অনুবাদ, উপন্যাস, বিশ্বসাহিত্য

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

anis_uzzaman | 7 Nov , 2014  

border=0বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.

অনুবাদ: আনিসুজ্জামান

———————————————————————————
ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ৮

জন্মানোর দু সপ্তাহ পরে পিলার তেরনেরার ছেলেকে নিয়ে যাওয়া হোল ওদের দাদা-দাদীর বাড়িতে। ওকে অনিচ্ছার সঙ্গে বরণ করে উরসুলা। স্বামীর গোয়ার্তুমির কাছে আবার হার মানে সে, কারন তার স্বামী সহ্য করতে পারছিল না যে তার রক্তের একটা কুঁড়ি বিপথে প্রবাহিত হবে। তবে শর্ত দেয়া হল ছেলেটার কাছে তার প্রকৃত পরিচয় গোপন করা হবে। যদিও ওর নাম রাখা হল হোসে আর্কাদিও কিন্তু বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য তাকে শেষ পর্যন্ত আর্কাদিও নামেই ডাকা হলো। সেই সময় গ্রামে এত কর্মতৎপরতা আর বাড়িতে এত ক্লান্তিকর কাজ ছিল যে বাচ্চাদের দেখা শুনাটা পরিণত হয় গৌণ কর্মে। অনিদ্রা নামক মহামারীর হাত থেকে বাঁচার জন্য গুয়াহিরা উপজাতিদের দল থেকে কয়েক বছর আগে পালিয়ে আসা বিসিতাসিওন নামের এক আদিবাসী মহিলা আর তার ভাই-এর হাতে ওদের ভার অর্পন করা হল। উভয়ই এত অনুগত আর শান্ত প্রকৃতির ছিল যে উরসুলা ওদেরকে ঘরের যাবতীয় কাজের ভার দিয়ে দেয়। এভাবেই আর্কাদিও আর আমারান্তা কাস্তেইয়ানোর আগে গুয়াহিরা ভাষায় কথা বলে। উরসুলার অজান্তেই গিরগিটির স্যুপ আর মাকড়ের ডিম খেতে শিখে তারা, কারণ উরসুলা মিষ্টি দিয়ে তৈরী জীব জন্তদের এক সম্ভাবনাময় ব্যবসার কাজে ভীষনভাবে ব্যস্ত। মাকন্দো বদলে যাচ্ছিল। উরসুলার সঙ্গে যে লোকেরা এসেছিল ওরা মাকন্দোর মাটির উর্বরতা আর জলাভূমির সবচেয়ে আকর্ষণীয় অবস্থানের কথা প্রচার করে দিয়েছিল, ফলে আগের সেই সাদামাটা গ্রামটাই দ্রুত হয়ে উঠল কর্মচঞ্চল, দোকান পাট আর হস্তশিল্পে ভরপুর। আর স্থায়ী এক নিত্যবাণিজ্যের পথ দিয়ে ঢোলা পাজামা, কানে মাকরি পড়ে প্রথম আরবিয়রা আসে গলার হারের সঙ্গে গুয়াকামাইয়া-র (বড় জাতীয় টিয়া পাখী) বদলের জন্য। হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া এক মুহূর্তও বিশ্রাম পাচ্ছিল না। আকর্ষণীয় বাস্তবতা তার কাছে কল্পনাপ্রসূত বিশাল বিশ্বের চেয়ে অনেক বেশী আকৃষ্টকর বলে মনে হলো। আলকেমীর পরীক্ষাগারের প্রতি সমস্ত আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, মাসের পর মাস রূপ বদলানোর পর প্রায় শেষ হয়ে আসা পদার্থটাকে বিশ্রাম দিল সে। আবার হয়ে উঠল প্রথমদিককার মত সেই একই উদ্যোক্তা যার উদ্যমে রাস্তাগুলো আর নতুন বাড়িগুলোর অবস্থান এমনভাবে বিন্যাস করা হয়েছিল যাতে করে কেউ কারো চেয়ে বেশী সুবিধে ভোগ করতে না পারে। সে তখন এমন ক্ষমতা অর্জন করে যে নতুন আসা লোকগুলো ওর মতামত না নিয়ে বাড়ির ভিত্তি স্থাপন বা দেয়াল পর্যন্ত বানাতো না। এমনকি ঠিক করা হলো যে জমি বিলির ব্যাপারটাও সে-ই পরিচালনা করবে। যখন ছোট্ট, ঘুড়ে-বেড়ানো এক দলকে জুয়ো আর অন্যান্য খেলাধুলার দলকে বিশাল এক মেলায় পরিণত করে দড়াবাজ জিপসী দলটা ফিরে আসে তখন তাদেরকে আনন্দের সঙ্গে বরণ করে নেয়া হয় কারণ সকলে মনে করেছিল ওদের সঙ্গে হোসে আর্কদিও ফিরে এসেছে। কিন্তু হোসে আর্কাদি্ও ফিরে আসে নি, এমনকি ওরা আনেনি স্বর্পমানবকেও- উরসুলা ভেবেছিল একমাত্র সর্পমানবই তার ছেলের সন্ধান দিতে পারবে। যার ফলে জিপসীদের গ্রামে তাবু ফেলতে দেয়া হলো না এমনকি ভবিষ্যতেও গ্রামে পা ফেলতে নিষেধ করা হলো, কারণ মনে করা হলো ওরা হচ্ছে যৌনলিস্পা আর বিকৃতির প্রচারক। কিন্তু হোসে আর্কদিও বুয়েন্দিয়া খুব ভালভাবে বলে দিল যে, সেই মেলকিয়াদেসের আদি জিপসীর দল যাারা এই গ্রামের উন্নতিতে বিরাট অবদান রেখেছে তাদের প্রাচীন জ্ঞান আর অপূর্ব ঘটনাবলী দিয়ে, ওদের জন্য গ্রামের দরজা সবময় থাকবে খোলা। কিন্তু ভূ-পর্যটকরা জানাল, মেলকিয়াদেসের উপজাতির প্রজ্ঞা মানুষের জানার সীমানা লংঘন করে যাওয়ায় উধাও হয়ে গেছে পৃথিবী থেকে।

