অনুবাদ, উপন্যাস, বিশ্বসাহিত্য

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

anis_uzzaman | 6 Mar , 2015  

border=0বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.

অনুবাদ: আনিসুজ্জামান

———————————————————————————
ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ১৭
পরদিন বন্ধুদের অনুরোধে এক মনগড়া যকৃতের ব্যাথার অজুহাতে ডাক্তার আলিরিও নোগুয়েরার সঙ্গে দেখা করতে যায় সে । এমনকি সে জানতও না মিথ্যে অজুহাত দেয়ার কারণটা । ডাক্তার আলিরিও নগুয়েরা মাকন্দোতে আসে কয়েক বছর আগে স্বাদহীন বড়ির এক বাক্স আর এক বাক্য লেখা ডাক্তারী প্রতীক (সিলমোহর) নিয়ে, যে বাক্য কেউই বিশ্বেস করত না । “এক পেরেক বের করে আরেক পেরেক” । আসলে লোকটা ছিল মেকি । এক নিরীহ ডাক্তারের চেহারার আড়ালে লুকানো ছিল এক সন্ত্রাসী যে নাকি তার পাঁচ বছর কারাবাসের ফলে গোড়ালিতে উৎকীর্ণ বেড়ির দাগ ঢেকে রাখত এক জোড়া বুট জুতো দিয়ে। প্রথম ফেডেরালপন্থি অভিযানের সময় গ্রেপ্তার হলেও কুরাসাও-এ পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় সে। এমন এক পোষাক দিয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করে যে পোষাককে সে ঘৃণা করত সবচেয়ে বেশী : যাজকদের পোষাক । অনেক বছরের নির্বাসন শেষে সমস্ত ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে নির্বাসিতদের কাছ থেকে গরম গরম খবর শুনে উত্তেজিত হয়ে চোরাকারবারীদের এক ছোট্ট পালতোলা নৌকায় চেপে রিত্তআচায় আবির্ভূত হয় সে বিভিন্ন ছোট ছোট জার ভর্তি বড়ি নিয়ে আর নিজ হাতে জাল-করা লিপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নকল ডিপ্লোমা নিয়ে । মোহভঙ্গে কাঁদে সে । নির্বাসিতদের বর্ণিত উদ্দীপনা, যেটাকে ওরা তুলনা করেছিল এক বারুদের সঙ্গে, যেটা যে কোনো মুহূর্তেই বিস্ফোরিত হতে পারে, তা মিইয়ে যায় এক মিথ্যে নির্বাচনের মোহের মধ্য দিয়ে । ব্যর্থতায় তিক্ত হয়ে বৃদ্ধ বয়সে একটা নিশ্চিত আশ্রয়ের খোঁজে উদ্বিগ্ন হয়ে এই ভুয়া হোমিওপ্যাথ এসে আশ্রয় নেয় মাকন্দোতে । প্লাজার পাশে খালি দোতলা বাসার ছোট এক কামরা ভাড়া নেয় সে আর সব ধরনের চিকিৎসায় ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত চিনির বড়ি নিয়ে সান্তনা পাওয়া রোগীদের দেখে কয়েক বছর কাটিয়ে দেয় সেখানে । যতদিন পর্যন্ত দন আপলিনার মসকতে নামেমাত্র কর্তৃত্ব ছিল ততদিন তার আন্দোলন করা প্রবৃত্তিগুলো ছিল ঘুমন্ত। সময়গুলো পার হচ্ছিল তার স্মৃতিচারণ করে আর হাপাঁনীর সঙ্গে যুদ্ধে । আসন্ন নির্বাচন তার জন্য নতুন করে আন্দোলনে ঢোকার সুতো স্বরূপ কাজ করে । রাজনৈতিক জ্ঞানহীন গ্রামের যুবকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে আর গোপনে আরম্ভ করে উস্কানীমূলক কাজের প্রচার-অভিযান । ব্যালট বাক্সে এত লাল কাগজের উপস্থিতি যেটাকে দন আপলিনার মসকতে তরুণদের দিবা স্বপ্ন বলে গন্য করে, সেটা ছিল আলিরিও নেগরিয়রি পরিকল্পনার অংশ: নির্বাচন যে একটা প্রহসন এই ব্যাপারটা বোঝাতে সে তার শিষ্যদের ভোট দিতে বাধ্য করে । “সন্ত্রাসই হচ্ছে একমাত্র কার্যকর পদ্ধতি”–বলত সে। আউরেলিয়ানোর অধিকাংশ বন্ধুই রক্ষনশীলদের কর্তৃত্বকে উৎখাত করার ব্যাপারে উৎসাহী থাকলেও কেউই তাকে পরিকল্পনার অংশীদার করতে সাহস করেনি । কারণ শুধুমাত্র ম্যাজিষ্ট্রেটের সঙ্গে তার নৈকটত্বের কারণেই নয় বরঞ্চ তার একাকিত্বে ভরা সব কিছু এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতার জন্যও বটে । এছাড়াও ওরা জানত যে শশুরের নির্দেশমত আউরেলিয়ানো নীলে ভোট দিয়েছে । ফলে ঘটনাচক্রে তার এই রাজনৈতিক মতামতের জন্যই বন্ধুরা কৌতূহলবশত এক কৃত্রিম ব্যথা নিরাময়ের জন্য তাকে পাঠায় ডাক্তারের কাছে । নিজেকে আবিস্কার করে সে এক মাকড়শায় আচ্ছাদিত ঝুপড়ির মধ্যে, এক ধুলোভরা ইগুয়ানার সামনে যার নিশ্বাসের সঙ্গে শিষ বের হয় । কোন কিছু প্রশ্ন করার আগেই ডাক্তার তাকে জানালার কাছে নিয়ে যায় এক চোখের ভিতরে পাপড়ি পরীক্ষা করে । “ওখানে নয়” বলে আউরেলিয়ানো, যেভাবে তার বন্ধুরা নির্দেশ দিয়েছিল। যকৃতের জায়গাটা ভিতর দিকে দাবিয়ে দিয়ে আঙুগুলের ডগা দিয়ে দেখিয়ে যোগ করে: এখানেই, যেখানে আমার ব্যথা করে আর আমাকে ঘুমুতে দেয় না । সুতরাং ডাক্তার নোবুয়েরা প্রচুর রোদের উসিলায় জানালাটা বন্ধ করে আর সহজভাবে ব্যাখ্যা করে কেন রক্ষনশীলদের খুন করা দেশ প্রেমিকদের জন্য কর্তব্য । এরপর অনেকদিন আউরেলিয়ানো শার্টের পকেটে এক ছোট্ট বোতল বহন করে । ওটাকে সে বের করত প্রতি দুই ঘন্টা পরপর। শিশিটা বের করে হাতের তালুতে তিনটি গুলি নিয়ে এক ধাক্কায় মুখের ভিতর ঢুকিয়ে দিত যাতে আস্তে আস্তে সেগুলো চলে যায় জিহবার ভিতর । হোমিওপ্যাথির উপর বিশ্বাসের কারণে দন আপলিনার মসকতে বিদ্রুপ করে ওকে কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা ঠিকই ওকে চিনতে পারে নিজের দলের একজন হিসেবে । প্রায় সকল পত্তনকারীদের ছেলেরাই দলভুক্ত হয় যদিও তাদের কেউই নিশ্চিতভাবে জানে না তাদের ষড়যন্ত্রের কারণ । যাইহোক যেদিন ডাক্তার গোপন ব্যাপারটা আউরেলিয়ানোর কাছে উন্মোচন করে সে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রটাই আলোয় টেনে বের করে । যদিও রক্ষনশীল দলকে ক্ষমতাচ্যুত করার আশু প্রয়োজনীয়তা সমন্ধে সে নিশ্চিত ছিল তবুও পরিকল্পনাটা ছিল রোমহর্ষক । লোকজনকে হত্যা করার ব্যাপারে ডাক্তার নোগুয়েরা ছিল এক বিশেষজ্ঞ । তার কর্মপদ্ধতি ছিল ধারাবাহিকভাবে একের পর অফিসারদের এবং তাদের পরিবারসহ বিশেষ করে শিশুদের নিকেশ করবার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে সাড়া দেশ জুড়ে রক্ষনশীলদের মূলসহ উৎপাটনের এক ওস্তাদী মার দেয়ায় । অবশ্যই তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল দন আপলিনার মসকতে, তার স্ত্রী আর ছয় মেয়েরা । “আপনি উদারপন্থি নন, এমনকি কিছুই নন” । উত্তেজিত না হয়ে বলে আউরেলিয়ানো– “আপনি শুধুমাত্র এক কসাই ছাড়া আর কিছুই নন” । “সেক্ষেত্রে”– ডাক্তার উত্তর দেন একই রকম ঠান্ডা মাথায়– “আমাকে ছোট্ট শিশিটা ফেরত দাও, তোমার আর ওটার প্রয়োজন নেই” । শুধুমাত্র ছয়মাস পরই আউরেলিয়ানো জানতে পারে যে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে কাজে লাগবে এমন লোকদের তালিকা থেকে, কারণ সে ছিল ভবিষ্যৎহীন এক ভাবপ্রবণ লোক, যে ছিল নিঃসঙ্গ আর নিরুদ্যম চরিত্রের । ষড়যন্ত্রটা জানিয়ে দেবে এই ভয়ে চোখে চোখে রাখে তাকে । আউরেলিয়ানো ওদের আশ্বস্ত করে যে সে একটা কথাও বলবে না, কিন্তু যে রাতে মসকতে পরিবারকে খুন করতে যাবে তখন আউরেলিয়ানো দরজায় থাকবে প্রতিরোধ করতে–এই সিদ্ধান্তটা ওদের এতই স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় যে পরিকল্পনাটা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য মুলতবি করা হয় । এই সব দিনেই উরসুলা পিয়েত্র ক্রেসপি আর আমারান্তার বিয়ের ব্যাপারে তার মতামত জানতে চেয়েছিল । আর সে উত্তর দিয়েছিল ওগুলো ভাবার সময় এখন নয় ।
——————————-

