চিত্রকলা

ভেনিসে রনি-এবাদুরের ইনস্টলেশন আর্ট

রুশদির ‘কারা কোজ’-এর মাল্টি-কালচারাল সমাধি-সৌধ

এস এম রেজাউল করিম | 29 Oct , 2011  

0-65.jpg
‘কারা কোজের সমাধি’ (২৫০ x ৩৬৩ x ৩৬৩ সেমি) ইনস্টলেশন দেখছেন দর্শকরা, ভেনিসে

মাল্টি-কালচারিজম যেভাবে সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতাবাদে পর্যবসিত হইছে—আমার খারাপ লাগে সেটা; পছন্দ করতে পারি না। ক্যান্টারবারির আর্চবিশপ যে বলেন, সবার জন্য এক আইন থাকা ঠিক না—খোদার কসম, মহা আহাম্মকি বক্তব্য এইটা।
সালমান রুশদি

—————-
ronni_a1.jpg…….
রনি আহম্মেদ
……
ভেনিসে ‘ওপেন ভাস্কর্য ও ইন্সটলেশন প্রদর্শনী’তে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন রনি আহম্মেদ। তাঁর প্রদর্শিত কাজ ছিলো সালমান রুশদির উপন্যাসের চরিত্র ‘কারা কোজ’ নিয়ে। কিউরেটর এবাদুর রহমান। রনি ও এবাদুরের আর্টওয়ার্কের নাম— ‘The Tomb of Qara Koz’ বা ‘কারা কোজের সমাধি’। ‘কারা কোজ’ সালমান রুশদির ‘এনচনট্রেস অব ফ্লোরেন্স’ উপন্যাসের একটি চরিত্র। আর্টওয়ার্কে কারা কোজের কবর নির্মাণ করেছেন এবাদুর ও রনি; ২০ বর্গফুটের ত্রিভুজাকৃতির লোহার বেদীর উপর ১৪ ফুট উঁচু একটা পিরামিড। ১২৫৪টা গ্লাস (পানি খাবার গ্লাস), প্রতিটা গ্লাসে একটা করে ব্রয়লার মুরগির ডিম। ডিমগুলি চিত্রময়। এঁকেছেন রনি আহম্মেদ। গ্লাসগুলি বহুতলে দাঁড়া করানো। লোহার বেদীর উপরে তলগুলি তৈরি করা হয়েছে ত্রিকোণ সমতল গ্লাসপ্লেট দিয়ে। ডিমে আঁকা ছবিগুলিতে কুবলাই খানের দরবারে মার্কো পোলোর বলা কাহিনী, টোমাস মানের ‘ভেনিসে মৃত্যু’ বা সাম্প্রতিক কালে ভেনিসে বাঙালি অভিবাসীদের তৎপরতা বর্ণিত হয়েছে।

রনি-এবাদুর তাদের আর্টওয়ার্কে মাল্টি-কালচারিজম নিছেন রুশদির কাছে থেকে, কিন্তু আইডিয়াটা আরো পুরানা।… বহুত্বের স্বীকৃতির বদলে বিভিন্ন সংস্কৃতির কতিপয় প্রতীক বা চিহ্ন গ্রহণের মাধ্যমে প্রবল সংস্কৃতি আরো টেকসই হবার রাজনৈতিক প্রজেক্ট। রুশদির উপন্যাস ওই রাজনৈতিক প্রজেক্টের ম্যানিফেস্টেশন মাত্র। এই অর্থে রনি-এবাদুরের আর্টওয়ার্ক সেকেন্ডারি ম্যানিফেস্টেশন।

