বেহেস্তের অশ্রু

ওমর শামস | ২৮ এপ্রিল ২০১৩ ৬:৪৭ অপরাহ্ন

(এরিক ক্ল্যাপটন-এর কাছে কৃতজ্ঞতা)
দোমড়ানো লোহা, থ্যাঁতানো থাম্‌বা
ফেলে যদি আসি, বেহেস্তে!
চিন্‌বি কি তুই –
তিস্তাপারের আক্‌লিমা?
আমি যদি আসি, বেহেস্তে!

বাগেরহাটের মেহেরুন্নিসা, ঝিনাইদহের শেখ মালেক?
অনাদি বসাক নরসিংদির, পিরোজপুরের মাজেদ শাহ্‌?
জামিল, নিতাই, সাবেরা, মালেকা, ফার্‌জানা?
বল্‌, – শুনি, শুনি –
এসেছিস তোরা অন্তবিহীন মেঘ ও হাওয়ার, আলোর গানের গেরস্থে!
আমি যদি আসি, বেহেস্তে!

তুই, চিন্‌বি – আমার নাম?
তুই, ধর্‌বি – আমার হাত?
তোর বাজ্‌বে – নুপুর পার?
খুল্‌বি দরোজা
যদি বলি,
“কই”?
কেননা, – আমি-তো – বেহেস্তের – নই!
* * * * * *
আহ্‌! বৃষ্টি এলো! বৃষ্টি হচ্ছে সাভারের, তুরাগের সবুজ-খয়েরি ক্ষেত আর দোমড়ানো লোহা-বিম–কংক্রিটের ওপর। ওরা জানে, আজ বৃষ্টি নয় এ হচ্ছে বেহেস্তের অশ্রু? ওঠাও, হাত ধরো – বেহেস্তের নই, আমাকে পা ফেলতে দাও লোহায়, কাদায়, অন্ধকারে। আমি পাতালের, স্বার্থের, সংঘর্ষের, লোলুপতার, ক্লিন্নতার – এখানে আমার নেই স্থান, কেননা এখনো আমার মধ্যে মাংশের প্রাণ। আমাকে হাঁটতে হবে দিন আর রাত, যেখানে সমুদ্র–পর্বত–তারা, মহাকাশও কাত। আমাকে ভিজতে দাও, ভিজতে দাও বেহেস্তের কান্নার ভিতরে!

Flag Counter

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (2) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আহমদ ময়েজ — এপ্রিল ২৯, ২০১৩ @ ২:৫৯ পূর্বাহ্ন

      ক্ষুধার্থ জীবন কবিতাকে নতুন বাক এনে দিয়েছে। কবি ওমর শামসের প্রতি অনেক অনেক অভিবাদন।
      শব্দ ও কাহিনীর মেলবন্ধনটি সময়ের আর্তনাদকে ধারণ করেছে। একই সাথে একটা ব্যঙ্গবিদ্রুপও সভ্যতার কোণা ধরে ঝাঁকি দিয়েছে। আমি এসব কবিতাকে কী নতুন নাম ধরে ডাকতে চাই। ক্ষুধা, আমাদের সময়ের ক্ষুধা। আমরা কী দিয়ে এই ক্ষুধাকে নিবারণ করবো বলুন?
      পাউন্ড ডলারের জোগান দিচ্ছে যারা তারা কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অবস্থান থেকে হেফাজত হতে পারেনি। কেউ তাকে হেফাজত করতে পারেনি। এই সময়ের একজন মানুষ (!) হয়েও আমি ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র হয়ে যাচ্ছি প্রতিদিন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন matin bairagi — এপ্রিল ২৯, ২০১৩ @ ৮:২৩ অপরাহ্ন

      কবিতাটি সুন্দর, তবে শোকগাঁথায় পেষ্টরাল কবিতার আমেজটুকু দেয়া গেলে তাতে একটা মিহিনতা পাওয়া যেতো এবং যেখানে শেষ হয়েছে সেখানে‌’আমাকে হাঁটতে হবে দিন আর রাত, যেখানে সমুদ্র–পর্বত–তারা, মহাকাশও কাত। আমাকে ভিজতে দাও, ভিজতে দাও বেহেস্তের কান্নার ভিতরে!’ আরো হৃদয়গ্রাহী হয়ে উঠতে পারতো । তবে যেহেতু আবৃত্তির ক্ষেত্রে আবৃত্তিকার কবিতার মৌলিক চিন্তার সংগে মিলায়ে আবেগকে টানতে পারেন তা’ হলে ভিন্ন মাত্রা পাবে। কাঠামো গত কোন ত্রুটি নেই বরঞ্চ নতুনত্ব আছে কবিতার সংগঠনে। কবিকে ধন্যবাদ, শুভেচ্ছাও রইলো।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com