প্রসঙ্গ খেয়াল, তারানা, গায়কী এবং উস্তাদ আমীর খান

ওমর শামস | ৫ জুন ২০১৫ ১২:৩৮ অপরাহ্ন

সম্ভবত ষাটের দশকে টেপে গৃহীত, উস্তাদ আমীর খাঁন-এর দুটো ইন্টারভিউ-এর অনুবাদ করা হলো। একটি রেডিওতে সাক্ষাৎকার দ্যান যার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো খেয়াল এবং তারানার উৎপত্তির ইতিহাস এবং সেই ব্যাখ্যার সঙ্গে-সঙ্গে তিনি তাঁর নিজের তৈরী কিছু ‘কম্পজিশন’ গেয়ে শোনান। দ্বিতীয়টিতে তাঁর নিজের স্টাইলের বৈশিষ্ট নিয়ে বলেছন। তাঁর বক্তব্যের সূত্র ধরে আমরা আরও কিছু বাগ-বিস্তার করবো।

।। সাক্ষাৎকার-১ ।।
• রাগবিদ্যা সম্বন্ধে আপনার ধারণা কি? আশা করবো, খেয়াল সম্পর্কেও আপনি আলোকপাত করবেন।
– রাগ স্বরের বিশেষ কম্বিনেশন-কে বলে। কিন্তু শুধু আরোহী, অবরোহী দিয়েই, আমার ধারণা, রাগের পূর্ণ শর্ত সম্পন্ন হয় না। তার জন্য শিল্পীর নিজস্ব কল্পনার প্রয়োজন। রাগের ভিতরে যে ভাব রয়েছে, যা খেয়ালের বাণীতেও সংযুক্ত, শিল্পী ঐ ভাবের ব্যাখ্যা এবং বিস্তার নিয়ে রাগকে প্রকাশ করেন। আমার অভিজ্ঞতায়, এই হচ্ছে রাগের ধারণা।
• শ্রোতাদের জন্য এখন কোন রাগের শক্‌ল্‌ (রূপ) শোনান ।
– আমি আপনাদের একটি রাগ শোনাচ্ছি যার নাম প্রিয় কল্যান। এটি সন্ধ্যাকালীন রাগ। এটি আমার কম্পোজিশন। এর কাব্য ফার্সিতে। আমি এইজন্য শোনাচ্ছি যে, প্রথম যখন খেয়াল সৃষ্টি হয়েছিল তখন তার বোল ফার্সিতে হতো। পরে হিন্দিতে খেয়াল চালু হয়েছে। যে সব প্রাচীন বোল ফার্সিতে হয়েছিল, আজকাল তা খুব কম প্রচলিত। আমি এই ধারা পুনঃপ্রবর্তনের চেষ্টা করছি। এই রাগের আরোহী অবরোহীঃ
রে গা মা পা ধা নি সা
সা নি ধা পা মা গা রে সা
এখন আমি খেয়াল শুনাচ্ছি। কম ক’রে শোনাচ্ছি, কেননা এর জন্য তো কম্‌-সে-কম্‌ এক ঘন্টা চাই।
• আমীর খাঁ সাহেব, এ তো আপনার নিজের রচনা শুনালেন। আমি জিজ্ঞেস করতে চাই, খেয়াল কি ভাবে গড়ে উঠেছে, এর ইতিহাস কি? আর, আপনি যা গাইলেন সেটি কোন তালে নিবদ্ধ?
– ঝুমরা তাল, ১৪ মাত্রার তাল। আরও অনেক তাল যা আমির খুসরো সৃষ্টি করেছিলেন, তার মধ্যেকার একটি। খেয়ালের সৃজক আমীর খুসরো – খেয়াল, তারানা দুটোরই। খুসরো-র পীর ছিলেন হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়া। খেয়াল, তারানা, নক্‌শ্‌, গুল, কওল ও কল্বানা – এই ৬টি রূপ আমীর খুসরো তাঁর পীরের জন্য, সুফিয়া এক্‌রামের জন্য তৈরী করেন।
– আমীর খুসরো সন্ত ধরণের মানুষ ছিলেন, …
ওঁর খেয়ালের যে স্টাইল, কাব্য, সে হয় খোদার তারিফ নয় নসিহত্‌ (আধ্যাত্মিক উপদেশ)।
• আচ্ছা খাঁ সাহেব, তারানা কি আমীর খুসরোর সৃষ্টি?
– তারানা আমীর খুসরো-র সৃষ্টি ।
• আচ্ছা, তারানার যে তোম নোম তানা দের্‌না দের্‌না বোল, এসবের কি কোন অর্থ আছে?
– অর্থ আছে। আশলে হয়েছে কি, কালক্রম এবং লোকজনের বিদ্যার অভাব হেতু, এসবের যে অর্থ ছিল, সেটা বদলে গেছে। ভাব তো কথার থেকে আসে। আমার বন্ধু ছিলেন – পঁচিশ তিরিশ বছর আগে দিল্লীতে, বিসমিল সাইদী, – ওঁর কাছে একটি রুবাই শুনে আমার ধারণা হয়েছে, সম্ভবত সেটি তারানার আদি বোল। যদি বলেন, তবে সেটা বুঝিয়ে দি।
• রুবাইটি কি?

