অনুবাদ, উপন্যাস, বিশ্বসাহিত্য

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

anis_uzzaman | 24 Dec , 2014  

border=0বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.

অনুবাদ: আনিসুজ্জামান

———————————————————————————
ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ১২

কোন কারন ছাড়াই এক বিকেলে আম্পারো মসকতে বাড়িটার সঙ্গে পরিচিত হবার অনুমতি চায় । এই আকস্মিক আগমনে অপ্রস্তত আমারান্তা ও রেবেকা কঠোর লৌকিকতার সঙ্গে ওদের আপ্যায়ন করে । তাদের সংস্কার করা ভবনটা ঘুরিয়ে দেখায়, বাজিয়ে শোনায় পিয়ানোলাটা আর পরিবেশন করে বিস্কুটের সঙ্গে কমলার শরবত । যে অল্পক্ষণ উরসুলা ওদের সঙ্গে ছিল সে সময়ের মধ্যেই সম্ভ্রম, চরিত্রের মাধুর্য আর শিষ্টাচার দিয়ে আম্পারো তাকে মুগ্ধ করে । ঘন্টা দুয়েক পরে যখন আলাপচারিতা নিস্তেজ হওয়ার পথে তখন আমারান্তার অসতর্কতার সুযোগে রেবেকাকে দেয় একটি চিঠি । ও শুধু দেখতে পেল ‘সম্মানিতা সেনঞরিতা রেবেকা বুয়েন্দিয়া’ লেখা নামটা, অক্ষরের সেই একই বিন্যাসে লেখা, একই সবুজ কালি আর একই রকম সুক্ষ্ণতার সঙ্গে সাজানো শব্দগুলো, যেভাবে লেখা রয়েছে পিয়ানোলাটাকে চালানোর নিয়মকানুন । আঙুলের ডগা দিয়ে ভাঁজ করে চিঠিটা আর আমপারো মসকোতেকে আমৃত্যু নিঃশর্ত সহযোগিতা ও কৃতজ্ঞতার প্রতিশ্রুতিদায়ক অভিব্যক্তির চাহনি সহকারে লুকিয়ে ফেলে সেটা বডিসের ভিতর ।

আম্পারো মসকোতে ও রেবেকা বুয়েন্দিয়ার এই আকস্মিক বন্ধুত্ব আউরেলিয়ানোর মনে আশা জাগিয়ে তোলে । ছোট্ট রেমেদিওসের স্মৃতি-যন্ত্রনা থেকে রেহাই দেয়নি ওকে কিন্তু রেমেদিওসকে দেখার মত কোন সুযোগও হয়নি তার। মাগনিফিকো ভিসকল এবং গেরিলেনদো মারকেস, গ্রাম পত্তনকারীদের ছেলে, যাদের নাম ছিল বাপের মত একই নামে নাম, তারা ছিল আউরেলিয়ানোর নিকটতম বন্ধু। যখন ওদের সঙ্গে আউরেলিয়ানো গ্রামের পথে বেড়াত তখন ওকে উৎকন্ঠিত দৃষ্টিতে খুঁজে বেড়াতো সেলাইয়ের দোকানে, কিন্তু শুধুই দেখা যেত বড় দুই বোনকে । আম্পারো মসকোতের এই বাড়িতে উপস্থিতিটা ছিল যেন একটা কিছুর পূর্বাভাস। “ ওর সঙ্গে তাকে আসতেই হবে” এই কথাটা প্রবল বিশ্বাসের সঙ্গে এতবার সে পুনরাবৃত্তি করে, যে এক বিকেলে যখন সে ছোট্ট একটা সোনার মাছ বানাচ্ছিল তখন নিশ্চিত হয় যে সে তার ডাকে সাড়া দিয়েছে । কিছুক্ষণ পর সত্যি সত্যিই শুনতে পেল বালিকাদের গলা, আর ভয়ে জমে যাওয়া হৃদয় নিয়ে দৃষ্টি তুলতেই দেখতে পেল গোলাপী রঙের অর্ধস্বচ্ছ কাপড় দিয়ে বানানো জামা আর সাদা জুতা পরিহিত বালিকাটিকে ।

