অনুবাদ, অনুবাদ কবিতা, কবিতা

টি. এস. এলিয়টের The Lovesong of J. Alfred Prufrock-এর অনুবাদ

kondokerashraf_hosen | 25 Nov , 2012  

ইংরেজি কবিতায় আধুনিকবাদের জনক টি. এস. এলিয়ট (T. S. Eliot)। যে-কবিতাটি তাঁকে প্রথম বিশ্বখ্যাতি এনে দেয় তাঁর নাম ‘The Lovesong of J. Alfred Prufrock’. আমেরিকায়-জন্ম-নেয়া এলিয়ট প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি-ফেরতা হয়ে ইংল্যান্ডে আসেন। লন্ডনে তখন মোটামুটি আসর জাঁকিয়ে বসেছেন আরেক প্রখ্যাত মার্কিনি কবি, এলিয়টের চেয়ে বয়সে বড়, এজরা পাউন্ড। পাউন্ড তরুণ এলিয়টকে সাগরেদির তালিম দেন এবং তাঁকে কবি-মহলে পরিচিত করার স্বারোপিত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। সালটা ১৯১৫। এলিয়টের পকেট হাতড়িয়ে এলিয়টের সদ্য-লেখা এই কবিতাটি পান পাউন্ড, এবং আমেরিকার শিকাগো শহর থেকে প্রকাশিত হ্যারিয়েট মনরো সম্পাদিত Poetry ম্যাগাজিনে পাঠিয়ে দেন। কবিতাটি প্রকাশিত হলে এলিয়টের নাম আটলান্টিকের দুই পারেই ব্যাপক পরিচিতি পায়। এ কবিতার নায়ক আলফ্রেড প্রুফ্রক নামের এক মধ্যবয়স্ক, টিঙটিঙে চেহারার টেকো মানুষ, যে শহরের বিত্তবান এলাকার নৈশক্লাব এবং শিল্পগ্যালারিগুলোতে ঘোরাঘুরি করে, সুন্দরী রমণীদের সান্নিধ্যলাভের আশায়, কিন্তু কাঙ্খিত রমণীর কাছে প্রেমনিবেদনের সাহস পায় না। দ্বিধাদীর্ণ তাঁর মন, যেন কমিক হ্যমলেট, নিজের মধ্যে বিভক্ত। তীব্র রিরংসাকে প্রশমনের জন্য অনন্যোপায় হয়ে দিবাস্বপ্নের জলকুমারীদের মধ্যে লিবিডোর নিরাকরণ খোঁজে। আধুনিক নাগরিক মানুষের খিন্ন, উদ্ভাসহীন ও অনির্দেশ্য জীবনযাপনেরও প্রতিনিধি সে। বস্তুত, প্রুফ্রক আধুনিক মানুষ নামের এক হাস্যকর অথচ করুণ অস্তিত্বের প্রতিনিধি। কবিতাটির, এবং বিশেষত এর নায়ক প্রুফ্রকের, ছায়াপাত ঘটেছিল তিরিশের দশকের বাংলা কবিতায়; এমনকি স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের হরিপদ কেরানির (‘বাঁশি’) মধ্যেও। ( অধিক জানকারির জন্য পাঠক দেখতে পারেন মৎরচিত প্রবন্ধ ‘প্রুফ্রকের পুত্রগণ অথবা বাংলা কবিতার নির্বিণ পুরুষ’ [কবিতার অন্তর্যামী / নান্দনিক] )

অতঃপর অনুবাদপ্রসঙ্গ। নগরচারী প্রুফ্রককে ঢাকা শহরের অধিবাসীরূপে পুনর্সৃজনের লোভ সামলাতে পারিনি। তার নতুন অবতার আলফু বেপারি, যে নাকি ‘জিন্দেগিডারে মাইপ্যা লইছে বুরহানির গিলাছ দিয়া’। পুরান ঢাকার অধিবাসীদের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ভাষিক ও বাচনিক আচরণে তাকে উপস্থাপন আমোদজনক হতে পারে। ঐ বিশেষ ডায়ালেক্টের সবিশেষ গুণগ্রাহী আমি, তাই এই নিরীক্ষা। পাঠক বিচার করবেন, আমাদের নিজস্ব সামাজিক পরিবেশে প্রুফ্রক সাহেব মানানসই হয়েছেন কিনা। – খো আ হো

