আর্টস

কবিতায় বৈশাখ

মোস্তফা তোফায়েল | 15 Apr , 2015  

পয়লা বৈশাখ ও বৈশাখ মাসের অনেকগুলো বৈশিষ্ট্যের মধ্যে এর খরতাপ ও ঝড়ো গতিবাচক বৈশিষ্ট্য দুটি কবিতায় ব্যবহৃত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। শেক্সপিয়রের ১৮ সংখ্যক সনেটে সংক্ষিপ্ত আকারে অথচ অবিস্মরণীয় কাব্যিকতায় ব্যবহৃত হয়েছে বৈশাখের এই দুটি বৈশিষ্ট্য। আর একটি ব্যাপার ঘটিয়েছেন কবিগণ বৈশাখকে ঘিরে। তা হল, বৈশিষ্ট্য দুটি ব্যবহারের কারুকৃত্যে অবচেতন মনের অন্য কোনো শক্তিমান আবেগ বা স্মৃতি বা আরাধ্যের আরাধনা, আর এই আরাধনার জন্য বৈশাখের আত্তীকরণ বা Assimilation। ধর্মান্তর কাজে নিয়োজিত মিশনারিগণ বা ধর্মীয় নেতাগণ যেভাবে তাদের নবতর ধর্ম ও নোটিভদর ধর্মের আত্তীকরণে ও সাদৃশ্যস্থাপনে কাঙ্ক্ষিত ধর্মটির সঙ্গে নেটিভদের ধর্মের সামঞ্জস্য ও ঐকতান প্রচারের কৌশল প্রয়োগে লিপ্ত হয়ে থাকেন, অনেকটা সেভাবেই। বৈশাখের খরতাপ ও ঝড়ো গতি কবিতায় অধিকাংশ সময়েই প্রতীকায়িত হয়েছে দ্রোহ ও বিপ্লবের শক্তিমত্তা প্রকাশের মিথ হিসেবে। কখনও বৈশাখ প্রতীকটির ব্যবহার ঘটেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আরাধ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে; কখনও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ধারণ করতে; এবং কখনও দেশ-জনতার মুক্তি ও স্বাধীনতার স্বপ্নকে চিত্রায়িত করার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যে বাংলা কবিতায় বৈশাখের নানামাত্রিক ব্যবহার ও প্রয়োগ ব্যাপকতা, পরিপক্কতা ও নান্দনিকতায় ঋদ্ধ এবং শৈল্পিকতার উৎকর্ষে বিশ্বমানে উত্তীর্ণই বটে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিপুল জনপ্রিয় নিম্নবর্ণিত গানটি শুনলে মনে হয় তিনি একটি জাদুমন্ত্র উচ্চারণ করছেন:
“এসো হে বৈশাখ এসো এসো
তাপস নিঃশ্বাস বায়ে, মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে
বৎসরের আবর্জনা
যাক্ মুছে যাক্ যাক্”
বৈশাখী বাতাসের ঝোড়ো গতিকে তিনি মুনিঋষির নিঃশ্বাস-বায়ুর মতো প্রতিষেধকের ভূমিকায় কামনা করেছেন। বৈশাখী বাতাসের ঝোড়ো উদ্দামতা, এর তাণ্ডব গতি যেন জরাজীর্ণ আবিলতা আবর্জনা মুছে ফেলে দেয়– এটাই কবির প্রত্যাশা। কারণ, সমাজ বিপ্লবে জরাজীর্ণ, রুগ্ন-শীর্ণদের প্রয়োজন নেই। জাতির একটি অংশ অসুস্থ অথবা মুমুর্ষু– এখনই সময় ওরা সজীবতায় কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে এবং নবীনদের দলে শামিল হবে; নয়তো ওরা হারিয়ে যাবে, তলিয়ে যাবে, বিলীন হবে।
“আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা,
ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা।”
‘সুপ্রভাত’ কবিতায় সংশয়াশ্রয়ী, দ্বিধাজীর্ণ ও পলায়নপরদের উদ্দেশে রবীন্দ্রনাথ আহ্বান গান গেয়ে ওঠেন:
“যার যাহা আছে আনো বহি আনো,
সব দিতে হবে চুকায়ে।
ঘুমায়োনা আর কেহ রে!
হৃদয়পিণ্ড ছিন্ন করিয়া ভাণ্ড ভরিয়া দেহ রে।
ওরে দীনপ্রাণ, কী মোহের লাগি রেখেছিস্ মিছে স্নেহ রে–
উদয়ের পথে শুনি কার বাণী,
ভয় নাই ওরে ভয় নাই।
নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান
ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।

