অনুবাদ, উপন্যাস

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:

নিঃসঙ্গতার একশ বছর

anis_uzzaman | 11 Aug , 2014  

border=0বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর মতো আর কোনো উপন্যাস প্রকাশের পরপরই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। জনপ্রিয়তার বিচারে যেমন, তেমনি শিল্পকুশলতা আর শিল্পমুক্তির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল স্প্যানিশ সাহিত্যেই নয়, গোটা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসেই একটি মাত্র উপন্যাসে ইতিহাস, আখ্যান, সংস্কার, কুসংস্কার, জনশ্রুতি, বাস্তব, অবাস্তব, কল্পনা, ফ্যান্টাসি, যৌন-অযাচার ও স্বপ্ন– সবকিছুর এমন স্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য সহাবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঠিক এই কারণে মারিও বার্গাস যোসা এটিকে বলেছিলেন এক সামগ্রিক উপন্যাস (Novela Total), আর পাবলো নেরুদা একে বলেছিলেন, “সের্বান্তেসের ডন কিহোতের পর স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভবত মহত্তম উন্মোচন (“perhaps the greatest revelation in the Spanish language since Don Quixote of Cervantes.”)
বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি। এই প্রথম এটি আনিসুজ্জামানের অনুবাদে মূল থেকে ধারাবাহিক অনূদিত হচ্ছে। বি. স.

অনুবাদ: আনিসুজ্জামান

———————————————————————————
ধারাবাহিক উপন্যাস । কিস্তি ১
———————————————————————————
বহু বছর পর, ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে দাঁড়িয়ে কর্নেল অরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার মনে পড়ে যাবে সেই দূর বিকেলের কথা, যেদিন তার বাবা তাকে বরফ চেনাতে নিয়ে গিয়েছিল। তখন মাকোন্দ প্রাগৈতিহাসিক ডিমের মতো প্রকাণ্ড, মসৃণ আর সাদা পাথরের পাশ দিয়ে বয়ে-চলা কাকচক্ষু নদীর পাশে মাটি আর নল দিয়ে তৈরি বিশটি বাড়ির এক গ্রাম। তখন পৃথিবী ছিল এতই নতুন যে বহু কিছুই ছিল নামের অপেক্ষায়, আর ওগুলোর উল্লেখ করতে হলে আঙুলের ইশারায় বুঝিয়ে দিতে হত। প্রতি বছর মার্চে ছন্নছাড়া এক জিপসি পরিবার গ্রামের পাশে তাঁবু খাটাত আর বাঁশি খোল-করতালের হল্লা তুলে দেখিয়ে বেড়াত নিত্যনতুন সব আবিষ্কার। প্রথমবার তারা আনে চুম্বক, বাবুইপাখির পায়ের মতো সরু লিকলিকে হাতওয়ালা দশাসই চেহারার আর বেয়াড়া রকমের দাড়ি-গোফওয়ালা জিপসি মেলকিয়াদেস দেখিয়েছিল এক জবরদস্তু প্রদর্শনী, যা ওর মতে মেসিদোনিয়ার আলকেমিদের আবিষ্কৃত অষ্টমাশ্চার্য। দুই ধাতবপিণ্ড টানতে টানতে বাড়ি বাড়ি যায় সে আর গামলা, পাইলা, কড়াই, চুলা আর আংটাগুলো সব যার যার জায়গা থেকে হুড়মুড়িয়ে বেরিয়ে এসে সবাইকে তাজ্জব করে দেয়। এমনকি বহু দিন আগে থেকে খুঁজে না-পাওয়া জিনিসগুলো বেরিয়ে আসে একই জায়গা থেকে, যেখানে সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয়েছিল, আর স্ক্রু-পেরেকগুলো বেরিয়ে না আসতে পারার যন্ত্রণায় ক্যাচকেচিয়ে ওঠে। জাদুকরি লোহার পিছনে সব টানতে টানতে জিপসিদের অপরিশীলিত উচ্চারণে মেলকিয়াদেস ঘোষণা করে, “সব জিনিসেরই নিজস্ব প্রাণ আছে; এ হচ্ছে কেবল ওদের আত্মাকে জাগিয়ে তোলার ব্যাপার।”

হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার ব্যাপারে কল্পনার কাছে হার মানত প্রকৃতির উদ্ভাবনী, এমনকি অলৌকিক ব্যাপার স্যাপার বা জাদুর ভেলকি। ওর কাছে মনে হল অকেজো এই আবিষ্কারকে কাজে লাগিয়ে পৃথিবীর পেট থেকে সোনা তোলা যাবে। সৎ মানুষ মেলকিয়াদেস ওকে সতর্ক করে, “এ কাজে ওটা লাগবে না।”

কিন্তু হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া তখন জিপসিদের সততায় বিশ্বাসী ছিল না, ফলে নিজের খচ্চর ও এক জোড়া ছাগলের বদলে কিনে নেয় চুম্বকপিণ্ড দুটো। ওর বৌ উরসুলা ইগুয়ারান, যার ভরসা ছিল জন্তগুলো দিয়ে পালটাকে বাড়িয়ে তোলা, সে তাকে নিবৃত করতে পারে না।

“শিগ্রী এত সোনা হবে যে সারা বাড়ি মুড়ে ফেলার পরও আরও বেঁচে থাকবে,” স্বামী উত্তর দিল।
——————————-

আর্হেন্তিনার বুয়েনোস আইরেস-এর
এদিতোরিয়াল সুদামেরিকানা প্রকাশনী থেকে
প্রকাশিত ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’ উপন্যাসের
প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ

——————————-
border=0

ওর ধারণার সত্যতা প্রমাণের জন্য পরের ক’মাস সে প্রচুর খাটে। উচ্চস্বরে মেলকিয়াদেসের মন্ত্র জপতে জপতে এলাকার প্রতি ইঞ্চি
সে চষে ফেলে, এমনকি নদীটার তলা পর্যন্ত। এতে একমাত্র সে তুলতে পারল লাউয়ের খোলের মতো ফাঁপা, পাথরে ভর্তি পঞ্চদশ শতকের এক বর্ম, যার প্রতি অংশ মরিচা-ধরা টুকরো দিয়ে জোড়া দেওয়া। যখন হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া ও তার অভিযানের চার সঙ্গী বর্মটাকে খুলে ফেলতে পারল, আবিষ্কার করল তামার লকেট গলায় চুন হয়ে যাওয়া এক নরকংকাল আর লকেটের ভেতরে নারীর একগোছা চুল।

মার্চে ফিরে এল জিপসিরা। এবার তারা নিয়ে এল আমস্টার্ডামের ইহুদিদের সর্বশেষ আবিষ্কার একটা দুরবিন আর বড় গোলাকৃতির এক আতশকাচ। গাঁয়ের একমাথায় এক জিপসি মেয়েকে বসিয়ে অন্য মাথায় তাঁবুতে লাগাল ওরা দুরবিনটাকে। পাঁচ রেয়ালের বদলে লোকজন চোখ লাগাতে পারত দুরবিনটায় আর মেয়েটাকে দেখতে পাওয়া যেত এক হাত দূরত্বে। “বিজ্ঞান দূরত্বকে নিকেষ করেছে” মেলকিয়াদেস ঘোষণা দিল। “শীঘ্রই লোকে ঘর থেকে না বেরিয়েই দেখতে পাবে পৃথিবীর সর্বত্র কী হচ্ছে।”

এক রৌদ্রতপ্ত দুপুরে প্রদর্শিত হল বিশাল সেই কাচ দিয়ে এক আশ্চর্য ঘটনা: রাস্তার মাঝে এক গাদা খড় রেখে সূর্যরশ্মি কেন্দ্রীভূত করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া, তখন চুম্বকের ব্যর্থতার সান্তনা পায়নি, তবু এই নতুন আবিষ্কারটাকে হাতিয়ার হিসেবে লাগানোর এক বুদ্ধি আসে তার মাথায়। আবার তাকে বিরত করার চেষ্টা করে মেলাকিয়াদেস। কিন্তু আতশকাচের বদলে সেই চুম্বকপিণ্ড দুটো আর তিনটে ঔপনিবেশিক যুগের স্বর্ণমুদ্রা গ্রহণ করতেই হয় তাকে।

border=0হতাশায় কেঁদে ফেলে উরসুলা। স্বর্ণমুদ্রাগুলো ছিল ওর বাবার বঞ্চিত জীবনের সিন্দুকে জমানো ভান্ডারের একাংশ, যা উরসুলা বিছানার নিচে মাটিতে পুতে রেখেছিল কোনো এক জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য। হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া, এমনকি স্ত্রীকে সান্ত্বনা দেবারও প্রয়োজনবোধ করে না, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সম্পূর্ণভাবে আত্মনিয়োগ করে কৌশলগত পরীক্ষানিরীক্ষায়। সূর্যরশ্মি কেন্দ্রীভূত হয়ে শত্রুসেনার উপর কী রকম কাজ করে তা দেখার জন্য নিজের গা পুড়িয়ে ফেলে আর সেই ঘা সারতে তার অনেক সময় লেগে যায়। এই বিপজ্জনক আবিষ্কারের ভয়ে ভীত স্ত্রীর সমস্ত প্রতিবাদ ও সতর্কতা সত্ত্বেও সে প্রায় বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছিল। তার নতুন এই হাতিয়ারের কৌশলগত সম্ভাবনা নিয়ে হিসেব-নিকেশ করে কাটিয়ে দেয় দীর্ঘসময় নিজের কক্ষে যতক্ষণ পর্যন্ত না তৈরি করতে সফল হল শিক্ষণীয় এক আশ্চর্য স্বচ্ছ নির্দেশিকা আর অর্জন করল এক দুর্দমনীয় আত্মবিশ্বাস। তার পরীক্ষানিরীক্ষার প্রমাণ আর বিভিন্ন বর্ণনামূলক অংকন সে পাঠিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষের হাতে।

পাহাড় ডিঙিয়ে জলাভূমিতে পথ ভুলে, পায়ে হেটে খরস্রোতা নদী পেরিয়ে প্লেগ, হতাশা আর বন্য জন্তুর উৎপাতে প্রায় খরচের খাতায় চলে যেতে যেতে বেঁচে যায় ডাক-বওয়া খচ্চরগুলোর পথের দিশা পেয়ে, রাজধানী পর্যন্ত যাওয়া সে সময় প্রায় অসম্ভব ছিল। তথাপি হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া দিব্বি করে বসে যে সরকারি হুকুম পেলেই সে রওনা হয়ে যাবে। হাতে কলমে সামরিক কর্তৃপক্ষকে সৌরযুদ্ধের জটিল বিদ্যায় প্রশিক্ষিত করে তুলবে। তারপর অনেক বছর সে জবাবের আশায় ছিল। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করে ক্লান্ত হয়ে মেলকিয়াদেসকে নিজের উদ্যোগের ব্যর্থতার কথা দুঃখ করে জানাল। এই সময় জিপসি ওকে সততার প্রমাণ হিসেবে আতসকাচের বদলে সে ফিরিয়ে দিল পিণ্ড দুটো আর কিছু পর্তুগিজ মানচিত্রসহ নৌ-চালনার যন্ত্রপাতি। সঙ্গে ছিল নিজহাতে লেখা সাধু হেরমানের পরীক্ষার সংক্ষিপ্তাকার, যাতে করে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া অ্যাস্ট্রল্যাব দিকদর্শনযন্ত্র আর সেক্সট্যান্টাকে কাজে লাগাতে পারে। বর্ষা মওসুমের লম্বা মাসগুলো সে কাটিয়ে দিল বাড়ির ভেতর দিকটায় ছোট্ট একটা ঘরে যাতে করে কেউ তার পরীক্ষা নিরীক্ষায় বিঘ্ন ঘটাতে না পারে। সংসারের সমস্ত দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলে কাটিয়ে দিল রাতের পর রাত আঙিনায় তারাদের গতি অনুসরণ করে। সঠিক মধ্যদুপুর বের করার পদ্ধতি আবিষ্কারের চেষ্টায় আরেকটু হলে তার সর্দি লেগে যেত। যখন সে যন্ত্রগুলো ব্যবহারে পটু হয়ে উঠল, তখন স্থান-কাল সম্বন্ধে তার এমন ধারণা হল যে ঘর থেকে না বেরিয়েই সে অচেনা সাগরে পথ চলার, মনুষ্যহীন অঞ্চলে ভ্রমণের আর অসাধারণ সব মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষমতা পেয়ে গেল। এটা ছিল এমন সময় যখন সে বাড়িময় ঘুরে ঘুরে কাউকে গ্রাহ্য না করে নিজের সঙ্গেই কথা বলত আর এদিকে উরসুলা আর ছেলেরা খেটে যাচ্ছিল কলা, কচু, মিষ্টি আলু, কচুর ছড়া, মিষ্টিকুমড়া আর বেগুনক্ষেতে। কোনোরকম পূর্বাভাস ছাড়াই হঠাৎ করে তার কাজের নেশা বাধাপ্রাপ্ত হল; আর তার বদলে এল এক ধরনের মুগ্ধতা। অনেকদিন কেটে গেল ঘোরে-আক্রান্ত মানুষের মতো নিম্নস্বরে আশ্চর্য সব ছড়া জপতে জপতে, যেগুলো ছিল তার নিজেরই বোধের অগম্য।
(চলবে)
কিস্তি-১ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-২ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

