ঝুম্পা লাহিড়ীর উপন্যাস দ্য লোল্যান্ড

মোস্তফা তোফায়েল | ৩ জুন ২০১৪ ১১:৪৬ অপরাহ্ন

jhumpa-lahiri.jpgঝুম্পা লাহিড়ি ভারতীয় ঔপন্যাসিক। পুলিৎজার প্রাইজ, হেমিংওয়ে অ্যাওয়ার্ড, ফ্রাংক ও’কনর আন্তর্জাতিক ছোটগল্প অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। তিনি অ্যামেরিকা প্রবাসে আছেন। মাতৃভূমি ভারতের প্রতি তাঁর শেকড়বাঁধা টান। ইন্টারপ্রেটা(র) অব ম্যালাডিজ, দ্য নেইমসেইক, আনঅ্যাকাস্টম্বড্ অ্যার্থ— তাঁর তিনটি উপন্যাস, এবং সর্বশেষ দ্য লোল্যান্ড, যার প্রকাশক র‌্যানডম হাউজ ইন্ডিয়া, সাল ২০১৩। ২০১৩-র জুন মাসে নিউইয়র্কার পত্রিকায় দ্য লোল্যান্ড -এর অংশবিশেষ প্রকাশিত হয়েছিল। এটি একটি উপন্যাস।

কলকাতা নগরীর টালিগঞ্জের দুই ভাই: সুভাষ ও উদয়নকে ঘিরে দ্য লোল্যান্ড-এর কাহিনি। ছোট ভাই উদয়ন, তার স্ত্রী গৌরী এবং গৌরীর কন্যা বেলা কাহিনিকে ক্রমাগত টেনে নিয়ে যায়। পূর্ববর্তী চরিত্রগুলোর প্রভাবক ভূমিকা পরবর্তীতে সম্প্রসারিত হয়। চারু মুজমদারের নক্সালবাড়ি আন্দোলন প্লট আকারে থাকে, তবে শেষ পর্যন্ত সে আন্দোলনের রেশ ফিকে হয়ে আসে উপন্যাসের বয়ানে। অ্যামেরিকাপ্রবাসীদের মনোভূমির মরুময়তা জায়গা নেয় টালিগঞ্জের জলাভূমির উপরে। সমীকরণ জায়গা বদল করে ইতিহাস থেকে ভূগোলে, ভূগোল থেকে মনস্তত্ত্বে। লোল্যান্ড হয়ে যায় একুশ শতকী ওয়েস্টল্যান্ড। উপন্যাসে বিধৃত সময় পরিধি প্রায় আধা শতাব্দীকাল: ১৯৬০ থেকে ২০১০। ভূ-রাজনীতির নাগরদোলাগুলো, যথা: চীনা কমুনিস্ট বিপ্লব, ভিয়েতনাম যুদ্ধ ও সেখানে আমেরিকানদের মাইলাই হত্যাকাণ্ড, একাত্তরের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ, ভারতে ইন্দিরা গান্ধীর শাসন ও কম্যুনিস্ট দমন, কিউবায় ডানদের ওপর বামদের হামলা ইত্যাদি। সাম্প্রতিক রাজনীতির ইস্যুগুলো সমাজচেতনার উপাদান হয়ে দাঁড়ায়। প্রচুর বাংলা নাম, বাংলা শব্দ আছে এতে: প্রতিমার নাম দুর্গা, সরস্বতী; ফুলের নাম বেলা; পরিধেয় বস্ত্রের নাম শাড়ি, লুঙ্গি; খাবারের নাম ভাত, ডাল, আলুভর্তা; বাজারের নাম বালিগঞ্জ, টালিগঞ্জ ইত্যাদি।

উপন্যাসটির উৎসর্গপত্রে দিল্লীর মোগল রাজকন্যা জাহানারার এপিট্যাফের মতো একটি উচ্চারণ আছে, যা এর মর্মকথার দিকে তর্জনিসংকেত দেয়:

আমি যেন ফিরে আসি আমার জন্ম শহরে; আর
আমার শেষ শয্যা যেন হয় উঁচু সাগরের
উষ্ণ জলে স্নাত দূর্বাঘাসে ঢাকা সমাধিপ্রস্তর।

৩৪০ পৃষ্ঠার উপন্যাসটি ৮ অধ্যায়ে বিভক্ত। চার প্রজন্মের আট চরিত্রের পরিবেশন এর কাহিনিকে এক শহর থেকে আরেক শহরে, এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে এবং এক দর্শন থেকে আরেক দর্শনে টেনে নিয়ে যায়। তবে, উদয়ন নামের একটি চরিত্র মানবিক আকর্ষণের তারে বেঁধে রাখে সকলকে। উপন্যাস শেষ হয় পরদেশে অর্থবিত্তজাত দৈহিক নিরাপত্তাক্ষুধাকে ধিক্কার জানানোর সর্বশেষ সংবাদ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে।

