কোত্থেকে টপ্পা ?

ওমর শামস | ২৫ অক্টোবর ২০১৪ ১১:২২ অপরাহ্ন

১. উপক্রমণিকা :
“কীর্তন আমি অনেক কাল থেকেই ভালোবাসি”, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দিলীপকুমার রায়-কে চিঠিতে লিখছেন, “ওর মধ্যে ভাবপ্রকাশের যে নিবিড় ও গভীর নাট্যশক্তি আছে সে আর কোনো সঙ্গীতে এমন সহজভাবে আছে বলে আমি জানি নে। সাহিত্যের ভূমিতে ওর উৎপত্তি, তার মধ্যেই ওর শিকড়, কিন্তু ও শাখায় ও প্রশাখায় ফলে ফুলে পল্লবে সঙ্গীতের আকাশে স্বকীয় মহিমা অধিকার করেছে। কীর্তনসঙ্গীতে বাঙালির এই অনন্যতন্ত্র প্রতিভায় আমি গৌরব অনুভব করি। …… কখনো কখনো কীর্তনে ভৈঁরো প্রভৃতি ভোরাই সুরেরও আভাস লাগে, কিন্তু তার মেজাজ গেছে বদলে – রাগরাগিণীর রূপের প্রতি তার মন নেই, ভাবের রসের প্রতি তার ঝোঁক। আমি কল্পনা করতে পারি নে হিন্দুস্তানি গাইয়ে কীর্তন গাইছে, এখানে বাঙালির কণ্ঠ ও ভাবার্দ্রতার দরকার করে। কিন্তু, তৎসত্ত্বেও কি বলা যায় না যে এতে সুরসমবায়ের পদ্ধতি হিন্দুস্তানী পদ্ধতির সীমা লঙ্ঘন করে না ? অর্থাৎ, য়ুরোপীয় সঙ্গীতের সুরপর্যায় যে রকম একান্ত বিদেশী, কীর্তন তো তা নয়।” রবীন্দ্রনাথ বিদেশ যাত্রার প্রাক্কালে, ১৩৩১ সনে প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্রগণের অভিনন্দনে কথিত বক্তৃতায় আরো বলেছিলেন, “এখানে (বাংলাদেশে) বৌদ্ধধর্ম বৈষ্ণবধর্ম বাংলার যা বিশেষ রূপ, গৌড়ীয় রূপ, তাই প্রকাশ করেছে। আর একটা খুব বিস্ময়কর জিনিস এখানে দেখা যায় – হিন্দুস্তানী গান বাংলায় আমল পায় নি। এটা আমাদের দৈন্য হতে পারে। অনেক ওস্তাদ আসেন বটে গোয়ালিয়র হতে, পশ্চিমদেশ দক্ষিণদেশ হতে, যারা আমাদের গান বাদ্য শেখাতে পারেন, কিন্তু আমরা সে-সব গ্রহণ করিনি। কেননা আমাদের জীবনের সঙ্গে তা মেলে না। আকবর শা’র সভার তানসেন যে গান গাইতেন সাম্রাজ্যমদগর্বিত সম্রাটের কাছে তা উপভোগের জিনিস হতে পারে, কিন্তু আমাদের আপনার হতে পারে না।”
তিনি যা বলেছেন, তার মধ্যে এই সারার্থ আছে : (১) কীর্তন বাঙালিদের জিনিস, (২) এতে রাগের আভাস লাগলেও এটি হিন্দুস্তানি রাগ পদ্ধতির নয়, (৩) কাব্যের সঙ্গে এর সম্পর্ক এবং এর সম্পদ হচ্ছে দরদ যা রাগ সঙ্গীতে অনেক সময় হারিয়ে যায়। এই বক্তব্যের পিছনে একটি তথ্য উহ্য আছে। কীর্তনের মধ্যে সুরে টপ্পার থেকে নেয়া একটি চলন আছে – রাধে-এ-এ-এ –এই ধরণের টান, যা সাঙ্গীতিক ভাষায় ‘আকার’-কে বাংলা গানে একটু বেশি টেনে-ঝুলিয়ে ব্যবহার করা। কাহিনী-কাব্যকে গানে বলা হচ্ছে কিন্তু তার একটি উপকরণ বাংলা ‘আকার’। এই কথাটাই রূপান্তরিত হয়েছে ‘আখর’-এ, কীর্তন ‘আখর’ দিয়ে গাওয়া হয়। শুধু মনে রাখুন টপ্পার সঙ্গে কীর্তনের একটা যোগসূত্র আছে।
আমাদের প্রথম উদ্দেশ্য, টপ্পা কোত্থেকে এলো, এই প্রশ্নের যুক্তিযুক্ত উত্তর দেয়া। এই জবাব তথ্যমূলক হতে হবে অবশ্যই। কিন্তু জবাবের প্রক্রিয়া হিশেবে একটা ‘পস্‌টুলেট’ বা স্বতঃসূত্র আছে। তা হলো এই : (১) মানুষ যতোদিন, সঙ্গীতও ততোদিন, (২) যেহেতু সব গোত্রেরই অনুষ্ঠানে (পূজা, বিয়ে, উৎসব ইত্যাদি) গান লাগে, সব গোত্র বা ট্রাইবের নিজস্ব সঙ্গীত আছে, (৩) মানুষের ইতিহাস মানুষের বিভিন্ন গোত্রের পৃথিবীতে বিচরণের এবং অন্য গোত্রের সঙ্গে পারস্পারিক সংমিশ্রণের ইতিহাস (যুদ্ধ-বিগ্রহকে আপাতত সরিয়ে রাখলাম)। শেষের কথাটা রবীন্দ্রনাথের-ই, “হেথায় আর্য, হেথা অনার্য, হেথায় দ্রাবিড়, চীন, শক, হুনদল, পাঠান, মোগল এক দেহে হল লীন।” কিন্তু লীন হওয়া কাকে বলে, বিশেষ করে সঙ্গীতের ক্ষেত্রে? দ্রাবিড় যারা এসেছিলো তারা আফ্রিকার থেকে শুরু করে এসেছিলো। আর্যরা দানিয়ুব-ককেশাস-এর অঞ্চল থেকে এসেছিল, তার পর গ্রীক, স্কিথিয়ান (শক) কাস্পিয়ান সাগর অঞ্চল থেকে, চীন থেকে ইউচি, কুশান, এরপর তুর্কি, মধ্য এশিয়া থেকে মোগল, শ্যামদেশ থেকে দক্ষিণ চৈনিক, ইত্যাদি। প্রত্যেক গোত্রেরই সঙ্গীত ছিলো এবং তাদের সঙ্গে-সঙ্গেই ভারতবর্ষে এসেছিলো। বাঙালিদের একেবারে নিজের জিনিস ভাটিয়ালি, বাউল, ভাওইয়া, জারি, ঝুমুর; এগুলো সবিই ধুন, কোনো রাগ নয়। কীর্তনের একটু ইতিহাস আছে। যা বললাম, সেই সঙ্গীত কার্যকরণ প্রক্রিয়াকে