কিস্তি-৩ গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস:নিঃসঙ্গতার একশ বছর

Flag Counter


24 Responses

  1. হানযালা হান says:

    অনবদ্য, খুব ভালো লাগলো।

    পুরো বই এমন ঝরঝরে হলে বড় একটা কাজ হবে।

    প্রথম বাক্যে ‘চেনাতে’র বদলে ‘দেখাতে’ ব্যবহার করলে আরো সহজ হবে কি?

  2. anisuz zaman says:

    হানযালা হান, আপনার প্রথম দুটো বাক্য আমার জন্য প্রেরণা হয়ে থাকবে। তবে তৃতীয় বাক্যে যেমন বলেছেন–“প্রথম বাক্যে ‘চেনাতে’র বদলে ‘দেখাতে’ ব্যবহার করলে আরো সহজ হবে কি?”– নিয়ে আমার প্রতিক্রিয়া একটু ভিন্ন। হ্যাঁ, ‘চেনাতে’র বদলে ‘দেখাতে’ ব্যবহার করলে হয়তো আরেকটু সহজ হতো, কিন্তু অর্থের ক্ষেত্রে একটা বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা তাতে থেকে যায়। আপনি বলার পর আমি এর মূল, এমনকি ইংরেজি অনুবাদটার সাথেও আমার বাংলা অংশটা মিলিয়ে দেখে মনে হচ্ছে মূলানুগতার স্বার্থে ‘চেনাতে’ শব্দটি বেছে নেয়া হয়েছে। কারণ মূলে ছিল: Su padre lo llevo a conocer el hielo. ‘Conocer’ ক্রিয়াপদটির অর্থ ‘চেনানো’, ‘দেখানো’ নয়। তাছাড়া ‘দেখাতে’ বললে ‘প্রথমবারের মতো’ অভিব্যক্তিটি এতে হারিয়ে যায়। বরং ‘চেনাতে’ বলায় তা মূলের পুরোপুরি কাছাকাছি থেকেছে বলে আমার ধারণা। এই গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদক গ্রেগরী রাবাসাও কিন্তু এই অর্থটাকে মাথায় রেখেই লিখেছিলেন: His father took him to discover ice. এই discover শব্দটা দিয়ে উনি Conocer-এর অর্থটা ধরতে চেয়েছেন। উনি কিন্তু বলতে পারতেন His father took him to show ice.–এরকম বললে হয়তো সহজ হতো কিন্তু তা মূলানুগ হতো বলে মনে হয় না। এমনকি, বললে হয়তো ঔদ্ধত্ব মনে হতে পারে, কিন্তু সত্যি হচ্ছে এই যে discover শব্দটা্ও Conocer-এর যথাযথ অর্থ বহন করেছে বলে মনে হয় না, তবে নিশ্চয়ই তাতে করে অর্থের বড় কোনো বিপর্যয়ও ঘটেনি। discover-এর জন্য স্প্যানিশ পরিভাষা Descubrir কিংবা অন্য কোনো শব্দও হতে পারে। আমরা কাহিনির পরম্পরা অনুসরণ করলেই দেখতে পাবো যে বাবা তার সন্তানকে বরফ ‘আবিষ্কারের’ জন্য নয়, বরং বরফ প্রথমবারের মতো ‘চেনাতে’ নিয়ে গিয়েছিলেন।
    যাইহোক, এগুলো নিতান্তই গৌণ বিষয়। আপনি খুব সংবেদনশীল পাঠের অভিজ্ঞতা থেকে প্রসঙ্গটা উত্থাপন করেছেন বলে বিষয়টা পরিস্কার করার সুযোগ পেলাম। আপনার পাঠের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

  3. শান্তনু চৌধুরী শান্তু says:

    দারুণ । এক কথায় অসাধারণ

  4. Prodip says:

    ধন্যবাদ , সুন্দর উদ্যোগ, একেবারে স্পানিশ থেকেই অনুবাদ। এর আগে আরও অনুবাদ পড়েছি, বুঝতে অসুবিধা হয়েছে, তাই এখন আবার ইংরেজি পড়ছি । বাংলায় অনুবাদের সমস্যা হল, এক লাইনে সুদীর্ঘ বর্ণনার যে অনবদ্য মুন্সীয়ানা মার্কেসের আছে,তার স্পানিশের জাদুতে(অনুমান করতে পারি) যেভাবে ফুটিয়ে তোলা গেছে, বাংলা গদ্যে তার সেই ব্যঞ্জনা হয়ত সেভাবে ধরে রাখা সম্ভব নয় । তাই সেটা হয়তো দুর্বোধ্য হবে, নয়ত তা কবিতার অনুরনন তৈরি করবে। গদ্যের ভঙ্গী ছেড়ে যদি তা কবিতার কাছাকাছি চলে যায়, তাতে ঘটনার দৃশ্যমানতা কী বাধাপ্রাপ্ত হবে না? তাই আমার একান্ত বিশ্বাস, মূল লাইনটা যদি ভেঙ্গে, যতি দিয়ে, দ্বিধা বা ত্রিধা বিভক্ত করে ঘটনার চিত্রটাকে অনুরূপ রেখে প্রকাশ করা যায়,তাতে পাঠকের অর্জন অপরিমিত হবে । “এমনকি বহু দিন আগে থেকে খুঁজে না-পাওয়া জিনিসগুলো বেরিয়ে আসে একই জায়গা থেকে, যেখানে সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয়েছিল, আর স্ক্রু-পেরেকগুলো বেরিয়ে না আসতে পারার যন্ত্রণায় ক্যাচকেচিয়ে ওঠে। ” ‘মরিচা-ধরা’ না হয়ে কী ‘মরচেপড়া’ হলে আরও শ্রুতি মধুর হতো না ?
    আবারো ধন্যবাদ, আগামী কিস্তির অপেক্ষায় রইলাম ।

  5. M. Ali Murtaja says:

    অসাধারণ! আমি ২০০১ সালে বইটির সাহাবুদ্দিন ভুঁইয়ার অনুবাদ পড়েছিলাম। আপনার অনুবাদিত অংশটুকু পড়ে একেবারেই ভিন্নরকম স্বাদ পেলাম। আশা করি খুব শীঘ্রই অনুবাদিত বইটি হাতে পাবো।

    আপনার দীর্ঘ জীবন কামনা করি।

  6. “নিঃসঙ্গতার একশ বছর”-বাংলা অনুবাদে গ্রহণযোগ্য একটি সংস্করণ আমাদের দেশেই পাওয়া যাচ্ছে। অনুবাদকের কাজটি শুধু গ্রহণযোগ্য নয়, খুবই উঁচুমানের হয়েছে বলে আমার ধারণা। জি এইচ হাবিব এর অনুবাদক। দুটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এটি প্রকাশ করেছে। কথা হচ্ছে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর একটি সর্বজনগ্রাহ্য অনুবাদকর্ম থাকার পরও আবার কেন এর অনুবাদের প্রয়োজন পড়লো সেটি বোধগম্য হলো না। আপনাদের বক্তব্যনুযায়ী যদি ধরেই নিই যে- “বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কিংবদন্তিতুল্য এই উপন্যাসটি মূলভাষা থেকে অনূদিত হয়নি”- তবুও পূনঃঅনুবাদের জন্য কারণটি জোরালো নয়। যদি এমন হতো, আগের অনুবাদকর্মে মূলানুগ অনুসরণের সমস্যা হয়েছে, তবেই এর একাধিক এবং মূল ভাষা থেকে অনুবাদের প্রয়োজন পড়তো। ইংরেজি থেকে অনুবাদ হলেও জি এইচ হাবীবের অনুবাদকর্ম সাবলীল এবং সুখপাঠ্য ছিল।

    পাঠক হিসেবে আমি মার্কেজের অন্য উপন্যাসগুলোর পুনরায় ভালো অনুবাদগ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি।

    পরিশেষে বলি, অনুবাদক জনাব আনিসুজ্জামান যদি মার্কেজের “নিঃসঙ্গতার একশ বছর” অনুবাদে শ্রম ব্যয় না করে অন্য কোনো গ্রন্থ অনুবাদ করতেন সেটি পাঠক হিসেবে আমাকে আনন্দিত করতো।

  7. আশেক ইব্রাহীম says:

    খুবই ভালো লাগলো। আশা করি প্রতি সপ্তাহে এক কিস্তি পড়তে পারবো।

    মার্কেজের বাংলা অনুবাদ- যে অনুবাদ পাঠে আনন্দ পেয়েছি তা হল, মানবেন্দ্র অনূদিত সরলা এরেন্দিরা ও অন্যান্য গল্প এবং বেলাল চৌধুরী অনুদিত মৃত্যুর কড়া নাড়া। আমার মনে হয়, কোনটা মানসম্মত কোনটা নয় সে আলোচনা এখানে অপ্রাসঙ্গিক। একই বইয়ের নতুন অনুবাদের কি প্রয়োজন সে প্রশ্নও আসা উচিত নয়।

  8. Prodip says:

    হাবীব সাহেবের অনুবাদও পড়েছি । সেখানেও গদ্যের মাঝে কবিতার অনুরনন দেখেছি । মূল বা ইংরেজির দীর্ঘ বাক্য, বাংলা গদ্যের সাথে যে পাশাপাশি চলে না, তা যে সাধারন পাঠকের বোধগম্যতার কাছে অমিমাংসিত রয়ে যাবে, তার কিছু নিদর্শন ভবিষ্যতে তুলে ধরার ইচ্ছে রইল।

  9. Rifat Munim says:

    I’m writing in response to Leena Dilruba. Granted that G H Habib’s translation is really good, we cannot erase the fact that it is a translation of the translation. I think this fact provides the ground for another attempt which will only be a translation from the original, not from another translation.

