মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীকের থাকা ও না থাকা

| ৩০ december ২০১১ ২:৩৫ অপরাহ্ন
[১৬ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে আর্টস-এ ছাপা হয় অদিতি ফাল্গুনীর ভূমিকাসহ মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীক প্রণীত ডায়রি বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ এবং ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্ট’ গঠনের মূল ইতিহাস। এই ডায়রি ছাপা হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক ব্যবহারকারী কারো কারো পক্ষ থেকে দাবি ওঠে যে এই নামে কোনো মুক্তিযোদ্ধা কখনো ছিল না। তারা এর প্রমাণ স্বরূপ ‘বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা’র লিংক সরবরাহ করেন। সেখানে মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীক নামে কারো ভুক্তি নেই। এ প্রেক্ষিতে ‘বীর প্রতীক’ সংক্রান্ত প্রকৃত অবস্থা অনুসন্ধানের জন্য ‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা রোগমুক্তি বিশ্রামাগার’-এ গিয়ে দেখা গেল ‘বিশ্রামাগার’-এর নির্মাণ কাজ চলছে। সংলগ্ন অস্থায়ী অফিসের সামনে ডিসেম্বর ২০১১-র ২৪ তারিখে হুইলচেয়ারে স্থিত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা তোজাম্মেল হক বীর প্রতীকের সঙ্গে কথা বলেন অদিতি ফাল্গুনী। কিন্তু রাস্তার পাশে শব্দের প্রাবল্য থাকায় কাছেই ১/৬বীর উত্তম নুরুজ্জামান সড়কের ‘রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতাপ্রাপ্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের বাসস্থানে’র আঙিনায় অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের কথাবার্তা ধারণ করা হয়। সেখানে মধুর ব্যাপারে কথা বলেন মোঃ গোলাম মোস্তফা বীর বিক্রম বীর প্রতীক, মোঃ সামসুদ্দিন বীর প্রতীক, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শুকুর আলী। এ ছাড়া মিসেস মনোয়ারা সামসুদ্দিন, আবুল কাশেম ও আবদুস সোবাহান মন্টুও মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীকের এক সময়ে অস্তিত্বশীল থাকার ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন। তারা জানান যে মধু এখন আর নাই–২০০৫ সাল থেকেই নাই। তবে তার স্ত্রী এখনও সরকারি ভাতা পাচ্ছেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি চাপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ এলাকায় বন্দুকের গুলি লেগে আহত হন। পরে ভারতে চিকিৎসা লাভ করেন ১৯৭২ সালে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলের শেষ দিকে ১৯৭৯ সালে ২৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে বীর প্রতীক পদকে ভূষিত হন। তবে তাদের সেই তালিকা কখনো গেজেট ভুক্ত হয় নাই।

আর্টস-এ প্রকাশিত তাঁর ডায়রির লিংক: এক মৃত মুক্তিযোদ্ধার দিনপঞ্জির পাতা থেকে…।

–বি. স.]

সাক্ষাৎকার গ্রহণ:ব্রাত্য রাইসুঅদিতি ফাল্গুনী


মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীকের বন্ধু ও পরিচিতজনদের ভিডিও সাক্ষাৎকার।

অদিতি ফাল্গুনী: মোদাস্বার হোসেন মধু বেঁচে ছিলেন। তারপরে উনি মারা গেছেন। ওনার একটা ডায়রি ছিল, ডায়রিটা আমি ছাপালাম, ছাপানোর পরে কেউ কেউ বলতেছেন উনি নাকি ছিলেন না–এটা নাকি কল্পনা, এটা নাকি বানোয়াট, তাই কি?

তোজাম্মেল হক: না না না। আমরা আগাগোড়া এখান থেকে আছি, একসঙ্গে ছিলাম। উনি মারা গেলো, মারা যাওয়ার পরে… উনার অনেক কিছু কথা আছে–সেরকম–উনি প্রথমে গুলি লাগা সৈনিক, তারপরে প্যারালাইসিস, উনি যা কিছু বলতো সত্যি বলতো এবং যা ন্যায় বলতো এবং যা জাতির কাজে লাগবে… এবং সেগুলোর কথাই উনি বলতো।

tozammel.jpg……..
তোজাম্মেল হক বীর প্রতীক। জন্ম. সিংগিমারি, পার্বতীপুর, দিনাজপুর। ১৯৭২-এর ৬ জানুয়ারি দিনাজপুর মহারাজা হাইস্কুলে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে স্বাধীনতা পরবর্তী বিস্ফোরক ও অস্ত্র জমা করার সময়ে আকস্মিক বিস্ফোরণে ৭০০ মুক্তিযোদ্ধা নিহত হন, আহত হন শতাধিক। তাদের একজন তিনি।
……..

অদিতি ফাল্গুনী: এটা তো অস্থায়ী অফিস? ওই যে আপনাদের যে বিশ্রামাগার…?

তোজাম্মেল হক: বিশ্রামাগার আমাদের স্থায়ী। এখন ভাঙ্গি ফেলাইয়ি অস্থায়ী… অনেকে ভাড়া থাকে, ফ্যামেলি নিয়া থাকে। এখন শেল্টার হইলে আমরা সবাই একত্র হবো।

অদিতি ফাল্গুনী: এইটা কবে নাগাদ মানে পুরাটা আবার ঠিক হবে?

তোজাম্মেল হক: ওই যে ২৪ মাস, দুই বছর টাইম নিছে।

অদিতি ফাল্গুনী: দুই বছর সময় দিছে।

২.
অদিতি ফাল্গুনী: আজ থেকে দশ-এগার বছর আগে আমি প্রথম আসি, এসে আপনাদের দুইজনের একটা ছবিও নিয়েছিলাম? সেটা আর কি পত্রিকাতে ছাপাও হয়েছিল, আমি দেখাই। অনেক আগের পত্রিকা [The Daily Star, 7 December 2000] –এই যে। আপনি আর এই তো মধু, তাই না?

madhu-ds.jpg……..
২০০০ সালে প্রকাশিত অদিতির লেখায় মধু ও গোলাম মোস্তফার ছবি
……..

