অনুবাদ গল্প

হুয়ান বিয়োরোর গল্প: রাশিচক্র

বিনয় বর্মন | 2 Nov , 2014  

villoro.gifহুয়ান বিয়োরো (Juan Villoro) মেক্সিকোর প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক। তাঁর জন্ম মেক্সিকো সিটিতে ১৯৫৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। কথাসাহিত্যিক হিসেবে তিনি লাতিন আমেরিকায় বিশেষ সুনাম কুড়িয়েছেন। তাঁর El Testigo (সাক্ষী) উপন্যাসের জন্য ২০০৪ সালে লাভ করেছেন সম্মানজনক হেরালদে পুরস্কার। উপন্যাসের পাশাপাশি তিনি প্রচুর গল্প লিখেছেন। তাঁর Patrón de Espera (Holding Pattern) গল্পটি এখানে ‘রাশিচক্র’ নামে অনূদিত হয়েছে। Lisa M. Dillman-কৃত ইংরেজি ভার্শন থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন বিনয় বর্মন।

বাস্তবতা নিয়ে আমার এতো অস্বস্তি যে আমি প্লেনে চড়লে আরাম বোধ করি। ভালো-না-লাগা মুভি দেখা এবং ভালো-না-লাগা খাবার খাওয়ায় আত্মনিয়োগ করি। এক ধরনের আধ্যাত্মিক নিয়মানুবর্তিতার চর্চা। হেডফোন ও প্লাস্টিক ছুরি হাতে সামুরাই। সেলফোন বন্ধ করে নীরবে সিদ্ধান্তহীনতার নির্বাণ উপভোগ করি। প্লেনে চড়ার সুবিধা এটাই : মাথার সমস্ত চিন্তা স্থগিত করে রাখা যায়।

প্লেন ছাড়ার আগে সর্বশেষ কলটি পাই ক্লারার কাছ থেকে। আমি তখন বার্সেলোনা এয়ারপোর্টে। সে উদ্বিগ্নভাবে আমাকে জিজ্ঞেস করে, “তোমার কি মনে হয় ও ফিরে আসবে?” সে আমাদের বিড়াল উনিকার কথা বলছিলো। “কোনো ভূমিকম্প?” আমি জিজ্ঞেস করি। বিড়ালেরা ভূমিকম্প টের পায়। কোনোপ্রকারের কম্পন, যা থেকে ওরা মনে করে মাটি বিদীর্ণ হবে। ফলে ওরা বাইরে পালিয়ে যায়।

বিড়ালেরা ভূকম্পন পূর্বাভাসদাতা। বাড়িতে পোষা আঙ্গোরা প্রজাতির মাদীবিড়ালগুলো এ ব্যাপারে ওস্তাদ। আমাদেরকে তা-ই বলা হয়েছে। উনিকা দু’বার পালিয়েছে। কোনোবারই অবশ্য ভুমিকম্প হয়নি।

“হয়তো ওর মনে কোনো আবেগগত কম্পন শুরু হয়েছে,” ক্লারা ফোনে ঠাট্টা করে। তারপর সে জানায় যে রেন্ডনসরা তাকে ভাল্ ডি ব্রাভোতে দাওয়াত করেছে। যদি আমার প্লেন সময়মতো না পৌঁছে, তবে সে নিজেই চলে যাবে। সপ্তাহের ছুটির দিনটায় সে গায়ে সূর্যালোক লাগাবে এবং নৌকায় করে ঘুরে বেড়াবে।

“তুমি কি ডিরেক্ট ফ্লাইটে আসবে?” ফোন রাখার আগে সে জিজ্ঞেস করে।

আমার জীবন আঁকাবাঁকা। আমি যে শহরে যাই, সবসময় ঘুরে যেতে হয় : অ্যান্টওয়ার্প, অসলো, বার্সেলোনা। আমি যে কোম্পানিতে কাজ করি সেটা পৃথিবীর সবচেয়ে নিরস জল উৎপাদন করে। এটা কোনো হানিকর উক্তি নয় : কেউ সুগন্ধের জন্য আমাদের জন পান করে না, তা পান করে জিভে হালকা লাগে বলে। ওজনহীন বিলাস।

গ্রহ সবসময় তৃষ্ণার্ত। সবাইকেই কিছু পান করতে হবে। কেউ কেউ ওজনহীন জলের অতিরিক্ত আনন্দ দাবি করে।

