‘গানের মেহবুবা’ আশা ভোঁসলে

আশীষ চক্রবর্ত্তী | ১০ নভেম্বর ২০১০ ১২:২২ অপরাহ্ন

lata_family.jpg………
মঙ্গেশকর পরিবার
………

বড়লোকের আদরের দুলারি বাড়ি ছেড়েছে গরিবের ছেলের হাত ধরে। মেয়ের বাবা-মা সৎ, সাহসী অথচ বেকার ছেলের সঙ্গে প্রেমটাকে মেনে নিলে পালাতে হতো না। যা হোক, পালিয়ে গিয়ে বিয়ে, তারপর স্বাভাবিক নিয়মেই শুরু দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই। অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। এমন জীবনের সঙ্গে মেয়েটির প্রথম পরিচয়। প্রেমকে সার্থক করতে সে জীবন হাসিমুখেই বরণ করল সে। তার প্রেরণায় শূন্যহাতে জীবনযুদ্ধে নামল ছেলেটি। অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর একসময় প্রতিষ্ঠিতও হলো। বড়লোক শ্বশুর অবশেষে কদর বুঝলেন তার। ব্যস, কাহিনীর মধুরেণ সমাপয়েত।

এমন মুখস্ত কাহিনীর অন্তত কয়েকশ ছবি হয়েছে মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে। আশা ভোঁসলের জীবনকাহিনীর শুরু খানিকটা একরকম হলেও বাদবাকি সবকিছু বড় বেশি অন্যরকম। প্রথমত বাবা দীনানাথ মঙ্গেশকরের সুসময়ে ছিটেফোঁটা প্রাচুর্য দেখলেও তাঁর অকাল মৃত্যু পুরো পরিবারকেই ফেলে দেয় ভয়ঙ্কর বিপদে। জীবদ্দশায় বিপর্যয়ের পর বিপর্যয় দেখেছেন দীনানাথ। বিয়ে করেছিলেন মাত্র ২১ বছর বয়সে। স্ত্রী নর্মদার বয়স তখন ১৯। দীনানাথ তাঁকে ভালোবেসে ডাকতেন শ্রীমতি। তো শ্রীমতির এক মেয়ে হলো। মেয়ের নাম রাখা হলো লতিকা। কিন্তু জন্মের কিছুদিন পরই মারা গেল ফুটফুটে মেয়েটি। সন্তান হারানোর দুঃখ সইতে না পেরে শ্রীমতিও পৃথিবীর মায়া ছাড়লেন। দীনানাথ আবার একা! স্ত্রী-সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় অবস্থা।

তবে বেশিদিন একা থাকেননি। প্রয়াত স্ত্রীর বোন সুধামতিকে বিয়ে করে একাকীত্ব ঘুচালেন। সংসারে একে একে এলো চার মেয়ে লতা, মীনা, আশা, উষা এবং ছেলে হৃদয়নাথ। মূলতঃ শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী ও মঞ্চ অভিনেতা দীনানাথ পরে নাটকের গ্রুপ গড়েছেন, প্রযোজনা করেছেন মারাঠি ছবি। বলতে গেলে সবক্ষেত্রেই দেখিয়েছেন অপার সম্ভাবনার ঝলক। অথচ শেষ পর্যন্ত ছবির ব্যবসায়ের ভরাডুবি ঘরে বসালো তাঁকে। সন্তানদের, বিশেষ করে ৪ মেয়েকে গান শেখানোর প্রবল ইচ্ছে ছিল। কিন্তু আশার গানের প্রতি তেমন ঝোঁক ছিল না। গানে সত্যিকারের টান ছিল বড় মেয়ে লতার। তাকে হাতে ধরেই গান শেখাচ্ছিলেন দীনানাথ। শেখাচ্ছিলেন বড় আশা নিয়ে। একদিন মেয়ে খুব বড় শিল্পী হবে, দিকে দিকে নাম ছড়াবে। খুব বড় মুখ করে কথাটা বলতেনও বন্ধুদের। কিন্তু নিজের ব্যর্থ জীবনের বোঝা বেশিদিন টানতে পারলেন না। হতাশা ভুলতে মদে আসক্ত হলেন, সেই আসক্তি মাত্র ৪২ বছর বয়সে কেড়ে নিলো দীনানাথ মঙ্গেশকরের প্রাণ।


ছেলে তখন লড়ছে মৃত্যুর সঙ্গে। দীনানাথ তেমন কিছু রেখে যাননি যা দিয়ে সংসারের যাবতীয় খরচ চালিয়ে ওর চিকিৎসাও করানো যাবে। পাঁচ সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তায় সুধামতি দিশেহারা। কে ধরবে সংসারের হাল? গুরুদায়িত্বটা নিতে হলো ১২ বছরের মেয়ে লতাকে। বাবার মৃত্যুর সাতদিন পরই শোক মনের গহীনে রেখে, মেকআপে দুঃখ আড়াল করা হাসিমুখ নিয়ে সে গেল প্যাহলি মঙ্গলাগাওর ছবির শুটিংয়ে। মারাঠি ছবিটিতে অভিনয় করে আর গান গেয়ে শুরু হলো কর্মজীবন। পরিবার রক্ষার লড়াইয়ে নেমে লতার লতা মঙ্গেশকর হয়ে ওঠার সোপান তৈরির ওই সময়টাতে ছোট বোন আশাও কিছু একটা করার জন্য তড়পাচ্ছিল। ১০ বছর বয়সে তাঁকেও দেখা গেল মারাঠি ছবিতে। মাঝা বাল ছবিতে তার রেকর্ড করা প্রথম গান ‘ চালা চালা নভ বালা’। পাঁচ বছর পর (১৯৪৮) হনসরাজ বেহলের চুনারিয়া ছবির মাধ্যমে হিন্দি গানেও অভিষেক। গানের প্রথম কলি ‘সাওন আয়া’। কিন্তু বাস্তবে আশার জীবনে শ্রাবণ নয়, এলো বসন্ত। প্রেমের দোলা লাগল মনে। প্রেমে হাবুডুবু খেতে খেতে তার চেয়ে ১৫ বছরের বড় গনপত রাও ভোঁসলেকে বিয়েই করে ফেললেন বাড়ি থেকে পালিয়ে। ওই পালিয়ে বিয়ে করা পর্যন্তই মিল, ‘প্রেম সাগর’, ‘পেয়ার হো তো অ্যায়সি’ বা ‘পিয়াসা সাওন’ মার্কা ছবির কাহিনীর সঙ্গে। আদতে কিন্তু গনপত রাও বিয়ের পর আর নায়কের মতো আশার জীবনের সব মুশকিল আসান করে দেননি। বরং হয়েছেন আশাভঙ্গের কারণ।

lata_mangeshkar_asha_bhonsle_2_20060626.jpg………
লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলে
………

গনপতকে বিয়ে করায় আশার সঙ্গে কথা বন্ধ করে দেন লতা। চার বছরের ছোট যে বোনের জন্য তাঁর লেখাপড়া হলো না, সংসারের দুর্যোগের সময় সেই বোন কিনা স্বার্থপরের মতো নিজের সুখের ঠিকানা খুঁজতে গেল? এ সময়ে দিদির কাঁধে কাঁধ মেলানোটা তার কর্তব্য- এ কথাটা আশা ভাবলোই না! বিয়েটাকে লতা দেখলেন আশার স্বার্থপরতা হিসেবে। তার ওপর গনপতকে ছোটবোনের স্বামী হিসেবেও মানতে পারছিলেন না লতা। তাঁর ম্যানেজারের হাত ধরে আশা পালাতে পারে সেটা কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবেননি। পরিবারের জন্য কী কষ্টটাইনা করতে হয়েছে তাঁকে! কতদিন গ্র্যান্ট রোড থেকে ট্রেনে মালাড় গিয়ে সেখান থেকে হেঁটে হেঁটে গিয়েছেন স্টুডিয়োতে, স্টুডিয়ো থেকে আবার হেঁটে ফিরেছেন ট্রেন স্টেশনে। এভাবে পঞ্চাশ পয়সা পঞ্চাশ পয়সা করে একটি টাকা বাঁচিয়ে তা দিয়ে শবজি কিনে হাসিমুখে ফিরেছেন বাড়িতে। ছোট বোন হয়েও আশা তো মা, ভাই-বোনদের কথা এমন করে ভাবলো না!

এসব ভেবে অভিমানী লতা আর কথাই বলেন না আশার সঙ্গে। একসঙ্গে ডুয়েট গাইতে গিয়ে আশাকে যাতে দেখতে না হয় সে জন্য ডান হাতে গানের খাতা নিয়ে মুখ সরিয়ে রাখেন। সেই দিদি, এক সময় মায়ের মতো তাকে বুকে আগলে রেখেছে যে! কোলে করে নামার সময় সিঁড়ি থেকে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার পরও যে কিনা বোনকে বুকে ধরে রেখেছিল, নিজের মাথা ফেটে রক্ত ঝরেছে, তবু আদরের বোন আশাকে ছাড়েনি! মাতৃতুল্য সেই দিদির এমন আচরণ খুব কষ্ট দিলো। তখন তো আর ছোট্টটি নেই, আশা ততদিনে হেমন্ত আর বর্ষার মা। তারও খুব অভিমান হলো। দিদির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখতে নিজের গানের খাতাটা তুলে নিলেন বাঁ হাতে, দাঁড়ালেনও একটু পাশ ফিরে!

নিয়তি অবশ্য বেশিদিন দিদির কাছ থেকে দূরে থাকতে দেয়নি। বয়সে অনেক বড় এবং খুব বেশি রক্ষণশীল পরিবারের ছেলে গনপত রাওয়ের সঙ্গে একেবারেই বনিবনা হচ্ছিল না। বিয়ের পর পারিবারিক অনুশাসনের যাঁতাকলে পড়ে আশাজী বুঝলেন কম বয়সে পরিবার নির্বাচনেও বড় ভুল করে ফেলেছেন। দুর্ব্যবহার মাঝে মাঝে চরমে উঠতো। রেকর্ডিং সেরে ফিরতে ফিরতে রাত হলে কোনো কোনো দিন বাড়িতে ঢুকতে দেয়া হতো না, সারারাত বাইরে বসে থেকে ভোর হলে ঢুকতেন ঘরে! ছোট ছেলে আনন্দ পেটে থাকতে বেরই করে দেয়া হলো, রাগে-দুঃখে স্বামীগৃহে আর ফেরেননি আশাজী। নিজের আয়ের টাকা, নিজের টাকায় কেনা গয়নাগাটি সব ফেলে হেমন্ত আর বর্ষাকে নিয়ে এক বস্ত্রে চলে যান মায়ের কাছে। দিদি লতা মঙ্গেশকর তখন আর মুখ ফিরিয়ে রাখেননি।

আবার এক ঘরে থাকা শুরু হলেও লতার ছোট বোন হিসেবে পেশাগত জীবনে কোনো সুবিধা পাননি আশা। হিন্দি ছবির গানে তখন লতা, নূরজাহান, গীতা দত্তদের দাপট। সব ছবিতে তাঁরা গাওয়ার পর যেসব গান থাকতো সেগুলো দেয়া হতো। সোজা কথায় ‘বি’ বা ‘সি’ গ্রেডের গানগুলোই পেতেন আশাজী। অথচ কন্ঠমাধূর্য কারো চেয়ে কম ছিল না। পণ্ডিত যশরাজ একবার বলেছিলেন বাণিজ্যিক ছবির গান ছেড়ে ক্লাসিক্যাল গাওয়া শুরু করতে। আশাজী সেটা করবেন কী করে, ক্লাসিক্যাল গেয়ে কি তিন সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দেয়া যাবে! মানুষ করা যাবে তাদের!

