কবিতা

পাঁচটি কবিতা

অবনি অনার্য | 29 Dec , 2007  

27-illus.jpg

গণিতশাস্ত্র : + – x -:-
যোগব্যায়াম তো নিয়মমাফিক করো, নাস্তা করি জলযোগেতে রোজ
যোগনিদ্রায় স্বপ্ন দেখো কারে, ভাবনা করি এইমতো ফি-রোজ
যোগভঙ্গ কাহার যোগসাজশে, যোগমায়াগো যোগ্য আমি নই
যোগসাধনে নগ্ন হয়ে বসো, দিচ্ছি কথা স্পর্শিবো না, সই

বিয়োগান্ত নাটক কতো আর, জলবিয়োগ হররোজই তো ঘটে
বউ-বিয়োগে কান্না কেন আসে, পরনারী ক্ষেত্রে কথা রটে

গুণ করা তো জন্মগত তোর, খুন করাও স্বভাবজাত, নারী
পাজামায় যে গুণ সেঁটেছ তুমি, সে-গুণ ধরে টানবে এ-গুনারি
গুণবতীর গুণমুগ্ধ আমি, গুণহীনের একটাই তো গুণ
গুণানুরাগ আছে একজনেরই, বঙ্গে তিনি নির্মলেন্দু গুণ

হতে পারিস মহাজনের বউ, ভাগরা নিছি শাস্ত্রমতে, সতী
তেভাগা আইনে ভাগ নেবো রে ঠিকই, ভাগীরথীর কসম ভগ-বতী
০৩/০৫/০৫

ওঁর সাথে আ(ই)ল ঠেলাঠেলি
ত্যাঁড়ামি করিলে কিন্তু অক্ষরবৃত্তে চিত্তর করিব
অযথা ঘাঁটাও আর আ(ই)ল ঠেলাঠেলি কর ক্যান
ফজরে যাবার কালে বাম থিকা আলে লাথি মারো
আমার খেতের আল ডানদিকে সরে কিঞ্চিৎ
দুইদিক থিকা ক্রস কর মুখে নাই বাতচিৎ
আচারে গলদ নাই, ভাবটা য্যান ‘কিছুই জানি না’
পাগল ঠাউরাইছ, না? বুঝি নাই ভাইবা চোখ ঠারো
আর তামামদুনিয়া রাষ্ট্র কর—বোকা বানাইছি

গিয়া দেখ একখান লাথি আমি ডান থেকে দিছি
তোমার একদিন কি আমার যে-কয়দিন লাগে
তোমার থালাত্ ধান আমার জুটলো তুষ ভাগে
ওসব মানি না আজ বকেয়া নগদ বুঝে নেবো

বিপরীত দ্বৈতচোটে আল আছে সাবেকি সে-হালে
মাবুদ নিকটে আছে রেষারেষি মিছাই খেয়ালে।
২৫/০৯/০৪

রিটায়ার্ড পোয়েটস
বহু কসরত করে হজরত কবিগণ
টায়ার্ড হইয়া, তবু না ছাড়েন বনলতা
তারপর তোফা বিশ্রাম নিয়া রি-টায়ার্ড
শ্রমে কাজ নাই, তাই শ্রম ছেড়ে আশ্রমে

মাঝে মাঝে নাম দেখা যায় থার্ড ব্র্যাকেটে
নতুন কবিগো সনদ আছে রে পকেটে
ব্যর্থ যাহারা অহমিকা তাগো অতি হাই
আমারে আপনে না চেনেন তাতে ক্ষতি নাই
০২/১০/০৫

পরস্ত্রীকাতরতা
প্রেমের দোহাই দিয়া জারি করা হৈলো অধ্যাদেশ
এবার বেকার হবে নিরাকার—বঙ্গদেশ নিজপায়ে খাড়াবে
ভাবটা এমন যেন এতোদিন আর কারো পায়ে
ভর দিয়া কোনোমতে ঝুইলা ছিলো ডব্লুবি কি এডিবি-সুতায়
এমন মিহিনসুতা এ-বঙ্গে আর কোনো বোনা হয় নাই
তিনাগো কাঁথার কিবা কথার জালেতে
আমাগো নীতির যারা নির্ধারণকারী
বানায়া বইসা আছে গোড়াঢাকা জোব্বা একখান—
এতো বড়ো জোব্বা যে বানাইছেন যাদু মোতার ব্যবস্থা রাইখছেন তো
চামড়া শাদা বাবাগণ পারমাণবিকখাতে বড় বেশি পটু
কেননা তেনারা অতি পরামানবিক
তিনাগোর স্ত্রীরা ইস্ত্রিকরা তোলাশাড়ি
পরনারী প্রতি তাগো অতিদুর্বলতা
পৃথিবীর কোন এক অজপাড়া ফুলবাড়িও পায় না রেহাই

মাটিতে লুকিয়ে থাকা কয়লা নিয়া কতো আর ধানাইপানাই
আসেন, আমাগো চামড়া দিয়া অতএব আমরা তিনাদের পাম-শু বানাই
৯/১১/০৭

ক্যাটওয়াক
(লেড়েচেড়ে লেড়েচেড়ে এখন বুইলচে লেবে না)
লাল হলো চোখ ব্যাকটেরিয়া কি ফাংগাসে
কম বিপদে কি বিড়াল উঠেছে ভাং গাছে!
নজর রাখছে চার পায়ে বিড়ালাক্ষী
পাশে বসে এই ঘটনার আমি সাক্ষী

(হোয়াট ইজ মাইন্ড?—নো ম্যাটার; হোয়াট ইজ ম্যাটার?—নেভার মাইন্ড।)
লিপস্টিকের দাগ লেগে গায়ে তন্দুরির
প্রেমসংকুল ঘনায় রজনী শারদ
বিড়ালের হাঁটা মাপকাঠি হবে সুন্দরীর
এমনটা ভেবেছিল কি প্রাণিবিশারদ!
২৪/১২/০৫

aunarjo@gmail.com


2 Responses

  1. কবিতাগুলোর সমকাল ধারণ, নান্দনিকতা খুব প্রাঞ্জল।

  2. Amio Chowdhury says:

    কাজুবাদাম আর ওয়াইন
    চমৎকার ফাইন।

    আমি শব্দ নিয়ে খেলা করাটা পছন্দ করি। আর কবিতায় যখন আকর্ষণীয় প্রয়োগ পাই ভাল লাগে। একই কবিতায় ফার্সি ও ইংরেজি শব্দের প্রয়োগের যে প্রয়াস তা ভাল লেগেছে। ষাট ও সত্তরের দশকের কবিতায় বিদেশী শব্দের প্রয়োগ পাওয়া যায় কিন্তু এখানে শব্দের প্রয়োগ যেন ভিন্ন ব্যঞ্জনায়। নতুন শব্দ সৃষ্টির প্রয়াসকে স্বাগত জানাই। পরস্ত্রীকাতরতা, পরামাণবিক অসাধারণ ব্যঞ্জনাময় “ক্যাটওয়াক” কবিতার ছন্দ ক্যাট ওয়াকের মত। যেমন দেহভঙ্গিমার মত বদলে যায় রূপ। যদিও ছন্দের প্রকরণে দেহভঙ্গিমার উপমা শাস্ত্রসম্মত কিনা তা আমার অজানা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.