arts.bdnews24.com » গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

আনিসুজ্জামান | ৭ জানুয়ারি ২০১৫ ৭:২১ অপরাহ্ন

border=0বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.

অনুবাদ: আনিসুজ্জামান

———————————————————————————
ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ১৩

রেবেকার চিৎকারের কারণ গোপন রাখা সম্ভব না হওয়ায় সকলেই ওর আসক্তির কথা জেনে যায়, আর এদিকে আমারান্তা ভোগে প্রচণ্ড জ্বরে । যেন নিঃসঙ্গ প্রণয়ের কণ্টক ফুটেছে ওর মধ্যেও । গোসলখানার দরজা বন্ধ করে প্রণয়ের ঝড় উজার করত আশাহীন আবেগতপ্ত চিঠি লিখে আর সন্তুষ্ট হত তোরঙ্গের তলায় ওগুলোকে লুকিয়ে রেখে । উরসুলা কোনো রকমে দুজন রোগীর দেখাশোনা করার সময় করে উঠতে পারে । অনেক সময় ধরে গোপন জেরা করার পরও আমারান্তার এই অবস্থার কারণের স্বীকারোক্তি আদায় করা যায় না । পরিশেষে এক ক্ষণিক খেয়ালবশে তোরঙ্গের তালা ভেঙে পাওয়া যায় গোলাপি ফিতে বাঁধা তাজা লিলি ফুলে স্ফীত, আর চোখের জলে ভেজা চিঠিগুলো; যেগুলো পিয়েত্র ক্রেস্পিকে উদ্দেশ্য করে লেখা আর কখনও সেগুলো তাকে পাঠানো হয়নি । রাগে কাঁদতে কাঁদতে শাপান্ত করে সেই সময়টাকে যখন তার ইচ্ছে হয়েছিল পিয়ানোলাটাকে কেনার, আর বন্ধ করে দেয় এমব্রয়ডারির ক্লাস। যদিও কেউ মারা যায়নি; তবুও ঘোষণা করে এক ধরনের শোকাবস্থার যেটা নাকি চলতে থাকবে যতদিন না মেয়েরা পিয়েত্রর আশা ত্যাগ করছে । এ ক্ষেত্রে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার মধ্যস্থতা বৃথাই গেল, কারণ সে পিয়েত্র ক্রেস্পির বাদ্য যন্ত্রের উপর দক্ষতা দেখে তার সম্পর্কের পূর্বধারণা বদলে ফেলেছিল । ফলে যখন পিলার তেরনেরা আউরেলিয়ানোকে বলল যে রেমেদিওস তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তখন সে বুঝতে পারে যে খবরটা তার বাবা মাকে যন্ত্রণার শেষ অবস্থায় নিয়ে যাবে । কিন্তু অবস্থার প্রেক্ষিতে কাজটা করতে হয় তার । অতিথিদের বসার ঘড়ে এক আনুষ্ঠানিক আলোচনায় আমন্ত্রিত হয়ে ছেলের সাহসী ঘোষণা শোনে তারা, যদিও দয়িতার নাম শুনে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া অপমানে লাল হয়ে যায় । বজ্রাহতের মতো হয়ে বলে, “প্রেম হচ্ছে মহামারী। এত সুন্দরী আর ভদ্র মেয়ে থাকতে একমাত্র তোর বিয়ে করার ইচ্ছে হয় শত্রুর মেয়ের সঙ্গে !”
কিন্তু উরসুলা একমত হয় ওর এই পছন্দের সঙ্গে। স্বীকার করে যে সত্যিই মসকতের সাত বোনই সৌন্দর্য, কর্তব্যপরায়ণতা, সহবৎ, উত্তম শিক্ষার দিক থেকে উল্লেখযোগ্য আর ছেলের সিদ্ধান্তে খুশি হয় সে । স্ত্রীর এই উৎসাহের কাছে হার মেনে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া এক শর্ত জারি করে, “ পিয়েত্র ক্রেস্পি রেবেকাকেই ভালবেসেছে এবং সে-ই বিয়ে করবে পিয়েত্র ক্রেস্পিকে । যখন হাতে সময় হবে উরসুলা নিয়ে যাবে আমারান্তাকে প্রাদেশিক রাজধানীতে যাতে করে বিভিন্ন লোকজনের সংস্পর্শে এসে সে এই হতাশা থেকে আরোগ্য লাভ করে।”
এই সিদ্ধান্ত জানার পরপরই রেবেকা সুস্থ হয়ে ওঠে; আর দয়িতের কাছে বাবা মা তাদের বিয়েতে মত দিয়েছে এই জানিয়ে এক উল্লসিত চিঠি লিখে। অন্য কারও সাহায্য না নিয়ে নিজেই ওটাকে ডাকে ফেলে আসে । আমারান্তা সিদ্ধান্তটা মেনে নেওয়ার অভিনয় করে। আস্তে আস্তে তার জ্বর ভালো হয়ে যায় কিন্তু সে নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করে যে একমাত্র তার মরা লাশকে ডিঙিয়েই রেবেকা বিয়ে করতে পারবে ।

