গদ্য, প্রবন্ধ, ব্যক্তিত্ব, স্মরণ, স্মৃতি

মান্নান সৈয়দ: আমি যার কাননের পাখি

রাজু আলাউদ্দিন | 9 Sep , 2012  

মাদকাসক্ত মানুষের যে আকর্ষণ থাকে মাদকের প্রতি, মান্নান ভাইয়ের প্রতি আমার আকর্ষণ ছিলো সে রকম। এই আকর্ষণের কারণ তাঁর গল্প, কবিতা আর প্রবন্ধ। অমোঘ ছিলো সেই আকর্ষণ।

আমার লেখালেখির সূচনায় তিনি তখনই প্রতিষ্ঠিত লেখক, কিন্তু লেখক-স্বভাবে তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠানভেদী এক দুর্মর সত্তা। বড় কাগজে লিখতেন আবার ছোট ছোট কাগজেও লিখতেন তিনি। আমরা সেসব লেখার উপর হুমড়ি খেয়ে পরতাম। তিনি ছিলেন আমাদের মতো বহু তরুণ লেখকের আকাঙ্খার এমন এক মানচিত্র যেখানে প্রবেশের জন্য দরকার ছিলো পাঠক হিসেবে কল্পনাপ্রবণতা ও তীব্র সংবেদনশীলতা। এই দুটো গুণ ছাড়পত্র হিসেবে কাজ করতো তার রাজ্যে প্রবেশের জন্য।

আমরা অনেকেই এই প্রবেশাধিকার পেয়েছিলাম; কিন্তু আমাদেরই মধ্যে কেবল কেউ কেউ প্রবেশ করেছিলাম তার রাজ্যে, তার প্রাসাদে এবং সবশেষে তার সুরক্ষিত গোপন জগতে যা অদৃশ্য কিন্তু কুসংস্কারের মতোই শক্তিশালী ও বিদ্যমান: হৃদয়। তার এই জায়গাটিতে আমি প্রবেশাধিকার পেয়েছিলাম পরিচয়ের অল্প কিছুদিন পরপরই, আটের দশকের দ্বিতীয়ার্ধে।

মান্নান ভাইয়ের সাথে প্রায়ই দেখা হতো, আড্ডা হতো তার গ্রীনরোডের বাড়ির কাছে নিমন্ত্রন নামক হোটেলে অথবা শিল্পতরুর অফিসে । ১৯৯৯ সালে আমি দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তার সঙ্গে দেখা না হলেও ফোনে আলাপ হতো মাঝে মাঝে। ফোন করলে তিনিই কথা বলতেন বেশি। আমি শুনতাম। লম্বা সময় ধরে কথা চলতো। সব সময়ই আলাপের বিষয় ছিলো সাহিত্য, সাহিত্যের পরিবেশ এবং কোন কোন লেখক সম্পর্কে মুখরোচক মন্তব্য। আমি লক্ষ্য করেছি সাহিত্যের বাইরে তার অন্যকোন জগত ছিলো না। শিল্প সাহিত্য দ্বারা এমনভাবে আক্রান্ত লেখক আমাদের সময়ে আর কে ছিলেন বা আছেন? প্রতিটি বাংলা বর্ণমালা ছিলো তার কাছে সার্বক্ষণিক খেলার বিষয়। আমি যে-রকম চাই কিন্তু নিজে যা হতে পারিনি তিনি ছিলেন তারই–পরিপূর্ণতো বটেই–, যেন তারও চেয়ে বেশি উপচে-পড়া এক ব্যক্তিত্ব। এই ব্যাপারটাই আমাকে মৌমাছির মতো তার ব্যক্তিত্বের মৌচাকের চারপাশে বেধে রাখতো। যখন দূরে ছিলাম তখনও এই আকর্ষণ বলয় আমার দিক থেকে অটুট ছিলো সব সময়।

