রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেবত্ব ও বাঙালির মনোজমিনের রহস্যময়তা

আফসান চৌধুরী | ৮ মে ২০১২ ১০:২০ অপরাহ্ন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তার বন্দনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকর্ম বা তার ঐতিহাসিক অবদান নিয়ে বিশ্লেষণাত্মক কোনো কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে না। বরং একতরফাভাবে সবাই তার মাহাত্ম্য বর্ণনায় ব্যস্ত।

রবীন্দ্রনাথকে কেন এভাবে দেখা হচ্ছে এটা একটা প্রশ্ন বটে। তবে এর উত্তর পেতে আমাদের হয়তো তার দুশোতম জন্মবার্ষিকী পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এতে অবাক হওয়ারও কিছু নেই। বাংলাদেশ ও ভারত, দু’জায়গাতেই বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কাছে রবীন্দ্রনাথের অবস্থান ঈশ্বরের পরেই। সন্দেহ নেই যে তার ভূমিকা ও অবদান সাহিত্য ছাড়িয়ে অনেকদূর বিস্তৃত হয়েছিল। আর সাহিত্যের জগতেও তিনি এমন একটা সামাজিক অবস্থানে যেখানে বিশ্বের খুব কম সাহিত্যিকই রয়েছেন। দুটো দেশের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা তিনি, তাই তার অর্জন বা অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করার কোনও জায়গাই নেই। কিন্তু তাই বলে তাকে, বিশেষ করে বাংলাদেশে কেন সন্ততুল্য গণ্য করা হয়, এ নিয়ে কোনও প্রশ্ন বা আলোচনা না করাটাও এখন আর ঠিক কাজ নয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু একজন কবি বা সাহিত্যিক ব্যাক্তিত্ব হিসেবে নন, বরং পরিপূর্ণ জ্ঞান বা প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হন। তাকে একজন মহাগুরু হিসেবেই চিত্রায়িত করা হয়েছে। তিনি কবিদেব (মহাকবি) নন, গুরুদেব (মহাগুরু)। সাধারণের দৃষ্টিতে, রবীন্দ্রনাথের কবিতায় তার সর্বজ্ঞানের বিপুল প্রকাশ ঘটেছে। তাই শুধু তার সাহিত্যকর্মকেই পূজা করা হয় না, তিনি যা বলেছেন বা করেছেন, তারও মাহাত্ম্য অনেক। আমার পরিচিত একজন সিনিয়র শিক্ষক ও লেখক আমাকে একদিন বলেছিলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে তিনি কোন অন্যায় করতে পারেন না।’

ব্রিটিশশাসিত বাংলা এমনকি ভারতেরও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর গড়ে ওঠার জন্য তখন দরকার ছিল একটি শিক্ষিত ‘দালাল’ বুদ্ধিজীবী শ্রেণী। এই শ্রেণীর একজন ছিলেন রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং। ভারতে পশ্চিমা উদারতাবাদের উদগাতা ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। আর রবীন্দ্রনাথের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক গুরু ছিলেন এই রামমোহনই। রামমোহন নিজে ব্রিটিশদের আহবান জানিয়েছিলেন যাতে তারা ভারতে এসে বসত গাড়ে, তবে ঔপনিবেশিক শাসক হিসেবেই নয়, এই অঞ্চলকে উন্নত করার জন্য। নিয়তির এমনই ফের যে তিনি মারাও যান ব্রিটেনেই।
rabindranath.jpg
ব্রিটিশদের সঙ্গে বাণিজ্য করেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবার বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন। বাংলায় তখন রেনেসাঁর যুগ। নতুন নতুন চিন্তায় আলোড়িত হচ্ছেন শিক্ষিত মধ্যবিত্তরা। উচ্চশিক্ষার জন্য বিলেতে যাওয়াটা তখন ওই নতুন ভাবনারই একটি অংশ। ব্রিটিশদের প্রথা বা রীতির একটি মেকি ভারতীয় সংস্করণ তৈরি হত এভাবেই। আর স্বভাবতই এই গোষ্ঠীটি ভারতের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। রাজা রামমোহন রায় এ সময়ই ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। রবীন্দ্রনাথও ছিলেন এই সমাজের অন্য সদস্যদের মতোই। এই গোষ্ঠীর লোকেরা ছিলেন ভারতীয় মুসলিমদের বিশ্বাস বা মূল্যবোধের ব্যাপারে অজ্ঞ। এটাও খুব স্বাভাবিক ছিল। কারণ রবীন্দ্রনাথ নিজেও যে শ্রেণীর প্রতিভূ, মুসলমানরা সে শ্রেণীর অংশ ছিলেন না। আসলে তখন বাঙালি মুসলমানের বড় অংশ ছিলেন কৃষক। বাংলাদেশেও রবীন্দ্রনাথের জমিদারি ছিল, আর সেখানকার কৃষকরাও তো মুসলিমই ছিলেন। এই কৃষক জনগোষ্ঠীর, অন্য কথায় বাঙ্গালি মুসলমানের জীবনযাপন পদ্ধতি তার কাছে ছিল রহস্যময়। কারণ তিনি যে পরিবেশে বড় হয়েছেন, তার সঙ্গে মুসলমানদের জীবনাচরণের পার্থক্য ছিল যোজন যোজন।

গান্ধী বনাম রবীন্দ্রনাথ

সে সময়, বাংলার মুসলমানরাও বৃহৎ মুসলমান সমাজ থেকে দুটো ভাগে বিভক্ত ছিলেন। একটা ছিল তথাকথিত ‘আশরাফ’ বা অভিজাত শ্রেণী। এই শ্রেণীটা ছিল পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। তারা দাবি করত যে তারা ইসলামের মূলভূমি থেকে উৎসারিত। তার মানে, তুর্কী খিলাফত এবং সৌদি আরবের পবিত্র মাটি থেকে তাদের পূর্বপুরুষরা এসেছেন এটাই বলা হত। মুসলমানদের বাকি বা বড় অংশটিই ছিলেন কৃষক। এই গোষ্ঠীটি খুব দরিদ্র। কৃষিকাজের মাধ্যমে কোনও রকমে টিকে থাকা ছাড়া সমাজে আর কোনও প্রভাব রাখার ক্ষমতাই এদের ছিল না।

কোলকাতা-কেন্দ্রিক বাবু বা ভদ্রলোকরা ১৯০৫ সালের প্রথম বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে স্বদেশী আন্দোলন শুরু করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটে এই আন্দোলনে অংশ নেয়ার মাধ্যমেই। কোলকাতার বাবুরা মূলত এই নিয়েই উদ্বিগ্ন ছিলেন যে, পূর্ববঙ্গে বিশেষ করে মুসলিমদের যে নতুন অভিজাত শ্রেণী গড়ে উঠেছে, তাদের কাছে তাদের এতদিনকার প্রাধান্য হারাতে হতে পারে। তবে বেঙ্গল প্যাক্টের উদ্যোক্তা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের মতো গুটিকয়েক রাজনীতিবিদ স্বদেশী আন্দোলনের সংকীর্ণতার বাইরে যেতে পেরেছিলেন। তাই দেশবন্ধু তার বেঙ্গল প্যাক্টের মাধ্যমে বাংলার মুসলমান ও হিন্দুদের মধ্যে সম্পদ বন্টনের কথা বলেছিলেন।

বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে অনেক লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তবে বঙ্গভঙ্গের পেছনের মূল শক্তিটির কাছ থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছিলেন তিনি। জয়া চ্যাটার্জি তার ‘বেঙ্গল ডিভাইডেড’ বইতে এই শক্তিটির কথা লিখেছেন। যারা, তার মতে, হিন্দু মধ্যবিত্ত শ্রেণী ১৯৪৭’ এর বঙ্গভঙ্গের জন্য প্রধানত দায়ী ছিলেন। কিন্তু তিনি যদি এটা নাও করতেন, তাহলেও এ আন্দোলনে তার মানসিক উপস্থিতিই যথেষ্ট ছিল। ততদিনে বাঙালি মুসলিম মধ্যবিত্তরাও কিন্তু রবীন্দ্রনাথের অনুসারী হিসেবে গড়ে উঠছিল। এই শ্রেণীটা আবার নিজেদের বিকাশের জন্যও উচ্চকণ্ঠ হয়ে উঠছিল। বঙ্গভঙ্গের দরকার ছিল এ জন্যই। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাদের সেই তাগিদের পক্ষে কাজ করার মতো রাজনৈতিকভাবে সঠিক অবস্থানে না থাকলেও হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে তখন তিনি জনপ্রিয়।

এই সময় পাটের মতো একটি উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্যের উৎপাদনের সিংহভাগ হত পূর্ববঙ্গেই, মুসলিম কৃষকদের দ্বারা। যুক্তরাজ্যের বাজারে এই পাটের বিরাট কদর ছিল। তাই তখন থেকেই বাঙালি মুসলমানরা রাজনৈতিকভাবে দর কষাকষির জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। ধনী কৃষকদের একটা শ্রেণীও গড়ে উঠেছিল যারা তাদের সন্তানদের শিক্ষার পেছনে টাকা খরচ করতে শুরু করলেন। আর এভাবেই মধ্যবিত্ত হয়ে ওঠার পথে পা বাড়াচ্ছিল তারা। এই শ্রেণীটা পরে খুবই প্রভাবশালী ক’জন রাজনীতিবিদের জন্ম দিয়েছে যাদের মধ্যে ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী ফজলুল হক। এই শ্রেণী থেকেই জন্ম নিয়েছেন কাজী নজরুল ইসলামের মতো ব্যক্তিত্ব যিনি হয়ে উঠেছিলেন এই নতুন জন্ম নেয়া বাঙালি মুসলমান মধ্যবিত্তের সাংস্কৃতিক বিকাশের প্রতিভূ। আবার এই দুজনই ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় ভক্ত। এটাও খুব স্বাভাবিকই ছিল।

ওদিকে সামগ্রিকভাবে ভারতের মুসলমানদের মধ্যেও চাকরির বাজারে প্রবেশের জন্য লেখাপড়া শেখার ব্যাপারে একটা আন্দোলন তৈরি হয়েছিল। এতে অবশ্য ব্রিটিশ শাসকরা সমস্যায় পড়ল। কারণ তারা সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ হতে দিতে চায়নি। যে চেতনার বিকাশে তখন বড় ভূমিকা রাখছিল হিন্দু রাজনীতিবিদ নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস নামের দলটি। বাংলার মুসলমানরাও তাদের ভাষা ও শিল্পের বিকাশের খাতিরে ধর্মীয় নীতি-নৈতিকতার দিকে কম ঝুঁকছিল। তাই ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার পেলে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বাঙালির জন্যই তিনি বিপুল গর্বের উৎস হয়ে উঠলেন।

বাঙালি মুসলিম সমাজের বিকাশের পর, নিজেদের তারা শুধু মুসলমান হিসেবে সামনের কাতারে দেখতে চাননি, বাঙালি হিসেবেও উন্নততর জাতি হতে উম্মুখ হয়ে উঠলেন। বাঙালি মুসলমানদের রাজনীতিও তাই ক্রমে বাংলা-কেন্দ্রিক হয়ে উঠল। সঙ্গত কারণেই নোবেলজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালি কম্যুনিস্ট থেকে শুরু করে কট্টর ধার্মিক, সবার চোখেই আইকন হয়ে উঠলেন। প্রতিটি সম্প্রদায়ের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কাছেই অভিন্নভাবে পরিচিত হয়ে উঠলেন তিনি। এখানে সবচেয়ে বড় বন্ধন ছিল ভাষা। নোবেল কমিটি একজন বাঙালি কবিকে নোবেলের জন্য মনোনীত করে বাংলা ভাষাকেই যেন স্বীকৃতি দিলেন। রবীন্দ্রনাথ তার লেখায় যে শ্রেণীটার কথা বলতেন, নিশ্চিতভাবেই সেটা আদি অকৃত্রিম মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কথা। যারা নিজেদের এই নতুন পরিচয়ের ব্যাপারেই কেবল আগ্রহী।

ওদিকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে, মানে বাংলাদেশে, বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার ওপর অবাঙালি শাসকরা নানাভাবে আঘাত করতে থাকেন। এই আঘাত থেকে বাঁচতে নোবেলবিজয়ী কবি সাংস্কৃতির শুদ্ধতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতে থাকেন। পাকিস্তানের অবাঙালি শাসকরাও কবিকে দেখেছেন একজন অমুসলিম, পাকিস্তান-বিরোধী, ভারতীয় জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতীক হিসেবে। তাছাড়া পাকিস্তানের জাতীয় প্রতীক আল্লামা ইকবালের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও তারা দেখছিলেন রবীন্দ্রনাথকে। স্বভাবতই পূর্ব পাকিস্তানে যে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন গড়ে উঠেছিল সেখানেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বাঙালিয়ানার প্রতীক। করাচী, লাহোর বা ইসলামাবাদের সঙ্গে কবির দূরত্ব যত বাড়ছিল, বাঙালির কাছে তিনি ততই প্রাণের মানুষ হয়ে উঠছিলেন।

১৯৬০ সালের দিকে, পাকিস্তানের সরকার গণমাধ্যমে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজানো নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের ওপর সরাসরি এভাবে সেন্সরশিপ আরোপের অনিবার্য ফল ফলল। বেশিরভাগ বাঙালি বুদ্ধিজীবী রবীন্দ্রপন্থী শক্তির পেছনে জড়ো হতে থাকলেন। শুধুমাত্র চরমপন্থী মৌলবাদী গ্রুপটি ছাড়া। তাকে ছাড়া বাঙালি মধ্যবিত্তের কোনো সংস্কৃতিই গড়ে ওঠা সম্ভব ছিল না। কারণ তিনিই তো আমাদের সাহিত্য জগতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। এই প্রথমবারের মতো, রবীন্দ্রনাথ সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতীক হয়ে উঠলেন। সেখান থেকেই বাঙালির রাজনৈতিক আন্দোলনগুলোরও বিকাশ ঘটল। পূর্ব পাকিস্তানে এত বিরোধিতার মধ্যেও রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়া হত বেশিরভাগ সময়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় রবীন্দ্রচেতনা সবচেয়ে বেশি বিকশিত হয়। কারণ এ সময় মুক্তিসংগ্রামের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানসহ মুক্তিকামী জনতা ছিলেন একান্তভাবেই রবীন্দ্র-ভক্ত।

ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতিভূ

এখনও বাংলাদেশে খুব কম লোকই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ওপর পড়াশুনা করেন। এই পড়াশুনার পেছনে সময় দেয়া অনেকের পক্ষেই হয়তো সম্ভব নয়। তাতে কী হবে, রবীন্দ্রনাথের প্রতি সবার গভীর শ্রদ্ধাবোধ ঠিকই আছে। সাধারণ মানুষের এই আবেগের ব্যাপারটা বোঝা খুব কঠিন কাজ নয়। তিনিই তো বাঙালি মুসলিমদের সবচেয়ে মহান কবি। কিন্তু এর সঙ্গে সঙ্গে যে অন্ধ সমর্থনের ব্যাপারটা আছে তাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়? কেবল সন্তদের জন্যই এ ধরনের অনুভূতি সাধারণের মধ্যে থাকে।

বাঙালির মধ্যে জাত্যাভিমানের যে অভাব দেখা যায়, তা কিন্তু সেই প্রাচীনকাল থেকেই বিদ্যমান। আমাদের এই ভূখণ্ড চিরকাল অন্যদের দ্বারা শাসিত হয়েছে। তাই ঐতিহাসিকভাবে আমরা নিজেদের ইচ্ছা-অনুযায়ী চলতে পারিনি। ফলে আমাদের জাতির মনোজগতে অধিপত্যকে মেনে নেয়ার, তার সঙ্গে আপোষ করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এখানেই হয়তো অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে। আঠারো-উনিশ শতকের বাবুদের মধ্যে এরই প্রকৃষ্ট উদাহরণ দেখা যায়। তারা ব্রিটিশদের চাকরি-বাকরি করার মাধ্যমে একটি আপোষকামী ও সুবিধাভোগী মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জন্ম দিয়েছিলেন, যা আসলে এদেশে ব্রিটিশদের প্রভুত্বকে স্থায়ীত্ব দিয়েছিল। তাই এ ভূখণ্ডে চিন্তাশীলতার বিস্তার কমই দেখা যায়। এজন্যই সম্ভবত এখানে এত এত উপাসনালয়, সাধু, গুরু, সন্ত আর দেবদেবীদের দেখা মেলে। বিশ্বের আর কোথাও এমনটি নেই। ফলে বাঙালিরা প্রভাবশালীদের শ্রদ্ধা করতে এবং একে অন্যকে অবিশ্বাস করতেই অভ্যস্ত। এটাই তাদের টিকে থাকার কৌশল।

এই সব উপাদানই বাংলার শিক্ষিত সংস্কৃতিবান শ্রেণীটির চোখে নোবেলজয়ী কবিকে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতিভূ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। যদিও তিনি নিজে কখনও পূর্ব পাকিস্তানিদের নিয়ে কিছু লিখেন নি। বরং এখানকার কৃষকদের কাছ থেকে জমিদার হিসেবে ট্যাক্স আদায় করেছেন। মুসলিম কৃষক নয, হিন্দু-ব্রাহ্মদের সংস্কৃতিই ছিল তার আপন। বাংলার গ্রামীণ জনপদের চেয়ে অনেক দূরে কোলকাতার বিলাসী বাসভবনে বসবাস করেছেন তিনি। আবার একথাও ঠিক তিনি কুষ্টিয়ায় পৈতৃক জমিদারিতে থাকার সময় গ্রামীণ জনপদের চিত্র তার লেখায় তুলে ধরেছেন। তিনি ভালোবাসতেন এ দেশের নদী ও প্রকৃতিকে। নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বাংলা ভাষায় লিখেই। বাঙালির চিরকালীন অন্তর্মুখীন চরিত্র যে কিনা সবসময় সবকিছুর পেছনে ঐশ্বরিক ক্ষমতার অনুসন্ধান করেছে, তার কাছে রবীন্দ্রনাথই সবকিছু মিলিয়ে প্রায় সাধু বা পীরের মর্যাদা পাবেন– এটাই তো স্বাভাবিক।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গুরুদেব হয়ে ওঠার পেছনে এমনই নানা কারণ রয়েছে। ভারতীয় বাঙ্গালি থেকে তিনি এখন বাংলাদেশিই হয়ে উঠেছেন। আমাদের সংস্কৃতিতে সবসময়ই চরমপন্থার রাজত্ব। হয় আমরা ঘৃণা করব, নয় পূজা। আমাদের রাজনীতিতে দেখুন, রাজনীতিবিদরা হয় সাধু নয়তো রাক্ষস। সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমরা কোনো প্রশ্ন ছাড়াই গ্রহণ করেছি। আমাদের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস ঘাঁটলেও দেখা যায়, বীরেরা এমনভাবে চিত্রিত হচ্ছেন যে তারা কোনো অন্যায় করতে পারেন না। দেখা যায়, জীবনের সব ক্ষেত্রেই আমরা কোনও রকম যৌক্তিক চিন্তা করার ক্ষমতা রাখি না। যুক্তি বা প্রশ্নের মধ্যে গেলে আমাদের সংস্কৃতির জাদুটাই যেন হারিয়ে যাবে এই ভয় থেকে।

বাঙালির মনের জমিনের এই বুননই ব্যাখ্যা করে কেন এখানে নোবেলজয়ী বাঙালি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রায় একজন পৌরাণিক চরিত্রে পরিণত হয়েছেন। তিনি যেন হিমালয় থেকে নেমে আসা কোনো দেবতা। বাঙালির জগত তো কখনও বাঙালির নিয়ন্ত্রণে ছিল না। বাঙালি তার শাসককেও কখনও নিজে বেছে নিতে পারেনি, যেভাবে পারেনি তার ফসলের সম্ভাবনার ব্যাপারেও নিশ্চিত হতে। আর এ কারণেই আমাদের মনোজমিনে কল্পনার রঙগুলো বড় বেশি উজ্বল। এ জগতে সবকিছুই সত্য, কারণ সত্য তো এ জমিনে কখনও ঠাঁই করে নিতে পারেনি। আমাদের ইতিহাস, রাজনীতি এবং শিল্পে ফ্যান্টাসির ছাপ তাই বেশি। এমন একটা ভূখন্ডে কোনো কিছুকে তার আসল রূপে মেনে নিতে চাই না আমরা, বরং যেমন হওয়া উচিত বলে আমরা ভাবি সেটাকেই প্রাধান্য দেই। আর এজন্যই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার অসম্ভব মাহাত্ম্য নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হন। তার সর্বজ্ঞান, বহির্বিশ্বের কাছে তার বিপুল গ্রহণযোগ্যতা বাঙালির এই কাল্পনিক জগতেরই বিজয় মাত্র।

