জাফর ইকবাল, জিয়া হায়দার রহমান ও মৃত্যু সমাচার

সাগুফতা শারমীন তানিয়া | ২৫ december ২০১৪ ১০:৫৬ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ মৃত আর বাংলাদেশ মৃতদের দেশ এই দুইয়ের ভিতরে সামান্য কিন্তু দুর্লঙ্ঘ্য ফারাক আছে। বাংলাদেশকে মৃত বলা একটি ঢালাও প্রতিবেদন, আর বাংলাদেশ মৃতদের দেশ এই বলার ভিতরে সত্যদর্শীর অভিমান। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে বিতর্ক করার সময় ডক্টর মুহম্মদ জাফর ইকবালের জীবন এবং কথার উদ্ধৃতি দিয়ে আমরা আশাব্যঞ্জকভাবে ইতিবাচকভাবে বিতর্ক শেষ করতাম, ওঁর নাম ওঁর ভূমিকা ওঁর দেশে ফিরে আসা এইসবই বাংলাদেশের জন্যে একটি গৌরবের চিহ্ন বলে আমরা বিশ্বাস করতাম, এখনো করি। কিন্তু এবারে তাঁর একটি লেখা পড়ে এবং লেখাটির পিছনের ‘আর্মচেয়ার ফিলসফি’ দেখে আমার মনে হয়েছে আমি কিছু বলতে চাই।

আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশের যে কোনো অবিচার-অনাচার নিয়ে কথা বলতে গেলেই যাঁরা হৈহৈ করে ওঠেন, যেকোনো অন্যায়ের জাতীয়ভাবে প্রতিবাদ করতে গেলেই যাঁরা ‘দেশের সুনাম গেল’ বলে বিবৃতি দেন, বিদেশের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ডোবানো গেল– এইসব বলেন তাঁদের বলবার ভঙ্গির সাথে মুহম্মদ জাফর ইকবালের এই লেখাটির আশ্চর্য্য মিল।

অস্বীকার করবো না জিয়া হায়দার রহমান তাঁর বক্তব্যে যখন প্রথম ঘোষণা দিলেন- বাংলাদেশ হচ্ছে ‘ল্যান্ড অফ দ্য ডেড’ তখন আমিও বিচলিত বোধ করেছি, যখন তিনি পাঁচতারা হোটেল সোনারগাঁও আসলে দেড়তারা হোটেল– এমন বলতে শুরু করেছেন আমার ভেতরে কিসব নড়েচড়ে উঠেছে- তৃতীয় বিশ্বে যাঁরা প্রথম বিশ্বের বাটখারা নিয়ে এসে মাপতে থাকেন তাঁদের প্রতি আমার বিরক্তি আছে। আমার শুনতে একটুও ভাল লাগেনি বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কেবল ইংরেজি বলবার কমিউনিকেট করবার যোগ্যতায় চাকুরি করেন- অথচ আমার ভাল না লাগায় এই সত্যের কিছু যায় আসে না। কিন্তু তিনি যখন বারবার এই ‘ল্যান্ড অফ দ্য ডেড’ পংক্তিতে ফিরে আসতে থাকেন তখন একটি কবিতার সূচনা হয়, একটি দার্শনিক গন্তব্যের দিকে তিনি আমাদের টেনে নিয়ে যেতে থাকেন। আমি আমার বিরক্তি ভুলতে থাকি, আমার মনে পড়ে নিজেদের জন্যে আলাদা বাটখারা ব্যবহার করতে চাইবার সস্নেহ ইচ্ছার সাথে আসলে দরিদ্র মানুষটি দরিদ্র বলে তার অপরাধ করবার অধিকার আছে এই ভাবনার মিল আছে, কালো লোকটি কালো বলে অন্য লোকের প্রতি তার বর্ণবাদী নিপীড়ন চালাবার অধিকার আছে এমনি ভাবনার মিল আছে। আমাদের শুরু করতে হবে নিজের ভুলকে খামতিকে ভুল এবং খামতি হিসেবে জানা থেকে। নিজের ভুলকে ভুল জানা নিজের খারাপকে খারাপ জানার সাথে নিজের ভালতে বিশ্বাস করবার রাস্তায় কাটাকাটি নাই, উভয়ের গন্তব্য শুভ।

রাষ্ট্রীয় এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রগুলিতে যে আমরা ‘মৃত’দের (মৃত পিতা, মৃত স্বামী) দ্বারা পরিচালিত- তা বলায় আমি ভুল দেখতে পাই না, যাকে জিয়া হায়দার রহমান বলেছেন ‘রেসারেকশন অফ দ্য ডেড’, মৃতদের আদর্শিক পুনরুত্থান, তা আমার রাষ্ট্রে কই, রাজনীতিতেই বা কই? আদর্শকে বাকি রেখে আমরা মৃতদের পুতুলনাচের পুতুলের মতন নাচিয়ে বেড়াচ্ছি।

ডক্টর মুহম্মদ জাফর ইকবাল লিখেছেন, যে আঠার বছর তিনি দেশের বাইরে ছিলেন, তিনি দেশের কোনো সমালোচনা করেননি। কারণ তিনি বিশ্বাস করেছেন যে, দেশের বাইরে নিশ্চিন্ত নিরাপদ আরামে থেকে দেশের সমালোচনা করবার অধিকার তাঁর নেই। যখন তিনি দেশে ফিরেছেন কেবল তখনি তাঁর নিজদেশের সমালোচনা করবার অধিকার হয়েছে। এই অংশটি পড়ে আমি বিব্রতবোধ করি, কারণ দেশের বাইরে সবাই নিরাপদ-নিশ্চিন্ত আরামে আছে বললে সে বলার ভিতরে একরকমের অসূয়া কাজ করে- সে বলার ভিতরে একরকমের অন্ধত্ব কাজ করে যা দেশের বাইরের হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিক-ছাত্র-কর্মজীবীর বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলবার অধিকারকে খর্ব করে দেয়, যাদের ঘাম-রক্ত-মৃত্যুর সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চাকার চালিকাশক্তির বিশাল যোগ আছে। আমার কাছে অনেকবার মনে হয়েছে বাংলাদেশে যাঁরা থাকেন, তাঁরা দেশত্যাগকে একরকমের ট্রিজন হিসেবে দেখেন, প্রবাসীদের একরকমের ফুটো জাহাজ থেকে নিজপ্রাণ নিয়ে পালানো স্বার্থপর অভিযাত্রী হিসেবে দেখেন, প্রবাসীর দেশপ্রেম-দেশচিন্তা-দেশের ভালমন্দে অংশগ্রহণ সবই বাঁকা চোখে দেখেন। মুহম্মদ জাফর ইকবালও এভাবে ভাবতে পারেন সেটা দেখে আমি যারপরনাই অবাক হয়েছি।