– আন রোজ কে রুহে পাকে আদম বাবাদান
গুফ্‌তান দারা নামে শুদাস তাস্ত বতন্‌
খানান্দ মালায়েকা মাল্‌হানে দাউদ –
দর্‌তন দর্‌তন, দারা দারা দর্‌তন দর্‌তন ।।
[ নোটঃ একই রুবাই আফগানিস্তানের উস্তাদ সারাহান শোনাচ্ছেন ইউ টিউবে

এটি আমীর খুসরোর ব’লে পড়ে শুনিয়ে দিলেন। উস্তাদ সারাহান এই ভিডিও-তে এবং তারপর একটি তারানা শোনাচ্ছেন। সঙ্গে কাবুলের তবলা নওয়াজ ]

• ইয়ারে মন বেয়া বেয়া
বালা বম্‌ রসীদ জা্নুম
তু বেয়াকে জিন্দা মানুম
পাচ্‌কারে খা হিয়া আমাদ ।।
– অন্তরার তর্জমাঃ আমার প্রাণ কন্ঠাগত, তুমি শিঘ্রি এসে আমাকে বাঁচিয়ে তোলো। যদি ম’রেই যাই তখন এসে আর কি লাভ!
[তাদানি অর্থ > ‘তুনি জানো’ , ওদানি অর্থ > ‘সে জানে’, না দের দানি > ‘তুমি সবচেয়ে’, তোম তোম > ‘আমি তোমার তোমার’, ইয়ালা লা ‘ইয়া আল্লাহ্‌’-র সংক্ষেপ, ইয়া লালি > ইয়া আল্লাহ-র সংক্ষেপ। এসব ভেবে, বহুদিন পরে আমিঃ দরবারির একটা তারানা প্রস্তুত করি। যদি অনুমতি দ্যান, গেয়ে শোনাই ।
• বাহ্‌! বাহ্‌! মারবা শোনান ।
– খেয়াল না তারানা ?
• তারানা ।
_ তারানা তো শুনলেনই । আমি এখন একটা মারবা-র খেয়াল শোনাচ্ছি। খেয়ালটি আমার ফিল্ম ডকুমেন্টারিতেও আছে। আজ আমি আমার তৈরী সব কম্পোজিশন শোনাচ্ছি যাতে তারানা ও খেয়ালের বাণী আমার নিজস্ব – অস্থায়ী অন্তার বোল –
গুরু বিনে জ্ঞান ন্যায়্‌ না পাওয়ে,
মন্‌ মূরতি সোচে সোচে কাহে পছ্‌তাবে।
সদ্‌গুরু কি সঙ্গত কর্‌লে অজ্ঞান
সব গুণীজনমে গুণী কহাবে।

