সিডনির পথে পথে (৬)

আবু সুফিয়ান | ২২ আগস্ট ২০১১ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন

সিডনির পথে পথে ১ | সিডনির পথে পথে ২ | সিডনির পথে পথে ৩ | সিডনির পথে পথে ৪ | সিডনির পথে পথে ৫

(গত সংখ্যার পর)

63.jpg
পেছনে সিডনি অপেরা হাউস, পার্ক হায়াত হোটেল সংলগ্ন কাঠের পাটাতনে লেখক

হুট করে আবার বৃষ্টি নেমে গেলো। দুজনের কারো সাথে ছাতা নেই। একটা দোকানের পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। বৃষ্টির গতি ধীর। কখন থামবে কে জানে! স্থির থাকা মানে সময় নষ্ট হওয়া। দুই তিন সপ্তাহের স্বল্প সময়ে ঘুরে দেখার দেশ অস্ট্রেলিয়া না। সুতরাং একটি মিনিটও অপচয় করার উপায় নেই। তন্ময়কে বললাম, চলো হাঁটি।

65.jpg…….
হারবার জেটির পেছনে কাঠের পাটাতনে লেখক
…….
সামনেই অসম্ভব সুন্দর একটি চত্বর। টকটকা সবুজ ঘাসে মোড়ানো। যেন জীবন্ত কার্পেট। পাশেই পার্ক হায়াত হোটেল। এখানে অনেকখানি পথ কাঠের পাটাতন করা। মাথার ওপর সিডনি হারবার ব্রিজ। দূরে অপেরা হাউস এবং লুনা পার্ক। অসাধারণ হৃদয় জুড়ানো পরিবেশ। আমরা পাটাতনে উঠে ছবি তুলছি। সাগরের ঢেউ নাচতে নাচতে পাটাতনের কাছে এসে থামছে।

তন্ময় জানালো মাঝে মাঝে বন্ধুরা মিলে তারা এখানে আসে ‘নিঃশ্বাস’ নিতে। বড় প্রণবন্ত জায়গা।

অস্ট্রেলিয়া অনেক বড় দেশ। কিন্তু মানুষ মাত্র ২ কোটি ৪০ লাখ। সিডনি-ই সবচেয়ে জমজমাট শহর। পার্থ, অ্যাডিলেইড, ক্যানবেরাতে না-কি মাঝে মধ্যে লোকজনকে পথে ঘাটে হাঁটাচলা করতে দেখা যায়–এটা শুনেছি আফসুর কাছে।

জমজমাট সিডনি শহরের সবচেয়ে জমজমাট জায়গাই হচ্ছে ‘সার্কুলার কী’ এবং এই হারবার ব্রিজ জোন।

আমরা একটা পার্কের কাছে চলে এলাম। বৃষ্টি থেমে গেছে। বাতাস বইছে। সিডনি শহর এমনিতেই হিলি বা পাহাড়ি। এই পার্কটাও পাহাড়ি কিংবা বলা যায় টিলা আকৃতির। বিশাল সব বৃক্ষের সাড়ি দাড়িয়ে আছে। খানিক দূরে দূরেই কাঠের বেঞ্চ। সবকিছু সাজানো গোছানো। দৃষ্টিনন্দন।

দুজন উপরে উঠে এলাম। টিসু দিয়ে বেঞ্চ মুছেছি। এখানে যতক্ষণ ইচ্ছা বসে থাকবো।

তন্ময় বললো, অসুবিধা নাই। বসেন।

সামনের রাস্তা দিয়ে গাড়ি যাচ্ছে। কোনো কোলাহল নেই। হর্নের অশ্লীল শব্দ নেই। শান্তিময় পরিবেশ। এখন বুঝতে পারছি সিডনিবাসী কেন এখানে ‘নিঃশ্বাস’ নিতে আসে।

কিছু জায়গা আছে খুবই বাজারী এবং হাউকাউয়ে ভরা। যেমন ঢাকা শহর। ওখানে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। আবার কিছু জায়গা আছে অতিরিক্ত শান্ত। কবরস্থানের মতো নিশ্চুপ। থমথমে। যেমন আমার দেখা ইংল্যান্ডের ওর্দিং। বড় ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ির কারণে সেখানে গিয়েছিলাম। ভালো লাগেনি।