তিনি আসলে অত্যন্ত প্রত্যক্ষভাবেই জিয়া হায়দার রহমানের একটি কথাকে তাঁর লেখার ভিতর দিয়ে স্বীকৃতি দিয়ে ফেলেছেন, ঐ যে জিয়া বলেছেন, ‘কনটেন্ট’ নিয়ে কেউ ভাবিত নন, ‘মটিভ’ বা ‘কন্সপিরেসি’ নিয়ে ভাবিত। কি বলছে সেটা বাংলাদেশে জরুরী হচ্ছে না আর, কে বলছে সেটা জরুরী, কেন বলছে সেটা জরুরী। তাই করেছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তিনি প্রথমেই লিখেছেন কে বলছে তা নিয়ে- বলেছেন একজন বৃটিশ বাংলাদেশী, বলছেন কারণ তিনি ভাবছেন তাঁর অধিকার আছে (মটিভ), কারণ এইধরণের অসম্মানজনক কথাকে ফ্যাশন বা বুদ্ধিজীবীর অনুকরণীয় আদর্শ মানা হয় বলে মুহম্মদ জাফর ইকবাল দেখেছেন (কন্সপিরেসি)। জিয়া হায়দার রহমান তাঁর ভাষণে যে বলেছেন, “Idea doesn’t have a status separate from the person who says it.”, সেটাকে একেবারে প্রমাণ করে দিয়েছে মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখার শুরুটিই, মুহম্মদ জাফর ইকবাল একজন মানুষ এবং তার ভাষ্যকে তার বক্তব্যকে তার ভাবনাকে একত্র করে দেখেছেন। জিয়ার আইডিয়া হচ্ছে বাংলাদেশ মৃতদের দেশ, কারণ জিয়া পশ্চিমের আরামের দুনিয়ার ফ্যাশনেবল লেখক, কারণ জিয়া দেশ-পরিত্যাগী কাফেলার শিশু ছিলেন, কারণ জিয়া এবং জিয়ার মতন অনেকে বিদেশে হোটেলে বাসন ধোয়ার ফাঁকে ফাঁকে দেশ নিয়ে চিন্তা করেন, যাঁরা বাংলাদেশে থাকেন না এবং বাংলাদেশের হৃদস্পন্দন শুনতে পান না।

জিয়া একটি ভীষণ সত্য কথা বলেছেন, কন্টেন্টই হলো আইডিয়ার আধার, মাতৃকা। কন্টেন্ট শুনবার বেলায় যে জাতি বধির, যে জাতি সকল বক্তব্যকেই উদ্দেশ্যমূলক ভেবে নেয়- তার বুকে আইডিয়ার জন্ম কি করে হবে? কে ভাববে কারণ কে-ই বা শুনবে? এই যে মনোভাব প্রকাশের পথে এত প্রাথমিক পর্যায়েই এত বাধা-এত বাকবিতন্ডা, এই যে আইডিয়ার অচল দশা, এক হতে আরেকে স্থানান্তরিত না হতে পারার অক্ষমতা, এই যে আইডিয়ার স্ফূরণ-বিকাশ-লালনের প্রতি অভয়দায়ী সমাজের অনুপস্থিতি, রাজনৈতিক-সামাজিক পংক্তিবিভাজনের কারণে তৈরি এই অচলায়তনই তাঁর ভাষ্যে মৃতদের দেশ। এমনি করে তো নীরদ সি চৌধুরিও বলেছিলেন, বাঙালীকে নিয়ে তাঁর অনেক আশা থাকতে পারে- ভরসা বিশেষ নাই। অবশ্য তখনো আমরা কন্টেন্ট না দেখে না বুঝে কন্সপিরেসি নিয়েই লাফিয়েছি। বাংলাদেশে যাঁরা থাকেন, তাঁরা সকলেই আমাদের এই দেশটির ব্যক্তির বিকাশবিদ্বেষী, ব্যক্তিত্ববিনাশী, ব্যক্তিস্বাধীনতাগ্রাসী এবং সার্বিকভাবে ব্যক্তিবিরোধী সমাজ সম্পর্কে পূর্ণ মাত্রায় ওয়াকিবহাল। এদেশে এখনো বেশির ভাগ শিক্ষক ছাত্রের প্রশ্নকে ‘বেয়াদবি’ ভেবে চিৎকার করে উঠতে পারেন, অন্বেষণের সাথে আদবের কি অদ্ভূত রেষারেষি। আপনি চাইলেই যা ইচ্ছা ছবি আঁকতে পারবেন না, যেমন ইচ্ছে মূর্তি গড়তে পারবেন না, পুত্র ইসমাইলকে হত্যা করতে গিয়েছিলেন এই পরিতাপ ইব্রাহীমকে পিতা হিসেবে ছেড়ে গেছিল কি না এই নিয়ে কোনোদিন নাটক লিখতে পারবেন না, সর্বজনপূজ্যতে কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে সংশয়মূলক কিছু বলতে-লিখতে-ভাবতে পারবেন না। এর ব্যতিক্রমও রয়েছে, যদি আপনি অসম্ভব ক্ষমতাবান এবং অসম্ভব উচ্চপংক্তির কেউ হন যা জিয়া বলছেন- This country belongs to people with extraordinary power and privilege। রাজা হলে আপনি আমসত্ত্বভাজা টাঙিয়ে রাখতে পারবেন ছবির ফ্রেমে, রাজপিসী হলে আপনি কুমড়ো নিয়ে ক্রিকেট খেলতে পারবেন। এমন কি অভিনব বললেন জিয়া? এমন কি নতুন বললেন যে সব্বাই সহসা সচকিত?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল একবার লিখলেন যে, তিনি বিজ্ঞানের ছাত্র, ঢালাও কোনো কিছুতে তাঁর বিশ্বাস নেই তিনি বিভ্রান্তবোধ করেন, তাহলে এই এতগুলি ঢালাও মন্তব্য এবং ঢালাও বিশ্বাস কোথা থেকে এলো? বাংলাদেশের প্রতিই বা ঢালাও আস্থা কি করে এলো? আমরা যেসব বিতর্কে শ্রদ্ধার সাথে আশার সাথে তাঁর নাম বলতাম, সেইসব বিতর্কে এও আমাদের বলতে হতো, একসময় বাংলাদেশে আর বিজ্ঞানী জন্মাবে না, সূক্ষ্ণবুদ্ধির চর্চা এবং মননশীলতা লাগে এমন কোনোকিছুর চর্চ্চাই আর বাংলাদেশে সম্ভব হবে না, তার একটা বিশাল কারণ হবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়- পলিউশন। আমরা কিন্তু তখন সাংখ্যমান এবং তত্ত্ব-তথ্য হাজির করেই বলতাম।

