সিডনির পথে পথে (৭)

আবু সুফিয়ান | ২ অক্টোবর ২০১১ ২:২৩ পূর্বাহ্ন

fwp1.jpg
ফেদারডেল পার্কের সামনে পুরো দলবলসহ লেখক।

সিডনির পথে পথে ১ | সিডনির পথে পথে ২ | সিডনির পথে পথে ৩ | সিডনির পথে পথে ৪ | সিডনির পথে পথে ৫ | সিডনির পথে পথে ৬

(গত সংখ্যার পর)
বন্ধের দিন ছাড়া ফ্যামিলি ট্যুর হয় না। ৬ মার্চ রবিবার। ছুটির দিন। এদিন প্ল্যান হলো সবাই ফেদারডেল ওয়াইল্ড পার্কে (Featherdale wild park) যাবো। পৃথিবীর যেখানেই যাই, চিড়িয়াখানা বিষয়ে আমার বিশেষ আগ্রহ আছে। দেখার চেষ্টা করি। সিডনির চিড়িয়াখানা কোথায় বা কেমন এ বিষয়ে কেউ পরিষ্কার ধারণা দিতে পারলো না। কাকুকে জিজ্ঞেস করলাম, পার্কটা কেমন? কী কী আছে?

উনি বললেন, গেলেই দেখতে পাবে।

বিদেশে ‘পার্ক’ জাতীয় জায়গাগুলো খুবই ঠাণ্ডাপ্রবণ হয়। যদিও অস্ট্রেলিয়ায় এখন সামার চলছে। তবু অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে সতর্কতা স্বরূপ জ্যাকেট নিয়ে নিলাম। সাথে পানির বোতল।

fwp6.jpg…….
ক্যাঙ্গারুর সাথে সাবৃনা।
…….
এই দেশে আইন কঠোর। গাড়িতে ঠাসাঠাসি করে বসার উপায় নেই। ‘ফাইন’ হয়ে যাবে। বাংলাদেশে এই আইনটা চালু করা গেলে ভালো হতো। দুষ্টের দল সোজা হয়ে যেতো। কিন্তু ঘুষখোর আর হারামখোরদের কারণে সেটা হবার উপায় নেই।
আমাদের দুই গাড়ি রওয়ানা হলো ফেদারডেল ওয়াইল্ড পার্কে। বড় গাড়িতে কাকু-চাচি, সাবৃনা-শ্যারন এবং নানা উঠেছে। আমি তন্ময়ের সাথে ওর হল্ডেন কমোডর কারে।

এখানে থেকে ফেদারডেল ওয়াইল্ড পার্ক যেতে কত সময় লাগবে সেটা আর জিজ্ঞেসা করলাম না। সিডনির প্রায় যে কোনো গন্তব্যের সময় দূরত্ব-ই পয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ মিনিটের ড্রাইভ। এর একটি প্রধান কারণ সম্ভবত সিডনির সার্কেল আকারে করা মটরওয়ে। মটরওয়ে ব্যবহার করে যে কোনো জায়গাতেই ঠিক সময়ে পৌঁছে যাওয়া যায়। কিন্তু ব্যতিক্রম ঘটলো আজ। প্রায় এক ঘণ্টা হয়ে গেছে। আমরা এখনো গন্তব্যে যেতে পারিনি। কাকুরা পৌঁছে গেছেন। ফোনে আমাদের অবস্থান জিজ্ঞেস করলেন।
তন্ময় শুধু বললো, আসছি। রাস্তায়। বলেই ফোন রেখে দিলো।

আমি জানতে চাইলাম, ঘটনা কী? এতক্ষণ তো লাগার কথা না। চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ মিনিটের ড্রাইভ হওয়ার কথা।

তন্ময় শান্ত গলায় বললো, রাস্তা ভুল করেছিলাম। সেজন্য আবার ঘুরতে হচ্ছে। সমস্যা নাই। তাশফিয়াকে নিয়ে এখনই আমরা পৌঁছে যাবো।