ওই দুই জায়গার তুলনায় সিডনি একই সাথে প্রশান্তিময় এবং প্রাণবন্ত।

পার্কের ভেতর মুহূর্তেই ঠাণ্ডা ধরে গেছে। শীত শীত করছে। স্থানীয়রা অনেকেই এখানে বসে বিয়ারসহ পানীয় উপভোগ করতে পছন্দ করে। নেটে দেখেছি, বিভিন্ন জায়গায় পড়েছি সিডনির অধিবাসীদের মধ্যে শনিবার রাতে মদ্যপানের হুল্লোড় চলে। এক রাতে আমরাও মদখোরের পাল্লায় পড়েছিলাম। অন্যখানে তার বিস্তারিত বলবো ইনশাআল্লাহ।

তন্ময় বললো, ভায়া চলেন–অপেরা হাউসের কাছে যাই।

আজ হারবার ব্রিজে উঠবো না। সময় কম। সাবৃনাসহ আরেকদিন আসতে হবে।

হাঁটতে হাঁটতে সিডনি অপেরা হাউসের দিকে আসছি। সামনে ছোট ছোট কাউন্টার বসানো। ফেরি ভ্রমণ বা ট্রিপের জন্য এখান থেকে টিকেট করতে হয়। ক্রুজ ট্রিপের সাথে লাঞ্চ বা ডিনারের ব্যবস্থাও আছে। এভারেজ প্রতিজিন ৭৫ অস্ট্রেলিয়ান ডলার।

66.jpg…….
মাথার ওপর সিডনি হারবার ব্রিজ
……
একটা ম্যারাথন হাঁটা ঘুরা দিয়ে অপেরা হাউজের রেস্টুরেন্ট ওয়ের কাছে চলে এলাম। লাইন ধরা একের পর এক খাবারের দোকান। সামনে খোলা জায়গায় চেয়ার টেবিল পাতা। পাশেই সমুদ্রের জল কুল কুল করে অপেরা কম্পাউন্ডের দেয়ালে এসে দোলা খেয়ে যাচ্ছে। রেলিংয়ের ধারে চেয়ার-টেবিল পাতা ছিলো। হারবার আর ঢেউ দেখতে দেখতে এখানে বসেও খাওয়া যায়। ‘খাওয়া যায়’ মানে খাওয়াটাকে উপভোগ করা যায়। বৃষ্টির কারণে চেয়ার-টেবিল উল্টো করে রাখা হয়েছে। তন্ময় একটা দোকানের কাছে এসে জিজ্ঞেসা করলো, কী খাবেন ভায়া? আমি রেস্টুরেন্টর মেনু হাতে নিলাম। দশ ডলারের নিচে কোনো খাবার নেই। যে খাবারগুলো বাইরে দুই তিন ডলারের বেশি হবে না। তন্ময় আবার জানতে চাইলো, খাবারের সাথে কফি খাবেন, না ড্রিংকস?

এখানে কিছুই খাবো না। দাম বেশি।

কোনো সমস্যা নাই। আমি আপনাকে খাওয়াবো।

তুমি খাওয়াবে বলেই আমি অন্যায্য দাম দিয়ে খাবো–এটা হবে না।

কোনো সমস্যা নাই।

সমস্যা আছে। এটা অপব্যয়। অপব্যয়কারী শয়তানের ভাই। তুমি কী চাও আমি শয়তানের ভাই হই?

তন্ময় মৃদুভাষী। সফট স্পোকেন। সে চাপা হাসি দিয়ে আরো মৃদু গলায় বললো, সত্যিই কোনো সমস্যা নাই।

আমি বললাম, তাড়াতাড়ি আমার কয়টা ছবি তোলো। বৃষ্টি জোরে নামবে।

যেই কথা, সেই কাজ। আমরা হাঁটা শুরু করলাম। বাইরে গিয়ে কোনো খাবার খাবো।

অস্ট্রেলিয়ার খাবার দাবার
পশ্চিমা কোনো দেশে গিয়ে কখনো পেটে সমস্যা হয়নি। পৃথিবীর নানা দেশের নানা রকম খাদ্য খেয়েছি, পানি পান করেছি, কোনো প্রবলেম নেই। (মদকে অনেকে আদর করে বলে ‘পানি’। এখানে ‘পানি’ মানে প্লেইন ওয়াটার পানিকেই বোঝানো হয়েছে।) সিডনিতে এসেই পেটে ব্যথা শুরু হলো। কেন ব্যথা হচ্ছে সেটা জানি। সমাধানও জানা আছে। কিন্তু প্রয়োগ করতে পারছি না। বিরাট সমস্যা। আমার যে কোনো সমস্যায় সাবৃনা সুপরামর্শক। তাকে ঘটনা বললাম। সে বললো, ইমপসিবল! তোমার পেটে ব্যথা হওয়ার কোনো কারণ নেই। সব ফ্রেশ এবং হাইজেন ফুড খাচ্ছো। ফল খাচ্ছো কেমিকাল ছাড়া! নো ফরমালিন! পেটে ব্যথা হবে কী কারণে?