“ভয় কেন তোর?” প্রশ্ন করেছেন কাজী নজরুল ইসলাম। ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় নজরুল তারুণ্যের জাগরণকে প্রলয়ের উল্লাসের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ধ্বংস আর যুদ্ধ তো নূতন সৃষ্টিরই বেদনা! ওরে বাঙালি জাতি, ভয় কেন তোর?
“ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!
আসছে নবীন জীবন-হারা অসুন্দরে করতে ছেদন।
তাই সে এমন কেশে বেশে
প্রলয় বয়েও আসছে হেসে–
মধুর হেসে।
ভেঙ্গেও আবার গড়তে জানে সে চির-সুন্দর।
তোরা সব জয়ধ্বনি কর!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর!
এ ভাঙ্গা-গড়া খেলা যে তার কিসের তবে ডর?
তোরা সব জয়ধ্বনি কর।”

তাঁর ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় দ্রোহ-সত্তার প্রধান বাহক হয়ে দাঁড়ান নজরুল স্বয়ং। সমগ্র জাতির আবেগকে কেন্দ্রীভূত করেন তিনি তাঁর নিজের ‘আমি’তে বা অস্তিত্বে, তার স্বয়ম্ভু সত্তায়। তিনি বলেন,

“আমি ধূর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল বৈশাখীর!
আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সূত বিশ্ব-বিধাত্রীর।
বল বীর–
চির-উন্নত মম শির।”