তাশফিয়া তন্ময়ের বন্ধু। ওকে পিক করে গাড়ি আবার উড়াল দিলো। রাস্তা ভুল করার দণ্ড হিসাবে তন্ময়ের টোল কাটা গেলো দুইবার। সিডনিতে পথ ভুল করা মানেও এক ধরনের ‘ফাইন’। অর্থের দণ্ড।

ফেদারডেল ওয়াইল্ড পার্কের অবস্থান ব্ল্যাক টাউনের কাছে, কিলডেয়ার রোড (Kildare Road) ডোন সাইডে।

পার্কের কাছে এসে খানিকটা হতাশ হলাম। আমার ধারণা ছিলো যেহেতু ওয়াইল্ড লাইফ পার্ক, নিশ্চয়ই কোনো জঙ্গলের ভেতর দিয়ে আমাদের যেতে হবে। এখানে সেরকম কিছুই নেই। সামনে বিশাল চত্বর। কার পার্কিংয়ের জায়গা। দালান কোঠার স্থাপনা। সবকিছু গোছানো। ছিমছাম।

সাবৃনা দলবল নিয়ে ছবি তুলছে।

নানা তাশফিয়াকে দেখে নিজেই ছবি তোলা শুরু করলেন। নাতির বান্ধবীকে দেখে উনি এক্সাইটেড। কাকু গেলেন পার্কের ভেতরে ঢোকার টিকেট কাটতে।

লোকজনের তেমন ভিড় নেই। কিন্তু টিকেটের দাম চড়া। অ্যাডাল্ট ২৫ ডলার। তিন থেকে পনর বছর বয়সী বাচ্চাদের টিকেট ১৪ ডলার। সিনিয়রদের টিকেট সাড়ে ১৭ অস্ট্রেলীয় ডলার।

কাকু একা এতগুলো টিকেট কিনছেন। নিজের কাছেই অস্বস্তি লাগছে। সম্পর্কের কারণে সেই যন্ত্রণা আরো বেশি। আমি লজ্জিত কণ্ঠে শেয়ার করতে চাইলাম। কাকু বিরক্তি প্রকাশ করলেন। এর মধ্যে নানা এসে জানালেন, তার জন্য টিকেট করার দরকার নেই। বললেন, ভেতরে দেখার কিছু নেই। কয়েকটা ক্যাঙ্গারু লাফালাফি করছে। আর কিছু পাখি খাঁচায় আটকে রাখা হয়েছে। আমি দেখেছি।

আপনি দেখলেন কী করে?

নানা অনেক আগে একবার আস্ট্রেলিয়া এসেছিলেন। জিজ্ঞেস করলাম, সেই সময় দেখেছেন?

না। তোমরা আসার আগে আমি ভেতরে ঢুকে ঘুরে এসেছি।

মানে? টিকেট ছাড়া গেলেন কীভাবে?

গেলাম তো। মুরব্বী হিসাবে ওরা খাতির করেছে। কিছু বলে নাই।

fwp9.jpg
পার্কের ক্যাঙ্গারু জোনে পুরো দলসহ লেখক।

নানা সিগারেটের নেশা ছাড়ার জন্য কঠিন কঠিন ওষুধ খাচ্ছেন। সেসব ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসাবে তার মধ্যে কিছু পাগলামি দেখা দিয়েছে। মাঝে মাঝে এলোমেলো কথাও বলেন। নানার এই কথাটিও ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসাবে ধরা হলো। তার জন্য সিনিয়রদের টিকেট কেনা হয়েছে।

আমরা ওয়াইল্ড লাইফ পার্কে ঢুকলাম। সাবৃনা-শ্যারন কাঙ্গারু দেখে বললো–ওয়াও! ‘ক্যাঙ্গারু!’ বলেই তারা ক্যাঙ্গারুর সাথে ছবি তোলায় ব্যস্ত হলো। ছবি তোলার দায়িত্ব কাকুর। তিনি প্রচণ্ড চাপে আছেন। ছবি ভালো না হলে তার খবর আছে। এই থ্রেট তাকে আগেই দেয়া হয়েছে।