আমি বললাম, পানির কারনে। আমরা কি বাইরে থেকে মিনারেল ওয়াটার কিনে এনে খেতে পারি?

না, প্রশ্নই ওঠে না। চাচা-চাচি, বাসার মানুষ সবাই কী মনে করবে! ভাববে কত বড় লাট বাহাদুর জামাই! ভাববে কিনা বলো?

এটাও সত্য। ভাববে।

আমি দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। পেটে সমস্যা হলে ঘোরাফেরা কোনো কিছুই ভালোভাবে সম্ভব না। তবে সাবৃনা আস্বস্থ করলো একদিনের মধ্যে আমার পেটের ব্যাথা ঠিক হয়ে যাবে।

পরদিন সকালে নাশতার টেবিলে বসেছি। সে পানি প্রসঙ্গ তুললো। চাচীর কিচেন জোনে পানির কল দুটো। একটা বাসনপত্র ধোয়ার কাজের জন্য। আরেকটি খাবার পানির কল। চাচী জিজ্ঞেসা করলেন, কোন কল থেকে পানি খাও? আমি খাবার পানির কল থেকেই পানি খাই।

চাচি বললেন, আমাদের বাসার খাবার পানি বিশেষভাবে ফিল্টার করা। সেজন্য খাবার পানির কল আলাদা। পিউরিফায়েড সেফ ওয়াটার।

চাচির মুখে এই কথা শোনার পর মুহূর্তেই আমার পেটের ব্যথা চলে গেলো। পরে হিসাব করে দেখলাম পেটের ব্যাথার মূল উৎস হচ্ছে ঢাকার নিউজ পেপার। এখানে আসার আগে সংবাদপত্রে একটা খবর পড়েছিলাম, অস্ট্রেলিয়ায় সবখানে ড্রিংকিং ওয়াটার ইউরোপ বা আমেরিকার মতো সেফ না। সিডনিতে নামার পর থেকেই এই তথ্য আমার মাথায় ছিলো। তখন থেকেই পেটে ব্যথা শুরু হয়েছে। এটা সম্ভবত এক ধরনের মানসিক অসুখ। সাবৃনা এই গোপন অসুখের কথা জানে। পরে বুঝেছি চাচিকে দিয়ে কৌশলে বিশুদ্ধ পানির গ্যারান্টির চিকিৎসাও সে করিয়েছে। অবশ্য চিকিৎসা না করিয়েও উপায় ছিলো না। যারা আমার প্যারিসের পথে পথে বা লন্ডন শহরে বই পড়েছেন তারা ভ্রমণে সাবৃনাকে এক রকমভাবে চিনেছেন। অস্ট্রেলিয়ার বইটি পড়ে তারা অবাক হবেন। এবং অবাক হয়ে পরবর্তী কোনো সফরে সে কী আচরণ করে তা জানার আগ্রহে অপেক্ষা করবেন।

সর্বশেষ লন্ডন যাত্রার আগে সে ব্যাপক আয়োজন করে বাসায় রান্না করতো। বহু রকমের চিকেন খাইয়ে চিকেনের প্রতি সে আমার রুচি নষ্ট করেছিলো। বিলাতে যেয়ে সেবার মাংস জাতীয় কোনো কিছুই আর রুচি করেনি। পরে জেনেছি সে এই কাজটি পরিকল্পিতভাবেই করেছিলো। সাবৃনা হিসাব করে দেখেছে বিদেশ সফরে আমার প্রধান ব্যয় হচ্ছে বাহারি খাদ্য। নিষেধাজ্ঞা জারি করে এই জিনিস নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। তাতে আগ্রহ আরো বারে। এজন্য দেশ থেকেই রুচি নাশ করেছে, যেন বিদেশে গিয়ে টাকা নষ্ট না হয়। রোগ হলে ওষুধ খাওয়ার বদলে প্রতিষেধক টীকা খাওয়ানোর মতো।

এবার অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে পুরো উল্টো কাজ করলো। ভালো মন্দ রান্না প্রায় বন্ধ করে দিলো। জিজ্ঞেসা করলাম ঘটনা কী? বললো, তোমার রুচি ফেরাচ্ছি। অস্ট্রেলিয়া যেয়ে কত ভালো মন্দ খাবে। ঢাকাতে ভালো খেয়ে কোলেস্টোরেল যদি আরো বেড়ে যায় সিডনিতে গিয়ে খাবে কী?