।। সাক্ষাৎকার ২ ।।
– নমস্তে, আদাব। খুব খুশীর ব্যাপার যে আপনি আমাদের একাডেমিতে এসেছেন এবং রেকর্ড করবেন। আপনার গানের রেকর্ডিং-এর আগে আমি কিছু প্রশ্ন করতে চাই।
• বলুন।
– সেটা হচ্ছে, আপনি তো একটি নতুন ঘরানা-ই শুরু করে দিলেন। আপনার মনে এমন কি চিন্তা এলো যে আপনি এক নতুন স্টাইল খুঁজলেন।
• আমার তালিম পুরোনো গায়কীর উপরই হয়েছে। যেহেতু আজকাল ফিল্মের সঙ্গে খেয়াল-এর মোকাবিলা, সেইজন্য যতোদিন না জিয়াদা-সে-জিয়াদা খুবসুরৎ বানানো যাবে, ততোদিন তার মোকাবিলা হবে না – এটা এক। দ্বিতীয়ত আমাদের খেয়ালের ‘বোল’ কখনও ‘ভালগার’ ছিলো, এবং অনেক বেইমানীও ছিলো। এসব ভেবে তাকে মানেদার করার চেষ্টাও করছি। আর, যে ‘লগড়-ঝগড়’ গান-বাজনা আগে হতো, সেটাও প্রশমিত করে দেখানোর চেষ্টা করছি। আমার ঘরানা সৃষ্টির মত্‌লব এই যে, লোকে খেয়ালকে ধ্যান-গভীরভাবে, তাকে ‘বা-মানে’ করে, সরগমকে অলংকারপুষ্ট করে গাওয়া যায় এবং রাগকে যতোদূর সম্ভব শুদ্ধ করে গাওয়া হয়। আগে লোকে রাগে খুবসুরতির জন্য রাগকে এদিকওদিক করে দিতো। কিন্তু আমি কোশিশ করি যে জিয়াদা-সে-জিয়াদা খুবসুরৎ থেকেও রাগ যেন স্বস্থানে থাকে।
– আপনার গানের যে ‘মোখসুস’ স্টাইল আছে, তার মধ্যে এমন কি ‘বাত’ আছে যাতে আপনার ভঙ্গিকে অন্যের চেয়ে আলাদা করে দ্যাখা যায়। দেখতে তো আমিও পারি, কিন্তু খাস ভিন্নতা কি আছে।
• এক হচ্ছে, বোল সুস্পষ্ট হওয়া। বোলে গাওইয়া কি বলছে – পুরানা জমানায় বোল সুস্পষ্ট হতো না গানেওয়ালা কি বোল বলছে। দ্বিতীয়ত, এক স্বর থেকে অন্য স্বরে নিয়ে যেতে কি ‘বানাও’ হওয়া উচিত ; এবং সরগম, আগে বোল সরগম হতো, যেটা স্রেফ ‘জবান’ দিয়ে উচ্চারিত হতো বলে সে তায়াল্লুক থাকতো না। ঐ সরগম-কে তান অঙ্গে নিয়েছি।
– গমকেও আপনি কিছু নতুনত্ব করেছেন।
• গমকেও যে ভয়ানকতা ছিলো সেটাকে কমানো হয়েছে।
– লয়কারী আপনি যেমন করেন বিলম্বিতে তাতে তবলিয়ার কোন ধরনের মোকাবেলা বা খেলা …
• ন্নাহ্, ওসব হটিয়ে দেয়া হয়েছে। এইজন্য যে আগে তবলিয়া যে jugglery করতো, কমানো হয়েছে। শান্তরস, ‘সন্জীদাপনা’ বেশি করা হয়েছে। আর লয়কারী এতো জটিল যে সবাই বুঝতে পারে না – যে তান কেমন করে সোমে আসে। তার যে ‘তকসীম’ (লয়ের বিভক্তিকরণ) লোকে আগে তিস্রা বা চউথা ‘জাতি’-র বেশি করতোই না। বা খণ্ড জাতির কোন তান বললে তা পুরোটাই খণ্ড জাতির এক পাল্টা বলতো – মিশ্র বা সংকীর্ণ জাতি বললে, পুরোটা – এইজন্য যে খণ্ড জাতি গাইলে সেটা দ্যাখানো আমি যে তকসীম করি তাতে তরিকা বদলানো হয়েছে। আমি প্রথম ‘বল্’ যদি তিস্রা জাতির বলি, তবে দ্বিতীয় ‘বল্’ খণ্ড জাতির বলি, চউথা বল্ মিশ্র জাতির।
– দু-এক মাত্রা দ্যাখাবেন।
• দ্যাখাচ্ছি –
গাগারেসা ।। সানিনিধামা ।। গাগাগারেসানিধামাগারেসা …… গাগারেসা ।। সানিনিধামা ।। গাগাগারেসানিধামাগারেসা ।।…… তিন জায়গাই আলাদা।। …… সাগাসাগাগারেসা ।। সানিমাধাগাগাগাসানিধামাগারেসা ।। …… একদিকে ছোট অন্যটা বড়।
– যখন এটার প্ল্যানিং করেন তাতে চিন্তা কতোটা আর ভাব কতোটা ?