আলফু সরদারের পিরীতের লাচাড়ি

(এলিয়ট ছাহেবের The Lovesong of J. Alfred Prufrock-এর অ্যাকখান পুষ্ট-মদন তরজমা)

লও যাই, তুমি আর আমি
এই মগ্রবের ওক্তে আসমানডা যহন ভ্যাট্কায়া রইছে
টেবিলের উপ্রে মিরকির বিমারীর লাহান;
লও যাই আদ্দেক সুনসান গল্লির মাইদ্দে দিয়া
যেহানে নওবপুরের হগ্গল একরাইতের হৈটালগুলাত
কারা জানি ফাসুরফুসুর করে
আওর ছালাদিয়া রেস্টরেন্টগুলানভি বেচে ইলশামাছের সালুন
গল্লিগুলান ঘুরান-প্যাঁচান দিয়া মনে লয় কী জানি কি জিগাইবার চায়…
আরে মিয়া, জিগায়ো না, ‘হ্যাইডা কী’
লও যাইগা, এক পাক দিয়া আহি।

ঘরের মাইদ্দে জেনানারা আহে আর যায়
মাইকেল জ্যাকসনের নাম জিব্বার আগায়।

হইলদ্যা কুয়াশা জিলানার লগে পাছা ঘসে
হইলদ্যা ধুমা ভি খুমা ঘসে জিলানার লগে
সইন্ধ্যার কোনাকাঞ্চির মাইদ্দে জিব্বা দিয়া চাটে,
হ্যারপর সুক্না তাওলার পাসে বয়া থাকে;
দালানের চিমনি থাইক্কা কালাকালা ঝুল গিরবার লইছে পিঠের উপ্রে
আওর ম্যাওডা হেইসুম দেয় একখান ফাল গল্লি বরাবর
কী সোন্দর কাত্তিক মাসের রাইত সমঝ্যা
ঘুম্তে থাকে দালানের চাইরপাসে, হ্যার পর নিন্দ যায়।

জ্বি হাঁ টাইম তো অইবই।
কিল্লাইগা –
হইলদ্যা ধুমা গল্লির মাইদ্দে লটপটি খাইবার লইছে
আওর জিলানার লগে ঘসবার লইছে পাছা;
টাইম অইব, টাইম অবস্সই অইব
খুমা দেহনের লাইগা খুমা তয়ার করনভি লাগব
টাইম অইব খুনখারাবির টাইম অইব বানানের
টাইম অইব আতের হগল কাম সারনের
যেই আত প্রশ্ন গিরাব তোমার তস্তরীর ওপ্রে
তোমার লাইগা টাইম, আমার ভি টাইম লাগে–
টাইম হইব হ আর না-এর হাজার দিল্লাগির
হাজার খোয়াব আওর হাজার গোস্তাখির–
তোমার লগে বয়া চা খাওনের আগে।

ঘরের মাইদ্যে মাইয়ারা আহে আর যায়
মাইকেল জ্যাকসনের নাম জিব্বার আগায়।

আর হাছাই টাইম অইব একবার
কওনের– ‘হিম্মত আছে নিকি, হিম্মত আছে নিকি আমার?’
টাইম পিছন ফিরনের টাইম সিরি দিয়া নামনের
চান্দির উপ্রে গুল্লিস্তানের খাল্লি ইস্টেডিয়াম লয়্যা —
(হ্যারা কইব, চুলগুলান কেমুন পাতলা অয়া গেছেগা !)
আমার এই সেরওয়ানির কলার সক্ত অয়া খাড়া গলা বরাবর
পান্জাবিডা গিলা করা আওর কড়া ইস্তারি মারছি
(হ্যারা কইব, মাগার পাওদুইডা আর ড্যানা কেমুন হুকায়া গেছে !)
আমার কি হিম্মত আছে
দুনিয়াডারে ডিস্টার্ব করনের?
একমিনিটে টাইম অইব
ইরাদা করনের আর এক মিনিটে ভাঙ্গনের।