দুই ভাই: সুভাষ শান্তশিষ্ট, মেধাবী, ভ্রাতৃপ্রবণ, আত্মীয়বৎসল। উদয়ন সাহসী, চঞ্চল, খোলোয়াড়ি, ভ্রাতৃপ্রবণ, বহির্মুখী, ঝুঁকি ও ত্যাগে অগ্রগামী, বিপ্লবী। দুই ভাই দুই বন্ধু। এক আত্মা, পরিপূরক সম্পূরক।

‘সুভাষের বয়স তেরো; সে উদয়নের চেয়ে পনেরো মাসের বড়ো। কিন্তু উদয়ন ছাড়া তার একার অস্তিত্ব সে খুঁজে পায় না। শৈশবের একেবারে প্রথম পর্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত দিনগুলো থেকে আজ পর্যন্ত, প্রতিক্ষণে প্রতিটি ঘটনায় উদয়ন তার সঙ্গে, তার সত্ত্বায় উপস্থিত।’ (পৃঃ ৬)

দুই ভাইয়ের ভ্রাতৃবন্ধন শৈশব থেকেই। অনড়, অভঙ্গুর, অনাবিল। পুলিশ যখন টেনিস মাঠের দেয়াল টপকানোর অভিযোগে সুভাষের পিঠে ছেঁড়া তারের ঘা মারছিল, উদয়ন এগিয়ে যায় পুলিশের দিকে, বলে থামুন। সে ঝাঁপ দিয়ে সুভাষকে জাপ্টে ধরে, সুভাষের কাঁধের উপর দু’হাত ছড়িয়ে দেয়, ঢাল হয়ে সুভাষকে আড়াল করে। সুভাষ ভয়ে ও ব্যাথায় কাঁপছিল। দু’ভাই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে। (পৃঃ ৯)

দু’জনের দেহের গড়ন এক, ঢেউ খেলানো ঘন চুলের বাহার এক, দাবার বোর্ডে থুতনিতে ঠেস দিয়ে বসার ধরন এক। স্কুলের ক্লাসরুমে রোলকলের উত্তরে একই কণ্ঠস্বর। বাবার দেহের শক্ত গাঁথুনি, তামাটে রঙ দু’জনে একইভাবে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। দু’জনের মানসিক গড়নে ব্যবধান যথেষ্ট, কিন্তু শারীরিক বৈশিষ্ট্যে খুবই সমান্তরাল ওরা। দু’জনই টালিগঞ্জের জলাভূমির পাড়ে মাঠে ফুটবল খেলে; মাঝ মাঠের খেলোয়াড় ওরা। তবে, উদয়নের পা খুব চট্পটে, তুখোড়। সে অপ্রতিরোধ্য। সুভাষ তাকে বল যোগান দেয়। ওয়ান-টু-ওয়ান করে। ওরা ফুটবল ভক্ত। এক সাথে বিশ্বকাপ ফুটবল টিভির পর্দায় উপভোগ করে। চুরি করে এক সাথে সিগারেট খায়। যুবক বয়সে দাঁড়ি কামানোর পর আয়নার সামনে ওরা দু’ভাই অদলবদল করে পানি গরম করে আনে। দাঁড়ি কামানোর পর ভাত, ডাল ও আলুসেদ্ধ খেয়ে পাড়ার মসজিদের পথ বেয়ে শহরে প্রবেশ করে। শহরে বড়ো রাস্তার মোড়ে গিয়ে যার যার বাসে উঠে ওরা ভিন্ন ভিন্ন কলেজে চলে যায়। ভ্রাতৃসুলভ মমতাময় সম্পর্কে তারা একে অপরের কণ্ঠলগ্ন, কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গন্তব্যের ব্যবধানে ভিন্ন পথের অভিযাত্রী।

সুভাষ টলিগঞ্জ ক্লাবের মাঠে পাখির কলকাকলি, সবুজের সমারোহ, শেয়ালের হুক্কাহুয়ার সাথে সাথে গল্ফ্ বলের পকেটে-পড়া উপভোগ করে। কিন্তু উদয়ন টালিগঞ্জ ক্লাব চত্বরকে ট্রাম-ডিপো যাওয়া-আসার পথে একটা বাঁধার প্রাচীর বিবেচনা করে। কলকাতার শিশুরা বস্তির গলিতে জন্মে, রাস্তায় খেলে, নর্দমার পাড়ে বড়ো হয় আর গুটিকয় মানুষ গল্ফ্ খেলবে বলে বিশাল জায়গা জুড়ে মালিকানা নিয়ে আছে। উদয়নের মতে ইংরেজ চলে গেছে কিন্তু ভারত সরকারের ঔপনিবেশী মানসিকতা রয়েই গেছে। সে বলে, চে গুয়েভারা আর্জেন্টিনায় গল্ফ্ খেলার বিরোধিতা করেন, কিউবা বিপ্লবে গল্ফারদের তাড়িয়ে দেয়ার আন্দোলন করেন। (পৃষ্ঠা ২৫)