পরের শনিবার হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া কালো কাপড়ের সেলুলয়েডের কলারসহ স্যুট, বাড়ি উদ্বোধনের দিন প্রথম পরা পশমি চামড়ার বুট পরে রেমেদিওস মসকতের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যায় । ম্যাজিস্ট্রেট আর তার স্ত্রী একই সঙ্গে আনন্দ আর দুশ্চিন্তা নিয়ে তাকে আপ্যায়ন করে কারণ এই অকস্মাৎ সফরের অর্থ তাদের ছিল অজানা । আর পরে ওরা ভাবে, তারা দয়িতার নাম গুলিয়ে ফেলেছে। ওর ভুল ভাঙাতে রেমেদিওসের মা তাকে ঘুম থেকে তুলে বাহু ধরে বসার ঘড়ে নিয়ে যায়। তখনও তার চোখে ঘুম লেগে ছিল ।
সত্যিই সে বিয়ে করতে রাজি কিনা এই প্রশ্ন তাকে করায় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে সে বলে যে সে শুধুমাত্র চায় যে তাকে ঘুমুতে দেওয়া হোক। মসকতেদের এই বিভ্রান্তিকর অবস্থা বুঝতে পেরে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া ব্যাপারটা খোলসা করার জন্য আউরেলিয়ানোর কাছে যায় । যখন ফিরে আসে ততক্ষণে মসকতে দম্পতি আনুষ্ঠানিক পোশাক পরে, আসবাবপত্রের অবস্থান বদলে, ফুলদানিগুলোতে নতুন ফুল সাজিয়ে, ওদের বড় মেয়েদের নিয়ে অপেক্ষা করছিল । ঘটনাটার অসামঞ্জ আর শক্ত কলারের অস্বস্তিতে পর্যুদস্ত হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া ওদের নিশ্চিত করে যে রেমেদিওসই হচ্ছে পছন্দের পাত্রী ।
“এর কোনো মানেই নেই।” হতাশা নিয়ে বলে দন আপলিনার মসকতে, “আমাদের আরও ছয়টি মেয়ে আছে, সকলেই অবিবাহিতা আর সকলেরই বিয়ের বয়স হয়েছে । যারা কিনা আপনার ছেলের মতো নিষ্ঠাবান আর পরিশ্রমী লোকের বউ হতে পারলে আনন্দিত আর সম্মানিত হত। আর কিনা আউরেলিতোর চোখ পড়ল একমাত্র তার উপর, যে নাকি এখনও বিছানায় প্রশ্রাব করে ।”

সুসাস্থ্যের অধিকারী তার স্ত্রী বেদনাক্লিষ্ট আঁখিপল্লব ও মুখভঙ্গী নিয়ে মসকতের ভুলের জন্য তিরস্কার করে। ফল বাটা শরবত পান শেষ করে আউরেলিয়ানোর সিদ্ধান্তে আনন্দের সঙ্গেই সম্মত হয় ওরা । শুধুমাত্র মিসেস মসকতে একাকী উরসুলার সঙ্গে একবার আলাপের জন্য অনুনয় করে । পুরুষদের ব্যাপারে জড়ানোর জন্য আপত্তি জানালেও কৌতূহলী উরসুলা বাস্তবিক অর্থেই আবেগের কাছে হেরে পরদিন দেখা করতে যায় । আধ ঘণ্টা আলাপ করার পর এই সংবাদ নিয়ে ফিরে যে রেমেদিওসের তখনও যৌনরোম গজায়নি । আউরেলিয়ানো এটাকে কোনো একটা বড় বাঁধা হিসাবে গণ্য করে না । এতদিন অপেক্ষা করেছে, আরও যতদিন প্রয়োজন সে অপেক্ষা করবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না দয়িতার গর্ভধারণের বয়স হয় ।