গান গাইলে কন্ঠ যাতে লতা, নূরজাহান, শামসাদ বেগম বা গীতা দত্তর মতো না শোনায় সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হতো আশাজীকে। খুব চেষ্টা করে স্বতন্ত্র একটা গায়কী ঠিক করলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রথম বলার মতো ব্রেক পেতে পেতে কেটে গেল ১৪ বছর। ১৯৪৩ সালে ১০ বছর বয়সে গেয়েছিলেন প্রথম গান। তার ৯ বছর পর দিলীপ কুমার অভিনীত সাঙদিল ছবির একটি গান একটু পরিচিতি দিল। বিমল রায় পরিচালিত পরিনীতা (১৯৫৩) এবং রাজ কাপুর অভিনীত বুট পালিশ ছবিতে (মোহাম্মদ রফির সঙ্গে নানহে মুন্নে বাচ্চে) গেয়ে আরো কিছু শ্রোতার মন পেলেন। তবে দিলীপ কুমার-বৈজয়ন্তীমালার নয়া দওড় ছবিতে ‘মাঙ্গকে সাথ তুমহারা’ গানটি গেয়ে প্রথম সত্যিকারের শ্রোতাপ্রিয়তা পেলেন ১৯৫৭ সালে। সেই থেকে জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকলেও একটা সময় পর্যন্ত ক্যাবারে নাচ, বিশেষত হেলেনের গান মানেই বোঝাতো আশা ভোঁসলেকে। ‘পিয়া তু আব তো আ যা’ (ছবি: ক্যারাভান), ‘ও হাসিনা জুলফো ওয়ালি’ (তিসরি মঞ্জিল) বা ‘ইয়ে মেরা দিল পেয়ারকা দিওয়ানা’-র (ডন) মতো তুমুল জনপ্রিয় গানগুলোর সঙ্গে ছবিতে কিন্তু নৃত্যপটিয়সী হেলেনই ঠোঁট মিলিয়েছেন।

আশাজীর গানে বৈচিত্র্য আসা বা ক্যারিয়ারের উত্থানের ব্যাপারটি ঘটেছে মূলতঃ তিনটি পর্বে। ১৯৫৭ সালে ওপি নায়ারের সঙ্গীত পরিচালনায় ‘নয়া দওড়’ ছবির গানগুলো দিয়ে শুরু প্রথম পর্বের। এ ছবিতে সাহির লুধিয়ানভির কথায় মোহাম্মদ রফির সঙ্গে ‘মাঙকে সাথ তুমহারা’, ‘সাথী হাথ বাড়হানা’ আর ‘উড়ে যব যব জুলফে তেরি’ – এই তিনটি গান গেয়ে প্রথম বড় সাফল্য পেয়েছিলেন। তারপর ওয়াক্ত, গুমরাহ, হামরাজ, আদমি অওর ইনসান, হাওড়া ব্রিজ, মেরে সনম, এক মুসাফির এক হাসিনা, তুমসা নেহি দেখা, কাশ্মির কি কলি এবং ধুন্দসহ বেশ কিছু ছবিতে আশাজীর কন্ঠের চমৎকার ব্যবহার করেছেন ওপি নায়ার। আশাজীর গাওয়া ‘আইয়ে মেহেরবান’, ‘ইয়ে হ্যায় রেশমি জুলফোকা আন্ধেরা’, ‘আয়ো হুজুর হামকো’, ‘যাইয়ে আপ কাহা যায়েঙ্গে’–এসব গান ওপি নায়ারের অমর সৃষ্টি। ওই সময় আরো কিছু ব্যাপারও কিছুটা ভূমিকা রেখেছে আশাজীর উত্থানে। লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে কথা বন্ধ থাকায় মোহাম্মদ রফি এ সময় বেশ কিছু গান গেয়েছেন তাঁর সঙ্গে। রফি-আশা জুটির কালজয়ী গানগুলোর মধ্যে ‘উড়ে যো জুলফে তেরি’ (ছবি : নয়া দওড়), ‘ম্যায় পেয়ার কা রাহি হু’ (এক মুসাফির এক হাসিনা), ‘ইশারোহি ইশারো মে’-র (কাশ্মির কি কলি) কথা বলতেই হবে। কাছাকাছি সময়েই পারিবারিক জীবনে অশান্তি শুরু হওয়ায় সঙ্গীত জগত থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে থাকেন গীতা দত্ত। এ বিষয়টিও আশাজীর এগিয়ে যাওয়ার পথ সুগম করেছে। এছাড়া সামান্য ভুল বোঝাবুঝির জন্য শচীন দেব বর্মনের সঙ্গে অনেক দিন কাজ করেননি লতা মঙ্গেশকর। এর সুবিধাও পেয়েছেন। নইলে কালা পানি, কালা বাজার, ইনসান জাগ উঠা, লাজবন্তি, সুজাতা এবং তিন দেবিয়া-র অসাধারণ কিছু গান একচেটিয়াভাবে গাওয়ার সুযোগ আশাজী পেতেন কিনা সন্দেহ।

asha_rdburman.jpg………
আশা ভোঁসলে ও রাহুল দেব বর্মন
………

তা না পেলেও উপমহাদেশের সঙ্গীতের আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র হতেনই। একটু হয়তো দেরি হতো। হয়তো রাহুল দেব বর্মনের প্রতিভার সংস্পর্শে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। ওপি নায়ারের সঙ্গে রহস্যজনক কারণে দূরত্ব সৃষ্টির পর রাহুল দেব বর্মনের গানেই শুরু হয়েছিল আশা ভোঁসলের উত্থানের দ্বিতীয় ধাপ। অবশ্য পঞ্চমের সহায়তায় আশাজী খুব তাড়াতাড়ি ওপরে ওঠার সিঁড়ি ধরেছিলেন- না বলে বরং বলা ভালো, জীবনে পঞ্চমের মতো স্বামী এবং সুরস্রষ্টাকে পেয়ে একেবারে নতুন রূপে শ্রোতাদের সামনে হাজির হতে পেরেছেন আশাজী। ক্যাবারে, রক, ডিসকো,গজল, ভারতীয় ক্লাসিক্যাল… পঞ্চমের সুরে কী গাননি! ‘পিয়া তু আব তো আ যা’ (ক্যারাভান), ‘দম মারো দম’ (হরে রামা হরে কৃষ্ণা), ‘দুনিয়া মে’ (আপনা দেশ), ‘চুরা লিয়া’ (ইয়াদো কি বারাত), ‘মেহবুবা মেহবুবা’ (শোলে), ‘মেরা কুছ সামান’ (ইজাজত) হিন্দি গানের ইতিহাসেই অমূল্য সংযোজন।

হিন্দি ছবির ইতিহাসে খুব উল্লেখযোগ্য মাইলফলক ‘উমরাও জান’। আশা ভোঁসলের সঙ্গীত জীবনের জন্যও তাই। ছবিটি কিন্তু স্বল্প বাজেটের। বেশি টাকা দিতে পারবেন না বলে এ ছবির পরিচালক মুজাফ্ফর আলী তাঁর পছন্দের শিল্পীর কাছে গিয়েছিলেন খুব ভয়ে ভয়ে। কিন্তু গানের কথা ও সুর শোনার সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়ে যান আশাজী। মোহাম্মদ জহুর খৈয়ামের সুরে ওই ছবিতে গান গেয়েই প্রথমবারের মতো (১৯৮১) জাতীয় পুরস্কারও পেয়ে যান। জাতীয় পুরস্কার অবশ্য ৫ বছর পর আবারও পেয়েছেন ইজাজত ছবির গানের জন্য, কিন্তু উমরাও জান ছবিতে ‘দিল চিজ হ্যায় কেয়া আপ মেরি জান লি যিয়ে’সহ বেশ কয়েকটি গজল গেয়েই আশাজী শ্রোতাদের মন চিরতরে জয় করে নিয়েছিলেন।

হাজারো দুঃখের মাঝেও আনন্দ খুঁজে নিতে হয়, সান্ত্বনায় শান্তি খুঁজেও বাঁচতে হয় মানুষকে। আশাজীর একটা বড় সান্ত্বনা আছে যা ভেবে হয়তো অনেক দুঃখও ভুলতে পারেন। গনপত রাওয়ের সংসারে তো সুখ পাননি। সে জন্য অবশ্য প্রথম স্বামীকে দোষারোপ করেন না। বরং এখনো অকপটে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই বলেন, ‘তিনি তো আমায় তিনটি সন্তান দিয়েছেন!’ সন্তানরাই আশাজীর কাছে সব। তাদের মানুষ করতে পেরেছেন, শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বাইরে এটাকেই বড় সার্থকতা, অতুলনীয় সাফল্য মানেন। নিজে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ভক্ত ছিলেন বলে বড় ছেলের নামও রেখেছেন হেমন্ত। মায়ের উৎসাহে গান শিখে হেমন্ত এসেছিলেন সঙ্গীত পরিচালনায়। লেগে থাকলে খারাপ যে করতেন না তার প্রমাণ রেখেছেন ৮টি হিন্দি ছবির কাজে। কিন্তু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করায় ঝক্কি,ঝুঁকি এবং ঝুটঝামেলা–সবই আছে বুঝতে পেরে হেমন্ত নেমে পড়েন বৈমানিক হওয়ার চেষ্টায়। একমাত্র মেয়ে বর্ষাও খুব ভালো গান জানেন। হিন্দি এবং মারাঠি ছবিতে গেয়েছেন। মায়ের সঙ্গে কনসার্টেও অংশ নিয়েছেন। কিন্তু একসময় দেখলেন সবাই কারণে-অকারণে মা আর মাসির সঙ্গে তাঁর তুলনা করে। টনটনে আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন বর্ষা তাই সঙ্গীত শিল্পী না হয়ে হয়েছেন সাংবাদিক। দ্য সানডে অবজারভার, টাইমস অব ইন্ডিয়া, জেন্টলম্যান ম্যাগাজিনসহ অনেক জায়গায় কাজ করেছেন, ভারতীয় রাজনীতি নিয়ে লিখেছেন অসংখ্য কলাম। ছোট ছেলে আনন্দ আশাজীর ম্যানেজার। মায়ের কনসার্ট থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজকর্ম ‘ম্যানেজ’ করে চলেছেন সুনিপুণভাবে। সুতরাং পরিবার নিয়ে আশাজী মোটামুটি নিশ্চিন্ত। মুম্বাইয়ের পেডার রোডের বাড়িতে রেয়াজ আর রান্না করেই কাটে বেশির ভাগ সময়। গোলাপি রংয়ের হাউসকোটটা পরে রান্নাঘরে ঢুকলে কিভাবে সময় কেটে যায় টেরই পান না। রাঁধতে গিয়ে দরকারি কিছু না পেলে নাতনি অনুজাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন কেনাকাটায়। ঘরের সব কাজ সেরে লিখতে বসেন। জানেন তো, খুব যত্ন করে আত্মজীবনী লিখছেন আশা ভোঁসলে!