আমি তার যুক্তি মেনে নিলাম। এবং সিডনিতে এসে বুঝলাম ভুল করিনি। অস্ট্রেলিয়া খাবারেরই দেশ। তন্ময় আমার মতোই খাদ্যরসিক। সিডনি শহরের কোথায় কী নতুন খাবার আছে, ভালো রেস্টুরেন্ট আছে সব তার নখদর্পণে।
তন্ময়ের ঘরের পাশেই কম্পিউটার কাম গেস্টদের লাগেজ রুম। কাকুদের বাড়িতে নিয়মিতই গেস্ট আসেন। এই বাড়ির মানুষ অতিথিপরায়ণ। অতিথি পছন্দ করে। অতিথিদের লাগেজগুলো থাকে কম্পিউটার রুমে। এই কম্পিউটারটা কমন। অতিথিসহ সবাই ব্যবহার করতে পারে। প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ওই ঘরে একবার ঢুঁ দিতাম। তখনই তন্ময় এসে জিজ্ঞেসা করে, ভায়া কালকে কী খাবেন?

কিছু একটা হলেই হবে।

বলেন, কোনো সমস্যা নাই।

অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তরে তন্ময় এই বাক্যটি ব্যবহার করে, “কোনো সমস্যা নাই।” এর কারণ হয়তো তার বাংলা ভাষার শব্দ স্টক কম।

সিডনিতে আসার পরে আজই প্রথম ওই অর্থে বাইরে খাবো।

আলো কমে গেছে। অপেরা এলাকা থেকে বের হয়ে আমরা একটা পুরাতন দালানের কাছে এসেছি। তন্ময় বললো, এটা হচ্ছে স্টার বার (Star Bar)। শনি রবিবার এখানে নাইট ক্লাব চলে। অন্যদিনগুলোতে শুধু খাওয়া দাওয়া। আমরা দোতলায় চলে এলাম। ভেতরটা আলো-অধারী। এনশিয়েন্ট ডেকোরেশন করা। পরিসর বিশাল। ভেতরে প্রচুর গেস্ট। তন্ময় বললো, এখানকার বিফ স্টেক খুবই বিখ্যাত।

আমি চার দিকে দেখছি। অধিকাংশ কাস্টমারই তরুণ-তরুণী। জোড়ায় জোড়ায় টেবিলে বসা। খাবারের সাথে হার্ড ড্রিংকসও নিচ্ছে। লাইনে দাঁড়িয়ে অর্ডার দিলো তন্ময়। ৩৫০ গ্রাম বিফ স্টেক, সাথে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এবং কোল্ড ড্রিংকস। কাউন্টারের মেয়েটি অর্ডার নিয়ে টেলিভিশনের রিমোর্টের মতো একটা যন্ত্র দিলো। এটি এক ধরনের টোকেন। আমাদের খাবার রেডি হয়ে গেলে এটাতে বাতি জ্বলে উঠবে। ইংল্যান্ডের ব্রাইটনে বড় ভাই-ভাবির সাথে একটি রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ করেছিলাম। সেখানেই প্রথম এই জিনিস দেখেছি। তখন বুঝিনি।

রেস্টুরেন্টের টেবিলগুলো তুলনামূলক উঁচু হাইটের। আমরা ড্রিংকস নিয়ে বসেছি। মিনিট বিশেকের মধ্যে যন্ত্রের বাতি জ্বলে উঠলো। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিখ্যাত বিফ স্টেক নিয়ে এলাম। খাবারের প্রেজেন্টেশন সুন্দর। বড় থালায় হাড়বিহীন সাড়ে তিনশ গ্রাম ওজনের গরুর গোশতের একটি স্লাইস। ভিন্ন রকম মশলা। ওয়েলডান।

প্যারিসে কোথাও মাংসের অর্ডার দিলে ‘ওয়েলডান’ কথাটি বলে দিতে হয়। কারণ গোশত দিয়ে রক্ত ঝরছে এমন মাংস ফরাসিদের পছন্দের খাবার। ‘ওয়েলডান’ না বলে দিলে ঐ জিনিসই দেয়। যেটা দেখলে অন্তত আমাদের মতো বাঙালীর খাদ্যরুচি নষ্ট হয়।

তন্ময় খুবই মজা করে খাচ্ছে। আমি গোশতের স্বাদের চেয়ে পরিবেশটা বেশি এনজয় করলাম। নতুন অভিজ্ঞতা। বাসায় ফিরলাম খুবই আনন্দ নিয়ে। আমাদের খাবারের কথা শুনে সাবৃনা দুটা ভুল ধরলো। জিজ্ঞেসা করলো বিল কে দিয়েছে?

