ওবায়েদ আকাশের কবিতা

ওবায়েদ আকাশ | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ৮:৫৭ অপরাহ্ন

জঙ্গলজুড়ে মহাপরিকল্পনা

জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসবার আগে, জঙ্গলের কিছু যাপনচিত্র যেমন
বাঘ কিংবা সিংহের সঙ্গে মহাপার্বণে দুধভাত খাওয়ার দৃশ্য
হাতির শুঁড়ে ভর করে হলুদ পাকা আম ছেঁড়ার দৃশ্য
আমাদের প্রচার মাধ্যমে বারবার প্রদর্শিত হওয়া জরুরি

তাতে শাহবাগ থেকে কার্জন হল– ছেলেমেয়েআবালবৃদ্ধবনিতা
প্রত্যেকের হাতে তোমার জন্য শোভা পাবে
নানাগন্ধ পুষ্পের তোড়া
তোমাকে গ্রহণ করবে রাজার বাহিনী, মেঘের অতিথি

যখন জঙ্গল থেকে ডাক আসে–
এসব কথা আগে থেকেই ভাবতে ভাবতে আমাদের ব্যক্তিগত
গৃহপালিত বাঘ-সিংহ-হাতির চারপাশ ঘিরে পায়চারি করি
বাড়ির অন্দর ঘিরে সুরক্ষিত রাজার বাহিনী এবং
বর্ষার পুকুরের জলে শিশুদের লাফিয়ে পড়ে স্নানের দৃশ্য কল্পনা করি

আর এসব কিছুই নিজস্ব ক্যামেরায় ধারণ করে
বড় হচ্ছে বাড়ির শিশুরা

একদিন আমি সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে
সত্যি সত্যি জঙ্গলের দিকে পা বাড়িয়ে দেই এবং
এবং বিস্মিত হয়ে দেখি, জঙ্গল মানেই হলঘর
যেখানে রাজকার্য পরিচালিত হচ্ছে, শাসন-ত্রাশন
শলা-পরামর্শ, রাষ্ট্রের সাফল্য-ব্যর্থতা তুলে ধরা হচ্ছে
কারাগার থেকে কারো মুক্তি কারো গ্রেফতার পরিলক্ষিত হচ্ছে

আমাকে দেখেই কেউ একজন গ্রেফতার করে
একগুচ্ছ ঘুমের পিল খাইয়ে দিয়ে বলল: এরপর তোমার মুক্তি

আমার দেখা হলো না জঙ্গলজুড়ে আলিশান বাড়ি, নৈশক্লাব
বিমানবন্দর, শপিংমল, বিউটিপার্লার, বার, রেস্তরাঁ আরো কত কী…

বৃষ্টি, বকুল ও আমাদের কথা

তখনো তাকে কিছুই বলিনি, অথচ সে আমার গানের খাতা টেনে নিয়ে
গাইতে শুরু করেছে–
কখনো ইশারা করিনি, অথচ নিতান্ত বৃষ্টিতে
সে আমার ছাতার নিচে এসে দাঁড়িয়ে পড়েছে

আমার সারা শরীর তন্ন তন্ন করে খুঁজে
হলুদ পাঞ্জাবির পকেটে পাওয়া একটা শুকনো চ্যাপ্টা
বকুলফুল তার হাতে দিয়ে বলি:
এতদঞ্চলে বকুলের চারা রোপণে নিষেধাজ্ঞা হেতু
একবার সমুদ্রপারের পুজোঘর থেকে ফুলটি হাতিয়ে নিয়েছিলাম

আলোচ্য ফুলটি তখন ধূসর থেকে সাদা হতে শুরু করল
গন্ধ ছড়াল– আমাদের সঙ্গে
চমৎকার কথপোকথনে গুমোট সময়টা আনন্দে ভরিয়ে তুলল

আর তখন তুমি আমার সান্নিধ্য ছেড়ে অদূরে বটগাছের
শেকড় ধরে ঝুলতে থাকলে
আমার হাতের একমাত্র ছাতা ছুড়ে মারলে শূন্য আকাশে–

ততক্ষণে আমাদের প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে কথপোকথন শুরু হয়ে গেছে
বৃষ্টি নাচল, আমরা দেখলাম
বৃষ্টি হাসল, আমরা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম
বৃষ্টি যখন প্রচণ্ড জ্বরে তপ্তশরীরে হাত-পা ঘামিয়ে
বমি করতে শুরু করল, আমরা তখন দিগ্বিদিক পাগলের মতো
ছোটাছুটি করে কাছে-দূরের পাখিদের সাহায্য চাইলাম