আত্মজীবনীতে যে জীবনের অনেক অজানা কথা থাকবে তাতে আর সন্দেহ কি। তবে ধরে নিতে পারেন একজনের বিষয়ে অনেক প্রশংসা, অনেক কৃতজ্ঞতার কথা লেখা থাকবেই সেখানে। রাহুল দেব বর্মন। গনপত রাওয়ের কাছে যা পাননি তার অভাব ভুলতে পেরেছিলেন তাঁকে পেয়ে। আশাজীর সঙ্গীতজীবনের মোড়ই ঘুরিয়ে দিয়েছেন পঞ্চম। আজ হিন্দি ছবির বাইরেও কতরকমের গানে আশার পদচারণা! গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে ব্যতিক্রমী কিছু করার ছবকটা পঞ্চমের কাছ থেকেই তো পেয়েছিলেন। ওস্তাদ আলী আকবর খানের সঙ্গে করা ‘লিগ্যাসি’ অ্যালবামের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিলেন গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে। ইংরেজি গান গেয়েছেন বয় জর্জ, রবিন উইলিয়ামস, স্টিফেন লুসকম্বের সঙ্গে। ৬৪ বছর বয়সে প্রেমের গান গেয়েছেন ব্যান্ড গ্রুপ কোড রেড-এর সঙ্গে। বুলেটপ্রুফ মঙ্ক মুভির জন্য মাইকেল স্ট্রাইপের সঙ্গে গেয়েছেন ‘দ্য ওয়ে ইউ ড্রিম’ গানটি। অস্ট্রেলিয়ার ফাস্টবোলার ব্রেট লি’র সঙ্গে গাওয়া গান তো একসময় ভারতের তরুণদের মুখে মুখে ফিরেছে। সঙ্গীতে আশা ভোঁসলের স্বপ্নের শেষ নেই। লক্ষ্যেরও যেন নেই সীমা। তাই মেক্সিকান অ্যামেরিকান রক গিটারিস্ট কার্লোস সান্তানার সঙ্গেও গাইবেন শিগগিরই। আরেকটা বিশেষ স্বপ্ন আছে। মঞ্চে টানা দু ঘন্টা একটা রাগ পরিবেশন করতে চান। পণ্ডিত যশরাজ তাঁকে সব ছেড়ে ক্লাসিক্যাল গাইতে বললেও পরিবারের জন্য যে তা পারেননি সে আফসোস এখনো আছে। পাশাপাশি সাফল্যের আনন্দ, দুঃখ ভোলার সান্ত্বনাও আছে। সবচেয়ে বড় সাফল্য অবশ্যই কোটি কোটি সঙ্গীতানুরাগীর হৃদয়ে স্থান করে নেয়া। শিল্পী হয়ে বাবার স্বপ্ন পূরণ করার সার্থকতা সেখানেই। বড় অহঙ্কারও আছে একটা। তাঁকে শুধু ‘লতা মঙ্গেশকরের ছোট বোন’ বলতে এখন কট্টর সমালোচকদেরও বাঁধে। আশা ভোঁসলে নিজেই নিজের তুলনা। কারো কারো মতে কন্ঠের বহমানতার দিক থেকে লতার চেয়েও খানিকটা এগিয়ে। রাহুল দেব বর্মনের মতে,‘লতাজী হলেন ডন ব্র্যাডম্যান আর আশা গ্যারি সোবার্স। একজন ব্যাটিংয়ে অসাধারণ আর অন্যজন ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং সব মিলিয়ে অসাধারণ।’ সব ধরনের গান অনায়াসে গেয়ে নিজেকে এভাবে সবার ওপরে তুলে ধরা সন্দেহাতীতভাবেই জীবনের সেরা অর্জন।

যিনি এমন গাইতে পারেন, তিনি তো বিশারদের প্রশংসা আর সাধারণের ভালোবাসা পাবেনই। এমন একজন শিল্পীকে ‘গানের মেহবুবা’ বললে কি বেশি বলা হবে?

উপকার


rekha-asha-bhosle.jpg………
আশা ভোঁসলে এবং রেখা
………

শুরুর দিকে ভালো গানের জন্য হা-পিত্যেশ করতে হয়েছে তাঁকে। লতা, নূরজাহান, শামশাদ বেগম, গীতা দত্ত গাওয়ার পর যা থাকতো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেই গানগুলোই গাইতে হতো আশাজীকে। ভালো গান… অন্য স্বাদের,নতুন ধরণের গানের কদর তাই তাঁর কাছে সবসময়ই একটু বেশি। ভালো গানের জন্য কত টাকা নেবেন-না-নেবেন তা নিয়ে কখনোই খুব একটা মাথা ঘামাননি। উমরাও জান ছবির পরিচালক মুজাফ্ফর আলী সেটা জানতেন না। কম বাজেটের ছবি। অথচ ছবির গানগুলোর জন্য আশাজীকে তাঁর চাই-ই চাই। কিন্তু মহাব্যস্ত আশাজীর চাহিদামতো টাকা দিতে পারবেন না বলে সরাসরি কিছু বলতেও পারছিলেন না। আশাজীর মেয়ে বর্শার সঙ্গে পরিচয় ছিল। আগ-পিছ না ভেবে ধরলেন তাঁকে। বর্ষা মা-কে শুধু বললেন, ‘গানগুলো শুনে দেখো। পছন্দ না হলে গেয়ো না।’ ব্যস, আশাজী ডেকে পাঠালেন পরিচালককে। শুনলেন গানগুলো। গানের সুর আর কথা শুনে ‘হ্যাঁ’ বলতে একটুও সময় নেননি। বরং এর বাইরেও এমন একটা ব্যাপারে সাহায্য করেছিলেন যার কথা মুজাফফর সাহেব কোনোদিন ভুলতে পারবেন না। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তাঁর পছন্দ ছিল রেখাকে। কিন্তু টাকার অঙ্ক শুনে রেখা আগ্রহ দেখাননি। এবার মুজাফ্ফর সাহেব ধরলেন বর্ষার মা-কে! সঙ্গে সঙ্গেই ফোন করে আশাজী রেখাকে বললেন,‘রেখা, উমরাও জান ছবিটার কাহিনী এবং গান খুব ভালো। এতে তোমায় অভিনয় করতে হবে।’ রাজী হয়ে গেলেন রেখা। বাকিটা তো ইতিহাস। উমরাও জান-এর গানের জন্য আশাজী যতটা বিখ্যাত, ওই ছবিতে অভিনয়ের জন্য রেখাজী তার চেয়েও বোধহয় বেশি বিখ্যাত। উমরাও জান ছবিতে অভিনয় করেই জীবনের একমাত্র জাতীয় পুরস্কারটি পেয়েছেন ভানুরেখা গনেশন। আশাজী একটা ফোন করে রেখার কত বড় উপকারটা করেছিলেন ভাবুন একবার!!

গানের গ্যারি সোবার্স

একটা সময় ছিল যখন দিদি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তুলনা এড়ানোর উপায় খুঁজতে হতো আশাজীকে।

কন্ঠ, গায়কী লতা, নূরজাহানদের চেয়ে অন্যরকম রাখতে কী কষ্টটাই না করেছেন! সুফলও পেয়েছেন হাতে হাতে। স্বকীয়তা খুঁজে পেয়েছেন, সঙ্গীত ভুবনে স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়েছেন। এখন কিন্তু লতা, নূরজাহান, গীতা দত্ত বা অন্য কারো সঙ্গে কেউ তাঁর তুলনা করলে আর বিব্রত হন না। হবেন কেন? বোদ্ধা শ্রোতা মাত্রই তো জানেন আশা ভোঁসলে অনন্যা, অতুলনীয়া। সঙ্গীত ভুবনে সবার কাছে পঞ্চম নামে পরিচিত রাহুল দেব বর্মনকে সবাই জানেন অসাধারণ এক সুরস্রষ্টা হিসেবে। কিন্তু তিনি যে গানের মতো ক্রিকেট অন্তপ্রাণও ছিলেন সেটা কি খুব বেশি মানুষ জানেন? একবার তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, ‘বলুন তো, লতা আর আশার মধ্যে কে বেশি বড় শিল্পী?’ রাহুল দেব বর্মন জবাবটা দিলেন ক্রিকেটীয় ভাষায়,‘ওঁদের মধ্যে আসলে কোনো তুলনা হয় না। তবু যদি কে বড় জানতেই চান, তাহলে আমি বলব, লতাজী হলেন ডন ব্র্যাডম্যান আর আশা গ্যারি সোবার্স। একজন ব্যাটিংয়ে অসাধারণ আর অন্যজন ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং সব মিলিয়ে অসাধারণ।’ বুঝলেন কিছু? মোটামুটি বুঝতে হলেও গান এবং ক্রিকেটের জ্ঞান অল্প করে হলেও থাকতেই হবে!

সীমানা ছাড়িয়ে

গত ৬৭ বছরে কতগুলো গানে কন্ঠ দিয়েছেন আশাজী? হিসেবটা শুনলে কিন্তু অবাক হতে হয়। বলিউডেই এ পর্যন্ত ৯৫০টিরও বেশি ছবিতে গান গেয়েছেন! মোট গানের সংখ্যা? হিন্দি, মারাঠি, বাংলা, গুজরাটি, পাঞ্জাবি, তামিল, ইংলিশ, রুশ এবং মালয়সহ ১৮ টি ভাষায় আশাজীর গাওয়া গানের সংখ্যা এখন ১২ হাজারের মতো! এখনো তো গাইছেন, তাহলে সংখ্যাটা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে ভাবুন তো!