“ওখানে ঢুকো না” বলে বারান্দা থেকে আম্পারো মসকোতে- “ওরা ওখানে কাজ করছে” । কিন্তু আউরেলিয়ানো ঐ কথায় সাড়া দেয়ার সময় ওকে দেয় না । মাছের মুখ থেকে বের হওয়া চেন ধরে সোনার মাছটা টেনে ধরে তুলে বলে “ ভেতরে এস” । রেমেদিওস কাছে এসে মাছটি সম্বন্ধে কিছু প্রশ্ন করে তাকে কিন্তু হঠাৎ এসে পরা হাঁপানি আউরেলিয়ানোকে উত্তর দিতে বাঁধা দেয় । অনন্তকালের জন্য থাকতেই ইচ্ছে হয় তার এই লিলি ফুলের মত মুখের সঙ্গে, এই পান্না সবুজ চোখের সঙ্গে। প্রতিবার নিজের বাবাকে সম্মান দিয়ে যেভাবে স্যার বলে, সেই একই সম্মান দিয়ে যে গলার স্বরটা আউরেলিয়ানোকে ডাকছিল “স্যার” বলে, সেই স্বরের খুব কাছাকাছি থাকতে । মেলকিয়াদেস বসা ছিল কোনার টেবিলে আর আঁকিবুকি করছিল অর্থ উদ্ধারে অসম্ভব সংকেত লিপি নিয়ে । আউরেলিয়ানো ওকে ঘৃণা করে ঐ মুহূর্তে। রেমেদিওসকে মাছটা উপহার দিবে এটা বলা ছাড়া সে আর কিছুই করতে পারে না। আর এই নৈবেদ্যের আকস্মিকতায় মেয়েটা এতই ভয় পায় যে দ্রুত কর্মস্থল ত্যাগ করে সে । যে গোপন ধৈর্য নিয়ে আউরেলিয়ানো ওকে দেখতে পাওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় ছিল ঐ বিকেলে সে তা হারিয়ে ফেলে । কাজে অন্যমনস্ক হয় সে । মরিয়া হয়ে সমস্ত শক্তি কেন্দ্রীভূত করে অনেকবার তাকে ডেকে যায় আপন মনে কিন্তু রেমেদিওস তাতে সাড়া দেয় না । ওকে খুঁজে বেড়ায় বোনদের কাজের জায়গায়, ওদের বাড়ির জানালার পর্দার পেছনে, ওর বাবার অফিসে, কিন্তু একমাত্র পায় ওর নিজস্ব জমে ওঠা ভয়ঙ্কর একাকীত্বের প্রতিচ্ছবি । ও পার করে দিত ঘন্টার পর ঘন্টা খাবার ঘরে রেবেকার সঙ্গে পিয়ানোলায় ওয়ালটজ শুনে । রেবেকা শুনত কারন ওটা ছিল সেই গান যার সঙ্গে পিয়েত্র ক্রেস্পি নাচতে শিখিয়েছিল ওকে। আউরেলিয়ানো শুনত কারন সবকিছুই, এমনকি বাজনাও তাকে মনে করিয়ে দিত রেমেদিওসের কথা ।

——————————-

আর্হেন্তিনার বুয়েনোস আইরেস-এর
এদিতোরিয়াল সুদামেরিকানা প্রকাশনী থেকে
প্রকাশিত ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’ উপন্যাসের
প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ

——————————-
border=0
ভালবাসায় ভরে উঠল বাড়িটা । আউরেলিয়ানো তা প্রকাশ করে পদ্যের মাধ্যমে যার কোন আরম্ভ ছিলনা এমনকি ছিলনা শেষও । ওগুলোকে লিখত সে মেলকিয়াদেস থেকে উপহার পাওয়া খসখসে পার্চমেন্ট কাগজে, গোসলখানার দেয়ালে, নিজের বাহুর চামড়ায়, আর সবগুলো পদ্যেই উপস্থিত হত রূপান্তরিত রেমেদিওসঃ বেলা দুটোর নিদ্রাউদ্রেককারী বাতাসে রেমেদিওস, গোলাপের নীরব নিঃশ্বাসে রেমেদিওস, প্রজাপতির কাঁচ ঘড়ির গোপনীয়তায় রেমেদিওস, রেমেদিওস ভোরের রুটিতে ওঠা ভাপে, রেমেদিওস সব জায়গায় আর রেমেদিওস অনন্তকালের জন্য । বিকেল চারটার সময় এমব্রয়ডারি করতে করতে জানালার পাশে ভালবাসার অপেক্ষা করত রেবেকা । ও জানত যে ডাক বওয়া খচ্চরটা প্রতি পনের দিনে আসে একবার, কিন্তু সে অপেক্ষা করত সব সময়; ভুল করে কোন একদিন চলে আসবে এই স্থির বিশ্বাসে । কিন্তু ঘটে তার ঠিক উল্টোটাঃ একবার খচ্চরটা এল না নির্দিষ্ট দিনে । হতাশায় পাগল হয়ে মধ্যরাত্রিতে বাগানে গিয়ে মুঠি মুঠি মাটি খেল, আত্মহত্যার উদগ্র ইচ্ছেয়, ক্রোধ আর কষ্ট নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে, নরম কেঁচো চিবুতে চিবুতে আর শামুখের খোলসের ঘায়ে মাড়ি ক্ষতবিক্ষত করতে করতে । ভোর পর্যন্ত বমি করে চলে সে । ডুবে যায় এক অবসন্নতার চরমে, বাহ্যজ্ঞান হারিয়ে ফেলে, আর ওর হৃদয় খুলে যায় অশালীন প্রলাপবিকারে । এতে মর্মঘাতী হয়ে উরসুলা তোরঙ্গের তালা ভেঙ্গে একেবারে তলায় পায় গোলাপী ফিতে দিয়ে বাঁধা সুবাসিত ষোলটি চিঠি, প্রাচীন বইয়ের মধ্যে রাখা গাছের পাতা আর ফুলের পাপড়ির কঙ্কাল আর শুকিয়ে যাওয়া প্রজাপতি যা ছোঁয়ার সাথে সাথেই গুড়ো হয়ে ধুলোয় পরিণত হয় । একমাত্র আউরেলিয়ানোরই ক্ষমতা ছিল ওর এই শোকাহত অবস্থাকে বুঝতে পারার । সেই বিকেলে, উরসুলা যখন রেবেকাকে তার উদ্ভ্রান্ত অবস্থা থেকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে, আউরেলিয়ানো তখন ম্যাগনিফিক ভিসবাল ও গেরিনেলদো মারকেসের সঙ্গে কাতারিনোর দোকানে যায় । জায়গাটাকে বাড়ানো হয়েছিল এক কাঠের ঘড় দিয়ে যেখানে নিঃসঙ্গ মেয়েরা থাকে মৃত ফুলের গন্ধ নিয়ে । অ্যাকোরডিয়ান আর বোলসহ একটি দল ফ্রান্সিসকো এল অম্ব্রের গান গেয়ে চলে আর ফ্রান্সিসকো বেশ কয়েক বছর হল মাকন্দো থেকে উধাও হয়ে গেছে । তিন বন্ধু গাজানো গুয়ারাপো (আখের রস দিয়ে বানানো পানীয়) পান করে । মাগনিফিকো আর গেরিনেলদো হচ্ছে আউরেলিয়ানোরই সমসাময়িক কিন্তু দুনিয়ার হাল হকিকতে তারা অনেক বেশি ওয়াকিবহাল । ওরা সেখানে নিয়মমাফিক মেয়েদের কোলে বসিয়ে পান করে যায় । চিমসে যাওয়া সোনার দাঁতওয়ালা ওদেরই একজন কুৎসিতভাবে আদর করে আউরেলিয়ানোকে । সে প্রত্যাখ্যান করে । সে বুঝতে পারে যতই পান করছে ততই মনে পরে যাচ্ছে রেমেদিওসের কথা, কিন্তু তেমনই আরও বেশী অসহ্য হয় তার স্মৃতির যন্ত্রণা । সে বুঝতেও পারল না কখন সে ভাসতে শুরু করেছে। দেখতে পেল তার বন্ধুরা আর মেয়েরা উজ্জ্বল আলোর প্রতিবিম্বে ভেসে বেড়াচ্ছে– ওজনবিহীন, আয়তনবিহীন, বলা কথাগুলো ঠোটের ফাঁক দিয়ে বেরুচ্ছে না । আর ওরা এমন সব ইঙ্গিত করছে যা তাদের মুখভঙ্গির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ । কাতারিনো ওর পিঠে হাত রেখে বলল “এগারোটা বাজতে যাচ্ছে” । আউরেলিয়ানো মাথা ঘুরিয়ে কানে গোঁজা ফেল্টের ফুলসহ বিশাল বিকৃত মুখটা দেখে আর তখনই স্মৃতিবিলোপ ঘটে তার, যেমনটা ঘটত বিস্মরণের সময়। তার স্মৃতির পুনরুদ্ধার হয় এক অদ্ভুত ভোরে; এক কামরায়, যেটা ছিল সম্পূর্ণই অপরিচিত । তার সঙ্গে সংযুক্ত হয় খালি পায়ে, উস্কখুস্ক চুলসহ পিলার তেরনেরা, তাকে দেখছে এক বাতির আলোয় আলোকিত করে অবিশ্বাস্য চোখে ।

“আউরেলিয়ানো”!