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সুভাষ বৃত্তি নিয়ে অ্যামেরিকার রোড্স্ আইল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছে। তার গবেষণার বিষয় সমুদ্রতত্ত্ব। উদয়ন কলকাতাতেই আছে, মার্ক্সবাদী বিপ্লব করে। সে চারু মজুমদারের নক্সালবাড়ি বিপ্লব সমর্থন করে। সাম্যবাদী সমাজ তার কাম্য। উদয়ন একটা ছোট চাকুরি করে। গৌরী নামের এক শীর্ণকায়া, আয়তনেত্রের মেয়েকে ভালোবেসে বিয়ে করে সে। মেয়েটি স্বল্পভাষিণী। তার দৃষ্টি গভীর, সে মেধাবী। দর্শনশাস্ত্রের ছাত্রী। সুভাষ চিঠিতে সে খবর পায়, আশ্চর্য হয়। ছোট ভাই উদয়ন আগেই বিয়ে করে ফেললো। শুধু তাই নয়, সে আগেই সন্তানের বাবা হওয়ার পথে। সুভাষ ডাকযোগে পাওয়া গৌরীর ছবি ড্রয়ার খুলে বের করে দেখে। উদয়নের অগ্রণী ভূমিকায় সে থম্কে দাঁড়ায়। ব্যক্তিগত জীবনে সে ছোটভাইয়ের কাছে হেরে গেছে। ছোট ভাইয়ের বউটি কেমন, দেখার জন্য সে উদগ্রীব হয়।

একজন অ্যামেরিক্যান মহিলা, নাম তার হোলি, সুভাষের সান্নিধ্যে আসে। সুভাষের কোনো আবেগ তাকে ঘিরে সৃষ্টি হয় না। কিন্তু এরই মধ্যে সেই মহিলা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে তার সাথে দৈহিক মিলন ঘটায়। সুভাষ বিষয়টা বুঝতেই পারে না। এটা সে উপভোগ করেছে না-কি করেনি, তা তার উপলব্ধিতে আসে না। হোলি একজন তালাকপ্রাপ্ত মহিলা। কিন্তু এখনও সে তার বিচ্ছিন্ন স্বামীর সাথে দাম্পত্য আলাপ আলোচনা করে, মেলামেশা করে। সুভাষ এরকম সম্পর্ক ঘৃণার চোখে দেখে। হোলি হৃদয় দিয়ে কোনো সম্পর্ক রক্ষা করে চলে না। তার সবই বাহ্যিক, সবই অন্তঃসারশূন্য। (পৃঃ ৭৩)

উদয়নের বাড়ির পেছনেই জলাভূমি। নক্সাল আন্দোলনে জড়িতদের এই জলাভূমির পাড়েই পুলিশ গুলি করে মারে। উদয়ন দিন কয়েক আগে এক পুলিশ-হত্যায় সহযোগিতা করেছে। তার নক্সালী সাথীরা যখন সেই পুলিশের পেটে চাকু বসিয়ে দেয়, উদয়ন তখন পাশেই ছিল। সে নিহত পুলিশের রক্তে তার হাতের পাঞ্জা রঞ্জিত করেছে এবং সেই রক্তের অক্ষরে দেয়ালে লাল স্লোগান লিখেছে। বোমা বানাতে গিয়ে তার হাতের কব্জি পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সে মাওবাদী নক্সালীদের গুরুত্বপূর্ণ কর্মী। পুলিশ বাহিনী ওদের বাড়ি ঘেরাও করা মাত্র সে গৌরীর সহযোগিতায় বাড়ির পেছনের দেয়াল টপ্কিয়ে দৌড়ে গিয়ে ওই জলাশয়ে ডুব মেরে ছিল। পুলিশ ওদের বাড়ির সব ক’জন লোককে ধরে নিয়ে গেছে। গৌরীর কণ্ঠনালীতে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে ধমক দিয়ে উদয়ন কোথায় তার হদিস চেয়েছে। গৌরী মুখ খোলেনি। পুলিশের চোখেই জলাশয়ের কচুরিপানার নড়াচড়া ধরা পড়েছে। উদয়নকে মাইকযোগে গুলির ভয় দেখালে সে তীরে ভেড়ে এবং বন্দি হয়। বাড়ির সব সদস্যের সামনেই পুলিশ তাকে গুলি করে মারে। বুকের উপর পরপর তিনটি গুলি। পরবর্তী পর্যায়ে পুলিশ আবারও ঘেরাও করেছে ওদের বাড়ি; গৌরী নক্সালী আন্দোলনে জড়িত ছিল কি-না, তা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পুলিশের গুলিতে উদয়নের মৃত্যুতে টালিগঞ্জের জলাভূমির পার্শ্ববর্তী লোকালয়গুলোতে ব্যাপক সাড়া পড়ে। আশ-পাশের ভবনগুলোর ছাদে দাঁড়িয়ে পাড়ার লোকেরা সেই ভয়াবহ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে। ঘটনার আকস্মিকতায় তারা হতভম্ব হয়ে যায়। কাকের দল কাকা শব্দে দিকবিদিক তোলপাড় করে তোলে। উদয়নকে যে জলাভূমিতে পুলিশ হত্যা করেছে, সেই জলাভূমি ঐ পরিবারের সদস্যদের মন থেকে মুছে যায় না কিছুতেই। গ্রামবাসী জনগণও অনেকদিন স্মরণ করে সেই দৃশ্য, জলাভূমির নির্দিষ্ট সেই জায়গাটা স্মরণ করে যেখানে উদয়ন গুলিতে প্রাণ হারায়। পুলিশী নিষ্ঠুরতার প্রতিধ্বনি ফুটে ওঠে কাকের কণ্ঠের ক্রুর কর্কশ ধ্বনিতে: by the sound of crows, coarsely calling, scattering। ‘ক’ ও ‘র’ ধ্বনির পৌনঃপুনিক ব্যবহারে ঝুম্পা লাহিড়ী সেই কর্কশতা ব্যঞ্জিত করেন। (পৃঃ ১০৫)

