গদ্য, তত্ত্ব, প্রবন্ধ

ন্যানো সাহিত্যতত্ত্ব: একটি ইশতেহার

রাজু আলাউদ্দিন | 25 Nov , 2013  


তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানীদের বহু দিনের স্বপ্ন বস্তুজগতের তাবৎ রহস্যকে–প্রকৃতির চারটি মৌলিক বলকে এক করে–একটি মাত্র তত্ত্বের সংকেতে (Grand Unification theory) প্রকাশ করা। স্বভাবসুলভ উচ্চাশায় ভর করে, বোর্হেস স্বপ্ন দেখতে গিয়ে বলেছিলেন, “কেমন হয় যদি সকল ভাষা, সকল অভিব্যক্তি, সমগ্র কবিতা কেবল একটি পংক্তিতে, বা এমনকি একটি মাত্র শব্দে সংকুচিত করা যায়?”

বিজ্ঞানী ও কবিরা এতদিন যার স্বপ্ন দেখেছেন এবং এখনও দেখছেন তা বাস্তবায়িত করার সময় এসেছে। জীবন ছোট, তাই সময় এতো মূল্যবান। এই মূল্যবান সময়কে অতিকথন, অপ্রয়োজনীয় শব্দ আর অনাবশ্যক বৃহত্বে অপচয় করা যাবে না। সাহিত্যের সকল শাখাকে তাই এসব লক্ষণ থেকে মুক্ত করে ন্যানো আয়তনে যেতে হবে। প্রকরণের সকল বৈশিষ্ট্য নিয়েই সাহিত্যের প্রতিটি শাখা– হোক সে গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক–নিজেকে প্রকাশ করবে। কিন্তু যথাযথতা আর মিতব্যয়িতা হবে এর মূলমন্ত্র। ‘দূর ব্রহ্মান্ডকে তিলে টেনে’ আনতে চাই আমরা। চাই তিলের মধ্যে তালকে দেখতে। তিলকে তাল বানাবার অাতিশয্য ত্যাগ করে বিন্দুর সিন্ধুতে প্রবেশ করতে চাই। আর তাই ন্যানো উপন্যাসকে আমরা সর্বোচ্চ ১৫০০ শব্দের পরিসরে নিয়ে আসতে চাই। সবচেয়ে দীর্ঘ ন্যানো গল্পটি হবে সর্বোচ্চ ৩০০ শব্দের। একটি ন্যানো প্রবন্ধও ৩০০ শব্দের সীমাকে অতিক্রম করতে পারবে না কোনভাবেই। ন্যানো নাটককেও ৩০০ শব্দের পরিসরে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। একটি ন্যানো ম্যুভি কোন মতেই ১০ মিনিটের বেশি হতে পারবে না। সবচেয়ে দীর্ঘতম ন্যানো কবিতাটি হবে সর্বোচ্চ ৩০ শব্দের।

ন্যানো কবিতার বৈশিষ্ট্য
১.ভাবালুতাকে পুরোপুরি বর্জন করতে হবে।
২. উপমার প্রচলিত ধরণকে বর্জন করে এর সারাৎসারকে প্রকাশ করতে হবে কবিতায়।
৩. কবিতায় অর্থহীন বিশেষণ পুরোপুরি বর্জনীয়।

ন্যানো কাব্যতত্ত্ব অনুসারে আমরা যে ধরনের কবিতার জন্ম সম্ভব করে তুলতে চাই তার বীজ ইতিপূর্বে–অসচেতন-প্রসূত ভ্রুণাবস্থায়–ছড়িয়ে আছে অবশ্যই। আমরা চাই সজ্ঞানে একে সংঘটিত এবং বিকশিত করতে। কখনো কখনো ইদানীং ফেসবুকেও এধনের ভ্রুণের জন্ম হচ্ছে। আমরা চাই এর সজ্ঞান ও সচেতন পরিস্ফুটন। ন্যানো কবিতার একটি উদাহরণঃ
ওই দূরে দেখা যায় দিবসের রক্তিম ভ্রুণ,
এইখানে ট্রেনে-কাটা মানুষের দেহখণ্ড, খুন ।