ফোন করলে খুব খুশী হতেন মান্নান ভাই। কত কত লেখকদের সম্পর্কে কৌতুককর ও সত্যভাষণ যে তিনি করেছেন তা এখন আর মনেও পড়ে না। অধ্যাপকদের উপর খুব চটা ছিলেন। অধ্যাপকদের বলতেন ‘অর্ধপোকা’ আর বলেই নিজের উদ্ভাবিত শব্দ ও কৌতুক-বাণে বিদ্ধ করার সাফল্যে হো হো করে হেসে উঠতেন। আর বলতেন, ”জানেন, এই অর্ধপোকাগুলো কিস্সু বোঝে না, কিন্তু সারাক্ষণ জ্বালিয়ে মারে।” আমি একটু ইন্ধন দিয়ে হয়তো বলতাম, ‘‘ছারপোকার মতোই”। ‘‘একদম ঠিক বলেছেন।” এরপরই আবার তার স্বভাবসুলভ হাসির উত্তাল ঢেউ। মনে পড়ে ঐ সব মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে হাসির ঢেউয়ে ক্রমশঃ ডুবে যাওয়া তার উচ্চারিত শব্দের বিলীয়মানতা। যেন ঢেউয়ের মধ্যে সাঁতার না জানা এক কণ্ঠস্বরের হাবুডুবু খাওয়া অবস্থা। অচিরেই তা থেকে বেরিয়ে এসে হয়তো বললেন, ‘‘বুঝলেন। এই বাঙালি মোচলমানদের (তার নিজস্ব উচ্চারণ) দিয়ে কিচ্ছু হবে না।” আমি অনুমান করতে পারতাম, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক, সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক-সামাজিক পরিবেশ নিয়ে তার মধ্যে হতাশা ছিলো। কিন্তু তার সৃষ্টিশীলতা এত দুর্মর আর একাগ্রতা এতটাই অদম্য ছিলো যে এই সব হতাশাকে শেষ পর্যন্ত পায়ে দলা মুখা ঘাসের মতো তিনি পেরিয়ে গেছেন। মাঝে মধ্যে বলতেন, ‘‘ভালোই করেছেন দেশ ছেড়ে গিয়ে। সাহিত্যিক পরিবেশ এত নষ্ট হয়ে গেছে যে এখানে আপনি কোন কিছুর স্বীকৃতি পাবেন না। মদ, নারী আর দুর্বৃত্তপনা সাহিত্যের সৎ ধারাকে কোণঠাসা করে ফেলেছে। আমাদের বড় বড় লেখকরা বড় লোকদের মাসোহারা আর কর্পোরেটের দাস হয়ে তৃপ্তির ঠেকুর তুলে শেষ হয়ে গেলো।”
mannan-me.gifমান্নান ভাইয়ের স্নেহময আলিঙ্গনে আমি ২০০৮ সালে ধানমণ্ডির এক প্লাজার ভেতরে। (ছবি:রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী)
আমি ২০০৪ সালে একবার সপরিবারে দেশে এসেছিলাম। মান্নান ভাইয়ের সাথে দেখা করবো করবো করে আর দেখা হয়নি। আমার ছেলে ডায়রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় সফর সংক্ষিপ্ত করে মেহিকো ফিরে যাই। মান্নান ভাইকে চার বছর পর দেখার সুযোগ পেয়েও দেখা করতে না পারায় খুব খারাপ লেগেছিলো। মেহিকো ফিরে ফোন করে তার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলাম। ছেলের অসুস্থতার কথা জেনে তিনি ক্ষমা করেছিলেন। উনি ক্ষমা করায় হৃদয় থেকে একটা পাষাণ নেমে যাওয়ার মুক্তি পেয়েছিলাম। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আর যেন এ রকম না হয়।