fwp13.jpg…….
বিশ্রামরত ক্যাঙ্গারুর সাথে সস্ত্রীক লেখক।
…….
তিনি প্রতিটি ছবি তুলতেই যথেষ্ট সময় নিচ্ছেন। তার এই বিলম্ব সাবৃনা-শ্যারন মেনে নিতে পারে তাদের ভালো ছবির আশায়, কিন্তু ক্যাঙ্গারুদের এত ধৈর্য্য নেই। তাদের ভালো ছবি তোলার জন্য এসব ফখরণ সহ্য করারও কোনো কারণ নেই। বেশিক্ষণ যন্ত্রণা দেখলে তারা হাঁটা দেয়। আরেক দিকে চলে যায়। ফলে ছবির পোঁজ হয়। কিন্তু ছবি তোলা হচ্ছে কম।

এখানে রক (Rock) ক্যাঙ্গারু, ওয়ালাবি (Wallaby) ক্যাঙ্গারুসহ কয়েক জাতের ক্যাঙ্গারু আছে। প্রাণী হিসাবে ক্যাঙ্গারুর মূল বৈশিষ্ট হচ্ছে এরা দীর্ঘ লাফের জন্য চ্যাম্পিয়ন। কোনো কোনো ক্যঙ্গারু এক লাফে ৩০ ফুট পর্যন্ত যেতে পারে। নিজের বাচ্চাকে মা ক্যাঙ্গারু অনায়াসে পেটের ভেতর লুকিয়ে রাখতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ানরা ক্যাঙ্গারুর গোস্তও খেতে পছন্দ করে। সম্প্রতি পত্রিকায় সংবাদ বেরিয়েছে এক বৃদ্ধ অস্ট্রেলিয়ান মহিলা ক্যাঙ্গারুর হামলায় জখম হয়েছেন। হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন। এই প্রাণীটিকে দেখে একদমই হিংস্র মনে হচ্ছে না। তবু সতর্ক থাকা ভালো। মানুষের মধ্যে যেমন কত শান্ত প্রকৃতির মানুষ আছেন, যারা স্বভাবে নিরীহ; কিন্তু কোনো কিছুতে অসহ্য হয়ে ক্ষেপে গেলে খুন-খারাবিসহ যে কোনো জিনিসই তারা ঘটিয়ে ফেলতে পারেন। ক্যাঙ্গারুদের মেজাজ আমার কাছে সেরকম মনে হয়।

নানা খোঁজার চেষ্টা করছেন পুরুষ ক্যাঙ্গারু কোনগুলো এবং নারী ক্যাঙ্গারুরা কেমন? চাচি বললেন, ক্যাঙ্গারুর নারী-পুরুষ আপনার জানার দরকার কী? তিনি উত্তর না দিয়ে চুপচাপ সামনের দিকে চলে গেলেন ছবি তুলতে।

এখানে কিছু ক্যাঙ্গারু ছেড়ে দেয়া। খোলা জায়গায় তারা হাঁটাহাঁটি করছে। শুয়ে বসে বিশ্রাম করছে। কিছু জায়গায় আবার গ্রীলের ব্যারিকেড দেয়া।

সামনেই ক্যাঙ্গারুদের জন্য গ্লাসে করে খাবার বিক্রি হচ্ছে। প্রতি গ্লাসের দাম ১৫ ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় এগারো শ টাকা। টুরিস্টদের কেউ কেউ খাবার কিনে ক্যাঙ্গারুকে খাওয়াচ্ছে।

শ্যারন আবদার করলো সেও ক্যাঙ্গারুকে খাওয়াবে। তার মধ্যে পশুপাখিপ্রীতি আছে। কিছুদিন আগেও সে ছিলো শোকগ্রস্ত। কারণ তার পোষা বিড়াল রোড অ্যাকসিডেন্ট করেছিলো। তাকে নিয়ে হাসপাতালে ছোটাছুটি, চিকিৎসকদের প্রাণপন চেষ্টা। অবশেষে সেই বিড়ালিনীর মৃত্যু শুধু তাকে কাতর করেনি; চাচা-চাচিকেও সেই শোকে শামিল হতে হয়েছিলো। মেয়ের সাথে গলা ধরে বিড়ালের জন্য কান্নাকাটি করতে হয়েছিলো। আল্লাহর মেহেরবানি ডি-সেক্স করানো (ডি-অ্যাকটিভেটেড সেক্স) থাকার কারণে বিড়ালের সন্তানাদি কেউ ছিলো না। নয়তো তাদের পালপোষ নিয়েও ঝামেলা হতো।