• এতোটা ভাবা হয় যে, এই ‘বল্‌’-এর পরে সেই ‘বল্‌’ আসবে। দু-এক মাত্রা লয়ে কোথাও কম পড়লে সেটা বেড়ে যাবে, ঔর বরাবর ‘সম’ পে আ যায়েগা। এতোটা ভাবার দরকার নেই যে ‘নাধিধিন্‌না’ মনে রাখতে হবে।
– অন্য কথা, যেমন উঠান আছে বন্দিশের – যেখান থেকে প্রথম ‘বল্‌’ উঠছে। আপনি তান-কে পূর্ণ করবেন না তেহাই নেবেন?
• ন্নাহ্‌। তেহাই, আমাদের খেয়ালে তেহাই অনেক কম হতো। কখনো সঙ্গীতে, ‘অচানক’ যাকে বলে, তেহাই এসে যেত। তেহাই নাচে বেশি হতো, তবে এ জমানায় ‘তেহাইবাজী’-ই চলছে।
– আপনি তেহাই বলবেন না ?
• না। যদি কোন জায়গায় তেহাই চলেই আসে, তবে বলি।
– আমি শুনেছি তারানায় আপনি মৌলিক রিসার্চ করেছেন। তাতে আপনি কি পেয়েছেন যা আজকাল প্রচলিত নেই?
• তারানাকে হামেশা লোকে অর্থহীন ভাবতো, কোন কোন বইতেও লিখে দিয়েছে ‘মিনিংলেস’। কিন্তু আমার কাছে তারানা অর্থপূর্ণ মনে হয়েছে। যেমন, নাদেরদানি, তোদানি, ওদানি, তোম, তানান্দারা, ইয়ালালা – এসবের মানে আছে। ইয়ালালা তো আরবী, ইয়া আল্লা-আল্লা-র ছোট ফর্ম। নাদের দানি ফার্সি – সব জানে। তোদানি – তুমি জানো। ওদানি – ও জানে। তোম – ম্যায় তেরা হুঁ এটা জপের মতো করা হয় – তোম তোম তোম তানানা তানানা তানানা তোম – নাদের দানি, নাদের দানি – তু সব্ জান্তা হ্যায়। এটা সূফী যারা ছিলেন, ওঁদের ‘হাল ঔর কাল’ যাকে বলে – এমন এক মঞ্জিল হয় ফকিরী দর্জে মেঁ, যেখানে সঙ্গীত ছাড়া পৌঁছতে পারে না, যে ধর্মেরই সন্ত হোক। ওই গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য এই ‘রিপিটেশন’ করা হতো – তোদানি ওদানি, নাদের দানি ওদানি।
– হিন্দুস্তানী সঙ্গীতে তারানা এলো কি করে?
• হিন্দুস্তানী সোতে আমীর খুস্রো নিজের পীরকে নিজস্ব মঞ্জিলে (লক্ষ্যে) হামেশা পৌঁছানোর জন্য এই তারানা সৃষ্টি করেন। তাতে উনি চমৎকার স্টাইল করেছেন। কওল, কল্বানা, নক্শ, গুল, তারানা, খেয়াল। তারানা তার মধ্যে একটি এবং খেয়াল ও তারানা বাইরে শাহী দরবারে প্রকাশ পেয়েছিলো। কওল, কল্বানা, নক্শ, গুল এখনো মাজারে এবং সূফীদের সামনে গাওয়া হয়।
– আমার একটি প্রশ্ন। আপনি দক্ষিণের ‘তিলানা’ শুনেছেন। তার সঙ্গে তারানার কোন সম্পর্ক আছে?
• বিল্‌কুল। আমি একবার মাদ্রাজে তিলানা শুনে বালা-কে (বালা সরস্বতী) জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিলানার এই বোল কোত্থেকে এসেছে। উনি বললেন, উত্তর ভারত থেকে এসেছে।
– আমি শুনেছি, তারানার দির দির দানি, নাদের দানি – দির দির দারা দারা যে বোল, সেটা সেতারের থেকে এসেছে। গানেওয়ালা সেতারের বোল তারানায় নকল করে।
• সেতারের বোলও তারানারই বোল। দারা আমিও বলি, সেতারও বলে। দর্‌ – দর্‌ দর্‌ ডারা ডারা হয়ে গিয়েছে। সেতার-কো আমীর খুস্‌রো নে তর্‌কিব দিয়া। তার আল্‌ফাজ(বর্ণ)-ও তিনি দিয়েছেন।
[ এর পর উস্তাদ আমীর খান গুজরি টোড়ির একটি তারানা গেয়ে শুনান। তবলায় ছিলেন পণ্ডিত চতুরলাল।]
[ ইউ-টিউবে উস্তাদ আমীর খান-এর তারানা, রাগ হংসধ্বনি

