অনুবাদ, উপন্যাস, বিশ্বসাহিত্য

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

anis_uzzaman | 12 May , 2015  

garcia_marquez.jpgবিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.

অনুবাদ: আনিসুজ্জামান

———————————————————————————
ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ২১
বিকেলে, উরসুলা দেখা করে কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার সঙ্গে । চেষ্টা করে সে দন আপলিনার মসকতের মাধ্যমে অনুমতি নেবার । কিন্তু দন আপলিনার এই প্রবল প্রতাপ মিলিটারির সামনে নিজের কর্তৃত্ব হারিয়ে ফেলেছে। ফাদার নিকানোর যকৃত সমস্যায় জ্বরে ভুগছে তখন। মৃত্যদণ্ডে দণ্ডিত না করা কর্নেল হেরিনাল্দো মার্কেসের বাবা-মা দেখা করার চেষ্টা করলে বন্দুকের কুঁজো দিয়ে গুতিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়। মধ্যস্ততা করার মতো কাউকে পাওয়া অসম্ভব বুঝতে পেরে আর পরেরদিন সকালে ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে নিশ্চিত হয়ে উরসুলা ছেলের জন্য কিছু জিনিসপত্র বাঁধাছাধা করে, আর একাই চলে যায় কারাগারে।
“আমি কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার মা।” ঘোষণা করলে কারাগারের প্রহরীরা তার পথরোধ করে।
“যে কোনোভাবেই হোক, আমি ঢুকবই।” সতর্ক করে ওদের উরসুলা, “যদি তোমাদের প্রতি গুলি করার আদেশ থেকে থাকে তাহলে এক্ষুনি আরম্ভ করতে পারে।”
ওদের একজনকে ঠেলে ধাক্কা দিয়ে সাবেক ক্লাসঘরে গিয়ে ঢোকে সে, যেখানে খালি গায়ে একদল সৈন্য অস্ত্রে গ্রিস লাগাচ্ছিল। কমব্যাট ইউনিফর্ম পরা লালমুখো পুরু লেন্সের চশমা পরা, বিধিসম্মত চালচলনের অধিকারী এক অফিসার সৈন্যদের বাইরে যাবার ইঙ্গিত করে।
“আমি কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার মা।” পুনরাবৃত্তি করে উরসুলা।
“আপনি বলতে চাচ্ছেন…” এক সদয় হাসি সহকারে শুধরে দেয় অফিসার, “আপনি হচ্ছেন মিস্টার আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার শ্রদ্ধেয় মা ।”
তার কথা বলার শিথিল ভাব দেখে উরসুলা বুঝতে পারে, সে হচ্ছে বেলিটার অভিবাসী উঁচু অঞ্চলের বাসিন্দা। “তোমার যেভাবে ইচ্ছে বল।” মেনে নেয় উরসুলা, “শুধু আমাকে দেখা করার অনুমতি দাও।”
উপরওয়ালাদের আদেশ ছিল, মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিতদের সঙ্গে কাউকে দেখা করার অনুমতি না দেওয়ার কিন্তু নিজেই সে দায়িত্ব নিয়ে পনের মিনিটের জন্য দেখা করতে দেয় অফিসারটি। বোঁচকার ভেতর কী আছে খুলে দেখায় অফিসারকে—একপ্রস্থ পরিষ্কার জামা, তার ছেলে বিয়ের সময় যে জুতোটি পরেছিল সেটা, যেদিন থেকে ছেলের ফেরত আসার ব্যাপরটা আঁচ করতে পারে, সেদিন থেকে তার জন্য রেখে দেওয়া দুধের মিষ্টি।
কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়াকে পেল পায়ে বেড়ি দেওয়া; বগলে এমপেদ্রাদাস দে গলন্দ্রিনোস (Lymphatic Ganglion, এক ধরনের ঘা) হওয়ায় হাত ছড়িয়ে বিছানায় শোয়া অবস্থায়। ওকে দাড়ি কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। দুই প্রান্ত চোখা করে পাকানো গোঁফ তার চোয়ালের হাড়গুলোকে প্রকট করে তুলছিল। উরসুলার মনে হচ্ছিল যখন সে চলে গেছে, তার থেকে আরও বেশি পান্ডুর আর একটু লম্বা হয়েছে সে। আর মনে হচ্ছে, অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি নিঃসঙ্গ। বাড়ির সব খুঁটিনাটি ব্যাপারগুলোই বিস্তারিতভাবে তার জানা—পিয়েত্র ক্রেসপির আত্মহত্যা, আউরেলিয়ানোর স্বেচ্ছাচার আর মৃত্যুদণ্ড, চেস্টনাটের নিচে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার নির্ভিক মনোভাব। জানত, আমারান্তা আউরোলিয়ানো হোসেকে লালন পালনের উদ্দেশ্য নিয়ে কুমারী অবস্থায়ই বৈধব্য মেনে নিয়ে নিজেকে উৎসর্গ করেছে। এর মধ্যে আউরেলিয়ানো হোসে খুব বুদ্ধির নমুনা দেখাতে শুরু করেছে ; কথা বলতে শেখার সময়েই একসঙ্গে লিখতে আর পড়তে শিখছে। ঘরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই উরসুলার কাছে বেখাপ্পা লাগছিল ছেলের পরিণত মানসিকতা, তার গায়ের চামড়া থেকে বিচ্ছুরিত কৃর্তৃত্ব তার নিয়ন্ত্রণের ছটা। সে এত সব খবর রাখায় মা আশ্চর্য হয়।
“তুমি জান, আমি সবজান্তা…” কৌতুক করে আউরেলিয়ানো, পরে সিরিয়াস হয়ে বলে, “আজ সকালে আমাকে যখন ওরা আনে, তখন আমার মনে হচ্ছিল, আমার জীবনেই এসব ঘটে গেছে। আসলে ওর চারপাশের মানুষের ভিড় যখন চিৎকার করছিল, সে তখন, গ্রামটা এক বছরে এভাবে বুড়িয়ে যাওয়ায় আশ্চর্য হয়ে নিজের চিন্তাতেই মগ্ন ছিল। আলমন্ড গাছের পাতাগুলোতে চিড় ধরেছে। নীল রং করা বাড়িগুলো লাল রং করে পরে আবার নীল রং করায় এখন এক অবর্ণনীয় রং ধারণ করেছে।”
“কি আশা করছিলি,” দীর্ঘশ্বাস ফেলে উরসুলা, “সময় বয়ে যায়।”
“ঠিক তাই।” মেনে নেয় আউরেলিয়ানো, “কিন্তু এত তাড়াতাড়ি নয়।”
আর এভাবেই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দুজনেরই আগে থেকে ঠিক করে রাখা প্রশ্ন আর উত্তরগুলো গিয়ে ঠেকে দৈনন্দিন নিত্যনৈমিত্তিক কথোপকথনে।