জীবনের উদায়াস্তকে আমরা এই কাব্যোত্তীর্ণ মিতব্যায়িতায় প্রকাশ করতে চাই। একই সঙ্গে চাই অর্থহীন প্রলাপের শাব্দিক অপচয় থেকে কবিতাকে মুক্ত করতে। ইঙ্গিতময়তা ও সাংকেতিকতা হবে ন্যানো কাব্যের মূলমন্ত্র।

ন্যানো গল্প
গল্পের ধারণা থেকে ঝেড়ে ফেরতে হবে ‘নিটোল কাহিনী বয়ানের’ খাসলত। বর্ণনা নয়, বয়ানের ইঙ্গিতময়তা ও সাংকেতিকতার গুণেই গল্প হয়ে উঠবে তীব্র ও তীক্ষ্ণ। চরিত্রদের শরীরি বর্ণনা বর্জন করে– সম্ভব হলে– সংলাপ দিয়ে তাদেরকে স্পষ্ট করতে হবে। ন্যানো গল্পকে হয়ে উঠতে হবে স্মৃতিকাতর একটি ছবির প্রকাশের মতো। কিংবা একটি চকিত দৃশ্যের মাধ্যমে বিপুল ঘটনা ও কালপুঞ্জের ইশারাকে বাঙ্ময় করে তুলতে হবে, যেমনটা করেছিলেন গুয়াতেমালার কবি আউগুস্তো মোন্তেররোসো তার এক বাক্যের একটি গল্পেঃ “যখন সে জেগে উঠলো, ডাইনোসরটা তখনও সেখানেই ছিলো(cuando desperto, el dinosaurio todavia estaba alli)। গল্পকে হয়ে উঠতে হবে নির্ভার, ক্ষিপ্র গতিসম্পন্ন, বহুস্তরী, যথাযথ এবং স্বচ্ছ।

ন্যানো উপন্যাস
ন্যানো উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য হবে এই যে তার কোনো কেন্দ্রীয় চরিত্র থাকবে না। একই চরিত্র বিভিন্ন চরিত্রে প্রবেশ করে ইচ্ছে করলে নিজেদের মধ্যে শলাপরামর্শ করে কাহিনীকে সংক্ষিপ্ত করে নিতে পারবে। তবে এই সংক্ষিপ্তকরণের কাজটির মধ্য দিয়েই কৌশলে কাহিনীকে এগিয়ে নেবে স্বভাবপ্রসূত বিস্তারের পরিবর্তে।
ন্যানো উপন্যাসের একটি উদাহরণ :
“তুমি”, বললো সে, “প্রতি ২৮ দিনে একবার তুমি তোমার ত্বককে পুরোপুরি বদলাও; আর আমি দিনে তা তিন চারবার করি ।” কালা শোনে না, অন্ধ দেখতে পায় না। সে পৃথিবীকে স্পর্শ করা বাদ দিয়েছিলো ।

ন্যানো প্রবন্ধ
আলোচ্য গ্রন্থের পুনর্কথন, চুম্বক অংশ উপস্থাপন ও প্রগলভতা বর্জন করে মর্মোক্তিকে প্রকাশ করতে হবে।

সব শেষে আমি একটি উদাহরণ হাজির করবো যা কবিতা এবং গল্প–উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে । এটি কবিতার একটি অংশ, অলোকরঞ্জন থেকে, কিন্তু তিনি কবিতাটি সেখানেই শেষ করেননি বলে একে ন্যানো কবিতা বলা যাবে না। উদাহরণটা :

ধানখেতে এসেছিল বেড়াতে দু’জন
ধানখেতে শিশু রেখে পালাচ্ছে দু’জন

প্রেম এবং বিবাহবহির্ভুত যৌন সম্পর্কের সূত্রে সদ্যজাতকে ত্যাগ করে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে সময়, সমাজ ও নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সদ্যজাতের প্রতি আমাদের বেদনাবোধকে তুলে ধরার জন্য এই দুটি পংক্তিই যথেষ্ঠ।