তারা বৃষ্টির শরীর থেকে তপ্ত জ্বরকণাগুলো খুঁটে খুঁটে খেল
এবং চারদিকে পালক মেলে দিয়ে সম্পূর্ণ সারিয়ে তুলে
মিলিয়ে গেল অনন্ত আকাশে–

আমরা আবার বৃষ্টিকে প্রতিরোধ করে
একই ছাতার নিচে মিলিত হলাম
najib2.gif
দৃশ্য

সামনেই উপন্যাসের প্লট। চলচ্চিত্রের রক্তাক্ত মুহূর্ত থেকে
দৌড়ে পালাচ্ছে লোকজন। যতই ডাকছে
আমাকে কিছুতেই নড়াতে পাড়ছে না সতীর্থ বন্ধুরা

কতদিন পর গাছের ছায়ায় ঠা ঠা রোদ্দুরকে জিরিয়ে নিতে দেখছি
প্রেমিকাকে প্রাণে বাঁচাতে ভয়ঙ্কর রক্তপাত দেখছি
এসব নিয়ে আজকাল যারা লিখছে
তাদের তস্করবৃত্তি আর মেনে নেয়া যায় না

তারা ভেতরে ভেতরে ঢুকিয়ে দিচ্ছে ব্যক্তিগত প্রেমকাহিনী
বাপ-দাদার জমিজমা নিয়ে ব্যক্তিগত গৃহবিবাদ আর
ভাইয়ে ভাইয়ে রক্তপাতের খেলা

এখানে দাঁড়িয়েই আমি ভাবছি, আসছে বছর ঈদ কিংবা
যে কোনো শারদীয় সংখ্যায়
আমার বেশ নামধাম ছড়িয়ে পড়তে পারে
কারণ এ-জাতীয় তস্করবৃত্তি ছাড়াই যে একটি উপন্যাস
পরিণতি পেতে পারে
তার পুরোটাই ঘটে চলেছে মুখোমুখি

ততক্ষণে সবাই পালিয়ে গেলেও
আমি একা একা দাঁড়িয়ে একখণ্ড আগুনের খোঁজ করছি

কেননা আপদমস্তক দৃশ্যটা এখানেই জ্বালিয়ে দিতে না পারলে
অন্য কোনো ঔপন্যাসিকের মাথা ঘুরিয়ে দিতে পারে

সঙ্গীত

সব সুর আকাশে পৌঁছোয় না বলে ভাবছি
এবার আকাশ থেকে সুর তুলে ছড়িয়ে দেব লোকালয়ে

বেসুরো কিছুই আর ভাল লাগে না আজকাল

মনে পড়ে এক ভিক্ষুকের গলায় প্রথম সুর শুনে মোহিত হয়েছিলাম

সে যখন গাইত, আমি তার গন্তব্যে গিয়ে দাঁড়াতাম
একটা দুটো করে ধ্বনি জোড়া দিয়ে লুকিয়ে নিতাম কণ্ঠে

ভিক্ষুক তার গল্প জুড়ে দিয়ে বলত:
বনেজঙ্গলে কাঠ চেরাইয়ের ধ্বনি
মেঘলাকাশে বজ্রপাতের ধ্বনি আর
সমুদ্র-নদীতে ঢেউয়ের গর্জন শুনে এক পাখি তার কণ্ঠে
সমস্ত সুর সঁপে দিয়ে বলল, একদিন অনেক বড় গায়েন হয়ে
তোমার মায়ের বুক ভরিয়ে দিতে পারবে না?

সেই থেকে ভিক্ষুক শুধু দেশের গান করে

এই প্রথম আমি দেশপ্রেম সম্পর্কে ধারণা লাভ করলেও
তার প্রতিটি গানই বিরহযাপন বলে মনে হয়
আর ভিক্ষুককে মনে হয় বিরহজাতক

এই শস্যশ্যামল বাংলার বুকে আর কত বিরহ জমা হলে
আবার সোনার বাংলায় স্বীকৃত হবে দেশ?
কিংবা ভিক্ষুকের প্রতিটি গানই হয়ে উঠবে স্বর্গীয় সঙ্গীত?

