লেখক সংবাদ

প্রমা সঞ্চিতা অত্রি | ১১ জুলাই ২০১০ ৯:০৭ অপরাহ্ন


karuzzaman-jahangir.jpgchanchal-ashraf.jpg
হায়াৎ মামুদকামরুজ্জামান জাহাঙ্গীরচঞ্চল আশরাফ

হায়াৎ মামুদ
hayat-mahmud.jpg
‘ফ্রেম ইন ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ’-এর অনুরোধে শিশু কিশোর উপযোগী বাংলা অভিধান রচনায় ব্যস্ত রয়েছেন হায়াৎ মামুদ। শিশু থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়নরত ছেলেমেয়েদের কথা মাথায় রেখে অভিধানটি তৈরি করছেন তিনি।

এ সম্পর্কে তিনি বললেন, “আজকাল বাংলাদেশের এডুকেশনাল সেক্টরে বেশ ভাল কিছু কাজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন এনজিও এ ব্যাপারে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফ্রেম ইন ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ (FIVDB) এরকম একটা এনজিও যারা গ্রামগঞ্জের পশ্চাৎপদ ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে কাজ করে। ওখানে আমার পরিচিত এক বন্ধু আছেন। তার অনুরোধেই আমি শিশু-কিশোরদের উপযোগী একটি বাংলা শব্দকোষ তৈরি করছি। আমাকে বলা হয়েছে মোটামুটি ক্লাস এইটের ছাত্রদের উপযোগী করে একটি অভিধান তৈরি করতে। আমি সে বিষয়টাকে আমায় রেখেই কাজ করছি।”
—————————————————————-
“ভাষা তো হেলাফেলা করার জিনিস নয়।…আজকাল রেডিও চ্যানেলগুলোতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যে ভাষা ব্যবহার সেটা তো রীতিমতো ভয়াবহ। আমি জানি না তারা কী করে এত বাজে ভাবে বাংলা উচ্চারণ করে। বাংলা ভাষাকে যারা প্রতিনিয়ত বিকৃত করে চলেছে আমি তো মনে করি তারাই আসলে সবচেয়ে বড় টেররিস্ট।”
—————————————————————-
কবে নাগাদ অভিধানটি বের হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আসলে অভিধান তৈরি একটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাছাড়া পুরো অভিধানটি আমি একাই তৈরি করছি এবং সম্পাদনা ও পরিমার্জনার কাজ করছি। সেজন্য সময় একটু বেশি লাগছে। তারপরও চেষ্টা করছি যতটা সম্ভব দ্রুত কাজ করতে। কারণ এই অভিধান তৈরির সাথে ওদের আরও কিছু বিষয় যুক্ত আছে। অভিধানটি ওরা একেবারে প্রত্যন্ত পর্যায়ে পৌঁছে দিতে চায়। তাই আমিও চেষ্টা করছি যতটা সম্ভব দ্রুত কাজ করতে। যেহেতু এটা শিশু-কিশোরদের উপযোগী তাই এর কলেবর হয়ত খুব একটা বড় হবে না। এ বছরের শেষের দিকে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে পারব বলে আশা করছি।

এ বছর বইমেলাতে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর ‘রুশ উপন্যাস সঞ্চয়ণ’ ১ম খণ্ড। বিভিন্ন লেখকদের নানা সময়ে প্রকাশিত ও অনূদিত রাশিয়ান গল্পগুলোকে সংগ্রহ করে বইয়ের আকার দিয়েছেন তিনি। এটি মূলত তাঁর সংকলিত ও সম্পাদিত বই। বইটি সম্পর্কে তিনি বলেন, “এক সময় রাশিয়ার ‘মস্কো প্রকাশনী’ থেকে ‘বিদেশী ভাষার বই’ এই নামে বেশ কিছু বই অনুবাদ করা হয়েছিল। তার মধ্যে অধিকাংশই ছিল রাশিয়ান সাহিত্য অনুবাদ। সেসময় বেশ কিছু ভাল বইয়ের বাংলা অনুবাদ বেরিয়েছিল। এছাড়া ‘প্রগতি প্রকাশনী’ থেকেও এক সময় অনেক সমৃদ্ধ কিছু অনুবাদ গ্রন্থ বের হত। সেসব কিছু বই এখনো আমার সংগ্রহে আছে। বাকি বইগুলোও আমি নানাভাবে সংগ্রহ করেছি। সেখান থেকেই নির্বাচিত কিছু লেখা নিয়ে বের করেছি ‘রুশ উপন্যাস সঞ্চয়ন’ ১ম খণ্ড।