এই নতুন ঐকতান বাধাগ্রস্ত হয় মেলকিয়াদেসের মৃত্যুতে । যদিও ব্যাপারটা আগে থেকে জানা ছিল তবুও পরিস্থিতিটা সুনির্দিষ্ট ছিল না । ফিরে আসার কিছুদিন পর থেকেই খুব দ্রুত সংকটজনকভাবে বুড়িয়ে যাবার এক প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে সে আর কিছুদিনের মধ্যেই হয়ে পড়ে সেই সব অকর্মা প্রপিতামহদের একজন, যারা ছায়ার মতো ঘুরে ঘুরে বেড়ায় পা টেনে টেনে; শোবার ঘড়গুলোতে উচ্চস্বরে জীবনের মধুর সময়গুলোর স্মৃতিচারণ করতে করতে; যাদের কেউ দেখাশোনা করে না; সত্যিকারভাবে তাদের কথা কারও মনেও পরে না, যতক্ষণ না তাদের বিছানায় পাওয়া যায় মৃত অবস্থায় । গোড়ার দিকে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া ওর কার্যকলাপে সাহায্য করত দাগেরোটিপোর নতুনত্ব আর নস্ত্রাদামুসের ভবিষ্যৎ বাণীতে উৎসাহী হয়ে । কিন্তু ক্রমশই ওকে একাকীত্বের কাছে পরিত্যাগ করে। কারণ প্রতিবারই তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়ে উঠেছিল দুরূহ, সে হারিয়ে ফেলছিল তার দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি । মনে হত যেন কথা বলছে সে মানবসভ্যতার আদিম অবস্থায় তার সঙ্গে পরিচিত কোনো মানুষের সঙ্গে । বাতাস হাতড়ে হাঁটত সে। জিনিসপত্রের মধ্য দিয়ে এক অবিশ্বাস্য সাবলীলতার সঙ্গে তার এই চলাফেরা যেন ইঙ্গিত করত সহজাত প্রবৃত্তির মাঝে থাকা তাৎক্ষণিক পূর্বধারণা দিয়ে তার দিক-নিদর্শন করার ক্ষমতা ।
একদিন সে ভুলে যায় নকল দাঁতটা পরতে। সাধারণত রাতের বেলা বিছানার পাশে পানির মধ্যে রেখে দিত সেটা। সেদিন থেকে সেটাকে আর কখনও পরেনি সে । উরসুলা যখন বাড়িটা বানায় তখন আউরেলিয়ানোর কর্মশালার পাশেই একটা বিশেষ কামরা তৈরি করায় যেটা ছিল সব গার্হস্থ্য তৎপরতা আর হট্টগোল থেকে দূরে । ঘরটা জানালা দিয়ে আসা আলোয় ডুবে যেত আর সেখানে উরসুলা নিজেই ধুলো আর পোকার কারণে প্রায় নষ্ট হওয়া, ভেঙে পরা কাগজ আর অবোধ্য চিহ্নে ঠাসা বইগুলোকে সাজিয়ে দিয়েছিল । আরও রেখেছিল বইগুলোর সঙ্গে নকল দাঁতগুলো যেগুলোতে গজিয়েছিল এক ধরনের জলীয় গুল্ম আর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হলুদ বর্ণের ফুল । খুব সম্ভবত নতুন জায়গাটা ভালো লেগেছিল মেলকিয়াদেসের। কারণ তারপর তাকে আর কোথাও দেখা যেত না, এমনকি রান্না ঘরেও না । শুধু মাত্র আউরেলিয়ানোর কর্মশালায় গিয়ে ঘণ্টা পর ঘণ্টা সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া পারচমেন্ট