উস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খান এক ইন্টারভিউতে খুব চমৎকার করে বলেছিলেন। তাঁর মূল থিসিস ছিলো, বিভিন্ন রাগ বিভিন্ন গোত্র থেকে, গোত্রের লোকজ-সমাজগত গান থেকে এসেছে। তিনি বলেছিলেন, “ শহ্রো-মেঁ মৌসিকী বাঁটা গ্যয়া” – যার অনুবাদ হচ্ছে, বিভিন্ন গোত্রের বিভিন্ন গান, গানের চলন। হিমাচল-কাশ্মীর অঞ্চলে পাহাড়ী ধুন, গুজরাট অঞ্চলে রাগ গুর্জরী তোড়ি, রাজপুতানা অঞ্চলে মান্দ্‌ , বেলুচিস্তান এলাকায় রাগ পুরিয়া-কল্যান, ইরানে ভৈরবী, বাংলায় বিলাওল, সিন্ধু-পাঞ্জাবে জয়জয়ন্তী, উত্তর-প্রদেশে রাগ দেশ এগুলো তিনি গেয়ে-গেয়ে লোকজ সুর কি আর তার থেকে গুণী-গন্ধর্ব-উস্তাদরা কি রাগ বার করেছেন তার হিস্যা-হিশাব দিয়েছেন। এই সাক্ষাৎকারের রেকর্ড অনেকের কাছেই আছে, এক সময় আকাশবাণী থেকে প্রচারিত হয়েছিলো।
সুলতানী আমল থেকেই তুর্কী, ইরানী আর মধ্য-এশিয়ার মৌসিকীকার-রা ভারতে আসা-যাওয়া শুরু করেন। ভারত সঙ্গীতের রাগের তুলনীয় বস্তু তুরান-ইরান-আজারবাইজান এলাকায় হচ্ছে ‘মোকাম’, আরবী শব্দ যার অর্থ ঘর –সঙ্গীতের স্বরের ঘর। ইরানে ‘দাস্তাগ’-ও বলা হয়। রাগের যে মৌলিক ধারণা – নির্দিষ্ট স্বর-সমষ্টি ব্যবহার করে, সুর-তালে অলংকরণ সহযোগে রঞ্জনী সৃষ্টি করা – ‘মোকাম’-এরও তাই। মূল চিন্তাটা একই, কিন্তু দেশ-কাল-গোত্র-সমাজ ভেদে উত্তর আফ্রিকা থেকে ভারতবর্ষ হয়ে চীন-ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত এক-এক জায়গায় এক-এক ভাবে সাংগীতিক বিস্তার ঘটেছে। ইরান এবং আজারবাইজান অঞ্চলে যুগ-যুগ ধরে লোকজ সঙ্গীতের যে চলন তাতে আকারের এক আদি রূপ আছে । আশলে সব গোত্রের আদি গান গল্প-বলা – সুর-তাল সহযোগে গল্প বলা যেমন মহুয়া, মলুহা, নদের চাঁদ, বেহুলার কাহিনী বলা – শুধু গদ্যে যতোটুকু বলা যায় তার চেয়ে বেশি আবেগে বলা আর সেই জন্যই সুর-তালে বলা। আবেগ গদ্যের চেয়ে নাটকে বেশি, নাটকের চেয়ে কবিতায়, কবিতার চেয়ে গানে, কথা-প্রধান গানের চেয়ে সুর-কেন্দ্রিক গানে। মধ্য-প্রাচ্যের এ-সব লোকজ অথচ ‘মোকাম’ রঞ্জিত গান লায়লা-মজনু, শিরি-ফরহাদ কাহিনীভিত্তিক অথবা হাফিজ, রুমীর কবিতা আশ্রয়ী অথবা ধর্মের স্তুতি। কাহিনী, কাব্য, কিংবা ধর্ম-আরাধনাকে ‘লফ্জ-এ’ মানে ‘শব্দে’ বলতে গেলে স্বরবর্ণ টেনে-টেনে আকারে বলতে হয়।
২. থিসিস :
আমার থিসিসটি এই :
• ইরানী-আজেরি আদি-লোকজ গানের আকারের বিশিষ্ট প্রয়োগের মধ্যেই টপ্পার আলংকরণিক মূল সুত্রটি নিহিত।
• মানুষের প্রবাহমানতার মধ্যে দিয়ে ১৩ শতক থেকে মধ্য-পশ্চিম এশিয়া লোকজন আসায় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্পর্শে ইরানী-আজেরি চলন থেকেই ভারতীয় গুণী-গন্ধর্ব-পণ্ডিত-উস্তাদেরা উত্তর ভারতীয় ক্লাসিকাল টপ্পার উদ্ভব করেন। মধ্য এশিয়ার এই চলনের সংস্পর্শ প্রথমে সিন্ধু-পাঞ্জাব-রাজপুতানা এলাকার লোকজ গানে ছাপ ফেলে। লখনৌ-র শোরি মিয়াঁ, এটা শুনে-দেখে-বুঝে ১৮ শতকে ‘রিফাইন্ড’ ইন্ডিয়ান টপ্পার সৃষ্টি করেন। উল্লেখযোগ্য যে তিনি টপ্পার ‘বোল’ পাঞ্জাবীই রাখেন কেননা ওই বোলেই গল্প বলা যায় ভালো সুর-লয়ে, আকারে ঠিক আজেরি গানের মতোই। আজেরি গানের আদি টানা-টানা আকার ক্রমশ দানা-দানা হয়ে গ্যালো। বাংলায় আমরা গিটকিরি বলি।
• এই সাংগীতিক ঘটনাটি একটি সুলতানী-মোগল আমলের ‘মিউজিক গ্লোবালাইজেশন’-এর ব্যাপার। এটি ঘটার প্রক্রিয়া ছিল দুটি।
• মানুষের সংস্পর্শে গ্রাম থেকে গ্রামে, গোত্র থেকে গোত্রে সুরের প্রচলনের প্রভাব ও বিস্তার যা সিন্ধু-পাঞ্জাব-রাজপুতানায় ঘটেছিলো। দ্বিতীয়ত ‘মোকাম’ গায়ক উস্তাদরা দিল্লির এবং অন্যান্য রাজ-দরবারে আসতেন গান পেশ করতে, দরবারের দাক্ষিণ্য চাইতে। সেখানেই ভারতীয় ঐতিহ্যের গায়কদের সঙ্গে আগত পরদেশী গায়কদের ‘কম্পিটিশন’ সঙ্গে-সঙ্গে মৌসিকির আদান-প্রদানও হতো। ‘হমারা ইয়ে চীজ, আপ লে-লিজিয়ে – ঔর ওহ্‌ বন্দিশ মুঝে দে দিজিয়ে,’ এই সংলাপ গাইয়ে-বাজিয়ে ঘরাণাদার সঙ্গীতজ্ঞদের মধ্যে অহরহ ঘটতো এবং এখনো ঘটে। নইলে, পণ্ডিত ভীমসেন যোশি “আল্লা জানে মওলা জানে”, আর সালামত আলী খান “রাম চড়ো রঘুবীর, রণধীর” গাইবেন কি করে?