আমি এখনো জানি, বিশ্বাস করি এবং দেখেছি- স্পিরিটের দিক থেকে বাঙালির আজো তুলনা মেলা ভার- সেটি একজন বাঙালি গৃহহীন মানুষকে উন্নত বিশ্বের যে কোনো গৃহহীন মানুষের সাথে তুলনা করলেই বোঝা যাবে। তপন রায়চৌধুরী যে লিখে গেছেন, পে’জ থ্রিতে নগ্নবক্ষা স্ত্রীলোক দেখা সভ্যতার চেয়ে অনেক সভ্য এবং প্রাচীন সভ্য আমাদের গ্রাম, সেটা তো সত্যি। নেই-দশা থেকে আমরা কি করে উঠতে পারি, সেইটির ব্যক্তিগত-সামাজিক-রাষ্ট্রীয় বহু উদাহরণ আছে, কিন্তু যা নেই তা মানতে অসুবিধে কোথায়? তাহলে যা নেই তা আহরণ করবো কি করে (শুধু দেশপ্রেমের মাদক বিলিয়ে তূরীয় দশা তৈরি করে বসে থাকব?)? যে হীনতাবশতঃ আমরা সকল বাচ্যের পিছনের পটভূমিকেই শুধু বিচার করতে থাকি সেই মন-সেই শ্রবণ বদলাতে হবে তো, নইলে নতুন কালের ডাক শুনব কি করে। হাতে গোনা কিছু সফল ব্যক্তির সফল কর্মকাণ্ডের উদাহরণ তুলে শত শত বাংলাদেশীর প্রতিদিনকার জীবনে অজস্র আইডিয়ার মৃত্যুকে অস্বীকার করা যায় কি? সাধারণ মানুষের নতুন ভাবনা নতুন পরিকল্পনার স্বাভাবিক যাতায়াতের পথ কোনটি বাংলাদেশে (কে সেগুলিকে ‘allows them to ventilate’?), কোন রাস্তায় তা গন্তব্যে পৌঁছায়? কোন সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় পথ ধরে তা সাফল্যের মুখ দেখে?
Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (28) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন iqbal hasnu — december ২৫, ২০১৪ @ ১১:৪৭ অপরাহ্ন

      আপন ত্রুটি ও অপূর্ণতার সমালোচনাতে যাঁদের অহংবোধ পীড়িত হয় তাঁদের আরও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে ব্রতী হওয়ার অনুরোধজ্ঞাপক এমন একটি প্রত্যুত্তর দেওয়ার জন্য সাগুফতাকে ধন্যবাদ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন aftab zaman — december ২৫, ২০১৪ @ ১১:৫৪ অপরাহ্ন

      you are so pedantic! how dare you insult someone who lives in abroad for doing menial job? you are very lucky to get an audience with your gibberish, thanks for this sort media.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Shakibur — december ২৬, ২০১৪ @ ৪:২০ পূর্বাহ্ন

      মূল পার্থক্য হচ্ছে, আশাবাদ এবং নৈরাশ্যবাদ।। নৈরাশ্যবাদ সমাজে কোন উপকারে আসে না।। একটা ছোট কিশোর জাফর ইকবালের বই এখনো টাকা দিয়ে কেন কিনে, জানেন? কারন তিনি সেই ছোট মনগুলোয় অনবরত স্বপ্নের ডালপালা ছড়াতে পারেন। এবং তার মূল কারন, ব্যাক্তিগতভাবে সে অসম্ভব সুখি মানুষ বলেই মনে হয় আমার কাছে। সহজ কথা হল ব্যক্তিগত হতাশা দেশ, সমাজের উপর তারাই ছড়াতে থাকবে যাদের মন মৃত।। এতে সমাজের কিছুই যায় আসবে না।। ১০-১২ বছর বুঝতে পারবেন কি অসাধারণ এক একটা প্রজন্ম আসছে।।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আশরাফুল আলম — december ২৬, ২০১৪ @ ৬:৪৯ পূর্বাহ্ন