সামনে ‘রুশ উপন্যাস সঞ্চয়ন’-এর ২য় খণ্ড বের করার ইচ্ছা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শুনেছি বইটি পাঠক মহলে বেশ সমাদৃত হয়েছে। প্রকাশকেরাও এ ব্যাপারে বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছেন। হয়তো সামনের বইমেলাতে অর্থাৎ বইমেলা ২০১১-এ এটি বের হতে পারে।”

সামনে আর কী কী বই আসবে জানতে চাই তাঁর কাছে। তিনি বললেন, “আগামী বছর আমার বেশ কিছু বই বের হতে পারে। প্রথমত ‘রুশ উপন্যাস সঞ্চয়ন’ ২য় খণ্ডের ব্যাপারে প্রকাশকদের সাথে কথা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সামনের বইমেলাতে এটি প্রকাশিত হবে। এছাড়া রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আমার লেখা যত প্রবন্ধ আছে সবগুলো মিলিয়ে একটি প্রবন্ধ সংকলন বের করার কথা ভাবছি। আবার বাংলা একাডেমী থেকে আমাকে বলা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫০ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তাঁর একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তৃত জীবনী লিখতে। সেটার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছি। সব মিলিয়ে বেশ ব্যস্ত আছি।”

লেখালেখির বাইরে আর কী করছেন জানতে চাই।

“লেখালেখির বাইরে কত কিছুই তো করা হয়। যেমন, এই মুহূর্তে আমি নারায়ণগঞ্জে আছে। রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অতিথি করে নিয়ে এসেছে আমাকে। এরকম বিভিন্ন জায়গায় যাই মাঝে মাঝে। তাছাড়া আমি আসলে অসম্ভব আড্ডাবাজ একজন মানুষ। লেখালেখির বাইরে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আড্ডা দিয়েই সময় কাটাই। সত্যি কথা বলতে কী আমি আসলে আড্ডাবাজির ফাঁকে-ফাঁকেই লেখালেখি করি!” হাসতে হাসতে জানালেন তিনি। তবে আড্ডা দেয়া ছাড়াও অবসরে গান শোনা ও বই পড়া তাঁর প্রিয় কাজ। বিশেষ করে ভারতীয় রাগের প্রতি তাঁর রয়েছে আলাদা দুর্বলতা। এ সম্পর্কে তিনি বললেন, “গান আমার কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ বিনোদন। আমি আসলে ক্লাসিক্যাল সঙ্গীতের খুব ভক্ত, বিশেষ করে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত। যন্ত্রসঙ্গীত ও কণ্ঠসঙ্গীত দু’টাই আমার খুব পছন্দের। তবে পশ্চিমা সঙ্গীতের ক্ষেত্রে যন্ত্রসঙ্গীতই বেশি ভালো লাগে। আর বই বলতে গেলে প্রায় সবরকমই পড়া হয়। দেশী-বিদেশী সব লেখকদের লেখাই পড়ি।”