আমার থিসিস জমা দেয়া হয়েছে, এবার ‘এক্সপেরিমেন্ট’, মানে ‘ফিল্ড সার্ভে’ থেকে নজীর উত্থাপন – থিওরির সমর্থনে। এই জিনিসটুকুই লিখে সড়ক তৈরী হলো, আর অন্তিম মঞ্জিল হচ্ছে ‘ফিল্ড সার্ভে’। নিচে ১, ২ করে কতোগুলো সাঙ্গীতিক ভিডিও রয়েছে। প্রতিটির সঙ্গে আমি মন্তব্য পেশ করছি আমার মূল বক্তব্যের পক্ষে – শুরু করবো ইরানী-আজেরি গান দিয়ে, পৌঁছবো পাঞ্জাব-রাজপুতানার লোকগান মাধ্যমে শোরি মিয়াঁর টপ্পায়। অতঃপর বাংলা টপ্পা অঙ্গের গানে আসবো।
৩. লক্ষণ দৃষ্টান্ত :
৩.১ ইরান, আজারবাইজান থেকে সিন্ধু-পাঞ্জাব- লখনৌতে :
।। ১ ।।
প্রথম গানটি ইরানী সূফী শিল্পী পারিসা গাচ্ছেন, সম্ভবত ভায়রো বা ভৈরবী। লক্ষ্য করুন, হা(আ) – হা(আ) –হা(আ) , হে(এ)-হে(এ)-হে(এ) উচ্চারণ করে আকার দিয়ে গান শুরু করেছেন, মধ্যে হাফিজের কাব্য আছে, কিন্তু স্বরবর্ণ, মোকাম মাফিক এই আকারে টানছেন। স্টাইলের এই পর্যায়ের আকার এখনো শব্দ-ভাষাকে আঁকড়ে থাকে। অনেকটা বাংলা টপ্পার মতোই।
[পারিসা, আজেরি গান – ভৈরবী, ভায়রো ]
।। ২ ।।
কাভকাজি আজেরি ইহুদী গান শুনুন। এটা ওঁদের ধর্মের স্তুতি। শুরু হয়েছে ক্লারিওনেট দিয়ে, একটু পরেই আকার তান, তারপর কথা, কথার ভিতরে টান ও তান (আকার)। পারিসি-র চেয়ে আকারগুলো আরেকটু স্পষ্ট। ভারতবর্ষে এসে এই তান, মানে আকারের আকৃতি – যাকে গাইয়েরা বলেন ‘দানা’ – সে-সব আরো স্পষ্ট হয়ে যাবে।
[কাভকাজি আজেরি ইহুদী গান – ভৈরবী]
।। ৩ ।।
আজেরি কিশোর ইল্মেদ্দিন ইব্রাহিমভ-এর গান শুনুন। ওর বয়স ১০ বছর। এক মিনিট পর থেকেই ইরানী-আজেরি আকার তান। এই তানই উত্তর ভারতে আসে – লোকজ গানে এবং কাওয়াল বাচ্চেদের গানে – কওল, কল্বানা, তারানায়
[ইল্মেদ্দিন ইব্রাহিমভ, আজেরি গান ]
।। ৪ ।।
এইবার শুনুন মধ্য এশিয়ার তান হে-হে-হে থেকে ভারতে লোকজ গানের সঙ্গে মিশে কেমন স্পষ্টতর হচ্ছে কিন্তু ‘জমজমা’, ‘গিটকিরি’ আছে। এটি টপ্পা অঙ্গের রাগ দেশ, খাঁটি টপ্পা এখনো নয়। রাজপুতানার আনোয়ার খান, মাঙ্গানিয়া গোত্র, সঙ্গী বাদকদের নিয়ে গাচ্ছেন। টপ্পা নিয়ে প্রচলিত আছে যে এই স্টাইল পাঞ্জাবের উটচালকদের গান। মাঙ্গানিয়া গোত্র উটের এলাকার লোক, উট নিশ্চয়ই পালে, চড়ে। মাঙ্গানিয়ার অর্থ যারা ভিক্ষে করে, গান গেয়ে ভিক্ষে করে। এরা মুসলমান কিন্তু এদের গানের পৃষ্ঠপোষক হিন্দু, যাদের পূজা-পার্বণ, অন্নপ্রাশন, বিয়ে এ-সবে মাঙ্গানিয়াদের গাইতে হয়। তবে আজকাল এরা পৃথিবীর নজরে পড়েছে। আনোয়ার খান এবং তাঁর সঙ্গীরা এখন ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়ার অন্য দেশে গান গেয়ে বেড়ান।
[ আনোয়ার খান, মাঙ্গানিয়া গোত্র/ রাজপুতানা // টপ্পা অঙ্গের রাগ দেশ ]
।। ৫ ।।
এইবার শুনুন মধ্য এশিয়ার তান হে-হে-হে থেকে ভারতে এসে গুণীদের হাতে পড়ে কি ভাবে ‘ক্লিয়ার’ দানায় নিটোল আ-আ-আ, এ-এ-এ আকারে পরিণত হচ্ছে । উল্লিখিত গান দিয়ে গল্প বলার কথা ক্রমশঃ কমে শুধু সুর-তানে বিকশিত হচ্ছে। এই গানে একটুকুই কথা, ‘বুলা নাহি যানা’ মানে ভুলে যেও না। বাকি সবই প্রায় তান। উস্তাদ ইউসুফ খান সিন্ধুর গাইয়ে ছিলেন, লোকজ গানও গাইতেন। এটি শোরি মিয়াঁর টপ্পা।
শোরি মিয়াঁ ১৭ শতকে জন্মে ১৮ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বেঁচেছিলেন। তিনি অধিকাংশ কাল লখনৌ-তে ছিলেন নবাব সুজাউদ্দৌলার আমলে। তিনিই ক্লাসিকাল টপ্পার জনয়িতা। ১৮৫৭ সনে লখনৌ-র হাকিম মহম্মদ করম ইমাম ‘মাদন-উল-মুসীকী’ নামে একটি সঙ্গীত গ্রন্থ উর্দু ভাষায় লেখেন। সেই বইতে শোরি মিয়াঁ সম্পর্কে লিখেছেন যে তিনি প্রসিদ্ধ টপ্পা-গায়ক। “টপ্পা গায়ক শোরির সম্বন্ধে একটি ক্ষুদ্র কিংবদন্তী শুনা যায়। পাঞ্জাবী ভাষা এই গানের অত্যন্ত অনুকূল হবে বুঝতে পেরে শোরি (গোলাম নবী) পাঞ্জাবে গিয়ে বসবাস করতে লাগলেন এবং অতি অল্প দিনের মধ্যেই সেখানকার ভাষা শিখে ফেললেন। কিছুদিন পর লখনৌ-তে ফিরে এসে প্রত্যেক রাগেরই তিনি একটি করে টপ্পা রচনা করে ফেললেন। … শোরির কোনো ঔরসজাত পুত্র নাই। গম্মু খাঁ নামক তাঁর একজন প্রিয় শিষ্য ছিল মাত্র। গম্মুর পুত্রর নাম শাদী খাঁ। শাদী খাঁ-র মৃত্যু হয়েছে । লখনৌ-তে বড়দরের টপ্পা গাইয়ে বললে মুম্মী খাঁ ও ছজ্জু খাঁকেই বোঝা যায়, কিন্তু পূর্ববর্তী গায়কদের সঙ্গে তাদের কোনো ক্রমেই তুলনা চলতে পারে না।”