এছাড়াও জ্যাকোপো বাসানো, ভেরোনিস, জ্যাকোপো তিনতরেত্তো, পাওলো ফারিনাতি, রবার্ট কুভারের পিনোকিও, লি তাই পো—এ রকম বহু আর্টিস্টের কাজের ছায়া আছে ছবিগুলিতে। কারা কোজের সমাধির কনসেপ্ট হিসেবে এমনটাই লিখেছেন এবাদুর রহমান।

ebadur_2.jpg
…….
বক্তব্য দিচ্ছেন এবাদুর রহমান, ভেনিসে।
……
‘এনচনট্রেস অব ফ্লোরেন্স’ উপন্যাসে মিরর বা আয়না গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নিয়ে আছে। একটি চরিত্রকে অন্য চরিত্রের মিরর ইমেজ হিসেবে তৈরি করেছেন সালমান রুশদি। সনাতন ধর্মের পুনর্জন্ম ধারণা মনে পড়া সম্ভব। রুশদি বলছেন, ‘ট্রাজেডি আমাদের অনন্যতা নয়, ট্রাজেডি হলো—আমরা কতটাই না পরস্পরের মতোন!’ এই মিলের ব্যাখ্যায় মিরর ইমেজকে এনেছেন রুশদি। রনি আর এবাদুরের কাজে গ্লাসের ব্যবহার আছে প্রচুর—ট্রান্সপারেন্ট, আয়না নেই। উপন্যাসের সাথে পরিচিত দর্শক গ্লাসের সাথে আয়নাকে রিলেট করতে চাইতে পারেন। কিন্তু ‘কারা কোজের সমাধি’তে মিরর ইমেজ নাই। অথবা ব্যবহৃত ডিম নিয়েও ভাবা যেতে পারে। এই ডিমকে সিম্বল হিসেবে না দেখার উপায় নাই, জন্মের সিম্বল। গ্লাসগুলি একেকটা জরায়ু, আলাদা ডিমের ভিতরে আছে দৃশ্যত ভিন্ন সংস্কৃতির উপাদান। কারা কোজের সমাধির উপর সকল সংস্কৃতি-সভ্যতা মিলে সত্যিকারের ‘অখণ্ড একক’ মূর্ত হয়ে আছে। কিন্তু বাজারে ব্রয়লার মুরগির যে ডিম পাওয়া যায় তা সবই অনুর্বর। ডিমের ফার্মে মোরগ রাখা হয় না। কারণ, গরমে উর্বর ডিমের ভেতর বাচ্চা হবার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যেতে পারে, অর্থাৎ রক্ত দেখা দিতে পারে। বাচ্চার জন্য কিছু উর্বর ডিম উৎপাদন করা হয় মোরগ রেখে; সেগুলি বিক্রি করা হয় না। ফার্মের মুরগির সমকাম বা আত্মকাম ছাড়া সেক্স লাইফ নাই কোনো। খুব সম্ভব অনুর্বর ডিমকে জন্মের সিম্বল হিসাবে ব্যবহার করেছেন রনি-এবাদুর। এ রকম দুয়েকটা বিষয়কে ছোটখাট হিসাবে মানলে বলাই যায়, রনি ও এবাদুরের আর্টওয়ার্কে সালমান রুশদির উপন্যাসের এসেন্স পুরোটাই আছে।

rushdi_3.jpg…….
সালমান রুশদি ও তাঁর উপন্যাস এনচনট্রেস অব ফ্লোরেন্স
…….
সালমান রুশদির উপন্যাস ‘এনচনট্রেস অব ফ্লোরেন্স’ পাঠকদের সাংস্কৃতিক সাজেশন দেয়। ‘যত মত, তত পথ’-এর মতো কইরা জীবনের আরো একটা পদ্ধতি নয়, বরং জীবনকে কী ভাবে যাপন করা উচিত—সেই প্রেসক্রিপশন ‘এনচনট্রেস অব ফ্লোরেন্স’। প্রাচ্য ও প্রতীচ্য’র যোগ এবং সমরূপতার কাহিনী এই উপন্যাস। ‘কারা কোজ’ সাংস্কৃতিক সীমানাগুলি অতিক্রম করে যায় প্রেম দিয়ে, সৌন্দর্য দিয়ে। নিজের জীবনে মাল্টি-কালচারিজম চর্চা করে এবং জন্ম দেয়। প্রাচ্যের রাজকুমারী পাশ্চাত্যের ভেনিসে অধিষ্ঠিত হয়, আকৃষ্ট করে ভেনিসকে।

