কবিতা

প্রেতরূপকথা

pias_majid | 28 Apr , 2013  

এই নিকষ রাত্রিতে
আমাকে পার হতে হবে
বহু তারার তোরণ।
ভুল করে যেখানে
ফেলে এসেছি
নিসর্গের পাসওয়ার্ডগুলো;
ভ্রূণের ভেতরমহলে
রাত্রির রাগমালায়
সময়কে দেখা যায়
দ্বিধাবিভক্ত রায় দিতে
জীবন আর মৃত্যু তাই
দ্বন্দ্বসমুজ্জ্বল।
চ্যুতস্বপ্ন চোখে
নীরবতার ভেতর বাঙ্ময় কলরোল
আমাকে শেখায়
ঘুম কী করে গান গায়
তার গীতগহন মন্ত্রমালা।
এই অসুন্দর আবর্ত
নিরবরত বৃষ্টিধারার সামনে এনে দাঁড় করায়।
দেখি আগ্নেয় অভিজ্ঞান সব
সারি সারি শায়িত সেখানে
আর ব্যাকরণ-অজ্ঞ আমার
ধূসর খাতায় উপচে পড়ে
বসন্ত-ছন্দের সবুজ রক্ত।
আমি তবে
কোথায় যাব
কার কাছে যাব !
নিরস্তিত্বের বোধে দানা বাঁধা
এই বেঁচে থাকা
তুমি একে কোন নামে তাৎপর্য পরাবে?
পূর্ণিমার আয়ু ফিকে হয়ে আসতে দেখে
অন্ধকার-উজ্জ্বল ব্যালাড ধরি।
গানের ভিতর দিয়ে দেখতে থাকি ভুবনখানি
ভুবনের হাটে কত পরিচিত খেয়া
তবু আমার হৃদয়-নৌকার খোঁজ নেই কোথাও
নিরুদ্দেশ নৌকাঠামোর ন্যায় জীবনের নীরবিন্দু
গচ্ছিত আছে রূপকথার সে কোন সোনার কৌটোয়!
না, মরচে পড়া রূপকথায়
নয়তো নোঙর আমার;
যখন এই কুসীদবাস্তব
হুড়মুড় বিধ্বস্ত সহস্র শ্রম-প্রাণপুষ্পের উপর।
আজ আমরা তবে রক্তরেখায়
আবিষ্কার করে চলেছি এক নতুন কলাবিদ্যা;
ঐ দ্যাখো যুগের যক্ষপুরিতে
ঝুলন্ত নূপুর-পরা মৃতা মেয়েদের
অভিশাপী অন্তিম-নিঃশ্বাসের নদীতে
ভেসে চলেছে
অপরাধী গোটা বাংলাদেশ।

২৭ এপ্রিল ২০১৩

Flag Counter


2 Responses

  1. matin bairagi says:

    ঐ দ্যাখো যুগের যক্ষপুরিতে
    ঝুলন্ত নূপুর-পরা মৃতা মেয়েদের
    অভিশাপী অন্তিম-নিঃশ্বাসের নদীতে
    ভেসে চলেছে
    অপরাধী গোটা বাংলাদেশ।
    কবিতাটি সুন্দর,ভালো লেগেছে- ভালো থাকবেন। শুভেচ্ছা।

  2. omar shams says:

    মতিন বৈরাগীকে সমর্থন করে বলছি, “ঝুলন্ত নূপুর-পরা মৃতা মেয়েদের
    অভিশাপী অন্তিম-নিঃশ্বাসের নদীতে
    ভেসে চলেছে
    অপরাধী গোটা বাংলাদেশ ”
    এই চিত্রকল্পে এই মুহূর্তের বাংলাদেশের সংকট মূর্ত হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.