[ ইউসুফ খান // টপ্পা – বুলা নাহি যানা, রাগ দেশ ]
৩.২ লখনৌ থেকে বাংলায় :
রামনিধি গুপ্ত (১৭৪১-১৮৩৮) বা নিধুবাবু কোলকাতার কাছাকাছি জন্মেছিলেন ত্রিবেণীর অঞ্চলের চাপতা গ্রামে। তাঁর শিক্ষা ও জীবন কোলকাতাকেন্দ্রিক হুতুম প্যাঁচার নকশা এবং আলালের ঘরের দুলাল-এর একটু পরের কালে। ১৭৭৬ সনে তিনি রাজস্ব-র চাকরি নিয়ে ছাপরায় যান, সেখানে এক মুসলমান উস্তাদের কাছে তিনি গান শিখেছিলেন। শোনা যায় কিছুদূর শেখানোর পর আর না শেখাতে চাইলে, নিধুবাবু নিজেই বাংলা গান লিখে গাওয়া শুরু করেন। তাঁর মন-বুদ্ধি-কলম-কন্ঠ থেকেই বাংলা টপ্পা বেরোয় :
নয়ন কাতর কেন, তাহারে না দেখিলে।
চতুর্ভুজ হই বুঝি সে মুখ হেরিলে ।।
নয়ন আপন মতে মনেরে আনিলে।
বিনা দরশনে দুঃখ, যায় কি করিলে ।।
কেমন নয়ন মোর, না ভুলে ভুলালে
কহে আর সুখ কিবা, সে নিধি নহিলে।।
‘বাংলার গীতিকার’ গ্রন্থের রচয়িতা রাজ্যেশ্বর মিত্রের কথা শোনা যাক : “ সেকালে ভক্তিরসের ধ্রুপদ গান বাংলাদেশে জনপ্রিয় ছিল। ধ্রুপদে প্রণয়গীতের কোমলতা, অথবা কারুণ্য ফুটিয়ে তোলা যায় না। এই মস্ত বড় অভাব মিটিয়ে দিলে টপ্পার দানাদার তান। এক একটি তানের ভিতর দিয়ে এক একটি ব্যাকুলতা যেন মর্ম স্পর্শ করে যায় …… তিনি গোঁড়াভাবে পশ্চিমী টপ্পার অনুসরণ করেন নি। ওদিককার টপ্পায় দ্রুত তানের কাজটা বেশি। কিন্তু নিধুবাবুর টপ্পায় এক একটি সুরের ওপর আলাদা আলাদা আন্দোলন, তাতে করে গানের করুণ রসটি যেন আরো নিবিড় হয়ে ঘনিয়ে আসে। উঁচুদরের গানের মধ্যে বাংলার নিজস্ব জিনিস হচ্ছে টপ্পা … … বাঙালির ভাবুকতা টপ্পার রসে ঢালা।” এই কথাটাকেই রবীন্দ্রনাথ নিজের মতো করে বলেছেন, তার সঙ্গে একটু প্রাদেশিকতা সেঁটেছেন যে বাঙ্গালি হিন্দুস্থানী গান গ্রহণ করে নি।
।। ৬ ।।
প্রথম গানটি বিশ শতকের প্রথম কালের গায়ক লালচাঁদ বড়াল-এর গাওয়া।
[ লালচাঁদ বড়াল // অনুগতজনে কেন ]
।। ৭ ।।
পরের দুটি গানই অতুলনীয় জ্ঞানেন্দ্রপ্রসাদ গোস্বামীর কন্ঠে। প্রথম গানটি প্রচলিত কিন্তু গান রচয়িতা অজ্ঞাত। দ্বিতীয় গানটির কথা কাজী নজরুল ইসলামের ।
[ জ্ঞানেন্দ্রপ্রসাদ গোস্বামী ]
ভীষ্মজননী ভাগীরথী গঙ্গে।
তারণ কারণ, ভবভয় বারণ, স্থাবর জঙ্গম, কীট পতঙ্গে।
হরিদ্বারবতী, অতি দ্রুতগতি, জহ্নুমুনি ধ্যান ভঙ্গে।
নগর সন্ততি, তাদের গো মা দিতে গতি, মিলিত সাগর সঙ্গে।
[রাগিনী সিন্ধু, তাল – মধ্যমান]
।। ৮ ।।
[ জ্ঞানেন্দ্রপ্রসাদ গোস্বামী // যাহা কিছু মম আছে প্রিয়তম // নজরুল ইসলাম ]
।। ৯ ।।
টপ্পা অঙ্গে রবীন্দ্র-সঙ্গীত। গানের সুর “মিয়াঁ বে-জানেওয়ালে”, শোরি টপ্পার অনুসরণে বাঙালি কায়দায়।
[ মালতী ঘোষাল // কে রবে পরবাসে ]
।। ১০ ।।
রামপ্রসাদী তো “মা আমায় ঘুরাবি কত” ধরণে দাদরা, একতালে গাওয়া হয়। কমলা ঝরিয়া অপূর্বভাবে টপ্পা অঙ্গে গেয়েছেন।
[ কমলা ঝরিয়া // রামপ্রসাদী, টপ্পা অঙ্গ ]