adi-kaz.jpg
………
রনি আহম্মেদের আদি কাজ
………

রুশদির এই উপন্যাস স্যামুয়েল জি হান্টিংটনের তত্ত্ব ‘ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন’-এর সমাধান। ‘ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন’ পশ্চিমে জনপ্রিয় তত্ত্ব, ইসলামি টেররিজম ব্যাখ্যা করতে ‘ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন’ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো। এই তত্ত্ব বাস্তবতাকে সমস্যায়িত করে কেবল, সালমান রুশদি দায়িত্ব নেন সমাধানের। ‘এনচনট্রেস অব ফ্লোরেন্স’ তাই ‘ইন্টারকোর্স অব সিভিলাইজেশন’।

উপন্যাসের কাহিনী নির্মাণে রুশদি বেছে নিছেন আকবরের প্রেক্ষিত। মাল্টি-কালচারিজম চর্চার উদাহরণ হিসাবে সম্রাট আকবর ভালো চরিত্র। সালমান রুশদি আকবরকে পছন্দ করেন। ‘দ্বীন-ই-এলাহী’ আকবরের মাল্টি-রিলিজিয়াস মডেল। আরেকটা ধর্ম-ই এইটা, ধর্মহীনতার কোনো সম্ভাবনা নয়। সালমান রুশদি ‘এনচনট্রেস অব ফ্লোরেন্স’ উপন্যাসে আকবরের দরবারকে ব্যবহার করে মাল্টিকালচারিজমের মডেল প্রস্তাব করেছেন। প্রাচ্য ও প্রতীচ্য’র মিলনের সাজেশন এই উপন্যাস।

সালমান রুশদি দেখান ইন্টারকোর্স ঘটমান, উর্বর ইন্টারকোর্স, জন্ম দেয়। ‘কারা কোজ’ প্রাচ্যের নারী, প্রতীচ্য’র সাথে ইন্টারকোর্সে জন্ম নিছেন ‘মোগর-ডি-আমোর’ অর্থাৎ ভালোবাসার সন্তান, আকবরের মাল্টি-কালচারাল জ্ঞাতি ভাই–এই ভ্রাতৃত্ব মাল্টি-কালচারাল বলে সাজেস্ট করেন রুশদি, আসলে যোগটা রেসিয়াল সম্ভবতঃ। রেস-কে সংস্কৃতির উপাদান ধরেছেন রুশদি, ভাষাকে ততটা নয়। আকবরও ভাষাকে তাঁর ধর্মের উপাদান ধরেন নাই। ‘দ্বীন-ই-এলাহি’ নামটা ফার্সি, তবে ধর্মটা পারসিয়ানদের জন্য নয় ঠিক, ভারতের মানুষের জন্য—সব ভাষার, ধর্মের।

‘কারা কোজ’ ভুল সাংস্কৃতিক দম্ভে ভুলে যাওয়া সেই হারানো রাজকন্যা যাঁর গর্ভে জন্ম নিয়েছে মাল্টি-কালচারিজম। আকবরের ফুপু জাতীয় প্রমিতামহী। তাঁরই উত্তরপুরুষ ‘মোগর-ডি-আমোর’ এখন মাল্টি-কালচার প্রাকটিসকারী আকবরের কাছে আসে ভ্রাতৃত্বের টানে। আকবরের জীবনে আরো আসে রাজপুত যোধা বাঈ, কারা কোজের মিরর ইমেজ–দূরবর্তী ইনসেস্ট ঘটে যায়।

ronniebadur_2.jpg
ইনস্টলেশন, ‘কারা কোজের সমাধি’, দূর থেকে

রনি এবং এবাদুর ‘কারা কোজ’-এর সমাধিতে মূর্ত করে তোলেন রুশদি প্রস্তাবিত সভ্যতার ইন্টারকোর্স। অনেকগুলি সংস্কৃতি থেকে নেওয়া উপাদানে মূর্ত হয়ে ওঠে ইন্টারকোর্স। এই আর্টওয়ার্ক মাল্টি-কালচারাল জীবন যাপনসম্ভব হিসাবে দেখাইয়া দেয় ভিজ্যুয়াল প্রস্তাবনায়।