দিবা স্বপ্ন থেকে সেই সময়ের জন্য হলেও মুক্তি পেয়ে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া অল্প সময়ের মধ্যেই শৃংখলা আর কাজে প্রত্যাবর্তন করে, যার ভিতর শুধু মাত্র অনুমতি দেয়: গ্রাম পত্তনের সময় থেকে যে পাখীগুলো ওদের বাঁশীর সুরে আনন্দমুখর করে রাখত তাদের মুক্তি দিয়ে তার বদলে প্রতিটা বাড়িতে মিউজিকাল (সুরেলা) ঘড়ি বসানোর। ওগুলো ছিল খোদাই করা কাঠের খুব সুন্দর সব ঘড়ি, যেগুলোকে আরবরা গুয়াকামাইয়ার সঙ্গে বদল করত। যেগুলোকে হোসে আর্কাদিও এমন সুন্দরভাবে মিলিয়ে নিল যে প্রতি আধঘন্টা পর পর সমস্ত গ্রাম আনন্দিত হয়ে ওঠে ক্রমানুসারী একই সঙ্গীতের অংশগুলো বেজে ওঠায়, আর ঠিক মধ্য দিনে সেটা পরিণত হয় এক সম্পূর্ণ ওয়ালটস-এ। ঐ বছরগুলোতে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়াই ছিল সেই লোক যে স্থির করে সোনাঝুড়ি গাছের বদলে আলমন্ড গাছ লাগানোর। কারণ যদিও কাউকে সে বলেনি কিন্তু আবিস্কার করেছিল গাছগুলোকে অমর করার প্রক্রিয়া। অনেক বছর পর যখন মাকন্দো পরিণত হয়েছিল কাঠের বাড়ি আর বস্তার চালের শিবিরে, তখনও সবচেয়ে পুরোনো রাস্তাগুলোতে দেখা যেত ভাঙা আর ধুলোময় আলমন্ড গাছগুলো দাড়িয়ে আছে, যদিও কেউ জানত না ওগুলোকে কে লাগিয়েছে। যখন বাবা ব্যস্ত গ্রামে শৃংখলা স্থাপন করতে তখন মা শক্ত করে তুলছে পারিবারিক উত্তরাধিকার। দিনে দুবার বালসা কাঠে গাথা অবস্থায় বের হওয়া চিনি মাখানো ছোট মোরগ আর মাছের অভাবনীয় শিল্পের মাধ্যমে। আর তখন আওরেলিয়ানো কাটাচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা পরিত্যক্ত পরীক্ষাগারে নিজে নিজেই অনুসন্ধান করে রৌপ্যকর্ম শিখে। অল্প সময়ে সে এত বেশী লম্বা হয়েছিল যে ছোট হয়ে যায় ভাইয়ের রেখে যাওয়া জামা কাপড়, আর পড়তে আরম্ভ করে বাবারগুলো। তবে ভিসিতাসিয়নকে জামার কুঁচি আর প্যান্টের কোমর সেলাই করতে হয়েছে কারণ আওরেলিয়ানোর অন্য সকলের মত পেশীবহুল শরীর হয় নি। বয়সন্ধি কেড়ে নিয়েছিল তার গলার কোমলতা, আর হয়ে গিয়েছিল শান্ত আর নিঃসঙ্গ; কিন্তু তার বদলে ছিল জন্মের সময় থেকে পাওয়া প্রখর চাহনি। রৌপ্যকর্মের পরীক্ষাতে এতই আত্মনিয়োগ করেছিল যে শুধুমাত্র খাবার প্রয়োজনেই পরীক্ষাগার ত্যাগ করত। তার এই অন্তর্মুখিতার কারণে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া মনে করে তার মেয়ে মানুষের দরকার–এই ভেবে ওকে বাড়ির চাবি আর কিছু টাকা দেয়। কিন্তু আউরেলিয়ানো টাকাগুলো খরচ করে আকোয়া রেজিয়া বানানোর জন্য, আর মুরিয়াটিক এসিড কিনে, তা দিয়ে চাবিগুলোকে সোনার গিলটি করে তাদের সৌন্দর্য বাড়ায়। ওর বাড়াবাড়িগুলো কোনরকমে তুলনা করা যায় আর্কাদিও আর আমারান্তার বাড়াবাড়ির সঙ্গে। ওদের দাঁত নড়তে শুরু করেছে কিন্তু তখনও সবসময় আদিবাসীদের আঁচল ধরে থাকে। তারা ছিল এত জেদী যে কাস্তেইয়ানো-তে কথা না বলে গুয়াহিরা ভাষায় কথাবলার ব্যাপারে ছিল অনড়। “এমন কিছুই হয় নি যে তুমি অনুযোগ করতে পার” উরসুলা স্বামীকে বলে, “ছেলেমেয়েরা বাপমায়ের পাগলামী উত্তরাধিকার সুত্রেই পায়”। যখন তাদের ছেলেমেয়েদের উদ্ভট কাজকর্মকে শুয়োরের লেজের মতই একটা ব্যাপার হিসেবে ধরে নিয়ে উরসুলা অনুতাপ করছে তখন আউরেলিয়ানো ওর দিকে এমন এক দৃষ্টি দিয়ে তাকায় যে তাতে ঘরজুড়ে অনিশ্চয়তাময় এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

