অনুবাদ, উপন্যাস, বিশ্বসাহিত্য

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

anis_uzzaman | 13 Dec , 2014  

border=0বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.

অনুবাদ: আনিসুজ্জামান

———————————————————————————
ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ১১

কবুতরের মতো সাদা বাড়িটার উদ্বোধন করা হল এক নাচের আয়োজনের মাধ্যমে। উরসুলার মনে ধারণাটা এসেছিল সেই বিকেলে যেদিন ওদের দেখেছিল বয়ঃসন্ধিতে প্রবেশ করতে, আর প্রায় বলতে গেলে বাড়িটা সে বানিয়েছিল, যাতে করে মেয়েরা সম্মানজনক একটা জায়গায় অতিথিদের আপ্যায়ন করতে পারে। উৎসবে যাতে জাকজমকের কমতি না পরে তার জন্য বাড়ি তৈরি শেষ হওয়ার আগেই সে খেটে যায় ক্রীতদাসের মতো। ফলে ফরমাশ দিয়ে দেয় ঘর সাজানোর জিনিসপত্র, বাসনকোসন আর গ্রামে আলোড়ন সৃষ্টিকারী, যৌবনের আনন্দ এবং আজব আবিষ্কারের; পিয়ানোলা (পিয়ানো আর টেপরেকর্ডারের সম্মিলিত এক যন্ত্র, আধুনিক MP3-র ১৯০০ এর সংস্করণ)। ওটাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বিভিন্ন অংশে ভাগ করে আলাদা আলাদা বাক্সে ভরে। আর ওগুলোকে নামানো হয়েছিল ভিয়েনার আসবাবপত্র, বোহেমিয়ার হাতে কাঁটাকাচের সামগ্রী, ইন্ডিজ কোম্পানির বাসনকোসন, হল্যান্ডের টেবিলক্লথ, ভালো ভালো সব ঝাড়বাতি, মোমবাতি, ফুলদানি আর ঘর সাজানোর কারুকার্যের সঙ্গে। পিয়ানোলায় বিশেষজ্ঞ পিয়েত্র ক্রেসপি নামের এক ইতালিয়কে পাঠায় অংশগুলো জোড়া দিয়ে, সুর বেঁধে, আর ছয় রোলে ছাপা আধুনিক বাজনার সঙ্গে কীভাবে নাচতে হয় তা শিখিয়ে দিতে।

পিয়েত্র ক্রেস্পি ছিল সোনালি চুলওয়ালা মাকন্দোতে দেখা সবচেয়ে সুন্দর আর শিক্ষিত যুবক। পোশাকের ব্যাপারে সে ছিল এতই রীতি-সচেতন যে দম আটকানো গরমের মধ্যেও সে এমব্রয়ডারি করা গেঞ্জি আর গায়ে মোটা কাপড়ের কোট পরে কাজ করত। ঘামে ভিজে, বাড়ির মালিকদের সঙ্গে সম্ভ্রমপূর্ণ দূরত্ব বজায় রেখে কয়েক সপ্তাহ কাটিয়ে দেয় বৈঠকঘরের বদ্ধ অবস্থায়, যা নাকি আউরেলিয়ানোর রৌপ্য কর্মের আত্মনিয়োগের সঙ্গেই একমাত্র তুলনা করা চলে।

এক সকালে দরজা না খুলে আশ্চর্য ব্যাপারটার সাক্ষী হতে কাউকে না ডেকেই লাগিয়ে দেয় কাগজের প্রথম রোলটাকে পিয়ানোলার সঙ্গে। আর যন্ত্রণাদায়ক হাতুড়ি ও কাঠচেড়াইয়ের নিরবচ্ছিন্ন গোলযোগ বিস্ময়করভাবে বন্ধ হয়ে যায় সুরের শৃঙ্খলা আর পবিত্রতায়। সকলেই ছুটে আসে বৈঠক ঘরে, হোসে আর্কাদিয় বুয়েন্দিয়া যেন বিদ্যুতপৃষ্ঠ হয় সুরের মাধুর্যে নয়, বরঞ্চ পিয়ানোলার রিডগুলোকে নিজে নিজেই বাজতে দেখে। সে অদৃশ্য বাদকের প্রতিচ্ছবির দাগেরটাইপ করার আশায় মেলকিয়াদেসের ক্যামেরাটিকে বসিয়ে দেয় বৈঠকখানায়। সেদিন ওদের সঙ্গে খাবার খায় ইতালীয়। রেবেকা আর আমরান্তা খাবার পরিবেশনের সময় বিস্মিত হয় স্বর্গীয় দূতের মতো মানুষটার আংটিবিহীন পান্ডুর হাতে ছুরি ও কাঁটাচামচের স্বচ্ছন্দ ব্যবহারে। বৈঠকঘর সংলগ্ন থাকার ঘরে ওদের নাচতে শেখায় পিয়েত্র ক্রেস্পি। নাচের পদক্ষেপগুলোর নির্দেশনা দিচ্ছিল ওদের স্পর্শ না করেই। এক মেট্রোনমের (Metronome- নির্দিষ্ট লয়ে সংগীতের তাল মাপার যন্ত্র) মাধ্যমে তালকে বুঝিয়ে দেয় উরসুলার স্নেহপূর্ণ পাহারার মধ্যে, যে নাকি বৈঠক ছেড়ে এক পাও নড়েনি যতক্ষণ ওরা শিখে নিচ্ছিল। এসব দিনে পিয়েত্র ক্রেস্পির পরনে থাকত আঁটসাঁটো নরম কাপড়ের এক বিশেষ ধরনের প্যান্ট আর বিশেষ ধরনের চপ্পল।