ফলে এটি মাল্টি-কালচারিজমের শিল্প-রাজনৈতিক প্রজেক্ট, ক্রিটিক নয় কোনো ভাবে। কিন্তু মাল্টি-কালচারিজমে দুর্বল সংস্কৃতির জন্য স্বস্তির কোনো খবর নাই। সালমান রুশদি’র উদ্ধৃতি থেকে পরিষ্কার যে, তাঁর প্রস্তাবে বহু সংস্কৃতি ধারণার অস্বীকার আছে। রুশদির মতে সংস্কৃতিগুলির মধ্যে মিলের ভাগই বেশি, অমিল অল্প। সভ্যতাগুলি একে অপরের মিরর-ইমেজ, ফলে ‘এক’। তাই প্রেম এবং মিলন-ই স্বাভাবিক। ‘সাংস্কৃতিক ভিন্নতা’ ছদ্মবেশ মাত্র, উপরের আবরণ। মাল্টি-কালচারিজম সেই গভীর সত্য ‘এক’-এ পৌঁছে দেবে সকল সংস্কৃতিকে। সংস্কৃতি মানুষের পোশাক থাকবে না আর, বৈশ্বিক ‘এক সংস্কৃতি’ হবে একমাত্র ‘খাঁটি সত্য’, মানুষগুলি সেই ‘এক’-এর দৃশ্যমান পোশাক হয়ে পৃথিবীময় চারণ করবে—প্রেমে।

রনি ও এবাদুর ‘কারা কোজের সমাধি’তে প্রবাসী বাঙালির কর্মতৎপরতা এঁকেছেন। ওদিকে রুশদির প্রস্তাবে আছে বৈশ্বিক ‘এক সংস্কৃতি’র ধারণা। সেই ধারণা অনুযায়ী ভেনিসের বাঙালিরা কোনো প্যারালাল সংস্কৃতি প্রাকটিস করতে পারেন না, তারা ভেনিসে উদ্ভূত মাল্টি-কালচারাল এক শংকর সংস্কৃতি যাপন করেন, রনির আঁকায় আছে কতগুলি সাংস্কৃতিক চিহ্ন মাত্র, ভিন্ন এক সংস্কৃতির উপস্থিতি নয়। এই নতুন ‘এক সংস্কৃতি’তে তবে কে কার অধিভুক্ত হয়ে গেল? প্রবল সংস্কৃতির ক্ষমতা কতটা নিরীহ হওয়া সম্ভব? অধিভুক্তিকে ‘মিলন’ নামে ডাকা হলে কার কী লাভ—সে প্রশ্নের কোনো জবাব প্রস্তাব করেন না রুশদি বা রনি-এবাদুর।

রনি-এবাদুর তাদের আর্টওয়ার্কে মাল্টি-কালচারিজম নিছেন রুশদির কাছে থেকে, কিন্তু আইডিয়াটা আরো পুরানা। পশ্চিমে একাধারে ইসলাম-ফোবিয়া এবং ব্যাপক মুসলিম অভিবাসী থাকার বাস্তবতায় রাজনৈতিক ফর্মুলা হিসাবে মাল্টি-কালচারিজম ব্যাপক আলোচনায় আসে। ১৯৯০ দশকের ঘটনা। উত্তরাধুনিকতাবাদের রক্ষণশীল ব্যবহার ছিলো সেটি। মাল্টি-কালচারিজম কখনোই সংস্কৃতির ‘মূলধারা’ আইডিয়ার বাইরে যায়নি। নাৎসিবাদের ‘শুদ্ধতা’র ধারণা এড়াইয়া থাকার নাম মাল্টি-কালচারিজম বড়জোর; ‘মূলধারা’য় আদৌ সন্দেহ নয়। বহুত্বের স্বীকৃতির বদলে বিভিন্ন সংস্কৃতির কতিপয় প্রতীক বা চিহ্ন গ্রহণের মাধ্যমে প্রবল সংস্কৃতি আরো টেকসই হবার রাজনৈতিক প্রজেক্ট। রুশদির উপন্যাস ওই রাজনৈতিক প্রজেক্টের ম্যানিফেস্টেশন মাত্র। এই অর্থে রনি-এবাদুরের আর্টওয়ার্ক সেকেন্ডারি ম্যানিফেস্টেশন।