আমার প্রথম উদ্দেশ্য, টপ্পা কোত্থেকে এলো, এই প্রশ্নের যুক্তিযুক্ত উত্তর দেয়া শেষ হলো। এবার দ্বিতীয় উদ্দেশ্য, রবীন্দ্রনাথের উক্তি, “আমি কল্পনা করতে পারি নে হিন্দুস্তানি গাইয়ে কীর্তন গাইছে”, তার খণ্ডন। কীর্তন বাদ থাক, স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের টপ্পা অঙ্গের ‘কে রবে পরবাসে’ শুনুন হিন্দুস্তানি উস্তাদ রশীদ খান-এর কন্ঠে।
।। ১১ ।।
[উস্তাদ রশীদ খান, কে রবে পরবাসে ]
৪. উপসংহার :
লোকমুখে বা কেতাবে লেখা উক্তি হচ্ছে, পাঞ্জাবী উট-চালকদের গান থেকে টপ্পার উৎপত্তি। মজার ব্যাপার, বৈষ্ণবচরণ বসাক, বিশ্বসঙ্গীত বইতে “প্রবাদ আছে উহা আফগানিস্থান হইতে অন্মদেশে আনীত হয়”, লিখলেও এ-কথা খুব প্রচলিত নয়। আমি সাক্ষী-সাবুদ দিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করেছি যে টপ্পার আইডিয়া আর প্রধান উপকরণ ইরানী-আজেরি লোক-সমাজের গানের চলন থেকে উদ্ভূত। এটা সম্ভব হয়েছিলো সে আমলের স্থলযাত্রার গ্লোবালাইজেশনে। মানুষের আদান-প্রদান মানুষের জন্মাবধি।