ভালোবাসা

সঙ্গীত পরিচালক, গায়ক, অভিনেতা হিমেশ রেশমিয়াকে চেনেন অনেকেই। ‘আশিক বানায়া’ গানটি দিয়ে সেই যে ‘আশিক’ বানিয়েছিলেন সেই থেকে অনেক টিন এজ শ্রোতারই প্রিয় শিল্পী হিমেশ। কিন্তু এই নাম শুনলে আশা ভোঁসলের এখনো মেজাজ বিগড়ে যায়। একবার কোনো এক সাক্ষাতকারে নিজেকে রাহুল দেব বর্মনের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন হিমেশ রেশমিয়া। সমঝদার শ্রোতামাত্রই কথাটা শুনে হাসবেন। কিন্তু আশাজী সেই থেকে মহাখাপ্পা। কোথায় আর ডি বর্মন আর কোথায় হিমেশ রেশমিয়া! অনেকটা ব্যাঙের নিজেকে হাতি ভাবার মতো, তাই না? তা আশাজী এই ঔদ্ধত্য দেখে কথাই বন্ধ করে দিলেন হিমেশের সঙ্গে। শুধু শিল্পী হিসেবে দেখলে পঞ্চমকে খাটো করা তাঁর কাছে এত অসহ্য হয়তো মনে হতো না। কিন্তু পঞ্চম তো সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে যত প্রিয়, মানুষ হিসেবে তার চেয়েও বেশি প্রিয় আশাজীর কাছে। বড় বেশি ভালোবাসতেন তাঁকে, ভালোবেসে বিয়েও করেছিলেন। ভালোবাসার মানুষের অপমান তিনি সইবেন কিভাবে? আশাজীর কাছে পরে ক্ষমা চেয়েও ক্ষমা পাননি হিমেশ রেশমিয়া। বরং কোনো এক টিভি চ্যানেল তাঁকে রিয়্যালিটি শো-র অতিথি করতে চাওয়ায় রেগেমেগে আশাজী বলেছিলেন,‘এ ধরণের অনুষ্ঠানে যাওয়ার মতো সময় বা রুচি আমার নেই। ওখানে প্রতিযোগীরা গানের চেয়ে নাচ এবং অভিনয় দক্ষতা দিয়েই বেশি বাজিমাত করে। আর এখন তো কারো কারো গান ভালোভাবে শিখতেও হয়না। টুপি পরে একটা কিছু গেয়ে দিলেই তারা শিল্পী হয়ে যায়!’ ইঙ্গিতটা কার দিকে ছিল তা সবাই বুঝতে পেরেছেন, কারণ, টুপি পড়ে নাকি সুরে গান গাওয়ার জন্য যে হিমেশ রেশমিয়াই বিখ্যাত (!) তা কে না জানে!

পঞ্চম থেকে এ আর রহমান

শিল্পী আশা ভোঁসলের ক্ষমতা সম্পর্কে খুব পরিস্কার ধারণা ছিল রাহুল দেব বর্মনের। তাই যে কোনো গান রেকর্ডিংয়ের আগে সুরটা একটু বাতলে দিয়ে আশাজীকে বলতেন,‘এবার তুমি নিজের মতো করে গাও।’ প্রত্যেকটা লাইন অন্তত দশ রকম করে গাইতেন আশাজী। তারপর সেই দশটা থেকে খুব ভালো করে শুনে শুনে সবচেয়ে বেশি পছন্দেরটি বেছে নিতেন পঞ্চম। ১৬ বছর হলো পঞ্চম বেঁচে নেই। তবে এ আর রহমান আছেন। একটা জায়গায় পঞ্চমের সঙ্গে এ আর রহমানের ভীষণ মিল। এ আর রহমানও আশাজীকে নিয়ে কাজ করতে গেলেই বলেন,‘আশাজী আপনি আপনার মতো করে গেয়ে দিন।’ তারপর? সেই দশ রকম করে গাওয়া এবং সেখান থেকেই সেরাটিকে বেছে নেয়া!

বোন বলে কথা!

লতা মঙ্গেশকর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বলতে গেলে পানইনি। কেন? ছোট বোন আশার জন্য। চার বছরের ছোট বোনটি দিদি ছাড়া কিছু বুঝতো না। দিদিও একপা নড়তো না বোনটিকে ছাড়া। স্কুলেও সঙ্গে করে নিয়ে যেতো। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ বেশিদিন এ অনিয়ম মানবে কেন? একদিন জানিয়ে দেয়া হলো,‘বোনকে নিয়ে স্কুলে আসা চলবে না।’ সঙ্গে সঙ্গেই বড় বোন ঠিক করে ফেললো আর কোনোদিন যাবে না স্কুলে। যায়ওনি। সেদিনের ছোট্ট জেদী মেয়ে লতা বড় হয়ে হয়েছেন লতা মঙ্গেশকার। আদর্শ স্বশিক্ষিত মানুষের মতো গড়ে তুলেছেন নিজেকে। লতাজীকে দেখলে বা তাঁর সঙ্গে কথা বললে কেউ বলতে পারবেন না যে তাঁর লেখাপড়া জানা নেই। তবু দিদির এই ত্যাগের কথা কখনো ভুলতে পারেন না আশা ভোঁসলে। দিদিকে খাটো করার মতো কথা কেউ বললে মেজাজ ঠিক থাকে না। প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। বেশ কয়েক বছর আগের কথা। এক পরিচালক নতুন এক শিল্পীর কাছে লেখাপড়া জানা (গ্র্যাজুয়েট) আরেক শিল্পীর প্রশংসা করে বলছিলেন,‘দেখেছো মেয়েটা কত সুন্দর গায়! পড়ালেখার আলাদা একটা কদর আছে…।’ কাছেই বসে ছিলেন আশা। কথাটা শুনে সঙ্গে সঙ্গেই বলে উঠলেন,‘শুনুন, যত লেখাপড়াই করুক ওই মেয়ে কোনোদিন লতা মঙ্গেশকর হতে পারবে না।’ ভদ্রলোক লতাজীকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি কিন্তু কিছু বলেননি। তবু সহ্য করতে পারেননি আশা ভোঁসলে। পারবেন কেমন করে? লতা মঙ্গেশকর বোন হলেও তো আশার মায়ের মতো! মায়ের পরোক্ষ অপমানও কি কেউ সইতে পারে? পারলে সে কি সুস্থ, স্বাভাবিক মানুষ?

প্রশ্রয়

আশা ভোঁসলেকে জিজ্ঞেস করুন,‘আপনার দিদি কেমন স্বভাবের মানুষ?’ একটাই জবাব পাবেন,‘খুব শান্ত। আমার ঠিক উল্টো। খুব কম কথা বলে। সব কষ্ট সহ্য করে নীরবে।’ কষ্ট আশাজীও সহ্য করতে পারেন। তবে কম কথা বলা তাঁর ধাতে নেই। এটা আবার লতাজী খুব ভালো করে জানেন। একবার ঘরোয়া এক অনুষ্ঠান শেষে সবাই একসঙ্গে খেতে বসেছেন। খাওয়ার টেবিলে কে যেন কী একটা আপত্তিকর কথা বলল। আশাজী ঝট করে ভদ্রলোকের দিকে ফিরলেন, কিন্তু পরক্ষণেই দিদির দিকে তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিলেন। লতাজী বোনের দিকে না তাকিয়েই বললেন,‘আশা, যা বলতে চাও বলে ফেলো। আমি জানি কথাটা না বলা পর্যন্ত তোমার মুখে খাবার উঠবে না।’ অনুমতি পাওয়ার পর আশাজী মুখ খুলেছিলেন তারপর পেটভরে খেয়েওছিলেন (!)।

পুরস্কার

তিসরি মঞ্জিল ছবির জন্য ‘আযা আযা, ম্যায় হু পেয়ার তেরা’ গানটা গাইতে বলেছেন রাহুল দেব বর্মন। আশা ভোঁসলে খানিকটা ভড়কে গেলেন। পাশ্চাত্যের ঢঙ্গের এ ধরনের গান তো আগে কখনো গাননি, তাই পারবেন কিনা এমন একটা দুর্ভাবনা ছিল। লতা মঙ্গেশকর ভয় ভাঙ্গানোর জন্য বললেন,‘অবশ্যই পারবে, মঙ্গেশকর পরিবারের মেয়ে হয়ে তুমি ব্যর্থ হতে পারোই না।’ ছবির নায়ক শাম্মী কাপুরের মনে হচ্ছিল, আশাজী খারাপ গাইতে পারেনই না, বরং মোহাম্মদ রফির চেয়েও ভালো গেয়ে মাঝখান থেকে তাঁকে বেকায়দায় ফেলতে পারেন। নিজে এসে বলেছিলেন,‘দেখো আশা, রফি সাহেবের চেয়েও ভালো গেয়ে বসো না। আমি চাই না আশা পারেখের কন্ঠের গান আমার চেয়ে ভালো শোনাক।’ যা হোক, দশ দিন ধরে নিজেকে তৈরি করে অবশেষে গানটা গাইলেন। রেকর্ডিং শেষ হতেই মুগ্ধ হয়ে রাহুল দেব বর্মন ১০০ রূপির একটা নোট ধরিয়ে দিলেন আশাজীর হাতে। বুঝুন তাহলে কেমন হয়েছিল গানটা!

mohdrafi-asha-bhonsle-rdb.jpg
মোহাম্মদ রফি, আর ডি বর্মন এবং আশা ভোঁসলে

দুর্ভাগ্য

দুবার বিধবা হয়েছেন আশা ভোঁসলে। তবে এটাকে সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য মনে হয় না তাঁর কাছে। প্রকৃতির নিয়মে সবাইকেই একদিন চলে যেতে হয়, সেই কথা ভেবে গনপত রাও ভোঁসলে এবং রাহুল দেব বর্মনের মৃত্যুকে মেনেই নিয়েছেন। কিন্তু এখনো মানতে কষ্ট হয় রাহুল দেব বর্মন মারা যাওয়ার পর মিডিয়ার ভূমিকার কথা। দ্বিতীয় বিয়ে করার সময় সন্তানরা বড় হয়ে গেছে বলে খুব সংক্ষেপে আনুষ্ঠানিকতা সেরেছিলেন। পঞ্চমের মৃত্যুর পর সেটাই কাল হলো। এমন কথাও প্রচার করা হলো যে আশাজী আসলে রাহুল দেব বর্মনকে বিয়েই করেননি। ভাগ্যিস খুব ঘরোয়াভাবে হলেও আনুষ্ঠানিকতাটা সেরেছিলেন! আর্য সমাজের নিয়ম অনুযায়ী বিয়ে করার পর রেজিস্ট্রিও করিয়েছিলেন। অপপ্রচার বন্ধ করার জন্য এক পর্যায়ে বিয়ের সার্টিফিকেটটাও দেখাতে হয়। সে কথা আজো ভোলেননি। ভোলেননি বলেই, প্রিয়তম স্বামীর মৃত্যু নয়, তাঁর মৃত্যুর পর মিডিয়ার এক অংশের নোংরামিই আশাজীর কাছে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক।

সেই আশা!