এই ইশতেহারে উদ্বুদ্ধ হয়ে যারা ন্যানো সাহিত্য রচনা করবেন তাদেরকে অনুরোধ করবো নিচের ইমেইল ঠিকানায় আপনার লেখাটি বা লেখাগুলো পাঠাতে । আমরা পরে এগুলো সংকলন আকারে প্রকাশের উদ্যোগ নেবো । লেখার সঙ্গে লেখকের ছবি ও পরিচিতিমূলক তথ্য আবশ্যক।

এই ইশতেহারে যে-কেউ যুক্তি দিয়ে নতুন কিছু যুক্ত করার মাধ্যমে একে আরও সমৃদ্ধ করতে পারেন। আমরা পরে তা গ্রন্থাকারে প্রকাশের সময় ইশতেহারের ‘সংযোজনা’ অংশে অন্তর্ভুক্ত করে নেবো।
ইমেইল ঠিকানা: razualauddin@gmail.com

Flag Counter


27 Responses

  1. monir hossain says:

    এক লাইনের গল্প

    http://www.onesentence.org/

    হাইকু

    http://www.sacred-texts.com/shi/jh/

  2. S. Alam says:

    সব কিছুর মধ্যে ন্যানো খুঁজলে হবে! সমস্যাটা বুঝতে পারছেন না? ধরেন মানুষকে ন্যানো করে দিলেন, তাইলে….. তেমনই অণুর ধারণা থেকে ধার করা ব্যাপারটা নিয়া আরো কিছু লবণ ছটকানো যায়। যেমন আকাশ, বাতাস, ধইঞ্চা ক্ষেত, পদ্মার জল, এসব…. আর এক বাত… কিছুদিন আগেও আপনাকে ‌ইশতেহারবিরোধী অবস্থানে দেখলাম… এহন দেহি নিজেই একটা বানাইয়া বইলেন!

  3. poliar wahid says:

    ধন্যবাদ। সময়ের একটি অসাধারণ ধারণা পেলাম। যদিও সবকিছুতে ন্যানোর ছোঁয়া লেগেছে। এ লেখা পড়ে আরো সচেতন হবার সুযোগ পাচ্ছি।

  4. saiful shahin says:

    রাজু ভাই, লেখাটি পড়ে খুব ভালো লাগলো । ধন্যবাদ আপনাকে ।

  5. কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর says:

    ভাবনা হিসাবে একেবারে খারাপ নয়, ভেবে দেখা যেতে পারে। নাকি খেয়ে হজম করে ফের ভেবে, ফেলে, চারা গজিয়ে ফের নতুন কিছু করে দেখা যেতে পারে? তাহলে এত এত সাহিত্য-সম্ভার, রামায়ণ-মহাভারত, হাজার রজনীর কথা, শাহনামা, অপরাপর মহাকাব্য বা ওয়ার এন্ড পিস-এর মতো সাহিত্যরত্ন কি পরিত্যাজ্য?

  6. monir hossain says:

    সাড়া জাগানো মার্কিন ঔপন্যাসিক জোনাথান ফ্রানজেন তার কাজের জন্যে ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়াকে এতটাই ক্ষতিকর মনে করেন যে তার ল্যাপটপের ইন্টারনেট পোর্ট তিনি সিলগালা করে দিয়েছেন – যাতে কাজে নিবিষ্ট থাকতে পারেন, ফেসবুক টুইটারের পিচ্ছিল পথে পা না বাড়ান। তার থেকে আপনাদের কিছু দেখার আছে মনে হয়। কালজয়ী সাহিত্য এভাবেই লিখতে হয়। সেটার সাথে কালজয়ী স্ট্যাটাসকে মিলিয়ে ফেলবেন না যেন।

  7. হানযালা হান says:

    ন‌্যানো সাহিত‌্যতত্ত্ব নিয়ে চমৎকার হয়েছে লেখাটা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ইশতেহার দিয়ে কি সাহিত্য হয়?