“কেউ একজন আসবে”- উরসুলাকে বলল সে। সব সময়ই যেমন করে থাকে তেমনি উরসুলা এবারও নিরুৎসাহিত করে ওর ভবিষ্যদ্বানীকে। কেউ যে আসবে এটাতো একটা সাধারণ ব্যাপার। আগে থেকে ঘোষণা না করে কারো মনে কোন উদ্বেগ তৈরী না করে প্রতিদিন প্রচুর অজ্ঞাত লোক মাকন্দো দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু সমস্ত যুক্তির পরও আউরেলিয়ানো ওর ভবিষ্যদ্বানীতে নিশ্চিত থাকে। “জানি না কে” জোর দিয়ে বলে, “যে আসবে সে রাস্তায় আছে।”
——————————-

আর্হেন্তিনার বুয়েনোস আইরেস-এর
এদিতোরিয়াল সুদামেরিকানা প্রকাশনী থেকে
প্রকাশিত ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’ উপন্যাসের
প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ

——————————-
border=0
রোববার, সত্যিই রেবেকা আসল। ওর বয়স এগারোর বেশী ছিল না। এক কষ্টকর যাত্রা শেষে মানাউর থেকে কতগুলো চামড়ার ব্যবসায়ী দায়িত্ব নেয় একটি চিঠিসহ রেবেকাকে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার হাতে পৌঁছে দেবার। ছোট্ট একটা কাপড়চোপর ভরা তোরঙ্গ, হাতে রং বেরঙের ফুল আঁকা এক দোল-কেদারা, বাপ মায়ের হাড়গোর ভরা এক থলে যা সারাক্ষণ শব্দ করত ক্লক, ক্লক, ক্লক, আর শুধুমাত্র এসবই ছিল তার মালপত্র। স্নেহপূর্ণ ভাষায় লিখা চিঠিটা ছিল হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়াকে উদ্দেশ্য করে, লিখেছে এমন একজন যে প্রচুর দূরত্ব এবং অনেক সময় পার হওয়ার পরও হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়াকে স্নেহ করে। সে মানবতার খাতিরে বাধ্য হয়ে উরসুলা এবং হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার দূর সম্পর্কের এতিম, সহায়হীন জ্ঞাতি বোনকে পাঠিয়ে দিচ্ছে। যদিও দুরত্বটা খুব দূরের তবুও কখনও ভোলা সম্ভব নয় এমন বন্ধু মৃত নিকানোর (ইশ্বর তাদেরকে পবিত্র রাজ্যে স্থান দিন) উইয়্যোহা এবং তার সম্মানীয় স্ত্রী রেবেকা। মন্টিয়েলে‘র বাপমায়ের দেহের দেহাবশিষ্ট মেয়ের সঙ্গে পাঠিয়ে দিচ্ছে যাতে করে খ্রিষ্টান ধর্মীয় মতে তাদের শেষকৃত্য করা হয়। যদিও চিঠিতে উল্লেখিত নামগুলো এবং স্বাক্ষর সঠিকভাবে পরা যাচ্ছিল তবুও হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া বা উরসুলা মনে করতে পারছিল না এই নামের কোন আত্মীয়র অস্তিত্ব। অথবা চেনে না চিঠির লেখককে, মানাউর নামের সেই দূরবর্তী গ্রামের কথা তো বলাই বাহুল্য। অসম্ভব হয় মেয়েটার কাছ থেকেও অন্য কোন তথ্য বের করা। আসামাত্রই তাকে জিজ্ঞেস করা প্রশ্নগুলো যে বুঝতে পারছে এমন কোন অভিব্যক্তি প্রকাশ করে না সে। আসার পর থেকেই দোল-কেদারায় বসে আঙ্গুল চুষতে চুষতে বড় বড় চোখগুুলোতে ভয় নিয়ে চারিদিক দেখছে। কালো রংয়ের বহুল ব্যবহারে মলিন, আড়াআড়ি এক পোষাক ছিল তার পরনে আর পায়ে ছিল চলটা উঠে যাওয়া চামড়ার জুতো। কালো