অনুবাদ, উপন্যাস, বিশ্বসাহিত্য

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

anis_uzzaman | 4 Oct , 2014  

border=0বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.

অনুবাদ: আনিসুজ্জামান

———————————————————————————
ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ৬

প্রুদেন্সিও আগিলারও চলে গেল না, হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়াও বল্লম ছোড়ার দুঃসাহস করলো না। সেই সময় থেকে সে ভালমত ঘুমাতে পারত না।
বৃষ্টির ভিতর প্রচন্ড বিষাদগ্রস্থ দৃষ্টিতে মৃত লোকটার তাকানো, জীবিত মানুষদের জন্য তার গভীর স্মৃতিকাতরতা, আর পাশাপাশি এসপারতো ঘাসের ছিপি ভেজানোর জন্য পানির খোঁজে উদ্বেগ নিয়ে সারা বাড়ি ঘুড়ে বেড়াতে দেখে ও বিচলিত হয়ে পড়লো। ওর “খুব কষ্ট পাচ্ছে মনে হয়” উরসুলা বলল ওকে, “দেখে মনে হয় ও খুবই একা”। উরসুলা এতই উত্তেজিত হয়ে পরে যে যখন মৃত ব্যক্তিটিকে পরেরবার চুলার মুখ খুলতে দেখে তখন সে বুঝে যায় লোকটি কী খুঁজছিলো। আর তখন থেকেই সারা বাড়িতে পানিভর্তী গামলা বসিয়ে রাখে।, এক রাতে যখন ওকে নিজের ঘড়ে ক্ষত পরিস্কার করতে দেখলো, হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া আর সহ্য করতে পারল না।