    আফসোস, কালোত্তীর্ণ কোনো লেখাই ইশতেহার মেনে লেখা হয়নি।

  8. রাজু আলাউদ্দিন says:

    জনাব আলম, সব জায়গায় আমরা তা খুঁজছি না, যেখানে প্রয়োজন সেখানেই খুঁজছি। বলেছেন, “ কিছুদিন আগেও আপনাকে ‌ইশতেহারবিরোধী অবস্থানে দেখলাম”। আদৌ কি দেখেছেন ? কোথায়? কখন? আমার তো সে রকম কিছু মনে পরছে না । আপনার তির্যকতাপূর্ণ ভিন্নমতকে আমি শ্রদ্ধা জানাই । ধন্যবাদ poliar wahid এবং saiful shahinকে । ভাই কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, ঐ সব চিরায়ত সাহিত্যকে আমি পরিত্যাজ্য বলিনি। কিন্তু সাহিত্যে নতুন নতুন উদ্ভাবনাকে স্বাগত না জানালে আমরা একই জিনিসের অনুকরণের অভ্যস্তকেই কেবল মেনে নেবো । আমরা চিরায়ত সাহিত্যের নির্যাস নিয়েই নতুন দিগন্তের সন্ধান করতে চাই। আপনাকে ধন্যবাদ ।

  9. razualauddin says:

    monir hossain, জোনাথান ফ্রানজেন মনে করতে পারেন এবং সেই মনে করার প্রতি আমার অশ্রদ্ধা নেই, কিন্তু “ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়া” ক্ষতিকর তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। একটি যুগের সঙ্গে সঙ্গে তার ধরনগুলো পাল্টাতে থাকে । আর এই পরিবর্তন এতই অনিবার্য যে ‘সিলগালা’ করে বড় জোর নিজের পরিবর্তন রোধ করা যেতে পারে, আশেপাশের পরিবর্তন তাতে ঠেকানো যায় না । ওনার নিজের চরিত্রের সঙ্গে এই নতুন উদ্ভাবনগুলো হয়তো কোনো সঙ্গতি বিধান করছে না তাই বলে উদ্ভাবনগুলো অর্থহীন ও অসার হয়ে যাবে? ফেসবুক টুইটারের পিচ্ছিল পথেই আরববিশ্বে পরিবর্তনগুলো ঘটেছে –এই প্রামাণিক সত্য কি অস্বীকার করা সম্ভব? পরিবর্তনের ফলাফল পরে বিচার করা যাবে। “কালজয়ী সাহিত্য” কিভাবে লিখতে হয়, তার কোনো নির্দিষ্ট ধরন আছে বলে তো মনে হয় না।

  10. রাজু আলাউদ্দিন says:

    হানযালা, ইশতেহার দিয়েও সাহিত্য হতে পারে আবার ইশতেহার ছাড়াও সাহিত্য হতে পারে। দুই ধরনের উদাহরণই আছে ।
    কালোত্তীর্ণ লেখা ইশতেহার মেনে লেখা হবে না বা সম্ভব নয়–এমন নিশ্চয়তাও আমাদেরকে কেউ দিয়ে যায় নি। সুতরাং আফসোস করে মন খারাপ করবেন না ।

  11. মোহাম্মদ রাশেদ says:

    বিশ্বের সবকিছুই বিবর্তিত হয়ে চলেছে- সঙ্গে ভাষা ও সাহিত্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে ন্যানো যুগের আগমন ঘটে গেছে। পাঠকের উদ্দেশ্যে কিছু লিখতে হলে পাঠকের মন বোঝা জরুরি। নিজের জন্যে লিখলে সেটা ডায়রী। আর বাকি সব সাহিত্য-প্রলাপ এবং গোড়ামী।

    যুগোপযোগী কথাটা প্রকাশ করায় আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ রাজু ভাই।

  12. Manik Mohammad Razzak says:

    ন্যানো সাহিত্য তত্ত্ব-একটি ইশতেহার, লেখাটি পড়ে ভাল লেগেছে রাজু ভাই, আপনাকে অভিনন্দন।

    মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক
    প্রিটোরিয়া, সাউথ আফ্রিকা।

  13. sarwar chowdhury says:

    সাহিত্য তত্বের আগমন বা যেকোনো নতুন জাত-নাম বা নতুন ধরণ বিনির্মাণের ইশতেহারকে আমি স্বাগত জানাই। এ পর্যন্ত সাহিত্যের যত শাখা বা সামগ্রিকভাবে শিল্পের যত শাখা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, সবই তো এক সময় নতুন ছিল। দিনে দিনে ধাপে ধাপে নানাবিধ জাত-নাম ধারণ করেছে, সমাদৃত হয়েছে। এখানে ন্যানো সাহিত্যের প্রস্তাবনা। মিলি মাইক্রো পার হয়ে ন্যানো। সামনে আছে পিকো ফেমটোসহ আরো দুই ধাপ পার হয়ে ক্ষুদ্রতম একক ইউক্টো। হোক না চর্চা ন্যানোর। চলুক ইউনিফিকেশনের দিকে। ‘যথাযথতা আর মিতব্যয়িতা’ এই মূলমন্ত্র ধরে চলতে চলতে নতুন নতুন ডাইমেনশনও এতে যুক্ত হতে পারে। কেবলমাত্র ছোট আদলের দিক থেকে দুই পংক্তির কবিতা- মাছনাওয়ী, লিমেরিক, হাইকু, ছোট গল্প, অনুগল্প ইত্যাকার চর্চা তো হয়ে আসছে। এখন হচ্ছে ন্যানো জাত-নামের পরিচয়ে আরো ছোট করবার প্রস্তাবনা। কিন্তু ছোট মানেই ছোট না। ছোটতে নিউক্লিয়ার পাওয়ারও যে থাকে তা বিশ্বের সাহিত্য পাঠক জানেন। সে-দৃষ্টান্ত হতে পারে নানা দেশের মাত্র কয়েকটি শব্দের কিন্তু সাংঘাতিক মর্মসমৃদ্ধ কবিতা। বাংলায় যেমন মনে পড়লো- ‘ভাত দে হারামজাদা তা নাহলে মানচিত্র খাব’ ইত্যাদি। ইংরেজিতে শেক্সপিয়র, ওয়ার্ডসওয়ার্থ, কোলরিজ, ইয়েটস প্রমুখের অনেক এক দুই লাইনের বিখ্যাত কবিতা আছে। রুমী, গালিব প্রমুখেরও আছে। মানে, খুব অল্পতেও বিশালকে ধরা যায়, এই পরিপ্রেক্ষিতে বললাম।
    কিছুই তো এক জায়গায় থাকে নি, থাকবেও না। আমাকেও এই ন্যানো ধরণ নিয়ে আরো ভাবতে হবে। দেখা যাক। ধন্যবাদ।

  14. ন্যানো সাহিত্যের ধারণাটি সময়োপযোগী। পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কবিতা-গল্প-উপন্যাস-প্রবন্ধের আকারও ছোট হচ্ছে। এ ব্যাপারে রাজু আলাউদ্দিনের ইশতেহারটি প্রনিধানযোগ্য। আমাদের দেশে তাত্ত্বিকভাবে ন্যানো সাহিত্য-আন্দোলনের সূত্রপাত হলো এর মাধ্যমে। ন্যানো বিশালত্ব লাভ করুক, দিকে দিকে প্রসারিত হোক তার চর্চা ও গৌরব!

  15. সা'দী says:

    ন্যানো জ্ঞানমুখী ও সময়ের দাবি ।

  16. Shams Hoque says:

    Here is a Latin nano-poem for your attention, Rajubhai:
    “In la sua nostra pace.”
    ( “In His will is our peace.”)
    ছাপলে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে হবে কিন্তু!
    শামসভাই।

  17. তায়েব মিল্লাত হোসেন says:

    ভাবনাটা বেশ। তবে ইশতেহার বলতে হবে কেন? যেহেতু এ ইশতেহারের আগের লেখা থেকেই রাজু ভাই উপমা টেনেছেন। তার মানে অনেক আগেই এক-দুই লাইনে কবিতা, ছোটগল্প হয়েছে। বাংলাদেশের গল্প-কবিতা থেকেও আমি টানতে পারি। তবে তা টেনে মন্তব্য আর বড়ো করতে চাই না।
    আমি নিজে অনেক আগে থেকেই ছোট করে লেখার চেষ্টা করি। তবে তা নির্ভর করে বিষয় আর ভাবের উপর। আসলে মহতী সাহিত্য জোর করে ছোটও করা যাবে না, আবার বড়ও করা যাবে না। স্বতঃস্ফূর্ত যে কোনো কাজ আসে ভেতরের তাগিদে, সময়ের প্রয়োজনে। হোক তা সাহিত্য রচনা, কিংবা ধান-আলুর চাষ। বড়ো-ছোট, মানে আকার বিষয় নয়, সাহিত্য হলো কিনা সেটাই বিবেচ্য। তবু ছোটলেখায় অভ্যস্ত আমি রাজু ভাইয়ের আহ্বানে সাড়া দিতেও পারি।
    আরো একটা কথা, nano-এর আভিধানিক বাংলা হচ্ছে: ‘একশো কোটি ভাগের একভাগ বোঝাবার জন্য ব্যবহৃত উপসর্গ’। nano-কে ন্যানো করবো কেন? এর ভালো কোনো বাংলা করা যায় না? যেমন: অনেকেই ‘অনুকাব্য’ লিখেন। আমি নিজে ‘পরমাণু গল্প’ শীর্ষক দুই-তিন লাইনে বেশকিছু গল্প লিখেছি।

