অনার্য কোজাগরী

শান্তা মারিয়া | ১৯ অক্টোবর ২০১৩ ৪:৩১ অপরাহ্ন

বাংলার আকাশ জুড়ে বহমান কোজাগরী রাত
শিকড়ের গান গায় ভেজা মাটি, বকের পালক
কুমারীর হাতে জ্বলে কবেকার লক্ষ্মীর প্রদীপ।
স্তোত্রপাঠে মুখরিত আশ্বিনের প্রাচীন পূর্ণিমা।
রক্তের ভিতর ওড়ে দুধসাদা প্যাঁচার শাবক
ধূপের সুবাসে ভাসে শিশিরের নিভৃত আলাপ।
ছাতিম ফুলের ঘ্রাণ অন্ধকারে ঘন হয় আরো।
মাটির গভীর স্রোতে কান পেতে শোনা যাক এসো
জলের বাতাসী গান, ফসলের আদিম ইশারা।
ছবি: হাসান বিপুল
অপরূপ খোলা চুল, সাদা শাঁখা, রক্তিম সিঁদুর
প্রবারণা জেগে থাক প্রেমিকের উদাসীন চোখে
কোজাগরী, কোজাগরী, বরমাল্য কার হাতে বলো,
রূপালি ফানুস ওড়ে, সুপ্রাচীন লক্ষ্মীর অন্তরে।
অনার্য আকাশে আজ নিজস্ব নক্ষত্র জ্বলে
কমলে কামিনী হাসে শঙ্খপাড় নদীর প্রবাহে
অন্ধকারে ভেসে যায় আকাক্সক্ষার মাটির প্রদীপ।

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (6) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মশিউর রহমান — অক্টোবর ২০, ২০১৩ @ ১২:২০ পূর্বাহ্ন

      বেশ ভালো হয়েছে কবিতার ছন্দ আবন্ধন, কোজাগরী পুরনিমা আমাকে আলোড়িত করেছে,

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Manik Mohammad Razzak — অক্টোবর ২০, ২০১৩ @ ১১:০৮ পূর্বাহ্ন

      কবিতাটি পড়ে ভালো লগলো, পুরোটাই মুগ্ধতায় ভরপুর। –অন্ধকারে ভেসে যায় আকাক্ষার মাটির প্রদীপ।———দারুন লেগেছে। শান্তা মারিয়াকে ঈদ ও বিজয়ার শুভেচ্ছাসহ অভিনন্দন।

      মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন jhoneey — অক্টোবর ২০, ২০১৩ @ ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

      খুব সুন্দর। ভীষন ভালো লেগেছে ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Shyamal Bhattacharjee — অক্টোবর ২০, ২০১৩ @ ১২:২৮ অপরাহ্ন

      শান্তা মারিয়া অনেক পুরোনো দিনের কবিপ্রসিদ্ধি টেনে এনে নিঃসন্দেহে এক মোহনীয় আবেশ সৃষ্টি করেছেন। ইদানীং এসব নিয়ে কেঊ লেখে না। পেঁচার শাবক, জলের বাতাসী গান, ছাতিম ফুলের ঘ্রাণ, কমলে কামিনী— এসব অনুসঙ্গ খুব চমৎকার ঐশ্বর্য জুগিয়েছে সংক্ষিপ্ত জায়গায় ঘণসংবদ্ধ হয়ে যেটি উপাদেয়। কোজাগরী একটি সন্ধিবদ্ধ সংস্কৃত শব্দ। কঃ (কে) + জাগর ( জেগে আছ ?)। ঈ-কারটি আনাবশ্যক হলেও এর একটি ব্যঞ্জনা আছে। এটা আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিত্থি। আন্যান্য নাম দ্যূতপূর্ণিমা, লক্ষ্মীপূর্ণিমা আর আশ্বিনী পূণিমা। এই সময়টা বাংলায় সবচেয়ে স্বাদু আবহাওয়া বিরাজ করে। অতিরিক্ত গরম, শীত বা বর্ষা কিছুই নেই। মনোরম আর সহনীয় ঋতু। দাশরথি রায়ের পাঁচালীতে আছেঃ ‘ঘূমে লক্ষ্মী হন বিরূপা, জাগরণে লক্ষ্মীর কৃপা, নৈলে কেন জাগে কোজাগরে?’ লক্ষ্মী বলেন, এই পূর্ণিমায় যে জাগে, তাহাকে ধন দিব। এই তিথিতে অক্ষক্রীড়া নারিকেলজল-পান ও চিপিটক (চিড়া) ভক্ষণ বিহিত।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নিবেদিতা আইচ — অক্টোবর ২১, ২০১৩ @ ৯:৫০ পূর্বাহ্ন

      অসাধারণ! চমৎকার লেগেছে প্রায় প্রতিটি চরণ!!

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন matin bairagi — অক্টোবর ২৩, ২০১৩ @ ১২:২৪ পূর্বাহ্ন

      ভালো লেগেছে শুধু সেইটুকুই আজ বলি। ভালো থাকবেন।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com