এক সময় আশা ভোঁসলের কন্ঠে ক্যাবারে নাচের গান ছাড়া অন্য কিছু শোনার সুযোগ খুব কমই হতো। পরিচালকরা বেছে বেছে দিতেনই ওইসব, অন্য রকম গান শোনাবেন কেমন করে? সুযোগ পাওয়ার পর নিজেকে প্রমাণ করতে দেরি করেননি। যখন যেমন গানই পেয়েছেন, পরিচালকের পছন্দ মতো গেয়ে দিয়েছেন আশাজী। একবার একটা গান গাওয়াতে এসেছেন ভীরা সমর্থ। কন্নড় ভাষার গানটা প্রথমে হিন্দিতে ভালো করে লিখে নিলেন আশা। রিহার্সেলের জন্য একদিন সময় চাইলেন। পরের দিন সময় মতো এসে স্টুডিওতে ঢুকলেন। গাইলেন গানটা। চারিদিকে পিনপতন নিস্তব্ধতা। হঠাৎ কেমন যেন একটা শব্দ হলো। সেদিকে তাকিয়ে সবাই একেবারে থ। সঙ্গীত পরিচালক ভীরা সমর্থ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন!

উপহার

সঙ্গীত ভুবনকে দারুণ এক উপহার দিয়েছেন আশা ভোঁসলে। শিল্পী হিসেবে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা মনে করে এটাকে ‘বোনাস উপহার’ও বলা যেতে পারে। একবার আশাজী গিয়েছেন লন্ডনে। সেখানে এক কনসার্টে খুদে এক শিল্পীর সঙ্গে পরিচয়। ১০ বছর বয়সী ছেলেটির নাম আদনান সামি খান। বেশ ভালো পিয়ানো বাজায়। সেদিকেই তার ঝোঁক। কিন্তু আশাজী দেখলেন আদনান গানও গায় ভালো। তাই কাছে টেনে বললেন,‘গানটা মন দিয়ে গাও। ছেড়োনা। তুমি গানে ভালো করবে।’ কথাটা কিন্তু অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেছে। গায়ক আদনান সামিকে এখন কে না চেনে!

জেদ

১৯৮৯ সাল। বেশ লম্বা এক সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন। কনসার্টের জন্য বলতে গেলে বিশ্রাম ছাড়াই ছুটতে হচ্ছে এক শহর থেকে আরেক শহরে। ২০ দিনে ১৩টি শহরে গান গেয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। সে অবস্থাতেই গেলেন সুইডেন। স্টকহোমে সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। সুতরাং সফর বাতিল করারও উপায় নেই। সুইডেনে পৌঁছানোর পর আরো বড় বিপদ। সর্দি, সেইসঙ্গে প্রচণ্ড জ্বর। একেবারে কাহিল অবস্থা। কনসার্ট শুরুর আগে আশাজীর ছোট ছেলে আনন্দ আলোচনায় বসলেন আয়োজকদের সঙ্গে। আলোচনায় ঠিক হলো, অনুষ্ঠানের বেশিরভাগ সময়ে থাকবে যন্ত্রীদের বিশেষ পরিবেশনা আর সুরেশ ওয়াদকারের গান। ফাঁকে ফাঁকে দু’একটা গান গাইবেন আশা ভোঁসলে। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর পর আশাজীকে আর আটকে রাখা গেল না। পুরো অনুষ্ঠানেই গাইবেন। শত বুঝিয়েও কাজ হয়নি। শুরুর দিকে অনুষ্ঠান তেমন একটা জমেনি। হঠাৎ এক শ্রোতা উঠে দাঁড়িয়ে মারাঠি কোনো গান গাইবার অনুরোধ জানালেন। আশাজী গেয়ে উঠলেন,‘নাচ নাচুনি অতিমি দামালে’। গানের প্রথম কলির অর্থ,‘ আমি নাচতে নাচতে বড় ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।’ নিজে ক্লান্ত এবং অসুস্থ ছিলেন বলেই হয়তো গানটার সঙ্গে একেবারে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন আশাজী। গান শেষ হতেই করতালিতে ফেটে পড়ল সমস্ত অডিটোরিয়াম। অনুষ্ঠান হাসিমুখে শেষ করলেও পরে একমাস আর হাসি ছিল না আশাজীর মুখে। অসুস্থতার জন্য পুরো সময়টা বিছানায় কাটাতে হয়েছিল তাঁকে!

দিদির মতো

নতুনদের সুযোগ করে দিতে ১৯৬৯ সালের পর ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর। লতা নতুনদের ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা তো করেনই না, বরং সুযোগ পেলে তাঁদের পথে কাঁটা বিছিয়ে দেন–নিন্দুকদের এমন অপপ্রচারের জবাব দিতেই নিয়েছিলেন এ উদ্যোগ। ১০ বছর পর মঙ্গেশকর পরিবারের আরেক মেয়ে আশা ভোঁসলের কাছ থেকেও এলো একই ঘোষণা। ’৭৯-তে সপ্তম বারের মতো পুরস্কৃত হবার পর আশাজীও জানিয়ে দেন নতুনদের উঠে আসার পথ আরো সুগম করতে তিনিও সরে দাঁড়াচ্ছেন ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড থেকে।

রসবোধ

এবার কমন ওয়েলথ গেমস হয়েছে দিল্লিতে। আসর শুরুর আগে কতরকমের কেচ্ছা-কাহিনী হয়েছে তা তো জানেনই। আয়োজনে দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার এত বড় অভিযোগ উঠেছে যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছেন। সব দেখে-শুনে একটাই মন্তব্য করেছিলেন আশা ভোঁসলে, ‘সিডব্লিউজি অর্থাত কমন ওয়েলথ গেমস এবার হয়ে গেছে ডিএমজি অর্থাত ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গেমস।’ দিল্লির এ আসর শুরুর আগে কমন ওয়েলথ গেমসকে তো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গেমসই মনে হয়েছিল। আশা ভোঁসলে তো ভুল কিছু বলেননি!

নেশা

ভয় পেলেন? ভাবছেন আশা ভোঁসলে আবার নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়লেন কিনা? এখন পড়েননি, পড়ে আছেন সেই ১৩-১৪ বছর বয়স থেকেই। তখনো ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। আশাজী তাই কোনো কোনো দিন খোলা দরজা দিয়ে আসা স্ট্রিট লাইটের আলোয় বই পড়তে পড়তে কাটিয়ে দিতেন সারারাত। পড়ার এমনই নেশা ছিল তখন। নেশাটা কিন্তু যায়নি। মারাঠি সাহিত্য, মারাঠিতে অনুবাদ করা যে কোনো ভাষার উপন্যাস বা হিন্দি গল্প–হাতের কাছে পেলে কিছুই এখনো ছাড়েন না আশা ভোঁসলে।

জাদুকর খৈয়াম

উমরাও জান ছবির গান নিয়েই আরেকটা ঘটনা। ঘটনাটা আশাজীর চিরকাল মনে থাকবে। দিল চিজ হ্যায় কেয়া, ইন আঁখো কি মাস্তি মে, ইয়ে কেয়া জাগা হ্যায় দোস্তো, জুস্তজু যিসকি থি–কী অসাধারণ সব গান কী চমৎকারভাবে গেয়েছেন! আগে যত গান গেয়েছেন তার সঙ্গে উমরাও জানের গানগুলোকে মেলালে মনে হবে এ যেন নতুন আশা। সত্যিই তাই। উমরাও জানে নতুন এক আশা ভোঁসলেকেই আবিষ্কার করেছিলেন সঙ্গীত পরিচালক খৈয়াম। গান শুরুর আগে আশাজীকে অনুরোধ করেছিলেন,‘হাফ নোট নামিয়ে গাও তো।’ খৈয়ামের কথামতো একটু নিচুস্বরে গেয়ে আশাজী নিজেই অবাক। স্রেফ ওইটুকু পরিবর্তনে গানগুলো যে এত ভালো শোনাতে পারে তিনি ভাবতেই পারেননি।

পাকা রাঁধুনি

রান্না করতে খুব ভালোবাসেন। রাঁধেনও চমৎকার। যে খায় সে-ই ফিদা হয়ে যায়। মুম্বাইয়ের অনেক নায়ক-নায়িকাই নাকি আশাজীকে পেলে মাংস আর বিরিয়ানি খাওয়ানোর জন্য চেপে ধরেন। কাপুর পরিবারে তো আশাজীর রান্না করা মাছ, পায়া কারি আর ডাল ভীষণ জনপ্রিয়। টাইমস্ অব ইন্ডিয়ার এক সাক্ষাতকারে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ‘গায়িকা না হলে কী হতেন?’ আশাজীর ঝটপট জবাব,‘ পেশাদার রাঁধুনি হতাম। বেছে বেছে চারটা বাসায় রান্না করে প্রচুর টাকা কামাতাম। হা হা হা।’

উল্লেখযোগ্য পুরস্কার

জাতীয় পুরস্কারঃ দুবার। ১৯৮১ সালে উমরাও জান ও ১৯৮৬ সালে পেয়েছেন ইজাজত ছবির গানের জন্য।

ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড : ৭বার, ১৯৬৮,১৯৬৯, ১৯৭২-১৯৭৫ ও ১৯৭৯।

লাইফটাইম অ্যাওয়ার্ড : বিবিসি ২০০২, ফিল্ম ফেয়ার ২০০১ সালে।

নাইটিঙ্গেল অব এশিয়া (১৯৮৭), চ্যানেল ভি (১৯৯৭) ও জি গোল্ড বলিউড (২০০০), সেরা প্লে-ব্যাক গায়িকা হিসেবে জি সিনে অ্যাওয়ার্ড (২০০২) ও জি সিনে স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড ফর হল অব ফেম (২০০২) পেয়েছেন ১বার করে। এছাড়া দু’বার করে পেয়েছেন লতা মঙ্গেশকর (১৯৮৯ ও ১৯৯৯) স্ক্রিন ভিডিওকন (১৯৯৭, ২০০২) এবং এমটিভি (১৯৯৭ ও ২০০১) অ্যাওয়ার্ড।

আশা ভোঁসলে সম্পর্কে সঙ্গীত জগতের গুণীজনদের কথা

লতা মঙ্গেশকর:

আশা একজন পরিপূর্ণ শিল্পী। তাই দুঃখের গানই হোক বা ক্যাবারের গান ও তা সুন্দর করে গেয়ে দিতে পারে। ও আমার বোন বলেই কিন্তু এসব বলছি না। একজন শিল্পী হিসেবে আরেকজন শিল্পীর কন্ঠের গুণাগুণ লক্ষ্য করা আমার কাজেরই অংশ। আমি মনে করি, আমাদের মাঝে ওর মতো আর কেউ নেই।

নওশাদ (সঙ্গীত পরিচালক):

আশার কন্ঠ স্বচ্ছ পানির মতো সবসময় বয়ে চলে। ফিল্মের গান তো বটেই, দাদরা, ঠুমরি বা গজলও ও এত সুন্দর গায় যা বলে বোঝানো যাবে না।

জগজি সিং (সঙ্গীত শিল্পী):

আশাজী একজন পরিপূর্ণ শিল্পী। ওনার কন্ঠ, গায়কী সবই এক কথায় অসাধারণ।

রাহুল দেব বর্মন (সঙ্গীত পরিচালক/আশা ভোসলের স্বামী):