কিল্লাইগা–
আমি তো ছব হালারে চিনছি,
চিনছি মগরব, ফজর আর আছর,
জীবনডারে মাইপ্যা লইছি বুরহানির গিলাছ দিয়া
ঐযে কারা জানি ফুসুরফাসুর করতাছে দূরের কুন্ কামরার ভিত্রে
কড়া কাওয়ালির আওয়াজের মাইদ্দে ভি হেই গলা চিনা লাগতাছে
তাইলে কন কেম্নে হিম্মত দেখাই ?

আওর চিন্না লইছি ছবগুলান চোখ,
যেই চোখগুলান আপনেরে বানায় এক বানাইন্যা বাত
আওর যেই টাইমে আমারে প্যারাক দিয়া গাইথ্যা ফেলায়
আর আমি হালায় কেউচ্চার লাহান মুচড়াইবার লই
তখন ক্যামনে বাতচিত বিসমিল্লা করন যায়,
ছিগরেটের পাছা ভি থুক দিয়া ফালান যায়?
আর ক্যামনেই বা হিম্মত দেখাই কয়া পারেন?
………………………..
কমু নিকি মগরবের ওক্তে চিপ্পা গল্লির মাইদ্দে কত ঘুমছি
আওর দেকছি একলা আদমি জিলানায় খাড়ায়া খাড়ায়া
ফতুয়া গতর দিয়া পাইপে ধুমা ছারবার লইছে ?
আব্বে এর চায়া যুদি অইতাম কাঁকড়ার একজুরা দাড়া
সুনসান দৈরার পার দিয়া কাতুরকুতুর কইরা আটতাম!
………………………..
আওর সইন্ধ্যাডা কেমুন খাতিরজমা নিন্দ যাইতাছে !
লাম্বা আঙুল দিয়া কেডা জানি বিলাইডার পসমে আত বোলায়
আর বিলাইডা নিন্দ যায় নৈলে কুইড়ামি করে, মাইঝালের উপ্রে
লাম্বা হয়া হুয়্যা থাকে, তোমার আর আমার মাঝখানে।

চা-চু, ফিন্নি জর্দা খাউনের পরে
হিম্মত কইরা কয়া ফালামু নিকি?
মাগার যতই কিনা এবাদত বন্দেগী কইরা কপালের মাইদ্দে দাগ ফালাই
রুজা-নমায-কুরবানী দেই পরহেজগার আদমির মাফিক,
আর আমার টাউক্কা মাথাডা ভি হালিম পাকাইবার লিগা আইন্যা ধরি ছামনে
কিচ্ছু কাম অহে না, হালায় আমি তো পীরপেগাম্বর না–
যাউকগা, হেইডা বড় বাত না।
বাত অইলো আমার মর্দামির ওক্ত আমার চক্কের ছামনে ফাল পাড়ে
মাগার কিচ্ছু করা পারি না, আমার নসীবডা
ছময়মতন পানজাবির কুনা নইলে পায়জামা টাইন্যা ধরে।
মুদ্দা কতা, দিলে তাকত পাইনা, খালি ডরাই।

* * * *
না, আমি ত হালায় নবাব ছেরাজুদ্দলা না, অয়াও পারুম না।
আমি অইছি গুলাম হুছেন, আমারে না অইলে পালা জমে না,
দুই একহান সিন বিসমিল্লা করনের লাইগা আমারে লাগে, নবাবরে
দুই একহান সল্লা দেই, বহুত খাতির উতির করি মাইনসেরে,
কামে লাইগা খুসি হই, কেউ হুমুন্দির পো কইলে ভি দিলে ছান্তি লাগে
সবসুম চালাকির উপরে থাকি, পান থাইক্কা চুনভি গিরবার দেই না
পাকনা পাকনা বুলি ছাড়ি, কেউ মর্তবা বুঝে না–
মজাক্ ঠিসারার মাফিক মনে অয়, দিনরাইত জুকারের লাহান ঘুরি।