সস্তা রাজনীতি দিয়ে দেশ উদ্ধার হয় না, সমাজ বদলের সম্ভাবনা দেখা দেয় না। আবেগপ্রবণ ও চঞ্চল অথচ মেধাবী তরুণরা এতে মোহগ্রস্ত হয়, দলে দলে যোগ দেয়, অন্ধের মতো লাফিয়ে পড়ে মৃত্যুর জলাভূমিতে। নক্সালী আন্দোলন নামক ভারতীয় রাজনীতির সেই অধ্যায়কে এভাবে বিপজ্জনকরূপে চিহ্নিত করেন ঝুম্পা লাহিড়ী। মনে হয়, এখানেই গল্পের চরম উৎকর্ষ; নীতিকথাটি হয়তো এ-জায়গাতেই আছে। কিন্তু, এই উপরিকাঠামো শুধু সামনে। এরপর প্লট সম্প্রসারিত হয় অ্যামেরিকায়। অন্তরালে দৃশ্যায়িত হয় ধনিক-বণিক দেশের অর্থ-জাদুমুগ্ধ মানুষের আত্মিক ও মনোজাগতিক মৃত্যুর করুণ চিত্র। টলিগঞ্জের শ্মশান যদি হয় দৈহিক মৃত্যুদৃশ্যের বধ্যভূমি, পাশ্চাত্য সভ্যতার ব্যক্তিক অন্তঃসারশূন্যতা ও হৃদয়হীনতা, স্বার্থপরতা এবং বিচ্ছিন্নচিত্ততাকে বলতে হবে মনোজাগতিক মরুভূমি।

বড়ো ভাই সুভাষ কর্ম-ব্যাপদেশেই থাকে অ্যামেরিকার রোড্স্ আইল্যান্ডে। বিধবা, সন্তানসম্ভবা গৌরীকে সে প্রাণে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজনেই বিয়ে করে নিয়ে যায় সেখানে। কিন্তু সুভাষের মন পড়ে থাকে মাতৃভূমি ভারতে, কলকাতার টলিগঞ্জের বাড়িতে। নিহত ছোট ভাই উদয়নগত প্রাণ সে। উদয়নের ঔরসজাত সন্তানের গর্ভধারিনী গৌরীকে সে নিজের কাছে নিয়ে যায় তাদের নিরাপদ আশ্রয় রচনা করার সদিচ্ছায়। উদয়নের সন্তান তারই সন্তান, সুতরাং উদয়নের স্ত্রীও তারই স্ত্রী। উদ্দেশ্য, উদয়নের সন্তানকে নিজের কাছে টেনে নেয়া, নিজের কোলে-পিঠে মানুষ করা, পিতার অনুপস্থিতি বুঝতে না দিয়ে আগামি প্রজন্মকে স্বনির্ভর করে তোলা। নিজে দায়িত্ববোধসম্পন্ন হয়ে নতুন প্রজন্মের নিরপরাধ প্রতিনিধিকে দায়িত্বজ্ঞান দান করা। সুভাষ ভারতবর্ষীয় উপমহাদেশিক মূল্যবোধ থেকে তাই করতে সক্ষম হয়, মূল্যবোধ বিস্মৃত হয় না। কিন্তু গৌরী আক্রান্ত হয় পাশ্চাত্য হৃদয়হীনতা, স্বার্থপরতা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিকাতায়। সে তার লম্বা চুল ছেঁটে খাটো করে ফেলে, ঢিলে ও খোলা কামিজ এমনভাবে পরে যে দেহরতেœর পার্শ্বরেখা এবং তলপেটের ওঠানামা সবার চোখে পড়ে। সুভাষ তাকে জিজ্ঞেস করে:

চুল খাটো করেছো কেন?
তার উত্তর : লম্বা চুলে আমি বড়ো ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।
তোমার পোশাক?
লম্বা পোশাকেও আমার খুব অস্বস্তি! (পৃঃ ১৪১)

অনেক সাগর মহাসাগর মহাদেশের ব্যবধানে চলে যাওয়ায় গৌরীর মন থেকে টালিগঞ্জের সব স্মৃতি ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসে। সে শুধু একটু একটু মনে করতে পারে যে টালিগঞ্জে কেউ কেউ ছিল, যারা একদা আত্মীয় পরিচয়ে পরিচিত হয়েছিল। আর কিছু নয়। (পৃঃ ১৫২)

উদয়ন ও গৌরীর কন্যা বেলা। বেলা সুভাষকেই বাবা হিসেবে জানে। গৌরী হঠাৎ একদিন বেলা ও সুভাষকে ছেড়ে চলে গেছে। ক্যালিফোর্নিয়া। সুভাষ আশ্চর্য হয়েছে, কিন্তু বেলাকে মানুষ করার দায়িত্বটি পালন করে চলেছে। একবার বেলাকে নিয়ে সুভাষ কলকাতা ও টালিগঞ্জ ঘুরেও গেছে। শেকড়ের সাথে বাঁধন টিকিয়ে রেখেছে। গৌরী টেলিফোন সংযোগটিও রাখেনি। কোনো খোঁজখবর নিতে চায়নি।

ক্যালিফোর্নিয়া হয়ে উঠেছে গৌরীর একমাত্র বাসভূমি। অধুনা তার অন্য কোনো বাসভূমি নেই, ছিল না, অতীত নেই, ছিল না। সম্পর্ক নেই, যোগাযোগের প্রয়োজনও নেই। উদয়নকে সে ভুলে যেতে চায়। ক্যালিফোর্নিয়ার জলবায়ুর সাথে সে মানিয়ে নিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার জলবায়ু অন্যরকম কিন্তু আরামদায়ক। এর বাতাস তপ্ত, কিন্তু আক্রমণাত্মক নয়; এর মাটি অনুর্বর কিন্তু জলাশয়ের পরিবেশের মতো স্যাঁতস্যাঁতে নয়। সেখানে শীতের কুয়াশার স্বল্পতা, বৃষ্টিশূন্যতা, লু-হাওয়া। এসব সে সকৃতজ্ঞচিত্তে গ্রহণ করে নিয়েছে। গৌরীর মতো আরো অনেক ক্যালিফোর্নিয়াপ্রবাসীই সেখানকার অর্থবিত্তস্বার্থসম্পন্ন পরিবেশের আকর্ষণে খুশি; ওরা আর কখনোই দেশে ফিরে যেতে চায় না। কোথায় তাদের জন্মভূমি, কে তাদের ক্যালিফোর্নিয়ায় পাড়ি জমানোর মতো সামর্থবান করে তুলেছিল-এসব কথা আর কখনোই ভাবনা-চিন্তায় আসে না। বরং যখন কোনো সম্মিলনীতে প্রবাসীরা একত্রিত হয়েছে, গৌরী ক্যালিফোর্নিয়ায় যেতে পেরে কত ধন্য, তা-ই প্রকাশ করেছে। (পৃঃ ২৩৫)

উদয়নের কন্যা বেলা গর্ভধারণ করেছে। বাবা হিসেবে সুভাষ বেলাকে জিজ্ঞেস করে তার সন্তানের জন্মদাতা কেমন মানুষ। বেলা বলে যে সে তার (সুভাষের) মতো নয়, এবং তার পরিচয় বিষয়টাও গুরুত্বপূর্ণ নয়। সে তেমন সুযোগ্য ব্যক্তিই আদৌ নয় যে তার পরিচয় প্রকাশ করা যাবে। বেলা জানায় যে সে একটি সন্তানের মা হতে চেয়েছে, সেজন্য কোনো এক পুরুষ প্রাণীর সাথে এক বছর বা এক সন্ধ্যা অথবা একঘণ্টা ঘনিষ্ঠ হয়েছে এবং গর্ভে একটি সন্তান এসেছে- এটাই যথেষ্ট। সুভাষ স্তম্ভিত হয়। সে বেলাকে বলে যে একা একটি সন্তান মানুষ করা বড়ো শক্ত কাজ। বেলা সুভাষকেই দৃষ্টান্ত খাড়া করে জানায়, বাবা (সুভাষ) যেমন পেরেছে, মেয়ে তেমনই পারবে। সুভাষ বোবা বিস্ময় প্রকাশ করে। বেলা তাকে জানায় যে সে একজন গর্বিত মা হবে; সে প্রমাণ করবে যে সে গৌরীর মতো মা হবে না। এটা প্রমাণ করার জন্য সে আকস্মিকভাবে মাতৃত্ব বরণ করে নিয়েছে। (পৃঃ ২৬৫)
পরে একদিন বেলা সুভাষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলে যে উদয়ন তার বাবা, সে নিজে তার বাবা নয়, একথা জানিয়ে সে (সুভাষ) খুব ভালো কাজ করেছে। এ-খবরটা তার খুব উপকারে লাগবে; এ ব্যাপারে আর বেশি কিছু জানার তার প্রয়োজন নেই। বেলা তার প্রকৃত পিতা উদয়নকে ‘উদয়ন’ সম্বোধনেই এসব কথা বললো। এবং তার নিজের সন্তান যখন জন্ম নিলো, তখন তাকে আরো অধিক স্নেহশীল মন নিয়ে লালন পালন করার প্রেরণা পেলো। সন্তানটা কার ঔরসজাত, পাশ্চাত্যে এটা বড়ো বিষয় নয়; সন্তানটা সঠিক যত্নের সাথে বড়ো হয়ে উঠছে কি-না, এটাই বিষয়। (পৃঃ ২৭১)