তন্ময়!

ছি ছি ছি! শ্যালকদের দুলাভাইরা খাওয়ায় আর…।

তন্ময় বললো, কোনো সমস্যা নাই আপু!

সাবৃনা যোগ করলো, বিল দাওনি ঠিক আছে। কিন্তু এই ভুলটা কীভাবে করলে–খাবারের একটা ছবি তুলে আনবে না? ছবি তুলো নাই কেন?

প্রথম ভুলের জন্য আমি লজ্জিত। দ্বিতীয় ভুলের জন্য পাঠক বঞ্চিত। নয়তো এই লেখায় বীফ স্টেকের ছবি ছাপানো যেতো। আমি তন্ময়ের দিকে তাকালাম। সে শান্তকণ্ঠে জানালো কোনো সমস্যা নাই ভায়া। আমরা আবার যেয়ে ছবি তুলে আনবো। এখন আপনি বলেন, কালকে কী খাবেন?

সিডনিতে প্রায় প্রতিদিনই আমাদের একবার হলেও বাইরে খাওয়া হয়েছে। একদিন ও খাওয়ায়। একদিন আমি। প্রতিদিনই নতুন খাবার। নতুন স্বাদ! তন্ময়ের ফুড টেস্ট ভালো। অস্ট্রেলিয়রা সব খাবারেই নানারকম সস মেশায়। সসের মিষ্টিভাব দূর করার জন্য জিজ্ঞেস করলাম, ঝাল খাবার কী আছে?

তন্ময়ের কাছে ইনফরমেশন সব আপডেটেড। বললো, অপতোস (optos) খেতে পারেন। পর্তুগিজ খাবার। হেভি ঝাল। পর্তুগিজ খাবারে এক ধরনের সস ব্যবহার করা হয় যেগুলো ‘পেরি-পেরি’ নামে বিখ্যাত। ওদের ঝালেরও আবার কয়েকটা মাত্রা আছে–ওয়াইল্ড, হট এবং মাইল্ড। যারা ‘নান্দোস’-এ খেয়েছেন তারা তফাৎটা বুঝবেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ঝাল অপতোস খেয়ে অবাক হলাম। তন্ময় হতাশ হলো। বললো, ফাজিল ব্যাটারা খাবারের স্বাদ নষ্ট করে ফেলেছে। এটার নাম এখন থেকে পর্তুগিজ অপতোস না হয়ে হওয়া উচিত অস্ট্রেলিয়ান অপতোস। ঝালের জাতবংশ নাই। এটা এক ধরনের ঝালের নাম ছাড়া আর কিছুই না।

এবার আমি তন্ময়কে বললাম, কোনো সমস্যা নাই। একটা নতুন আভিজ্ঞাতা হলো।

খাবার খেয়ে মুগ্ধ হলাম আমরা সেফরন-এ গিয়ে। সেফরন হচ্ছে টার্কিশ রেস্টুরেন্ট। সিডনির লাকেম্বাতে এর অবস্থানে। খাবার সব হালাল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য অস্ট্রেলিয়ায় সহজেই হালাল চিকেন এবং বিফ পাওয়া যায়। কারণ পার্শ্ববর্তী দেশ ইন্দোনেশিয়া মুসলিম প্রধান হওয়ায় বাধ্যতামূলকভাবেই অস্ট্রেলিয়াকে হালাল মাংস এক্সপোর্ট করতে হয়। তার প্রভাব লোকাল মার্কেটেও আছে।

52.jpg…….
কাবারের দোকানে সস্ত্রীক লেখক
……
সেফরন খুবই জমজমাট রেস্টুরেন্ট। এখানে নানা রকম কাবাব-তন্দুরীর বাহাদুরি। তন্ময় অর্ডার করলো। আমাদের সাথে আজ তাশফিয়াও আছে। তন্ময়ের বন্ধু। রেস্টুরেন্টের বাইরে খোলা প্রশস্ত জায়গা। দুই সাদা মেয়ে সেখানে অন্তরঙ্গভাবে বসে আছে। গল্প করছে। সাবৃনার সন্দেহ হচ্ছে এরা লেসবিয়ান কিনা?