বুড়া অইবার লইছি , অইবার লইছি বুড়া
আমি অহন উল্টায়া পরুম পায়জামাডার গুড়া।

মাথার পিছে সিথি করুম? একখান নাসপাতি খায়া পারি নিকি?
সাদা রুহিতপুরি তবন পিন্ধ্যা বুড়িগঙ্গার পার দিয়া আটুম.
নদীর মাইদ্দে জলপরীরা মেরা লাল দোপাট্টা মলমল
গীত হুনায় একজন আরেক জনেরে

মাগার আমার লাহান পুড়াকপাইল্যারে গীত হুনাইব না।
আমি দেকছি ঢেউয়ের উপরে বয়া হ্যারা সমন্দরের দিক যাইবার লইছে
আওর চুল আচড়াইবার লইছে সাদা চিরনি দিয়া
যেইসুম পানির উপ্রে বাসাত তুলবার লইছে সাদা কালা ঢেউ।

খাতিরজমা বয়া রইছি সমন্দরের বাসরঘরের মাইদ্দে
জলপরী মাইয়ারা গাইবার লইছে লীলাবালি লীলাবালি
আওর গলাত পরায়া দিতাছে ছৈবালের মালা
মাইনষের গলার আওয়াজ হুইন্যা টাস্কি ভাইঙা উঠি,
আওর আত্কা ডুইব্যা যাই পানির আন্দরে।

Flag Counter


25 Responses

  1. মোজাফফর says:

    ফাজলামো মনে হল। পুরাটা পড়লাম না।

  2. অসাধারণ কবিতার অসাধারণ অনুবাদ।

  3. শামসুর রাহমান সাহেবের সাথে আমার একটা মিলের জায়গা হচ্ছে আমাদের দুজনের জন্ম, বাড় পুরোন ঢাকার কুট্টি পরিবেশে!আমরা কিন্তু ”ডা” প্রত্যয় তেমন ব্যবহার করি না।সন্ধ্যা, সইন্ধাডা না বলে, বলতাম সাঝ বা সাইঝ!আমাদের বুলিতে আদুরে গালাগাল ছাড়া ‘উ’ ব্যাবহার তেমন নেই; ‘খাউন’ না বলে বলি, খাওন।”মধ্যে’ বা ‘মইধ্যে’ আমরা প্রায় একেবারেই ব্যাবহার করি না; বলি ‘ব্যাড়ায়া’, ”কপালের মইধ্যে’ না বলে বলবো ‘কপাল ব্যাড়ায়া’!”চিপ্পা গল্লির মাইদ্দে”, না বলে নিশানা বোঝাতে বলবো, ”চিপা গল্লির বগলে”!এরকম বিভিন্নরকম ‘মধ্য’ বা ‘মাঝখানের’ জন্য বিভিন্ন শব্দ আছে!

    ঝিগাতলার দিকের নোয়াখালি থেকে আসা ট্যানারি মালিকেরা পুরানা কুট্টি ট্যানারি মালিকদের সাথে কথা বলবার সময় ‘ছ’, ‘ড’ বসায় একটা গোলমাল বাধায়!আবার নদীর এপার, ওপার ঘটনাও আছে! সিলসিলাটার গোমর না জানলে ভাষাটা ধরা কঠিন!’শ’ আমাদের কেউ, কেউ ‘স’ বলে; তবে ‘ছান্তি’ বা ‘ছেলাম” শুনি নাই।ছেরা-ছেরি জাতিও কিছু শব্দ ছাড়া, শব্দের প্রথম দিকে ‘ছ’এর প্রতি আমাদের একটা অনিহা আছে!।।হাহ হা…আমরা বলি বকরি-ইদ, ছাগলওতো বলিনা!