যে-সকল জায়গায় দামি জলের চাহিদা বেশি, সেখানে আমাকে অনেক যাতায়াত করতে হয়। কাজেই ভ্রমণক্লান্তি আমার জন্য স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা। আমি বিলম্বিত সংবেদনে অভ্যস্ত। যখন ঘুম দরকার, তখন আমার চোখ খোলা। ট্রানজিটের সময়টাতে আমি প্রচুর পড়ি। প্লেনের ডিম্বাকৃতি জানালা দিয়ে একদৃষ্টে বাইরে তাকিয়ে চিন্তা করি। আমার মধ্যে অনেক মরমি চিন্তার উদয় হয়, কিন্তু যাত্রাশেষে সেগুলো আবার বাষ্প হয়ে উড়ে যায়।

বার্সেলোনা থেকে প্লেন ছাড়তে দেরি হয়। সময়সূচির পেছনে, প্লেনটি এখন লন্ডনের ওপর চক্কর খাচ্ছে। “আমরা আটকে গেছি,” পাইলট আমাদের জানালেন। নামার জায়গা নেই।

প্লেনটি অলসভাবে চক্রাকারে ঘুরছে। আমরা ফলের মাছির মতো ঘুরপাক খাবো যতোক্ষণ না রানওয়ে ক্লিয়ার হয়। শারদীয় আলোয় নিচের মাঠগুলো উজ্জ্বল। টেমস চাকুর ফলার মতো চকচক করছে। দূর সীমানায় প্রসারিত শহর।

লন্ডনের সময় বার্সেলোনার চেয়ে এক ঘণ্টা কম। ফ্লাইট কানেকশনে কিছুটা সময় যাবে। কিন্তু আমি আর সেটা নিয়ে ভাবতে চাই না। আমাকে দুই নম্বর টার্মিনাল থেকে চার নম্বর টার্মিনালে যাওয়ার বাস ধরতে হবে। এমিউজমেন্ট পার্কের হুল্লোড়ের মতো। খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার পূর্বের ও.জে. সম্পর্কে ভাবি। সে চরম সাফল্য লাভ করেছিলো, ফুটবল মাঠে ও বিজ্ঞাপনে দৌড়াদৌড়ি করেছে। ফ্লাইট মিস করার যোগাড়। এয়ারপোর্ট এই ব্যাপারটা আমার পছন্দ। ভেতরে উদ্বেগ, বাহিরের পৃথিবী অদৃশ্য। নির্দিষ্ট গেইটে ছুটে যেতে হবে। ঠিক তাই। ছয় নম্বর গেইট একমাত্র লক্ষ্য। ও.জে. তাই করছিলো। অসমাপ্ত ফোনকল, বিচ্ছেদ, বিমর্ষ চাহনি, রক্তাক্ত জামাকাপড়।

ক্যাপ্টেনের কণ্ঠ সরে গিয়ে ল্যান্ডিং মিউজিক বাজছে। টেকনো-ফ্ল্যামেনকো। আমরা চক্কর খাচ্ছি, কয়েক হাজার ফিট ওপরে, ঘড়ির কাটার মতো। কতোগুলো কানেকশন মিস হবে? বিভিন্ন গান শুনে আমাদের উদ্বেগ কমবে। দূরের কোনো অফিসে বসে কেউ একজন ভাবে স্থির করলেন যে তারকাবিশ্বাসী জিপসিরা প্লেন ল্যান্ড করার উপযোগী ভালো গান গায়। তাদের শব্দগুলোতে আধুনিকতা আছে। প্রতীক্ষা শেষে আগমনী সঙ্গীত, ওদিকে গেইট বন্ধ হচ্ছে।

আমি অনেকগুলো কানেকটিং ফ্লাইট মিস করলাম এবং আমার মনে হলো এটা কোনো পরিকল্পনার অংশ। “খুব বেশি দুর্ভাগ্য কখনোই স্বাভাবিক নয়।” তুষারের কারণে ফ্র্যাঙ্কফুর্ট বন্ধ। বারাহাস বন্ধ স্ট্রাইকের কারণে। সেবার আমাকে হোটেলে থাকতে হলো, মনে হয় আমি আত্মহত্যার ভালো কোনো সুযোগ অপচয় করছি। এয়ারপোর্টের মায়াবী সৌন্দর্য থেকে অসহ্য ময়লায় গমন। এমন একটা জায়গায় বেড ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে যেখান থেকে বেঁচে ফেরা মুশকিল।