কাগজে রহস্যময় সাহিত্যের হিজিবিজি আঁকত যেগুলোকে দেখে মনে হত এসব বানানো হয়েছে বালুর মতো কোনো এক কাঁচামাল দিয়ে, পেস্ট্রির মতো করে যা ছোঁয়ামাত্রই ভেঙে যাবে । ওখানেই দিনে দুবার খাবার নিয়ে যেত ভিসিতাসিওন, যদিও শেষের দিকে তার ক্ষুধা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল আর শুধু মাত্র খেত শাকসব্জি । এতে খুব দ্রুতই নিরামিষভোজীদের অসহায়ত্ব ধারণ করে সে । তার চামরা ঢেকে গিয়েছিল এক ধরনের নরম শৈবালে। একইভাবে তার মান্ধাতার আমলের পরনের জ্যাকেটটাও ঢাকা ছিল শৈবালে যেটা সে কখনও খুলত না। আর তার নিঃশ্বাসের সঙ্গে বের হত ঘুমন্ত পশুর দুর্গন্ধ । কবিতা লেখায় তন্ময় থাকায় আউরেলিয়ানো ওর কথা ভুলেই যায় যদিও মাঝেমধ্যে এই একঘেয়ে গুনগুন করে বলা কথাগুলো সে বুঝতে পারছে মনে করে কান পাতত ।
সত্যি বলতে কি তার এই টুকরো টুকরো কথাগুলো থেকে আলাদা করতে পেরেছিল হাতুড়ি পেটানোর মতো একটানা উচ্চারিত বিষুব বিষুব আর আলেকজান্ডার ভন হামবোল্ট এই শব্দ দুটো । আর্কাদিও কিছুটা বেশি ঘনিষ্ঠ হয়েছিল ওর সঙ্গে, যখন সে এসেছিল আউরেলিয়ানোকে রৌপ্যকর্মে সাহায্য করতে । মেলকিয়াদেস এই যোগাযোগের প্রচেষ্টায় সাড়া দিতে আর্কাদিও আর আউরেলিয়ানোর দিকে মাঝেমধ্যে নিক্ষেপ করত কিছু কাসতেইয়ানো শব্দ, যা ছিল সম্পূর্ণই বাস্তবতাবর্জিত । শুধুমাত্র এক বিকেলে হঠাৎ আবেগে তাকে উজ্জ্বল হতে দেখা যায়, যেন যোগাযোগটা সে করতে পেরেছে । অনেক বছর পর ফায়ারিং স্কোয়াডের মুখোমুখি আর্কাদিওর মনে পড়ে যাবে মেলকিয়াদেসের সেই কাঁপা কাঁপা স্বরে তার দুর্বোধ্য রচনা থেকে পড়া কয়েক পৃষ্ঠার কথা।
বলাই বাহুল্য, সে কিছুই বোঝেনি আর এই উচ্চস্বরে পঠিত বাক্যগুলো ছিল গির্জায় গাওয়া গানের মতো । তারপর বহুদিনের মধ্যে এই প্রথমবার হেসে কাসতেইয়ানোতে বলে, “আমি মারা যাওয়ার পর তিনদিন আমার ঘরে পারদ পোড়াবে।”
ঘটনাটা হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়াকে জানালে সে আরও বিশদ ব্যাখ্যা জানার চেষ্টা চালায় । এতে করে একমাত্র উত্তর পায়, “আমি অমরত্ব খুঁজে পেয়েছি।”
মেলকিয়াদেসের শ্বাস-প্রশ্বাসে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু হলে আর্কাদিও বৃহস্পতিবার বিকেলে গোসল করানোর জন্য নদীতে নিয়ে যেত । তাতে মনে হত অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে । সে উলঙ্গ হত আর পানিতে নামত অন্যান্য ছেলেদের সঙ্গে। রহস্যময় দিক-নির্দেশক ক্ষমতাটা তাকে সাহায্য করত নদীর গভীর আর বিপজ্জনক জায়গাগুলো এড়িয়ে যেতে ।