উত্তরকথা :
উস্তাদ আমির খান (১৯১২-১৯৭৪) ইন্দোরের সারেঙ্গী-নওয়াজ উস্তাদ শাহ্মীর-এর পুত্র। যৌবনে উস্তাদী গৃহশিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাবন্দে খান, নাসিরুদ্দীন খান, রজব আলী খান – এঁদের গান শোনার সুযোগ পেয়েছিলেন। উস্তাদ আল্লাবন্দে খান, নাসিরুদ্দীন খান ধ্রুপদীয়া ছিলেন, তাঁদের গানে রাগরূপ ও আলাপ। অন্যদিকে উস্তাদ রজন আলী খানের খেয়াল দ্রুত তৈয়ারির যাতে তানের বিস্তর ফান্দা। এই হেতু খেয়ালের বিলম্বিত বড়্হত এবং দ্রুত তানকারী দুটো দিকই তিনি উপলব্ধিতে পেয়েছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে প্রফেসর আমির আলি, এই নামে তাঁর কয়েকটি ৭৮ রপম-র রেকর্ড বেরোয়। শুনে বোঝা যায় তখন তাঁর ঝোঁক দ্রুত তানের দিকে ছিলো। পরে কিরানার উস্তাদ আব্দুল ওয়াহিদ খান-এর ধ্যানগম্ভীর, মীরখণ্ড সরগম আশ্রয়ী স্টাইল তাঁকে আকৃষ্ট করে। তিনি উস্তাদ আব্দুল্ ওয়াহিদ খান-এর বিলম্বিত বাঢ়হত, সরগম এবং ভিন্ডিবাজারের উস্তাদ আমান আলী খানের তান গ্রহণ করে পরিণত খেয়ালের রূপ পেশ করেন। তাঁর গানে ধ্যান ও ভাব সমাহিত হয়ে রাগের চারিত্র ফুটে ওঠে – ফুটে ওঠে সাধারণত ১৮ মাত্রার বিলম্বিত ঝুমরা তালে এবং প্রায়ই তিনি তারানা দিয়ে শেষ করতেন। এই বৈশিষ্টগুলি স্বল্প কথায় তাঁর সাক্ষাৎকারে গুছিয়ে বলেছেন। সারগমকে মীড় ও মৃদু গমক সমন্বিত করে সুরের বিস্তারে পেশ করতেন – নেহাত পাল্টার সরগম ব্যতিরেকে। এবং লয়ের আবর্তনে বিভিন্ন সরগম ফ্রেজের মাত্রা বিভিন্ন কম্বিনেশনে আসে। কবিতায় এই জিনিশটা পর্ব পরবাঙ্গ, খেয়ালের ব্যাপার অনেক জটিল। তবলার সঙ্গে লড়াই তিনি সমূলে বর্জন করেছিলেন। তাঁর অবর্তমানে, কেউ-কেউ তাঁকে অনুসরণ করতে চেষ্টা করলেও তাঁর ‘সনজীদা’ খেয়াল-রূপ এখনো কেউ পুরোপুরি ধরতে অসক্ষম। তিনি বলেছিলেন, সঙ্গীত সেটাই যা “রূহ্‌ শুনে ঔর রুহ্‌ শুনায়ে”।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (1) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হুমায়ুন আজম রেওয়াজ — জুলাই ২০, ২০১৫ @ ১:১৯ অপরাহ্ন

      খুব ভালো লাগল। ধ্রুপদী সংগীত নিয়ে খুব মৌলিক কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেল। খেয়ালের বোল যে একেবারেই অর্থহীন নয় এর এমন সদুত্তর আগে কোথাও পাইনি। এবারতো একেবারে প্রমাণসহ পেলাম।
      অনুবাদককে অজস্র ধন্যবাদ ।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com