      একটা পুরো প্রজন্ম মুহম্মদ জাফর ইকবালকে রোল মডেল মনে করে। আমি/আমরা তার লেখা উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশান পড়তে পড়তে বড় হলাম। সেই মুহম্মদ জাফর ইকবাল জাতির জন্য স্বপ্ন নিয়ে আসবেন, কেউ নেগেটিভ কিছু বললে তার সমালোচনা করবেন, তাতে দোষের কিছু দেখি না। তবে উনি তার সাম্প্রতিক লেখাটাতে যে কাজটি করেছেন, তা হলো এইঃ জিয়া হায়দার রহমানের দেশে রাজতন্ত্র আছে বলেই তার সম্ভবত আমাদের গণতন্ত্র/পরিবারতন্ত্র নিয়ে আঙ্গুল তোলার অধিকার নেই, এমন একটা ধারণা দেওয়া। এর পরে যখন কেউ আমাদের দূর্নীতির সমালোচনা করবে, গার্মেন্টস শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার না পাওয়া নিয়ে সমালোচনা করবে, সামাজিক ন্যায়বিচারের অনুপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করবে, তখনও আমরা দেশপ্রেমের বর্ম পরে সমালোচকের খুঁত ধরতে থাকবো, আত্নশুদ্ধির পথে আর হাঁটবো না। এ আমার আশঙ্কা। আমি যে দেশে থাকি, সেখানেও রাজতন্ত্র আছে, তবে শুধুই কাগজে আর রাজপ্রাসাদে। আমিও থালাবাসন মাজি। মুহম্মদ জাফর ইকবালের বক্তব্য অনুযায়ী বাংলাদেশকে সমালোচনা করার খুব একটা অধিকার হয়তো আমারও নেই। ‘বাংলাদেশ মৃতদের দেশ’ কিংবা ‘মৃত চিন্তাভাবনার দেশ’ কোনটাই এভাবে বলা হয় নি, বলা হয়েছে যে, ‘বাংলাদেশ হচ্ছে মৃত চিন্তাভাবনার দেশ, যেখানে নতুন কোনো ধারণার প্রকাশ ঘটা মাত্রই তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও শ্রেণির বাধায় নতুন চিন্তা-চেতনা, ধ্যানধারণা বিকশিত হতে পারে না।’ ইংরেজী বাক্যটি এরকম ছিলঃ ‘Bangladesh is a land of dead ideas, where new concepts are throttled at birth and never get passed on because of social, political and class barriers.’ অর্থাত নতুন ভাবনা এখানে জন্ম নিচ্ছে, কিন্তু সেগুলো হালে পানি পাচ্ছে না বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও শ্রেণির বাধায়। দুই নারী বিষয়ে জিয়া হায়দার রহমানকে উদ্ধৃত করছে ডেইলি স্টার এভাবেঃ Haider, who came to Dhaka last month to attend the Hay Festival, was also critical of the dominance of Bangladeshi politics by two ladies who according to him “stand in the shadow of the dead” and rely on their dead relatives to legitimise their moral authority to rule the country. তার মানে, আমাদের সামাজিক-রাজনৈতিক নেতৃত্বের বন্ধ্যা পরিবেশই হয়তোবা নতুন ভাবনাগুলোর বাস্তবায়নের পথে আমাদের বাধা, এমন একটা ইঙ্গিত আছে জিয়া হায়দার রহমানের কথায়। আমি তার মূল্যায়ণকে সঠিক মনে করি।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Khan Zaraf — december ২৬, ২০১৪ @ ৬:৫২ পূর্বাহ্ন

      দেশের বাইরে থেকে তিনি নিজেকে নিশ্চিত, নিরাপদ মনে করেছেন। আর ডঃ জাফর ইকবালের মত মানুষরাই সম্ভাবনা দেখতে পান, সেটা দেখার চোখ তাঁর আছে। সেজন্যই তিনি নিশ্চিত হতে পেরেছেন এদেশের সম্ভাবনার বিষয়ে। তরুণ প্রজন্ম যদি হতাশ হয়ে যায় তাহলে সেই দেশের ভবিষ্যৎ অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে যায়। আর এই তরুণদের আশার আলো দেখিয়েই জাফর ইকবাল স্যার উজ্জীবিত করে যাচ্ছেন বছরের পর বছর। তিনি যখন দেশে ফিরেছেন আমার বয়স তখন ১৪, আর এখন ৩৩। শুধু তাঁর লেখা পড়েই আশাবাদী হতাম এই দেশকে নিয়ে। আর বাংলাদেশ যে এখন মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে তা পরিষ্কার। তাঁর কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আর যাদের সেই দৃষ্টি নেই তাদের বলতে চাই- থামলে ভাল লাগে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সৈকত রুশদী — december ২৬, ২০১৪ @ ৯:১০ পূর্বাহ্ন

      তরুণ বয়সে বাংলাদেশে বসে নীরদ চৌধুরীর ‘আত্মঘাতী বাঙালি’ পড়ে আমিও খানিকটা কুপিত হয়েছিলাম ইংরেজ সংস্কৃতির স্তাবক লেখকের প্রতি। পরে প্রবাসকালে দূর থেকে বাঙালি ও বাংলাদেশকে পর্যবেক্ষণ করে মনে হয়েছে চৌধুরীর ব্যক্তিগত অভিলাষ যাইই হোক না কেন, কথাটা তিনি কার্যত: বিশেষ ভুল বলেন নি। দিনে দিনে তা’ আরও বড়ো সত্য হয়ে দেখা দিচ্ছে। মুহম্মদ জাফর ইকবালের বর্তমান বয়স আমার সেই তরুণ কালের দ্বিগুনেরও বেশি। কিন্তু তিনি এখনও ঠিক ‘আত্মঘাতী বাঙালি’র স্বরূপ উপলব্ধি করতে পেরেছেন বলে মনে হয় না।

      ‘বাংলাদেশ মৃতদের দেশ’ বলে জিয়া হায়দার রহমান যে বক্তব্যটি তুলে ধরেছেন, তা’ মননশীলতার ক্ষেত্রে আপাত: দৃষ্টিতে যেমন রূপক, তেমনি কঠোর বাস্তব বর্তমানে উত্তরাধিকারের রাজনীতির পঙ্কিল প্রতিযোগিতায়।