গোলাম মোস্তফা: হ্যাঁ এই যে, ঠিক আছে। তো এইডা কী হইছে এখন?

অদিতি ফাল্গুনী: এখন ওই ছাপানোর পরে, অনেক দিন পরে আবার দুই বছর আগে এসে আপনাদের অনেকের ইন্টারভিউ নিই, তাই না? তারপরে মধুর একটা ডায়রি খাতাও আমার কাছে ছিল। তো এইগুলো নিয়ে উনার পত্রিকাতে [http://arts.bdnews24.com] একটা লেখা ছাপা হইছে। সেই লেখাটার পরে সবাই বলতেছে মধু নামে কেউ ছিল না। এটা কল্পনা, এটা আমি বানাইয়া লিখছি, আমি টাকা খাইছি…

গোলাম মোস্তফা: মোদাস্বার হোসেন মধু… ঠিকই আছে। এই যে মধু…।

ব্রাত্য রাইসু: এটা চিনেন আপনারা ওনারে?

গোলাম মোস্তফা: আরে চিনা!… আমার সাথে লাখনৌ কমান্ড হসপিটালে… একসাথেই ছিলাম, আহত হইয়া।

ব্রাত্য রাইসু: কত সালে এইটা?

গোলাম মোস্তফা: এইটা বাহাত্তর সালে।

ব্রাত্য রাইসু: হাসপাতালে ছিলেন আপনারা?

গোলাম মোস্তফা: হাসপাতালে ছিলাম। আমি ৬ ডিসেম্বর আহত হই… এবং ২০০৫ সাল পর্যন্ত আমাদের সাথে ছিলেন। ২০০৫ সালের অক্টোবর মাসে এই মোদাস্বার হোসেন মধু মারা যায়, শহীদ সরোয়ার্দি হাসপাতালে।

ব্রাত্য রাইসু: আচ্ছা উনি কি বীর প্রতীক ছিলেন? উনারা বলতেছিলেন উনার গেজেটে নাকি নাম নাই?

গোলাম মোস্তফা: গেজেটে নাম নাই। এইটা হলো… জিয়াউর রহমান সাব এখানে ৩৬ জনকে বীর প্রতীক দিছিলেন। ওইখান থিকা তদন্তের পরে ২৪ জন টিঁকছিল। সেই ২৪ জনের একজন হইল মোদাস্বার হোসেন মধু, একজন হল সামসুদ্দিন, একজন তোজাম্মেল, মোজাম্মেল, তারপরে নাসির উদ্দিন কামাল, কেয়াম মিরধা এইরকম আরও আরও অনেকে… ২৪ জন… এদেরকে বীর প্রতীক ঊনাশিতে দেওয়া হইছিল। জিয়াউর রহমান সাব দিয়েছিলেন। তো ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোদাস্বার হোসেন মধু। যদি কেউ বলে যে মধু বানোয়াট তাইলে তাকে আমাদের কাছে আসতে বলবেন।

ব্রাত্য রাইসু: আপনাদের কাছে কোথায় আসতে বলবো?

golam-mustafa.jpg……..
গোলাম মোস্তফা বীর বিক্রম বীর প্রতীক। জন্ম. ঢাকা। হবিগঞ্জ ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে সরাইল চান্দুরা ব্রিজে এমএমজির ব্রাশ ফায়ারে ডান হাত, ডান পা ও ডান বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন, ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১।
……..

গোলাম মোস্তফা: বিশ্রামাগারে। এবং আমার নাম্বার দেবেন, আমার ইয়ে দিবেন যে মোদাস্বার হোসেন মধু সে মুক্তিযোদ্ধা ছিল না যদি কেউ এ রকম চ্যালেঞ্জ করে তা আমি চ্যালেঞ্জ করবো সে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ছিল, হুইল চেয়ার চলাচলকারী।

ব্রাত্য রাইসু: আপনার নাম কী?

গোলাম মোস্তফা: আমার নাম মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বীর বিক্রম, বীর প্রতীক।

ব্রাত্য রাইসু: আচ্ছা আপনি কি ফোন নম্বর দিয়া দিবেন আপনার?

গোলাম মোস্তফা: হ্যাঁ, ফোন নম্বর দিয়া দেন।

ব্রাত্য রাইসু: বলেন আপনার নাম্বার।

গোলাম মোস্তফা: আমার নাম্বার হলো 01715 76 9765।

ব্রাত্য রাইসু: যে কেউ আপনাকে ফোন করে এইটা জিজ্ঞেস করতে পারবে?

গোলাম মোস্তফা: হ্যাঁ, আরেকটা নাম্বার আছে–01552 5579 81. যে কোন লোক মোদাস্বার হোসেন মধু সম্বন্ধে যদি কিছু জানতে চায় আমার সাথে কথা বলবে। সে মুক্তিযোদ্ধা, আমি বলবো সে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ছিল, ২০০৫ পর্যন্ত সে ভাতা পেয়ে গেছে এবং ২০০৫ এর ২৯ শে অক্টোবর সে মারা গেছে। এই শহীদ সরোয়ার্দি হাসপাতালে।


মো: সামসুদ্দিন: এখন তার ওয়াইফ শহীদ পরিবার হিসেবে ভাতা পায়। এখনো পায়।

ব্রাত্য রাইসু: তাই নাকি? তো এখন যে গেজেটে যে নাই এই ব্যাপারে আপনাদের বক্তব্য কী?