    নিজের এলাকার বুলি অন্যদের লিখিত প্রয়াসে দেখবার আনন্দ আছে।তাতে ভাগ দেবার জন্য ধন্যবাদ। অনেকে বলবে যে আমি যা লিখলাম এতক্ষন, তা প্রমিত; কিন্তু আমার কাছে প্রমিত কথনভঙ্গিটাও চোস্ত ঢাকাইয়াঃ কুত্তায়ে চায় রাতিব…এসব আমাদের পেহেচান আলাপ!’…’লিবিডোর নিরাকরণ খোঁজে”…পড়ে উতকন্ঠিত হলাম!যৌনতাবোধক ক্রিয়াপদের এহেন বেহালের দিকে আঙ্গুল উচিয়েই লিখেছি ”বাংলা ক্রিয়াপদঃ কাল্ট, অকাল্ট, প্রতিক্রিয়া পার হয়ে” এই আর্টস,বিডিতেই।আশা করি পড়বেন।ভাল থাকুন।

  4. kamruzzman Jahangir says:

    অনুবাদ চমৎকার হয়েছে। এর অন্তর্জগতের আবহ নতুন এক মাত্রা পেল যেন। থ্যাঙ্কস!

  5. akber says:

    এলিয়ট-রে রেপ না করলেও চলতো।

  6. Manik Mohammad Razzak says:

    জব্বর তরজমা করছেন, হেভী টেস্ পাইলাম। ফির ভী লিখবেন। আপনারে হাজার ছালাম।

  7. শিবলী আহমেদ says:

    তুখোর! চরম!! ফাডয়ালাইছেন বাইজান এক্কেরে!! খালি ২ টা বিষয়:

    “ঘরের মাইদ্দে জেনানারা আহে আর যায়
    মাইকেল জ্যাকসনের নাম জিব্বার আগায়।”

    -এই টা ঢাকার পটভূমিতে আরো স্বার্থক করার সুযোগ আছে কি না, দেখার আবেদন রইল।

    “লও যাই, তুমি আর আমি”- তুমি /আমি’র ফয়সালা টা কি?

    পরিশেষে আবার বলি অসাধারণ একটা অনুবাদ উপভোগ করলাম!

  8. hassan says:

    এই কবিতাটি অত্যন্ত বিখ্যাত, বিশেষত স্ট্রেচারে শায়িত রোগীর সাথে সন্ধ্যার উপমাটা কিংবদন্তী হয়ে গেছে। এটা ভালো লক্ষণ যে ইলিয়ট অনূদিত হচ্ছেন। আর আশরাফ সাহেবেরে মত শক্তিশালী কবি দায়িত্ব নিয়েছেন বলে আশা আরো বাড়ে। সন্দেহ নেই একঅর্থে তিনি উতরে গেছেন, আবার আর এক অর্থে ভুলপথগামী। সমাজের যে অংশের কথা ভেবে অনুবাদটা করা, দ্রুত পরিবর্তিত হওয়া অর্র্থকাঠামোতে এরা উপরে উঠে আসবে। তখন একটি এলাকার ভাষার বদলে পাওয়া যাবে একটি জাতীয় ভাষা। প্রকৃতভাবে আলাদা শব্দ ছাড়া একই শব্দের একাধিক ভিন্ন উচ্চারণ বজায় থাকা দেশের ঐক্যের প্রতি হুমকি। এতে ভাষার উন্নতি হয় না। পানি আর হানি থেকে কি লাভ। জল চলে। বিদেশীরা এই বিচ্ছিন্ন ভাষাকে নাকি উৎসাহ দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের মঙ্গলের কথা ভেবে এরা কাজ করে, নাকি ষড়য্ন্ত্র চালানোই উদ্দেশ্য থাকে? তাছাড়া যে শ্রেণীর কথা ভেবে অনূদিত, তারা কি অদৌ এই কবিতার পাঠক? একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের জ্ঞান ব্যাতীত ইলিয়টের কবিতা পাঠ কি সম্ভব? অথচ একটি রোগা, অশক্ত মানুষের নারীর স্বপ্ন তো খুব স্বাভাবিক ঘটনা। এটি এমন ভাষায় লিখলে কি ভালো হতো না যেভাষায় সমাজের যারা কবিতা পড়ে, তারা কমিউনিকেট করে। সমাজের উন্নয়নে দরিদ্র শ্রেণী উপরে উঠে আসার পর শিল্পচর্চায় মন দিলে সেই ভাষাতেই চলে আসবে। তাছাড়া তখন স্থানীয় রুপ বাদ দিয়ে একটা জাতীয় রুপও পাওয়া সম্ভব। খন্দকার আশরাফের অনুবাদ প্রশংশাযোগ্য। তবে এইপ্রক্রিয়া অনুসরণ না করাই ভালো। আমি সাহিত্যে শ্রেণীবৈষম্য মানিনা, কিন্তু চরমপত্রের ভাষায় যারা উত্তেজিত হয়, তারা ইলয়টের কবিতার পাঠক নন। আর যখন সমাজের উন্নয়নে হবেন, তখন এদের মুখের ভাষাটা বদলে যাবে। গুরুত্বপূর্ণ অনুবাদগুলো দীর্ঘায়ুর দিকে নজর রেখে করা উচিত। অনুবাদককে একটি সৎ কাজের জন্য ধন্যবাদ।