২০০৮ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের আয়োজনে এবং আমন্ত্রণে আমি, বন্ধু আনিসুজ্জামান এবং আমাদের আরেক বন্ধু আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বোর্হেস-অনুবাদক নরমান টমাস ডি জিওভান্নিসহ এসেছিলাম লাতিন আমেরিকান সাহিত্য বিয়ষক এক সেমিনারে। এসেছিলাম এক সপ্তাহের জন্য। পরে আরও এক সপ্তাহ থেকে গিয়েছিলাম আনিসের প্ররোচনায়। চমৎকার কেটেছিলো ওই দুই সপ্তাহ। নরমানের সঙ্গে আড্ডা আর মাঝে দুই তিন দিন মান্নান ভাইয়ের সাথে বেশ লম্বা সময় নিয়ে আড্ডা দিয়েছিলাম। ঢাকা আসার আগে মান্নান ভাইকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তার জন্য কী বই নিয়ে আসবো। তিনি বললেন, সালভাদর দালিকে নিয়ে কোন ভালো বই পেলে নিয়ে আসতে। দালির লেখা বই এবং দালির পেইন্টিংয়ের বই তার কাছে যে আছে সেটা আমার আগে থেকেই জানা ছিলো। আমি খুঁজে খুঁজে এমন একটা বই বের করলাম যা মান্নান ভাইয়ের কাছে থাকার সম্ভাবনা কম। বইটি ছিলো স্পেনের বিখ্যাত লেখক রামন গোমেস দে লা ছেরনার পরিকল্পিত একটি বই দালিকে নিয়ে। রামন বইটি শেষ করতে পারেননি। ওনার মৃত্যুর পর অসমাপ্ত অবস্থায়ই প্রকাশিত হয় সেটি।
mannan-buland-pulok.gifমান্নান ভাইয়ের বাসায় আমি, বুলান্দ জাভীর এবং পুলক হাসান। (ছবি:জাহাঙ্গীর সাহেব)
বইটি সত্যিই খুব আকর্ষণীয়। বইটির শানে নযুল বয়ান করে যখন মান্নান ভাইকে উপহার দেই তখন যে তিনি কী খুশী হয়েছিলেন তা ঐ শিশু-সুলভ আনন্দময় প্রকাশ দেখেই বুঝেছিলাম। দালি ছিলো তার প্রিয় চিত্রশিল্পীদের একজন। বইটি তার হাতে দেয়ার কয়েকদিন পর তার একটা ইন্টার্ভ্যূ নিতে গিয়েছিলাম তার বাসায় আমি, বুলান্দ জাভীর আর পুলক হাসান। প্রশ্ন করার নেতৃত্ব ওরা আমার হাতেই ছেড়ে দিয়েছিলো। ওই আলাপচারিতা ‘খেয়া’ নামক লিটলম্যাগের জন্য নেয়া হলেও তা আজও পর্যন্ত বের হয়নি। তো ইন্টার্ভ্যূ নিতে গিয়ে দেখি তার ড্রয়িং রুমের পশ্চিম পাশের বইয়ের আলমারির তাকে উপহার দেয়া বইটি দাড় করিয়ে রেখেছেন। দেখে আমার খুব ভালো লেগেছিলো। বুঝলাম বইটি তার মনে ধরেছে। তার মতো বই-পাগল মানুষকে খুশী করা ছিলো খুবই সহজ।

আমাদের ‘কবি’ গোষ্ঠীর প্রতি তাঁর আলাদা একটা টান আর মমতা ছিলো সব সময়ই। এটা আমরা টের পেলাম আরও কিছুদিন পর। যদিও আমি মেহিকোর পাট চুকেবুকে আসবার আগেই মান্নান ভাইয়ের সাথে ফোনে আলাপ থেকেই কিছুটা অনুমান করেছিলাম। তিনি একদিন বললেন, ”রাজু, আমার একটা বই বেরিয়েছে। এটা আপনার পেতেই হবে।” মান্নান ভাইতো কখনো নিজের বইয়ের কথা এভাবে বলেন না। আমার তখনই একটু সন্দেহ হয়েছিলো নিশ্চয়ই কিছু আছে ওতে। কী সেটা? কেন সেটা আমাকে পেতে হবে? পরের বার ২০০৯-এর নভেম্বরে ঢাকায় এসে তাঁর ডায়েরি: ১৯৭৮-২০০৮ পাতা উল্টাতে গিয়ে বুঝলাম কেন। আমাকেসহ ‘কবি গোষ্ঠী’র অন্য ৫ জনকে তাঁর এই বইটি উৎসর্গ করেছিলেন। আমাদের নামের নিচে লেখা রয়েছে ‘-আমার কাননের পাখিরা-’। আনন্দে চোখে জল এসে গিয়েছিলো মান্নান ভাইয়ের এই ভালোবাসার উপহার দেখে। আমাদের মনের স্বভাবই এমন যে কেউ বা কোন কিছু চোখের আড়াল হলেই আমরা তা ভুলে যাই। মান্নান ভাই এত ব্যস্ত মানুষ হ্ওয়া সত্তেও বিস্মৃতপ্রবণ স্বভাবের প্রতিকূলে গিয়ে অনুজের প্রতি স্নেহ আর ভালোবাসাকে এমনভাবে ধরে রাখার মতো তুচ্ছ কাজকেও গুরুত্ব দেয়ার সময় পেতেন – এটা ভাবলে অবাক না হয়ে পারি না। বিজুর দোকান থেকে বইটি কিনে ঐ দিনই তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ফোন করেছিলাম।