      স্বদেশ নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভাবনা ও সমালোচনার কোন অধিকার না থাকার পক্ষে জাফর ইকবাল যতোই যুক্তি দেখান না কেন, তাঁদের দেশপ্রেম যে সরকারীভাবে ঘোষিত ‘সেরা দেশপ্রেমিক’দের চেয়ে নির্ভেজাল তা’ আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সাগুফতা শারমীন তানিয়াকে ধন্যবাদ জাফর ইকবাল এবং তাঁর মতো জিয়া হায়দার রহমানের মন্তব্যের বিরুদ্ধে বিষবাষ্প নিক্ষেপকারীদের ‘সত্যদর্শীর অভিমান’টি চিনিয়ে দেওয়ার চেষ্টার জন্য।

      সত্য কথা বলার সময় কখনও শেষ হয়ে যায় না।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Mohammed Islam — december ২৬, ২০১৪ @ ১:২৯ অপরাহ্ন

      Bangladesh is neither a country of dead ideas nor it runs under the shadows of two dead men. In fact, this county is struggling since her inception to survive from ever engulfing communal to non communal ideas in politics. These opposing spirits are truly represented by the shadows of two dead men and by the heirs. Till the conflict is decisively over, new ideas can’t take shape. I wonder why an acclaimed British writer does understand this simple fact!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Farhana Huq — december ২৬, ২০১৪ @ ৬:০৮ অপরাহ্ন

      Hey,
      very well written Shagufta. at least someone answered so nicely and with logic. very well done.

      Farhana

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন kabita khan — december ২৬, ২০১৪ @ ৮:০৯ অপরাহ্ন

      This is the easy way to get popularity to the mass people of a author (সাগুফতা শারমীন তানিয়া) who wrote this…….

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সজল — december ২৭, ২০১৪ @ ১২:০১ পূর্বাহ্ন

      জাফর ইকবাল জিয়া হায়দারের “বাংলাদেশ মৃত চিন্তার দেশ” এই ধারণার প্রতিবাদ করেছেন। আর আপনি জাফর ইকবালের অজ্ঞতার মাপ নিচ্ছেন জাফর ইকবাল “বাংলাদেশ মৃতদের দেশ” ধারণার অর্থ জানেন না সেটার খতিয়ান দিয়ে। এই দুইটা কথার যে খালি চোখে পার্থক্য আছে সেটা আপনার ধরতে না পারার কারণ কী?

      জাফর ইকবালের প্রবন্ধের শুরুর অনুচ্ছেদ থেকেঃ
      “চোখ কচলে দ্বিতীয়বার পড়তে হল, ইংরেজি শিরোনামটির বাংলার সঠিক অনুবাদ করলে অর্থ হয় আরও ভয়ানক, ‘বাংলাদেশ হচ্ছে মৃত চিন্তা-ভাবনার দেশ’। আমি খুবই অবাক হলাম, এই দেশে থাকি, খাই, ঘুমাই, দেশের খবরাখবর রাখার চেষ্টা করি। হঠাৎ কেমন করে দেশের সব রকম চিন্তা-ভাবনা মরে গিয়েছে জানতেই পারলাম না! ”

      ডেইলি স্টার থেকে জিয়া হায়দারের বক্তব্যের শিরোনামটা দেখিঃ “Bangladesh land of dead ideas
      Zia Haider Rahman tells DU talk”

      তাহলে কি এটা বলা যায়, জাফর ইকবাল বিদেশী বুদ্ধিজীবি জিয়া হায়দারের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন তাই তার বিরুদ্ধে মন খুলে লিখার জন্য এমনকি তার বক্তব্য না পড়েই বিশাল প্রবন্ধ লিখে ফেলেছেন?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Dilruba Shahana — december ২৭, ২০১৪ @ ৫:০৬ পূর্বাহ্ন

      ‘দরিদ্র মানুষটি দরিদ্র বলে তার অপরাধ করবার অধিকার আছে এই ভাবনার মিল আছে, কালো লোকটি কালো বলে অন্য লোকের প্রতি তার বর্ণবাদী নিপীড়ন চালাবার অধিকার আছে এমনি ভাবনার মিল আছে’
      This trying to be smart author wrote a lot, one thing is clear that she is very clever and she knows how to extend herself! My only question is where did you get this mongora vabna

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Kazi Sayem — december ২৭, ২০১৪ @ ১:৩৭ অপরাহ্ন

      সমালোচনা করা সহজ, কোন কাজ করা কঠিন। সাগুফতার কাছে জানতে চাই, আপনি জাফর স্যার-এর সমালোচনা করার আগে জিয়া হায়দারের কাছে জেনে নিন, বাংলাদেশে কোন কোন চিন্তা অন্ধকারে মারা পড়েছে। আমরা যারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশকে এগিয়ে নেয়ার সংগ্রামে নিয়োজিত তাদের কাছে জিয়া/সাগুফতাদের এসব অসাড় মন্তব্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। জিয়া/সাগুফতাদের কাছে অনুরোধ ঢালাও মন্তব্য না করে দৃষ্টান্তসহ পরামর্শ দিন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Prodip — december ২৭, ২০১৪ @ ৩:১৬ অপরাহ্ন