“আমরা পানি দিয়ে তৈরি।” একবার সে বলেছিল।
এভাবেই কাটল অনেকদিন। সে দিনগুলোতে ঘড়ের কেউ ওকে দেখেনি। শুধুমাত্র যেদিন সে পিয়ানোলা সাড়ার চেষ্টা করে সেই রাতটা আর যখন আর্কাদিওর সঙ্গে নদীতে যেত বগল তলায় তোয়ালে দিয়ে মোড়া লাউয়ের খোলে তালের সাবান নিয়ে, সেই সময়গুলো ছাড়া । এক বৃহস্পতিবার নদীতে নেওয়ার ডাকের আগে আউরেলিয়ানো ওকে বলতে শোনে, “আমার মৃত্যু হয়েছে জ্বরে, সিঙ্গাপুরের বালিয়াড়িতে।”
ওইদিন পানিতে নামে এক খারাপ জায়গা দিয়ে; আর এর ফলে পরদিন সকাল পর্যন্ত তাকে পাওয়া যায়নি। কয়েক মাইল ভাটিতে এক তীক্ষ্ণ আলোকিত বাঁকে পাওয়া যায় তাকে। আর পেটের উপর বসে ছিল এক নিঃসঙ্গ শকুন । উরসুলা শোকে প্রচুর কাঁদে, যতটুকু সে কাঁদেনি নিজের পিতার মৃত্যুর সময়ও। তীক্ষ্ণ প্রতিবাদ সত্ত্বেও হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া লাশটাকে দাফন করার বিরোধিতা করে, “সে হচ্ছে অমর।” বলে, “সে পুনর্জীবন লাভের সূত্রগুলো জানিয়ে গেছে।”
কার্যোপযোগী করে তোলা বিস্মৃত সাইফন আর এক কড়াইতে পারদ ফোটাতে শুরু করে তারা আস্তে আস্তে নীলচে বুদবুদে ভরে যাওয়া মৃতদেহের পাশে । দন আপোলিনার মসকতে সাহস করে মনে করিয়ে দেয় যে ডুবে মরা কবর না দেওয়া লাশ, জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক ।
“ওসব কিছুই হবে না। কারণ, এখনও সে জীবিত।” উত্তর দেয় হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া।
এর পরের বাহাত্তর ঘণ্টা কাটায় পারদের গন্ধে ভরা ধোয়ার ভেতর থেকে। ততক্ষণে মৃতদেহ থেকে ওঠা নীলাভ লাল রঙের বুদবুদগুলো ফেটে যেতে আরম্ভ করেছে। আর সারা বাড়ি আচ্ছন্ন গেছে ওথেকে উদ্ভুত মৃদু শিস ও দুর্গন্ধযুক্ত বাষ্পে । হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া একমাত্র তখনই অনুমতি দেয় লাশ দাফনের, কিন্তু যেমন তেমনভাবে নয়, সম্মানের সঙ্গে যেমনটি হওয়া উচিত মাকন্দোর সবচেয়ে উপকারী লোকটার বেলায় । ওটাই ছিল মাকন্দোর প্রথম দাফন আর সে দাফনের সময় মাকন্দোতে সবচেয়ে বেশি লোক জমায়েত হয় তখন । একমাত্র একশত বছর পর বড় মায়ের শেষকৃত্য উৎসবেই এর চেয়ে বেশি লোক হয়েছিল । কবরস্থানের জন্য নির্বাচিত হল এক জায়গা; আর তার কেন্দ্রে দাফন করা হল তাকে । পাথরের এক স্মৃতিস্মারকে লিখল শুধুমাত্র যা জানা গিয়েছিল তার সম্বন্ধে– মেলকিয়াদেস। পালন করা হল তার জন্য নয়টি শোকরাত্রি ।