গৌরী ক্যালিফোর্নিয়ায় বসে অন-লাইন সার্চ ইঞ্জিনে উদয়নকে খোঁজে; কিন্তু উদয়নের কোনো নাম-পরিচয় আসে না। বেলাকেও খোঁজে, কিন্তু সার্চ ইঞ্জিন এবারেও ব্যর্থ। মনিটরের পদায় ওদের কোনো ছবি ভেসে ওঠে না। সার্চ ইঞ্জিন এখানে অ্যামেরিকান যন্ত্রসভ্যতার প্রতীক: সাইন্টিফিক-ডেমোক্রেটিক-হিটারোজেনাস। উদয়নের নাম মনের পর্দায় থাকার কথা, মনিটরের পর্দায় তা থাকবে কি করে? একদা গৌরী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে কোনো আত্মীয় তাকে দেখতে আসে না। হাসপাতালের নার্স, ডাক্তার ইত্যাদি তার সেবাযত্ন করেছে। লোকে জিজ্ঞেস করলে গৌরী সচরাচর বলেছে যে তার কোনো সন্তান ইত্যাদি নেই। তবে আজ অসুস্থ অবস্থায় বলেছে যে তার একটি কন্যা আছে, নাম বেলা। বলার পর হেসেছে, অনেক হাসির পর মন্তব্য করেছে–আজকাল ছেলেমেয়েরা নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত থাকে; কারো কথা তাদের মনে থাকে না। (পৃঃ ২৮৫)

ধনিক-বণিক অ্যামেরিক্যান সমাজে এভাবেই আত্মীয় বিযুক্ত হয়ে যায় আত্মীয় থেকে। শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে মানুষ আত্মিক নিরাপত্তা হারিয়ে ফেলে। সেখানে হাসপাতাল পাওয়া যায়, আত্মার আত্মীয় পাওয়া যায় না। বন্ধুসভা আছে, নেই আত্মীয় পরিজন। সামাজিক নিরাপত্তা আছে, নেই রক্তের সান্নিধ্যের শিহরণ। যন্ত্রপরিশ্রুত পরিমিত জল আছে, নেই প্রস্রবণনিঃসৃত অনন্ত আনন্দধারা। সেখানে দেহ বেঁচে থাকে আত্মাহীন, আত্মা পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় খোঁজে প্রাচ্যের কোনো পশ্চাৎপদ জলাশয়ের কিনারায়।

দেহের ভেতরে আত্মার অস্তিত্ব ফিকে হয়ে গেলে গৌরী একদিন হঠাৎ পৌঁছে যায় রোড্স্ আইল্যান্ডে, সুভাষের বাসায়। বেলার মেয়ে মেঘনা তার নাত্নি, তখন শিশু। সে ছবি আঁকছিল। মেঘনার সাথে এটা-ওটা কুশল বিনিময় করছিল গৌরী।

মেঘনার প্রতি গৌরীর প্রশ্ন : মেঘনা, তোমরা এখানে বেড়াতে এসেছো, না-কি এখানে থাকো?
মেঘনা এ-প্রশ্ন শুনে হাসে। বলে, হ্যাঁ, অবশ্যই। আমরা তো এখানেই থাকি।
গৌরীর প্রশ্ন : তোমার বাবা সাথে থাকেন?
মেঘনা : আমার কোনো বাবা নেই। তুমি কে?
গৌরী : আমি তোমার …………..