টিকা ও গ্রন্থপঞ্জী :
১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সঙ্গীতচিন্তা, বিশ্বভারতী, বৈশাখ ১৩৭৩
২. উস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খান, আকাশবাণীতে সাক্ষাৎকার
৩. মধ্য এশিয়া থেকে তন্ত্র বা কন্ঠের মোকাম শিল্পীরা যে দিল্লী ও অন্যান্য দরবারে আসতেন সে বিষয় নিয়ে Dr. Dilorom Karamot গবেষণা করে Ph. D. সন্দর্ভ রচনা করেছেন – The 12-maqam System and its similarity with Indian Ragas (according to Indian Manuscripts)। এই থিসিসের একটি বড় অংশ Baqiyat Naini নামে এক ইরানী সংগীতজ্ঞর Zamzamah-I Vahdat নামে একটি সঙ্গীত গ্রন্থ নিয়ে যা ১৭ শতকে প্রকাশিত হয়। বাকিয়াৎ নয়নি ইরানের লোক ছিলেন, খোরাসান থেকে কান্দাহার-এর মধ্যে দিয়ে আজমীর আসেন সম্রাট শাহজাহানের আমলে। দু-বছর দাক্ষিণাত্যে থেকে পাটনা ফেরেন, শেষে বানারসে বসতি করেন। মায়খানা -র লেখক জানাচ্ছেন যে, নয়নি আমির খুসরো-র ধরণে ‘রেখতা’ এবং ‘নক্শ’ রচনা করেছিলেন। নয়নি Zamzamah-I Vahdat গ্রন্থে মোকাম ও রাগ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। Baqiyat Naini, Zamzamah-I Vahdat (17th century), Alberuni Institute, Taskhent, Uzbekistan – মূল ম্যানাস্ক্রিপ্টটি তাসখেন্ত-এর আল-বেরুনি ইন্সটিটুট-এ রক্ষিত।