২০০৮ এবং ২০০৯ এসে আমি তার বেশ কিছু ছবি তুলেছিলাম। তাঁকে আমি সেগুলোর প্রিন্ট কপি দিলে তিনি খুব খুশী হন।

আজিজ মার্কেটে তার সাথে আবার যখন দেখা হয়, তখন তিনি আমাকে অবাক করে দিয়ে বললেন, ‘‘আপনার তোলা একটা ছবি আমি বইয়ে ব্যবহার করেছি। পরে আমাকে সেই বইটির একটি কপি উপহার দিলেন। ছবি তেমন কিছু না। আমি তেমন পেশাদার কোন আলোকচিত্রকরও নই। কিন্তু তারপরেও তিনি হয়তো নিতান্ত স্নেহবোধ থেকেই ছবিটি ব্যবহার করেছেন তার বইয়ে। আমি তাকে বললাম, ‘‘মান্নান ভাই, লেখক হিসেবে আমি যদি কোন দিন নাও টিকি; অন্তত আপনার ছবি তুলেছিলাম হয়তো এই কারণে আপনার জীবনীর কোন এক কোনাকাঞ্চিতে টিকে যাবো। এটাই বা কম কী।’’ মান্নান ভাই আমার এই কথায় বেশ মজাই পেলেন। হাসতে হাসতে বললেন, ‘‘যাক, তাহলে আপনি বুঝেছেন। লোকতো চিনলেন না ভাই।’’ বেশ কৌতুকের স্বরেই বললেন, ‘‘মরলে বুঝবেন।” এরকম কথা তিনি প্রায়ই রসিকতা করে বলতেন। কিন্তু ঐ রসিকতায় মোড়ানো ছিলো তার সত্যভাষণ। আর আমরা তখনও বুঝিনি এই কৌতুককে বাস্তব করে তোলার জন্য গোপনে গোপনে মৃত্যু সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন করে বসে আছে। তাও মাত্র এক বছরের মাথায়।

গত ৫ সেপ্টেম্বর ছিলো তার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। মান্নান ভাই, আপনি নেই–এটা সত্যি, কিন্তু না-থাকা যে কত শক্তিশালী হতে পারে তা তো আপনি জানতেন স্পানঞা (স্পেন)র সেই স্বর্ণ যুগের কবি কেবেদোর মতোই:‘‘Solo lo fugitivo permanece y dura ( কেবল অদৃশ্যই বিরাজ করে আর স্খায়ী হয়)।”

free counters


7 Responses

  1. আহমাদ মাযহার says:

    রাজু আলাউদ্দিন, বান্ধব (আপনার কৃত সম্বোধন আপনাকেই ফিরিয়ে দিলাম!) আপনার লেখাটা ছোট হলেও আন্তরিকতায় কানায় কানায় পূর্ণ! মান্নান ভাইয়ের ব্যক্তিত্ব-সাহচর্যের চমৎকার বিবরণ রয়েছে আপনার লেখায়! তাঁর সর্বসত্তা সাহিত্যলগ্নতা আমাকে সবসময়ই স্পৃষ্ট করে। আপনার লেখাটি পড়তে পড়তে সে-কথা আবার তীব্রভাবে মনে পড়ল। লেখাটি পড়ে আমি আবেগোদ্বেল হয়ে পড়েছি! আপনার গদ্য ক্রমশ আপনার স্বস্বভাবিতায় উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। মান্নান ভাই বলতেন অন্তরাত্মার কথা। আপনার এই রচনাটি আপনারই অন্তরাত্মার অন্তর্গত প্রেরণায় সম্পন্ন হয়ে উঠেছে! আপনাকে অভিবাদন!