  10. কোনো গ্রন্থ পড়ে সেটি সম্পর্কে অভিমত জানাবার বিষয়টা আমার সৌভাগ্য বলেই মনে হয়। তেমনিভাবে লেখাটি পড়ে আমি যদি আমার মনোভাব প্রকাশ করতে না পারি সেটিকে নিজের ব্যর্থতা বলেও ধারণা করি।

    বেঁচে থাকার জন্য গ্রন্থপাঠের চেয়ে আনন্দের কোনো উপকরণ এখনো খুঁজে পাইনি। কোনো লেখা পড়ে সুযোগ থাকলে নিজের আন্তরিক অভিমতটি জানাবার চেষ্টা করি।

    উপরে করা আমার মন্তব্যটি প্রাসঙ্গিকতার মাত্রা হারিয়েছে- জনাব “আশেক ইব্রাহীম”–এর এমত মতামতে হতাশ হলাম। একই সঙ্গে বিস্ময় জাগলো এটি শুনে যে, একই বইয়ের দূর্দান্ত একটি অনুবাদগ্রন্থ থাকার পর একই বইয়ের আরও একটি অনুবাদগ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা কম বা নেই– আমার এমন মন্তব্যটি প্রশ্ন হিসেবে উপস্থাপিত হবার মতো নয়, এটি জেনেও। একটি বিষয়ে একজন ব্যক্তি কী মতামত দেবে সেটি একান্তই তার নিজস্ব বিষয়। কেউ যদি এর বিপরীতে কিছু বলতে চায় তবে সেটি হবে প্রশ্নকারীর উত্তরটিকে খন্ডন করে, অবশ্যই “একই বইয়ের নতুন অনুবাদের কি প্রয়োজন সে প্রশ্নও আসা উচিত নয়”- এ ধরনের কর্তৃত্ববাদী রায়ের মতো নয়।

  11. কুমার দীপ says:

    এমন একটা সময়ে এই অনুবাদটা আমার নজরে এলো যখন আমি জি এইচ হাবীব অনূদিত বইটি পড়তে শুরু করেছি। মন্তব্য করবার মতো ভেতরে এখনো প্রবেশ করিনি; তবে মনে হচ্ছে আনিসুজ্জামানের এই অনুবাদের ভাষাটা আরো নান্দনিক হয়ে উঠবে, শুরুটা তুলনা করে আমার তাই মনে হয়েছে। বিস্তারিত লিখবার সময় এখনো হয়নি। মহান রচনার একাধিক অনুবাদ হতেই পারে।

  12. মিজানুর রহমান লিপু says:

    @ Leena Dilruba “যদি এমন হতো, আগের অনুবাদকর্মে মূলানুগ অনুসরণের সমস্যা হয়েছে, তবেই এর একাধিক এবং মূল ভাষা থেকে অনুবাদের প্রয়োজন পড়তো।” – আমার মনে হয় যে আপনি মূল রচনা ও পূর্ববর্তী অনুবাদ দুটোই বিচার করে বা মর্ম উপলদ্ধি করেই মতামত দিয়েছেন। অনুগ্রহ করে মূলের সঙ্গে মিলিয়ে একটু ব্যাখ্যা এবং উদাহরণ দিয়ে দেখাবেন কি যাতে আমাদের বুঝতে সুবিধা হয়?

  13. yusuf reza says:

    কাকচক্ষু জল? মূলে ছিল?

  14. শিমুল সালাহ্উদ্দিন says:

    অসাধারণ কাব্যিক অনুবাদ। অভিনন্দন অনুবাদককে। কৃতজ্ঞতা আর ধন্যবাদ আর্টসকে, আসল সোনা প্রকাশ করার জন্য। পরবর্তী কিস্তিগুলোর জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকছি…

  15. Lima says:

    অনুবাদক আনিসুজ্জামানের ছন্দস্পন্দিত, সাবলীল ও মূলানুগ অনুবাদের প্রতিক্রিয়ায় লিনা দিলরুবা জি এইচ হাবীবের অনুবাদটির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছেন, “কথা হচ্ছে নিঃসঙ্গতার একশ বছর-এর একটি সর্বজনগ্রাহ্য অনুবাদকর্ম থাকার পরও আবার কেন এর অনুবাদের প্রয়োজন পড়লো সেটি বোধগম্য হলো না।” প্রথম কথা হলো চিরায়ত যে কোন গ্রন্থের অনুবাদ একাধিকবার হতে পারে, হয়েছেও–এমন নজির ভুরিভুরি। বাংলা ভাষাতেই রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়ামের অনুবাদকদের দীর্ঘ তালিকার দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাবো কাজী নজরুল ইসলাম (রুবাইয়াত্-ই-ওমর খৈয়াম), ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (রুবাইয়্যাত-ই-উমরখয়্যাম), হেমেন্দ্রকুমার রায় (ওমর খৈয়ামের রুবায়ত), কান্তিচন্দ্র ঘোষ (রোবাইয়াত্-ই-ওমরখৈয়াম), নরেন্দ্র দেব (রোবাইয়াত্-ই-ওমরখৈয়াম), হিতেন্দ্রনাথ বসু (রুবাইয়াত্-ই-ওমরখৈয়াম), শ্যামাপদ চক্রবর্তী (ওমরখৈয়ামের রুবাইয়াত), বিমলচন্দ্র ঘোষ (রুবাইয়াত্-ই-ওমরখৈয়াম), বীরেন্দ্র কুমার ভট্টাচার্য (ওমরখৈয়াম-রুবাইয়াত্), সুধীর গুপ্ত (ওমরখৈয়ামের রুবায়েত্), শক্তি চট্টোপাধায় (ওমরখৈয়ামের রুবাই), অশোক ভট্টাচার্য (রুবাইয়াত্), সুনীলচন্দ্র দত্ত (রুবাইয়াত্), বিজয়কৃষ্ণ ঘোষ (রোবাইয়াত্), সিকান্দার আবু জাফর (রুবাইয়াত্-ই-ওমরখৈয়াম)। এ তালিকায় আরো রয়েছেন অক্ষয় কুমার বড়াল, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ।

    এই অনুবাদকদের একজন, কান্তিচন্দ্র ঘোষ সম্পর্কে কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত লিখেছিলেন ‘প্রধানত অনুবাদক হিসেবে যাঁরা সাহিত্যের ইতিহাসে স্থান পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে এডওয়ার্ড ফিটজেরাল্ড এবং কান্তিচন্দ্র ঘোষ একই সূত্রে স্মরণযোগ্য।’