  9. khalil Mazid says:

    ঢাক্কাইয়া ভাষায় কবিতাটা ইংরেজির চে বেশি ফুটতাছে মনে হয়।
    কবি খোন্দকার আশরাফ হোসেনকে ধন্যবাদ। অনবদ্য লাগছে কবিতাটি।

  10. saleh rahman says:

    ফাজলামিই মনে হল আমার কাছে। তবে প্রকাশভঙ্গীটা অসাধারণ লেগেছে আম্র কাছে- ঢাকাইয়া ভাষা ব্যবহার করার কারনে।

  11. বিবেক আনন্দ says:

    জঘন্য অনুবাদ

  12. Khondakar Ashraf Hossain says:

    যাঁরা মূল ইংরেজি কবিতাটি পড়েননি তাদের কাছে অনুবাদটি ফাজলামো মনে হতেই পারে। ‘তুমি/আমি’-র রহস্যও দুর্ভেদ্য হবে তাঁদের কাছে। প্রুফ্রকের ভেতরের দুটি সত্তা– একটি অন্যটিকে বলছে, চল যাই। ভ্রমণটাও অন্তরের গহনেই । Interior monologue-এই কবিতাটির একটি এক্সপেরিমেন্টাল অনুবাদ এখানে করা হয়েছে, বলা যায় for the fun of it.

  13. matin bairagi says:

    মনে হচ্ছে স্থানীয় ভাষায় অনুবাদ, অবলম্বনে নির্মাণ কিংবা ইত্যাদি যা-ই হোক বাংলা ভাষার তাতে গতি হবে কিনা তা’ ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে । আর অন্যদিকে ‌‌’এলিয়টের’ কবিতাটির সৌন্দর্য খর্বিত হলো কিনা তাও বিবেচনার দাবী রাখে। যদি বাংলা ভাষার চলনটি এমনই হয় এবং আমরা যারা বংলায়-ই কথা বলি – যারা কোন একটি স্থানীয় ভাষায় কথা বলি না তারা খানিকটা রসাস্বাদনে বঞ্চিত হলাম। এমনিতেই অনুবাদে মুলের অনেক কিছু হারিয়ে যায়, যা থাকে তা প্রায় অনুবাদকের অনুভূতির মিশ্র নির্মাণ। তার পরেও সকলের অনুভবকে ছূঁইতে পারা সম্ভবত যথাযথ হবে ।
    ‌ভারতে প্রচলিত ১৫০০টি ভাষার মধ্যে মাত্র ৪৩৩ টি ভাষা টিকে আছে’। বাংলা ভাষা এখনো ভালো অবস্থানে আছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন । ১৭০০ বছরের প্রায় বিস্মৃত হিব্রু যার শব্দবাহিনীতে মাত্র ৫০০০ শব্দ টিকে ছিলো আর তার ভান্ডার আজ ১২০০০০ ব্যাপ্তি পেয়েছে । ভাষার টিকে থাকার বিষয়টি নির্ভর করে একটি জাতীর রাজনীতি,সমাজ অগ্রগতি, অর্থনৈতিক উন্নতি এবং শিল্প সাহিত্য ইত্যাদির উপর । সে ক্ষেত্রে স্হানীয় ভাষা সাহিত্যে ব‌্যবহার অযৗক্তিক নয়, তবে অনুবাদের, বা ভাবানুবাদে তা’ সঠিক হবে কিনা বা একটি শিল্পকে বিপুল বাংলা ভাষিকে পড়তে বুঝতে সাহায্য করবে কী-না সে বিষয়ে আমরা ভাবতে পারি।

  14. Nasir Uddin says:

    .Is it postmodern form of translation? if it is ,this is great!