ছবি বড় সাইজে দেখতে ছবিতে ক্লিক করুন।

রুশদির ম্যানিফেস্টেশনের সাথে ১৯৮৯-৯০-এর আশপাশের কিছু ঘটনার যোগাযোগ অনুমান করা যায় সহজেই। রুশদির মাথা নিয়ে ইরানের মাথাব্যথা শুরুর পরে বৃটেনে আশ্রয় নেন রুশদি। এই ঘটনা বৃটেনের বহু মুসলিম গ্রহণ করতে পারেনি। তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে। রক্ষণশীল টোরি দলের তৎকালীন থ্যাচার সরকার তখন বৃটেনের মুসলমানদের বৃটেনে থাকার শর্ত বলে দেন। বৃটিশ সংস্কৃতির সাথে মুসলমানদের খাপ খাইয়ে নিতে বলে সরকারের মুখপাত্র ডগলাস হার্ড এবং জন প্যাটেন। বৃটিশ মুসলিমদের জন্য সাংস্কৃতিক প্রেসক্রিপশন হিসাবে মাল্টি-কালচারিজমের রূপরেখা (Being British) প্রস্তাব করেন বৃটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জন প্যাটেন। ‘মুসলিম নেতা ও প্রতিনিধিদের প্রতি’ খোলা চিঠি দেন পত্রিকায়। এই প্রেসক্রিপসন অনুযায়ী তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন, ‘ভালো মুসলিম’রা নিজেদের সাংস্কৃতিক ভালো উত্তরাধিকার যোগ করার মাধ্যমে সমৃদ্ধ মাল্টি-কালচারাল বৃটিশ সংস্কৃতি গড়ে তুলবে। (পড়ুন: তালাল আসাদ, ১৯৯০, ‘Multiculturalism and British Identity in the Wake of the Rushdie Affair‘) রুশদির আকবর এবং কারা কোজ সেই ‘ভালো মুসলিম’-এর উদাহরণ। অধীনস্থ মুসলিমদের ডাকেন রুশদি প্রভু সংস্কৃতির সাথে প্রেম করার জন্য। ‘এনচনট্রেস অব ফ্লোরেন্স’ সম্ভবতঃ বৃটিশ (প্রতীচ্য) সংস্কৃতির প্রতি রুশদির কৃতজ্ঞতা নিবেদন, আশ্রয়ের প্রতিদান।

রুশদির উপন্যাস ও তার উদ্দেশ্য পরিষ্কার। রনি-এবাদুরের মতো আর্টি মিত্র রুশদি ও পশ্চিমের হোমোজেনাইজেশন প্রজেক্ট সফল হতে সাহায্য করতে পারবে নিশ্চয়ই।

১ সেপ্টেম্বর ২০১১ থেকে মাসাধিক কাল উন্মুক্ত ছিলো প্রদর্শনী। সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশন-এর ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়নে এবাদুর ভেনিসে যান। অসুস্থ্য থাকায় রনি যাননি। রনি তাঁর পরিকল্পনা আর স্কেচ খাতা দিয়ে দেন। তার ভিত্তিতে ভেনিসে ইনস্টলেশনটি সম্পন্ন করা হয়। ‘কারা কোজের সমাধি’ নির্মাণে সাহায্য করার জন্য মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান ভেনিসে যান এবাদুরের সঙ্গে। মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান এশিয়ান বিয়েনালে গ্রান্ড প্রাইজ পাওয়া শিল্পী।