fwp7.jpg
কোয়ালার সাথে ফটো সেশনরত তন্ময়, সাবৃনা, তাশফিয়া ও লেখক।

শ্যারনের ক্যাঙ্গারুর খাদ্যের আবদার তেমন পাত্তা দেওয়া হলো না। আমরা সামনে এগিয়ে গেলাম। এখানে সব কোয়ালার বসবাস। কোয়ালা অস্ট্রেলিয়ার আরেকটি উল্লেখযোগ্য প্রাণী। ভদ্র। শান্ত। আমার কাছে মনে হয়েছে লেদু টাইপের জন্তু। মূর্তির মতো বসে থাকে। নড়াচড়া করে না। ভালো নবাব। এই জোনে পার্কের স্টাফ অধিকাংশই মেয়ে। তারা কোয়ালাকে কোলে করে এনে একটি গছের ডালে বসিয়ে দিচ্ছে। পর্যটকরা গিয়ে কোয়ালার সাথে ছবি তুলছে। খাবার কিনে এনে খাওয়াচ্ছে।

আমরাও পালা করে ছবি তুললাম। শ্যারন ছবি তুলে কোয়ালাকে খানিকক্ষণ আদর করলো। খাওয়ালো।

fwp8.jpg…….
কোয়ালার সাথে ফটো সেশনরত সাবৃনা।
…….
সাত একর জায়গায় এই প্রাইভেট পার্কে শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়ান প্রাণীদেরই আবাস। সংখ্যায় খুবই কম। এখানে বাঘ-ভালুক-সিংহ এসব নেই।

সিডনিতে রোদের তাপ প্রখর। পার্কের ভেতরেও যথেষ্ট গরম। জ্যাকেট এনে আমি বিপদে পড়েছি। ছবি তোলার সময় জ্যাকেট বিভিন্ন জনের হাতে দিতে হচ্ছে। নয়তো ছবিতে ‘খেত’ লাগে। ‘খেত’ লাগাতে আমার নিজের কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু আমার সাথে যারা ছবি তুলছে, তাদের ছবির বিউটি নাকি নষ্ট হয়ে যায়।

প্যারিসের এক প্রাইভেট চিড়িয়াখানায় গিয়েছিলাম কম গরম প্রটেকশন নিয়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের এক সফর সঙ্গীর আঙুলের নখ দিয়ে ঠাণ্ডায় রক্ত পড়া শুরু হয়েছিলো। সেই থেকে আমি অধিক সতর্ক। এখন দেখি অতি সতর্কতাও একটি ঝামেলা।

শ্যারন হাত ধুতে গেছে। নানা ছবি তোলার উত্তেজনায় বসে পোজ দিয়েছিলেন। এখন আর উঠতে পারছেন না। এদিক-উদিক তাকিতুকি করছেন। চোখে মুখে অস্বস্তি। আমি দেখেও না দেখার ভান করলাম; উনি বিব্রত হতে পারেন, এই আশঙ্কায়। পাশেই প্রাণীদের খাবারের একটি ভ্যান দাঁড়ানো ছিলো। তিনি গোপন ভঙ্গিতে হামু দিয়ে এগিয়ে সেই ভ্যান ধরে উঠে দাঁড়ালেন। আমি আড়াল থেকে তার উঠে দাঁড়ানো নিশ্চিত হয়ে সামনে সরে এলাম।

অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ইমু পাখিরা পার্কের ভেতর মানুষের সাথে হাঁটাহাঁটি করছে। এদের আকৃতি বিশাল। পাখি মানে আমরা বুঝি যার পাখা আছে। আর যার পাখা আছে সে উড়তে পারে। ইমু পাখি যদ্দুর জানি উড়তে পারে না। এটা লেদু গ্রুপের পাখি।
নানাও এদিকে চলে এসেছেন। নিজের বিব্রতভাব দূর করতে ইমু পাখির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেসা করলেন, এটা মেল, না ফিমেল? মানে পুরুষ, না নারী?