প্রহরী যখন সময় শেষের কথা ঘোষণা করে, আউরেলিয়ানো তখন বিছানার নিচ থেকে খামে পোড়া রোল করা একটি কাগজ বের করে আনে। ওগুলো ছিল তার পদ্য। রেমেদিওস দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা পদ্যগুলো যাবার সময় সঙ্গে করে নিয়ে যায় সে। আর যুদ্ধের সময় কোনো ঝুঁকিপূর্ণ অবসরে লিখে চলে, “প্রতিজ্ঞা করো, কেউ কোনোদিনও এগুলো পড়বে না।” বলে, “এই রাতেই এগুলো দিয়ে চুলো ধরিও।”
উরসুলা প্রতিজ্ঞা করে আর বিদায়চুম্বনের জন্য উঠে দাঁড়ায়।
“তোর জন্য একটি রিভলবার এনেছি,” ফিসফিস করে।
কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া খেয়াল করে, কোনো প্রহরী দৃষ্টিসীমার মধ্যে নাই।
“আমার কোনো প্রয়োজনেই আসবে না।” নিচুস্বরে বলে, “তবুও দাও আমাকে। বেরুনোর সময় ওরা তোমার শরীর তল্লাশি করতে পারে।”
উরসুলা বডিসের ভেতরে থেকে রিভলবারটা বের করে। সে সেটা বিছানার মাদুরের নিচে চালান করে দিয়ে শান্ত ও দৃঢ়তার সঙ্গে সাক্ষাতের ইতি টানে, “কারও কাছে কোনো অনুনয় করো না বা মাথা হেট করো না। মনে কর যে আমার মৃত্যুদণ্ড অনেক আগেই কার্যকর হয়েছে।”
উরসুলা ঠোট দুটো কামড়ে ধরে কান্না চেপে রাখতে। বলে, “ঘাগুলোতে গরম পাথরের ছেঁকা দে।”
আধপাক ঘুরে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় সে। চিন্তিত কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া দাঁড়িয়ে থাকে দরজাটা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত। তারপর আবার সে শুয়ে পরে হাতদুটো ছড়িয়ে।
শৈশবের প্রান্ত থেকেই যখন পূর্বলক্ষণ সম্বন্ধে সচেতন হতে শুরু করেছে, তখন থেকেই সে মনে করত, মৃত্যু আসবে সুনিশ্চিত, নির্ভুল ও অনিবার্য সংকেতের ঘোষণা দিয়ে। এখন আর কয়েক ঘণ্টা বাকি আছে। কিন্তু সংকেতটা এখনও আসছে না।
একবার খুব সুন্দরী এক মেয়ে তার তুকুরিঙকার সেনাছাউনিতে এসে প্রহরীদের কাছ থেকে দেখা করার অনুমতি চায়। মায়েরা তাদের মেয়েদের পরবর্তী বংশধরদের উন্নতির জন্য প্রসিদ্ধ যোদ্ধাদের কাছে পাঠিয়ে দেবার গোঁড়ামির কথা জানা থাকায় প্রহরীরা মেয়েটাকে প্রবেশের অনুমতি দেয়।
যখন মেয়েটা ঘরে ঢোকে কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া ‘বৃষ্টিতে পথ হারিয়ে ফেলার’ কবিতাটাকে শেষ করছিল। যেখানে তার পদ্যগুলো রাখত, সেই আলমারিতে পদ্যটা তালা দিয়ে রাখার জন্য যখন মেয়েটার দিকে পিছন দিয়ে আছে সে, তখন অনুভব করে কারও আগমনি। আলমারি থেকে পিস্তলটা নেয় মুখ না ঘুরিয়েই বলে, “দয়া করে গুলি করো না।”