তাই রবীন্দ্রবন্দনার মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ নিজে জয়ী হন তা নয়, জয়ী হই আমরা, আমাদের মনের বিরাট ফ্যান্টাসির জগতটাই।

free counters

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (23) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সৈকত রুশদী — মে ৯, ২০১২ @ ১:৫৫ পূর্বাহ্ন

      বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এখন যে মাতামাতির প্রাবল্য, তার পেছনে বাংলা সাহিত্য এবং আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতিতে তাঁর অবদানের চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজনৈতিক সুবিধা প্রাপ্তির অভিলাষ l ধর্ম নিরপেক্ষতাকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা এবং বাংলা সংস্কৃতি ও বাঙালিত্বের একমাত্র ধারক ও বাহক হিসেবে নিজেদেরকে তুলে ধরার লক্ষ্যে বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অভিপ্রায় প্রতিফলিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথকে পরম পূজনীয়, দেবতুল্য মহামানবের পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টার মধ্য দিয়ে l একই রকম না হলেও কাছাকাছি পর্যায়ের প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে পূর্ববর্তী ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রচেষ্টায় l আরও লক্ষ্যনীয় যে বেশিরভাগ বাঙালি মুসলমান যেমন তার ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষায় ধর্ম বিশ্লেষণকারীর বাংলা বয়ানের চেয়ে আরবি বা উর্দু ভাষায় যে কোন বয়ানে নিজেকে উচ্চ শ্রেনীর মুসলমান হিসেবে কৃতার্থ বোধ করে থাকে, সেই হীনমন্যতাই লক্ষ্য করা যায় রবীন্দ্রনাথের জন্ম সার্ধবার্ষিকী উদযাপনে ভারতীয় রাজনীতিককে প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যমে সরকারের উচ্চমার্গের রবীন্দ্র পুজারী হিসেবে তকমা লাভের প্রচেষ্টায় l ধন্যবাদ আফসান চৌধুরী এই চমত্কার অথচ প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণের জন্য l

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন SACHI — মে ৯, ২০১২ @ ২:১৫ পূর্বাহ্ন

      হা হা হা। ঠিক কী বলবো বুঝতে পারছি না। আমার কাছে মনে হয়েছে শুধু লেখার জন্য লেখা। রবী ঠাকুরের সমালোচনা করে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান উনি। কিন্তু হাত দিয়ে কি আর আকাশ ছোঁয়া যায়?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সুশান্ত কর — মে ৯, ২০১২ @ ২:৩৩ পূর্বাহ্ন

      কী বলব! “কোলকাতা-কেন্দ্রিক বাবু বা ভদ্রলোকরা ১৯০৫ সালের প্রথম বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে স্বদেশী আন্দোলন শুরু করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটে এই আন্দোলনে অংশ নেয়ার মাধ্যমেই।” কিন্তু তখনই যে তাঁর ভাবনার মধ্যে দ্বান্দ্বিকতা ছিল এবং সেই সূত্র ধরে অচিরেই তিনি সমস্ত জাতীয়তাবাদী কর্মসূচির থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্নই করেন নি, তার বিরুদ্ধে লড়ে গেছেন সে খবর লেখক নেননি বললে কম বলা হবে। আসলে আমার পড়ে মনে হয়েছে রবীন্দ্রনাথকে দুই বাংলাতেই যারা বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতীক করে তুলেছেন লেখকের ক্ষোভ তাঁদের বিরুদ্ধে। এবং সম্ভবত আপনি তরুণ লেখক। ঠিক আছে, প্রশ্নগুলো ওঠা জরুরি। তাঁর শ্রেণি অবস্থানের প্রতি টান ঠিকই আছে। সেতো এক দালাল শ্রেণি। কিন্তু তিনিতো এর বাইরে বেরুবার জন্যে ছট ফট করেছেন গোটা জীবন। বিচ্ছিন্নভাবে রবীন্দ্রনাথের লেখা পড়লে কিছুটা মুসলমান বিরোধী বলে মনে হয়। তিনি ঐ সামঞ্জস্য রক্ষার সমস্যাতে পড়েছিলেন। কিন্তু এমন চিন্তাও কিন্তু তখন তাঁরই ছিলঃ”আমাদের দেশে ভারতবর্ষীয়দের মধ্যে রাষ্ট্রীয় ঐক্যলাভের চেষ্টা যখনই প্রবল হইল, অর্থাৎ যখনই নিজের সত্তা সম্বন্ধে আমাদের বিশেষভাবে চেতনার উদ্রেক হইল তখনই আমরা ইচ্ছা করিলাম বটে মুসলমানদিগকেও আমাদের সঙ্গে এক করিয়া লই, কিন্তু তাহাতে কৃতকার্য হইতে পারিলাম না। এক করিয়া লইতে পারিলে আমাদের সুবিধা হইতে পারিত বটে, কিন্তু সুবিধা হইলেই যে এক করা যায় তাহা নহে। হিন্দু মুসলমানের মধ্যে যে একটি সত্য পার্থক্য আছে তাহা ফাঁকি দিয়া উড়াইয়া দিবার জো নাই। প্রয়োজনসাধনের আগ্রহবশত সেই পার্থক্যকে যদি আমরা না মানি তবে সেও আমাদের প্রয়োজনকে মানিবে না।

      হিন্দু মুসলমানের মধ্যে সকল দিক দিয়া একটা সত্যকার ঐক্য জন্মে নাই বলিয়াই রাষ্ট্রনৈতিক ক্ষেত্রে তাহাদিগকে এক করিয়া তুলিবার চেষ্টায় সন্দেহ ও অবিশ্বাসের সূত্রপাত হইল। এই সন্দেহকে অমূলক বলিয়া উড়াইয়া দিলে চলিবে না। আমরা মুসলমানকে যখন আহ্বান করিয়াছি তখন তাহাকে কাজ উদ্ধারের সহায় বলিয়া ডাকিয়াছি, আপন বলিয়া ডাকি নাই। যদি কখনো দেখি তাহাকে কাজের জন্য আর দরকার নাই তবে তাহাকে অনাবশ্যক বলিয়া পিছনে ঠেলিতে আমাদের বাধিবে না। তাহাকে যথার্থ আমাদের সঙ্গী বলিয়া অনুভব করি নাই, আনুষঙ্গিক বলিয়া মানিয়া লইয়াছি। যেখানে দুইপক্ষের মধ্যে অসামঞ্জস্য আছে সেখানে যদি তাহারা শরিক হয়, তবে কেবল ততদিন পর্যন্ত তাহাদের বন্ধন থাকে যতদিন বাহিরের কোনো বাধা অতিক্রমের জন্য তাহাদের একত্র থাকা আবশ্যক হয়,–সে আবশ্যকটা অতীত হইলেই ভাগবাঁটোয়ারার বেলায় উভয় পক্ষেই ফাঁকি চলিতে থাকে।মুসলমান এই সন্দেহটি মনে লইয়া আমাদের ডাকে সাড়া দেয় নাই। আমরা দুই পক্ষ একত্র থাকিলে মোটের উপর লাভের অঙ্ক বেশি হইবে বটে, কিন্তু লাভের অংশ তাহার পক্ষে বেশি হইবে কি না, মুসলমানের সেইটেই বিবেচ্য। অতএব মুসলমানের এ কথা বলা অসংগত নহে যে আমি যদি পৃথক থাকিয়াই বড়ো হইতে পারি তবেই তাহাতে আমার লাভ।