Herbert Popley, The Music of India, 1950, লিখেছেন ভারতীয় ছন্দ-প্রবন্ধ, রাগ গাইয়েদের আগত ম্লেচ্ছদের গান শোনাবার গরজ মোটেই ছিলো না, শুধু প্রতিযোগিতা এবং দাক্ষিণ্য হেতু গাইতে হয়েছিলো।
৪. এগুলোর প্রচলন আমীর খুসরো করেছিলেন। তাঁর উদ্দীপনাতেই কাওয়াল বাচ্চেদের গান গাওয়া শুরু হয় সূফী সামা-তে এবং দরবেশদের মাজারে।
৫. বীরেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, হিন্দুস্থানী সঙ্গীতে তানসেনের স্থান, জিজ্ঞাসা,১৩৪৫ ; এই গ্রন্থে ‘মাদন-উল-মুসীকী’-র আংশিক অনুবাদ আছে।
৬. রাজ্যেশ্বর মিত্র, বাঙলার গীতিকার, ১৩৬৩
৭. Captain N. Augustus Willard, A Treatise on The Music of Hindoostan, 1834
“Tuppa, Songs of this species are the admiration of Hindoostan. It has been brought to its present degree of perfection by the famous Shoree, who in some measure may be considered its founder. Tuppas were formerly sung in the very rude style by the camel-drivers of the Punjab, and it was he who modelled it into the elegance it is now sung in the language spoken at Punjab, or mixed jargon of that and Hindee. They recite the loves of Heer and Ranjha, equally renowned for their attachment and misfortunes, and allude to some circumstances in the history of their lives.”
৮. বৈষ্ণবচরণ বসাক, বিশ্বসঙ্গীত, – “টপ্পার সৃষ্টি প্রধানত স্ত্রীকন্ঠের জন্যই হইয়াছিল। প্রবাদ আছে উহা আফগানিস্থান হইতে অন্মদেশে আনীত হয়। পরে এদেশে উৎকর্ষ লাভ করিয়াছে। টপ্পার বাক্যবিন্যাস অধিকাংশই প্রেমবিষয়ক। ইহার তাল সকল অপেক্ষাকৃত লঘু। দোষ এই যে রাগরাগিণীর শুদ্ধতা সর্বসময় রক্ষিত হয় না। গিটকিরীই টপ্পার সর্বস্ব …… টপ্পার তাল সকল অতি ক্ষিপ্র …… টপ্পার সুরে রাগরাগিনী প্রকাশের বিশেষ কোনো যত্ন নাই, কেবল তাহাদের ছায়া থাকিলেই যথেষ্ট, কাজেই টপ্পা মিষ্ট লাগে।”
Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (8) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Anisuz Zaman — অক্টোবর ২৬, ২০১৪ @ ৪:০৪ পূর্বাহ্ন

      i love toppa. but never thought about its root. i don’t have any knowledge to make profound comment on this but i can say i loved it. thanks a lot Omar S. Thanks B.S.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইকবাল হাসনু — অক্টোবর ২৬, ২০১৪ @ ৮:৪৪ পূর্বাহ্ন

      সুহৃদ ওমর শামস,

      ধন্যবাদ এমন এক অনুসণ্ধিৎসু মন নিয়ে টপ্পার উৎপত্তি ইতিহাস বয়ানের জন্য। খটকা থেকে গেল উস্তাদ রশিদ খানের কণ্ঠে “কে বসিলে আজি হৃদয়াসনে..” গানটিকে “কে রবে পরবাসে” হিসেবে চিহ্নিত করলেন কেন?

