বেথেলহেমের পথ

শান্তা মারিয়া | ২৫ december ২০১৩ ১২:২২ পূর্বাহ্ন

এবং তিনি সেই প্রাচীন ঈশ্বর
যিনি আঘ্রাণ করেন
উৎসর্গকৃত পশুর মাংস, মজ্জা, নির্গত ধূম
জেরুজালেমের আদিম আকাশ
প্রকম্পিত হয় তার বজ্র নির্ঘোষে
অতঃপর তিনি নেমে আসেন মানবের সমতলে।
ইব্রাহিম, সন্তান নয়, বলি দাও তোমার পশুকে
প্রবৃত্তি: শত্রু অথচ পরম প্রিয়।
জীবনের যজ্ঞে আহুতি দাও
চঞ্চল রুধির যার নাম তীব্র কামনা
নির্ধারিত গন্তব্য ছুঁয়ে হেঁটে যাও মানব সন্তান।
ঈশ্বর অমর
তবু মানবের মৃত্যুর বন্দরে
তারও কি মৃত্যু হয় প্রতিবার?
মৃত্যু কি তবে সাগরের ওপর পা ফেলে
ভেসে যাওয়া অন্য কোনো শহরের নাম?
নাজারাথ থেকে হেঁটে চলা একটি কিশোর
সুউচ্চ মন্দিরে খোঁজে ঈশ্বরের অভ্রান্ত ইশারা
প্রেম, তপস্যা, দেহ
মাটির আত্মায় ঝরে পড়া
আকাশের সুতীব্র প্রণয়
প্রথম সমুদ্রে জেগে ওঠা দেবতার দল
অর্থহীন, ভিন্ন কোনো গন্তব্যের কথা বলে।
বনিআদমের প্রাচীন সিন্দুকে
ধূসরিত একটি খঞ্জর হৃদপিণ্ডে বিদ্ধ করে
অর্ঘ্য দাও উষ্ণ লোহিত,
ধরিত্রী বিদীর্ণ করা ফসলের ঘ্রাণ নয়
অর্ঘ্য দাও স্পন্দিত জীবন,
অর্ঘ্য দাও জীবনের মোহন উত্তাপ।
cristmas.gifএবং ঈশ্বর মৃত্যুর মূল্যে দিয়ে যান প্রেম
হাত পাতো ইভ, প্রসারিত হোক করতল
হাত পাতো রেবেকা এবং আইজাক
গ্রহণ কর নক্ষত্রের দীর্ঘ আকুতি
নাজারাথের সেই ছেলেটি হাত বাড়িয়ে দিতেই
হেসে ওঠে মৃত্যু।
অপেক্ষায় অপেক্ষায় নতজানু দাউদের পুত্রগণ
আদিম দেবতার পৃষ্ঠদেশও নুয়ে আসে প্রতীক্ষায়।
তিনজন মানুষ অবিরল স্নাত হয় এক স্রোতস্বিনীতে
পৃথিবীর বুকের ভিতর যে নহর প্রবাহিত অবিশ্রাম
সেইখানে বয়ে চলে মানুষের
যাবতীয় আকাংঙ্ক্ষার স্রোতে।
মৃত্যুর বাড়ির কোলঘেঁষে
লবণাক্ত প্রাচীন সড়কে
বয়ে যায় স্তূতি, রক্তস্রোতে, উৎসর্গ অথবা জীবন
তীব্র উষ্ণতায় পান করে হতাশার ধূসর আরক।
সুপ্রাচীন নক্ষত্ররা আলোক ঝরায়
রাত প্রবাহিত হয়
জেরুজালেমের অন্ধ গলিপথে।
প্রতিশ্রুত মানব হেঁটে যান
তাঁর রক্তাক্ত পদচিহ্ন আঁকে অদ্ভুত আল্পনা
মানুষ যেমন করে ক্রমশ চলে যায় ঈশ্বরের দিকে।
নাজারাথ থেকে প্রবাহিত সেই অলোকসন্তান
সময়ের যাবতীয় মাত্রা স্পর্শ করে
অতঃপর উত্তীর্ণ ধ্রুব কোনো অর্জনের
সর্বশীর্ষ স্তরে ।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (2) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Manik Mohammad Razzak — december ৩০, ২০১৩ @ ১০:৪১ পূর্বাহ্ন

      কবিতাটি ভালো লেগেছে। কবিকে ধন্যবাদ।

      মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন fariduzzaman — জানুয়ারি ১, ২০১৪ @ ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন

      ”বনিআদমের প্রাচীন সিন্দুকে
      ধূসরিত একটি খঞ্জর হৃদপিণ্ডে বিদ্ধ করে
      অর্ঘ্য দাও উষ্ণ লোহিত,
      ধরিত্রী বিদীর্ণ করা ফসলের ঘ্রাণ নয়
      অর্ঘ্য দাও স্পন্দিত জীবন,
      অর্ঘ্য দাও জীবনের মোহন উত্তাপ।”

      বিধাতার অর্ঘ্য- বড় বেশী কঠিন হলেও রক্তে রক্তে প্রবহমান। কাব্যে বিষয়টি শিল্পিত হয়েছে রসের ঊর্ধ্বমার্গে।
      কবিতাটি ভালো লেগেছে। কবিকে ধন্যবাদ।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com