পৃথিবীতে এখন একটি বড় সংকট চলছে। দুইজন ছেলে বন্ধুকে একত্রে দেখলেও এসব দেশে লোকে ‘গে’ ভাবে। আমি আর তন্ময় একদিন কালারফুর টি শার্ট পরেছি, চাচি বললেন, অস্ট্রেলিয়াতে এরকম পোশাক দেখে লোকে তোমাদের ‘গে’ ভেবে হাসাহাসি করতে পারে। উপরন্তু ৫ মার্চ সিডনিতে ‘মারদি গ্রাস’ নামে একটি উৎসব আছে। যেখানে অস্ট্রেলিয়ার লেসবিয়ান এবং গে-রা জমায়েত হবে। নাচ গান করবে। তাদের অধিকার ও দাবি দাওয়ার কথা পেশ করবে। নানার এই অনুষ্ঠান দেখতে যাওয়ার কথা। আমাকেও বলেছেন তার সাথী হতে।

আমাদের খাবার চলে এলো। বিফ, ল্যাম্ব এবং চিকেন কাবাব। সাথে টার্কিশ ব্রেড। পরোটার মতো, কিন্তু তেল নেই। ছোট ছোট করে কাটা। সাবৃনা বললো, প্লিজ, কেউ আগেই খাবে না। সে ক্যামেরা বের করে ছবি তোলা শুরু করলো।

টার্কিশদের উন্নত খাদ্যরুচি বহুকাল পুরনো। মানুচি কিংবা ইবনে বতুতার বইতেও পড়েছি। আজ থেকে কয়েকশ বছর আগেও সেখানে বিভিন্ন প্রকার সুস্বাদু বিরিয়ানি খাওয়ার প্রচলন ছিলো। কাবাব পাওয়া যেতো।

টার্কিশ কাবাবের স্বাদ অসাধারণ। পরিমাণও অনেক বেশি। আমি সাবৃনা কেউই পুরো প্লেট খেতে পারলাম না। বাংলাদেশের হারামখোর দোকানদাররা যেমন ওজনে কম দেয়; রেস্টুরেন্টগুলোতেও খাবার কম থাকে। তন্ময়ও একমত। পশ্চিমা দেশগুলো এর ঠিক বিপরীত। এখানে জিনিসপত্রের দাম বেশি সত্যি, কিন্তু কম দেয়া কাকে বলে, এরা জানে না।

54.jpg…….
খাওয়ার আগে ফুডসহ পোজ দিচ্ছেন সাবৃনা
…….
সিডনিতে বিকেলবেলা দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। অধিকাংশ রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয় নয়টার মধ্যে। সেফরনসহ অল্প কিছু খাবারের দোকান খোলা থাকে রাত এগারটা পর্যন্ত। এখন বাজে প্রায় সাড়ে দশটা। খাওয়া শেষে তন্ময় বললো, চলেন উঠি। ফেরার পথে জিজ্ঞেসা করলো, এরপরে কী খাবেন?

আর কী আছে মজার?

লেবানিজ ফুড।

ওকে। এরপরে তাহলে লেবানিজ খাবো।

লা-পেরুজ যাওয়ার দিন আমরা প্রথম এলাম রকডেল নামক স্থানে। রকডেলকে বাঙালী পাড়াও বলে। বাংলাদেশী স্টুডেন্টদের অধিকাংশই এখানে থাকে। তন্ময় তার আইফোন গাইডলাইন নিলো, রকডেলে লেবানিজ রেস্টুরেন্ট কোথায় আছে খোঁজার জন্য। অল্পক্ষণের মধ্যে বের করে ফেললো। নাম আলি বাবা’স টেক এ্যাওয়ে লেবানিজ কুজিন। দোকানটা তুলনামূলক ছোট। লেবানিজ ফুডের সাথে বাহ্যিক দৃষ্টিতে টার্কিশ ফুডের খানিকটা মিল পাওয়া যায়।

তন্ময় জানালো, টেস্ট আলাদা।

পরিচ্ছন্ন দোকান। শো কেসে নানা রঙের সস ও সবজি সাজানো। কিচেন ভেতরে। অর্ডার দিলে কাবাব বা তন্দুরি তৈরি করে এনে দেয়। মিক্সড ডিশ অর্ডার করলাম। সাথে ব্রেড।

এসি বা ফ্যান না থাকায় ভেতরে গরম লাগছে। আমরা বাইরের চেয়ার টেবিলে বসলাম। সামনেই ঝকঝকা রাস্তা। সূর্য উল্টো দিকে যাওয়ায় এই পাশে রোদ নেই। শীতল ছায়া পড়েছে। চির চির করে বাতাস বইছে। আরামদায়ক। মনোরম পরিবেশ। রাস্তার উল্টোপাশে অর্থাৎ আমাদের ঠিক সামনেই অ্যাডাল্ট শপ। মানে বড়দের দোকান। বাচ্চাদের জিনিসপত্রের জন্য যেমন আলাদা দোকান থাকে, ভেবেছি বড়দের সেরকম কিছু।