আশাজীর জন্য কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। তাঁর গানে এত বৈচিত্র্য যা সম্ভবত আর কোনো শিল্পীর গানে নেই। ওনার গান শুনে অনেক কিছু শেখা যায়। আশাজী নিজেকে এমনভাবে তৈরি করেছেন যে, যে কোনো ধরনের গানই উনি অবলীলায় গাইতে পারেন। তাই সাফল্য তাঁর পায়ে এসে লুটিয়ে পড়ে।

কল্যাণজী (সঙ্গীত পরিচালক):

আজকাল এমন হয়েছে যে খুব ভালো কিছু দেখে বা শুনেও আমার মন ভরে না, বরং বিরক্তই হই। কিন্তু আশাজীর গান এমন যা কিনা যত শুনি ততই আরো শুনতে ইচ্ছা করে। ওনার গায়কীর হাজার রূপ, কিন্তু প্রকাশ যথার্থ। হাসি, কান্না, ক্রোধ, প্রেম–সবই তাঁর কন্ঠে সার্থকভাবে ফুটে ওঠে। আশাজীর হৃদয়ও খুব বড় এবং পরিষ্কার।

অলকা ইয়াগনিক (সঙ্গীত শিল্পী):

বৈচিত্র্যের দিক থেকে আশাদি’র কোনো তুলনাই নেই। উনি যে চরিত্রের জন্য কন্ঠ দেন শুনে মনে হয় যেন ঠিক সেরকমই হয়ে গেছেন। ১৬ বছরের নায়িকার জন্য গাওয়া গান শুনে মনে হয় যেন ১৬ বছর বয়সী কারো কন্ঠই শুনছি।

কবিতা কৃষ্ণমূর্তি (সঙ্গীত শিল্পী):

গীত, ক্লাসিক্যাল, আধুনিক, ওয়েস্টার্ন পপ, মুজরা, কাওয়ালি বা নাচের গান–সবই আশাজী এত সুন্দর গাইতে পারেন যে আমার মনে হয় উনি যেন একটা এনসাইক্লোপিডিয়া।

শচীন দেব বর্মন (সঙ্গীত পরিচালক):

আমি যখনই কোনো সুর বেঁধে আশাকে শুনিয়েছি আশা সঙ্গে সঙ্গেই সেটা কন্ঠে তুলে নিয়েছে। একজন শিল্পীর জন্য এটা খুব বড় ব্যাপার। আশা খুব বড় মাপের শিল্পী। সব ধরনের গান গাওয়ার যোগ্যতাই ওর আছে।

অনুপ জালোঠা (সঙ্গীত শিল্পী):

আশাজী অসাধারণ। উনি যা-ই গান, অসাধারণ লাগে।

লক্ষীকান্ত (সঙ্গীত পরিচালক):

আশাজী এত বড় মাপের শিল্পী যে শুধু সব সঙ্গীত পরিচালক কেন, সারা দেশই তাঁর গুণকীর্তন করে। শুধু তাঁর গানেরই নয়, ওনার স্বভাব, চালচলন, কথাবার্তা–সবকিছুরই প্রশংসা করে সবাই। এমন রূপে আমি কী রোশনাই দেবো! হাত জোড় করে ঈশ্বরের কাছে শুধু প্রার্থনা করি যেন এই মহান গায়িকাকে, এই মহান আত্মাকে তিনি এমন শক্তি দেন যাতে উনি তাঁর কন্ঠমাধুর্য দিয়ে সারা পৃথিবীতে দীর্ঘকাল খুশি ছড়াতে পারেন।

তাঁর প্রিয় শিল্পীরা

দীনানাথ মঙ্গেশকর:

তিনি আমার বাবা বলেই কেন আমি তাঁর গান পছন্দ করি সেটা বলা খুব কঠিন। লোকে বলে আমি দেখতে নাকি বাবার মতো, গানও গাই তাঁর মতো করে। তাঁর জীবন যাপন এবং মনোবল ছিল অসাধারণ। গান শেখার জন্য তিনি মাত্র ৮ বছর বয়সে ঘর ছাড়েন। পরে একটা নাটকের গ্রুপ তৈরি করেন যেখানে ২০০ লোক কাজ করত। তারপর তিনি ফিল্মের কাজে নামলেন। এমন একজন বাবা না পেলে আমার হয়তো গান গাওয়াই হতো না। আমি সবসময় তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করি।

লতা মঙ্গেশকর:

সেই ছোটবেলা থেকে আমি ওর গান শুনছি। ওর কন্ঠের যা রেঞ্জ তা খুব কম শিল্পীরই আছে। দিদির কন্ঠ খুব মিষ্টি, উচ্চারণ চমৎকার। যে কোনো ভাষায় গাইতে দিন, ও অসাধারণভাবে গেয়ে দেবে। আরেকটা ব্যাপার, ও যখনই গায়, শুনে দেখবেন, মনে হবে যেন মন্দিরে বসে কেউ গান করছে। ওর ‘আল্লাহ্ তেরো নাম’ গানটা তো আমার অসম্ভব প্রিয়।

মোহাম্মদ রফি:

রফি সাহেবের সবচেয়ে অসাধারণ যে বিষয়টা ছিল, তা হলো, উনি একেবারে চড়া সুর থেকে খুব তাড়াতাড়ি খাদে নেমে আসতে পারতেন। ওনার ‘সুহানি রাত ঢল চুকি’ গানটা আমার খুব বেশি ভালো লাগে।

মান্না দে:

বম্বে টকিজে যখন ‘উপর গগন ইয়ে বিশাল…’ গানটা রেকর্ড করছিলেন তখন ওনার সঙ্গে আমার প্রথম দেখা। উনি তখন শচীন দেব বর্মনের সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। গানটি লিখেছিলেন বিখ্যাত কবি প্রদীপজি। আমি সেখানে গিয়েছিলাম দিদির (লতা মঙ্গেশকর) সঙ্গে। তখনও আমি গান গাওয়া শুরু করিনি। বাঙ্গালী বলে মান্না দে’র হিন্দি উচ্চারণ খুব একটা ভালো ছিল না, তবে কন্ঠের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ ছিল অসাধারণ। ক্লাসিক্যাল গানে ওনার মতো দক্ষ বোধহয় হিন্দি ফিল্মের গানে আর কেউ ছিলেন না। উনি আমাকে বলতেন, ‘আশাতাই (আশাদিদি), তুমি কখনো তোমার জন্য যথার্থ গানটি গাওয়ার সুযোগ পাওনি। সময় সুযোগ হলে আমি তোমাকে দিয়ে কিছু ক্লাসিক্যাল গাওয়াবো।’ কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, সেটা কখনো হয়ে ওঠেনি।

কিশোর কুমার:

১৯৪৮ সালে বম্বে টকিজেই তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা। প্রতিটি গানের জন্য উনি নিজের ১২৫ ভাগ ঢেলে দিতেন। ওনার আরেকটা চমৎকার অভ্যাস যার কথা না বললেই নয়, সেটা হলো, উনি সব সময় পরিচালকদের নানা রকমের আইডিয়া দিতেন। বলতেন, ‘গুরুজি এটা করলে কেমন হয়? আচ্ছা যদি এ জায়গাটা এভাবে গাই? এখানে একটু ইয়োডলিং করবো?’ কিশোরজী সকালে শুধু পান খেতেন আর তারপর ইয়োডলিং প্র্যাকটিস করতেন।তাঁর ঘরে সব ধরণের গানের রেকর্ড ছিল। তাঁর একমাত্র শখই ছিল সঙ্গীত। আমি তাঁকে কোনোদিন পার্টি বা অন্য কোনো ধরণের জমায়েতে দেখিনি। এমনিতে খুব মেজাজী লোক ছিলেন। ক্লাসিক্যাল জানতেন না, কিন্তু ওই ধরণের গানও সহজেই গাইতে পারতেন। আমার কাছে তাঁর ‘নখড়েওয়ালি’ খুব প্রিয় গানগুলোর একটি।

মুকেশজি:

আমি তাঁকে বেশি পছন্দ করতাম, কারণ, তাঁর হিন্দি ছিল চমৎকার। আর কেউ তাঁর মতো এত শুদ্ধ উচ্চারণে হিন্দি গাইতে পারতো না। আমরা মহারাষ্ট্রীয়। আমি মনে করি আমার হিন্দি উচ্চারণের উন্নতি হয়েছে তাঁর কারণেই। তাঁর কন্ঠেরও একটা অন্যরকম বিশেষত্ব ছিল। উনি কখনো কাউকে অনুকরণ করেননি। মেরা নাম জোকার ছবির ‘জানে কাহা গ্যায়ে ও দিন’ তাঁর ক্লাসিক গানগুলোর একটি। ‘রাম কারে অ্যায়সা হো যায়ে’ও চিরকাল মনে রাখার মতো গান।

হেমন্তদা:

ওনার গান আমি প্রথম শুনি ১৯৪৪ সালে। শুনেই তাঁর ভক্ত হয়ে যাই। সে আমলে তো আমাদের কোনো সিডি প্লেয়ার বা টেপরেকর্ডার ছিল না, ছিল শুধু রেডিয়ো। হেমন্তদা তখন রেডিয়োতে বাংলা গান গাইতেন। ‘আঁচলসে কিউ বান্ধ লিয়া মুঝ পরদেসকা পেয়ার’ তাঁর গাওয়া আমার একটি প্রিয় গান। হেমন্তদার কন্ঠ আমার এত ভালো লাগতো যে আমি আমার প্রথম সন্তানের নামও রেখেছি হেমন্ত। হেমন্তদার কন্ঠে এমন একটা জাদু আছে যে ওনার গান শুনলে আর কারো গান শুনতে ইচ্ছে করে না। তাঁর কন্ঠ গভীর সমুদ্রের মতো। তবে কন্ঠ খুব ভালো হলেও, বাঙ্গালি বলেই মান্না দে’র মতো ওনার হিন্দিও খুব একটা ভালো ছিল না। তো যা-ই হোক, আমি হেমন্ত কুমারের সেরা ভক্তদের একজন। তাঁর ‘ইয়ে নয়ন ডরে ডরে’, খামোশি ছবির ‘পুকার লো’ গানগুলো অসাধারণ।

নূরজাহান:

ওনার গাওয়া গানগুলোর মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় ‘বদনাম মোহাব্বত কওন কারে বদনাম’। আমার খুব ছোটবেলায় যখন ‘বড়ি মা’ ছবিটি তৈরি হলো, তখন আমি ওনাকে প্রথম দেখি। ছবিতে ছোট্ট একটা চরিত্রে অভিনয়ও করেছিলাম। আমি ওনাকে আপা ডাকতাম। কে এল সায়গলের সময়ের অন্যতম সেরা প্লে-ব্যাক গায়িকা তিনি।

মেহদি হাসান:

উনি ঈশ্বরের দান। আমার মনে হয় মারওয়ার থেকে আসা সব শিল্পীই খুব ভালো। উনি তাঁদেরই একজন। ওনার সুর এবং লয় অসাধারণ। কোনো অশান্ত, অস্থির মানুষ তাঁর গান শুনলে শান্ত হয়ে যাবেন। মেহদি হাসানের অসাধারণত্ব এখানেই।