ক্লারার কথা আংশিক সঠিক : আমার দুর্ভাগ্য স্বাভাবিক। আমার মন্দ ভাগ্য অতোটা মন্দ নয়। হিথ্রোতে গোলাপি আকাশের নিচে একবার আমি ফ্লাইট মিস করেছিলাম। তখন যে হোটেলে থাকতে হয়েছিলো তা আরামদায়ক ছিলো। দূর থেকে দেখা যায় জাম্বো জেটগুলো ছায়াতিমির মতো ধীরলয়ে এগুচ্ছে। লবিতে বসে আমি ন্যান্সির ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ি। সে-ও তার ফ্লাইট মিস করেছে। আমরা উভয়ে একই কোম্পানিতে কাজ করি, আলাদা শহরে।

আমরা একটি পাবে বসে ডিনার খেলাম। টিভিতে চেলসির খেলা দেখাচ্ছিলো। যদিও আমরা কেউই ফুটবলের ভক্ত নই, তবু গভীর আগ্রহ নিয়ে সেই খেলা দেখলাম। ওটা ছিলো ধার-করা সময়। ন্যান্সির চুল উজ্জ্বল সোনালি, দেখে মনে হয় যেনো আমাদের কোম্পানির জল দিয়ে ধোয়া। আমি তাকে পছন্দ করি, কেবল সেই সময়ে যখন কিছু করার থাকে না। তার হাত ধরি এবং তার ওয়েডিং ব্যান্ড নিয়ে খেলা করি। এটা যৌক্তিক কিনা তা ভাবি না।

সে ভোরে আমার কক্ষ ত্যাগ করে। নিচের ঠাণ্ডা রাস্তায় তার ছায়া দেখতে পাই। দূরে বেগুনি আলোর ত্রিভুজ এয়ারপোর্টে ঢোকার রাস্তা নির্দেশ করছে। কন্ট্রোল টাওয়ার দুটিকে অস্থানে স্থাপিত লাইটহাউস বলে মনে হয়। ওখানে রাডারগুলো সিগনালের সন্ধানে পাক খাচ্ছে। আমার হাতে ন্যান্সির পারফিউমের গন্ধ লেগে আছে। তা নাকে যেতেই পৃথিবীর কৃত্রিম সৌন্দর্য আমার মধ্যে এক অভূতপূর্ব বিমূঢ়তা তৈরি করে।

মিটিং ও কনভেনশনে আমাদের পুনরায় দেখা হয়েছে। আমরা মিস-করা ফ্লাইট নিয়ে আলোচনা করিনি। ক্লারা যখন জানালো যে আমার দেরি হওয়াটা কোনো দুর্ঘটনা ছিলো না, তখন আমি ও.জে.-র কাহিনীটা ভাবলাম এবং মনে হলো আমিও একইভাবে ফেঁসে গেছি। ও.জে. তার স্ত্রীর হত্যাকারীর কালো গ্লাভসটি পরে জুরির সামনে দাঁড়িয়েছিলো, সেটি তার হাতে খাপেখাপ মিলে গিয়েছিলো। আমি দৌড়াতে চাইলাম, কিন্তু আমি তো এয়ারপোর্টে নই।

“অন্য কেউ আছে?” ক্লারা জানতে চাইলো। আমি জানালাম যে কেউ নেই এবং সেটি সত্য। কিন্তু ক্লারা আমার দিকে এমনভাবে তাকালো যেনো আমি একটি সিগনাল-ছাড়া টিভি যেখানে তুষার ব্রডকাস্টিং হচ্ছে।

আমি আবার হিথ্রোর ওপর দিয়ে যাচ্ছি। ন্যান্সির নিজের ফ্লাইট মিস করার সম্ভাবনা কতোটুকু? আবার যদি অপ্রত্যাশিতভাবে আমাদের দেখা হয়ে যায়, তবে কি আমরা জ্যামিতিকে উপেক্ষা করতে পারবো?