বৈশাখী ঝড়ের Momentum রবীন্দ্রনাথ-নজরুল উভয়ের কবিতায় পরিবর্তন ও সমাজবিপ্লবের দ্যোতনা নিয়ে উপস্থিত। তবে, উচ্চারণের ঋজুতা বিচারে নজরুল প্রত্যক্ষ, রবীন্দ্রনাথ অনেকটাই পরোক্ষ। নজরুলের প্রত্যক্ষ উচ্চারণের তুল্য কবি পি. বি. শেলি, যার পশ্চিমি ঝড়– Ode to the West Wind একই সঙ্গে ধ্বংস ও জন্মের মহা দূত, অথবা Prophet: “Dirge of the dying year”, “Angel of rain”। ভাষার ব্যবহারে রবীন্দ্রনাথ উদ্দীপ্ত আবেগ ও উত্তুঙ্গ চেতনাকে বিশেষায়িত করেন ‘উদয়’, ‘নবীন’, ‘সুপ্রভাত’ ইত্যাকার শব্দের সাহায্যে: নজরুল এমন ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন “ভয়ংকর সুন্দর”, ‘বিদ্রোহী-সূত’, ‘সৃজনবেদন’ ইত্যাদির মতো উন্মুখর শব্দ। পুরাণের শিব রবীন্দ্রনাথে নবীন ও নতুনের উদয়বাচক, নজরুলে একই শিব জটাধারী ও তাণ্ডব সৃষ্টিকারী।
বৈশাখের কবিতায় রূপান্তররাদের উদ্ভাসন লক্ষ করা যায় মুহম্মদ নূরুল হুদার ‘বজ্রবাঁশির গল্পে’। এই কবিতায় বৈশাখের প্রথম দিবসে রমনার বটমূল যেন এক Philosopher’s Stone-রূপান্তরের দ্যোতকপাথর। কবিতাটিতে পয়লা বৈশাখের প্রথম আলোয় অশরীরী রবীন্দ্রনাথের আগমন ঘটে রমনার বটমূলে– “সংব্যসর ব্যাতীতেতু পুনরাগমনায়চ”। তাঁর দেহলাবণ্যের আলেকদ্যুতি মায়াবী মোহন বায়বীয় স্পর্শে “হঠাৎ আলোর ঝলকানি লাগে” সমগ্র প্রকৃতিতে; বিদ্যুত শিহরণে “ঝলমল করে চিত্ত”-
“আমি আমার আত্মজার হাত ধরতেই হেসে উঠল সে,
সঙ্গে সঙ্গে বাংলার আকাশ জুড়ে মুখর হলো হাজার পাখি;
আমি আমার সহধর্মিণীর চোখে চোখ রাখতেই তার বুকে কম্পন,
সঙ্গে সঙ্গে বাংলার সকল ঘরণীর পায়ে জেগে উঠলো আলোকনৃত্য;
আমি আমার পুত্রের চোখে চোখ রাখতেই তার হাতে বীণা,
সঙ্গে সঙ্গে বাংলার সকল রাখালের হাতে বেজে উঠলো মোহন মূরলী;
বৈশাখ নিজেও রূপান্তর লাভ করে কবিতাটির উৎকর্ষ পর্যায়ে; পরিবর্তন সূচিত হয় খোদ রবীন্দ্র-ইমেইজে;
“এ এক অপরূপ ব্যাঘ্ররূপ তোমার!
এ এক অপরূপ বজ্ররূপ।
নটরাজ, তোমার এই রূপ দেখে
বাংলার নদী-মাঠ-প্রান্তর-আকাশ ছাপিয়ে
যেন গোত্রগুলি নদী আর এই রমনার বটমূল বঙ্গোপসাগর।
দেখলাম, বঙ-প্রজাতির লোকমানুষ থেকে সার্বভৌম বাংলার স্বাধীন বাঙালি।”
এটি একটি আধুনিক কবিতা। উনিশ শতকের শেষ পর্যায় থেকে বিশ শতকের শুরুতে ইউরোপীয় সাহিত্যে যে আধুনিকতার বহুমাত্রিক ও বহুরেখিক চর্চা পাঠকচিত্তকে কৌতূহলের দোলায় আচ্ছন্ন করে রেখেছিল, তারই একটি নবরূপায়নের উদ্ভাষণ সৃজনশীল কবিতাভাষ্যে উৎকীর্ণ এই কবিতায়। রূপান্তর ও বিবর্তনের থিম্ আমরা পড়েছি আলফ্রেড টেনিসনের ‘ইন মেমোরিয়াম’ কবিতায়– সে কবিতায়ও ঝোড়ো হাওয়ার বর্ণনা আছে। ১৯৩৭-এ প্রকাশিত রবীন্দ্রকাব্য ‘শ্যামলী’র ‘আমি’ কবিতায় আছে অন্য এক রূপান্তরবাদ।
মুহম্মদ নূরুল হুদা তাঁর কবিসত্তার সমগ্র উপাদানে অনুভব করেন বৈশাখকে; বৈশাখের মধ্য দিয়ে তিনি অনুভব করেন বাংলার প্রকৃতিকে; বাংলার প্রকৃতির মধ্য দিয়ে তিনি অনুভব করেন বাঙালি জাতিকে এবং বাংলার মাটিকে। বর্ণে-গন্ধে-স্পর্শে-শ্রবণে-লেহনে তিনি আস্বাদন করেন ইন্দ্রিয়ঘন মাতৃভূমিকে। তাঁর কবিসত্তা ও বাঙালির জাতিসত্তা একাকার হয়ে যায় ‘আকাশগঙ্গায় ঘুরপাক’ কবিতায়:
“আজ পাখির ডাক, আজ ফুলের ডাক,
আজ আকাশগঙ্গায় ঘুরপাক–
আসে বৈশাখ, এলো বৈশাখ।
আজ ভালোবাসা উপুড় করেছে তার বুক,
তাইতো বৃক্ষে-বাতাসে ঘোর রেষারেষি;
আজ পাখপাখালির বুকে বাকবাকুম ছন্দ
তাইতো জীবে-অজীবে কামান্ধ মেশামেশি;
আজ যৌবনের মুখে কালবৈশাখীর গন্ধ
তাইতো দূরবেদূরের জনপ্রাণী নয় প্রতিবেশী;
আজ পাখির ডাক, আজ ফুলের ডাক
আজ ভালোবাসার মৌচাক।”