তবু কিছু ভুল

আবার দোসর ভেবে তুমি তার গলায় গলায়
চলতে শুরু করেছ
তুমি তার আঙুলের ভেতর আঙুল আর ভুলের ভেতর
যা কিছু সমাধান রেখে
কেন যে তাকে অহেতুক বাঁচাতে চাইছ
তা আজ জানাজানি হয়ে সদর সড়কে উঠেছে

আর তা সকলে জানে– আমিই একমাত্র ব্রাত্য
আজো অব্দি ঝড়বৃষ্টি কোলাহলে সড়কে ঘুমাই

আজো যারা আমাকে চেনে না
তালগাছের মৃত চারা ভেবে উপড়ে ফেলে
নির্বিঘ্নে সড়কে হাঁটে; সন্ধে হলে
পুঁতে রাখে নিজ বাড়ির সদর আঙিনায়

এই করে একদিন তারা আমাকে আকাশে তুলবে
নদীতে ডুবাবে
প্রবল বন্যার তোড়ে উঁচু উঁচু বাঁধ করে
আমাকেই রুয়ে দেবে সারি সারি বাঁধের ওপর

আমি তো জানি এ-মতো ভুলের মাশুল
এতকাল অনেকে দিয়েছে– এই আমিও একদিন
দীর্ঘ দীর্ঘ কাল, গভীরে শেকড় প্রোথিত করে
প্রবল বানের তোড়ে ভেসে যাবো সমুদ্র সকাশে

আর ধরো, তবু কিছু ভুল করে– আমাকে দোসর ভেবে
অকাতরে ডুবে যাবে সারি সারি শীতের জাহাজ

নদী ও ফুটবল

নদীর ঢালুতে একটি ফুটবল গড়িয়ে পড়তে পড়তে
স্রোতের পিঠে সওয়ার হয়ে স্বেচ্ছানির্বাসনের কথা ভাবছে–

অথচ চিরদিন স্বেচ্ছানির্বাসিত নদী তাকে এক ঝটকায়
তীরে ছুড়ে দিয়ে বলল: নির্বাসিত জীবনের চেয়ে
মানুষের পায়ে পায়ে ঘুরে বেড়ানোই কি যথার্থ হতো না?

তীব্র খরস্রোতা নদী ও ফুটবল– কেউই তার সদুত্তর জানে না

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (6) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শঙ্খচূড় ইমাম — অক্টোবর ২৬, ২০১৩ @ ১১:২৩ অপরাহ্ন

      ভালো লাগলো

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Dr. Binoy Barman — অক্টোবর ২৬, ২০১৩ @ ১১:৩৬ অপরাহ্ন