তন্ময় জানালো ঘটনা তা না। এই ‘অ্যাডাল্ট শপ’ মানে হচ্ছে সেক্স এবং ‘বিকৃত সেক্স’ পণ্যদ্রব্যের দোকান।

59.jpg…….
লেবানিজ খাবার খাচ্ছেন লেখক ও তন্ময়
…….
আমাদের খাবার হয়ে গেছে। এখানে সেল্ফ সার্ভিস। উঠে গেলাম। অসম্ভব সুন্দর করে সাজানো একেকটা প্লেট। চিকেন ল্যাম্ব এবং বীফের তিনটি স্টিক কাবাব। চার পাশে নানা রকম সস ও সবজি। সসগুলোও ভিন্ন এবং বর্ণিল। গার্লিক সস যে দেখতে এবং খেতে এত সুস্বাদু হতে পারে এখানে না এলে জানতাম না। গোলাপি রঙের একটা সবজি আছে চিকন চিকন করে কাটা। স্বাদে একটু টক ও নোনতা–অসাধারণ মজাদার। আরো দুই রকমের সস খেলাম। নাম মনে নেই। চমৎকার। যথারীতি খাবারের আগে সাবৃনা ছবি তুলেছে এবং মাঝপথে যেয়ে সারেন্ডার করে বললো, আর খেতে পারছি না।

আমার এবং তন্ময়ের মধ্যে কাবাব বিতরন করলো। আজ আমিও পরাস্ত। এত খাবার সত্যিই খাওয়া যাচ্ছে না। মানুষ যেকোনো খাবারের স্বাদ তিনভাগে গ্রহণ করে। চোখ দৃষ্টি দিয়ে স্বাদ নেয়। হাত তা স্পর্শ করে আর জিহবা টেস্ট উপভোগ করে। কোনো খাবারের বেলায় এই তিনটা ঘটনা একত্রে ঘটলে মন তৃপ্ত হয়। আজ তৃপ্তি পেয়েছি। বড়ই তৃপ্ত হয়েছি।

মাঝে তন্ময়কে বললাম, অস্ট্রেলিয়াতে এসে শুধু ভিনদেশী খাবার খাচ্ছি। অস্ট্রেলিয়ানদের নিজেদের খাবার নেই?

সে বললো, আছে।

এরপর আমরা দুজন একদিন গেলাম কিয়ামাতে। কিয়ামা নিউ সাউথ ওয়েলসের উল্লেখযোগ্য পর্যটন টাউন। ছোট শহরকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে প্রশান্ত মহাসাগরের নীল জলরাশি।

তন্ময় বললো, অস্ট্রেলিয়ানরা বীচে আসে এবং ফিশ এন চিপস খায়। ফিশ এন চিপসই হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ানদের খাবার।

কিয়ামাতে এসে লাঞ্চ করার জন্য যেখানে ঢুকেছি তার নাম HUNKY DOR’S — ফেমাস ফিশ এন চিপস। এটি ফিশ এন চিপসের দোকান। এখানে কোনো মিট আইটেম নেই। সবকিছু জলজ প্রাণী, অর্থাৎ মাছ, শামুক, কাঁকড়া ইত্যাদি। দোকানে একজন বয়স্ক লোক আছেন। তিনি একাই অর্ডার নিচ্ছেন। মেনু দেখে খাবার সম্পর্কে কোনো ধারণা করার উপায় নেই। অর্ডার দিলো তন্ময়। সে খাবে Hdk’s হাফ বাসকেট। দাম ১৪.৯০ ডলার। আমার জন্য Baramundi (বারামুন্ডি মাছ) & chip। দাম ১৩ ডলার।

জায়গাটা অসম্ভব সুন্দর। কিন্তু লোকজন তেমন নেই। কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগে। রেস্টুরেন্টের সামনের জায়গায় পাখি হাঁটাহাঁটি করছে। খাবার খুঁজছে। ভেতর থেকে ইশারা করলো আমাদের ফুড রেডি। খাবার নিয়ে আমরা বাইরের দিকে বসলাম।