যখন সে গুলিভরা পিস্তল নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ততক্ষণে মেয়েটা তারটা নামিয়ে ফেলেছে। বুঝতে পারছে না কি করবে। এভাবেই এগারটার মধ্যে চারটে অ্যামবুশ এড়িয়ে গিয়েছে সে। অন্যবার এক রাতে মানউরের বিপ্লবী শিবিরে তার জ্বর আসায় শরীর ঘামানোর জন্য তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু কর্নেল মাগনিফিকো ভিসবালকে নিজের বিছানা ধার দেয়। যাকে কখনও ধরা যায়নি এমন এক লোক মাননিফিকোকে ছোঁড়াঘাতে মেরে পালায়। আর নিজে সে কয়েক মিটার দূরে হ্যামকে একই ঘরে শুয়ে থেকেও কিছুই টের পায় না। পূর্ববোধগুলোকে শৃংখলাবদ্ধ করার চেষ্টাগুলো ছিল ব্যর্থ।
হঠাৎ করে ওগুলো আসত, যেটাকে ঠিকমতো ধরে রাখা যায় না। কোনো কোনো সময় সেগুলো ছিল এতই স্বাভাবিক যে, সেগুলোকে পূর্ববোধ বলে চিহ্নিত করা যেত না। একমাত্র ঘটে যাওয়ার পরেই বোঝা যেত যে সেগুলো ছিল পূর্ববোধ। প্রায়ই সেগুলো ভ্রান্ত অন্ধবিশ্বাসের নগ্ন ধাক্কা ছাড়া আর কিছুই নয়।
কিন্তু যখন তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল, আর জিগ্যেস করা হল তার শেষ ইচ্ছের কথা, পূর্ববোধের ভেতরকার সেই উত্তরটাকে চিনে নিতে তার কোনো সমস্যাই হয় না। বলে, “আমি চাই যে, দণ্ডটা মাকন্দোতেই কার্যকর হোক।”
কোট মার্শালের প্রেসিডেন্ট এটাকে পছন্দ করে না, “মতলববাজি করো না।” বুয়েন্দিয়াকে বলে, “এটা হচ্ছে তোমার সময় কেনার এক কৌশল।”
“যদি পূরণ না করেন, সেটা আপনার ইচ্ছে।” কর্নেল বলে, “কিন্তু এটাই আমার অন্তিম ইচ্ছে।”
সে সময় থেকেই পূর্ববোধগুলো তাকে ত্যাগ করেছে। যেদিন জেলে উরসুলার সঙ্গে দেখা হয়, সেদিন থেকেই প্রচুর চিন্তা করে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, এবার মৃত্যু ঘোষণা দিয়ে আসবে না। কারণ, সেটা দৈবের উপর নির্ভর করছে না। বরঞ্চ নির্ভর করছে জল্লাদের উপর।
ঘায়ের ব্যথায় কাৎরাতে কাৎরাতে সাড়া রাত জেগে কাটায় সে। ভোরের কিছুক্ষণ আগে বারান্দায় পদশব্দ শুনতে পায়। “এই যে আসছে…” বলে ওঠে, আর কোনো কারণ ছাড়াই হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার কথা চিন্তা করে, যে নাকি বিষণ্ন ঊষায় চেস্টনাটের নিচে বসে ওর কথাই ভাবছিল। ভয় করে না তার অথবা অনুভব করে না কোনো স্মৃতিকাতরতা; বরঞ্চ মানুষের আয়োজিত এই মৃত্যুটা যে তার আরম্ভ করা কাজগুলো শেষ করতে না দিয়ে কাজগুলোর সমাপ্তিকে জানতে দিচ্ছে না, তার জন্য পেটের ভেতর অনুভব করে প্রচণ্ড ক্রোধ।
দরজা খুলে যায়। এক মগ কফি হাতে নিয়ে ঘরে ঢুকে পাহারাদার। পরের দিন একই সময় একই অনুভূতি নিয়ে বগলের যন্ত্রণায় কাতর অবস্থায় ঘটে একদম একই ঘটনা। বৃহস্পতিবার পাহারাদারদের মধ্যে দুধের মিষ্টি ভাগ করে দিয়ে পরিষ্কার জামা পরে, যেগুলো এরমধ্যে তার সঙ্গে আঁটসাঁট হয়ে লাগে। আর পরে নেয় চামড়ার বুটজোড়া। শুক্রবারেও তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় না।