“ঠিক আছে প্রুদেন্সিও” – ওকে বলল – “আমরা এই গ্রাম থেকে চলে যাব, যতদূর পারি, আর কখনই ফিরে আসব না। এবার শান্তিতে ফিরে যা।”
এভাবেই পাহাড় পারি দিলো ওরা, হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার কিছু বন্ধু–ওর মতই যুবক–বিপদসংকুল অভিযানে উত্তেজিত নিজেদের ঘড়গুলো খুলে ফেলে বৌ আর ছেলেমেয়েদের নিয়ে রওয়ানা হলো এমন এক জায়গার দিকে যার প্রতিশ্রুতি কেউ তাদেরকে দেয়নি। যাত্রার আগে, হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া বল্লমটাকে উঠোনে পুতলো, আর লড়াইয়ের অসামান্য মোরগগুলোর গলা একে একে কেটে ফেললো এই বিশ্বাসে যে এতে করে প্রুদেন্সিও আগিলার একটু হোলেও শান্তি পাবে। উরসুলা শুধুমাত্র নিল ওর সদ্য বিয়ের সময়কার কাপড়ে ভর্তি এক স্যুটকেস, কিছু ব্যবহার্য থালা বাসন আর বাপের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সোনার টুকরো ভরা একটি ছোট্ট সিন্ধুক। ওরা নির্দিষ্ট কোন ভ্রমনপথ বেছে নেয়নি। শুধু মাত্র চেষ্টা করছিল রিওআচার উল্টোদিক ধরে এগিয়ে যেতে যাতে করে কোন পদচিন্থ না থাকে বা কোন পরিচিত লোকের সঙ্গে দেখা না হয়। ওটা ছিল এক অর্থহীন অভিযাত্রা। চৌদ্দ মাসের মাথায়, বানরের মাংস আর সাপের স্যুপে খারাপ হয়ে যাওয়া পেট নিয়ে উরসুলা জন্ম দিল মানুষের সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গসহ এক ছেলের। দুজন লোক এক লম্বা লাঠিতে দোলখাটিয়ায় ঝুলিয়ে অর্ধেক রাস্তা ওকে বহন করেছে, কারণ তার পা ফুলে বিকৃত হয়ে গিয়েছিল আর পায়ের শিরাগুলো ফেনার মত ফেটে পরতো। যদিও বাচ্চাদের শুকিয়ে যাওয়া পেট আর দুর্বল চোখ দেখে করুণা হতো, কিন্তু বাচ্চারাই এই সফরটাকে সহ্য করেছিল বড়দের চেয়ে বেশী, বেশীর ভাগ সময়ই এটা ছিল ওদের কাছে আনন্দময়। এক সকালে, প্রায় দুবছর পর, ওরাই ছিল প্রথম মানুষ যারা দেখতে পায় পাহাড়ের পশ্চিম ঢালু। মেঘাচ্ছন্ন চুঁড়া থেকে অনুমান করা যাচ্ছিল বিশাল সমতল জলপ্লাবিত এলাকা যা পৃথিবীর অপর প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু কখনই ওরা সমুদ্র খুঁজে পেল না। এক রাতে, জলভূমিতে অনেক মাস হারিয়ে যাবার পর, সর্বশেষ দেখা আদিবাসী থেকে অনেক দূরে ছাউনি ফেলে এক পাথুরে নদীর পাড়ে যার পানি ছিল ঠান্ডা কাঁচের মত। অনেক বছর পর, দ্বিতীয় গৃহযুদ্ধের সময় কর্ণেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া এই একই রাস্তা ব্যবহার করতে চেষ্টা করেছিল রিওআচাকে চমকে দিয়ে দখলের জন্য আর ছয় দিন ভ্রমণের পর বুঝতে পারল যে সেটা ছিল একটা পাগলামী। আর অন্যদিকে যে রাতে ওর বাবা নদী তিরে ছাউনি ফেলেছিল, তার পদাতিক বাহিনীর অবস্থা ছিল পালানোর সুযোগবিহীন জাহাজডুরীর মত, কিন্তু যাত্রাপথে তাদের সংখ্যা বাড়তে থাতে আর সবাই প্রস্তুত ছিল (এবং সফলও হয়) বৃদ্ধাবস্থায় মরার জন্য। হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া ঐ রাতে স্বপ্ন দেখে যে ঐ জায়গায় তৈরি হচ্ছে এক কোলাহলমুখর শহর যার বাড়িগুলো তৈরি কাচের দেয়াল দিয়ে। জিজ্ঞেস করল কোন শহর ওটা আর উত্তর এল এমন একটা নামের যা কখনই সে শোনেনি, যার কোন অর্থও ছিল না, কিন্তু স্বপ্নে পেল এক অতিপ্রাকৃত প্রতিধ্বনি ‘মাকন্দ’। পরের দিন সে ওর লোকদের বিশ্বাস করাতে পারল যে সাগর কখনওই খুঁজে পাওয়া যাবে না। ওদের নির্দেশ দিল গাছ সরিয়ে নদীর পার্শ্বে এক ফাঁকা জায়গা তৈরি করতে, নদীর কিনারের সবচেয়ে ঠান্ডা জায়গায়, আর সেখানে পত্তন করল গ্রামের।

হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া স্বপ্নের ঘরের কাঁচের দেয়ালগুলোর রহস্য উন্মোচন করতে সমর্থ হলো যেদিন সে বরফের সঙ্গে পরিচিত হোল। সুতরাং বিশ্বাস করল যে সে বুঝতে পেরেছে ওর গভীর অর্থ। ভাবল খুব নিকট ভবিষ্যতেই বিরাট অংকের বরফের ব্লক বানাতে পারবে যা তৈরি হয় পানির মত এক দৈনন্দিন উপাদান দিয়ে, আর তা দিয়ে তৈরী হবে গ্রামের নতুন বাড়িগুলো। মাকন্দ আর গা-পোড়ানো এক গ্রাম থাকবে না যেখানে কলকব্জা আর কড়া নাড়ার লোহাগুলো গরমে বেঁকে যায়, বরং পরিণত হবে এক শীতকালীন শহরে। সে যদি তখন একটা বরফের কারখানা বানানোর জন্য গোঁ ধরে না থাকে, তার কারণ হচ্ছে তখন ও সত্যিকার অর্থেই উৎসাহী হয়ে পরেছিল ছেলেদের শিক্ষা দেয়ায়, বিশেষ করে আউরেলিয়ানোর ব্যাপারে যার নাকি প্রথম থেকেই আলকেমির প্রতি এক স্বজ্ঞাবোধ রয়েছে। ধুলো ঝেড়ে পরীক্ষাগারটা পরিস্কার করা হলো। মেলকিয়াদেসের টিকাগুলো পর্যালোচনা করা হলো, এবার ঠান্ডা মাথায়, নতুনের উত্তেজনা নিয়ে নয়, দীর্ঘ সময় আর ধৈর্য নিয়ে ধাপে ধাপে চেষ্টা করল পাত্রের তলা থেকে উরসুলার স্বর্ণ টুকরোগুলোকে আলাদা করার। ছোট্ট হোসে আর্কাদিও প্রক্রিয়াটায় সবেমাত্র অংশগ্রহণ করছে। ইতিমধ্যে ওর বাবার দেহ আর মন ছিল শুধু মাত্র পরীক্ষাগারের পানির নলে নিমগ্ন। সাহায্যে আগ্রহী প্রথম সন্তান বেড়ে উঠছিল বয়সের তুলনায় অনেক বেশি, পরিবর্তিত হয়েছিল এক প্রমাণাকৃতির দশাসই কিশোরে। তার গলার স্বর গিয়েছিল বদলে। বয়সন্ধিতে লোম গজানোর জায়গাগুলো ভরে উঠেছিল কোমল সদ্য গজানো পশমে। এক রাতে উরসুলা প্রবেশ করল ওর ঘরে যখন সে ঘুমানোর কাপড় খুলছে, অনুভব করল লজ্জা আর দয়ার মাঝে এক বিভ্রান্তিরকর মনোভাবের। স্বামীর পর ওটাই ছিল তার প্রথম নগ্ন পুরুষ দেখা, জীবন যাপনের জন্য ওকে এতটাই পরিপূর্ণ দেখাচ্ছিলো যে উরসুলার কাছে তা অস্বাভাবিক মনে হলো। তৃতীয় বারের মতো উরসুলা পোয়াতি হলে সদ্য বিবাহের ভয়গুলো তার মধ্যে নতুন করে জেগে উঠলো।

——————————-

আর্হেন্তিনার বুয়েনোস আইরেস-এর
এদিতোরিয়াল সুদামেরিকানা প্রকাশনী থেকে
প্রকাশিত ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’ উপন্যাসের
প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ

——————————-
border=0

ঐ সময় ওদের বাড়িতে যেত আনন্দোচ্ছল, ঠোঁটকাটা স্বভাবের আর উদ্দীপক ধরণের এক মেয়ে যে গৃহস্থালী কাজে সাহায্য করতো আর তাস দেখে বলতে পারতো ভবিষ্যৎবাণী। উরসুলা ছেলের কথা জানায় ওকে, সে ভেবেছিল এই অপ্রাকৃতিক অসামঞ্জস্য জ্ঞাতি ভাইর শুকরের লেজের মতই একটা ব্যাপার। শুনে উচ্চকন্ঠে মেয়েটা এমন হাসি হাসে যার প্রতিধ্বনি বাজে সারা ঘরময়, যেন কাচগুলো ভেঙ্গে চুড়ে পড়বে। “ঠিক এর উল্টো” বলল। “ও খুব সুখী হবে।” ওর কথার সত্যতা প্রমাণের জন্য দিনকয়েকের মধ্যেই ওদের বাাড়িতে নিয়ে গেল তাস, আর পাকঘরের পাশে শষ্যের গুদাম ঘড়ে হোসে আর্কাদিওকে নিয়ে ঢুকে ঘর বন্ধ করল। সুতোরদের বেঞ্চের উপর তাসগুলো মেলে ধরলো শান্তভাবে। মেয়ে যখন যাচ্ছেতাই বলে যাচ্ছিল তখন ওর কাছে বসে থাকা কিশোরটি যতটা না আচ্ছন্ন তার চেয়ে বেশি বিরক্ত।
হঠাৎ করেই হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করল। “ওরে বাপ” সত্যিকার অর্থেই মেয়েটি চমকে উঠে বলল আর ওটুকুই ছিল তার বলা সবকিছু। হোসে আর্কাদিও অনুভব করল সমস্ত হাড়গুলা ফেনায় ভরে উঠছে। অবশ করা এক ভয় আর প্রচন্ড কেঁদে ফেলার ইচ্ছা পেয়ে বসলো তাকে। মেয়েটি কোন রকমের ইঙ্গিতই করে নি। কিন্তু হোসে আর্কাদিও সারারাত খুঁজে বেড়ালো রন্ধ্রে রন্ধ্রে সেঁটে থাকা ওর বগলতলার ধোয়াটে গন্ধ। ওর সঙ্গে থাকতে চাচ্ছিল সর্বক্ষণ। মনে হচ্ছিল মেয়েটা যদি ওর মা হোত, বা কখনই গুদাম ঘড় ছেড়ে না যেত আর আবার স্পর্শ করে বলত ওরে বাপ। একদিন আর সহ্য করতে না পেরে ওকে খুঁজতে গেল ওর বাড়ি। এই দেখা করাটা ছিল সাদামাটা কিন্তু অবোধ্য , আর বসার ঘরে বসেছিল একটি কথাও না বলে। এই সময় ওকে সে কামনা করেনি। ওকে পেল সে অন্যরকম, যে গন্ধ তার মধ্যে এই মেয়েটার ব্যাপারে একটা ছবির জন্ম দিয়েছে তা থেকে অনেক দূরের মনে হলো তার। যেন সে অন্য এক মেয়ে। কফি খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো বিষন্নমনে। সেই রাতে নির্ঘুম ভয়ংকর মূহুর্তগুলোয় ওকে আবার কামনা করে প্রচন্ড উৎকন্ঠা নিয়ে, কিন্তু তখন ওকে চাচ্ছিল যেমনটি দেখেছিল বিকেলে, গুদাম ঘরে দেখা অবস্থায় নয়।

কয়েকদিন পর হঠাৎ করেই মেয়েটা ওকে ডেকে নিয়ে গেল ওদের বাড়িতে। যেখানে শুধু মাত্র ছিল মেয়েটার মা আর তাসের একটা হাতসাফাই শেখানোর উছিলায় নিয়ে গেল ওকে শোবার ঘড়ে। সুতরাং বাধামুক্ত হয়ে এমনভাবে ওকে স্পর্শ করল যে প্রাথমিক শিহরণ কেটে যাওয়ার পর সে হয়ে পরলো হতাশাচ্ছান্ন আর আনন্দের চেয়ে ভয়ই পেল বেশি। মেয়েটা ওকে বললো সেই রাতে ওর কাছে যেতে। ও রাজী হলো শুধুমাত্র ওখান থেকে বেরুবার জন্য, কারণ জানত যাওয়ার সাধ্য তার ছিল না। কিন্তু সেই রাতে, জ্বলন্ত বিছানায় বুঝতে পারল যে তার যেতেই হবে যদিও তার যাবার সাধ্য নেই। অন্ধকারে ভাইয়ের শান্ত শ্বাস প্রশ্বাস, পাশের ঘরে পিতার শুকনো কাশী, উঠোনের মুরগীগুলির হাসফাস, মশার গুনগুনানী, নিজের বুকের ধরপরানী এর আগে কখনই শোনেনি। পৃথিবীর এমন নানান রকমের শব্দের মাঝে হাতরিয়ে পোশাক পড়ে বের হলো ঘুমন্ত রাস্তায়।
(চলবে)
কিস্তি-১ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৩ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৪ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৫ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