    কান্তিচন্দ্রেরও বহু পরে নজরুল ইসলাম মূল থেকে ওমর খৈয়াম অনুবাদ করেছিলেন । কিন্তু কোনো আহম্মকই এই প্রশ্ন তুলবেন না যে এত হাতে অনুবাদের পরও নজরুল কেন অনুবাদ করতে গেলেন, তাও আবার মূল থেকে।

    দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে হাবীবকৃত নিঃসঙ্গতার একশ বছর বইটি যে ‘সর্বজনগ্রাহ্য’– এই কথা তিনি কোন যুক্তি বা জরীপের ভিত্তিতে বলছেন? আমিও একজন পাঠক। আমাকে কি তিনি সর্বজনের মধ্যে ভাবছেন? যদি না ভেবে থাকেন তাহলে আমাকে ছাড়া সর্বজন হয় কী করে? আর যদি আমি সবর্জনের অংশ হই তাহলে আমার প্রতিক্রিয়া হচ্ছে এই যে হাবীবের অনুবাদটি আমার পছন্দ হয়নি, কিন্তু তারপরও আমি তাকে সাধুবাদ জানাই এই গ্রন্থটির প্রথম অনুবাদক হওয়ার গৌরব অর্জনের জন্য। এটাকেও আমি খাটো করে দেখতে নারাজ। এরকম একটি জটিল উপন্যাসের অনুবাদ সহজ নয়, তা সে মূল থেকেই করুন বা ইংরেজি অনুবাদের ভিত্তিতেই করুন না কেন। কিন্তু তাই বলে এর ত্রুটি বিচ্যুতি নিয়ে কথা বলা যাবে না– তাতো নয়। এই অনুবাদের অনেক ত্রুটি আছে এবং এই ত্রুটিও আসলে দুই ধরণের ক্রুটি। প্রথম ত্রুটি হচ্ছে তিনি কোথাও কোথাও ইংরেজির ভুল অনুবাদ করেছেন। দ্বিতীয় ত্রুটি হলো ভুল ইংরেজি অনুবাদের নির্ভুল অনুবাদ করেছেন। এই দ্বিতীয় ক্রুটি ঘটেছে মূলত মূল ভাষাটি সম্পর্কে তার অজ্ঞতার কারণে।

    এটা ভাবা এক ঔপনিবেশিক আধি যে ইংরেজি অনুবাদ মানেই নির্ভুল। গ্রেগরী রাবাসার অনুবাদ অবশ্যই ভালো অনুবাদ, কিন্তু তা যে পুরোপুরি নির্ভুল এবং নিখুঁত এমন দাবী করাটাও হবে হাস্যকর ব্যাপার। মূল ভাষায় যারা এই বইটি পড়েছেন তারাই বলতে পারবেন কোথায় সেই ত্রুটি। আপনি, লীনা দিলরুবা, কোন যুক্তিতে এই দাবী করছেন যে, “যদি এমন হতো, আগের অনুবাদকর্মে মূলানুগ অনুসরণের সমস্যা হয়েছে, তবেই এর একাধিক এবং মূল ভাষা থেকে অনুবাদের প্রয়োজন পড়তো।”? অনুবাদের অনুবাদ মূলানুগ হবে– এ ধরণের দাবী কোনো উন্মাদও করবে বলে মনে হয় না। হাবীবের অনুবাদটি যদি মূলানুগই হতো তাহলে হাবীব আর আনিসুজ্জামানের অনুবাদে কোনো পার্থক্য থাকা উচিত নয়। আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে ঠিক উল্টোটাই।

    হাবীবের অনুবাদটি যে ‘সর্বজনগ্রাহ্য’ হয়নি তার একটা উদাহরণ আপনার অবগতির জন্য এখানে হাজির করছি। পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত অনুবাদক, প্রাবন্ধিক এবং স্প্যানিশ বিশেষজ্ঞ রবিন পালের প্রতিক্রিয়া আছে হাবীবের এই অনুবাদটি সম্পর্কে। তিনি হাবীবের অনুবাদের ত্রুটি, এমনকি ভাষাগত ত্রুটি সম্পর্কেও কথা বলেছিলেন:
    “কিছু কিছু অনুবাদ অস্বস্তিদায়ক। যেমন- ‘ব্যাপারটা তাকে খানিকটা স্বস্তি দেবে মনে ক’রে একটা চারকোল নিয়ে এসে অগুনতি যেসব মিলনের পয়সা তখনো সে অরেলিয়ানোর কাছে পেতো সেগুলো মুছে দেয়… (পৃ ৩৬৪) Gregory Rabassa-র ইংরেজি হল এমন ‘Thinking that it would console him, she took a piece of charcol and erased the innumerable loves that he still owed her for, and (p.419) ‘চারকোল’ এবং ‘মিলনের পয়সা’ কানে লাগে যথেষ্ট। তেমনি অস্বস্তিকর ‘মাকোন্দো ততক্ষণে সেই ‘বাইবেলিয় যুগের হারিকেনের রুদ্ররোষের কবলে পড়ে ঘুরপাক খাওয়া ধুলোবালি আর ধ্বংস্তুপের একটা ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে… ’ ইংরেজিটা ছিলো Macondo was already a fearful whirl Wind of dust and rubble being spun about by the wrath of the biblical hurricane… (p.422), পাঠক বুঝতে পারছেন বেশ কিছু প্রতিশব্দের গন্ডগোল আছে এখানে। বেশ আড়ষ্ট বাংলা– এ হচ্ছে স্রেফ একটা সামান্য ক্ষয়কারী অধঃক্ষেপ (পৃ.১৯) (this is just a little corrosive sublimate)