একবার আমারান্তা তার প্রেম নিবেদনের জন্য পিয়েত্র ক্রেসপিকে পেল কফি পান, কৌতুক করা আর তাস খেলার জন্য উঠোনে জড়ো হওয়া হট্টগোলের মধ্যে । অন্য সময়ে আরবীয়রা গুয়াকামায়ার সঙ্গে তাস বদলের কারণে যে রাস্তাটাকে লোকজনকে তুর্কদের রাস্তা নামে নামকরণ করে। গ্রামের সেই অংশে তখন পিয়েত্র ক্রেসপি একটি বাদ্যযন্ত্রের আর গুদামঘরসহ দোকান দিয়েছে। আর কয়েক সপ্তাহ আগে রেবেকার সঙ্গে তার বিয়ের প্রতিশ্রুতি আনুষ্ঠানিকভাবে পাকাপাকি করে ফেলেছে । যাকে দেখলে মেয়েদের পক্ষে দীর্ঘশ্বাস চেপে রাখা অসম্ভব হয়ে পরে, সেই মাথাভরা উজ্জল কোকড়া চুলওয়ালা ইতালীয় লোকটা আমারান্তার প্রস্তাব এক ছোট্ট মেয়ের জেদ হিসেবে নেয়, যাকে পাত্তা দেওয়ার খুব একটা কারণ নেই বলে মনে করে সে।
“আমার এক ছোট্ট ভাই আছে।” ওকে বলে, “আমাকে দোকানে সাহায্য করতে আসছে।”
অপমানিত আমারান্তা বিদ্বেষপূর্ণ ঘৃণা নিয়ে বলে, তার এই বোনের বিয়ে বরবাদের জন্য যদি লাশ হয়ে দরজায় শুয়ে থাকতে হয় তবে তার জন্যও সে প্রস্তত । এই নাটকীয় হুমকি ইটালীয়কে এত বেশি প্রভাবিত করে যে সে রেবেকাকে ব্যাপারটা জানায় । এভাবেই উরসুলার ব্যাস্ততার কারণে রোববার পিছিয়ে দেওয়া আমারান্তার ভ্রমণের প্রস্ততি এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয় । আমারান্তা অমত করে না এতে, কিন্তু রেবেকাকে বিদায় চুম্বনের সময় কানে কানে বলে, “অলীক স্বপ্ন দেখিস না, যদি আমাকে পৃথিবীর অন্য প্রান্তেও নিয়ে যাওয়া হয়, তবুও তোর এই বিয়ে ভাঙার জন্য একটা উপায় আমি বের করে ফেলবই। যদি এতে করে তোকে খুনও করতে হয় তাহলে তাই করব।”
উরসুলার অনুপস্থিতি আর মেলাকিয়াদেসের ঘরগুলোয় চুপিসারে পায়চারি করা উপস্থিতির ফলে বাড়িটাকে মনে হত বিশাল ও শূন্যতায় ভরা । আদিবাসী মেয়েটা নিয়েছিল বেকারির দায়িত্ব, আর রেবেকা নেয় সংসারের যাবতীয় ভার । রাত্রি হওয়ার সময় লাভেন্ডারের সুগন্ধ ছড়িয়ে সবসময় হাতে খেলনা নিয়ে যখন পিয়েত্র ক্রেসপি উদয় হত, তখন তার দয়িত তাকে আপ্যায়ন করত মূল বসার ঘরটাতে সমস্ত দরজা জানালা সম্পূর্ণ খোলা রেখে, যাতে কারও মনে কোনো সন্দেহ না জাগে । এটা ছিল এক অপ্রয়োজনীয় সতর্কতা। কারণ, ইতালীয় লোকটা এমনকি সেই মেয়েটার হাতও স্পর্শ করত না যে নাকি এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তার স্ত্রী হতে যাচ্ছে । এই সব আগমনের কারণে বাড়িটা ভরে যাচ্ছিল আশ্চর্যজনক সব খেলনার দিয়ে । দড়ি দিয়ে