গোলাম মোস্তফা: এইটা গেজেট হয় নাই… এই যে চব্বিশজনের যে… তদন্তের পরে চব্বিশজনরে টিঁকাইছিল তাদের গেজেট হয় নাই। আর এটা হলো ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন, স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য খেতাব দেওয়া হইছিল, পদক দেওয়া হইছিল। সেইটা ’৭৩-এর ১৫ই ডিসেম্বর গেজেট হইছে ৬৭৬ জনের। বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন, বীরউত্তম ৬৮ জন, বীরবিক্রম ১৭৫ জন, বীরপ্রতীক ৪২৬ জন। তার মিধ্যে উনাদের নাম নাই। কারণ ওই গেজেট হইছিল ’৭৩-এ আর উনাদেরকে যে বীরপ্রতীক খেতাব দেওয়া হইছিল–সামসুদ্দিন, তোজাম্মেল, মধু–এটা ’৭৯তে, জিয়াউর রহমান সাব দিয়েছিলেন।

ব্রাত্য রাইসু: উনাদেরকে দিতে দেরি হইলো কেন?

গোলাম মোস্তফা: কেন হইলো আর কীভাবে দেয় এটাও আমার জানা নাই। কারণ এইটা হলো স্পটে, যুদ্ধ চলাকালীন বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য খেতাব। কিন্তু দেশ স্বাধীনের আট বচ্ছর পরে কীভাবে তাদেরকে খেতাব দিছে এইটা আমার জানা নাই। কিন্তু উনারা, মধু, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। যদি কেউ বলে যে মধু মুক্তিযোদ্ধা না তাইলে আমি বলবো তাকে আমার সাথে কথা বলতে।

ব্রাত্য রাইসু: আপনাদের বীর প্রতীক কবে দেওয়া হইলো?

মো: সামসুদ্দিন: জিয়াউর রহমান থাকতে…।

ব্রাত্য রাইসু: ঊনাশি সালে?

মো: সামসুদ্দিন: দিন তারিখ মনে নাই। আমার কাছে তালিকাভুক্ত… সার্টিফিকেট আছে, পদক আছে, সব আছে।

ব্রাত্য রাইসু: আর মধুর সঙ্গে আপনারা কয়জন পাইছিলেন তখন?

মো: সামসুদ্দিন: আমার মনে হয়… আমি জানতাম যে ২৪ জন।

md-shamsuddin.jpg……..
মো: সামসুদ্দিন বীর প্রতীক। জন্ম. বিষ্ণুপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। আখাউড়ার আজমপুরে শেল-এর আক্রমণে বাঙ্কার বিধ্বস্ত হলে কোমরে আঘাত প্রাপ্ত হন। ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখে।
……..

ব্রাত্য রাইসু: ২৪ জন। আচ্ছা, মধুর সঙ্গে আপনার পরিচয় কত সালে হইছিল?

মো: সামসুদ্দিন: সেভেনটি সিক্সে। মধু আমি একই রুমে থাকতাম ওই বিল্ডিং-এ, ১ বাই ১ গজনবী রোডের পশ্চিম পাশের রুমে। আমি, মধু আর মানিক কুমার দাস, একজন হিন্দু আর কি। সে মারা গেছে, মধুও মারা গেছে, আমি বাঁইচ্যা আছি।

ব্রাত্য রাইসু: [অদিতি ফাল্গুনীকে] মধুর ডায়রিটা একটু বের করবেন? [মো: সামসুদ্দিনকে] মধুর হাতের লেখা চিনেন আপনি?

মো: সামসুদ্দিন: দেখলে তো চিনবোই। চিনার কথা।… শোনেন আমিও চাকরি করি নাই, মধুও চাকরি করে নাই।… মোদাস্বার হোসেন মধু… এটা তার হাতের-ই লেখা।

ব্রাত্য রাইসু: তার হাতের লেখা?

মো: সামসুদ্দিন: হ্যাঁ।

ব্রাত্য রাইসু: তো এখন তো ধরেন এই যে বীর প্রতীক আপনাদের দিলো আবার নিলো গিয়া বা…।

মো: সামসুদ্দিন: না নিছে না তো! নেয় নাই, আমার তো এহনও আছে। সার্টিফিকেট আছে, পদক আছে–সব আছে।

ব্রাত্য রাইসু: আচ্ছা গেজেটে যে নাই এই ব্যাপারে আপনাদের কোনো… আপত্তি করেন নাই আপনারা?

মো: সামসুদ্দিন: এটায় আমার কোনো মন্তব্য নাই। কামলা খাটাইছেন আপনে, তালিকাভুক্ত করার দায়দায়িত্ব আপনার, তালিকা করবেন কি না করবেন–সেটা আপনার ব্যাপার। আমি মুক্তিযোদ্ধা, আবারও বলি আমি ধ্রুবসত্য মুক্তিযোদ্ধা, দেশ এবং জাতির জন্য লড়াই করছি। আমার যুদ্ধকালীন কোম্পানীর কমান্ডার ছিল উপদেষ্টা মতিন। আপা [অদিতি ফাল্গুনীকে] শোনেন, এডভাইজার মতিন আমার যুদ্ধকালীন কোম্পানী কমান্ডার। আমি আখাউড়ার আজমপুরে লড়াই করছি। ডিসেম্বরের ৪ তারিখ শেলের আঘাতে আহত হইছি।

ব্রাত্য রাইসু: আচ্ছা। আর মধু কোথায় আহত হইছেন?

মো: সামসুদ্দিন: মধু তো সাত নম্বরে…।


মতিউর রহমান: চাঁপাইনবাবগঞ্জে এটা হচ্ছে… কী বলে একে… সোনা মসজিদ।

ব্রাত্য রাইসু: ওইখানে সে কি শেলের আঘাতে…?