ন্যান্সি কখনো বলেনি যে পুনরায় সাক্ষাৎ সম্ভব। তার অনিশ্চিত কণ্ঠকে আমি উড়িয়ে দিতে পারি না। সে বলেছিলো, “প্লেন ছাড়ার পরে তুমি জানো তুমি কোথায় যাচ্ছো, কিন্তু একমাত্র ঈশ্বরই জানেন সেটা কোথায় নামবে।” এই বলে সে আমার বুকে এলিয়ে পড়েছিলো।

আমি এয়ারলাইন ম্যাগাজিনের পাতা উল্টাই। মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য, একজন বিখ্যাত স্থপতির মুখ, তারপর পুরোপুরি অপ্রত্যাশিতভাবে এলিয়াস রুবিওর একটি ছোটগল্প। যদিও এখন সে প্রচুর লেখালেখি করছে, তার গল্প চোখে পড়া এক অস্বস্তিকর বিস্ময়। ক্লারা ওকে প্রায় বিয়ে করেই ফেলেছিলো। ক্লারার একটি নিজস্ব স্টাইল আছে যা ছেলেদেরকে আকর্ষণ করে। গল্পে এমন কোনো অনুচ্ছেদ পাওয়া যাবে না যেখানে ক্লারার প্রতি কোনো ম্যাসেজ নেই।

আমি উচ্চনাদ টেকনো-ফ্ল্যামেনকো নিয়ে ভাবতে পারলাম না। কানেকটিং ফ্লাইট পাওয়ার আগ পর্যন্ত সময় নেই। ইচ্ছে করে ফ্লাইট মিস করিনি তা বোঝানোর জন্য ক্লারাকে কী বলবো তা মনে মনে ঠিক করছিলাম। আমার আর একটি সমস্যা দরকার। সেজন্যই গল্পটি পড়া। এলিয়াস বাস্তবতা-চোষা জোঁক। অংশত সে কারণে আমি বাস্তবতা নিয়ে এতো অস্বস্তিতে ভুগি।

প্রথম যখন উনিকা পালিয়ে যায়, আমরা টেলিফোনের খাম্বায় পোস্টার সেঁটেছিলাম। স্থানীয় পশু চিকিৎসালয়ে আমাদের টেলিফোন নাম্বার দিয়েছিলাম। এবং পালিয়ে যাওয়া পোষা প্রাণিদের নিয়ে একটি রেডিও অনুষ্ঠানে যে তথ্য পেয়েছিলাম তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি্লাম।

বিড়ালিরা সচরাচর পালায় না। কিন্তু আমাদেরটা পালিয়েছে। এক বিকেলে ক্লারা জানতে চাইলো বিড়ালিটা অন্তস্বত্তা হতে পারছিলো না এটা আমাকে পীড়িত করে কিনা। সে এইমাত্র এককাপ ভারতীয় চা খেয়েছে এবং তার নিঃশ্বাসে লবঙ্গের গন্ধ। আমি বললাম, না। আমি বিড়ালটার অবান্তর নাম নিয়ে ভাবলাম—উনিকা, ‘একমাত্র সন্তান’। নামটি ক্লারা নির্বাচন করেছে তার রসজ্ঞান দিয়ে। এটি এখন বেদনার কারণ। আমি দৃষ্টি নামিয়ে আনলাম। আবার যখন দৃষ্টি ফেরালাম তখন দেখি সে বাইরে উঠানের দিকে তাকিয়ে কী যেনো দেখছে। সন্ধ্যা হয়ে আসছে। ঝোপের আড়ালে একটা অস্পষ্ট আভা দেখা যাচ্ছে। ক্লারা আমার হাতে চাপ দিলো। কয়েক সেকেন্ড পরে আমরা উনিকার ময়লা কোটটি আবিষ্কার করলাম।

সেই রাতে ক্লারা তার আঙুল দিয়ে শুকনো বৃষ্টির মতো আমার শরীর স্পর্শ করলো। এলিয়াস এরকমটি তার লেখায় বর্ণনা করেছে। গল্পের শিরোনামটি বাজে : ‘তৃতীয় পক্ষ’। সে কি নিজেকেই নির্দেশ করছিলো? সে কি এখনো ক্লারাকে দেখে? সে কি ক্লারার বিস্তারিত বর্ণনায় মজা পেয়েছিলো? রুচিহীন গল্পকার ক্লারার একটি ভীরু অভ্যাসের যথাযথ বর্ণনা দিয়েছে : সে কিভাবে তার চুল পাকিয়ে আংটি বানায়। বিশেষ সমস্যায় পড়লে সে চিন্তামগ্ন হয়ে চুল পাকাতে থাকে এবং ব্যাখ্যাতীত একটা সিদ্ধান্তে পৌছার পরই কেবল ওই কাজে ক্ষান্ত দেয়।