আর্হেন্তিনার বুয়েনোস আইরেস-এর
এদিতোরিয়াল সুদামেরিকানা প্রকাশনী থেকে
প্রকাশিত ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’ উপন্যাসের
প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ

——————————-
border=0
এক সপ্তাহ যাবৎ সে বহন করত এক প্রাচীন আমলের পিস্তল,আর নজর রাখতো বন্ধুদের উপর । বিকেলের দিকে কফি পান করতে যেত হোসে আর্কাদিও ও রেবেকার ওখানে, যারা তাদের ঘড় সাজানো আরম্ভ করেছে তখন । আর সন্ধ্যে সাতটা থেকে দোমিনো খেলত শশুরের সঙ্গে । দুপুরের খাবার সময় আলোচনা করত দশাসই হয়ে ওঠা কিশোর আর্কাদিওর সঙ্গে । আর তাকে পেত আসন্ন যুদ্ধের আঁচে ক্রমশই আরো উত্তেজিত অবস্থায় । স্কুলে কেবল মাত্র বোল ফুটেছে এমন শিশু থেকে শুরু করে ওর থেকেও বয়সে বড় এমন সব ছাত্র ছিল আর্কাদিওর আর তাদের গায়েও এসেছিল উদারপন্থি জ্বর । ওরা আলাপ করত ফাদার নিকানোরকে গুলি করে খুন করার, গীর্জাটাকে স্কুলে পরিবর্তন করার আর বাধাহীন মিলনে স্বীকৃতি দেয়ার। ওদের এই উত্তেজনাকে শান্ত করার চেষ্টা করে আউরেলিয়ানো । ওদেরকে পরামর্শ দেয় গোপনীয়তার আর সতর্কতার । ওর ঐ ঠান্ডা মাথার বাস্তব বুদ্ধিতে কান না দিয়ে সকলের সামনেই আর্কাদিও তাকে দুর্বল চরিত্রের লোক আখ্যা দিয়ে তিরস্কার করে । আউরেলিয়ানো অপেক্ষা করে । শেষ পর্যন্ত ডিসেম্বরের প্রথম দিকে উরসুলা কর্মশালায় উত্তেজনার ঝড় তোলে।
-“যুদ্ধ বেঁধে গেছে”
সত্যিকার অর্থে যুদ্ধ বেধেছে আরও তিন মাস আগে । সামরিক আইন জারি হয়েছে সাড়া দেশ জুড়ে। একমাত্র দন আপলিনার মসকতেই জেনেছিল সময়মত কিন্তু সবাইকে আশ্চর্য করে এক সেনাবাহিনী গ্রামটাকে দখল করার আগ পর্যন্ত এমনকি ব্যাপারটা তার স্ত্রীকেও জানায়নি সে। ওরা ঢুকে নিঃশব্দে ভোর হওয়ার আগে খচ্চরে টানা দুটো হাল্কা কামান নিয়ে আর স্কুলটাকে বানায় সামরিক ঘাটি । সন্ধা ছটায় কার্ফু জারি হল । তল্লাশি হল বাড়ি বাড়ি গিয়ে আর এবারেরটা হল আগেরটার চেয়েও কড়া । এমনকি এবার বাজেয়াপ্ত হল চাষবাসের যন্ত্রপাতিগুলোও। টেনে ছেচড়িয়ে বের করে আনে তারা ডাক্তার নোগুয়েরাকে বাঁধে প্লাজার এক গাছের সঙ্গে আর বিচারহীন গুলি করে মারে তাকে। ফাদার নিকানোর শূন্যে ভাসার অলৌকিকতা দেখিয়ে সামরিক কর্তৃত্বদের মন জয়ের চেষ্টা করলে এক সৈনিক রাইফেলের বাট দিয়ে তার মাথা ফাটিয়ে দেয়। উদারপন্থি উন্মাদনা নিভে যায় এক ভয়াবহ নীরবতায়। পান্ডুর, রহস্যময় আউরেলিয়ানো দোমিনো খেলে চলে তার শশুরের সঙ্গে। সে বুঝতে পারে যে বেসামরিক ও সামরিক পদমর্যাদা থাকা সত্বেও দন আপলিনার মসকতে পরিণত হয়েছে এক অালঙ্কারির কর্তৃত্বে। সামরিক বাহিনীর কাছে নিত সমস্ত সিদ্ধান্ত, যে নাকি নাগরিক শৃঙ্খলা রক্ষার খাতিরে প্রতি সকালে অসাধারণ রকমের অংকের টোল আদায় করত। তার অধীনে চারজন সৈন্য পাগলা কুকুরে কামড় দেয়া এক মহিলা তার পরিবার থেকে ছিনিয়ে নিয়ে বন্দুকের বাট দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলে সকলের সামনে রাস্তার উপর। সামরিক দখলের দু সপ্তাহ পর এক রোববার আউরেলিয়ানো ঢোকে হেরিনেল্দো মারকেজের বাড়ি তার স্বভাবজাত শান্তভাব নিয়ে আর চিনি ছাড়া এক কাপ কফি চায়। যখন রান্নাঘরে শুধু মাত্র দুজন তখন আউরেলিয়ানো তার গলায় আনে এক কর্তিৃত্বের স্বর যেটা কখনই কেউ জানতনা– “ছেলেগুলোকে তৈরি হতে বল,” বলে–“যুদ্ধে যাচ্ছি আমরা”। হেরিনেল্দো বিশ্বাস করে না।