মতিউর রহমান: তা বলতে পারবো না।

গোলাম মোস্তফা: বুলেট লাগছিল।

ব্রাত্য রাইসু: তাইলে মধু বইলা একজন আছে দেখা যাইতেছে আপনাদের কথামতো।

মতিউর রহমান: ডেফিনেটলি আছে। মোদাস্বার হোসেন মধু।

মো: সামসুদ্দিন: মধু নামে ছিল… এহন নাই। এহন তো তার বউ ভাতা পাচ্ছে।

ব্রাত্য রাইসু: হ্যাঁ তাই তো।

মো: সামসুদ্দিন: বুঝছেন, মধু নামক একজন শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা ছিল…

ব্রাত্য রাইসু: এবং সরকারের এখান থেকে ভাতাও পাচ্ছেন উনি?

মো: সামসুদ্দিন: এখনও পাচ্ছে।

মতিউর রহমান: আমি একটা তথ্য আপনাদেরকে দিই…

ব্রাত্য রাইসু: আপনি কোথায় ছিলেন?

মতিউর রহমান: আমি ওদের আগের কথাটা বলি। এই যে জিয়াউর রহমানের যে পদক প্রদান এটা কিন্তু যথাযথ কমিটি করে অনুমোদন হইছে।

মো: সামসুদ্দিন: জ্বি জ্বি।

মতিউর রহমান: যথাযথ কমিটি কইরা।

মো: সামসুদ্দিন: “অনুমোদিত হইল–জিয়া” লেখা আছে।

মতিউর রহমান: কমিটির এ্যাপ্রুভাল আছে এবং ফাইনাল এ্যাপ্রুভাল আছে জিয়াউর রহমানের… এটা এই কমিটির রিপোর্ট মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কল্যাণ বিভাগে আছে।

matiur-rahman.jpg……..
মতিউর রহমান। জন্ম. নূরপুর, যশোর। খোজার হাট বাজারে গ্রেনেডে আঘাত প্রাপ্ত হন। ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখে।
……..

ব্রাত্য রাইসু: আচ্ছা আচ্ছা, তো এইটা মানে, গেজেট থেকে যে বাদ দিলো এটা কি আপনারা জানতে পারছেন?

মতিউর রহমান: গেজেট থেকে বাদ দিছে কি দিছে না, এটা আমরা জানি না।

গোলাম মোস্তফা: গেজেট হইছে ’৭৩-এ। ৬৭৬ জনের গেজেট হইছে ’৭৩-এ।

ব্রাত্য রাইসু: পরবর্তী গেজেটটা আর নাই?

মতিউর রহমান: তবে এইটা, এই গেজেটটা, জিয়াউর রহমানের গেজেট আর সেভেনটি থ্রি’র গেজেট কিন্তু আলাদা, ওইটা জাস্ট আফটার লিবারেশন। আর এইটা ডিউরিং… জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রপতি তখন হইছে… কমিটির মাধ্যমে হইছে।

ব্রাত্য রাইসু: আচ্ছা। জিয়াউর রহমানের করা জিয়াউর রহমানের জিনিসটা কি কমিটির মাধ্যমে হইছে, এটার বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি ওঠে নাই?

মতিউর রহমান: উঠছে কিনা আমি জানি না।

মো: সামসুদ্দিন: না তহন এমন কোনো আপত্তি ওঠে নাই।

ব্রাত্য রাইসু: তখন কেউ কোনো মুক্তিযোদ্ধারা আপত্তি করে নাই?

মো: সামসুদ্দিন: আমি শুনি নাই।

মতিউর রহমান: এটার রেকর্ড ওই মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কল্যাণ বিভাগে আছে।

গোলাম মোস্তফা: এটা হলো–শহীদ আছে, জীবিত আছে, আহত আছে। ’৭৩-এ এই গেজেটটা হইছে, ওইটা ৬৭৬ জনের। ওখানে বীর শ্রেষ্ঠ ৭ জন, বীরউত্তম ৬৮ জন, বীরবিক্রম ১৭৫, বীরপ্রতীক ৪২৬–এই টোটাল ৬৭৬ জন, ’৭৩-এর গেজেটে আছে।

ব্রাত্য রাইসু: এবং ঊন আশি সালে আরেকটা গেজেট হইছিল?

গোলাম মোস্তফা: তা জানি না। ঊনাশি সালে কোনো গেজেট হয় নাই।

ব্রাত্য রাইসু: তাহলে জিয়ার গেজেট কবে হইলো?

গোলাম মোস্তফা: এইটা গেজেট হয় নাই… এইটা একটা কমিটির…

মতিউর রহমান: এইটা একটা কমিটির সিদ্ধান্ত।

ব্রাত্য রাইসু: কোন কমিটি এইটা?

মতিউর রহমান: এইটা জিয়াউর রহমানের আমলে একটা কমিটি হইছিল। এই কমিটি এ্যাপ্রুভ্ড্ বাই প্রেসিডেন্ট।

ব্রাত্য রাইসু: আচ্ছা মধু যে তার ডায়রিতে লিখছে যে শাহ আজিজুর রহমান আপনাদের কোনো একটা ফান্ডে টাকা দিছিলেন, এইটা কি ঠিক?

মতিউর রহমান: জানি না।

ব্রাত্য রাইসু: শাহ আজিজুর রহমান আসছিল জিয়ার সঙ্গে?