এ-মুহূর্তে বেলা তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে, ‘মাসি’। বেলা গৌরীর মুখের দিকে তীব্র ধারালো দৃষ্টিতে তাকায় এবং তার কথা বলা থামিয়ে দেয়। বেলার এই বিদ্রুপের ছুরি যেন গৌরীর কল্জে ফুটো করে বেরিয়ে যায়। গৌরীর মনে হয় ক্যালিফোর্নিায়ার মাটিতে ভূমিকম্পের কাঁপন লেগেছে; টেবিলের ওপর রাখা চায়ের কাপটি ঠ্ক ঠ্ক করে কাঁপছে ও নড়ছে। বেলা মেঘনাকে শুনিয়ে বলে:

এই মহিলা তোমার বান্ধবী; সে-হিসেবে তোমার ঠাকুরদি। তোমার দাদীর মৃত্যুর পর আমি তাকে আর কোনোদিন দেখিনি।

নিজের কানে নিজের মৃত্যুসংবাদ শুনে অপমানিত গৌরী বসে বসে ভাবছে চল্লিশ বছর আগের কথা। এই ঘরই একদিন ছিল তার পড়ার ঘর। বেলা তখন ছোট ছিল। এখন এ-ঘর পর, মেঘনার খেলা করার ঘর। যে দিন সুভাষ ও বেলাকে ফেলে রেখে সে চলে যায়, আত্মীয় হয়ে থাকার অধিকার সেদিন সে হারিয়ে ফেলেছে। গৌরী উঠে দাঁড়ায়, ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে নেয়। চলে যাবে বলে। বেলা তা’কে থামিয়ে দেয়। বলে, ‘দাঁড়াও’!
(পৃঃ ৩১৩)

এই মুহূর্তে নেমে আসে ঘটনার চরম উৎকর্ষ, উচ্চারিত হয় আক্রমণের শীর্ষ বাক্য। বেলা এগিয়ে যায় গৌরীর মুখোমুখি। সে বুক চেতিয়ে দাঁড়ায় গৌরীর বুকের কাছে। এত কাছে যে গৌরী এক কদম পিছু হটে। বেলা হাত উপরে তোলে; গৌরীর মনে হয় বেলা তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবে।

এই যে মুখোমুখি হওয়া এটাই দ্বন্দ্বের চরম মুহূর্ত। গৌরী যে সনাতনী মূল্যবোধ ভেঙে ফেলে চলে গিয়েছে, তারই কঠোর প্রতিবাদ। বেলা গৌরীকে প্রশ্ন করে। ফিসফিস্ কণ্ঠের একটু চড়া সুরে গৌরীকে সে প্রশ্ন করে:

কোন সাহসে তুমি এখানে এসেছে ? এই বাসায় ?
ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ে বেলার কণ্ঠে:
তুমি এখানে কি জন্যে এসেছো ?
গৌরী তার পিঠের খুব কাছে একটা দেয়াল অনুভব করে। সেই দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়ায়।
গৌরী মৃদু পরাজিত কণ্ঠে উত্তর দেয় :
আমি এসেছি তোমার বাবাকে এই কাগজগুলো দিতে আর….
আর কী ?
আর তোমার খবর নিতে।
তুমি আমার বাবার সরলতার সুযোগ নিয়ে তাকে ঠকিয়ে চলে গেছো।
আমার ভুল হয়েছে, বেলা ! আমি বলতে এসেছি যে……
বেলা ধমকের সুরে বলে, যাও এখান থেকে! বেরিয়ে যাও! যেটা তোমার বেশি প্রয়োজন
সেখানে যাও ! আমি তোমার মুখ দেখতে চাই নে ! আমি তোমার কোনো কথা শুনতে চাই নে !
গৌরীর গলা শুকিয়ে যায়, গলায় ব্যথা অনুভব করে। ভাবে, একটু পানি পান করবে। কিন্তু, পানি চা’বে সে কার কাছে ? সে বলে:
আমি দুঃখিত, বেলা। তোমাকে আর কখনো বিরক্ত করবো না।
বেলা বলতে থাকে:
আমি উদয়নের সব ইতিহাস জেনে নিয়েছি। আমি জানি আমি কে।

গৌরী এবার থমকে দাঁড়ায়। উদয়নের নাম শুনে তার কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে যায়। তার আর কিছু না, বলার কিছু থাকে না। সমঝোতার সব রাস্তা সে-ই তো বন্ধ করে রেখেছে। সে এখন নিরুপায়! মুখ খোলে বেলা-ই আবার। বেলা বলতে থাকে:

আর কিছু করার নেই। তোমার ক্ষমা পাওয়ার কোনো পথ খোলা নেই।
তুমি আমার মা নও, তুমি কিছুই নও। শুনতে পাচ্ছে ? আমার কাছে উদয়ন যেমন মৃত তুমিও তেমনি মৃত। পার্থক্য একটাই যে তুমি আমাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে গিয়েছো ! (পৃ: ৩১৪)