“কোন অস্ত্র দিয়ে”- জিজ্ঞেস করে।
“ওদের অস্ত্র দিয়ে”- উত্তর দেয় আউরেলিয়ানো। এক মঙ্গলবার মধ্যরাতে আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার আজ্ঞাধীন তিরিশ বছরের কম বয়স্ক একুশজন যুবক খাবার টেবিলের ছুরি ও ধারালো লোহা দিয়ে এক অভাবনীয় কস্মাৎ হামলা চালিয়ে দখল করে সেনাশিবির, নিয়ে নেয় তাদের অস্ত্রশস্ত্র, উঠানেই গুলি করে মেরে ফেলে ক্যাপ্টেন আর সঙ্গে চারজন সৈনিককে যারা হত্যা করেছিল মহিলাকে।
ঐ একই রাতে যখন সৈনিকদের মেরে ফেলার গুলির আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল তখনই আউরেলিয়ানোর আত্মপ্রকাশ ঘটে সামরিক কর্তৃত্ব হিসেবে। কোনরকমে সময় পায় বিবাহিত বিদ্রোহীরা নিজেদের স্ত্রীর কাছ থেকে বিদায় নেবার আর তারা স্ত্রীদের বলে নিজেদের ব্যবস্থা নিজেরাই যেন করে নেয়। আতঙ্কমুক্ত লোকজনের আনন্দধ্বনির মধ্য দিয়ে ভোরবেলায় ওরা চলে যায় বিদ্রোহী জেনারেল বিক্টর মেদিনার শক্তির সঙ্গে যোগ দেবার জন্য, শেষ খবর অনুযায়ী যে তখন ছিল মানাউরের পথে। যাবার আগে আউরেলিয়ানো দন আপলিনার মসকতেকে বের করে আনে এক জামাকাপড় রাখার দেয়াল আলমারি থেকে। “আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন” বলে তাকে, “নতুন সরকার সম্মানজনক কথা দিচ্ছে পারিবারিক এক নাগরিক নিরাপত্তার”। এই উঁচু বুট পরিহিত, পিঠে বন্দুক ঝোলানো লোকটাকে তার সঙ্গে রাত নটা পর্যন্ত দোমিনো খেলার মানুষটাকে মেলাতে কষ্টকর হয়ে দাড়ায় দন আপালিনো মসকতের জন্য। “এটা এক পাগলামী আউরেলিতো”–কাতর কন্ঠে বলে সে। “কোনো পাগলামীই নয়”- বলে আউরেলিয়ানো- “এটা হচ্ছে যুদ্ধ। আর আমাকে কখনই আউরেলিতো বলবেন না। আমি হচ্ছি কর্ণেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া।”

(চলবে)

কিস্তি-১ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৩ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৪ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৫ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৬ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৭ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৮ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৯ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১০ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১১ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১২ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৩ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৪ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৫ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১৬ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

Flag Counter


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.