মো: সামসুদ্দিন: মধুর একটা স্মরণীয় কথা আমার মনে আছে। আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সমস্যার সমাধার জন্য জিয়াউর রহমান যখন প্রেসিডেন্ট তখন ষোলজন মন্ত্রীসহ জিয়াউর রহমান আসছিল আমাদের বিশ্রামাগারে। তখন রাত্রিবেলা। এক নম্বর বাড়ি। ১/১ গজনবী রোডের বাড়ি। তহন সেই সাথে, ষোলজনের ভিতরে একজন প্রাইম মিনিস্টার ছিলো শাহ আজিজুর রহমান। সেই শাহ আজিজুর রহমান যখন আসলো, মধু জিয়াকে উদ্দেশ্য কইরা বললো যে, ‘স্যার আমি আপনাকে একটা কথা বলতে চাই।’ ‘কয়, হ্যাঁ বলেন।’ ‘মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণের জন্য শাহ আজিজ একটা কথা বলুক এইটা আমরা চাই না। দুইটা শ্বাস ফেলাইবো, ওনাকে আমি বাধ্য হবো এখান থেকে ঘাড় ধইরা বাইর কইরা দিতে।’তহন আমি ওনার পাশে বসা, মধুর পাশে। আর মধুর ডাইন পাশে জিয়াউর রহমান, এর ডাইনে ছিল শাহ আজিজ; কিন্তু দুই ঘণ্টা আমাদের সাথে মিটিং করলো, আমাদের সমস্যা সমাধার জন্য–শাহ আজিজ একটা কথাও বলতে পারে নাই কারণ আমরা মধুর সাথে একজোট, একমত ছিলাম। শাহ আজিজকে কথা বলতে দেই নাই দুই ঘণ্টা ধইরা। বাইর হইয়া গেছে, তারপরে আমাদের সমস্যার সমাধান যা কিছু করণীয় রাষ্ট্রপতি করছে। আমরা বলছি আমাদের পক্ষে শাহ আজিজ কোনো কিছু করুক এটা আমরা চাই না।

ব্রাত্য রাইসু: এটা কত সালের কথা বললেন… সাল মনে নাই?

মো: সামসুদ্দিন: সাল তো মনে নাই। মনে হয় ’৭৯ কিংবা ’৮০ তে হবে। মারা যাওয়ার আগের বছর।

ব্রাত্য রাইসু: জিয়া মারা যাওয়ার আগের বছর?

মো: সামসুদ্দিন: মারা যাওয়ার পরে আর বলব কার সাথে?… যেমন মধুর কথাও আপনারা কেউ বলতেছেন ‘নাই’, ‘মধু নামে কেউ ছিলো না’ আমি জানি, আমি সেভেনটি সিক্সে আইসা তাকে দেখলাম। সে আমার আগে কল্যাণ ট্রাস্টে তালিকাভুক্ত। আর পদকের কথাটা আমাদের মতি ভাই, মতিউর রহমান সাহেব যা বললেন, একেবারেই ধ্রুব সত্য। তা আমরা তো তহন… প্রথম কথা হইলো আমরা মুরুক্ষ; শিক্ষা-দীক্ষা, সমাজব্যবস্থা কিছুই জানি না। আমাকে বললো, ‘বীরপ্রতীক উপাধি দিলাম, ঠিক আছে?’ আমি বললাম, ‘স্যার ঠিক আছে।’

ব্রাত্য রাইসু: কে বললো এই কথা?

মো: সামসুদ্দিন: জিয়াউর রহমান বললো। কিন্তু এহন তো বুঝি বীরপ্রতীক কী আর বীরবিক্রম কী। তহন সেইটা বুঝতাম না। আর যুদ্ধে যহন যাই, যুদ্ধ যহন করি, তহন আমি এইটা ভাবতাম না–আমি যুদ্ধ করবো, যুদ্ধাহত হবো, বীর বিক্রম বা বীর প্রতীক পদকে বা খেতাবে ভূষিত হবো, আমার কল্যাণের জন্য একটা কল্যাণ ট্রাস্ট থাকবে, আমি অনেক টাকা রাষ্ট্রীয়-সম্মানী ভাতা পাবো এই কথা তখন আমি কল্পনাও করতাম না। এহন যেটা ভাবি। আর এহন যেই বাড়িতে আসছেন সেই বাড়িটা হলো আমি, আমাদের। আঠারোজন মুক্তিযোদ্ধা বসবাস করি। আমি হইলাম প্রথমজন, এভাবে পর্যায়ক্রমে আঠারো জনের… এই বাড়ির মালিক আমরা।… কল্যাণ ট্রাস্ট মালিক না, কিন্তু আমরা মালিক। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা যারা বসবাস করে।

অদিতি ফাল্গুনী: সবাই মিলে এই বাড়িটা কিনেছেন?

মো: সামসুদ্দিন: কিনি নাই… কিনব কেন! কিনবার লাইগা রক্ত…! খালি যা শুধু আবেদন করছি… কিনলে দুইশ কোটি টাকা, কইত্থেকে দিমু। আমাকে মাত্র চব্বিশ হাজার টাকা ভাতা দেয়।

অদিতি ফাল্গুনী: আচ্ছা, আর আপনারা দুইজন… আপনারা কি কথা বলবেন?

ব্রাত্য রাইসু: আপনারা কি কথা বলবেন? মধুর সঙ্গে আপনাদের পরিচয় ছিলো?

md-shukur-ali.jpg……..
মো: শুকুর আলী। জন্ম. নগাঁও, আসাম। সিলেটের তামাবিলে শেলের ও গুলির আঘাতে আহত হন। জুন মাসের ২১ বা ২২ তারিখে, ১৯৭১ সালে।
……..

মো: শুকুর আলী: আমার সাথে পরিচয় ছিল।

ব্রাত্য রাইসু: তাইলে মধু ভুয়া–আপনারা এইটা বিশ্বাস করেন না?

মো: শুকুর আলী: মধুর সঙ্গে আমার একেবারে…।

মো: সামসুদ্দিন: মধু ভুয়া যে বলে সে পাগল। নাইলে ছাগল। এইরকম কিছু হবে।… মধু ভুয়া এই কথা যে বলে সে পাগল অথবা ছাগল।

মতিউর রহমান: মধু যে মুক্তিযোদ্ধা এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা–এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নাই।

মিসেস মনোয়ারা সামসুদ্দিন: ভুয়া কেন বলে? কে বলছে ভুয়া?