সত্যি বলতে কি, ওর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সাহস পাচ্ছিল না ওরা। গ্রামের বিদ্রোহীরা মিলিটারিদের ভাবতে বাধ্য করেছিল যে কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে শুধু মাকন্দোতে নয়, জলাভূমির সমস্ত এলাকায় ভয়াবহ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে। তারা প্রাদেশিক রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ করে শনিবার রাতে ওরা যখন রাজধানী থেকে উত্তর আসার অপেক্ষা করছে, কাপ্টেন রোকে কার্নিসেরো অন্যান্য অফিসারের সঙ্গে কাতারিনোর দোকানে যায়।
প্রায় হুমকির মুখে শুধুমাত্র একটা মেয়ে তাকে ঘরে নিতে সাহস করে। “কারও মরন নিশ্চিত অবগত হওয়ার পর, কোনো মেয়েই আর তার সঙ্গে শুতে চাইবে না।” তার কাছে স্বীকারোক্তি করে মেয়েটা, “কেউই জানে না কীভাবে ব্যাপারটা ঘটবে কিন্তু সবাই বলাবলি করছে যে, কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়াকে যে অফিসার গুলি চালাবে সে আর তার প্লাটুনের সকলেই দুনিয়ার শেষ প্রান্তে লুকালেও, আগে হোক বা পরে হোক খুন হয়ে যাবে, একের পর এক।”
কাপ্টেন রোকে কার্নিসেরো অন্যান্য অফিসারদের জানায় কথাটা, আর তারা জানায় তাদের উপরওয়ালাদের। রোববার, যদিও কেউ খোলাখুলিভাবে বলেনি, যদিও কোনো মিলিটারি কার্যক্রম তখনকার চাপা উত্তেজনাপূর্ণ শান্ত অবস্থাতে ভাঙন ধরায়নি—তবুও সারা গ্রামই জানত, অফিসাররা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দায়িত্ব এড়াতে সব রকমের অজুহাত দেখানোর জন্য একপায়ে খাড়া।
সোমবারের ডাকে সরকারি আদেশ: চব্বিশঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।
সেই রাতে অফিসাররা এক টুপির মধ্যে নিজেদের নাম লেখা সাতটা কাগজ ফেলে আর পুরস্কার হিসেবে আসা কাগজটা কাপ্টেন রোকে কার্নিসেরোর ঝঞ্ঝাময় নিয়তিকেই প্রকাশ করে।
“মন্দ ভাগ্যে চিড় ধরল না কখনও।” প্রচণ্ড তিক্ততার সঙ্গে উচ্চারণ করে, “জন্ম নিয়েছি খানকির ছেলে হয়ে, মরবও খানকির ছেলে হয়ে।”
সকাল পাঁচটার সময় লটারি করে ফায়ারিং স্কোয়াডের সৈন্যদের বাছাই করা হয়। দণ্ডিতকে জাগায় ওরা এক সতর্কবাণী দিয়ে। বলে, “চলো বুয়েন্দিয়া। সময় এসেছে আমাদের।”
“আচ্ছা, এই ব্যাপার!” উত্তর দেয় কর্নেল, “স্বপ্ন দেখেছিলাম যে আমার ফোঁড়াগুলো ফেটে গেছে।”
যেদিন থেকে রেবেকা বুয়েন্দিয়া জানতে পারে যে আউরেলিয়ানোকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সেদিন থেকেই সে ভোর তিনটার সময় জেগে উঠত। আর শয়নঘরে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার নাসিকা গর্জনে কাঁপতে থাকা আধখোলা জানালা ও গোরস্থানের দেয়ালের মধ্যে দিয়ে পাহারা দিত। অন্যসময়ে যেমন পিয়েত্র ক্রেসপির চিঠির জন্য যেমন অপেক্ষা করত, তেমনি গোপন অধ্যাবসায় নিয়ে অপেক্ষা করে সে সাড়া সপ্তাহ।
“এখানে ওকে মারা হবে না।”
ওকে বলত হোসে আর্কাদিও।
“ওকে মার হবে মধ্যরাতে, শিবিরের ভেতর। ওখানেই তাকে কবর দেওয়া হবে, যাতে কেউ জানতে না পারে, কে তাকে গুলি করেছে।”
রেবেকা অপেক্ষা করতে থাকে ওকে আমল না দিয়ে।
“ওরা কি এতই বোকা যে এখানে মৃত্যুদণ্ড দেবে!” বলত আর্কাদিও।
কিন্তু রেবেকা এতই নিশ্চিত ছিল যে আগে থেকেই ভেবে রেখেছে কীভাবে দরজা খুলে হাত নেড়ে ওকে বিদায় জানাবে।
“ওকে রাস্তা দিয়ে নিয়ে আসা হবে না।” জোর করত হোসে আর্কাদিও, “ওরা কি এতই বোকা যে লোকজন সবকিছুর জন্য প্রস্তুত—তা জানা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ছজন ভয়ে কাঁপতে থাকা সৈন্য নিয়ে যাবে এখান দিয়ে?”
স্বামীর যুক্তির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে রেবেকা জানালার পাশে বসেই থাকত। আর বলত, “তুই দেখতে পাবি, ওরা আসলে ও রকমই গাধা…”
মঙ্গলবার সকাল পাঁচটায় হোসে আর্কাদিও কফি পান করে কুকুরগুলোকে ছেড়ে দিয়েছে, তখন রেবেকা জানালা বন্ধ করে আর খাটের উঁচু রেলিং ধরে নিজের পতন রোধ করে।
“ঐ যে ওকে নিয়ে আসছে…” দীর্ঘশ্বাস ফেলে, “কী সুন্দর দেখাচ্ছে ওকে।”
হোসে আর্কাদিও জানালার কাছে যায়। দেখতে পায় ওর যৌবনে পরা প্যান্ট পরিহিত ঊষার স্বচ্ছ আলোয় কাঁপছে সে। এরই মধ্যে দেয়ালে পিঠ ঠেকানো আর দুহাত কোমরে রাখা। কারণ, বগলতলার জ্বলুনি ধরা ঘাঁ তাকে হাত নামাতে বাধা দিচ্ছিল।

