তথ্যচিত্রে ‘অপরাজেয় বাংলা’

শামীম আহমেদ | ৯ december ২০১১ ৪:৫৮ অপরাহ্ন

ob_1.jpg……..
অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্য
……..

মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ঐতিহ্যের প্রতীকে পরিণত হওয়া অনন্য ভাস্কর্য `অপরাজেয় বাংলাকে’ কেন্দ্র করে নির্মিত তথ্যচিত্র অপরাজেয় বাংলা যেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪০তম বার্ষিকীতে এক বিজয়ের নৈবেদ্য। গুরুত্বপূর্ণ অনেক ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য সারসংক্ষেপ, সংস্কৃতি, দেশের অতীত ও বর্তমান সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা এখানে মিলেছে নানা প্রাসঙ্গিক ঘটনাবলীর মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের জনগণের অপরাজেয় চেতনাকেই যেন তা চিত্রায়িত করেছে।

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের চল্লিশতম বার্ষিকী উদযাপনের সময়েই তথ্যচিত্র অপরাজেয় বাংলার উদ্বোধনী প্রদর্শনী হচ্ছে শুক্রবার, নিউ ইয়র্কে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় জ্যাকসন হাইটস-এর দ্য জুইশ সেন্টারে এ ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের আয়োজন করছে নিউ ইয়র্ক ফিল্ম সেন্টার।

ak_1.jpg……..
সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ
…….
সাইফুল ওয়াদুদ হেলাল পরিচালিত ও শফিউল ওয়াদুদ প্রযোজিত এ তথ্যচিত্রে একদিকে যেমন এ ভাস্কর্য নির্মাণের সৃষ্টিশীল প্রক্রিয়া, মডেলদের কথা, নির্মাণের খুঁটিনাটি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে; তেমনি উঠে এসেছে দেশের ইতিহাস, রাজনীতি, সংস্কৃতি এবং প্রগতিশীলতার পথপরিক্রমায় এ ভাস্কর্য নির্মাণের তাৎপর্যও।

এ ভাস্কর্য কীভাবে বাঙালীর আত্মপরিচয়, আশা, স্বপ্ন, অনুপ্রেরণার বাহন হয়ে ওঠে এবং অধিকার রক্ষার চেতনাসঞ্চারী প্রতীকে পরিণত হয় তাও এই তথ্যচিত্রে তুলে ধরেছেন নির্মাতা হেলাল।

অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যকে কেউ দেখেন মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতার জন্য দুঃসাহসী লড়াইয়ের স্মারক হিসেবে, বাঙালীর গৌরবগাথার অনুপ্রেরণা এবং কীর্তির উদযাপন হিসেবে। আবার অনেকের কাছে তা জনগণের অভূতপূর্ব সংহতির প্রতীক, ঐক্যের যে অবিশ্বাস্য শক্তি নিয়ে তারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব করে তুলেছিল তার উদযাপন।

সাইফুল ওয়াদুদ হেলাল এই ছবিতে দেখিয়েছেন বিভিন্ন সময়ে মানুষ কীভাবে অপরাজেয় বাংলাকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে, এর পাদদেশে সমাবেশ করে কীভাবে এই ভাস্কর্যকে একটি মঞ্চে পরিণত করেছে; কীভাবে এই প্রতীকী মুক্তিযোদ্ধারা পরিণত হয়েছে তারুণ্যের চালিকাশক্তিতে; কীভাবে তা স্বাধীনতার চেতনাকে জাগরুক রেখে, মাতৃভূমির প্রতি শর্তহীন ভালোবাসার পুনর্জাগরণ ঘটিয়ে এবং জনগণের অপরাজেয় চেতনাকে রক্ষা এবং উধ্র্বে তুলে ধরার প্রতিজ্ঞা মনে করিয়ে দিয়েছে মানুষকে।

ab_2.jpg
ভাস্কর্যের তিন মডেল, এই সময়ে

অপরাজেয় বাংলার ভাস্কর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ, এ ভাস্কর্য নির্মাণের অন্যতম উদ্যোক্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের তৎকালীন সাংস্কৃতিক সম্পাদক ম. হামিদ এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মিশুক মুনীরের সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে তথ্যচিত্রটি দর্শককে নিয়ে যায় সেই ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের অসাধারণ এক অভিযাত্রায়।