“তোমার এত দুশ্চিন্তা করার কোনো কারণ নেই।” বলে হোসে আর্কাদিয় বুয়েন্দিয়া, “লোকটা হচ্ছে হিজড়ে।” কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত নাচ শেখা শেষ না হল আর লোকটা মাকন্দো থেকে চলে না গেল ততক্ষণ পর্যন্ত সে তার পাহারায় যতি টানল না। তখন আরম্ভ হল উৎসবের প্রস্তুতি। উরসুলা তৈরি করে নিমন্ত্রিতদের এক কড়াকড়ি তালিকা যেখানে শুধুমাত্র বাছাই করা হয় মাকন্দো পত্তনকারীদের আর তাদের বংশধরদের। ব্যতিক্রম ছিল শুধুমাত্র অজ্ঞাত পিতাদের দ্বারা আরও দুই সন্তানের জন্ম দেওয়া পিলার তেরনেরার পরিবার। সত্যিকার অর্থে সমাজের এক বিশেষ স্তরই শুধুমাত্র আমন্ত্রিত হয়েছিল। আর শুধুমাত্র বন্ধুত্বের মনোবৃত্তির উপর নির্ভর করেই তাদের নির্বাচন করা হয়েছিল। কারণ সৌভাগ্যবানরা শুধুমাত্র মাকন্দো পত্তন অভিযানের আগে থেকে হোসে আর্কাদিয় বুয়েন্দিয়ার যে সুহৃদ তাই নয়, বরঞ্চ তাদের ছেলেরা ছিল আউরেলিয়ানো আর আর্কাদিয়র শৈশবের নিত্যসঙ্গী। একমাত্র ওদের মেয়েরাই বাড়িতে আসত রেবেকা আর আমারান্তার সঙ্গে এমব্রয়ডারি করতে।

দয়াশীল শাসক দন আপলিনার মাসকতের ক্ষমতা সীমিত ছিল ওর অল্প সংস্থানে দুই লাঠিধারী পুলিশের ভরণপোষণে, যা ছিল নিছকই লোক দেখানো। বাড়ির খরচ মেটানোর জন্য তার মেয়েরা এক সেলাইয়ের দোকান খোলে। যেখানে সেলাই করা হত ফেল্টের ফুল। পাশাপাশি করা হত পেয়ারার তৈরি মিষ্টি অথবা চাহিদা অনুযায়ী প্রেম নিবেদনপত্র। কিন্তু বিনয়ী, পরিশ্রমী, গ্রামের সবচেয়ে সুন্দরী আর নতুন ধরনের নাচে সবচেয়ে দক্ষ হলেও উৎসবের আমন্ত্রণ ওরা সংগ্রহ করতে পারে না।

——————————-

আর্হেন্তিনার বুয়েনোস আইরেস-এর
এদিতোরিয়াল সুদামেরিকানা প্রকাশনী থেকে
প্রকাশিত ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’ উপন্যাসের
প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ

——————————-
border=0
যখন উরসুলা আর মেয়েরা আসবাবপত্রের মোড়ক খুলছে, ধুলা ঝারছে থালা বাসনের, টাঙাচ্ছে নৌকাভরা গোলাপসহ কুমারী মেয়েদের ছবি, যা কিনা রাজমিস্ত্রিদের বানানো নতুন খালি জায়গায় জীবনের প্রাণস্পন্দন এনে দিচ্ছে, তখন হোসে আর্কাদিয় বুয়েন্দিয়া ঈশ্বরের প্রতিচ্ছবি খোঁজার ব্যাপারে ইস্তফা দেয়। আর ঈশ্বরের অনস্তিত্বে নিশ্চিত হয়ে পিয়ানোলাটা বিভিন্ন অংশে খুলে ফেলে ওটার ভেতরের জাদুকরি গোপন ব্যাপারটা উম্মোচনের জন্য। উৎসবের দুদিন আগে ঠিক জায়গামতো লাগাতে না পারা পিন আর পিয়ানোলার হাতুড়ির মধ্যে ডুবে থাকে সে। একদিক থেকে খুলে ফেলা জট অন্যদিকে পেঁচিয়ে যাওয়ার সমস্যায় হাবুডুবু খেয়ে, কোনো রকমে সে একসঙ্গে লাগায় পিয়ানোলাটা। ঐ সময়ের তুলনাহীন ব্যস্ততা আর দৌড়াদৌড়ির মধ্যেও পিচের বাতিগুলো আগে থেকে নির্দিষ্ট করা দিন এবং ঘণ্টায় জালানো হয়। বাড়িটা খোলা হয় যখন, তখনও সেখান থেকে ভেজা চুন আর রজনের গন্ধ বের হচ্ছিল। পত্তনকারীদের ছেলেরা আর নাতিরা পরিচিত হয় ফার্ন আর বেগনিয়ার বারান্দার সঙ্গে, নিঃশব্দ ঘরগুলোর সঙ্গে আর বাগানভর্তি গোলাপের সুবাসের সঙ্গে। আর ওরা সমবেত হয় বসার ঘরে, সাদা চাদড় দিয়ে ঢাকা এক অজ্ঞাত আবিষ্কারের সামনে। যারা জলাভূমির অন্যান্য লোকবসতিতে জনপ্রিয় পিয়ানো্লা যন্ত্রটার সঙ্গে পরিচিত ছিল, তারা সামান্য হতাশ হয়। তিক্ত মোহভঙ্গ ঘটে উরসুলার যখন আমারান্তা আর রেবেকা নৃত্যপর্বের শুরু করার জন্য প্রথম রোলটা লাগানো হয়, আর দেখা যায় যন্ত্রটা কাজ করছে না। প্রায় অন্ধ, বয়সের ভারে ভগ্ন মেলকিয়াদেস তার প্রাচীন শৈল্পিক বিজ্ঞতা দিয়ে যন্ত্রটাকে সাড়তে চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত হোসে আর্কাদিয় বুয়েন্দিয়া ভুলবশত আটকে থাকা একটা যন্ত্রাংশ নড়িয়ে দেওয়ার পর প্রথমে সুর বেরিয়ে আসে বিস্ফোরণের মতো। পরে সবগুলো জটিল গোলমেলে স্বরের ঝরনারূপে, কোনো কনসার্টের শৃঙ্খলা ছাড়াই তারগুলোতে বেপরোয়া আঘাত হাতুড়িগুলোকে পাগল করে তোলে। কিন্তু সমুদ্রের খোঁজে পাহাড় ডিঙিয়ে পশ্চিম দিক থেকে আসা একশজন একগুঁয়ে লোকের বংশধররা সুরের জগাখিচুড়ির বাধাকে অগ্রাহ্য করে, আর ওদের নাচ প্রলম্বিত হয় ভোর পর্যন্ত।