“লোকে এত চোদা চোদে এরই জন্য।” বিড়বিড় করে কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া, “এতই চোদে যে ছয় হিজরা তাকে মারে আর সে কিছুই করতে পারে না!”

——————————-

আর্হেন্তিনার বুয়েনোস আইরেস-এর
এদিতোরিয়াল সুদামেরিকানা প্রকাশনী থেকে
প্রকাশিত ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’ উপন্যাসের
প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ

——————————-
border=0
সে এতই রাগের সঙ্গে বলছিল, মনে হচ্ছিল সেটা এক রকম আকুলতা; আর ক্যাপ্টেন রোকে কার্নিসেরো সেটাকে প্রার্থনা করছে মনে করে। তার মনটা নরম হয়। যখন ফায়ারিং স্কোয়াড ওকে তাক করছে তখন ওর রাগ পরিণত হয় এক তিক্ত ঘন পদার্থে, যা ঘুম পাড়িয়ে দেয় জিভটাকে, আর ওকে বাধ্য করে চোখ বন্ধ করতে। ফলে উধাও হয়ে যায় ভোরের উজ্জ্বল আলো। আবার নিজেকে দেখতে পায়—নিতান্তই শিশু, খাটো এক প্যান্ট আর গলায় টাইপরা অবস্থায়। এক উজ্জ্বল বিকেলে ওকে নিয়ে যাচ্ছে এক তাঁবুর মধ্যে। দেখতে পেল বরফ। যখন চিৎকার শুনতে পেল, ওর মনে হল, সেটাই হচ্ছে ফায়ারিং স্কোয়াডের শেষ আদেশ।
চোখ খোলে এক শিহরিত কৌতূহল নিয়ে। জ্বলন্ত বুলেটের গতিপথে অপেক্ষা করতে করতে। কিন্তু শুধু দেখতে পায় শূন্যে দুহাত তোলা অবস্থায় ক্যাপ্টেন রোকে কার্নিসেরোকে, আর হোসে আর্কাদিও-কে উদ্যত রাইফেল হাতে গুলি করতে প্রস্তুত অবস্থায় রাস্তা পার হতে।
“গুলি করো না।” ক্যাপ্টেন বলে হোসে আর্কাদিওকে, “স্বর্গীয় এক্তিয়ার পাঠিয়েছে তোমাকে।”
সেখানেই আরম্ভ হয় আরেক যুদ্ধ। ক্যাপ্টেন রোকে কার্নিসেরো, ও তার ছয় সৈন্য কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার সঙ্গে রওনা হয় রিওয়াচার উদ্দেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিপ্লবী জেনারেল ভিক্তর মেদিনাকে মুক্ত করার উদ্দেশে। সময় বাঁচানোর উদ্দেশে মাকন্দো পত্তনের সময় যে পথ ব্যবহার করেছিল হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া সেই পথ ধরে তারা। কিন্তু এক সপ্তাহ পার হবার আগেই বুঝতে পারে, সেটা ছিল এক অসম্ভব অভিযান। ফলে পাহাড়ের পাদদেশের বিপজ্জনক পথ ধরে এগুতে হয় তাদের, শুধুমাত্র ফায়ারিং স্কোয়াডের জন্য বরাদ্দকৃত গুলি নিয়ে। পথে পড়া গ্রামগুলোর কাছাকাছি ঘাঁটি গাড়ত ওরা। সোনার মাছ হাতে ছদ্মবেশ নিয়ে ওদের একজন সম্পূর্ণ দিনের বেলায় বিশ্রামরত বিপ্লবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বেরিয়ে যেত। পরে বিপ্লবীসহ দুজন শিকারের নাম করে বেরিয়ে আর কখনও গ্রামে ফিরত না। পাহাড়ের বাঁক থেকে রিওয়াচা যখন ওদের চোখে পড়ে ততক্ষণে জেনারেল ভিক্তর মেদিনাকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে। কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়াকে জেনারেল পদমর্যাদা দিয়ে লোকেরা কারিবীয় উপকূলের বিপ্লবী বাহিনীর প্রধান বলে ঘোষণা করে। সে এই ভার গ্রহণ করলেও পদোন্নতি বর্জন করে। পাশাপাশি নিজের উপর শর্ত আরোপ করে যে যতক্ষণ পর্যন্ত না রক্ষনশীলদের ক্ষমতা থেকে না সরাতে পারবে, ততদিন সে এই পদ গ্রহণ করবে না।
মাস তিনেকের মধ্যে সে হাজারের বেশি লোকের হাতে অস্ত্র তুলে দিতে পারলেও তারা সকলেই যুদ্ধে নিহত হয়। যারা বেঁচে থাকে তারা পূর্ব সীমান্তে পৌঁছুতে সক্ষম হয়। পরে তাদের সম্পর্কে যা জানা যায়, তা হচ্ছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বীপপুঞ্জে অন্তর্ভুক্ত ‘কাবো দে ভেলা’-য় গিয়ে ওরা জাহাজ থেকে নেমেছে। সরকারের তরফ থেকে টেলিগ্রাফের মাধ্যমে দেশব্যাপী ঘোষণা করা হয় বিজয় উল্লাস।