  15. শিবলী আহমেদ says:

    এলিয়টের এক সাক্ষাৎকারে পড়েছিলাম, প্রুফক কবিতার তুমি আর আমি আসলে ২ জন পৃথক ব্যক্তি, যা সকল অনুমানকেই গুবলেট পাকিয়ে দেয়। আর তাই আপনার দৃষ্টিকোন থেকে বিষয়টি কেমন দেখছেন জানতে পারলে ভালো লাগতো।

  16. Aporajeeta Nakshatro says:

    বেশ আগে এই অসাধারণ অনুবাদটির আবৃত্তি শোনার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। তখন থেকেই এর লিখিত ফরম্যাট এর সন্ধানে ছিলাম…আজকে হাতের কাছে পেয়ে আনন্দিত হয়েছি…কবিকে ধন্যবাদ।

  17. Hamim Faruq says:

    This effort reminds me of Shamsur Rahman’s ‘ Ei Matowala raite’. I enjoyed it.

  18. তাইফুর রহমান says:

    TSC তে শোনার পর থেকে খুব আগ্রহ ছিল পড়ে দেখার।এক কথায় অসাধারণ লাগলো।

  19. Sohail Chowdhury says:

    আমি আমার জীবনে সম্ভবতঃ এত চমৎকার অনুবাদ আর দেখি নাই। এটাকে অনুবাদ না বলে পূনঃলেখনই বলা যায়। পুরান ঢাকার কুট্টি ভাষার এই ব্যবহার প্রুফ্রক ওরফে আলফু সর্দারের অক্ষমতা প্রকাশে চমৎকার অনুপুরক। তাছাড়া মূল কবিতার চরিত্রের আত্ম-বিদ্রুপের সুরের সাথে সংগতি রেখে অসাধারণ কিছু শব্দের প্রতিস্থাপন আমাকে বাকহারা করেছে, যেমনঃ Love Song = পিরীতের লাচাড়ি, Coffee Spoon = বুরহানির গিলাছ, Prince Hamlet = নবাব ছেরাজুদ্দ
    লা, (butterfly) pinned and wriggling on the wall = কেউচ্চার লাহান মুচড়াইবার লই, after tea and cakes and ices = চা-চু, ফিন্নি জর্দা খাউনের পরে … ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি!

  20. শাহীনুল ইসলাম says:

    না, আমি ত হালায় নবাব ছেরাজুদ্দলা না, অয়াও পারুম না।
    আমি অইছি গুলাম হুছেন, আমারে না অইলে পালা জমে না,

    অনেক ধন্যবাদ খো আ হো…

  21. sumaiya rahman says:

    hmm pore asolei valo laglo…

  22. samiur says:

    It was wonderful sir.

  23. Asraf says:

    স‌্যার…… “আলফু সরদারের পিরীতের লাচাড়ি” …. অনুবাদ নয়…. পূনঃলেখন বা স্বতন্ত্র কবিতা হিসেবে অসাধারণ লাগলো।

  24. ওয়াসিম পারভেজ says:

    বিশ্রী অনুবাদ…

  25. Shamim says:

    অনুবাদকে যদি প্রকৃত অন্তর্নিহিত ভাবের সাথে মেলানো যায় তবে সেটা নিঃসন্দেহে অসাধারণ হয়। এখানেও খুব সুন্দর হয়েছে।
    কিন্তু আমার মত পাব্লিকের জন্য এবার পুরান ঢাকার ভাষা থেকে পাঠ্যবয়ের ভাষায় অনুবাদ করে দেবেন কোন সুহৃদ!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.