লেসের ফুল বানিয়ে কানের পেছনে চুলগুলো ছিল তার বাধা। গলায় পরা ঘামে প্রায় মুছে যাওয়া প্রতিমূর্তিসহ এক হার। আর ডান কব্জিতে পরা ছিল চোখ-লাগা প্রতিরোধের জন্য তামার উপর বসানো এক মাংশাশী জন্তর শদন্ত বালা। তার নীলাভ গায়ের রঙ, গোলাকার আর ঢোলের মত টানটান পেট, খারাপ স্বাস্থ্য আর বহু দিনের ক্ষুধারই ইঙ্গিত বহন করে। কিন্তু ওকে যখন খাবার দেয়া হলৈা স্বাদ গ্রহণ না করেই পায়ের উপর থালা রেখে বসে রইল। যতক্ষণ পর্যন্ত না আদিবাসীরা ওদের নিজস্ব ভাষায় ওকে জিজ্ঞেস করল সামান্য কিছু পানি চায় কিনা আর সে মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলল, ততক্ষণ পর্যন্ত ওকে ভাবা হোল বোবা আর কালা। অন্য কোন উপায় না থাকায় সে ওদের সঙ্গেই রয়ে গেল। আউরেলিয়ানো ধৈর্য ধরে ওর সামনে সমস্ত সানতরাল (সন্তদের নাম লিখা বই) পড়ে যাওয়ার পরও সে কোন নামেই সাড়া না দেয়ায় চিঠি অনুযায়ী ওর মায়ের নামে নাম হয় রেবেকা। যেহেতু মাকন্দোতে তখন পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি, ফলে মাকন্দোতে কোন কবরস্থান না থাকায় দেহাবশিষ্টের হাড়েভর্তি থলেটা সঠিক মতে শেষকৃত্যের অপেক্ষায় রাখা হয়েছিল অনেক সময় পর্যন্ত। আর যেখানে থাকার কথা নয় সেখানে উপস্থিত হয়ে থলেটা ডিমে তা দেয়া মুরগীর মত ক্লক ক্লক শব্দ করে সকলের বিরক্তির উদ্রেক করত। অনেক সময় লাগলো রেবেকার পারিবারিক জীবনের সঙ্গে একাত্ব হতে। ছোট্ট দোল-কেদারাটিতে বসত আঙ্গুল চোষার জন্য বাড়ির সবচেয়ে দুরের কোনায়। শুধুমাত্র ঘড়িগুলোর বাজনা ছাড়া কিছুই তার মনযোগ আকর্ষণ করত না। ভয়াতুর চোখে প্রতি আধঘন্টা অন্তর ঘড়িগুলোকে খুঁজে বেড়াতো যেন ওগুলোকে খুঁজে পাওয়া যাবে শূন্যের ভিতর। অনেক দিন পর্যন্ত ওকে কিছুই খাওয়ানো গেল না। আদিবাসীরা বিরামহীন নিঃশব্দ চরণে বাড়িময় ঘুড়ে বেড়ানোর কারণে সবকিছু সম্বন্ধেই অবগত ছিল আর এভাবেই তারা আবিস্কার করে কেন সে না খেয়ে এতদিন মারা যায়নি। ওরা বের করে, রেবেকা শুধু উঠানের নরম মাটি আর নখ দিয়ে খুলে ফেলা বাড়ির দেয়ালের চুনের পরত খেতে পছন্দ করে। বোঝাই যায় ওর বাবা মা বা যারাই ওকে লালন করছে তারা এই অভ্যেসটার দরুণ ওকে তীব্র ভৎর্সনা করত, কারণ কাজটা করত সে লুকিয়ে একটা অপরাধবোধ নিয়ে, আর পরের বরাদ্দটা লুকিয়ে রাখত যাতে কারো চোখ না পরে। সুতরাং, সেই সময় থেকে ওকে পাহারা দেওয়া হতো নিশ্ছিদ্রতায়। তার এই অভ্যেসটাকে দমন করতে বাড়ির উঠান লেপা হত গরুর পিত্ত দিয়ে, দেয়ালে মাখা হতো ঝাল মড়িচ কিন্তু সে মাটি জোগাড়ের জন্য এমন চতুরতা আর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয় যে উরসুলা আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। কড়াইতে কমলার রসের সঙ্গে রেউচিনি মিশিয়ে সারারাত ফেলে রাখা হত শিশিরে আর শিরাপটা খালি পেটে খাওয়ানো হত ওকে।