মো: সামসুদ্দিন: মধু ভুয়া এ কথা আপনারা… আবারো বলি শোনেন, মধু ভুয়া এ কথা যে বলে সে ছাগল অথবা পাগল।

monoara-s.jpg……..
মিসেস মনোয়ারা সামসুদ্দিন। জন্ম. ভোলা, বরিশাল।
……..

ব্রাত্য রাইসু: [মিসেস মনোয়ারা সামসুদ্দিনকে] আপনিও দেখছেন নাকি মধুরে?

মিসেস মনোয়ারা সামসুদ্দিন: হ্যাঁ।

ব্রাত্য রাইসু: আপনারা কি টাকা খাইয়া বলতেছেন না তো?

মিসেস মনোয়ারা সামসুদ্দিন: মধু একজন সত্যিকারই মুক্তিযোদ্ধা। টাকা খেয়ে বলবো কেন? আমরা একসাথে চলাফেরা করছি না? আমাদের বাসায় আইছে গেছে সবসময়।

ব্রাত্য রাইসু: কেমন লোক ছিলেন উনি?

মতিউর রহমান: কারণ সে একজন স্পষ্টবাদী ছিলেন এটা সত্যি কথা।

মো: সামসুদ্দিন: প্রধানমন্ত্রী ছিলো জিয়াউর রহমান… আরে শাহ আজিজ। শাহ আজিজকে বললো সামনাসামনি… এতটুক দূরে… আমাদের কল্যাণের জন্য শাহ আজিজ বলুক এটা আমরা চাই না। আমরা চাই, যদি এখানে বসে, একটা জোরে শ্বাস ফেলাইব… শ্বাস ফেলাইলে তাকে আমি বাধ্য হবো ঘাড় ধইরা বাইর কইরা দিতে।… মধু এক্কেবারে, এরকম সামনাসামনি, এক গজ দূরে–দুইগজ দূরে।

ব্রাত্য রাইসু: জিয়া কিছু বললো না এইটা শুইনা?

মো: সামসুদ্দিন: মাত্থা খারাপ! জিয়াকেও বাইর কইরা দিতাম আমরা!

ব্রাত্য রাইসু: তাই নাকি?

মো: সামসুদ্দিন: কী মনে করেন? হ্যাঁ। আমরা দেশ এবং জাতির জন্য যুদ্ধ করছি। জিয়াউর রহমানের সময় আমরা ফ্রি স্টাইলে চলাফেরা করছি। যত্ত কিছু বলেন, কেউরে ভয় পাইতাম না, যা খুশি বলতে পারতাম। বাধ্য হইতাম জিয়াকে ওই কথা বলতে কারণ আমাদের প্রতি জিয়া এইরকম ভাব দেখায় নাই কোনোদিন। আমাদেরকে ভালবাসত।

ব্রাত্য রাইসু: আচ্ছা আচ্ছা, আপনার নাম হইলো… কী? আপনার নামটা বলেন?

মো: সামসুদ্দিন: আমি মো: সামসুদ্দিন বীর প্রতীক।


ব্রাত্য রাইসু: আচ্ছা আপনি [মতিউর রহমানকে] কী জানি বলতেছিলেন যে… মধুর এলাকায় গেছিলেন আপনি?

মতিউর রহমান: হ্যাঁ, সে মুক্তিযোদ্ধা এতে কোনোরকম সন্দেহ নাই।

ব্রাত্য রাইসু: আপনি কি তার এলাকায় গেছিলেন?

মতিউর রহমান: আমি তার বাড়িতে পর্যন্ত গেছি।

ব্রাত্য রাইসু: উনার বাড়ি কোথায়?

মতিউর রহমান: উনার বাড়ি হচ্ছে চাপাঁইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানায়।… হুইলচেয়ার হওয়ার পরে সে বিয়ে করছে সেই বউ এখনো আছে। সেই বউ ভাতা পাচ্ছে।

৭.
abul-kashem.jpg……..
আবুল কাশেম। জন্ম. চুয়াডাঙ্গা।
……..

আবুল কাশেম : না মধু ভাইয়ের সমন্ধে কথা বলা এইটা…মানে বিশালই একটা ব্যাপার!

৮.
মতিউর রহমান: …ডাক্তার মাইনউদ্দিন…

ব্রাত্য রাইসু: ডাক্তার মাইনউদ্দিন কে?

মতিউর রহমান: ওই সময় সে সাত নম্বর-এর সাবসেক্টর কমান্ডার ছিলো। আমি তার সাথেও কথা বলছি। সে এখন জীবিত না। মারা গেছে। মধু মুক্তিযোদ্ধা এতে কোনোরকম সন্দেহ নাই। একজন নির্ভেজাল মুক্তিযোদ্ধা ছিল।


আবদুস সোবাহান মন্টু: আচ্ছা কোন লোকটা কইতে পারে এই কথাটা!…

১০
মতিউর রহমান: হ্যাঁ তবে তার একটা দোষ ছিলো সে হচ্ছে ঠোঁটকাটা ছিলো। ঠোঁটকাটা বোঝেন তো?… সত্য কথা অকপটে বলে দিতো। এইটা হচ্ছে তার দোষ ছিলো।

১১

আবদুস সোবাহান মন্টু: ওর সাহসটা কী আমি খালি চিন্তা করতেছি!

ব্রাত্য রাইসু: কার?

আবদুস সোবাহান মন্টু: ওই যে লোক বলছে… যে আমরা তো আজীবন… আমি তো আসলে প্রথম জীবন থেকে আমি… আমি তো প্রথম জীবনের একবারে উনার… মধু ভাইয়ের।

ব্রাত্য রাইসু: মধু ভাইয়ের প্রথম জীবনের লোক?

মিসেস মনোয়ারা সামসুদ্দিন: হ্যাঁ হ্যাঁ । এই যে মধু কামড় দিয়া গোস খাইয়া লাইছে, এই যে।

as-mantu.jpg……..
আবদুস সোবাহান মন্টু। জন্ম. গোপালগঞ্জ।
……..