কিন্তু দুদিন পরই, প্রায় আগের টেলিগ্রাফের সঙ্গে সঙ্গেই এল দক্ষিণের সমভূমির আরেক বিদ্রোহের বার্তাবাহী টেলিগ্রাম। আর এভাবেই সূত্রপাত হয় সর্বব্যাপী হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার কিংবদন্তির। একইসঙ্গে পরস্পরবিরোধী সংবাদ আসে, বিইয়্যানুয়েবার বিজয়ের ও গুয়াকামায়ালের পরাজয়ের, নরখাদক মেতিলনদের খাদ্যে পরিণত হয়েছে সে, জলাভূমির এক গ্রামে মারা গিয়েছে আবার আর এক খররে জানা যায় সে উরমিতায় ঘোষণা করেছে বিদ্রোহের। সেই সময়ে উদারপন্থি নেতারা সরকারের সঙ্গে পার্লামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য দরকষাকষি করছিল আর ঘোষণা করে আর তারা তাকে নিঃসঙ্গ ভাগ্যান্বেষী অভিযাত্রী বলে ঘোষণা করে, যার তাদের দলে কোনো স্থান নেই। সরকার তাকে ডাকাতের তালিকাভুক্ত করে এবং তার মাথার দাম পাঁচ হাজার পেসো ধার্য করে। ষোলবার পরাজয়ের পর কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া দুই হাজার অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত আদিবাসি নিয়ে গুয়াহিরা ত্যাগ করে আর অপ্রস্তুত আক্রমণে নিদ্রারত সৈন্যরা রিওয়াচা পরিত্যাগ করে। সেখানেই সে নিজের প্রধান সৈন্যশিবির স্থাপনে করে এবং শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করে। সরকারের তরফ থেকে প্রথম যে হুমকি আসে তা হচ্ছে সে তার সৈন্যদলকে পূর্ব সীমান্ত পর্যন্ত সরিয়ে না নিলে আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে কর্নেল হেরিনালদো মার্কেসকে গুলি করে মেরে ফেলা হবে। তখনকার পদোত্তীর্ণ সেনাপতি কর্নেল রোকে কার্নিসেরো হতাশা সহকারে টেলিগ্রামটা তার হাতে দেয়। সে সেটা অভূতপূর্ব আনন্দের সঙ্গে পড়ে।
“কী ভালো!” উল্লাসভরা কন্ঠে বলে, “আমাদের মাকন্দোতে এখন টেলিগ্রাফ আছে।”
সে সুস্পষ্ট ভাষায় চিঠিটার উত্তর দেয়। তিন মাসের মধ্যে সে তার প্রধান সৈন্যশিবির স্থাপন করার চিন্তা করছে। যদি ঐ সময় কর্নেল হেরিনালদো মার্কেসকে জীবিত না পাওয়া যায় তাহলে কোনো রকম বিচার না করেই ঐ সময়ের সকল বন্দিদের গুলি করে মেরে ফেলা হবে। শুরু করা হবে জেনারেল দিয়ে আর তার অধিনস্তদেরও একইভাবে গুলি করার। নির্দেশ দেওয়া হবে আর যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত একইভাবে চলবে সেটা। বিজয়ী বেশে তিন মাস পর, জলাভূমির পথে সে যার সঙ্গে প্রথম আলিঙ্গনবদ্ধ হয়, সে হচ্ছে কর্নেল হেরিনাল্দো মার্কেস।