      আপনি জাফর ইকবালের আত্মমর্যাদাবোধের অভিপ্রায় নিয়ে বিশাল প্রবন্ধ লিখে ফেললেন ? জাফর ইকবাল তাঁর জীবন দিয়ে প্রমান করেছেন, তিনি কে আর আপনি একটা লেখা দিয়ে তাঁর চিন্তার ‘বিচ্যুতি’কে ধরতে চেয়েছেন একজন বিদেশি লেখকের মন্তব্যকে পুঁজি করে। আপনি আরও হতাশ করেছেন, খেই হারিয়ে প্রবাসী শ্রমিকদেরকে নিয়ে জাফর ইকবালের বক্তব্যের মর্মার্থকে গুলিয়ে ফেলে । এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যায় যারপর নাই বেদনা বোধ করছি । গান্ধীর জীবদ্দশায় মিস মেয়ো নামের এক বিদেশিনী লেখক ‘মাদার ইন্ডিয়া’ নামের একখানা বই লিখেছিলেন, যেখানে ভারতবর্ষকে শুধু পচানোই হয়েছিল। তাতে গান্ধীজী ক্ষুদ্ধ হয়ে, বইটাকে নর্দমা পরিদর্শন রিপোর্ট বলে তাঁর ক্ষোভ প্রশমিত করেছিলেন । গান্ধীজী কি লেখকের বাচালতাকে সহ্য করে নিজেকে ঋদ্ধ দেখাতে পারতেন না ? একজন বিদেশী লেখকের হয়ে, তাঁর প্রগলভতাকে হাততালি দিতে গিয়ে আপনি মৃত পিতা, স্বামী এসব অপ্রাসঙ্গিকতায় যেতেও দ্বিধা করলেন না । তাতে অবশ্য আপনার চিন্তাটা দ্যুতি ছড়িয়েছে। মানুষটা যে জাফর ইকবাল সেটা বিস্মৃত হওয়াটা আশ্চর্যের, তিনি কিন্তু জিয়া হায়দার রহমান বা তাঁর অনুরক্ত নিবন্ধ লেখক জনাব মকসুদকে রীতিমত যুক্ত করে প্রণাম সেরেই তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেছেন । যে মানুষের স্ট্যাটাস বা লেখা একসাথে কয়েক পত্রিকার আশীর্বাদ ধন্য হয়, হাজার হাজার পাঠকের পছন্দের খোরাক হয়, তাঁকে এটুকু উদারতা কাপালিক(রাজাকার) গোছের লেখকরাও করবেন, আমি নিশ্চিত ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Prodip — december ২৭, ২০১৪ @ ৩:২৬ অপরাহ্ন

      মৃত পিতা এবং মৃত স্বামী কি এক জিনিষ ? তাঁদের কথিত ‘আদর্শ’ কি তারতম্যহীন ? এই দুইকে ইকুয়ালাইজ করার জন্যে জীবন-উৎসর্গকারী পদকর্তাসমূহ , বিক্রমাদিত্যের রাজসভার সভাকবিদের চেয়ে তো দেখছি ,আপনি এক কাঠি সরেস ?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Prodip — december ২৭, ২০১৪ @ ৩:৫৪ অপরাহ্ন

      লেখক সাগুপতার এই মন্তব্যে যারা উদ্বেলিত, তাঁরা হয়তো অনুপ্রাণিত হবার উৎসকে হারিয়ে ফেলেছেন । কিন্তু জাফর ইকবালের অপর নাম অনুপ্রাণনা – আগামী প্রজন্মের জন্যে । জিয়া হায়দার রহমান বাংলাদেশে বেড়াতে এসে তাঁর মন্তব্য দিয়ে, কিছু আঁতেলকে ঝেড়ে কেশে বসার অনুপ্রাণনা দিয়ে গেলেন তাতে আগামী প্রজন্মের জন্যে সত্যি কি কোন সুসংবাদ আছে ? তা যদি না হোল,তাহলে কেন এই ভয়াবহ আরতি ??? লেখাটা পড়ে, জাফর ইকবালের উদ্দেশ্যে, রবীন্দ্রনাথে বিখ্যাত কবিতার কয়েকটি চরণ উপহার দিতে চাই ,
      রাখো নিন্দাবাণী, রাখো আপন সাধুত্ব অভিমান,
      শুধু একমনে হও পার
      এ প্রলয়-পারাবার
      নূতন সৃষ্টির উপকূলে
      নূতন বিজয়ধ্বজা তুলে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন zaman — december ২৭, ২০১৪ @ ৫:১৬ অপরাহ্ন

      আলোচনাটি চিত্তহারী। ব্যক্তিগত চরিত্রের দলাই-মলাই বাদ দিয়ে আমরা কি মূল বিষয়ে অধিক নজর দিতে পারি? বাংলাদেশ জীবিত কি জীবনহীন চিন্তাউত্পাদী, সেই বিষয়ে ফয়্সালা বেশি গুরুত্ববাহী। কি বলেন ভাই-বোনেরা? এখানে জিয়া, ইকবাল অথবা তানিয়াকে ব্যক্তি হিসাবে টানাটানিটা না করাই ভাল। তবে কথা কি, “বাংলাদেশ”–এই চিন্তাটাই একটা বিরাট রকমের জীবন্ত চিন্তা। সেই হিসাবে জিয়া হায়্দার সমালোচিত হতে পারেন বটে। রাজনীতির কারণে এদেশে চিন্তা নিহত হ্য় কথাটা মানতে বা্ধে। রাজনীতির কারণে সবদেশে সবকালেই স্বাধীন চিন্তার বিপদ হয়। তাই বলে চিন্তা করা তো থেমে থাকে না। এই দেশেও থাকে না।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Prodip — december ২৭, ২০১৪ @ ৬:০৩ অপরাহ্ন

      This is a optic evidence of intellectual shrewdness.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফারুক — december ২৭, ২০১৪ @ ৮:১২ অপরাহ্ন

      জিয়া হায়দার রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মুহাম্মদ জাফর ইকবাল যে কথাগুলো বলেছিলেন তাতে আবেগের গা শিরশিরে পলেস্তারা আছে, পড়লে জাতীয়তাবোধে মন উদ্দীপিত হয়, কিন্তু দিনের শেষে সত্য সত্যই থেকে যায়, যে সত্য জিয়া হায়দার রহমান উচ্চারণ করেছেন। একেবারে না ভেবে-চিন্তে তিনি কথাগুলো বলেছেন সেটা কীভাবে বলি? তিনি না হয় বাংলাদেশে থাকেন না, কিন্তু আমরা তো থাকি। সাগুফতা শারমীন তানিয়াকে সাধুবাদ জানাই, জাফর ইকবাল-এর অসংখ্য ভক্ত আবেগে থরথর করতে করতে তাঁর কথার প্রতিবাদ জানাবে এটা জেনেও তিনি সত্য উচ্চারণ করেছেন। জিয়া হায়দার এবং সাগুফতা শারমীন দুজনকেই অভিনন্দন সাহসী সত্য নির্ভয়ে উচ্চারণ করার জন্য।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাশুদুল হক — december ২৭, ২০১৪ @ ১১:৪৪ অপরাহ্ন