আমি বিড়বিড় করে বললাম, পুরুষও না। নারীও না। হিজড়া।

এক জোন থেকে আরেক জোনের মাঝখানে ছোট ছোট গেট বসানো। প্রাণীরা ছাড়া থাকলেও এক জায়গা থেকে যেন আরেক জায়গায় চলে যেতে না পারে। আমরা ডিঙ্গো (Dingo) নামে এক কুকুরের খাঁচার কাছে চলে এলাম। খুবই হিংস্র কুকুর। একে গ্রিলের ভেতর বন্দি করে রাখা হয়েছে। মাথার উপর দিয়ে একটা পাখি যাচ্ছে। ডিঙ্গো কুকুর সেই পাখিকে দেখেও লাফ দিয়ে তাড়া করলো।

আরেক অস্ট্রেলিয়ান হিংস্র জানোয়ারের নাম তাসমানিয়ান ডেভিল (Tasmanian Devil)। নামে শয়তান, প্রাণীটি দেখতেও খুবই কুৎসিৎ। আচরণেও শয়তান। একইসাথে ভয়ঙ্কর ও হিংস্র। পরিচিতিমূলক সাইনবোর্ডে তাই লেখা আছে।

fwp14.jpg…….
তাসমানিয়ান ডেভিল।
…….
খানিকটা দূরেই একটা বাদুড়ের খাঁচা। সেখানে বেশ কিছু সংখ্যক টুরিস্টের ভিড়। টিশার্ট পরা এক কালো চামড়ার ছেলে বাদুড় বিষয়ে বয়ান করছে। টুরিস্টরা মুগ্ধ হয়ে তার ভাষণ শুনছে। মনোযোগী দর্শকদের মুগ্ধতা দেখবার মতো। ব্যাংককে দেখেছি হাতি বিষ্ঠা ত্যাগ করছে–পশ্চিমা দর্শকরা সেই দৃশ্য দেখে চিৎকার করছে। হর্ষধ্বনি দিচ্ছে। ওয়াও! ওয়াও! বলে মুগ্ধ হয়ে ফাটিয়ে ফেলেছে।

এরা হয়তো জানেও না। বাদুড় বাংলাদেশে বর্তমানে নীপা ভাইরাসের বাহক। এটা শুনলে নিশ্চিতভাবে এখনই দৌড়ে পালাবে। ভদ্রসমাজ এসব জীবাণুকে ভীষণ ভয় পায়। ওয়াইল্ড লাইফ পার্কে একটি কুমীর রাখা আছে। বিশাল। সেই কুমীর মূর্তির মতো অর্ধ হা করে আছে। আমি নানার দৃষ্টি আকর্ষণ করলাম, এটা নর, না নারী জানার জন্য। নানা বললেন, টায়ার্ড লাগছে। দেখার আর কিছু নেই। চলো যাই।

fwp15.jpg…….
মূর্তির রূপে জীবন্ত কুমীর।
…….
আরো খানিকটা সামনে একটি ছোট মাঠের মতো জায়গা। সেখানে ছাগল এবং ভেড়া রাখা আছে। সাথে ফান করার জন্য খরগোস ও শূকরের রঙিন কার্টুন বোর্ড। পর্যটকরা ওখানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে। আমরাও তুললাম। শুধু নানা রাজি হলেন না। চাচা-চাচিও পোজ দিলেন। তন্ময়-তাশফিয়া খানিক দূরে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলো। বললো, আর কিছু দেখার নেই। চলো যাই। লাঞ্চের সময় হয়েছে।

আমরা বেরিয়ে এলাম।

(কিস্তি ৮)

—–

লেখকের আর্টস প্রোফাইল: আবু সুফিয়ান
ইমেইল: abusufian18@gmail.com


ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

free counters
Free counters

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (1) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Sadia — জানুয়ারি ৩০, ২০১২ @ ৯:০৫ অপরাহ্ন

      ছড়ি
      অসাধারন ভাল লাগলো তাই ২ এক টি ছবি কপি করে রাখি।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com