আমি পড়া চালিয়ে গেলাম এবং মেরুদণ্ডে একটি ঠাণ্ডা স্রোত অনুভব করলাম। এলিয়াস আমাদের বিড়ালের দ্বিতীয়বার উধাও হওয়ার ব্যাপারটা অনুমান করেছে। একজন তৃতীয়শ্রেণির ট্যালকম পাউডার বিক্রেতার সঙ্গে বন্ধুত্বের পর নায়িকা দেখে যে বেদনার উপশমেই শান্তি। কুকুরটির ফিরে আসার দৃশ্য। সবকিছু আগের মতো ঠিকঠাক। কিন্তু বাস্তব জীবনে অনেক পরিবর্তন থাকে, ফাটল থাকে। মেয়েটি তার চুল ধরছে, পাকিয়ে আংটি বানাচ্ছে, তারপর ছেড়ে দিচ্ছে। কাউকে না জানিয়ে সে বিড়ালটি তুলে নিয়ে দেশে চলে যায়।

কিন্তু তা কি বাস্তবে ঘটেছিলো? ক্লারা কি নিজেই ওটা তাড়িয়ে দিয়েছিলো যাতে সে এর জন্য আমার অনুপস্থিতিকে দায়ী করতে পারে? এলিয়াসের গল্পগুলো রিভেঞ্জ ফ্যান্টাসিতে ঠাসা (শত হলেও, সে একজন লেখক)। কিন্তু তার গল্পের মালমশলা নিশ্চয়ই কল্পনা থেকে আসেনি। সেখানে অনেক বাস্তব তথ্য আছে। গল্পে উনিকার ভূমিকাটা কি? বিড়ালকে মুক্ত করে দিয়ে সে কি নিজে মুক্তি খুঁজে পায়? ক্লারা যখন বার্সেলোনায় আমাকে ফোন করেছিলো সে বিড়াল সম্পর্কে এমনভাবে কথা বলছিলো যেন গুপ্তভাষা ব্যবহার করছে। লন্ডনের আকাশে চক্কর খেতে খেতে আমার এমনই উপলব্ধি হলো।

রাশিচক্র বটে। আমি যদি সময়মতো ফিরে না আসি, সে রেন্ডনস দম্পতির সঙ্গে সপ্তাহান্তের ছুটি কাটাবে। এই দম্পতি অনেকদিন পূর্বে ক্লারাকে এলিয়াস রুবিওর সঙ্গে পরিচয় করে দিয়েছিলো।

যন্ত্রের ক্যাচক্যাচ শব্দ : প্লেন নামছে। আমি এখনো ফ্লাইট ধরতে পারি। টার্মিনাল ৪, গেইট ৬।

ক্লারা কি আমার ফ্লাইট মিসের ব্যাপারটা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলো, যেমনভাবে বিড়াল ভূমিকম্প টের পায়? উনিকা না থাকলে তার কার কথা মনে পড়ে? দেশে এখন কয়টা বাজে? সে কি হাতে চুল নিয়ে আংটি বানাচ্ছে। আমি গেইটে পৌঁছার আগেই কি সে তা হাত থেকে ছেড়ে দেবে? হিথ্রোর সান্ধ্য আকাশ কি গোলাপি রঙ ধারন করেছে? অন্য কেউ কি ফ্লাইট মিস করছে? আমাদের প্লেন কি অন্য কোনো প্লেনের ল্যান্ডিংয়ে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে?

ইঞ্জিনের কানফাটা আওয়াজ। আমরা ভূমি স্পর্শ করছি। আমার শরীর অবশ। মনের মধ্যে অন্য এক যুক্তিপ্রপঞ্চ।

মর্ত্যের ঘটনা। আকাশের জ্যামিতি।

Flag Counter


1 Response

  1. sajjad kabir says:

    একটু অন্য ধরনের গল্প, ভালো লাগলো।
    সাজ্জাদ কবীর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.