  18. মেহেদী হাসান says:

    রাজু ভাই, আপনার চিন্তাটি বেশ মনে ধরেছে। এবং আপনার এই লেখাটির মধ্যেও যথেষ্ট পরিমিত বোধ কাজ করেছে। আমি বেশ কিছুদিন যাবত এরকম ধারার গল্প লেখার চেষ্টা করছি। যা হোক, আপনার মেইলে একটা ন্যানো গল্প পাঠিয়ে দিচ্ছি। ভালো থাকবেন।

  19. matin bairagi says:

    রাজু পৃথিবীতে কতো কিছু হচ্ছে, হবে। নতুন আসবে পুরাতনকে বিদায় জানাতে, পুরাতন নতুনের সাথে লড়াই করবে; শক্তি থাকলে টিকবে, নতুন প্রতিষ্ঠিত হবে, সে পুরান হবে, আবার নতুন আসবে। আপনার এইসব চেষ্টা যে এখানে হয়নি তা’ কিন্তু না, রাহাত খান, সৈয়দ হক, মান্নান সৈয়দ আরো কেউ কেউ তা করেছিলেন, পশ্চিম বাংলায়ও হয়েছিলো, টিকতে পারেনি। য়ুরোপের মানুষরা কম্পোজড খাবার খায়, ক্যালোরি হলেই হলো, আমাদের পেটে ওজন না হলে আমরা চলতে পারিনা। শুধুমাত্র অভ্যেস নয়, আরো কিছু প্রাসঙ্গিক বিষয় আছে। আপনাকে মনে রাখতে হবে আমাদের সমাজ,অভ্যেস,রুচি,জীবন বো্ধ, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়াদি, সাহিত্য সমাজ জীবনকে পিছু ফেলে তৈরি হতে পারে না, মানুষের রুচির বিরুদ্ধে দাঁড়াতেও পারে না, তার বিষয় মানুষকে বাদ দিয়েও হতে পারে না। ধনতন্ত্রের বিকৃতিও সাহিত্যের বিষয় নয়, তার সেবাদাস হবার জন্য এবং ধনিকের ড্রয়িং রুমে গণিকাও নয়। তেমনি প্রয়োজনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করাও নৈতিকতা নয়। পশ্চিমের সব কিছু ভালোও নয়, আমরা যা বুঝি, যা ভালোবাসি, যার সাথে আমাদের প্রিয়তা, সাহিত্য তাকে ঘিরে সৃষ্ট হবে। যা পড়লে সেই সমযের ইতিহাস, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, অর্থনীতির দমন-পীড়ণকে ইতিহাসের চাইতেও ভালোভাবে বুঝতে,অনুধাবন করতে পারবে মানুষ। তার চেষ্টাটা আমাদের থাকা প্রয়োজন। আমাদের সাহিত্যের অগ্রগতির জন্য পশ্চিমকে জানার প্রয়োজন কিন্তু তারা যা করছে তা কি মানাবে আমাদের সাহিত্যে! আমাদের সাহিত্যকে উন্নত করার অনেক বিষয় আমাদের সৃষ্ট সাহিত্যে আছে, তাকে খুঁজবার, কাজে লাগাবার চেষ্টা আমাদের থাকা দরকার বেশী। আমি আশঙ্কা করছি এই মন্তব্যে আপনি ক্ষুব্ধ হবেন এবং সম্পর্ক শীতল হলেও হতে পারে তবুও সেই ঝুঁকি নিলাম, কারণ আমার মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে আর আপনারা নিশ্চয়ই তা সমর্থন করেন।