ঝুম্পা লাহিড়ী বলেন, বেলা ঠিকই বলেছে। এর চেয়ে পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা দেয়ার আর কিছু নেই। মানুষ যখন মানুষের আত্মার আত্মীয়দের অবলীলায় ফেলে রেখে চলে যায়, তখন সে মানুষকে আর মানুষ বলা চলে না। সে আত্মীয়তাসম্পর্কশূন্য একটি নৈর্ব্যক্তিক প্রাণী মাত্র। সে মূঢ়, পাষ-, ইতর। সে অমানুষ। সে অন্য কেউ। তার অধঃপতন কেউ ঠেকাতে পারে না। সে অধঃপতন টালিগঞ্জের জলাশয়ের ধারে গুলিতে নিহত উদয়নের পতনের চেয়ে অনেক ভারী, অনেক মর্মান্তিক, অনেক অপ্রতিরোধ্য, অসংশোধনীয়। এই খাদ আত্মিক শূন্যতার খাদ, পোড়োভূমির খাদ, অতলগহ্বর খাদ। এই খাদে জল থাকে না। এই খাদও নিম্নভূমি, তবে এখান থেকে কেউ ফিরে আসে না। সে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সে বিচ্ছিন্ন, রিক্ত, শূন্য, ফাঁকা। সে অভিশপ্ত।

ঝুম্পা লাহিড়ীর লো ল্যান্ড-জলাভূমি এই নিম্নভূমি বা খাদ চিনিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্য সামনে রেখে রচিত একটি উপন্যাস।
Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (7) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Dr. Binoy Barman — জুন ৫, ২০১৪ @ ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন

      ঝুম্পা লাহিড়ীর উপন্যাস ‘দ্য লোল্যান্ড’-এর ওপর আলোচনাটি পড়ে ভালো লাগলো। এটি একটি সামাজিক-রাজনৈতিক-মনস্তাত্ত্বিক-নৈতিক উপন্যাস। ডায়াসপোরা সংকটের আভাসও এতে আছে। উপন্যাসের বিস্তৃত প্লটের প্রয়োজনীয় উদ্ধৃতিসহ বিশদ বর্ণনা-ব্যাখ্যার জন্য ইতিহাসবিদ-কবি মোস্তফা তোফায়েলকে ধন্যবাদ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Md. Nazrul Islam — জুন ৬, ২০১৪ @ ৬:০০ অপরাহ্ন

      The critical appreciation of Jhumpa Lahiri’s Low Land by Mostafa Tofayel must place him-the reviewer,as one good interpreter of modern literature. His discussion is text-based,unbiased and critical.It touches on the question of filial pity fallen in jeopardy due to diaspora settlements.What good can globalization bring when wives forget husbands,mothers forget babies, daughters and sons forget parents and everybody forgets everybody’s birthplace-the soil-the land,low or high/Many many thanks to the reviewer for introducing the wonderful novel.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন rahul — জুন ৭, ২০১৪ @ ৭:২০ অপরাহ্ন

      What a joy to have read such a fantastic book review by Mostafa Tofayel! This book review is the best I have read in my whole entire life. Mr. Mostafa Tofayel has given a new, interesting dimension of how a book review can lead readers know the whole book without actually taking the trouble of reading the whole volume. I congratulate Mr. Mostafa Tofayel on his epoch-making work. arts.bdnews24.com is very lucky to have an excellent contributor like Mostafa Tofayel. We are proud of you Mr. Tofayel.

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Mostafa Tofayel — জুন ১৪, ২০১৪ @ ১১:০৮ অপরাহ্ন

      Thanks to those who have commented on the review.Dr. Binoy Barmon, Mr. Mahmudul Hoq, Mr. Najrul Islam, Mr. Shams Hoq, Mr. Rahul- all of them deserve thanks.Some readers have orally told me that there is a lapse in the review because no mention of the technique,adopted by Jhumpa Lahiri in The Low Land,has been noted. No doubt, the novelist has a technique of her own in the novel.I have tried to sort it out while going through the text, an d have observed that nothing g but simplicity of expression is the technique adopted here. Neither stream of consciousness, flash back, objective correlative, magic realism plus irony as practiced by Garcia Marquez, nor parody of Homeric epic, Ulysses, of James Joyce, nor the jump-on mental sojourn practice by Alice Munro in her stories. Simpliciy and lucidity of expression ,and a particularly subtle way of characterization, is what one can feel , is the power of attraction while one goes through a Jhumpa Lahiri novel called The Low Land. Thanks to the editor of Boier Jagat,Mr.,Ahmad Mazhar,and also to the editor of Shabdoghar for the ken interest they have shown in the review,not necessarily deemed to be final.Also than ks to Prof. Mazhar ul Mann an of Gaiban dha fo his hearty congratulations over phone

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাজহারউল মান্নান — সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৪ @ ৬:০৭ পূর্বাহ্ন

      ঝুম্পা লাহিড়ীর ‘লো ল্যান্ড’ পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়নি। মোস্তফা তোফায়েল আমার সে ক্ষতি পুষিয়ে দিয়েছেন। আলোচককে আন্তরিক ধন্যবাদ।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com