রফিক আজাদের লেখা ‘ডোম্বীর পহেলা বৈশাখ’ অতীতের দুঃখ, তাপ, গ্লানি, শঙ্কা, ক্লেশ মোচনের লক্ষ্যে নিবেদিত। দুঃখ আছে দারিদ্র্যের কষাঘাতে, হাভাতে অবস্থায়। সে দুঃখ ভুলিয়ে দিয়ে–
“পহেলা বৈশাখ তুই বুক বেঁধে আশার আঁচলে
নতুন দিনের স্বপ্নে মগ্ন হোস বিদ্যুৎ বিভায়! ”
বলেছেন তিনি।
গ্রামীণ পরিবেশ ও দৃশ্যকল্প ব্যবহারে নিটোল, মনোগ্রাহী, নস্টালজিয়ার কবিতা আসাদ চৌধুরীর ‘বৈশাখের গল্প’। হতাশায়, ব্যর্থতার গ্লানিতে আচ্ছন্ন দেখি এই কবিতার কবিকে। আশাহত এই কবি স্বাধীনতার আনন্দ উপভোগের ক্ষেত্রে নৈরাশ্যে নিপতিত–
“…বাঙালির
সাধের মিনার, চেতনার স্তরে স্তরে
খসে খসে যায় সমাজের নিষ্ঠুর প্রহারে
জীর্ণ অট্টালিকা থেকে যেন চুন- বাতি ঝরে।”

আবদুল মান্নান সৈয়দের কবিতা ‘পয়লা বৈশাখ ১৩৭৯’ বৈশাখকে প্রকৃতির নিরন্তর পরিবর্তনের বাহক হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এক রাশ পরাবাস্তব উৎপ্রেক্ষায় সাজানো কবিতায় পাণ্ডিত্যবিভাদীপ্ত এই কবি বৈশাখকে দেখেছেন কোনো আশ্চর্য কারিগরের হাতের কৌশলরূপে,
“আমার মনের মধ্যেও
নীল-কালো-সাদা-সোনালি- পাটল চলছে অনেক রঙের খেলা
…আমাকেও রূপে চলেছে তার কাপড় মিশিয়ে।”
নির্মলেন্দু গুণ বৈশাখ অবলম্বনে লিখেছেন অ্যালেগরি কবিতা ‘খাজাঞ্চিবাবুর নববর্ষ’। নৈরাশ্যকে চিত্রায়িত করছেন তিনি এই কবিতায়। বাংলাদেশ অর্র্জিত হয়েছে, কিন্তু কী অর্জন এসেছে তার হিসেব মিলাতে কবির মন রাজি নয়। মহাজন ও খাজাঞ্চিবাবুর রূপকের মাধ্যমে কবি বলেন, খাজাঞ্চিবাবু অর্থাৎ রাজনীতিবিদগণ ব্যর্থ হয়েছেন। মহাজন, অর্থাৎ জনতার আদালতে তারা ধরা পড়ে গেছেন।