যদিও কেউই উরসুলাকে বলে দেয়নি যে ওটাই ছিল মাটি খাওয়ার অভ্যাসের মোক্ষম দাওয়াই তবুও সে ভেবেছিল খালি পেটে যে কোন তিক্ত জিনিসই যকৃতকে সাড়া দিতে বাধ্য করবে। রেবেকা অবাধ্য আর দুর্বলতা সত্ত্বেও এতই শক্তিশালী ছিল যে ওষুধ খাওয়ানোর জন্য তাকে বাছুরের মত বাঁধতে হত আর ওরা কোনরকমে সহ্য করে নিত ওর লাথি, কামড়, ছেটানো থুথু আর দুর্বোধ্য সব কুৎসাপূর্ন শব্দ যেগুলো ছিল আদিবাসিদের কথানুযায়ী ওদের ভাষার জঘন্যতম গালি। উরসুলা যখন জানল তখন ওর সঙ্গে যোগ হল কোমড়-বন্ধনী দিয়ে চাবকানি। কেউ কখনই স্থির করতে পারল না রেউচিনি না চাবকানি অথবা দুটোরই সম্মিলিত গুনের ফলে রেবেকা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আরোগ্যের চিহ্ন দেখাতে শুরু করে। আর্কাদিও আর আমারান্তার সঙ্গে খেলায় অংশগ্রহন করে সে, যারা ওকে বড় বোন হিসেবে দেখত। আর আরম্ভ করে ছুরি কাটাচামচ ব্যবহার করে পেট ভরে খেতে। শিঘ্রই জানা গেল সাবলীলভাবে কাস্তেইয়ানো বলতে পারে যেমনটি পারে আদিবাসীদের ভাষাও। তাছাড়া হাতের কাজে আছে তার উল্লেখযোগ্য দক্ষতা। আর সে যখন ঘড়িগুলোর সঙ্গে ওয়ালটস গাইত তখন গাইত সে নিজের বানানো কিছু শব্দ দিয়ে যা ছিল কৌতুকপূর্ণ। ওকে পরিবারের আর একজন সদস্য হিসাবে গণ্য করতে বেশী দেরী হল না। উরসুলা হয়েছিল ওর সবচেয়ে বেশী অনুরক্ত যা সে নিজের কোনও ছেলেমেয়ের কাছ থেকেও পায়নি। আর আর্কাদিও আমারান্তাকে ডাকত ভাই বোন বলে। আ্রউলিয়ানোকে কাকা আর হোর্সে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়াকে ডাকত দাদা বলে। যাতে করে আর সবার মতই সে যোগ্যতা পেল রেবেকা বুয়োন্দিয়া নামের। এই নামটিই ছিল সব সময় তার একমাত্র নাম আর আমৃত্যু নামটিকে সে বহন করে গৌরবের সঙ্গে।
রেবেকা যখন মাটি খাওয়ার রোগ থেকে সুস্থ হয় তখন ওকে নিয়ে যাওয়া হয়, অন্য শিশুদের সঙ্গে ঘুমানোর জন্য। আদিবাসী মহিলাও ওদের সঙ্গে ঘুমাতো এবং এক রাতে ঘটনাচক্রে সে জেগে যায় ঘরের কোণ থেকে আসা আশ্চর্যজনক এক অবিরাম শব্দ শুনে। প্রথম সে সতর্ক হয় ঘরে কোন জন্তু ঢুকে পড়েছে ভেবে। এমন সময় দেখতে পায় রেবেকাকে অন্ধকারে বিড়ালের মত জ্বলন্ত চোখ নিয়ে দোল-কেদারায় বসে আঙ্গুল চুষতে। ভয়ার্ত, ভাগ্যের ফেরে নিপীড়িত ভিসিতাসিওন চোখগুলোর ভিতর দিয়ে চিনতে পারে সেই রোগের উপসর্গ যার হুমকি ওকে আর ওর ভাইকে বাধ্য করেছিল এক সুপ্রাচীন দেশ ত্যাগ করতে, যেখানে ওরাই ছিল রাজকুমার আর রাজকুমারী। রোগটা হচ্ছে অনিদ্রা।
কাতাউরে নামের আদিবাসী ছেলেটা বাড়ি ত্যাগ করে। ওর বোন রয়ে গেল কারণ ওর অদৃষ্টবাদী মন ওকে জানিয়ে দেয় যে সে যাই করুক না কেন এই প্রাণঘাতী কষ্টটা ওকে অনুসরন করবে পৃথিবীর শেষ কোনা পর্যন্ত। ভিসিতাসিওনের এই আতঙ্ক বাড়ির কেউ বুঝতে পারে না। “যদি না আবার ঘুমোয় এটাই তো ভাল” -খুশী মনে বলে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া, “এভাবে আমাদের জীবনটা আরও দীর্ঘ হত কাজে লাগানোর জন্য”। কিন্তু ভিসিতাসিওন বুঝিয়ে বলে যে না ঘুমানো অসুখের সবচেয়ে ভীতিকর দিকটা হচ্ছে ঘুমাতে না পারাটা নয়, কারণ শরীর কোন ক্লান্তিই বোধ করে না। ভীতিকর দিকটা হচ্ছে এর স্মৃতিবিলোপের অবশ্যম্ভাবী ক্রমবিকাশ। যা বলতে চাচ্ছে সেটা হচ্ছে অসুস্থ মানুষটা যখন রাত্রি জাগরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে তখন তার শৈশবের স্মৃতিগুলো মুছে যেতে আরম্ভ করে। তারপর ভুলে যায় নিজের নাম, বস্তু সম্পর্কে ধারণা, শেষ পর্যায়ে মানুষের পরিচয়, এমনকি ভুলে যায় তার নিজস্ব সত্তা যতক্ষণ পর্যন্ত না পরিণত হয় অতীতবিহীন এক মুর্খ প্রজাতিতে। হোর্সে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া, হাসতে হাসতে মরে এই ভেবে যে অনেকগুলোর মত এটাও একটা আদিবাসীদের আবিস্কৃত কুসংস্কারগ্রস্থ ব্যাধি। যদি বা সত্য হয় এই ভেবে উরসুলা রেবেকাকে অন্যান্য শিশুদের থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।