বারামুন্ডি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ান মাছ। একটা প্রায় আস্ত মাছের স্লাইস ব্যাশন জাতীয় কিছু দিয়ে ফ্রাই করে দেয়া হয়েছে। সাথে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই। ফ্রাইয়ের অবস্থা কাহিল। খেয়ে মনে হচ্ছে আগেকার ভাজা। আবার গরম করে দিয়েছে।
আগ্রহ নিয়ে বারামুন্ডি মুখে দিলাম। মাছের ভেতর মশলার নাম গন্ধ নেই। লবণ নেই। ফলে স্বাদও নেই। বিস্বাদ বললেও ভুল হবে না। তবে একটা নতুন অভিজ্ঞতা হলো।

তন্ময়ের খাবারে আছে কাঁকড়া, শামুক শৈবাল ইত্যাদির ফ্রাই। এই প্রথম আমার মতো সেও বেকায়দায় পড়েছে। খেতে পারছে না। আমি যদি ওকে বলি খাবারটা ভালো লাগছে না–তাতে মনোকষ্ট হতে পারে। আবার এতগুলো খাবার ফেলে দিতেও মায়া হচ্ছে। খারাপ লাগছে।

আমার সামনে সীগাল পাখির দল ঘুর ঘুর করছে। আমি কৌশলে সীগালদের একটা দুটা করে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই দেওয়া শুরু করলাম। তন্ময় বললো, ভায়া দিয়েন না।

দেই, অসুবিধা তো নাই।

ওরা পাঁজি। মারামারি করে। একটু পরে আর সামলাতে পরবেন না।

অল্পক্ষণের মধ্যে প্রায় ঝাঁক বেঁধে সীগালের দল ছুটে এলো। এবং সত্যি সত্যি তারা মারামারি করছে। আমাদের পাশে দু-তিনজন কাস্টমার ছিলো তারা বিরক্ত হচ্ছে। ভেতর থেকে একজন স্টাফ ছুটে এসে পাখি তাড়াতে শুরু করলো। তার তাড়ানোর ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে সীগাল পাখি না, সে আমাকে তাড়াতে চাচ্ছে। আমার চেয়ারের দিকে লক্ষ্য করে পাখিদের দাবড়ানি দিচ্ছে। ভঙ্গি কওে ‘হুশ-হুশ’ করলো আমাকে।

বাংলাদেশে মানুষ খাবার পায় না। আর এই দেশে খাবার আছে, মানুষ নেই, পাখিকেও খাওয়ানো যায় না। ফেলে দিতে হয়। কী মর্মান্তিক!

পাখি এবং মানুষ দুই পক্ষের অত্যাচারে আমরা উঠে গেলাম। দুই বক্স অস্ট্রেলিয়ান ফিশ এন চিপস ময়লার ঝুড়িতে ফেলে কিয়ামার স্বর্গীয় সৈকতের দিকে রওয়ানা হলাম।

(কিস্তি ৭)

লেখকের আর্টস প্রোফাইল: আবু সুফিয়ান
ইমেইল: abusufian18@gmail.com


ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

free counters
Free counters

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (1) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাহবুব — আগস্ট ২৩, ২০১১ @ ৩:০০ পূর্বাহ্ন

      স্টেক খাবার সময় ‘ওয়েলডান’ বলতেই হবে এরকম কোনো বাধ্যবাধকতা নাই। অর্ডার দেবার সময় যে যেরকম চায় সেই ভাবেই সেটা দেয়া হয়। কেউ বলতে ভুলে গেলে রক্ত বের হচ্ছে এরকম ‘রেয়ার’ স্টেক কখনোই দেয়া হবে না, ওয়েটার অবশ্যই জিজ্ঞেস করতে ভুলবে না যে ক্রেতা কী ধরনের স্টেক চাচ্ছে সেটায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সবাই ‘মিডিয়াম’ বা ‘মোডিয়াম রেয়ার’ অর্ডার করে, ‘মিডিয়ামে’ ভেতরের মাংস পিংক হলেও রক্ত কখনোই বের হবে না। অপতোস (optos) বলে কোনো চেইন রেস্টুরেন্টের নাম শুনি নাই! যেটা আছে সেটাকে বলে অপর্তো, ওয়েব ঠিকানা দিলাম (http://www.oporto.com.au), বানানটা শুদ্ধ করে নিবেন আশা করি। ডাউনআন্ডার ভ্রমণ নিয়ে বই বের করলে বিডি আর্টস-এ প্রকাশিত মন্তব্যগুলো দিতে ভুলবেন না যেন। অতীতে অনেকে যা ইচ্ছে লিখে পার পেয়ে গেলেও এই অন্তর্জালিক পৃথিবীতে পার পাওয়া বড্ড দুস্কর।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com