কবিতা

গোলাম মোর্শেদ চন্দনের গুচ্ছ কবিতা

golammorshed_chondon | 29 Jan , 2015  

ভেলা

সেদিন রোদ্দুর দেখিনি- শিশির দেখেছি
ভোরের
মাকড়সার জালে মণি-মুক্তা, তোমার সিথানে
ওম
ভোর হতে তবুও বাকী। কল্পতরু আমাকে
ওম দিয়েছিল রোদ পোহানোর। তার মা
‘কথা’ বাবা ‘গল্প’ আর ভাইটির নাম
রুদ্র অনির্বান
রোদ পোহানো হয়নি রুদ্রের অনির্বাণে।

আমরা
শেষমেষ
কচুরিপানা
হলাম


শেষযাত্রা

কতদিন পর বৌ বৌ খেললাম বাচ্চাদের সাথে
মুখ টিপে বাচ্চাদের মা বলল- তুমি পারও
আসলেই কী পারি আমি ? তবে কেন পারি না বলয় ভাঙতে
নিজেকে প্রশ্ন করতে নিজেই একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন
ভাঙতে থাকি অদৃশ্যের দেয়াল আর অতৃপ্ত খেয়ালের ভূষণ
দিন যায় দিন আসে শুধু আমিই হাঁটি উল্ট রথের মেলায়
হাঁটতে হাঁটতে ফিরে আমিহীন হয়ে যায় আমার ভূগোল
তুমুল হট্টগোল ভেদ করে তবুও হাঁটি
মহাসড়ক

জীবন

আয়ু
চলো
এক মিটার প্রস্থ নিয়ে
সীমাহীন দৈর্ঘ্যরে দিকে

পূর্ণ জ্যোৎস্নায়

দ্বাদশী বলতে পার কারে আমি ভোগ দেব আমাবর্ষায়
জ্যোৎস্নার মাতম। শুরু হয়েছে কেবল গীতল নৃত্যধারা
একবার দেখ বসে-চাঁদ আজ নেমেছে উঠোন জুড়ে
আমি আর হারাবো না এপাড়ের সুখে। আঙিনা জুড়ে
ছড়িয়ে দাও বিন্নি ধানের খৈ, গুছিয়ে রাখো রাশি রাশি মেঘ
খৈ ও মেঘে বাড়ি বানাবো
পূর্ণ জ্যোৎস্নায়

এক টুকরো ভূগোল

ধীরেন কাকু, ধীরেন কাকু…,ও ধীরেন কাকু, কাকিমা
ঘরের দরজা দুটো খোলা, বাতাস নাড়াচ্ছে ওপাড়

ছাই মাখানো কাটা কই দুটো লাফাচ্ছে এখনও
ছাগল ছানাটি ক্ষেত থেকে লাফাতে লাফাতে
বাড়িতে আসছে আবার ফিরে যাচ্ছে…
সুনসান নীরবতা। মাঝে মাঝে বাঁশঝাড়ের ভেতর থেকে
ভেসে আসছে শব্দ, পুরো বাড়ি তৈ তৈ ঘুরে। ভাবে-
আরে আজ না ধীরেন কাকুর ঢাকা যাওয়ার কথা
সকালের গাড়িতে। এখন দশটা বাজে কাকু হয়তো ভাসছে
পদ্মায়
শৌচাগারে শব্দে শব্দে বেঁচে আছে ধীরেন।
মোবাইলে এফ.এম রেডিওর শিরোনাম ‘ মাওয়া কাওড়া কান্দি রুটে
শতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চ দুর্ঘটনায়।’ তাহলে ধীরেন কাকুও…
আর কাকিমাকে ওপাড়ে পাঠানো গেলে ভূগোলটা বড় হবে !

ধীরেন ফিরে আসে, মোবারক ফিরে যায়
লাশের মিছিলে ভারী হয় নদী, ভারী হয় জল

সীমানা

সীমানাটা আরেকটু বামে দিয়ে তোমায় সীমানা বরাবর রাখো
মিলেমিশে তৈরি করবে ভুবন । যেমন তৈরি হয়
মেঘে মেঘে ঘর্ষণে, আমরা বজ্র হবো
শিলাবৃষ্টির ভেতর আর এক জমিন হবো একই সীমানার ।
দিগন্ত বিস্তৃত চলমান মেঘের মতন বিবাদহীন হেঁটে যাবো, ভোর অবধি
বোধের নাকফুল পরে ।
ভোরের কোকিল হয়ে চল গলা মেলাই সুরে, সূরার তরীতে ভেসে…

যাতনা

স্বপ্নের শিথানে আজ উঁইপোকা ওড়ে, গড়াগড়ি করে
মৃত্যুর সমষ্টিগত ব্যাকরণ নিজেকে খায়
আগামীর ধূসর জমিনে দেখি এক ঝাঁক ঘুঘু
স্মৃতির চেরাকোটা মুখে নিয়ে উপহাস করে
আমি তখন তরবারী হাতে সময়ের সাথে করি
আপোস

Flag Counter


1 Response

  1. হামীম ফারুক says:

    দারুন ভাল লাগল!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.