গত কয়েকদিন যাবৎ তপন রায়চৌধুরীর ‘প্রবন্ধ সংগ্রহ’ বইটি পড়ছেন বলে জানালেন। ভারতের ‘আনন্দ প্রকাশনী’ থেকে প্রকাশিত এ বইটি। বইটি সম্পর্কে তিনি বললেন, “এটি মূলত তপন রায়চৌধুরীর সেরা প্রবন্ধগুলোর সংকলন। বইটি এক কথায় অসাধারণ। যারা বইটি পড়েন নি আমি তাদেরকে বলব তারা যেন অতি অবশ্যই বইটি সংগ্রহ করে পড়েন। তপন বাবু মূলত আমার বন্ধু মানুষ। আমরা দু’জনেই একটু পেটুক স্বভাবের! খেতে পছন্দ করি। তাই উনার সাথে আমার রান্না বিষয়ক আলোচনা জমে ভালো। উনার প্রবন্ধের বইতেও দেখছি উনি সুযোগ পেলেই রান্নার কথা লিখে দিয়েছেন! যেমন একটি লেখায় আছে যে মুঘল আমলে রাজসভায় নাকি রান্না বিষয়ে একটা আলাদা ডিপার্টমেন্ট ছিল। সেখানে নাকি বাজার, রান্না, পরিবেশন এগুলোর জন্য আলাদা আলাদা কমিটি ছিল। পাঁচ সের চালে পাঁচ সের ঘি দিয়ে রান্না করা হত মোগলাই পোলাও! এসব পড়ছি আর তপনবাবুর কথা খুব মনে পড়ছে। উনি এখন রয়েছেন দেশের বাইরে আমেরিকায়, অক্সফোর্ডে। অনেকদিন হল দেখা হয় না তাঁর সাথে।”

তরুণ লেখকদের লেখা নিয়ে আশাবাদী তিনি। তরুণদের মধ্যে অনেকেই অনেক ভাল কিছু করবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বললেন, “সবচেয়ে আশার কথা এই যে এখনকার ছেলেমেয়েরা অনেক বেশি লেখালেখির দিকে ঝুঁকছে। আমাদের সময় এতটা ছিল না। এই যে এত এত তরুণেরা এত এত লিখছে এদের মাঝে অন্তত ১০% তো দাঁড়াবে। সেটা হলেই তো অনেক বড় ব্যাপার। তাছাড়া এখনকার ছেলেমেয়েরা যে লেখালেখির দিকে ঝুঁকছে অর্থাৎ বাংলা ভাষার দিকে ঝুঁকছে সেটাই তো অনেক বড় কথা। তবে সবাই যে খুব ভাল লিখছে তা নয়। আবার ভাষার মান যে সবার খুব ভাল তাও নয়। তবুও তো লিখছে, চেষ্টা করছে, সেটাই সবচেয়ে বড় কথা।”

তবে বিকৃত বাংলা উচ্চারণ আর ভুল বানান এ দুটো বিষয়ে একটু বেশিই স্পর্শকাতর তিনি। লেখার মাঝে বানান ভুল দেখলে খুবই বিরক্ত হন বলে জানালেন। তিনি বললেন, “বইয়ের মাঝে বানান ভুল দেখলে খুবই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠি। এটা আমার কাছে রীতিমত ভয়াবহ একটা ব্যাপার মনে হয়। তবে আমার মতে বানানের ব্যাপারে প্রকাশকদের দায়ভারটাই বেশি। প্রকাশকদের উচিৎ এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া। আর লেখকদেরও উচিৎ এ বিষয়ে আরেকটু সচেতন হওয়া।”

“ভাষা তো হেলাফেলা করার জিনিস নয়। একটা ভাষা একটা জাতির সবচেয়ে বড় পরিচায়ক। অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে যে ভাষা তাকে আমরা অবমাননা করি কী করে? একজন বিবেকবান ও শুভ বোধসম্পন্ন মানুষের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয় মাতৃভাষাকে বিকৃত ভাবে লেখা কিংবা ভুলভাবে উচ্চারণ করা। আজকাল রেডিও চ্যানেলগুলোতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যে ভাষা ব্যবহার সেটা তো রীতিমতো ভয়াবহ। আমি জানি না তারা কী করে এত বাজে ভাবে বাংলা উচ্চারণ করে। বাংলা ভাষাকে যারা প্রতিনিয়ত বিকৃত করে চলেছে আমি তো মনে করি তারাই আসলে সবচেয়ে বড় টেররিস্ট।”

কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর
karuzzaman-jahangir.jpg
রাজশাহী থেকে প্রকাশিত লিটল ম্যাগাজিন ‘শ্বাশতিকী’ র জন্য একটি প্রবন্ধ লিখছেন কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সাহিত্যে অনুবাদের কী ভূমিকা, অনুবাদের কী প্রয়োজনীয়তা কিংবা আদৌ কোনো প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কিনা এসব বিষয়ে নিয়ে একটি প্রবন্ধ লিখছি। রাজশাহী থেকে ‘শ্বাশতিকী’ নামে একটি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়। সামনে ওদের অনুবাদ সংখ্যার জন্য একটা লেখা দিতে অনুরোধ করেছে আমাকে। সেজন্যই এ প্রবন্ধটা লিখছি।”

প্রবন্ধটি লেখার জন্য প্রতি মুহূর্তেই নানা রকম বইপত্র পড়তে হচ্ছে তাকে। অনুবাদের উপর বিভিন্ন লেখকের যত রকম লেখা আছে প্রায় সবই পড়তে চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে যারা অনুবাদের উপর কাজ করছেন যেমন মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, খালেদ হুসাইন এদের লেখা বইগুলো এ মুহূর্তে বেশি বেশি পড়ছেন বলে জানালেন তিনি।
—————————————————————-
“গল্পের ক্ষেত্রে কাজ হচ্ছে কম।… এখনকার সাহিত্যে সমাজ পরিবর্তনের কথা কিংবা সামাজিক অবক্ষয় এ বিষয়গুলো ঠিকভাবে উঠে আসছে না। এক্সপেরিমেন্টের নামে বিভিন্নজন বিভিন্ন রকম লিখছে কিন্তু গোটা সমাজকে নাড়া দেবার লেখা তৈরি হচ্ছে না।”
—————————————————————-
এ মুহূর্তে কোন বইগুলো পড়ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি এখন একই সঙ্গে প্রায় চার-পাঁচটা বই পড়ছি। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য হল খালেদ হুসাইনের উপন্যাস ‘দি কাইট রানার’। এটি উনার মৌলিক উপন্যাস। উপন্যাসে অনুবাদক শওকত হোসেন অনুবাদ বিষয়ে তাঁর নিজস্ব কিছু মতামত ব্যক্ত করেছেন এখানে অনুবাদ সম্পর্কিত প্রাথমিক কিছু ব্যাপারে তিনি আলোকপাত করেছেন। এছাড়া পড়ছি বুদ্ধদেব বসুর ‘বোদলেয়ারের কবিতা ও এর ভূমিকা।’ এটি একটি অনুবাদগ্রন্থ। কবি বোদলেয়ারের কিছু কবিতা অনুবাদ করেছেন তিনি। এই বইটা পড়ে আমি তাঁর অনুবাদের ধরনটা পর্যবেক্ষণ করতে চেষ্টা করছি। এছাড়া মানবেন্দ্রের ল্যাটিন আমেরিকান গল্পের যে অনুবাদগুলো আছে সেগুলোও সংগ্রহ করে পড়ছি। এছাড়াও পড়ছি ‘বাংলাভাষায় সংস্কৃত চর্চা’ ও জিএইচ হাবীব অনূদিত ‘তন্দ্রা ইঁদুরের পাহাড়’ নামে একটি। এটিও একটি অনুবাদ সাহিত্য। মোট কথা অনুবাদ বিষয়ক যতরকম লেখা হাতের কাছে পাচ্ছি সবই পড়ছি।”