নিজের পায়ে স্থির হয়ে মাথা তোলে আউরেলিয়ানো । সে জানত না কিভাবে এখানে এসেছে, কিন্তু জানত আসার উদ্দেশ্য। কারন শৈশব থেকে তা গোপনে বহন করছিল হৃদয়ের অলংঘ্য দুর্ভেদ্য অংশে । “ আপনার সঙ্গে শুতে এসেছি” বলল । কাঁদা আর বমিতে মাখামাখি ছিল ওর পরনের জামাকাপড় । পিলার তেরনেরা তখন বাস করত শুধুমাত্র নাবালক দুই ছেলেদের নিয়ে, সে তাকে কোন প্রশ্নই করে না । ঘড়ে নিয়ে ওকে মুখটা মুছিয়ে দেয় এক ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে, খুলে ফেলে তার পরিহিত বস্ত্র; পরে নিজে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে মশারী নামিয়ে দেয় যাতে ছেলেরা জেগে উঠলে দেখতে না পায় । যে লোকটার আসার কথা ছিল, যে লোকগুলো চলে গিয়েছে, তাসদের অনিশ্চয়তাময় আচরণে বিভ্রান্ত হয়ে অগনিত যে লোকগুলো তার বাড়ির পথ খুঁজে পায়নি তাদের আগমনের আশায় থেকে থেকে সে ক্লান্ত হয়ে গেছে । এই দীর্ঘ অপেক্ষায় ভাঁজ পরেছে ওর চামড়ায়, স্তনগুলো হয়ে গেছে খালি, আর নিভে গেছে হৃদয়ের অঙ্গার । অন্ধকারে আউরেলিয়ানোকে খুঁজে নিয়ে পেটের উপর হাত রেখে গলায় চুমু খেল মাতৃসুলভ কোমলতা নিয়ে । “ অভাগা ছেলে আমার” বিড়বিড় করে সে । কেঁপে ওঠে আউরেলিয়ানো । এক প্রশান্ত দক্ষতায় বিন্দুমাত্র ভুল না করে পেছনে সরিয়ে দেয় তার পর্বত প্রমান কষ্ট আর রেবেকা হয়ে পরে ছোট্ট জন্তু আর সদ্য ইস্ত্রি করা জামার গন্ধে ভরা সীমানাবিহীন জলাভূমি । যখন স্বাভাবিক হল তখন সে কাঁদছে । গোড়াতে কান্নাটা ছিল নিজের অজান্তেই থেকে থেকে ফুঁপিয়ে ওঠা কান্না । পরে খালি করে দিল এক বাঁধনহীন ঝর্নাধারা, যেন ওর ভেতরে স্ফীত যন্ত্রণাদায়ক কিছু একটা বিস্ফোরিত হয়েছে । পিলার অপেক্ষা করে আঙুলের ডগা মাথায় বুলিয়ে দিতে দিতে, যতক্ষণ পর্যন্ত না আউরেলিয়ানোর শরীর ছেড়ে যায় সেই কালো পদার্থ যা তাকে বাঁচতে দিচ্ছিল না । তখন পিলার তেরনেরা জিজ্ঞেস করে “ কে সে” আর আউরেলিয়ানো বলে তার কথা । পিলার হেসে ফেলে সেই হাসি, যে হাসি শুনে অন্য সময় ঘুঘুরা চমকে যেত। কিন্তু এবার এমনকি বাচ্চারাও ঘুম থেকে জাগে না সেই হাসিতে। “ প্রথমে তাকে লালন করা শেষ করতে হবে তোকে” ব্যাঙ্গ করে সে । কিন্তু এই ব্যঙ্গের আড়ালে আউরেলিয়ানো খুঁজে পায় এক সহানুভূতির স্থির জলাধার। যখন সে ঘড় থেকে বের হয় তখন শুধুমাত্র যে তার পুরুষত্ব সম্বন্ধে অনিশ্চয়তা ত্যাগ করে তাই নয়, এতগুলো মাস ধরে তার হৃদয়ভরা তিক্ততার ভারও ফেলে রেখে আসে পেছনে । হঠাৎ করেই পিলার তেরনেরা অঙ্গীকার করে বসে – “বালিকাটির সঙ্গে আমি কথা বলব”- ওকে বলে “ আর দেখে নিস, ওকে আমি তোর থালায় এনে পরিবেশন করব” । অঙ্গীকার পূরণ করে সে, কিন্তু এক খারাপ সময়ে, কারন বাড়িটা হারিয়ে ফেলেছে সেই অন্য দিনগুলোর শান্তি ।
(চলবে)

কিস্তি-১ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৩ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৪ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৫ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৬ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৭ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৮ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৯ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১০ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১১ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

Flag Counter


1 Response

  1. Mushfika Jahan says:

    Eagerly waiting for the next chapter. Hope we would be able to read this splendid novel’s full version of Bengali translation. Heart-felt thanks to the translator Mr. Anisuzzaman and ArtsBDnews24 !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.