      কিছুকাল পূর্বে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে এই সাতন্ত্র্য-অনুভূতি তীব্র ছিল না। আমরা এমন এক রকম করিয়া মিলিয়া ছিলাম যে আমাদের মধ্যেকার ভিন্নতাটা চোখে পড়িত না। কিন্তু সাতন্ত্র্য-অনুভূতির অভাবটা একটা অ-ভাবমাত্র, ইহা ভাবাত্মক নহে। অর্থাৎ আমাদের মধ্যে সত্যকার অভেদ ছিল বলিয়াই যে, ভেদ সম্বন্ধে আমরা অচেতন ছিলাম তাহা নহে–আমাদের মধ্যে প্রাণশক্তির অভাব ঘটিয়াছিল বলিয়াই একটা নিশ্চেতনতায় আমাদিগকে অভিভূত করিয়াছিল। একটা দিন আসিল যখন হিন্দু আপন হিন্দুত্ব লইয়া গৌরব করিতে উদ্যত হইল। তখন মুসলমান যদি হিন্দুর গৌরব মানিয়া লইয়া নিজেরা চুপচাপ পড়িয়া থাকিত তবে হিন্দু খুব খুশি হইত সন্দেহ নাই, কিন্তু যে কারণে হিন্দুর হিন্দুত্ব উগ্র হইয়া উঠিল সেই কারণেই মুসলমানের মুসলমানি মাথা তুলিয়া উঠিল। এখন সে মুসলমানরূপেই প্রবল হইতে চায়, হিন্দুর সঙ্গে মিশিয়া গিয়া প্রবল হইতে চায় না।

      এখন জগৎ জুড়িয়া সমস্যা এ নহে যে, কী করিয়া ভেদ ঘুচাইয়া এক হইব–কিন্তু কী করিয়া ভেদ রক্ষা করিয়াই মিলন হইবে। সে কাজটা কঠিন–কারণ, সেখানে কোনো প্রকার ফাঁকি চলে না, সেখানে পরস্পরকে পরস্পরের জায়গা ছাড়িয়া দিতে হয়। সেটা সহজ নহে, কিন্তু যেটা সহজ সেটা সাধ্য নহে; পরিণামের দিকে চাহিলে দেখা যায় যেটা কঠিন সেটাই সহজ।

      আজ আমাদের দেশে মুসলমান স্বতন্ত্র থাকিয়া নিজের উন্নতিসাধনের চেষ্টা করিতেছে। তাহা আমাদের পক্ষে যতই অপ্রিয় এবং তাহাতে আপাতত আমাদের যতই অসুবিধা হউক, একদিন পরস্পরের যথার্থ মিলনসাধনের ইহাই প্রকৃত উপায়। ধনী না হইলে দান করা কষ্টকর; মানুষ যখন আপনাকে বড়ো করে তখনই আপনাকে ত্যাগ করিতে পারে। যত দিন তাহার অভাব ও ক্ষুদ্রতা ততদিনই তাহার ঈর্ষা ও বিরোধ। ততদিন যদি সে আর কাহারও সঙ্গে মেলে তবে দায়ে পড়িয়া মেলে–সে মিলন কৃত্রিম মিলন। ছোটো বলিয়া আত্মলোপ করাটা অকল্যাণ, বড়ো হইয়া আত্মবিসর্জন করাটাই শ্রেয়।” মূলত তাঁর জাতীয়তাবাদ বিরোধীতার মধ্যেও পরোক্ষে হলেও মুসলমান স্বার্থের চিন্তা ছিল। শুধু মুসলমান বলিই বা কেন, ‘এখন জগৎ জুড়িয়া সমস্যা এ নহে যে, কী করিয়া ভেদ ঘুচাইয়া এক হইব–কিন্তু কী করিয়া ভেদ রক্ষা করিয়াই মিলন হইবে। সে কাজটা কঠিন–” ভাবনাটাই কি তাঁর মাথাতেই আসে নি প্রথম? আমি অন্তত, তাঁর আগে পাইনি। বঙ্গভঙ্গের অন্যান্য নেতাদের ভাবনা ছিল, ভাই ভাই ঠাই ঠাই–হিন্দুতে মুসলমানে কোনো ভেদ নাই। আসলে কিন্তু সে ভ্রাতৃত্বের শর্ত ছিল বর্ণহিন্দুর আধিপত্য।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Nurunnabi Shanto — মে ৯, ২০১২ @ ১০:০৭ পূর্বাহ্ন

      হুমায়ুন আজাদের পর, রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে, একটা ভালো লেখা পাঠ করা গেল। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছি, সবখানে রবীন্দ্র বন্দনা ছাড়া আর কিছু পাই নি। জনিনা, রবীন্দ্র চর্চার বদলে রবীন্দ্র বন্দনা আর কতকাল চলবে।

      নূরুননবী শান্ত

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন a.gofur — মে ৯, ২০১২ @ ১:২৮ অপরাহ্ন

      লেখাটির জন্য ধন্যবাদ। ….এভাবে আমরা পরাবাস্তব জগত সৃষ্ট করে বিজয়ীর ভান করি। কেউ বাস্তবতার মুখোমুখি হতে চাই না, আর কেউ বাস্তবতা বুঝিনা, স্রোতে গা ভাসিয়ে দেই। এটা জয় নাকি পরাজয় তা ভাবার সময় কোথায়? আমরা কি যার যা প্রাপ্য তাকে সেটা কোনদিন দিতে শিখব না?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Mostafa Zaman — মে ৯, ২০১২ @ ২:৫৭ অপরাহ্ন

      রবীন্দ্রনাথের এবং আমাদের সংস্কৃতির অসাধারণ বিশ্লেষণ। ধন্যবাদ এমন একটি লেখার জন্য।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নুরুন নাহার — মে ৯, ২০১২ @ ৩:৪৪ অপরাহ্ন

      ধন্যবাদ জানাই আফসান চৌধুরীকে। আমরা যারা বাঙালী মুসলমান তারা ধর্মকে আকঁড়ে ধরে থাকতে চাই। একই সাথে বাঙালী সত্বার বিকাশে রবীন্দ্রনাথকেও অস্বীকার করতে পারিনা। তাঁর লেখায় আমাদের এই দ্বিধা কাটিয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা আর খোলা মনে রবীন্দ্রনাথকে গ্রহণ করার শক্তি পাই। আবারও ধন্যবাদ তাঁকে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Asad — মে ১০, ২০১২ @ ৫:৫৪ অপরাহ্ন