    হিংগুলির নারকীয় গুণাগুণ (পৃ ১৯) (his Diabolical properties of cinnabar), rudimentary laboratory তো ‘সদ্য তৈরি গবেষণাগার’ (পৃ ১৯) নয়। রোদেলা বাগান, স্মৃতির অভ্রমিত অঞ্চল শুনতে অবশ্য খারাপ লাগে না। Squid সমুদ্র শামুক নয়, বরং এক জাতীয় সামুদ্রিক মাছ যা বঁড়শির টোপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। Pirate বললে যেমন ‘হার্মাদ’ বোঝায় না। ( রবিন পাল, যুগলবন্দী: স্পেনীয় ও ভারতীয় সাহিত্য, প্রকাশক: এবং মুশায়েরা, কলকাতা, প্রকাশকাল: জানুয়ারি ২০০৭, পৃ: ২০৮-২০৯)
    এই হচ্ছে আপনার ভাষায় ‘গ্রহণযোগ্য’, ‘উঁচুমানের’, এবং ‘সর্বজনগ্রাহ্য’ অনুবাদের নমুনা।

    আপনি প্রতিক্রিয়ার এক জায়গায় স্ববিরোধী একটি কথা বলেছেন, “পাঠক হিসেবে আমি মার্কেজের অন্য উপন্যাসগুলোর পুনরায় ভালো অনুবাদগ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি।” প্রশ্ন হলো হাবীবকৃত এই ক্রুটিপূর্ণ অনুবাদটির পরিবর্তে যদি অন্য হাতে নতুন অনুবাদের বিরোধীই হন তাহলে অন্য অনুবাদগুলোর ক্ষেত্রে “পুনরায় ভালো’ অনুবাদগ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা” অনুভব করেন কোন যুক্তিতে?।

    মানুষ দুধের স্বাদ পেলে কেন ঘোলে স্বাদ মেটাবে? কিন্তু আপনি ব্যতিক্রম। ঘোল খেতে খেতে আপনি রীতিমত ঘোলানুরাগীই নন, উপরন্তু দুধেরই বিরোধিতায় নেমেছেন।

    বাংলাদেশে এমনিতেই মূল ভাষা থেকে অনুবাদ করার যোগ্য লোকের অভাব। আর এই কারণে ‘অনুবাদের অনুবাদ’ হ্ওয়ায় আমাদের অনুবাদ সাহিত্য এক ধরণের দীনতায় ভুগছে। কিন্তু কেউ এই অভাব পূরণের জন্য এগিয়ে এলে আমরা সেটা সহ্য করতে পারি না স্রেফ কায়েমি স্বার্থের কারণে। অরুচি, দুর্নীতি, কার্পণ্য, দীনতা, দুর্বৃত্তায়ন আমাদের মর্মে এতোই প্রোথিত যে ভালো জিনিস এবং ভালো উদ্যোগকে পর্যন্ত মেনে নিতে পারি না। আপনি তারই এক অপদৃষ্টান্ত হয়ে থাকলেন।

    অনুবাদক আনিসুজ্জামান, আপনার অনুবাদের কাজ যেন দুষ্টজনের প্রতিরোধে থমকে না যায় এই অনুরোধ জানাই। আপনাকে অভিবাদন।

  16. anisuz zaman says:

    আমার এবং জি এইচ হাবীবের অনুবাদ নিয়ে পাঠকবন্ধুদের বাদানুবাদে আমার অস্বস্তি এই জন্যে যে হাবীবের মতো একজন মশহুর অনুবাদকের সঙ্গে আমার মতো গৌণ এক অনুবাদকের তুলনা করা হচ্ছে। আমি নিজে হাবীবের অনুবাদের অনুরাগী পাঠক। আমি তাকে সাক্ষাতে একবার সে কথা জানিয়ে্ওছিলাম। আমি তার আলোচ্য অনুবাদটিও পড়েছি। পড়ে ভালো্ও লেগেছে। কিন্তু তারপরেও, মূলের সঙ্গে এর কোথাও কোথাও দূরত্ব আছে, ভাষাগত কিছু ভিন্নতা্ও আছে এবং সেটা থাকবেই। এই থাকার মূল কারণ তার অনুবাদটি মূলত ইংরেজি অনুবাদের আশ্রয়ে গড়ে উঠেছে। এমনকি একই ইংরেজি অনুবাদের আশ্রয়ে গড়ে ওঠা দুজনের অনুবাদ্ও দুরকম হতে বাধ্য। এমন উদাহরণতো আছেই। আর আমি যেখানে মূল থেকে করার চেষ্টা করছি সেখানে তা আরও একটু ভিন্ন হ্ওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে ভিন্নতার অজুহাতে যাতে কোনো ভুল-পাঠ ঢুকে না পরে সেদিকে নিশ্চয়ই খেয়াল রাখা দরকার। আমি এই অনুবাদে সেটা খেয়াল রাখতে চাই, কিন্তু আমার অসতর্ক মুহূর্তে এবং বেখেয়ালে যে তেনমটা ঘটবে না–তার নিশ্চয়তা দেয়া খুব কঠিন। সেজন্যে বন্ধুদের কাছে আগেভাগেই অনুরোধ জানিয়ে রাখি: তেমন কিছু নজরে পড়লে আমার সমালোচনা করে (প্রয়োজনে তুলোধুনো্ও করতে পারেন) সংশোধন করে দিন। আপনারা নিন্দা এবং তারিফের মাধ্যমে আমাকে যারা অনুপ্রাণিত করছেন, তাদের সবার কাছেই আমার কৃতজ্ঞতা।

  17. anisuz zaman says:

    yusuf reza, the spanish word is “diafanas”. it is very dificcult to find correct word. the closest will be pullucid, or lucid or diaphanous. in bangla i could say “sphotic shacho jol”.