আবদুস সোবাহান মন্টু: খুব রাগী লোক ছিল।

মিসেস মনোয়ারা সামসুদ্দিন: রাগের চোটে… রাগের চোটে কামড় মারছিল হাতের মধ্যে।

আবদুস সোবাহান মন্টু: আরে না না, এই সব কী! ছিঃ ছিঃ ছিঃ, আল্লা এইটা টেপ হইতেছে! ছিঃ ছিঃ ছিঃ।

মিসেস মনোয়ারা সামসুদ্দিন: আল্লা, খারাপ কই নাই তো।

ব্রাত্য রাইসু : আচ্ছা আপনি বললেন যে, মধুরে যে বিশ্বাস করে না…?

আবদুস সোবাহান মন্টু: না, আমি তারে দেখতে চাই যে আসলে সে কে? সে কী চেনে? আমি উনার বাড়িতে গেছি, উনার দেশে গেছি, সব জায়গায় গেছি।

মোহাম্মদপুর, ২৪ ডিসেম্বর ২০১১

লেখকের আর্টস প্রোফাইল: ব্রাত্য রাইসু
ইমেইল: bratya.raisu@gmail.com

আর্টস-এ প্রকাশিত আরো লেখা


রশীদ করীমের দুটি সাক্ষাৎকার
রোদ্দুরের আয়োজনে কবিদের আড্ডা
মাসুদ খানের সঙ্গে আলাপ, ১৯৯৩
ভাঙা গড়ার রবীন্দ্রনাথ: প্রাচ্যনাট-এর ‌’রাজা …এবং অন্যান্য’
এবারের মেলায় আপনার কী বই বের হলো…
বিষয় ‘‌‌বুদ্ধিজীবী’: আজফার হোসেনের সঙ্গে আলাপ
আল মাহমুদ ও জয় গোস্বামীর সঙ্গে আলাপ
ফয়েজ আহ্‌মদের সঙ্গে আলাপ

লেখকের আর্টস প্রোফাইল: অদিতি ফাল্গুনী
ইমেইল: a_falgun@yahoo.com

আর্টস-এ প্রকাশিত আরো লেখা
মিশেল ফুকোর শৃঙ্খলা ও শাস্তি: জেলখানার জন্ম (ধারাবাহিক অনুবাদ; অসমাপ্ত ১ থেকে ১২ কিস্তি)
লেখকের প্রয়াণ: শহীদুল জহির ও আমাদের কথাশিল্পের ভুবন
নগর পিতা বৃষ্টি নামান (গল্প)
তিতা মিঞার জঙ্গনামা
মাহমুদুল হকের অনুর পাঠশালা: খঞ্জনা পাখির কাব্য (বইয়ের আলোচনা)
‘পারস্যে’: মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের ভাবনা
বারগির, রেশম ও রসুন বোনার গল্প
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার
ঢাকায় আর্মেনীয়রা
এক মৃত মুক্তিযোদ্ধার দিনপঞ্জির পাতা থেকে…


ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

free counters
Free counters

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (7) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অমি রহমান পিয়াল — december ৩০, ২০১১ @ ৭:৩৪ অপরাহ্ন

      রাইসু-ফাল্গুনী পরিচালিত মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন ব্যাপক এবং চরম হইছে! গরীবের পকেটে এত পয়সা নাই যে মোহাম্মদপুর গিয়া আবার ফেরত আসতে পারে,এইসব কথাবার্তা ভ্যারিফাই করা (প্রয়োজনে কিছু টাকা দিয়া নিজের পক্ষেও কথা বলানো যায় আজকাল ইনভেস্টমেন্ট থাকলে) তো বহুত দূরের ব্যাপার। যাহোক আমরা অবশেষে জানতে পারলাম মধু নামে একজন মুক্তিযোদ্ধা সত্যিই ছিলেন এবং তারে জিয়ার শাসনআমলের শেষদিকে (!) ১৯৭৯ সালে ২৪ জন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে বীরপ্রতীক উপাধি দেওয়া হয়। সরকারী দলিলপত্র হালনাগাদ না থাকায় ধরা গেলো আমার সন্দেহ ভুল। তবে আমি আশা করছিলাম এইসব ব্যাপারে আরেকটু যথাযথ হবে তাদের উপস্থাপন। ’৭৯ সালের কয় তারিখে ঠিক কতজনরে কী কী বীরত্বপূর্ণ পদকে ভূষিত করছেন জিয়া সেটা জানার অধিকার তো বাঙালী জাতি রাখে। কারণ দেখা গেলো সেদিন আরো দুইজন বীরশ্রেষ্ঠ উপাধী পাইছেন। কিন্তু পোলাপাইন এখনও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ৭জন বীরশ্রেষ্ঠর নাম মুখস্ত কইরা পরীক্ষা পাস করে।

      ব্যাকট্র্যাকিংয়ে আরো কিছু জিনিস শুধরানোর আছে। সেটা হইলো ওই কাঁচাহাতে লেখা ডায়েরি। অস্তিত্ব পাওয়া মধু যেই ডায়েরি লিখছিলেন সেটার পাতায় পাতায় লাইনে লাইনে মিথ্যার ছড়াছড়ি। ইন্টারনেটে ফিরোজ কামাল রচিত যে ইতিহাস পাওয়া যায়, সেটাই কপিপেস্ট মাইরা একটু নিজের মতো কইরা লেখা হইছে। এইগুলা যে ভুল এবং অসত্য ইতিহাস তার জন্য আমারে দরকার নাই (যেহেতু আমি অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণ, আমার রাজাকারজনিত চুলকানি এত বেশি যে সবকিছুতে তাদের উপস্থিতি দেখি), ডক্টর মুনতাসীর মামুন কিংবা মাহবুবুর রহমান জালাল ভাই বা সমকালীন ইতিহাসবিদ যারাই আছেন তারা মোটামুটি দুইপাতা পড়লেই বলে দিবেন এর অসঙ্গতিগুলা। আপাতত টিপস এটুকুই।