চালিত নৃত্যরতা মেয়ে, মিউজিক্যাল বক্স, দরাবাজ বাঁদর, টাট্টু ঘোড়া, আর ঢোল বাজিয়ে ভাঁড়ের মতো বিস্ময়কর খেলনার সম্ভার ভুলিয়ে দেয় মেলকিয়াদেসের জন্য হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার শোকভার; আর ফিরিয়ে নিয়ে যায় তাকে সেই প্রাচীন আলকেমীর সময়ে । তখন সে বাস করত এক নাড়িভুড়ি বের করে ফেলা জীবজন্তর স্বর্গরাজ্যে, যেখানে দোলকের বিরতিহীন সূত্রের উপর ভিত্তি করে বানানো যন্ত্রপাতি দিয়ে দোলকের সঞ্চারনকে নিখুঁত করার চেষ্টা করছে সে। আর অন্যদিকে আউরেলিয়ানো কর্মশালাকে অবহেলা করে ছোট্ট রেমেদিওসকে পড়তে আর লিখতে শিখাচ্ছে। গোড়ার দিকে বালিকাটি তার খেলনা পুতুলগুলোকে গোসল করিয়ে কাপড় পরানোর খেলা থেকে বিরত করে প্রতিদিন বিকেলে মানুষটাকে বৈঠকখানায় বসে আপ্যায়ন করার জন্য মানুষটার চেয়ে তার পুতুলগুলোকেই বেশি পছন্দ করত । কিন্তু শেষ পর্যন্ত আউরেলিয়ানোর ধৈর্য আর নিষ্ঠার ফলে আকৃষ্ট হয়ে এমন অবস্থায় পৌঁছুল যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিত বর্ণাক্ষর পড়ে, আর এক খাতায় রঙিন পেন্সিল দিয়ে খামারে গোয়ালঘরসহ গরু আর হলুদ পেন্সিল দিয়ে পাহাড়ের পিছনে অস্তগামী গোলাকার সূর্য এঁকে ।
শুধুমাত্র রেবেকাই ছিল অসুখী, আমারান্তার হুমকির কারনে । সে ভালোভাবেই পরিচিত ছিল বোনের চরিত্রের সঙ্গে, তার দুর্বিনীত মনের সঙ্গে, আর ভয় পেত তার ঈর্ষাপূর্ণ বিদ্বেষের তীব্রতাকে । ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিত স্নানঘরে আঙুল চুষে, প্রাণান্তকর ইচ্ছাশক্তির বলে মাটি না খেয়ে । একবার এই উৎকণ্ঠা থেকে নিষ্কৃতি পেতে সে ডেকে নিয়ে আসে পিলার তেরনেরাকে ভবিষ্যৎ পড়ার জন্য । প্রচলিত বিভিন্ন অস্পষ্ট ভাষায় আবোলতাবোল বকার পর পিলার তেরনেরা ভবিষ্যদ্বাণী করে, “তুই কখনও সুখী হবি না, যতদিন না তোর বাবা মা কবরস্থ না হবে।”
শিউরে ওঠে রেবেকা । এক স্বপ্নের স্মৃতির মতো নিজেকে দেখতে পায় খুব বালিকা বয়সে একটা তোরঙ্গ, কাঠের দোলচেয়ার আর এক থলে হাতে এই বাড়িতে ঢুকতে, যে থলের ভেতরের জিনিস সম্বন্ধে তার কোনো ধারণাই ছিল না । তার মনে পরে টাক মাথা, সোনার বোতাম দিয়ে গলাবন্ধ লিলেনের শার্ট পড়া ভদ্রলোকের কথা, যার সঙ্গে (হরতনের) তাসের রাজার কোন সম্পর্কই ছিল না । মনে পরে যায় এক অতি সুন্দরী আর যুবতী মেয়ের কথা যার হাত দুটি ছিল উষ্ণ আর সুগন্ধিযুক্ত যে হাতের সঙ্গে বাতগ্রস্ত তাসের সোনার জোকারের কোনো মিলই ছিল না।