পিয়ানোলা সাড়ার জন্য ফিরে আসে পিয়েত্র ক্রেস্পি। রেবেকা আর আমারান্তা সাহায্য করে তাঁরগুলোকে ঠিক জায়গায় বসাতে আর উচ্চহাস্যে ফেটে পড়ে গোলমেলে ওয়ালটজের সুরে। এসব ঘটে এতই স্বাভাবিক আর মাধুর্য্য নিয়ে যে উরসুলা পাহারা দেওয়া বাদ দেয়। যাবার একদিন আগে সেরে ফেলা পিয়ানোলাটা দিয়ে এক বিদায় নাচের আয়োজন করে পিয়েত্র আর নৈপুণ্যসহ রেবেকাকে প্রদর্শন করে আধুনিক নাচ। আর্কাদিয় আর আমারান্তা একই রকম আনন্দ আর নৈপুণ্য সহকারে যোগ দেয়। কিন্তু নাচে বিঘ্ন ঘটে যখন কৌতূহলীদের সঙ্গে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা পিলার তেরনেরা এক মেয়েকে বলতে শুনল ‘ যুবক আর্কাদিয়র নিতম্ব মেয়ে মানুষের মতো’, আর সে তার সঙ্গে কামড়াকামড়ি চুলোচুলি বাধায়। মধ্যরাত্রে পিয়েত্র ক্রেস্পি বিদায় নেয় এক আবেগপূর্ণ আলাপের মাধ্যমে, খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। রেবেকা ওকে সঙ্গ দেয় দরজা পর্যন্ত আর বাড়ির সব দরজা বন্ধ এবং বাতি নেভানোর পর সে ঘরে ঢোকে কান্নার জন্য। সে ছিল এক অসান্ত্বনাদায়ক কান্না, যা গড়িয়েছিল অনেকদিন পর্যন্ত, এর কারণ কেউ জানত না। এমনকি আমারান্তাও নয়। ওর এই গোপনীয়তা কোনো নতুন ব্যাপার ছিল না। যদিও তাকে মনে হত খোলামেলা আর আন্তরিক কিন্তু তার ছিল এক নিঃসঙ্গতায় ভরা চরিত্র আর দুর্ভেদ্য মন। সে ছিল লম্বা আর শক্ত হাড়ের চমৎকার এক কিশোরী, কিন্তু বারবার মেরামত করার পরও, নিজের সঙ্গে নিয়ে আসা হাতলবিহীন কাঠের দোলচেয়ারটাকে ব্যবহারের ব্যাপারে সে ছিল অনড়। কেউই জানত না যে এই বয়সেও সে বজায় রেখেছিল আঙুল চোষার অভ্যাসটা। এ কারণে সে বাথরুমে নিজেকে বন্দি করার সুযোগটা হাতছাড়া করত না। আর একই সময় দেয়ালের দিকে মুখ করে ঘুমানোর অভ্যাসটাও সে আয়ত্ত করে ফেলে।

বৃষ্টিভেজা বিকেলগুলোতে যখন বেগনিয়া-ঢাকা বারান্দায় একদল বান্ধবীর সঙ্গে সে এমব্রয়ডারি করত, তখন তার আলাপের সুতো ছিঁড়ে গেলে তাকিয়ে দেখত ভেজা মাটির স্তূপগুলো আর স্মৃতিকাতর একফোঁটা জল এসে ভিজিয়ে দিত ওর চোখ ও জিহ্বা। তখন সে কাঁদতে আরম্ভ করত আর অন্যসময়ে কমলা ও রেউচিনির কাছে হেরে যাওয়া নিভৃত ভালো লাগাগুলো অদম্য বাসনা নিয়ে আঘাত করত ওকে। তখন আবার মাটি খেতে আরম্ভ করে সে। প্রথমবার খায় শুধু কৌতূহলবশত, নিশ্চিত হয় যে মাটির খারাপ স্বাদই প্রলোভনের সবচেয়ে ভালো প্রতিষেধক হবে, আর সত্যিই মুখের ভেতর মাটি সে সহ্য করতে পারছিল না। কিন্তু ক্রমবর্ধিষ্ণু উৎকণ্ঠার তাড়নায় নিজেকে জোর করে বারবার। আর আস্তে আস্তে উদ্ধার পায় তার বংশগত ক্ষুধা, মৌল খনিজগুলোর প্রতি ভালো লাগা, আদি খাবারের অভিন্ন পরিতৃপ্তি। মুঠি মুঠি মাটি পকেটে ভরার পর একটু একটু করে খেত সকলের আড়ালে। খেতে ভালোলাগা আর উগ্র রোষের সম্মিলিত এক বিভ্রান্তিকর মনোভাব নিয়ে। কাজটা সে করত বান্ধবীদের সেলাইয়ের সবচেয়ে কঠিন ফোঁড় শিখিয়ে দিতে দিতে আর অন্য পুরুষ মানুষ সম্বন্ধে আলাপ করতে করতে যে, পুরুষরা চুন খাওয়ার মতো ত্যাগস্বীকারের পাত্র নয়। মুঠি মুঠি মাটি ওকে নিয়ে যেত আরও কাছে, ওকে করে তুলত আরও নিশ্চিত যে, এই অধঃপতনের ত্যাগ স্বীকারের যোগ্য পৃথিবীতে একজন লোকই আছে যার পরিশীলিত চামড়ার বুট পৃথিবীর অন্য প্রান্ত থেকে প্রেরণ করছে রেবেকাকে তার ভার ও রক্তের উত্তাপ এক খনিজ স্বাদের মাধ্যমে, যে স্বাদ মেয়েটার মুখে রেখে যেত এক খসখসে তিক্ততা। আর হৃদয়ে রেখে যেত শান্তির পলি।
(চলবে)

কিস্তি-১ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৩ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৪ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৫ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৬ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৭ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৮ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৯ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-১০ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

Flag Counter


1 Response

  1. সোহেল says:

    বাকি টুকু কবে পাব?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.