  20. তাপস গায়েন says:

    কবি এবং অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিনের এই ইশতেহারে সৃজনশীল সত্তা যুক্ত হয়েই এই সাহিত্য আন্দোলনকে ত্বরান্বিত এবং বেগবান করতে পারেন । দেখা যাক এটি কোনো সাহিত্য আন্দোলন হিসাবে গড়ে ওঠে কি না !

  21. সেক্ষেত্রে প্রকাশের পূর্ববর্তী ধারাকেও বাতিল করা প্রয়োজন।

  22. রাজু আলাউদ্দিন says:

    মতিন ভাই, আপনার মতো করে অর্থনীতি, সমাজ, দর্শন, ধনতন্ত্র, ইতিহাস আমি এখনও বুঝে উঠতে পারি নি । ফলে এসব নিয়ে ভবিষ্যদ্বানী করার স্পর্ধা আমার নেই। তাছাড়া পশ্চিমকে এবং পশ্চিমের শিল্প সাহিত্য আপনি যেভাবে বোঝেন, আমি সেভাবে বুঝতে পারিনি এখনও। আপনার জ্ঞানগর্ভ কথা শুনে অনেক কিছু জানলাম।

  23. কয়েক মাস আগে আমি সবুজ ওয়াহিদ ভাইকে বলেছিলাম যে আমি ছোট করে কবিতা লিখবো। উনি বলেছিলেন ”লিখতে পারেন…. তবে এখন তো অনেকেই দীর্ঘ কবিতা লিখছে….” এই ফাঁকে কিছু ছোট- কিছু বড় লেখা লিখেছি। এখন আপনার এই ইশতেহার দেখে ভাবনাটা আবার সামনে এল। আমি ব্যক্তিগতভাবে ইশতেহার মেনে লিখতে চাই না… বা লিখতে পারিও না। কিন্তু এই লিখা যদি অবচেতনে ইশতেহারের শর্তের ভিতরে পড়ে যায়…. এতেও আমার কোন আপত্তি থাকে না। নতুন নতুন ধারা সামনে আসবে… কোনটা টিকবে কোনটা না… কিন্তু পরীক্ষা করতে তো দোষ নাই। আপনাকে স্বাগতম রাজু ভাই।
    একদিন সময়ই বলে দেবে প্রচেষ্টা কতটুকু সফল হলো।

  24. Dilwar Hasan says:

    Thanks Razu Bhai for this nice piece of
    article…

  25. sarwar chowdhury says:

    একটি ন্যানো প্রবন্ধ : ন্যানো’র সীমা, স্বাধীনতা এবং…

    সারওয়ার চৌধুরী

    ক.

    ন্যানো সাহিত্যের সীমা নিয়ে কথা হচ্ছে। সে-পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কথা/চিন্তা যোগ করা যায়। ভাষাবন্দী করে শিল্পমন্ডিত ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ আমরা বহু আগে থেকেই সাহিত্যের নানা শাখায় পেয়ে আসছি। কবিতার বিবিধ ছন্দ, বহুবিধ জাত-নাম ও তার সংজ্ঞা সাহিত্যের কারিগরগণ বের করে আসছেন সীমা চিহ্নিত করেই। চতুর্দশপদীর কথাই ধরা যায়। সীমা নির্ধারিত। আবার কেউ কেউ শেক্সপিয়রীয় সীমা অতিক্রম করে লিখেছেন ‘আমার সনেট’। সনেট কিন্তু ‘আমার’ ধরনের। মানে একই জাত-নামের ভিন্ন মাত্রা। সাহিত্যের শাখা মানেই তো একটা সীমাবদ্ধ ফরম্যাট- একটা নির্ধারিত আয়োজনের ভিতরে কিছু ভাব প্রকাশ। সীমিত ঘরে অসীমের অংশ বিশেষ। ভাষা, বর্ণ, বর্ণমালা মানেই সীমা থেকেই প্রজেকশন।

