence from anything carnal and sensual. When solitude is lost in Macondo due to the intrusion of the outsiders, politicians, and the priests she simply flies upwards and disappears, as if summoned back to the heaven.
      Macondo , the ideal village in solitude, lives upto one hundred years in the novel. Here lies the significance .We see that the novel speaks of Gabriel Garcia Marquez’s choice for peace and bliss and innocence. External disturbances come and shatter all peace and innocence there.The novel provides the readers with an idea about the initial stage of human civilization.
      Thus, the title-‘One hundred Years of Solitude’ is quite justified and appropriate.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Mostafa Tofayel — জুলাই ২, ২০১৫ @ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন

      The rain of yellow flowers on the occasion of the death of the protagonist,Jose Arcadio Buendia, is symbolic of Eden garden where Adam and Eve used to live before they were turned out from heaven.In Eden garden,as per the Bible,there was all-through an abundance and bounty of flowers that would shower on human beings in their days of innocence.Jose met his death in his times of innocence.So the shower of flowers gifted from God on him.
      The novel,as translated by Mr Anis, has appeared before our eyes with the true spirit and vain of the Spanish original. Anis deserves thanks that he has helped us great deal reach upto its meaning. So far as I understand, the story of it moves between the cutting edge of innocence and sensualism about sex in human life, with Gabriel’s alignment a great deal towards innocence.I would request Anis,the translator to come forward with his interpretation.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন anisuz zaman — জুলাই ৪, ২০১৫ @ ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন

      thanks a lot Tofayel vai. i am very much thrilled by your brilliant interpretation. but as you know this is an epic and as it has a lots of layers there will be a lots of interpretation and there been a lot too. i am simply a translator and i don’t want to try to interpret it to limit the translation. i hope every reader will interpret it in their own ways and enjoy it better, although i am highly delighted by your request of interpretation. best regards.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Mostafa Tofayel — জুলাই ৬, ২০১৫ @ ৮:৫৯ অপরাহ্ন

      নিঃসঙ্গতা বললে সাহিত্যের আধুনিকবাদীরা এর ইংরেজি Alienation বা Alienation ধরে নিয়ে একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারেন। Gabriel Marquez এর এই উপন্যাসের নামকরণটি ‘নিসঃঙ্গতার এক শ বছর’ না করে ‘নিরালা নিভৃতির এক শতাব্দী’ করাটাই আমার পছন্দ। উপন্যাসটিতে মাকোন্দো নামের গ্রাম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে হোসে আরকেডিও নিভৃতে নিরালায় একটি গ্রামের পত্তন ঘটান যা আদম-হাওয়ার স্বর্গের সমকক্ষ, যেখানে ধর্মযাজকদের আরোপিত ধর্ম ও আইনবিদের প্রায়োগিক আইনের বিরুদ্ধে আদি মানবের অবস্থান। এক শ বছর বয়সেও উরসুলা বার্ধ্যকের বিরুদ্ধে লড়াই করেন; অন্য যুবক-যুবতীদের বয়স ত্রিশের পরে আর বাড়ে না। প্রথা, বিধান, ধর্ম ও আইন মানুষের হাতের তৈরি। কিন্তু নিভৃত নিরালার মাকোন্দো গ্রামের আদি মানব কুল এসব মানে না; এগুলোর বিপক্ষে দাঁড়ায়, যুদ্ধ করে।

      আমি জনাব আনিসের মূলানুগ অনুবাদটি পড়ে মুগ্ধ। তিনি বিনয়ী মানুষ। সাহিত্যপিপাসু। তাঁর কাজের সততা ও নিষ্ঠাকে শ্রদ্ধা করেই এমনটা বলছি।

      বাংলা একাডেমী যদি মূল ভাষা থেকে সরাসরি সহিত্যকর্ম অনুবাদের একটি প্রকল্প হাতে নেয়, খুব ভালো হয়। বাংলা একাডেমী সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষের দরবারে যথারীতি একটি প্রকল্প পেশ করতে পারেন যার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হবে হবে German, French, Italian, Spanish, Greek, Urdu, Hindi ইত্যাদি ভাষায় বিশেষভাবে দক্ষ এবং অনুবাদে আগ্রহী সাহিত্যমনা লোকদের তালিকা তৈরি করে বিশ্বসাহিত্যের মূলানুগ অনুবাদ কাজে হাত দেয়া। ইংরেজির মাধ্যমে আসা German বা French, Spanish নয়, বরং প্রত্যক্ষভাবে মূল ভাষা থেকে অনূদিত সাহিত্য এখনকার সময়ের দাবি। এখন এরকম দক্ষ ও সাহিত্যমনা অনুবাদক বাংলাদেশে তালিকা করা সম্ভব। তাঁদের নিয়ে বৈঠক করে পরিকল্পনা প্রণয়ন করাই সঙ্গত।

      বাংলা একাডেমী একটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই প্রকল্পটি হাতে নিতে পারেন। এ পথে কাজ করলে দ্বিতীয় মাধ্যম ইংরেজি হয়ে আসা বিশ্বসাহিত্যগুলোর তুলনায় উত্তম অনুবাদ সাহিত্যের রত্নাগার আমাদের দেশে গড়ে উঠবে। অনুবাদ সাহিত্যের বিষয়টি তখন নান্দনিক মাত্রা অর্জন করবে।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com