কয়েক সপ্তাহ পর, যখন মনে হচ্ছিল ভিসিতাসিওনের আতংক নিভে এসেছে, হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া এক রাতে ঘুম আসতে না পেরে নিজেকে আবিস্কার করে শয্যায় গড়াগড়ি দিতে। উরসুলা নিজেও জেগেছিল বলে সে প্রশ্ন করে তার কী হয়েছে। আর সে উত্তর দেয় “আবার আমি প্রুদেনসিও আগিলারের কথা ভাবছি” যদিও দুজনে এক দন্ড ঘুমোয়নি তবুও পরের দিন ওরা একই কাজ করে বিশ্রী গত রাতটার কথা ভুলে যায়। দুপুরের খাবার সময় আউরেলিয়ানো আশ্চর্যের সঙ্গে মন্তব্য করে যে সে সারারাত জেগে উরসুলার জন্মদিনে উপহার দেবার জন্য পরীক্ষাগারে এক ব্লোচ বানিয়ে কোন ক্লান্তি বোধ করছে না। তৃতীয় দিন পর্যন্ত ওরা সর্তক হল না যতক্ষণ না দেখল শোবার সময় হলেও ঘুম আসছে না আর তখন খেয়াল করে যে তারা নির্ঘুমে কাটিয়েছে পঞ্চাশ ঘন্টারও বেশি সময়। “শিশুরাও জেগে আছে”– অদৃষ্টবাদী দৃঢ়তা নিয়ে বলল আদিবাসী মেয়েটা- “বাড়ির কেউই রেহাই পায় না একবার কোন বাড়িতে রোগটা ঢুকলে।”