      ইকবাল হাসনু

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ওমর শামস — অক্টোবর ২৬, ২০১৪ @ ৭:১০ অপরাহ্ন

      “‘কে রবে পরবাসে’ শুনুন হিন্দুস্তানি উস্তাদ রশীদ খান-এর কন্ঠে”, ” “উস্তাদ রশীদ খান, কে রবে পরবাসে” – ei 2 jaigay, KE BOSILEY AAJ hobe. BD Arts change kore dile badhito hobo. Hasnu ebong onnoder dhonnobad porar jonno, truti dhorar jonno.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন matin bairagi — অক্টোবর ২৮, ২০১৪ @ ১:৩৬ অপরাহ্ন

      কত কিছু জানবার আছে কত কিছুই তো জানা গেল না আর। আবার জানবার সুযোগ পেয়ে গেলে বিষয়টির `প্রকরণ জানি না’র কারণে অনেক কিছুই থেকে যায় অধরা। কবি ওমর শামস গুণী মানুষ, অনুসন্ধানপ্রিয় তার মন কত কিছু খুঁজে বেড়ায় প্রবাস জীবনে। বাংলার বাঙালিরা তো তন্ত্রের দাপটেই অস্থির। শাদা বিড়াল কালো হয়, কালোটা হয়ে যায় শাদা। তবু অস্থিরতার মাঝে এ যেন এক প্রশান্তির হাওয়া। শুনলাম সবকটি । ভালো লাগার মতোই বিষয়, কিন্তু ওই যে বললাম সে কেবল সুরের আনন্দটুকুই, বেশি আর কিছু না। আর খানিকটা ইতিহাস। সেটাই-বা কম কী? প্রতিদিনের পিলে চমকানো খবরাখবরের মাঝে অনেকখানি প্রাণকাড়া বিষয়। এ জন্য কবি ওমর শামসকে তো আন্তরিক ধন্যবাদ দিতেই হয়, দিচ্ছিও।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Nafisa Khanam — অক্টোবর ২৮, ২০১৪ @ ৬:৩৮ অপরাহ্ন

      Ato shomriddho likha khub kom porechi .er govire jete bar bar porte hobe , shunte hobe.lekhok Omar Shams ke oshongkkho dhonnobad, emon akta shuro shomriddho likha upohar deyar jonno.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আশিস বড়ুয়া — অক্টোবর ২৮, ২০১৪ @ ৯:২৫ অপরাহ্ন

      টপ্পা শুনি, কিন্তু এর উৎপত্তি সম্বন্ধে ধারনা ছিল না। ওমর শামস এর লেখায় টপ্পা’র বিস্তারিত বর্ণনা পড়ে অনেক জানলাম। বার বার পড়েছি প্রবন্ধটি। আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই ওমর শামস-কে এ লেখাটির জন্য। ইকবাল হাসনু’কে ও ধন্যবাদ জানাই তাঁর সংশোধনী’র জন্য।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নির্ঝর অলয় — অক্টোবর ৩০, ২০১৪ @ ১:৫২ অপরাহ্ন

      টপ্পা নিয়ে চমৎকার, বিশ্লেষণধর্মী, অনুসন্ধিৎসু এবং মননশীল প্রবন্ধের জন্য লেখক ওমর শামসকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। গান বা যে কোন শিল্পের বর্তমান অবস্থাটিকে সম্যকভাবে অনুভব করতে তার পরম্পরাটি জানা অপরিহার্য।

      টপ্পা মূলত ভারতবর্ষের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে উট-চালকদের শৈলী থেকে আহৃত। কিন্তু শুরুরও শুরু থাকে। কাজেই এই গানের আদি পুরুষ আরো পশ্চিমে আফগানিস্তান ও ইরানেই ছিল। তেমনি বিশ্বসঙ্গীতের আদিমতম স্থান আফ্রিকাই।

      লেখককে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি, ধ্রুপদ, খ্যাল ও ঠুমরি নিয়ে তিনটা আলাদা লেখার জন্য। বাংলাদেশে বর্তমানে সঙ্গীতসাহিত্য বলে আদৌ কিছু নেই। এই অভাব আপনাকে দিয়ে পূরণ হতে পারে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিমুল সালাহ্উদ্দিন — নভেম্বর ৩, ২০১৪ @ ১:১০ অপরাহ্ন

      সাষ্টাঙ্গ প্রনাম লেখককে। একটা অসাধারণ লেখা উপহার দেবার জন্য। প্রিয় ওমর শামসের কাছ থেকে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের বিবিধ প্রকরণগুলো নিয়ে আরো লেখার আবদার করে রাখলাম।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com