  18. Khaleda Khan Bithi says:

    সুপ্রিয় অনুবাদক আমি বিশ্বাস করি যে, আলোচনা বা সমালোচনার প্রতি নজর দিয়ে আপনি সাবলীল অনুবাদ উপহার দিতে ভুল করবেন না নিশ্চই! আপনার প্রথম কিস্তিতেই যে পক্ষবিপক্ষ যুক্তিতর্ক তাতে পরের কিস্তিগুলিতে কি হয় তাই নিয়ে কৌতুহলী! আপনার সুন্দর অনুবাদের জন্য আপনাকে অভিনন্দন, পরের কিস্তি দ্রুত পাব বলে আশা রাখি।

  19. আশেক ইব্রাহীম says:

    লীনা দিলরুবা,
    আমার মতামত কর্তৃত্ববাদী বলে আপনি অভিযোগ করেছেন। আর আপনার নিজের কথাগুলো প্রকাশ করা সৌভাগ্য বলে মনে করেন লিখেছেন। এই বৈষম্যের কারণটা সম্পর্কে একটু ভেবে দেখবেন দয়া করে।

    আপনি একটি উদ্যোগকে শুরুতেই বিনষ্ট করতে উদ্যত হবেন–এটা আশা করিনি বলেই বলেছি, ‘এই আলোচনা অপ্রাসঙ্গিক’। আপনি যদি এই অনুবাদের ত্রুটি নিয়ে কথা বলতেন, যেমন অনেকেই অনুবাদের ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করেছেন, তাহলে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ শব্দটা হয়ত লিখতাম না।

  20. পানকৌড়ি says:

    আপনার অনুবাদ আমার কাছে অনেক সহজ বোধ্য এবং সাবলীল মনে হয়েছে । পরবর্তী পরবের অপেক্ষায় রইলাম ।

  21. Golam Hossain Habib says:

    কথিত আছে গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস রচিত ‘Cien años de soledad’ -এর “Gregory Rabassa” কৃত ইংরেজি অনুবাদ “One Hundred Years of Solitude”-কে স্বয়ং মার্কেস মূল রচনার চাইতে ভালো বলেছেন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার সাহিত্যিক André Brink তাঁর দীর্ঘ প্রবন্ধ ‘Making and Unmaking. Gabriel García Márquez: One Hundred Years of Solitude’-এর শেষে টীকায় বলছেন “All the references to the English text are to the felicitous if flawed translation by Gregory Rabassa in the Picador edition (London, 1978).”

    তার মানে, সেই বিশ্বনন্দিত অনুবাদেরও ভুল ধরা পড়েছে তাঁর কাছে, হয়ত আরো অনেকের কাছে। সম্ভবত তাতে অনুবাদটি সাহিত্যাঙ্গনে অপাংক্তেয় হয়ে যায়নি। কাজ করলেই ভুল হয়, না করলে হয় না। আর যিনি বা যাঁরা ভুল ধরেন তাঁরাও তা করতে গিয়ে ভুল করেন মাঝে মাঝে।

    “One Hundred Years of Solitude” অনুবাদে আমার অতি ক্ষুদ্র, তুচ্ছ ও — আশংকা করি — বৃথা প্রয়াসে এরকম শত শত ভুল আছে নিশ্চয়ই। সেসব যাঁরা ধরিয়ে দিয়েছেন — রবিন পাল তাঁদের অন্যতম — তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। সেসব ত্রুটিনির্দেশ-এর মধ্যে যেগুলো যৌক্তিক মনে হয়েছে সেসব আমি পরবর্তী সংস্করণে শুধরে নেয়ার চেষ্টা করেছি, এবং সেচেষ্টা আমার অব্যাহত আছে। আর আমি এই কথাটি আগেও দুএক জায়গায় বলেছি যে, কেন যেন এই উপন্যাসের একটি বাক্যের অনুবাদেও আমি সন্তুষ্ট নই, মনে হয় যেন সেগুলো ভালো করার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। যাই হোক, কিন্তু যতদূর মনে পড়ে রবিন পাল তাঁর লেখায় আমার ব্যবহার করা ‘পানি’, ‘খালা’, ‘পেশাব’ শব্দ নিয়েও আপত্তি তুলেছিলেন এই যুক্তিতে যে এগুলো বুঝতে কারো কারো অসুবিধে হতে পারে, এগুলো একটু অপ্রচলিত। আমি তাঁর এই বিজ্ঞ মত মানতে পারিনি। শব্দগুলো তাই বদলে দেয়ার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করিনি।

    আর আমাদের দেশের বাংলা অনুবাদের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমার কিছু বক্তব্যের একটি হচ্ছে, আমার ধারণা, যেসব কাজের বাংলা অনুবাদের মান খুব খারাপ নয়, সেসব ফের অনুবাদ আমাদের অন্য বিলাসিতা। যে-বিলাসিতা ইংরেজি এবং আরো গুটিকতেক ভাষার লোকজন করতে পারেন। এখনো যে কত সহস্র কাজের বাংলা অনুবাদ দরকার তার যে ইয়ত্তা নেই! তবে, অনুবাদটি যদি মূল ভাষা থেকে না হয়ে থাকে অথবা কাজটি সম্পর্কে যদি অনুবাদকের বিশেষ দুর্বলতা থাকে সেক্ষেত্রে রচনাটি দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার অনুবাদে আমার অন্তত আপত্তি নাই। আর তাই আনিসুজ্জামানের অনুবাদ প্রচেষ্টাকে আমি সাধুবাদ জানাই, ও তাঁর সাফল্য কামনা করি। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

  22. shuvro says:

    Kobe sesh hoibo?? Tor shoite partesina :(

  23. mostafa tofayel says:

    Lima,on Aug 14’2014 has provided a list of Bengali translation of Rubaiat.Parbati Charan Chatterjee and Nurunnahar Begun from Dhaka Varsity and Mostafa Tofayel from Rangpur are among the 33 translators of Rubaiat whose names she has failed to name.But,not the number of translations that matter. What matters really is the quality Anisuzzaman is committed to,and that is really being done.Hail Anisuzzaman go on with it.

  24. Md. Shohel Rana says:

    “One Hundred Years of Solitude” is a mirror of this century of literature.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.