      খুব ভাল একটি লেখা। অন্ধ-বন্দনা নয়, সঠিক চর্চা চাই।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাহবুব — মে ১০, ২০১২ @ ৬:২০ অপরাহ্ন

      লেখাটির মূল সুর যে কী ছিল, লেখক কী বলতে চেয়েছেন, আর কী যে বলে ফেলেছেন, তা বুঝতে পারলাম না। রবীন্দ্রবিরোধিতাকে বাঙালি মুসলমানরা অপরাধ ভাবে না, কিন্তু মোহাম্মদের সামান্যতম সমালোচনাকারীকে খুন করতে চায়। তো এই হচ্ছে যখন বাঙালি মুসলমানের মানসিকতা, ছয়শত বছর আগেই যখন এদেশীয় নিচু শ্রেণী নিজের সংস্কৃতি বিসর্জন দিয়ে বিদেশী সংস্কৃতিকে পবিত্রতম বলে গ্রহণ করেছিল… দেশীয় ভাষা বাদ দিয়ে বিদেশী আরবীয় ভাষাকে কাম্য বলে মনে করেছিল, তখন এক রবীন্দ্রনাথ ছাড়া আর কে আছে যে আমাদেরকে এক করতে পারে? রবীন্দ্রনাথ তো শেষ পর্যন্ত মানুষই। তার যেটুকু দায়, তা তো তার অন্তর্গত প্রেরণা থেকেই এসেছে। তাই না। তিনি হিন্দু মুসলমান মিলনের ঐক্যের বাণী দিয়েছেন, এমনকি তার এক গল্পে হিন্দু’র মুসলমান হবারও কথা স্বীকার করেছেন। কিন্তু একজন মুসলমান লেখকও পেলাম না যার গল্পে মুসলমানত্ব ত্যাগ করার কাহিনী আছে। আসলে রবীন্দ্রনাথ বাংলার আকাশ। তারপরও এই আকাশের নিচেই আমরা মুসলমানরা শান্তির আচ্ছাদন তৈরি করতে পারতাম। কিন্তু বাংলার মুসলমান লেখক, কবি, পণ্ডিত, জ্ঞানী ব্যক্তিরা তা করতে পারেননি। আরবীয় সংস্কৃতির দাসত্ব (যেমনটা বক্ষমান লেখার লেখক বলেছেন আধিপত্যকে মানিয়ে নেয়া) কি আর সহজে ছাড়া যায়? দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা কি সম্ভব এই দেশে? এক রবীন্দ্রনাথ ছাড়া আর কে আছে এই ভূখণ্ডে? নজরুল? দুর্ভাগ্য আমাদের। মুসলমান লেখকদের মধ্যে তিনি ছাড়া আর কেউ নেই, যাকে অন্তত পাতে পরিবেশন করা যায়। তাও অনেক রেখে ঢেকে। তো, থাক, দেখা যাক ভবিষ্যত প্রজন্ম কী করে?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আরিফুল হক — মে ১১, ২০১২ @ ১:৩৪ পূর্বাহ্ন

      লেখক যা বলতে চেয়েছেন তার সত্যতা মাহবুব সাহেবের মন্তব্য পড়েই বুঝতে পারলাম। অন্ধ বন্দনা কতদূর হলে মানুষ একজন সাহিত্যিক [হোক তিনি বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক] আর একজন ধর্ম প্রচারককে এক করে ফেলে এটা তার এ্কটি জ্বলন্ত উদাহরণ। যাই হোক লেখককে তাঁর লেখার জন্য ধন্যবাদ। রবীন্দ্রনাথকে দেবতা বানানোর চেষ্টা বাদ দিয়ে তাঁর সাহিত্যকর্মের সঠিক মূল্যায়ন ও চর্চা যত তাড়াতাড়ি আমাদের দেশে শুরু হবে ততই মঙ্গল।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন nahid s. — মে ১২, ২০১২ @ ১:৩২ পূর্বাহ্ন

      লেখক মহাশয় নিঃসন্দেহে বাঙালি-দরদী-প্রাণ। তবে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তাঁর এত গাত্রদাহ কেন, ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না! পাবলিকের বোধোদয়ের জন্য যদি কিছু লিখতে বসি আমরা তবে একটু সংশ্লিষ্ট বিষয়টির ওপর পড়াশোনা, ছোটখাটো গবেষণা করে নেয়াটা ভালো। কারণ, তাতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা হ্রাস পায়। রবীন্দ্রনাথের ওপর বাংলাতেই অনেক পুস্তক পাওয়া যায়। এরপরও এমন প্রস্তুতিবিহীন, অসম্পূর্ণ একটি লেখা পড়ে খটকা লাগল, প্রশ্ন জাগল মনে- হুটহাট বিতর্কের জন্ম কারা দেয়, কেন দেয়?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Taposh Gayen — মে ১৩, ২০১২ @ ৫:২৮ পূর্বাহ্ন

      লেখাটি সাহিত্য পাতায় না হয়ে মতামতের পাতায় ছাপা হলেই বোধকরি ভালো হত । লেখকের চিন্তার ঐক্যে, লেখাটির সংহতির খাতিরে, ঐতিহাসিক তথ্যের সত্যতার প্রশ্নে লেখক আর একটু পরিশ্রমী হলে ভালো করতেন ।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নুরুন্নাহারশিরীন — মে ১৪, ২০১২ @ ১২:২৫ পূর্বাহ্ন

      বাহ ! বেশ একহাত দেখে নেবার চেষ্টায় বিশ্বকবি-র অন্যরকম আশ্চর্য বিশ্লেষণ ! অবশেষে বাঙালি মনের স্বভাবজাত স্বপ্নধর্মী কাব্যিক মনের কাছেই হার মানা হলো বলেই মনে হলো, কবিগুরুর অসীম সৃষ্টির কাছে তিনি অন্যায় করেছেন কি করেন নি বিষয়টি আদতে নিতান্তই তুচ্ছাতিতুচ্ছ অবান্তর নাক গলানো বিষয় যেন বা ! আমার অন্ততঃ তাতক্ষণিক এমনই লাগলো।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কিশোরী — মে ১৪, ২০১২ @ ৩:৩০ অপরাহ্ন

      লেখাটি বর্ণিল, নিঃসন্দেহে। দৃষ্টিভঙ্গিগতভাবে মানুষের মতের পার্থক্য থাকতেই পারে। আমার সবচেয়ে আশ্চর্য লাগে এই ভেবে যে, রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির সাথে এই ভূখন্ডের মানুষের চিন্তাধারা ও কাজের মিল খূঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। তথাপী একশ্রেণীর লোকের রবীন্দ্রভক্তির বাড়াবাড়ি দেখে প্রশ্ন জাগে এটা কি শুধুই অন্ধ ভক্তি, নাকি একধরণের মূর্ছ্বনার আসক্তি?