      জিয়া হায়দার অত্যন্ত আপত্তিকর একটা মন্তব্য করেছেন। যত ভাবেই আপনি ব্যাখ্যা করুন না কেন, তার বক্তব্যের অবজ্ঞা আপনি এড়াতে পারেন না শাগুফতা।
      জিয়া হায়দারের বক্তব্য দেয়ার অধিকারের সাথে প্রবাসী কর্মজীবী বা শ্রমিকদের বাক অধিকারের তুলনাটা হাস্যকর, তাঁদের ভূমিকায় দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয় আপনি বলেছেন, কিন্তু জিয়া হায়দারদের মত বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নাগরিকরা কি সেই ভূমিকা পালন করে, প্রবাসী শ্রমিকরা দিনশেষে দেশ নিয়েই স্বপ্ন দেখে, দেশের আপনজনের কথা ভাবে- তাদের সাথে কোথায় মিল জিয়া হায়দারদের?

      দেশ নিয়ে যার কোন পূর্বে প্রকাশিত ভাবনা নেই, সে চট করে সমালোচনা করতে পারে না- এই ছোট্ট সত্যটুকু আপনার মাথায় ঢুকছে দেখে আমি বিরক্ত। হয়তো আপনাদের মত ইন্টেলেকচুয়ালদের জন্যই একজন বিদেশী লেখক আমাদের অপমান করে যেতে পারলো।
      লজ্জাটা আপনারও, আশা করি বুঝতে পারবেন কোনদিন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাশেদ — december ২৮, ২০১৪ @ ১:৫৬ অপরাহ্ন

      জিয়া হায়দার রহমান বেশ ভেবেচিন্তে কিছু কথা বলে গেলেন, তার রেশ ধরে জাফর ইকবালের চিন্তাপ্রসূত একটা লিখা পড়লাম ” না, বাংলাদেশ মারা যায় নি”, এখন সাগুফতা তানিয়ার চিন্তা ভাবনা পড়লাম। সবাই চিন্তা ভাবনা করছেন, যার যার জায়গা থেকে ভাবনা চিন্তা করছেন, যারা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন তাদের মনেও ভাবনা চিন্তার উদ্রেক হয়েছে। তাহলে আমরা “মৃত চিন্তার দেশ” হলাম কিভাবে?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Shafiq — december ২৮, ২০১৪ @ ৩:৪৬ অপরাহ্ন

      I was expecting such a reply to Mr. Iqbal’s article. Logical and well explained.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Sohel — december ২৮, ২০১৪ @ ৪:৫৭ অপরাহ্ন

      বিদেশে বসে জিয়া হায়দার রহমান সাহেব, সাগুফতা ম্যাডাম গংদের স্বাধীন চিন্তা (অপচিন্ততা)করে সময় নষ্ট না করে নিজেদের ধান্দায় মন দিন। (১ ঘন্টা= ১০ ডলার/পাউন্ড)জেনে খুশি হবেন, বাংলাদেশে রেমিটেন্স পাঠায় তারা, যাদের কোন প্রতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার সার্টিফিকেট নেই (আপাদের ভাষায় চাষাভূষা)। জাফর ইকবাল-রা এদেশে আছেন বলেই যুবসমাজ নতুনের কেতন ওড়ায়, দেশকে ভালো কিছু দেবার জন্য স্বপ্ন দেখে। ব্লগার রাজিবরা জীবনের মায়া ত্যাগ করে কুপমন্ডুকতার বিরুদ্ধে কলম ধরে হাসতে হাসতে জীবন দেয়। রাজাকারের বিচার হয়। স্যার অপনি লিখে যান সাম্রাজ্যবাদী পেইড সো কলড বুদ্ধিজিবীদের বিরুদ্ধে। কেউবা মধ্যরাতের বিরক্তিকর চাপাবাজীতে ব্যস্ত কেউবা নিজের নিরাপদ সুখের আশায় পাশ্চাত্যে বসে নন্দলাল সেজেছেন-আর বাঘ ভালুক মারছেন। “যেন নিজে বাঁচলে বাপের নাম”- এরা সমাজের উচ্ছিষ্টভোগী, এরা কোনকালে সমাজের কোন উপকারে আসেনি আর আসবেও না। দেশে চালের দাম বাড়লে বলবে ছাত্ররা আন্দোলন করে না কেন? নিজের সন্তানকে বলবে বাবা ঘড়ের বাইরে যাসনে। দেশটা উচ্ছন্নে গেল ইত্যাদি।

      বা্ংলাদেশ মরেনি মরবেও না কোন দিন। শকুনের দোয়ায় গরু মরে না। দুঃখ হয় আপনাদের জন্য, আপনারা বরং মরার আগে আপনারা মরে গেছেন। বাংলাদেশের ভালো কিছু আপনাদের চোখে ধরা দেবে না কারণ শবদেহরা কিছুই দেখে না শুধু চারপাশে দুর্গন্ধ ছড়ায়। বিদেশে বসে চাপাবাজী না করে দেশে এসে অন্তত একটা ভালো কিছু করুন। “বাংলাদেশ মৃত চিন্তার দেশ” নয়, এদেশে পাখি ফল খেয়ে পোড়া মাটির ইটের দেয়ালে বিষ্ঠা ছড়ালেও সেখানে গাছ জন্মায়। বাংলাদেশ সম্ভাবনার দেশ। বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা রাজনীতির চিন্তা চেতনা পাশ্চাত্যের মত আগ্রাসী নয়, যা সমগ্র পৃথিবীর অশান্তির কারন। ছোটবেলায় একটা ছড়া পরেছিলাম কবির নাম মনে নেই- মাথায় কত প্রশ্ন আসে দিচ্ছে না কেউ জবাব তার/সবাই বলে মিথ্যেবাদী বকিসনে আর খবরদার।
      ধন্যবাদ সবাইকে