(চলবে)

কিস্তি-১ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৩ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৪ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৫ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৬ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৭ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৮ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৯ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১০ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১১ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১২ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৩ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৪ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৫ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৬ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৭ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৮ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৯ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২০ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর
Flag Counter


6 Responses

  1. mostafa tofayel says:

    Many thanks Mr Anisuzzaman and arts bdnews for the Bengali translation of One Hundred years of Solitude of Garcia Marques. As it is directly from Spanish, I am sure it will carry special importance.I hope to have the taste of the translation serially.

  2. Anisuz Zaman says:

    Thanks a lot Mostafa Tofayel. its been a while i didnt get any comments from anyone. it feel really good to know someone is carefully reading my work. thanks again.

  3. অংশুমান বিশ্বাস says:

    বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই মহাকাব্যিক উপন্যাসকে বাঙালি পাঠককূলের কাছে তুলে ধরার জন্য আনিসুজ্জামানকে অনেক ধন্যবাদ। বাঙলাভাষায় সফল অনুবাদ আমরা অবশ্যই আগে পেয়েছি এবং এই উপন্যাসটিও আগে একাধিকবার অনূদিত হয়েছে। কিন্তু বাক্য গঠন, শব্দ চয়নের নিজস্বতার নিরিখে এটি হয়ে উঠছে অনন্য। হয়ত পাঠকের কাছে প্রথমেই এই ভিন্নতা মানিয়ে নিতে সামান্য অসুবিধে হয় কিন্তু অচিরেই অনুভব করা যায় যে এই বিশেষ শৈলীর আবহে লেখক রচনা করতে চান জাদুময়তার সেই জগৎ যা কিনা একেবারে মাকন্দোর নিজের। এই ব্যতিক্রমী চেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই। কাজটি স্বা্র্থক ও স্ম্পূর্ণ হয়ে ওঠার অপেক্ষায় রইলাম।

  4. mostafa tofayel says:

    You deserve a lot of thanks, Anisuzzaman, for the the titanic job of translating the present day greatest epic. The English translation of it I have been looking at,at present is the one done by Gregory Rabassa, from Harper and Row ltd.Several universities in Bangladesh have Marques Gabo included in their English Syllabus, such as European University of Bangladesh.

  5. Anisuz Zaman says:

    Dear Mostofa, is their anyway i can communicate with you? thanks.

  6. mostafa tofayel says:

    Thanks Anissuzzaman for your interest. My cell number is 01191755546.Your call at any time is welcome. I am thinking of a comparative study of Jibonananda or Eliotic style surrealism and Gabo style magic realism, with a plentiful illustration in view to arouse interest and curiosity in the readers about such readings where lies literature of today.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.