samdani_1.jpg…….
প্রেস ইভেন্টে নাদিয়া সামদানী, মনিরুল ইসলাম ও রনি আহম্মেদ
……
২৫ অক্টোবর হোটেল সোনারগাঁও-এ ছিলো রনি-এবাদুরের ইনস্টলেশন আর্ট ‘কারা কোজের সমাধি’র ভেনিস যাত্রা নিয়ে আয়োজিত প্রেস ইভেন্ট। প্রধান অতিথি ছিলেন মনিরুল ইসলাম। তিনি রনি আহম্মেদকে ‘নির্লোভ’ আর্টিস্ট আখ্যা দেন। সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর নাদিয়া সামদানী এবং রনি আহম্মেদও বক্তব্য রাখেন। গ্লাস আর হাঁসের ডিম (একটি করে) নিয়ে একটি শিল্পকর্ম ছিলো রনি আহম্মেদের। ‘কারা কোজের সমাধি’ সেইটার পরিবর্ধন। অবশ্যই এবাদুর রহমানের কিউরেশনে। অনুষ্ঠানে এবাদুর রহমান উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। প্রদর্শনী চলাকালে কিছু কন্ট্রোভার্সির কথা এক প্রশ্নের জবাবে জানান এবাদুর। বাংলাদেশের মতো গরিব দেশের কারো পক্ষে হাজারের বেশি ডিম এইভাবে ব্যবহারকে অমিতাচার হিসাবে দেখেছেন সেখানকার কেউ কেউ। এবাদুর জানান—এর মধ্য দিয়ে উত্তর আর দক্ষিণের বৈষম্যকে দেখাতে চাইছেন তাঁরা।

————–

লেখকের আর্টস প্রোফাইল: এস এম রেজাউল করিম
ইমেইল: rezaulkarim.manu@gmail.com

আর্টস-এ প্রকাশিত লেখা

ভেনিসে রনি-এবাদুরের ইনস্টলেসন আর্ট
রুশদির ‘কারা কোজ’-এর মাল্টি-কালচারাল সমাধি-সৌধ

প্রেম (কবিতা )

দুর্লভ ভিডিও ফুটেজ
ব্রুকলিনে রবীন্দ্রনাথ

রবীন্দ্রনাথের দুর্লভ ভিডিও ফুটেজ
ফ্রান্সে রবীন্দ্রনাথ

ছবিমেলায় ওপেন এয়ার এক্সিবিশন
মুনেম ওয়াসিফের ফটোগ্রাফি বাংলাদেশের ‘টেকসই উন্নয়ন’কে এগিয়ে দেবে

সূফীবাদ নিয়ে ফ্রান্স দূতাবাস ও দ্য সেন্টার ফর অলটারনেটিভস্-এর সেমিনার

গণশিক্ষায় কেসস্টাডি
‘হৈমন্তি’র অপুরুষ বনাম ‘সমাপ্তি’র পুরুষ

কবিতাগুচ্ছ

ভাষার শুদ্ধতা কেন আলোচ্য

বহুবাচনিক দ্রষ্টা নারীগণের বাচ্য হয়ে ওঠা


ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

free counters


4 Responses

  1. কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর says:

    আলোচনাটি বেশ ভালো লাগল।
    রনি আর এবাদুরের মন্তব্য পেলে আরও ভালো হতো।

  2. চমৎকার আলোচনা.. লেখককে ধন্যবাদ।

  3. চমৎকার আলোচনার জন্য লেখককে ধন্যবাদ।

    প্রেম নিশ্চয় সবকিছুকে জয়ের জাদুকরী মন্ত্র হয়ে হাজির না। এর বশ্যতা আর অধীনতাময় রূপও আছে।

    লেখক বলছেন, ‘এক সংস্কৃতি’তে তবে কে কার অধিভুক্ত হয়ে গেল? প্রবল সংস্কৃতির ক্ষমতা কতটা নিরীহ হওয়া সম্ভব?’

    এই প্রশ্ন দুটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

  4. চমৎকার লেখা। পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ লেখককে। ভালো থাকুন, শুভকামনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.