সমুদ্র গুপ্তের কবিতা ‘বৈশাখ: একাত্তরে’ মুক্তিযুদ্ধের আবেগ ও ব্যঞ্জনা, যুদ্ধের জন্য বাঙালি জাতির অস্ত্রধারণ বিষয়টি সরাসরি ভাষা খুঁজে পেয়েছে। তাঁর কবিতায় পড়ি,
“যুদ্ধের প্রথম মাসে এসেছিল পয়লা বৈশাখ
মেঘের ডম্বরু ফেলে হাতে হাতে উঠেছিল
স্বাধীনতাযুদ্ধের বজ্রনিনাদ
যুদ্ধমুখী পা আর স্বাধীনতা দেখে-ফেলা চোখ
আমাদের জেগে ওঠার প্রথম সাক্ষী ছিল বৈশাখী মেঘ।”
মোস্তফা তোফায়েল তার ‘একজন প্রমিথিউজ তিনি’-তে কালবৈশাখী ঝড়কে বলেছেন ‘ঈষাণ বিষাণী মেঘ’। এই মেঘের মিথস্ক্রিয়াজাত শক্তিসত্তার প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য–
“ছুটে চলো দুর্নিবার, এমাথা- ওমাথা,
দুন্দুভি নাদ তোলো, ফণা তুলে নাচো।
তোমার তাণ্ডব তাল মিথস্ক্রিয়ার
বাঙালি আরও বেশি তেজোদীপ্ত হবে,
জনে জনে হারকিউলিস হবে ওরা।”

বাঙালির সাংবাৎসরিক যাপিত জীবনে নববর্ষ আসে নবান্ন নিয়ে যেমন, তেমনই ‘আগামী সূর্যের শুভ উত্থান’ কবিতায় বৈশাখের উদ্বুদ্ধকারী কিংবা অনুঘটক ভূমিকাকে উপজীব্য করেছেন–
“এই তো লোকজীবন নবান্নের ধান
গৃহস্থের হালখাতায় নতুন হিসেবে আর
আগামী সূর্যের শুভ উত্থান।”
এখন থেকে ত্রিশ বছর আগে ‘বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা’ নামে একটি আদিরসঘন সুখ্যাত কবিতা পড়েছিলাম। সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হক এর রচয়িতা। বলা হয়, সে কবিতাটিতে অবচেতন মনের কথা বলা হয়েছে, অর্থাৎ Dream-এর ব্যবহার করা হয়েছে। সে-কারণেই আদিরস এসেছে অনেকটা স্থূল আকারে। Dream-এর ব্যবহারের মধ্য দিয়েই কবিতাটি আধুনিক।
আমি এই মাহেন্দ্রক্ষণে উপস্থাপন করতে চাই বীর বাঙালির দ্রোহীচিত্তের প্রতীক বৈশাখ মাসকে ২৬ মার্চে এগিয়ে নিয়ে আসার একটি প্রস্তাব। ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে ভারতের পঞ্জিকা সংশোধনের জন্য ড. মেঘনাদ সাহার সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী চৈত্র মাসে বছর শুরুর প্রস্তাব ছিল। নক্ষত্রের অবস্থান মান্য করেই সংস্কার প্রস্তাবটি করা হয়েছিল। ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে ‘বাংলাপঞ্জিকা সংস্কার কমিটি’ গঠিত হয়েছিল। তাঁর সংস্কার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল ১৩ জুন ১৯৬৩ তারিখে। কিন্তু পাকিস্তান আমলে অফিস-আদালতে ইংরেজি তারিখের ব্যবহারই বহাল ছিল। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করার পর প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ সরকারি নথিপত্রে বাংলা তারিখ ব্যবহার করেন। ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে আরও একটি বর্ষপঞ্জি সংস্কার কমিটি গঠিত হয়েছিল। বাঙালির দ্রোহী সত্তার বিজয় ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বৈশাখের অবিনশ্বর প্রতীকে ধারণ করে রাখা এবং জাতিসত্তার সমন্বয়ী চেতনাকে অধিকতর সুসংবদ্ধ ও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে পয়লা বৈশাখ ও ছাব্বিশে মার্চকে একীভূত বা দ্রবীভূত করার জন্য একটি পঞ্জিকা সংস্কার কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিতে সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ জ্ঞাপন করছি।
জয় হোক বাংলার, জয় হোক বাঙালির, দীর্ঘজীবী হোক বাংলাদেশ।

Flag Counter


2 Responses

  1. Md. asraful islam says:

    fine for lover of poetry. thanks a lot.

  2. Abdur Rahman khan says:

    Keep it

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.