——————————-

আর্হেন্তিনার বুয়েনোস আইরেস-এর
এদিতোরিয়াল সুদামেরিকানা প্রকাশনী থেকে
প্রকাশিত ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’ উপন্যাসের
প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ

——————————-
border=0
“বুঝতে পারছি না” – বলল পিলার তেরনেরা বিচলিত হয়ে – “ আমিও না, কিন্তু তাসগুলো এটাই বলেছে”।
এই প্রহেলিকায় রেবেকা এতই উদ্বিগ্ন হয় যে ব্যাপারটা জানায় হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়াকে আর সে তাসের ভবিষ্যৎবাণীতে বিশ্বাস করায় ভর্ৎসনা করলেও কাউকে কিছু না জানিয়ে, তোরঙ্গে আর আলমারীতে, আসবাবপত্র সরিয়ে, বিছানা পত্র উল্টিয়ে হাড়গোড়ের থলেটা খুঁজতে থাকে । মনে পরে যে বাড়ি সংস্কারের সময় থেকে ওটাকে দেখেনি সে । গোপনে রাজমিস্ত্রিদের ডাকে আর ওদের একজন জানায় যে কাজে অনাস্থা সৃষ্টি করে বলে থলেটা কোন এক শোবার ঘড়ের দেয়ালের মধ্যে রেখে দেয়াল গেঁথে ফেলেছে । অনেকদিন দেয়ালে কান পেতে সতর্কতার সঙ্গে শোনার পর দেয়ালের গভীর থেকে ক্লক ক্লক শব্দটা শুনতে পায় । দেয়ালে গর্ত করে সে আর সেখানেই ছিল হাড়গোড়সহ থলেটা অক্ষত অবস্থায় । ঐ একই দিনে ওগুলোকে গোর দেয়া হয় মেলকিয়াদেসের পাশে একটা কবরে; পাথরের কোনো স্মৃতি স্মারক ছাড়াই। আর এতে করে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া মুক্তি পায় প্রুদেন্সিও আগিলারের স্মৃতির অনুরূপ আরেকটি বিবেক দংশন থেকে। রান্না ঘড়ের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় সে রেবেকার কপালে চুমু খায় – “মাথা থেকে সমস্ত দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেল” বলে-“তুই সুখী হবি”। আর্কাদিওর জন্মের পর থেকে উরসুলার দ্বারা বন্ধ হওয়া এ বাড়ির দরজা নতুন করে খুলে দেয় তেরনেরার সঙ্গে রেবেকার বন্ধুত্ব । ছাগলের পালের মত দিনের যে কোন সময় বাড়ীতে ঢুকে পরত সে, আর এসেই সমস্ত কর্মশক্তি প্রয়োগ করত সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোতে । মাঝেমধ্যে ঢুকে পরতো কর্মশালায় আর আর্কাদিওকে দক্ষতার সঙ্গে সাহায্য করত দাগেরোটাইপ পাতগুলোকে আলক-সংবেদী করতে। আর এটা করত সে এতটাই মমতার সঙ্গে যে ছেলেটা তাতে ওর সম্পর্কে ভুল বুঝত । হতবুদ্ধি করে দিত মেয়েটা ওকে । ওর রোদে পোড়া গা, ওর শরীরের ধোঁয়াটে গন্ধ, হাসির অসামঞ্জস্য অন্ধকার ঘড়টাতে তার মনোযোগে আলোড়ন সৃষ্টি করত, ফলে হোঁচট খেত সে জিনিসপত্রের সঙ্গে ।

মাঝেমধ্যে আউরেলিয়ানো থাকত ওখানে রুপার কাজ করতে আর একবার পিলার তেরনেরা টেবিলে ভর দেয় ওর ধৈর্যশীল কাজের প্রশংসা করতে । তখনই ঘটে ব্যাপারটা । আউরেলিয়ানো নিশ্চিত হয় আর্কাদিওর অন্ধকার ঘরে থাকার ব্যাপারে, আর চোখ তুলে পিলার তেরনেরার সঙ্গে চোখাচোখি হবার আগেই পড়তে পারে ওর চিন্তাধারা। কারন তা ছিলো মধ্যদিনের আলোর মতই উজ্জ্বল ।
বলে আউরেলিয়ানো- “বল কি বলতে চাস”
পিলার তেরনেরা এক করুন হাসির সঙ্গে ঠোট দুটো কামড়ে ধরে । “যুদ্ধ করার জন্য তুমি খুবই ভাল” বলে- “যেখানে দৃষ্টি ফেল সেখানেই বুলেট ঢুকাও” (একবারে সফল হওয়ার অর্থ বহন করে এই প্রবাদ) । ইঙ্গিতটার সত্যতার প্রমান পেয়ে হাঁফ ছাড়ে আউরেলিয়ানো । আবার কাজে মন বসায় যেন কিছুই ঘটেনি আর তার গলার স্বর ফিরে পায় স্বাভাবিক দৃঢ়তা ।
“স্বীকার করছি” বলে, “আমার নামেই নাম হবে ওর।”

(চলবে)

কিস্তি-১ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৩ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৪ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৫ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৬ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৭ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৮ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৯ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১০ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১১ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১২ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর
Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (2) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Nasrin Akhter — জানুয়ারি ১১, ২০১৫ @ ৫:৩২ অপরাহ্ন

      প্রতীক্ষায় ছিলাম কবে বইটা বাংলায় অনুবাদ হবে ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Zahed — জানুয়ারি ১৭, ২০১৫ @ ২:৪৪ অপরাহ্ন

      specifically waited for the next……

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com