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নন্দিতা পুরকায়স্থ — মে ১৫, ২০১২ @ ১২:০৪ অপরাহ্ন

      লেখাটি ইতিহাসের জায়গায় দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথকে বোঝাবুঝির চেষ্টা ছিল। সেই জায়গায় থাকলেই লেখাটি ভাল হোত। কিন্তু ‘বাঙালির মনোজমিনের রহস্যময়তা” দিয়ে রবীন্দ্রনাথকে বুঝতে যাওয়ার চেষ্টা এই লেখার প্রধান দুর্বলতা। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এখনকার দাপাদাপির আসল ‘রহস্য’ বোঝার কোন চেষ্টা না থাকায় অবাক হয়েছি। বিশেষত রবীন্দ্রনাথ কেন এখন দিল্লীর আঞ্চলিক রাজনীতির উপায় হয়ে উঠেছে, এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশে বাঙালি ফ্যাসিবাদের দেবতার আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন– সেই দিকে আলোচনা যায় নি। (পশ্চিম বাঙলায় ট্রাফিক সিগনালে রবীন্দ্রনাথ বাজানোর মধ্য দিয়ে হিন্দু বাঙালির করুণ দিকটিই ফুটে ওঠে) রবীন্দ্রনাথ বাঙালির কাছে এক পৌরাণিক চরিত্র হয়ে উঠেছেন অনেক আগেই। বাঙালি হিন্দু বরাবরই হিন্দু থাকতে চেয়েছে, আর সেই হিন্দুত্ব ‘ভারতীয়’ পরিচয়ের আড়ালে সে ততক্ষণই লুকিয়ে রাখতে পারে যতক্ষণ তার ওপর ‘ধর্ম নিরপেক্ষতা’র আড়াল থাকে। রবীন্দ্রনাথ হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার বিশাল বপুটিকে তার দীর্ঘ আলখাল্লা দিয়ে খুবই আরামদায়ক ভাবে ঠেকে দিতে পারেন। একটা বড় আড়াল তৈরী হয়, যাতে দুর্গন্ধ কম ছড়ায়। সাম্প্রদায়িকতা চর্চার ভাল একটি উপায় হচ্ছে রবীন্দ্র চর্চা। এ ছাড়া বাঙালি হিন্দুর কীইবা আর করার আছে। একবার সে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলন করল, ভারতবর্ষে হিন্দুর আধিপত্য কায়েম রাখবার দরকারে। কিন্তু ১৯২০ সালে সমর্থন করল কারন তখন দুই বাংলায় মুসলিম জনসংখ্যা হিন্দুদের চেয়ে বেশি, এবং মুসলমানরাও বাঙালি হিন্দুর একচ্ছত্র আধিপত্য মেনে নিতে আর রাজি ছিল না। একাত্তরে বাঙালি মুসলমান যখ্ন রক্ত দিয়ে নিজেকে বাঙালি প্রমাণ করবার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ল তখন হিন্দু পুলকিত বোধ করেছে। তার মনে হয়েছে, এবার ম্লেচ্ছরা বুঝি স্বধর্মে প্রত্যাবর্তন করছে। কিন্তু অচিরেই বোঝা গেল ইতিহাস এতো সরলরেখায় চলে না। হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার প্রতিক্রিয়ায় মুসলমানি সাম্প্রদায়িকতা ফিরে এল, কিন্তু এই মুসলমান সাতচল্লিশের আগের মুসলমান নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ার ও পেণ্টাগন হামলার পর বাঙালি মুসলমানের আরেক দফা রূপান্তর ঘটেছে। একে এখন হিন্দু বাবু ও মুসলমান বাবু উভয়েই রবীন্দ্রনাথ দিয়ে মোকাবিলা করতে চাইছে। এই অঞ্চলে রবীন্দ্রনাথ ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অস্ত্র। এই পরিণতি এড়ানো যেত যদি বাঙালি মুসলমানের রক্ত দিয়ে বাঙালি হবার অর্থ হিন্দু বুঝত। হিন্দু নিজে হিন্দু থাকতে চায়, অথচ মুসলমানি ছেড়ে বাংলার মুসলমানরা ‘বাঙালি’ হয়ে হিন্দুর স্রোতধারায় মিশে যাক, এটাই তার বাসনা, এটাই বাঙালি হিন্দুর রাজনীতি – এভাবেই দিল্লীর আগ্রাসন ও আধিপত্যের পক্ষে সাংস্কৃতিক ভাবে হিন্দু রসদ জোগায়।

      সুশান্ত কর যে মন্তব্য করেছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ। দুঃখিত যে তিনি রবীন্দ্রনাথের লেখার কোন রেফারেন্স দেন নি। বোঝা গেল রবীন্দ্রনাথ বাঙালি ‘জাতীয়তাবাদ’ এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন (বা অস্বীকার করেছেন)। জাতীয়তাবাদের বিরোধিতা রবীন্দ্রনাথ হয়তো তাঁর অখণ্ড ভারতীয় হিন্দুত্বকে রক্ষার জন্যই করেছেন। বাঙালির জাতীয়তাবাদ বাঙালি মুসলমানদের বাদ দিয়ে কিভাবে সম্ভব। সুশান্ত বলছেন এই “বিরোধীতার মধ্যেও পরোক্ষে হলেও মুসলমান স্বার্থের চিন্তা ছিল”। কথাটা ভেবে দেখার মতো। কিন্তু কিভাবে ভাবব?
      রবীন্দ্রনাথ বলছেন, “এখন জগৎ জুড়িয়া সমস্যা এ নহে যে, কী করিয়া ভেদ ঘুচাইয়া এক হইব–কিন্তু কী করিয়া ভেদ রক্ষা করিয়াই মিলন হইবে। সে কাজটা কঠিন–”