Flag Counter


6 Responses

  1. Lipu says:

    ওর “খুব কষ্ট পাচ্ছে মনে হয়” উরসুলা বলল ওকে, “দেখে মনে হয় ও খুবই একা”। -একটু কেমন যেন লাগছে পড়তে, বি.স. একটু কি দেখবেন।
    অনুবাদককে ধন্যবাদ ও ঈদের শুভেচ্ছ।

  2. MHK says:

    The content is interesting and full of vivid pictures. However, the translation is pretty mechanical. It would have been very interesting to get a fluid story in Bangla. I am not sure how difficult it is to do such a story writing, but, I think it would be a great story telling.

    Thanks

  3. anisuz zaman says:

    প্রিয় MHK, প্রথমেই আপনাকে প্রতিক্রিয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। আপনি ‘Mechanical’ বলে চিহ্নিত করেছেন এই অনুবাদকে, এই সূত্রে আমার মনে পরছে অনুবাদ প্রসঙ্গে সেই বিখ্যাত প্রবাদ: সতী হলে সুন্দরী হয় না, আর সুন্দরী হলে সতী হয় না( নারীবাদীরা যেন আমার উপর রুষ্ট না হন এই উ্দ্ধৃতির কারণে– এজন্যে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। সমস্যা বুঝাবার জন্য এর চেয়ে ভালো কোনো উক্তি খুঁজে পাচ্ছিলাম না বলেই এই উ্দ্ধৃতির শরণ নিতে হলো।)।–প্রবাদগুলো বহু যুগের এবং বহু মানুষের পুজ্ঞীভূত জ্ঞানের প্রকাশ বলেই এর মধ্যে অনেকখানি সত্য নিহিত হয়ে আছে। আমি মনে করি , সৎ অনুবাদের পক্ষে ঝরঝরে বা খুব্ মিষ্টি হ্ওয়ার সুযোগ কম, যদি উৎস-রচনাটি( Source text) জটিল বুননের হয়ে থাকে। তারপরে্ও একজন ভালো এবং আদর্শ অনুবাদককে এই দুইয়ের মধ্যে একটা রফা করতে হয়। আমি এই অনুবাদে মূলানুগতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। সেটা করতে গিয়ে হয়তো আপনার কাছে ‘Mechanical’ হয়েছে। খুব বেশি সুখপাঠ্য করতে গেলে মূলের প্রতি অবিচার হয়–এই ভয় আমাকে সারাক্ষণ তটস্থ রাখে। দেখা যাক, আপনার এই অভিযোগের কারণ কমিয়ে আনা যায় কিনা। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

    .

  4. Khaleda Khan Bithi says:

    ঈদের আনন্দের মাঝে লেখাটি পড়তে ভালই লাগল। ঈদের আনন্দের মাত্রা একটু বেড়ে হল। অনুবাদককে ধন্যবাদ। ঈদ মোবারাক!

  5. Mamun Khondokar says:

    সুপ্রিয় অনুবাদক, Mechanical ইস‌্যুতে বলতে চাই, আমারও একটু ধাতব ধাতব লাগছিল। আমি মনে করি মার্কেসের অনুবাদ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া লেখার মত দুঃসাহস আমার নাই। তারপরও অনুরোধ আরেকটু যদি সহজ হত, তাতে করে এ্ই অধমের কাছে এটি আরো সুপেয় হত। ধন্যবাদ ও লাল সালাম আপনার সাহসী প্রচেষ্টার জন‌্য। ভাল থাকবেন।

  6. Anisuz Zaman says:

    lipu you are right. it should be o khub kosto pacchse.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.