      ওবায়েদ আকাশ তার কবিতায় গল্প বলেন– প্রীতিকর ও অপ্রীতিকর গল্প, আশা ও হতাশার গল্প, বাস্তব ও অবাস্তব গল্প। এখানে মুদ্রিত ছয়টি কবিতাই পরাবাস্তবের ছোঁয়ায় ধন্য। বাইরের অলংকার সরিয়ে ভেতরের বক্তব্য বের করতে একটু খোঁড়াখুড়ি করতে হয়। এটি উত্তরাধুনিক শিল্পবৈশিষ্ট্য। আমার মনে হয়েছে ‘জঙ্গলজুড়ে মহাপরিকল্পনা’ কবিতায় কবি আমাদের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। “একগুচ্ছ ঘুমের পিল খাইয়ে দিয়ে বলল: এরপর তোমার মুক্তি”- এতে আয়রনি ও প্যারাডক্স আছে। ‘বৃষ্টি, বকুল ও আমাদের কথা’য় ধ্বনিত আমাদের ক্ষয়িষ্ণু ঐতিহ্যের কথা। “বৃষ্টি যখন প্রচণ্ড জ্বরে তপ্তশরীরে হাত-পা ঘামিয়ে বমি করতে শুরু করল, আমরা তখন দিগ্বিদিক পাগলের মতো ছোটাছুটি করে কাছে-দূরের পাখিদের সাহায্য চাইলাম” আমাদের জৈবনিক অসহায়তাকে মূর্ত করে তোলে। ‘দৃশ্য’ আমাদের সামনে উপস্থাপণ করে এক তস্করবৃত্তীয় অপদৃশ্য। “এই প্রথম আমি দেশপ্রেম সম্পর্কে ধারণা লাভ করলেও তার প্রতিটি গানই বিরহযাপন বলে মনে হয় আর ভিক্ষুককে মনে হয় বিরহজাতক।” দেশের কপালে অনেক দুঃখ–আমার সোনার বাংলা বারবার গাইলেও দেশ সোনায় পরিণত হয় না। ‘তবু কিছু ভুল’ আমাদের জাতীয় জীবনে ভুলের ফিরিস্তি। “তুমি তার আঙুলের ভেতর আঙুল আর ভুলের ভেতর যা কিছু সমাধান রেখে কেন যে তাকে অহেতুক বাঁচাতে চাইছ তা আজ জানাজানি হয়ে সদর সড়কে উঠেছে।” নেতাদের ভুলের জন্য জনগণকে চরম মাশুল দিতে হয়। পরিশেষে ‘নদী ও ফুটবল’ পারস্পরিক অবিশ্বাস ও অনাস্থায় আবিল। “নদীর ঢালুতে একটি ফুটবল গড়িয়ে পড়তে পড়তে স্রোতের পিঠে সওয়ার হয়ে স্বেচ্ছানির্বাসনের কথা ভাবছে।” প্রতিটি মানুষ স্বেচ্ছানির্বাসিত, যখন তার প্রতিবেশ কলুসিত, প্রতিকুল। অস্পষ্টস্বরে ও জটিল বাগভঙ্গিতে বর্ণিত কবিতার গল্পগুলো ব্যক্তিগত কথকতার গণ্ডি পেরিয়ে সামষ্টিক জীবনের মহাবৃত্তে গড়িয়ে পড়ে, সৃষ্টিসার্থকতায়। কবিতাগুলো শব্দের আলো-আঁধারিতে অর্থ-অনর্থের ধাঁধা-দ্বন্দ্ব তৈরি করে। পড়লে ভালো লাগে, এক ধরনের তন্ময়তার ঘোর জাগে। ধন্যবাদ কবি ওবায়েদ আকাশ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাসুদুজ্জামান — অক্টোবর ২৭, ২০১৩ @ ৫:০৬ অপরাহ্ন

      ভালো লাগলো। ওবায়েদের কবিতা মনে হয় বাঁক নিচ্ছে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন matin bairagi — অক্টোবর ২৭, ২০১৩ @ ৮:১৯ অপরাহ্ন

