কবিতা

ঝর্না রহমানের কবিতা

ঝর্না রহমান | 25 Sep , 2013  

ঘুড়িকাব্য

পরীদের পাখা থেকে প্রতিদিন খুলে নিই সোনার পালক
কতবার বুনি আমি বেদনার বারান্দায় নকশি চাটাই
আলোকের যান নিয়ে রঙধনু পথ ধরে নিপুণ চালক
ছিন্ন করে চলে যায় আমার রঙের ঘুড়ি সুতোর লাটাই।

কয়েকটি নীল ঘুড়ি কবে যেন আনমনে উড়িয়েছিলাম
হয়তো বা ওরা ছিলো অবাক ঠিকানা লেখা মনোময় খাম
ওদের ছিলো না কোনো সুতোর বাঁধন কোনো লাটাই-শাসন
মেঘের দালানবাড়ি ছুঁয়ে ছুঁয়ে ঘুড়ি উড়ে গেছে অকারণ।

সাঁতরে পেরোয় আকাশগঙ্গা রঙমাতেলা ঘুড়ি
এক ফোঁটা কোন মেঘ-আগুনে পুড়লো ঘুড়ির পাখা
অগ্নিজলের নীল দহনে ঘুড়ির ওড়াউড়ি
ভস্ম মেখে উড়লো কাহার অবাক অঙ্গরাখা।

উড়িতেছিল ঘুরিতেছিল ইচ্ছেপাগল ঘুড়ি
মেঘময়ূরের পরম্পরায় ঝরিতেছিল নীল
রঙতামাশায় মাতাল বাতাস করলো কি খুনসুড়ি!
এক ফোঁটা রঙ লাগলো গালে– ঘুড়ির অন্ত্যমিল!

Flag Counter


3 Responses

  1. ঘুড়ি আকাশে উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে বেদনার কথা বলে। ‘পরীদের পাখা থেকে প্রতিদিন খুলে নিই সোনার পালক / কতবার বুনি আমি বেদনার বারান্দায় নকশি চাটাই’ – অসম্ভব আবেদনময় দুটি লাইন। আমাদের ইচ্ছাগুলো ঘুড়ির মতো উড়ে যায় দূর-দূরান্তে, গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে। ‘সাঁতরে পেরোয় আকাশগঙ্গা রঙমাতেলা ঘুড়ি’। আনন্দে মাতে, আগুনে পুড়ে ভস্ম হয়। এ ঘুড়ি মানবব্জীবনের প্রতীক। ঘুড়িকাব্য তাই মানবব্জীবনের কাব্য। চারটি স্তবকে কবিতাটি লেখা। প্রথম দুটি স্তবক অক্ষরবৃত্তের, শেষ দুটি স্বরবৃত্তের। দুই ধরনের ছন্দের সন্নিপাতে মিশ্রঝংকার তৈরি হয় কানে। ভালো লাগে। ধন্যবাদ কবি ঝর্না রহমান, ঝর্না আপা।

  2. ঝর্না রহমান says:

    ধন্যবাদ বিনয় বর্মণ আপনাকে, সুন্দর বিশ্লেষণের জন্য।

  3. yusuf reza says:

    ছেলেদের কবিতা মেয়েটা লিখল কেমনে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.