    খ.
    স্বাধীনতা শব্দটি যে-ভাব প্রকাশ করে তা মানুষের চেতনা স্পর্শ করে সহজেই। কখনো একটা ক্ষিপ্র-গতি-বোধকে উস্কে দেয়। প্রখর স্বাধীনচেতা মানুষটিও জীবন যাপন করতে যেয়ে স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছা সত্বেও নানা প্রকার সীমাযুক্ত প্রসঙ্গের সাথে নিজেকে বন্দী করে। সীমানা চিহ্নিত দেয়াল ঘেরা ঘর বানায় নিরাপদে থাকবার জন্যে। দেয়াল রচনা করে মনস্তত্বে। এটা সামগ্রিকভাবে স্বাধীনতা বুঝাবুঝি বিষয়ক চিন্তার স্ববিরোধ বাস্তবতা। আর মানুষের স্ব-ভাব যেহেতু অন্যের ভাব ছাড়া অপূর্ণ থাকে, যেহেতু সম্মিলিত ভাব থেকে সে বুদ্ধিবৃত্তির বিশেষ বায়ো পদ্ধতি দ্বারা স্ব-ভাব প্রকাশ করে, সেহেতু তার স্বাধীনতা পরোক্ষভাবে অন্য নির্ভর নয় কী?

    গ.
    Paul Valery-এর একটা চিন্তা- ‘A poem is never finished, only abandoned’.’ কথাটা সামগ্রিকভাবে শিল্পের ক্ষেত্রেও খাটে। একটি দীর্ঘ কবিতাতেও অসম্পূর্ণতা থাকে। আবার এই দীর্ঘ কবিতারই একটা পংক্তি সুনির্দিষ্ট অর্থসমৃদ্ধ হয়। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল জীবনানন্দ প্রমুখের দশ/বিশ/তিরিশ লাইনের নির্দিষ্ট কবিতার ভেতর থেকে কখনো আমরা এক দুই লাইন উদ্ধৃত করে বুঝাই, এতেই নির্দিষ্ট ভাব প্রকাশ হযেছে চমকপ্রদ উপায়ে। মানে, একটা শিরোনামের অধীনে থাকা কবিতাটির বিশেষ অপূর্ণতা সত্বেও এর ভেতর থেকে কতিপয় নির্দিষ্ট চিন্তাসমৃদ্ধ ন্যানো কবিতা বের করতে পারি। পারি না? একটা গল্পে কয়েকটি গল্প কি দেখি না আমরা? একই বৃন্তে অনেক ছোট ছোট ফুল কি পাই না? পাই। তাহলে ছোট ছোট চিন্তা/ভাব দ্বারা পৃথক পৃথক বিনির্মাণ তো করা যায়। নিউক্লিয়ার এ্যানার্জি তো ওই ক্ষুদ্রতর খুঁজে পাওয়ার দৌলতে পাওয়া গেল।

  26. Md. Nuruzzaman Shovon says:

    ধারণাটি চিত্তাকর্ষক সন্দেহ নেই। কিন্তু আপনি যদি ন্যানো সাহিত্যের কাঠামোর পূর্বে মিলি সাহিত্য ও মাইক্রো সাহিত্যের কাঠামো কেমন তা নির্মাণ করেন এবং ভবিষ্যতে পিকো ও ফেমটো সাহিত্যের কাঠামো কেমন হতে পারে তা আবিষ্কার করেন তাহলে উত্তারাধুনিক সাহিত্য অঙ্গনে নতুন তুলির আঁচড় পড়বে।

    নুরুজ্জামান শোভন

  27. asma sultana shapla says:

    ন্যানো সাহিত্য সম্পর্কে জানা হলো বেশ। তবে আছে বেশ কিছু মতানৈক্যও। নতুন কিছুর প্রতি আমার সহজাত আকর্ষণের কারণে ইচ্ছে হচ্ছে কিছু ন্যানো কবিতা লিখি। তবে এটা লেখকের সৃষ্টিশীলতাকে সীমাবদ্ধ করবে অবশ্যই। তাই ন্যানো সাহিত্যের সাথে চিরায়ত সাহিত্যের যে রূপ তাকেও বর্তমান থাকতেই হবে। সন্দেহ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.