অপরাজেয় বাংলা নির্মাণকালে মিশুক মুনীরের তোলা অনেক দুর্লভ আলোকচিত্র এবং কিছু ভিডিও ফুটেজ এ তথ্যচিত্রকে আরো সমৃদ্ধ করেছে।

এ ছবিতে তাৎপূর্যপূর্ণভাবে ফ্রেমবন্দি করেছে এ সময়ের তরুণদের আবেগ, উদ্যম এবং দায়বদ্ধতার অসাধারণ স্বতঃস্ফূর্ত বহিপ্রকাশ। বিশেষ করে ‘বাংলার সংস্কৃতি আন্দোলন’-এর মতো সংগঠনের ভাস্কর্য রক্ষা আন্দোলনও (২০০৮ সালে মৌলবাদী হামলায় ঢাকার বিমান বন্দরের সামনের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলন) এ ছবিতে অর্থবহভাবে উঠে এসেছে।

প্রথাগত প্রশ্নোত্তর-রীতি এড়িয়ে এ চলচ্চিত্র কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায় এ অসাধারণ ভাস্কর্যের নির্মাণ, এর বিরোধিতাকারী এবং একে রক্ষায় এগিয়ে আসা কুশীলবদের জবানিতেই।

ab_3.jpg……..
‘অপরাজেয় বাংলা ডটকমে’ উপস্থাপিত মডেল হাসিনা আহমেদের ছবি
……..

এ চলচ্চিত্র এক অনন্য মাত্রায় পৌঁছে গেছে এর আশাবাদ ও ইতিবাচকতার বার্তায়। স্বাধীনতা পরবর্তী প্রজন্মের সাহসী প্রতিবাদ ও আন্দোলনের এক শক্তিশালী দৃশ্যরূপ তুলে ধরেছে এ ছবি, যে তরুণরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে বিচ্ছিন্ন কিংবা দূরে তো নয়ই বরং একইসঙ্গে বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে যুক্ত।

বাংলাদেশ ডকুমেন্টারি ফিল্ম কাউন্সিল ও ঢাকা আর্ট সেন্টারের উদ্যোগে এ তথ্যচিত্রের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার হবে ঢাকায় আগামী ১৩ ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬টায়। ধানমণ্ডির ঢাকা আর্ট সেন্টারে ১৪-১৭ ডিসেম্বর প্রতিদিন বিকাল ৪টা ও সন্ধ্যা ৬টায় দুটি করে প্রদর্শনী হবে। পরে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোসহ অন্যান্য স্থানে অপরাজেয় বাংলার প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ইতিহাস আশ্রয়ী এ ছবির নির্মাতা সাইফুল ওয়াদুদ হেলাল পেশাজীবন শুরু করেন কানাডার মন্ট্রিয়ালে সাংবাদিক হিসেবে। অনুষ্ঠান পরিচালক এবং সম্পাদক হিসেবে সেখানকার মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করেন তিনি। ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে সাইফুল বেশকিছু চিত্রনাট্য লেখেন এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এথনিক টেলিভিশন চ্যানেলের জন্য ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, বিজ্ঞাপন ও মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন তিনি।

সাইফুল প্রথম আলোচনায় আসেন তার বিশ্বাসের রঙ চলচ্চিত্রের জন্য। ২৯তম মন্ট্রিয়াল ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভাল ২০০৫-এ অফিসিয়াল সিলেকশন হিসেবে প্রিমিয়ার হয় এ ছবির। তার নির্মিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে স্মৃতি একাত্তর (২০০৬), ছবির হাট (২০০৮), আনিকার বাড়ি (২০০৯) এবং সিনেম্যানিয়া (২০১০)। তার সর্বশেষ ছবি ঝলমলিয়া-এর নির্মাণ কাজ চলছে।

—-

manosh-ch1.jpg

লেখকের আর্টস প্রোফাইল: শামীম আহমেদ

ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

free counters
Free counters

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (1) »

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com