  2. নাফিজ আশরাফ says:

    রাজু আলাউদ্দিন আপনাকে শুধু মাত্র ধন্যবাদ জানিয়েই শেষ করা যাবে না। শ্রদ্ধেয় মান্নান সৈয়দের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আপনি যে সৃজনশীল সাহিত্যের গভীরে চলে গেছেন তা হয়তো নিজেও জানেন না। আর এটি হয়েছে রাজু আলাউদ্দিনের মতো একজন মেধাশীল লেখক বলেই। লেখাটি ছোট হয়েও যেন ছোট নয়। পাঠক হিসেবে আমি বেশ তৃপ্তি পেয়েছি। বুলান্দ জাভীর ও পুলক হাসানকেও দেখার সৌভাগ্য হলো একটি ছবি ব্যবহার করায়। আমি আশা করব পুলক হাসান সম্পাদিত লিটল ম্যাগ খেযার জন্য মান্নান সৈয়দের যে সাক্ষাৎকারটি আপনি নিয়ে ছিলেন সেটিও শিগগির প্রকাশের মুখ দেখবে। ওই সাক্ষাৎকারটি পাঠের অপেক্ষায় রইলাম।

    ——–নাফিজ …..সেপ্টেম্বর ১০,২০১২

  3. বনি আমিন says:

    জনাব রাজু আলাউদ্দিন, আমি তো লেখক কেউ নই ; সাধারণ একজন পাঠক। ফুয়েন্তেসকে নিয়ে একটা লেখা আপনার পড়েছি আর পড়লাম এটা। এতো লেখা নয় যেন আন্তরিকতার নির্যাস। আমি আসলে আরো দীর্ঘ লেখা প্রত্যাশা করছিলাম – যেহেতু প্রয়াত মান্নান সৈয়দের একজন কাছের জন ছিলেন আপনি সেজন্য। মান্নান সৈয়দ আমার প্রিয় সাহিত্যিকদের মধ্যে একজন। সেজন্য তার সম্পর্কে দেখলেই আমাকে নেশায় পেয়ে বসে। আমি যতদূর জানি মান্নান সৈয়দ তাঁর জীবনের শেষদিকে একজন অতিমাত্রায় ধর্মভীরু মুসলিম পরিচয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। আমি একটা কবিতার বই তাঁর কিনেছিলাম “সকল প্রশংসা তাঁর” শিরোনামে। মান্নান সৈয়দের জীবনের এই বাক সম্পর্কে আমার জানার বড় কৌতূহল। আপনার সাক্ষাৎকারটি এবং এ সম্পর্কে যদি কিছু জানেন তাহলে সেই লেখার প্রত্যাশায়। — বনি আমিন।

  4. abdur rahman says:

    আবদুল মান্নান সৈয়দের সা্ক্ষাত্কার প্রকাশ করুন এইখানে।

  5. Taposh Gayen says:

    রাজনীতি বহু আগেই কর্পোরেট জগতের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে । আমরা জানি, সাহিত্যজগৎ তার বাইরে নয় । তবু জীবনানন্দের ‘তবু’ এসে ভীড় করে ! সেই একদিক । অন্যদিকে, আশির দশকে কবি মান্নান সৈয়দের বই ‘শুদ্ধতম কবি’ এবং পরবর্তীতে কিছু উল্লেখযোগ্য বিদেশী কবিদের পরাবাস্তব কবিতার মান্নানভাইকৃত অনুবাদ নিয়ে একটি কবিতার বই পড়ে এখনও স্মৃতির মধ্যে মুগ্ধ হয়ে আছি । কবি রাজু আলাউদ্দিন অনেক ভাগ্যবান যে তিনি সৈয়দ ভাইয়ের স্নেহধন্য হয়েছেন, আর আমরা, পাঠকরা ভাগ্যবান– কারণ রাজু আলাউদ্দিনের মাধ্যমে আমরা একটি বিশেষ সময় এবং সেই সময়ের সাহিত্যজগৎ-কে জানতে পেরেছি । ধন্যবাদ রাজু আলাউদ্দিন ! আপনার গুণমুগ্ধ পাঠক, তাপস গায়েন

  6. Abdus Selim says:

    I read this before & I’ve read it today again. Makes me overwhelmingly nostalgic, especially those favorite words of Mannan, “manush to chinlen na.”

  7. আমার প্রিয় একজন লিখিয়ে ব্যক্তিত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.