সত্যিই অনিদ্রারোগে ধরছে ওদের–বুঝতে পারে তারা। উরসুলা তার মায়ের কাছে শিখেছিল ঔষধী গাছের উপকারিতা। আর সে একোনইট (এক জাতীয় অষুধি গুল্ম) গাছ দিয়ে পানীয় বানিয়ে এক মাত্রা করে খাইয়ে দেয় সবাইকে। কিন্তু এতে করে ওরা না ঘুমিয়ে সারাদিন স্বপ্ন দেখে জাগ্রত অবস্থায়। এই মতিভ্রম, সুস্থতার স্বচ্ছ অবস্থায় ওরা শুধু যে নিজেরা নিজেদের স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি দেখছিল তাই-ই নয়, এতে দেখছিল অন্যের দেখা স্বপ্নের প্রতিছবিও। এটা এমন ছিল যেন সারা বাড়ি অতিথিতে ভরে গেছে। রান্না ঘরের কোনায় দোল-চেয়ারে বসে রেবেকা স্বপ্ন দেখল যে প্রায় ওর মতই দেখতে এক লোক, পরনে গলাবন্ধ, সোনার বোতামওয়ালা সাদা লিনেনের শার্ট, ওর জন্য নিয়ে এসেছে এক তোড়া গোলাপ। লোকটাকে সঙ্গ দিচ্ছে এক মার্জিত হাতের মহিলা যে তোড়া থেকে একটি গোলাপ আলাদা করে গুজে দেয় রেবেকার চুলে। উরসুলা বুঝতে পারল ভদ্রলোক আর মহিলা ছিল রেবেকার বাবা ও মা কিন্তু অনেক চেষ্টা স্বত্তেও রেবেকা ওদের চিনতে পারল না, এমনকি দৃঢ়তার সাথে নিশ্চিত করলো ওদের সে কখনোই দেখিনি। সেই সময়ে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার অসতর্কতার ফলে বাড়িতে বানানো মিষ্টির জীবজন্তুগুলো গ্রাম জুড়ে বিক্রি হতে লাগল, যার দরুণ সে নিজেকে কখনই ক্ষমা করতে পারবে না। শিশুরা আর বড়রা আনন্দের সঙ্গে চুষতে লাগল সবুজ মজাদার অনিদ্রার ছোট ছোট মুরগী, মজাদার গোলাপী অনিদ্রা মাছ আর সুন্দর হলুদ রঙের অনিন্দ্রার ছোট ছোট ঘোড়া। ফলে সোমবারের উষা চমকে দেয় জেগে থাকা সারা গ্রামকে। প্রথম দিকে কেউই গুরুত্ব দেয় না। উল্টো না ঘুমিয়ে সবাই খুশীই হল, কারণ তখন সারা গ্রামে এত কাজ ছিল যে কোনভাবেই সময়ে কুলাতো না সব কাজ শেষ করার জন্য। ওরা এতই কাজ করল যে শিঘ্রই করার মত আর কিছুই থাকল না। আর ভোর তিনটের সময় নিজেদের আবিস্কার করল কিছুই না করে ঘড়িগুলোর মাত্রা গুনতে। ক্লান্তির জন্য নয় বরঞ্চ ঘুমের অতীত আর্তিতে কাতর হয়ে যারা ঘুমুতে চাইল তাদের করা সমস্ত চেষ্টা বিফল হয়। ওরা একত্রিত হত বিরতিহীন আলাপ করতে, ঘন্টার পর ঘন্টা একই কৌতুক বলতে আর খাশী করা মোরগের কাহিনীটাকে জটিল বিরক্তিকর চরম সীমায় নিয়ে যাবার জন্য। সেটা ছিল এক অন্তহীন খেলা যেখানে গল্পকার প্রশ্ন করে খাশি করা মোরগের গল্প বলবে কিনা, যখন ওরা জবাব দেয় হ্যাঁ তখন গল্পকার বলে হ্যাঁ বলতে বলেনি সে। প্রশ্ন করেছে তাদেরকে সে খাশি করা মোরগের গল্প বলতে বলেছে কিনা। যদি বলে না তখন গল্পকার বলে না বলতে বলেনি সে। প্রশ্ন করেছে তাদেরকে যে খাশি করা মোরগের গল্প বলেছে কিনা আর যদি চুপ করে থাকে তখন গল্পকার বলে চুপ করে থাকতে বলেনি সে। সে প্রশ্ন করেছে তাদেরকে যে খাশি করা মোরগের গল্প বলতে বলেছে কি না। কেউ উঠে চলে যেতে পারত না কারণ যদি কেউ চলে যেতে চাইত তখন গল্পকার বলত সে ওদেরকে চলে যেতে বলেনি প্রশ্ন করেছে, তাদেরকে খাশি করা মোরগের গল্প বলতে বলেছে কিনা আর এভাবেই বারবার চলতে থাকত খেলাটা যেখানে আরম্ভ সেখানেই ফিরে আসা অব্যাহত বৃত্তের মত।
(চলবে)
কিস্তি-১ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৩ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৪ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৫ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৬ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৭ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