      হিন্দুতে মুসলমানে ভেদ নাই এই আবদার রবীন্দ্রনাথ করেন নাই। এখানে রবীন্দ্রনাথ সৎ (এবং সে কারনেই মহৎ)। ভেদ রক্ষা করেই তিনি মিলন চেয়েছেন, কিন্তু ভেদবুদ্ধির উর্ধে উঠবার আসলে কোন পথ ও প্রক্রিয়া সম্ভব কিনা সেটা তিনি ভেবে দেখেন নি, বা হিন্দু বলে ভাবেন নি। তিনি নিজেও হিন্দুত্ব ত্যাগ করতে চান নি, ফলে মুসলমান মুসলমানিত্ব ত্যাগ করুক এটাও তার চাওয়া নয় বলেই তিনি ভেদ রক্ষা করেই মিলন চেয়েছেন। বাংলাভাষীদের মধ্যে যদি ভেদ তুলতে চাই তাহলে হিন্দুকে আগে বাঙালি হতে হবে। দিল্লীর সঙ্গে যুক্ত থাকবার হিন্দু বাসনা ত্যাগ করতে হবে। বাংলাদেশকে দিল্লীর অংশ বানাবার রাজনীতির বিরোধিতা করতে হবে । সেটা কি হিন্দুর পক্ষে সম্ভব?
      কিন্তু রবীন্দ্রনাথ যদি বলে থাকেন, “ আজ আমাদের দেশে মুসলমান স্বতন্ত্র থাকিয়া নিজের উন্নতিসাধনের চেষ্টা করিতেছে। তাহা আমাদের পক্ষে যতই অপ্রিয় এবং তাহাতে আপাতত আমাদের যতই অসুবিধা হউক, একদিন পরস্পরের যথার্থ মিলনসাধনের ইহাই প্রকৃত উপায়”। ‘আমরা’ বলতে রবীন্দ্রনাথ হিন্দুকেই বুঝিয়েছেন। কিন্তু এটাই দামি কথা। বাঙালি মুসলমান এই রবীন্দ্রনাথকে বিচক্ষণ মানতে আপত্তি করবে না। এরপর অবশ্য তিনি মুসলমানরা যে ‘ধনি’ নয় বলে ‘বড়’ নয়, তাদের ‘অভাব’ আছে বলেই তাদের ‘ক্ষুদ্রতা’, “ঈর্ষা’ ইত্যাদিও বলেছেন। সেসকল মন্তব্যে মুসলমানদের প্রতি তাঁর গোলমেলে দৃষ্টিভঙ্গিটাই বেরিয়ে পড়ে।
      এতো কিছুর পরেও বাঙালি মুসলমান রবীন্দ্রনাথকে ছাড়ে নি। ছাড়বে না। কারন সে বাঙালি হতে চায়, এই সিদ্ধান্ত সে আগেই নিয়েছে এবং সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করত গিয়ে সে রক্ত দিয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত বদলাবার কোন কারন তার ঘটে নি। রবীন্দ্রনাথকে দরকার বলেই তাকে দেবতা বানাবার হিন্দু প্রকল্প এবং এখন দিল্লীর কূটনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করবার চেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন sohel — মে ১৫, ২০১২ @ ৩:৫৯ অপরাহ্ন

      লেখক আসলে নিজের কাছেই পরিস্কার না বলে মনে হয়।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হিমুকালা — মে ১৬, ২০১২ @ ১২:৪২ পূর্বাহ্ন

      আপনার কিছু লেখা পড়েছি এবং মনে হয়েছে আপনি সাম্প্রদায়িকতায় ভোগেন। এই লেখাটি সে ধারনাটিকে আরও জোরালো করলো। মন খুলে রবীন্দ্রনাথকে বুঝতে চেষ্টা করুন। তা হলে বুঝতে পারবেন আমাদের ভগবানেরা যদি রবীন্দ্রনাথের মতো হোতো, মানুষে মানুষে এতো বিভেদ হোতনা।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Omar Shams — মে ১৬, ২০১২ @ ৫:৪৯ অপরাহ্ন

      @নন্দিতা পুরকায়স্থ:
      চমৎকার লিখেছেন।বিশ্লেষণ আছে, যাতে তথ্যের সমর্থন আছে। একটি নিবন্ধ লিখুন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হিমুকালা — মে ১৭, ২০১২ @ ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

      @নন্দিতা পুরকায়স্থকে :
      ভাষায় দখল ও লেখার ক্ষমতা আছে কিন্তু ভেদাভেদের রাজনীতির মানসিকতা হতে বের হতে পারেননি। আপনাকে দোষ দিতে চাইনা কারণ আমাদের ভগবানেরাও তাই করেছেন। বর্তমান পৃথিবীর নানা সমস্যায় অসহায় হয়েই মানুষ গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ, লালনদের কাছে আশ্রয় খোঁজে কিন্তু তাদেরকে তারা মানুষই ভাবে। মন খুলে রবীন্দ্রনাথকে বুঝতে চেষ্টা করুন। তা হলে বুঝতে পারবেন আমাদের ভগবানেরা যদি রবীন্দ্রনাথের মতো হোতো, মানুষে মানুষে এতো বিভেদ হতনা।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গৌতম দাস — মে ২৫, ২০১২ @ ২:৪৭ অপরাহ্ন

      নন্দিতা পুরকায়স্থের অবজারভেশন গুরুত্ত্বপুর্ণ ও আগ্রহউদ্দীপক। হোষ্ট লেখকের লেখার চেয়েও এটা বেশি গুরুত্ত্বের দাবি রাখি। তবে হিন্দু আর মুসলমান মিলে বাঙালি এবং জাতীয়তাবাদই হতে হবে আমাদের কাম্য আগামী রাজনৈতিক কমিউনিটি বানাবার প্রজেক্ট – চিন্তা এভাবে আগাম ক্লোজ করাটা ঠিক হবে না বলেই ধারণা।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নন্দিতা পুরকায়স্থ — মে ২৯, ২০১২ @ ১১:০৫ অপরাহ্ন

      @ গৌতম দাস। আগামি দিনে আমরা নিজেদের ‘বাঙালি’ বলব নাকি অন্য কিছু, সেটা ভবিষ্যতই বলতে পারে। ফলে ক্লোজ করছি না। এখনকার বাস্তবতা হোল ‘হিন্দু’-কে বাঙালি হতে হলে হিন্দুত্ব ছাড়তে হয় না। এমনকি রবীন্দ্রনাথের মতো মানুষও নিজেকে ‘হিন্দু’ বলেই পরিচয় দিয়েছেন। এটা দুঃখের নাকি প্রহসনের জানি না। তাতেও আমার আপত্তি নাই। হয়তো এটাই এক ঐতিহাসিক বাস্তবতা। কিন্তু মুসলমানকে বাঙালি হতে হলে যেভাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে তার মুসলমানিত্ব ত্যাগ করে আসবার কথা বলা হয় সেটা শুধু ভাষা ও সংস্কৃতির জন্য নয়, রাজনীতির জন্যও বিপজ্জনক। আর সেটা করা হয় ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে। দুই বাংলাতেই প্রগতিশীল অর্থে ধর্ম নিরপেক্ষ মানুষ অবশ্যই আছেন, কিন্তু সাধারণ ভাবে বাংলাদেশে ধর্ম নিরপেক্ষতার রাজনীতি মূলত হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতির নামান্তর ছাড়া অন্য কিছু নয়। এর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াতেই বাংলাদেশে ইসলামি মৌলবাদ দানা বাঁধতে পেরেছে, পেরেছে হিন্দুত্ববাদ প্রতিরোধের একমাত্র পথ হিসাবে। এই সত্য যত তাড়াতাড়ি আমরা উপলব্ধি করতে পারি, ততোই বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের বাঙালিদের জন্য মঙ্গল।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন hassan — জুন ১২, ২০১২ @ ২:২৬ অপরাহ্ন

      মাহবুব সাহেব অসাধারণ কাজ করেছেন। দুজন মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে বলেছেন। অন্ধবিশ্বাস ভেঙে যুক্তির জগতে আসার আহবান দিয়ে মহত্ব দেখিয়েছেন। লেখকের রচনায় জ্ঞান আছে, কিন্তু উদ্দেশ্য অস্বচ্ছ।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com