গুলাম আলী:

উনিও ঐশ্বরিক দান। ওনার গানে যে ‘আলাপ’ থাকে তা বোধহয় আর কেউ রপ্ত করতে পারবে না। উনি কোথা থেকে গাইতে গাইতে কোথায় চলে যাবেন তা বলা মুশকিল। মেহদি হাসানের গান শান্তি এনে দিতে পারে আর গুলাম আলীর গান এমন যা শুনতে আপনি ছুটে যাবেন।

আশা ভোঁসলের কিছু হিন্দি গান:

গান ছবি
১. আদমি কি জিন্দেগি কা ভিগি পালকে
২. আইয়ে মেহেরবান হাওড়া ব্রিজ
৩. আজ রাপাট যাইয়ে নামক হালাল
৪. আযা আযা লেকে বারাত আনমোল মোতি
৫. আযা পঞ্ছি আকেলা হ্যায় নও দো গেয়ারা
৬. আযা তুঝে পেয়ার কার এহসান
৭. আঁখোমে কেয়া জি নও দো গেয়ারা
৮. আঁখো আঁখো মে জানোয়ার
৯. আঁখো আঁখো সে হো গ্যায়া খাজাঞ্চি
১০. আঁখো কি জুবান আওয়াজ
১১. আঁখোসে গিরানা না সুহাগন
১২. আপকো প্যাহলে কাভি তুম হাসিন ম্যায় জওয়া
১৩. আপসে মিলে দিল ফার্জ কি জাং
১৪. আতি রাহেঙ্গি বাহারে কসমে ওয়াদে
১৫. আয়ে হ্যায় দূরসে ক্যাহিয়ে কেয়া বাত হ্যায়
১৬. আব জিনেকা মওসম দিল্লাগি
১৭. আব কোয়ি যায়ে কাহা কারবালা
১৮. আভি না যায়ো ছোড়কার হাম দোনো
১৯. আচ্ছা জি ম্যায় হারি কালা পানি
২০. আ জী লুট লিয়া দিলকো দুশমন
২১. আকলমন্দকো ইশারা এক হি রাস্তা
২২. আল্লাহ্ মেঘ দে পানি পালকো কি ছাওমে
২৩. আরে খা কার জেহের ক্যাপ্টেন শেরু
২৪. আরে প্যায়সে কা খেল বিবি ও বিবি
২৫. আওয়াজ দি আশিক এইতবার
২৬. অ্যায় চান্দ জারা ছুপ যা লাট সাহাব
২৭. বাতোমে না টালো জি কাঁচ কি দিওয়ার
২৮. বাবু ঘাবরাতি হ্যায় রাহগীর
২৯. বাঁচকে রেহনা পুকার
৩০. বাচপান কে দিন সুজাতা
৩১. সি-এ-টি ক্যাট মানে দিল্লি কা ঠগ
৩২. ছোড় দো আঁচল পেয়িং গেস্ট
৩৩. চুরালিয়া হ্যায় তুমনে ইয়াদো কি বারাত
৩৪. দে দে পেয়ার দে শারাবী
৩৫. দিল আজ মেরা রঙ্গিলা
৩৬. দিল চিজ কেয়া হ্যায় উমরাও জান
৩৭. দিয়া জ্বালে চমকে তারে রঙ্গিলা
৩৮. দূরিয়া নজদিকিয়া বান দুনিয়া
৩৯. দম মারো দম হরে রামা হরে কৃষ্ণা
৪০. দুপাট্টা মেরা মলমলকা আদালত
৪১. এক আঁখ মারু তো তোফা
৪২. এক পরদেসি মেরে ফাগুন
৪৩. গায়ো মেরে মন আপনে পরায়ে
৪৪. গুস্তাখ নজর চেহেরেসে জালি নোট
৪৫. হাল ক্যায়সা হ্যায় জনাবকা চলতি কা নাম গাড়ি
৪৬. হায় বিছুয়া ডাস গায়ো ঝিল কে উস পার
৪৭. হায় রাতিয়া মোরে কাল হামারা হ্যায়
৪৮. হ্যায় আগার দুশমন হাম কিসিসে কম নেহি
৪৯. হ্যায় কিসমতসে ইয়ে খুন কি কিমত
৫০. হায়রে হায় তেরা ঘুঙ্গটা ঢঙ্গি
৫১. হামভি আকেলে তুমভি সালাম মেমসাব
৫২. হাম বুলাতে হি র‌্যাহে দেখ কবিরা রোয়্যা
৫৩.হাম যব এক সাথ হ্যায় বুলান্দি
৫৪. হাম খুব জানতে হ্যায় ফিল্ম হি ফিল্ম
৫৫. হামসফর সাথ আপনা আখরি দাও
৫৬. হামে কোয়ি গম হ্যায় ভাগম ভাগ
৫৭. হামকো তো পেয়ার পেয়ারমে সওদা নেহি
৫৮. হামসে না পুছো চায়না টাউন
৫৯. হাসনা গানা মওজ মানানা চাচা চৌধরী
৬০. হে কৃষ্ণ করুণাসিন্ধু মুকাদ্দার কা ফ্যায়সলা
৬১. হো বালে বালে সাজিশ
৬২. হো গ্যায়া তেরি মজনু হুসন্ কা চোর
৬৩. হো সাকে তো দিলকে আলাদিন অ্যান্ড দ্য ওয়ান্ডারফুল ল্যাম্প
৬৪. হোঁঠ গুলাবি গাল কাটোরে ঘরসন্সার
৬৫. হাম ইন্তেজার কারেঙ্গে বহু বেগম
৬৬. হাম তো লুট গ্যায়ে দো দিলো কি দাস্তা
৬৭. হাম তুম রাহে যো এক এক খেল কিসমত কা
৬৮. হুসন্ কে লাখো রং জনি মেরা নাম
৬৯. ইন্তাহা হো গ্যায়ী ইন্তেজার শারাবি
৭০. ইস রং ভারি মেহফিল চালু মেরা নাম
৭১. ইশক মেরা বন্দেগী হ্যায় ইয়ে ওয়াদা রাহা
৭২. ইতনি বড়ী মেহফিল দিল আপনা অর প্রিত পরায়া
৭৩. যায়িয়ে আপ কাহা মেরা সনম
৭৪. জানে মেরা দিল কিউ কার থিফ
৭৫. যানেওয়ালে পিয়া তুনে ভগওয়ান পরশুরাম
৭৬. জানু মেরি জান শান
৭৭. যব দো দিল হো বেচ্যায়েন আকলমন্দ
৭৮. যব লিয়া হাত মে হাত বচন
৭৯. যব সে লাগি তোসে নজরিয়া শিকার
৮০. যব সে তুমে দেখা হ্যায় ঘরানা
৮১. যব শামা জ্বালে নয়ী মা
৮২. যবতক দুনিয়া ইয়ে দিল কিসকো দু
৮৩. যবসে তুমকো দেখা কালিয়া
৮৪. জাদুগর জাদুগর জাদুগর
৮৫. জ্বলতা হ্যায় জিয়া মেরা জখমি
৮৬. জওয়ানি জানেমন নামাক হালাল
৮৭. জীবন হ্যায় এক স্বপ্না হানিমুন
৮৮. ঝোপড়ি মে চারপায়ী মাওয়ালি
৮৯. ক্যায়সে কাহু শরম গায়ো হামারা শেহের তুমহারা
৯০. কমবখত ইশক পেয়ার তুনে কেয়া কিয়া
৯১. খা কার তুনে পান ট্যাক্সি ড্রাইভার
৯২ খুবসুরত সাথি ইতনি আকলমন্দ
৯৩. কিসমত কা সুন ফ্যায়সলা জহুরি
৯৪. কেয়া হো গ্যায়া মুঝে রিশতা কাগজ কা
৯৫. মার গ্যায়ি মুঝে তেরি জুদায়ি
৯৬. মাঝি রে মাঝি দিল পড়োসি হ্যায়
৯৭. মাস্ত পবন মাস্ত গগন লাইট হাউস
৯৮. মিটি মিটি আঁখিয়োসে মহাচোর
৯৯. মেরা চ্যায়েন খোয়া জরু কা গুলাম
১০০. মেরে ভাইয়া মেরে কাজল
১০১. মেরে চান্দ কো চান্দ প্রেম তপস্যা
১০২. মেরে স্বপ্নোমে আয়ি ডাল মে কালা
১০৩. মেরে ইয়ার দিলদার নফরত
১০৪. মোরে ন্যায়নো মে নন্দলালা
১০৫. মুকাবলা হামসে না কারো প্রিন্স
১০৬. মওসম ভিগা ভিগা গেহরা জখম
১০৭. ও হাসিনা জুলফোওয়ালি তিসরি মঞ্জিল
১০৮. ও লেকে প্যাহলা প্যাহলা সিআইডি
১০৯. ও মেরে সোনা রে সোনা তিসরি মঞ্জিল
১১০. পল দো পল কা দ্য বার্নিং ট্রেন
১১১. পার্দে মে রেহনে দো শিকার
১১২. পিয়া তু আব তো আ যা ক্যারাভান
১১৩. রং দে তক্ষক
১১৪. সব কুছ মিলা তু না আরোপ
১১৫. সুনিয়ে ক্যাহিয়ে বাতো বাতো মে
১১৬. ইয়ে ল্যাড়কা হ্যায় আল্লাহ্ ইয়াদো কি বারাত
১১৭. ম্যায় চালি ম্যায় চালি পড়োসন
১১৮. ইয়ায়িরে ইয়ায়িরে রঙ্গিলা
১১৯. পেয়ার কারনেওয়ালে শান
১২০. ঝুমকা গিরা রে মেরা সায়া
১২১. থোড়াসা পাগলা অওর পেয়ার হো গ্যায়া
১২২. আগে ভি জানে না তু ওয়াক্ত
১২৩. কালিঘাটা ছায়া মোরা সুজাতা
১২৪. নিগাহে মিলানে কো দিল হি তো হ্যায়
১২৫. রাত আকেলি হ্যায় জুয়েল থিফ
১২৬. দম মারো দম হরে রামা হরে কৃষ্ণা
১২৭. কোয়ি শ্যাহরি বাবু লোফার
১২৮. ইয়ে ক্যায়া জাগা হ্যায় উমরাও জান
১২৯. গরিবোকি সুনো দশ লাখ
১৩০. হোনে লাগি হ্যায় রাত ন্যায়না
১৩১. চ্যায়েন সে হামকো কাভি প্রাণ যায়ে পর বচন না যায়ে
১৩২. তানহা তানহা ইয়াহাপে রঙ্গিলা


আশা ভোঁসলের কিছু বাংলা গান:

১.আর কত রাত একা
২.আকাশে সূর্য্য আছে যতদিন
৩.তারে ভোলানো গেল না
৪.যেখানেই থাক সুখে থাক
৫.আকাশে আজ রঙের খেলা
৬.কিনে দে রেশমি চূড়ি
৭.ছোট্ট একটা ভালোবাসা
৮. ভালোবাসা ছাড়া আর
৯.আমার দিন কাটে না
১০.ফুল কেন লাল হয়
১১.কাজল করে রাখবো তোমায়
১২.ঠাকুরঝী কেমন করে
১৩.আকাশের চাঁদ মাটির
১৪.বলতো কেমন করে
১৫.যদি কানে কানে কিছু
১৬.আমায় তুমি যে ভালোবেসেছো
১৭.আসবো আরেকদিন আজ যাই
১৮.চিরদিনই তুমি যে আমার
১৯.কথা দিলাম তুমি আমি
২০.পেলাম তোমায় এত কাছে
২১.মাধবী ফুটেছে ওই
২২.কথা দিয়ে এলেনা
২৩.না এখনি না
২৪.দারোগা ও দারোগা
২৫.যদি কানে কানে কিছু
২৬. কোন সে আলোর স্বপ্ন
২৭. আমি ফুলদানিতে
২৮.রাত এখনো অনেক বাকি
২৯.তুমি আমার নয়ন গো
৩০.জাফরানি রং আকাশে
৩১.কে যে আমায় ঘুম
৩২. তোমারই চলার পথে
৩৩. ডেকে ডেকে চলে
৩৪. বেশ করেছি প্রেম করেছি
৩৫.খুব চেনা চেনা
৩৬.বাঁশী শুনে কি
৩৭. কোথা কোথা খুঁজেছি
৩৯.ফিরে এলাম
৪০.না ডেকোনা
৪১.রিমিঝিমি শ্রাবন
৪২.কী জাদু তোমার চোখে
৪৩.চাইনা আমার রেশমী
৪৪.ভেবেছি ভুলে যাবো
৪৫.তুমি কত যে দূরে
৪৬. চোখে নামে বৃষ্টি
৪৭.মাছের কাঁটা খোপার
৪৮.একটা দেশলাই কাঠি
৪৯.তুমি থাকবে গো
৫০.বন্ধ মনের দুয়ার দিয়েছি
৫১.আলো আর আলো দিয়ে
৫২.কৃষ্ণ বিহারী
৫৩.ঝরে ঝরে ঝরে
৫৪.এ আমার অগ্নি পরীক্ষা
৫৫.যাবার বেলায়
৫৬.কেন যেন আবার
৫৭.এমন মধুর সন্ধ্যায়
৫৮.আঙ্গুরে আঙ্গুরে চোখ
৫৯.নাচ আছে গান আছে
৬০. তোমরা পয়সা দিয়ে
৬১.গুন গুন কুঞ্জে আমার
৬২.এ রাত একটুখানি
৬৩.এই মনটাই ছোট্ট
৬৪.মনের মানুষ খুঁজতে
৬৫. প্রেম কথাটাই ছোট্ট
৬৬.ফুল ফুটে ঝরে যায়
৬৭.এ মন আমার হারিয়ে
৬৮.নেই সেই পূর্ণিমা
৬৯.আমার স্বপ্ন তুমি
৭০.আধো আলো ছায়াতে
৭১.স্বপনের মল্লিকা আজ
৭২. তোমার আমার জীবন
৭৩. আজ হৃদয়ে ভালোবেসে
৭৪.আরো কাছাকাছি
৭৫. বলো বলো তুমি মোরে
৭৬. তুমি আমার নয়ন
৭৭.জানা অজানা পথে
৭৮.বাজে ঢোল তাকধিনা
৭৯.মনটা আমার হারিয়ে
৮০. দেয়া নেয়া মন তোমার
৮১.এমন করে ধরছো কেন
৮২. চিরদিনই তোমাকে সঙ্গী
৮৩. ফুলে গন্ধ নেই
৮৪.নয়না বল তুমি
৮৫. সন্ধ্যা বেলায় তুমি
৮৬.পোড়া বাঁশী শুনলে
৮৭.আজ দোলে মন কার
৮৮.আমি খাতার পাতায়
৮৯.আমায় তুমি যে
৯০.মহুয়ায় জমেছে আজ
৯১. ভালোবেসে ডেকে দেখোনা
৯২. চোখে চোখে কথা
৯৩.লক্ষীটি দোহাই তোমার
৯৪. কেন সর্বনাশের নেশা
৯৫. রাত যে মধুমতি
৯৬. আজ দুজনে
৯৭. জ্বলে যায় জ্বলে
৯৮. না ডেকোনা ডেকোনা
৯৯. আরো দূরে চল যাই
১০০. তোমার আমার জীবন
১০১. লাল নীল বেগুনী
১০২. আমার মনেরই অঙ্গনে
১০৩.কথা হয়েছিল তবুও
১০৪. তোলো ছিন্ন বীনা
১০৫. চোখের জানালা দিয়ে
১০৬. বাবার কথাতে গিয়ে
১০৭. রঙধনু রং দিয়ে
১০৮. উঠ ছেড়ি তোর
১০৯. বউ কথা কও বলে
১১০. হায় গো আমার মন
১১১. গুনগুন ভোমরা
১১২. যে গান তোমার আমি
১১৩. নাচ ময়ূরী নাচরে
১১৪. লুকিয়ে লুকিয়ে কতদিন
১১৫.একই সাথে হাত ধরে
১১৬.একলা দুজনে
১১৭. হৃদয়ে হৃদয়ে রেখে
১১৮.কথা কিছু কিছু
১১৯.বেদনার বালুচরে
১২০.ভালোবাসি ভালোবাসি
১২১.আমার ইচ্ছে করছে
১২২. মনটা আমার
১২৩. দারুন ভালো লাগে
১২৪.দেবনা তোমায় চলে
১২৫.ভালোবাসার দোষটা
১২৬. সইলনা সইলনা
১২৭.প্রজাপতি
১২৮.তুমি আছো আমি আছি
১২৯.এইতো প্রথম মুক্তা
১৩০.কথার কথা হয়তো

রবীন্দ্র সঙ্গীত

১. জগতে আনন্দযজ্ঞে
২. তোমারি ঝর্ণাতলায়
৩.আমার বেলা যে যায়
৪. চক্ষে আমার তৃষ্ণা
৫. এসো শ্যামল সুন্দর
৬.বড় আশা করে
৭.সহে না যাতনা
৮.তুমি কোন কাণনের ফুল
৯.স্বপ্নে আমার মনে হলো
১০.আমার মন মানে না
১১. কুসুমে কুসুমে চরণ
১২. ডেকোনা আমারে
১৩.এবার উজাড় করে
১৪. মেঘের কোলে রোদ
১৫.আমি পথ ভোলা এক

আর্টস-এ প্রকাশিত লেখকের অন্য লেখা
গানের ‘কত্তা’ শচীন দেব বর্মন
লা জওয়াব রফি সাহাব!
নীরবতার শিল্পীর সঙ্গে কিছুক্ষণ: পার্থ প্রতীম মজুমদার-এর সাক্ষাৎকার
স্বাধীনতার সাতারু অরুণ নন্দীর সঙ্গে

—–

লেখকের আর্টস প্রোফাইল: আশীষ চক্রবর্ত্তী
ইমেইল: ashishcb95@gmail.com


ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

free counters

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (11) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Fahmida — নভেম্বর ১১, ২০১০ @ ১১:১৮ পূর্বাহ্ন

      মনে হলো লেখকের সাথে অনেকক্ষণ গল্প হলো!! লেখার স্টাইলটা সেরকমই ছিল। এতা সব তথ্য অার ভার হয়ে চেপে বসেনি তাই!! আরো লেখা চাই

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাহিন, কুয়েত — নভেম্বর ১১, ২০১০ @ ১২:০৭ অপরাহ্ন

      অশীষ দা,
      অসাধারণ একটি তথ‍্যবহুল ও সমৃদ্ধ লেখা লিখেছেন! আশা ও লতা আমারও টপ-ফেভারিটদের অন্যতম। তাই খুব ভালো লাগলো।
      আবারো ধন‍্যবাদ!
      মাহিন, কুয়েত।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন shamima nasrin lucky — নভেম্বর ১১, ২০১০ @ ১০:১৭ অপরাহ্ন

      আশ ভোঁসলে সব গানই আমার খুব প্রিয়। বিশেষ করে ছোড় দো আঁচল, চুরালিয়া হ্যায় তুমনে, ও মেরে সোনারে সোনারে, ঝুমকা গিরা রে এসব গান আমার মন ভালো করে দেয়। ইয়াদো কি বারাত সিনেমাটি আমি দেখি শুধু গানগুলি শোনার জন্য। যদিও আশাজীর জীবনে সম্পর্কে তেমন কিছুই আমি জানতাম না। এই লেখাটি পড়ে কিছুটা ধারণা করতে পারছি। এজন্য লেখক কে ধন্যবাদ। আর লতা এবং আশা দু’ বোনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আমার জানায় কিছু ভুল ছিল। লেখাটি পড়ে সে ভুল ভেঙ্গে গেছে।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Sayeed Nasim — নভেম্বর ১৪, ২০১০ @ ৪:১৮ অপরাহ্ন

      অসাধারণ গতিময় ভাষায় তথ্য সমৃদ্ধ রচনা যা প্রসংশার দাবিদার । তথ্য সমূহের সূত্র উল্লেখ করলে আরো ভালো হতো।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সৈয়দ আলি — নভেম্বর ২২, ২০১০ @ ৫:৫৬ পূর্বাহ্ন

      একটি অসাধারণ রচনাই শুধু নয়, অত্যন্ত পরিশ্রমী রচনাও বটে। আমার গভীর শ্রদ্ধা জানাই, লেখক এবং আশা ভোঁসলে উভয়কেই।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Shahin — নভেম্বর ২৪, ২০১০ @ ৬:৫০ অপরাহ্ন

      আশা এবং লতা আমার খুব প্রিয়।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পিন্টু সেন — december ১৫, ২০১০ @ ১০:৫৬ অপরাহ্ন

      আরো লেখা চাই।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পিন্টু সেন — december ১৬, ২০১০ @ ১২:২৫ পূর্বাহ্ন

      আশাঁজীর পরিবারের বাকী বোনদের ও ভাই এর এখন কি অবস্থা ………
      আর, খুব ভাল লাগল জিনিসটা জেনে………..

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Suranjit Mandal — অক্টোবর ২৩, ২০১১ @ ২:০৫ পূর্বাহ্ন

      চমৎকার। অসম্ভব রকম ভালো লাগলো। অভিমানী লতাজি সম্পর্কে আগেই শুনেছিলাম। অভিমান, জিদ সে যাই হোক তিনি সতিক্যার ত্যাগী একজন মানুষ এটাতে সন্দেহ নেই।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মোঃ সালাউদ্দিন বাংলাদেশ — এপ্রিল ১৩, ২০১৩ @ ২:৪৭ অপরাহ্ন

      আশাজির গান মানেই রোমান্স আর উষ্ণতা , মনকে ঝড়ের গতির মত বইয়ে দেয় । এক কথায় পাগল করে ।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com