      কবি ওবায়েদ আকাশ আমার প্রিয়জন,প্রিয় কবিও। তার সব কবিতা আমি পছন্দ করি তা’ না হলেও তার কবিতার চমৎকারিত্বের বিষয়টিকে কখনো অস্বীকার করতে পারিনা. নি:সন্দেহে সে ভালো কবিতা লেখে এবং কিছু কিছু কবিতা আমার প্রিয় হয়ে আছে। এই পর্বে তাঁর ৬টি কবিতা ‘বিডিনিউজ’ প্রকাশ করে পাঠক হিসেবে আমাকেও উৎসাহিত করেছে । তার প্রথম কবিতা ‌‌‌‌’জঙ্গলজুড়ে মহাপরিকল্পনা’র প্রথম স্তবক
      ‘জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসবার আগে, জঙ্গলের কিছু যাপনচিত্র যেমন
      বাঘ কিংবা সিংহের সঙ্গে মহাপার্বণে দুধভাত খাওয়ার দৃশ্য
      হাতির শুঁড়ে ভর করে হলুদ পাকা আম ছেঁড়ার দৃশ্য
      আমাদের প্রচার মাধ্যমে বারবার প্রদর্শিত হওয়া জরুরি’ থেকেই কবিতাটি বুঝে নেয়া যায় যে মানব গোষ্ঠির জংগল জীবন থেকে রাষ্ট্র-সমাজ-আধুনিক পর্বের জীবনের মধ্যে তার অস্তিত্ব রাজনীতির অসঙগত কার্যকরণ জীবন-যাপন চিত্র পরাবাস্তবতার মিশেলে উপস্থাপিত হয়েছে যাতে স্পষ্টতই আশা-প্রত্যাশার বিষয়গুলো কী ভাবে জটিল এবং বিশৃংখল করে জন_জীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলা হচ্ছে ।তার পর একদিন আমি সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে
      সত্যি সত্যি জঙ্গলের দিকে পা বাড়িয়ে দেই এবং
      এবং বিস্মিত হয়ে দেখি, জঙ্গল মানেই হলঘর
      যেখানে রাজকার্য পরিচালিত হচ্ছে, শাসন-ত্রাশন
      শলা-পরামর্শ, রাষ্ট্রের সাফল্য-ব্যর্থতা তুলে ধরা হচ্ছে
      কারাগার থেকে কারো মুক্তি কারো গ্রেফতার পরিলক্ষিত হচ্ছে’ নানা রকম দৃশ্য তৈরি করে কবি আমাদের চারপাশে, আমাদের সকল চিন্তা ও নির্মাণে জংগল জীবনের, অর্থাৎ অসহায়ত্বে চিত্রটি স্পষ্টতর করেছেন। ঠিক তেমনি কবিতাটি নির্মাণ কৌশলে নানা মুখী টেকনিক ব্যাবহার করে উপমা-উৎপ্রেক্ষাকে নতুন যোজনা দিয়েছেন। আবার ‘তবু কিছু ভুল’ কবিতায়
      আবার দোসর ভেবে তুমি তার গলায় গলায়
      চলতে শুরু করেছ
      তুমি তার আঙুলের ভেতর আঙুল আর ভুলের ভেতর
      যা কিছু সমাধান রেখে
      কেন যে তাকে অহেতুক বাঁচাতে চাইছ
      তা আজ জানাজানি হয়ে সদর সড়কে উঠেছে’
      একটু ভাবলেই বুঝে নেয়া যায় বক্তব্যটি কতোটা নিখূঁত এবং খোঁচাটা কতো তীক্ষ্ণ।
      ‘নদী ও ফুটবল’
      ‘অথচ চিরদিন স্বেচ্ছানির্বাসিত নদী তাকে এক ঝটকায়
      তীরে ছুড়ে দিয়ে বলল: নির্বাসিত জীবনের চেয়ে
      মানুষের পায়ে পায়ে ঘুরে বেড়ানোই কি যথার্থ হতো না?’
      খুব দু’একটি কথায় এই স্তবকটির ব্যপকতাকে বিবৃত করা যায় না । এর অন্তর-অর্থ বিস্তৃত আলোচনার দাবী করে। নদী-মানুষ মানুষের মূর্খতা,স্বার্থপরতা, হীন স্বার্থে নদীর বলিদান এবং নানা ভাবে জীবন থেকে নদীকে নির্বাসিত করে যে ভয়াবহ পরিনামের দিকে এগিয়ে আনছে যার সাদৃশ্য রাজনীতি, দায়িত্ববানদের ভন্ডামি. স্বার্থপরতার সংগে একটা যোগসূত্র খুঁজে নেয়া যায়। তাঁরা জন-বিচ্ছিন্ন এবং পরিণাম বাহি। তাঁদের যে একমাত্র উপায় মানুষকে ভালেবাসা, তাদের পায়ে পায়ে ঘুরে বেড়ানো’ সেতো বুঝতে বাকি থাকে না ।

      ওবায়েদ আকাশের সব কটি কবিতাই সুন্দর অর্থবহ এবং পাঠ প্রয়োজনীয় । যদিও উত্তর আধুনিক কবিতার একটা ঢং আছে তাই বলে বলা যাবেনা দুরূহতায় এই কবিতা ডুবে গেছে। বলাযায় তার দূরূহ কবিতা আছে অন্যত্র সে আলোচনা এক সময় করা যাবে আরো পাঠে ।ওবায়েদ আকাশকে আমার অভিনন্দন ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আবু আফজাল মোহাঃ সালেহ — অক্টোবর ২৮, ২০১৩ @ ৭:২৪ অপরাহ্ন

      সব কবিতাগুলোই ভাল।উপমা-চিত্রকল্পের ব্যবহার যথার্থ।বেশ সুখপাঠ্য।ধন্যবাদ কবি-কে।—আবু আফজাল মোহাঃ সালেহ,চুয়াডাঙ্গা।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ওবায়েদ আকাশ — অক্টোবর ২৯, ২০১৩ @ ৫:২১ অপরাহ্ন

      আমার লেখাগুলো যারা পড়েছেন এবং চমৎকার মন্তব্য করেছেন, তাদের সবাইকে আমার অশেষ ধন্যবাদ। অনেক শুভেচ্ছা।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com