      তো যা বলতেছিলাম, শুধরানোর কথা। যেহেতু জিয়ার আমলের বীরপ্রতীক মধু, তাইলে ডায়েরিতে মুজিব-ওসমানী-তাহেরের একত্র উপস্থিতি এবং গ্যালেন্টারি এওয়ার্ড (বীরত্বের খেতাব) প্রদানের জায়গাটা সংশোধন করতে হবে জরুরিভিত্তিতে। নাইলে এইটা একটা বিরাট ফোঁকড় হয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করবে এই আনাড়ি ফ্যান্টাসিকে। নতুন প্রযোজনায় আরেকটা গাফিলতি ধরা পড়ছিলো অবশ্য। মধু কোন সেক্টরে যুদ্ধ করছেন তার সত্যতা জানার জন্য অবলম্বন মানা হইছে আরেকজন মৃত ব্যক্তিরে। মতিউর রহমান নামে একজন স্বাক্ষীর বরাতে বলা হইতেছে : …ডাক্তার মাইনউদ্দিন…
      ব্রাত্য রাইসু: ডাক্তার মাইনউদ্দিন কে?
      মতিউর রহমান: ওই সময় সে সাত নম্বর-এর সাবসেক্টর কমান্ডার ছিলো। আমি তার সাথেও কথা বলছি। সে এখন জীবিত না। মারা গেছে। মধু মুক্তিযোদ্ধা এতে কোনোরকম সন্দেহ নাই। একজন নির্ভেজাল মুক্তিযোদ্ধা ছিল।

      আমি সামনে রাখা দলিল উল্টাই, সাত নম্বর সেক্টর দেখি। মেজর গিয়াসউদ্দিন আহমদ চৌধুরী, স্কোয়াড্রন লিডার ওয়াহিদুর রহিম, বীর শ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, লে.আবদুল আওয়াল চৌধুরী, প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইদ্রিস, মেজর আবদুর রশীদ, লে. রফিকুল ইসলাম, সুবেদার মোয়াজ্জেম হোসেনসহ প্রতিটি সাব-সেক্টর কমান্ডারের তালিকা ভেসে ওঠে দলিলে। তাদের এলাকা, অধীনস্থ কোম্পানি কমান্ডারদের নাম এমনকি মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মোহাম্মদ আজাদ এবং ডাক্তার মিজানুর রহমানের নামও। নাহ, ডাক্তার মাইনউদ্দিন নামে কোনো সাব-সেক্টর কমান্ডার পাই না। না পেয়ে একটুও মন খারাপ করি না। জিয়ার শাসনআমলের শেষদিকে (!‍) ১৯৭৯ সালে নিশ্চয়ই ডাক্তার মাইনউদ্দিনসহ আরো কয়েকজনকে সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হইছিলো।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন arshad — মার্চ ২৯, ২০১২ @ ৮:০২ অপরাহ্ন

      চমৎকার বলেছেন।অমি ভাই।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নাসরীন — মার্চ ২৯, ২০১২ @ ৯:৫২ অপরাহ্ন

      আমি কনফিউজড!অদিতি ফাল্গুনী, অমি রহমান পিয়াল যে বিষয়গুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, আপনার উচিত সেগুলোর পরিস্কার ব্যখ্যা দেয়া যাতে করে আমাদের মত পাঠকরা বিভ্রান্ত না হন।ধন্যবাদ এবং শুভ কামনা।
      নাসরীন

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন sumon — মে ৩০, ২০১২ @ ২:৩৫ পূর্বাহ্ন

      মোদাস্বার হোসেন মধু আমার আম্মার মামা হন সেই সুত্রে আমার নানা , আমি ঠিক জানি না তিনি কোন পর্যায়ের মুক্তিযুদ্ধা ছিলেনন কিন্তু নানা যখন যুদ্ধে গিয়েছিলান তখন তিনি মাজায় গুলি খেয়ে পঙ্গু হয়ে গিয়েছিলেন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন dulal — জুন ১৭, ২০১২ @ ১২:৪৩ অপরাহ্ন

      মধু চাচা আমার বাবার মামাতো ভাই। উঁনি একজন সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন JAIGIRDAR — জুলাই ২৯, ২০১২ @ ৩:৪২ পূর্বাহ্ন

      TODAY A NEW ERA IS OPENED……….WHY THIS HIDE N SEEK…….TILL DATE OUR HISTORY OF FREEDOM FIGHTING NOT WRITTEN CORRECTLY.
      THE HISTORY IS WRITTEN ON THE BASIS OF PARTY FEELINGS..EVEN LOTS OF NAME INCLUDED THOUGH THEY WERE NOT IN FIGHTING……..I DEMAND THE PRESENT GOVT MUST GIVE AN ANNOUNCEMENT ABOUT THE AWARDS GIVEN BY LATE PRESIDENT SHAHEED ZIAUR RAHMAN,,,,,,,,,,I KNOW THERE ARE SOME ARMY OFFICERS WHO WERE AWARDED IN DIFFERENT OCCASION SPECIALLY IN CHITTAGONG HILL TRACT CRISES/OCCUPATION.

      LETS BE FARE, HONEST, ABOVE NEPOTISM, FAVORITISM, AND CALCULATE AND DRAW REAL PICTURE OF FREEDOM FIGHTER AND SHAHEED”S. I KNOW A PERSON WHO HAD THE CERTIFICATE BUT HE BURNT IT AND EVEN HE DID NOT ENLIST HIS NAME ON THE LIST AGAIN

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শ্র।বনী — সেপ্টেম্বর ১২, ২০১২ @ ৬:৫৮ অপরাহ্ন

      অসাধারান এক লেখা

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com