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Mostafa Tofayel — december ২৯, ২০১৪ @ ১২:৫৭ অপরাহ্ন

      When, in his comment, Zia Haidar categorically indicates to Bangladeshi politicians’ love for medieval ideas based on certain religious stand, his comment is not wrong.At present ,Bangladesh stands very much on the sharpe edge of a razor whether it should hark back to medievalism or go ahead with modernism, science, technology and the idea of equitable distribution of wealth.Zia Haider,the writer, has , actually urged his interviewers and listeners for a break-through.The nation ought now brave all that is new and innovative and modernist.I believe, he has not disregarded the epoch-making ideas and ideals of Bangabondhu Sheikh Mujib,who taught the nation to stand against the 18th-19th and early 20th century colonialism and exploitation and all that is fanatic and medieval.
      Bangabondhu Mujib was the fire-bringer.He was the Prometheus, the harbinger of newness,the modernist. Zia Haider’s comment needs to be ajudged with full repect to Bangabondhu’s role as the emancipator-not only in 1971, but also in 2014, 2024 and so on.He was the fire-bringer in 1971, and he remains the fire-bringer all through.No good can come if his revolutionery spirits and visionery zeals are neglected, bi-passed or put to oblivion-whosoever is in power.
      Now,it is time for the readers and for Prof.Jafor Iqbal and the readers in general to go deep into the text of Zia Haider’s book, ‘In The Light of What We Know’. Has he decried even the ideas of Bangobondhu Mujib,the fire-bringer? Probably not,since he was a war-baby of 1971. His intention might be like the ghost in Sakespeare’s play-“To whet the almost blunted purpose of Hamlet”.Almost all men of literature are like angels or ghosts who cannot be caught flesh and blood.Prof. Jafor Iqbal has made a vain attempt at catching the talented ghost or angel that Zia Haider is.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাজ — december ২৯, ২০১৪ @ ১০:৪২ অপরাহ্ন

      তানিয়া, প্রাচীন বাংলা নিয়ে উপন্যাস লিখতে গিয়ে শাহবাগস্থিত জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষের অপেশাদার সার্ভিসে আপনার ক্ষয়ক্ষতির কথা অন্যত্র জানিয়েছেন। এজন্য আপনার গুণমুগ্ধ পাঠক হিসেবে বেদনাহত। তবে একটা অনুরোধ- দার্শনিক গন্তব্য, কবিতার পংক্তি ইত্যাদি বায়বীয় কথাবার্তা বাদ দিয়ে কংক্রিট একটা কিছু দেখান যে আপনি/আপনারা/অমুকজন বাংলাদেশ নামের দেশটার এবং এর আমজনতার বা ভবিষ্যত প্রজন্মের কাজে লাগার মতো তমুক প্রজেক্টটা হাতে নিয়ে শুধু দেশটা বাংলাদেশ বলে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তারপর না হয় আমরা সবাই মিলে মরহুম বাংলাদেশের জন্য বৃটিশ অ্যাকসেন্টে ইন্নালিল্লাহ্ পড়ি।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সৈয়দ আলি — december ৩০, ২০১৪ @ ৫:২৪ পূর্বাহ্ন

      প্রবাসে বাস করলেই দেশবিরোধী সুবিধবাদী আর দেশে প্রতিনিয়ত কঠোর ও দুষ্প্রাপ্য জীবনধারন এবং রাজনৈতিকভাবে নতুন গজিয়ে উঠা ফ্যাসিবাদ সয়ে টিকে থাকা সাহসী হলেও, দুটোরই সরলীকরণ অনভিপ্রেত। লেখকের সুলিখিত ও আবেগের জোলাপসিক্ত জিয়া হায়দার রহমানই যদি নিবন্ধটি বিষয়বস্তু হয়ে থাকেন, তাহলে শুধু প্রবাসী বলে তার বাংলা বলার অক্ষমতা ক্ষমা করে না। ফলে তাকে নিয়ে আলোচনা করার কোন কারণই আমি দেখি না। লেখক কিছু ব্যান্ডওয়াইড্‌থের অপব্যয় করলেন মাত্র।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বশির — জানুয়ারি ৩, ২০১৫ @ ৬:৩৫ পূর্বাহ্ন

      লেখিকাতো ভালোই লিখেছেন। সবাই এতো রেগে যাচ্ছে কেন?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Rahan — জানুয়ারি ৫, ২০১৫ @ ৩:২৬ অপরাহ্ন

      জিয়া হায়দার সাহেব কে ? উনার দেশ ব্রিটেনে যে রাণী আছেন- রাজতন্ত্র আছে- এইসব নিয়ে কিছু বলেছেন ? বললে তো পাছার চামড়া থাকবে না- যদিও উনার দেশে নাকি বাকুম বাকুম স্বাধীনতা আছে। উনার দেশ ইরাক-আফগানিস্তানে কি ধরনের “ঘনতন্ত্র” প্রতিষ্ঠা করছে, জেনোসাইড অপারেটর-গাদ্দাফির ফ্রেন্ড কাম উপদেষ্টা ব্লেয়ারকে বার বার নির্বাচিত করেছে এইসব নিয়ে কিছু বলেছে ? আগে নিজের চরকায় উনার তেল দেয়া উচিত। আর এই লেখার লেখক এখনো ব্রিটিশ আমলের কেরানী মার্কা মানসিকতাতেই আছে। বিদেশী-লাল চামড়ার মুখ নিঃসরিত যে কোন আওয়াজই মহাবাণী- এটাই তেনাদের কাছে আপ্তবাক্য। হু দ্য হেল ইজ দিজ জিয়া হায়দার ? আমাদের সমস্যা আমরাই সমাধান করব। তুমি এভাবে বলার কে? আগে নিজে দেশের সমস্যা ঠিক কর।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com