Flag Counter


6 Responses

  1. Mamun Khondokar says:

    অসম্ভব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বর্নণা। ভালই লাগছে পড়তে। লেখক ও বিডিনিউজকে ধন্যবাদ মার্কেজকে চিনিয়ে দিবার।

  2. Mizanur Rahman says:

    সুন্দর লেখা, দারুণ লাগছে পড়তে। আর কত পর্ব আছে এতে? অনুবাদক জানালে খুশী হতাম।

  3. Iraj Zahir says:

    এই উপন্যাসটার ইংরেজি অনুবাদ কি পাওয়া যাবে? আর বাংলা অনুবাদ কি আপনারা সম্পূর্ণ করবেন? করলে কতদিন লাগবে? কিস্তি-৮ পর্যন্ত পড়েছি। পুরোটা পড়ার লোভ সামলাতে পারছি না। তাড়াতাড়ি চাই বাকি অংশ। প্লিজ।

  4. anisuz zaman says:

    ধন্যবাদ মার্কেস-অনুরাগী পাঠকদের। চেষ্টা করব তাড়াতাড়ি শেষ করার।

  5. তাসলিমা আক্তার তরী says:

    আমি এক নিশ্বাসে এই পর্ব পড়লাম, ভাল লাগল। তাই পূর্বের পর্ব গুলো পড়তে উৎসাহিত হলাম। এত ভাল জিনিস কেন যে চোখে পড়ে নাই বুঝলাম না্। যাই হোক দেরিতে হলেও ভাল লাগল পড়তে।

  6. anisuz zaman says:

    তরী, আপনার প্রতিক্রিয়া আমাকে ছুঁয়ে গেল, যদিও এর সব কৃতিত্বই হচ্ছে মারর্কেসের।অনেক ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.