বইমেলা ২০০৭-এ ইত্যাদি প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর গল্পগ্রন্থ ‘স্বপ্নবাজি’। বইটি সম্পর্কে তিনি বলেন, “এটি আমার ২য় গল্পগ্রন্থ। বইটিতে প্রায় ১২টি গল্প আছে। বিভিন্ন সময়ে আমার লেখা ছোটগল্পগুলো একত্রিত করে বই আকারে বের করেছি। গল্পগুলো একেকটা একেকরকম। মানুষের ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি, রাজনৈতিক অবস্থা এই বিষয়গুলোকেই আমি আমার গল্পে স্থান দিয়েছি। এছাড়া এই বইয়ে আমার স্বপ্ন বিষয়ক কিছু গল্প আছে। স্বপ্ন বিষয়ক চিন্তাভাবনা, ইন্টারপ্রিটেশন, বিভিন্ন স্বপ্নের ব্যাখ্যা কিংবা স্বপ্নের মনোজাগতিক বিশ্লেষণ এই বিষয়গুলো গল্পের মাঝে তুলে ধরেছি। সেজন্যই বইয়ের নাম রেখেছি ‘স্বপ্নবাজি’।”

তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস পদ্মাপাড়ের দ্রৌপদী প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৬ সালে মাওলা ব্রাদার্স থেকে। পদ্মাপাড়ের দ্রৌপদী-এর আগের বছর ‘জাগৃতি’ প্রকাশনী থেকে প্রকাশ পায় মৃতের কিংবা রক্তের জগতে আপনাকে স্বাগতম নামের গল্পগ্রন্থটি।

আগামী বছর একুশে বইমেলাতে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তাঁর তৃতীয় গল্পগ্রন্থ। ‘শুদ্ধস্বর’ প্রকাশনী থেকে বইটি প্রকাশিত হতে পারে বলে জানালেন তিনি। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, “সামনের বইমেলাতে আমার আরেকটি গল্পের বই বের হতে যাচ্ছে। বইটির নাম নিয়ে একটু সংশয়ে আছি। কী নাম দেয়া যায় ভাবছি। আমি যে নাম ঠিক করেছি সেটা হল ‘রক্তবীজ কিংবা ম্লান-জোছনার গল্প’। এই নামেই প্রকাশকের কাছে পা-ুলিপি পাঠিয়েছি। কিন্তু পরবর্তীতে নামটা বদলেও দিতে পারি। হয়তো বইয়ের নাম ‘কতিপয় নিম্নবর্গীয় গল্প’ কিংবা ‘স্বপ্নের জগতে স্বাগতম’ এরকমও হতে পারে। বইটিতে মোট ১৫টির মত গল্প থাকবে। ২০০১-২০১০ সালের মধ্যে আমার লেখা গল্পগুলো নিয়ে বইটি সাজিয়েছি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সামনের বছরই বইটি বের করতে পারব আশা করি।”

তিনি বলেন, “আসলে একেকটি গল্পের থিম একেক রকম। দেশের বর্তমান অবস্থা, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, সংখ্যালঘু নির্যাতন মোটামুটি এ বিষয়গুলোই ঘুরেফিরে এসেছে। এ বইতেও স্বপ্ন বিষয়ক কিছু গল্প আছে। স্বপ্নের ধরন, ব্যাখ্যা ইত্যাদি বিষয়ে কিছু লেখা আছে। কয়েকটি লেখায় কিছু উদ্দীপনামূলক চিন্তাভাবনার কথাও আছে। তবে একেকটা গল্প একেক রকম। প্রতিটি গল্পের উপস্থাপনা, বিষয় এবং উপাদানের ক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র্য রয়েছে।”

লেখালেখির বাইরে কী করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি তো পেশায় সরকারী ডাক্তার। লেখালেখি করি আর এর বাইরে চাকরি করি। কাজের চাপে বেশ হিমশিম খাচ্ছি। একই সাথে দুটো কাজ সামলাতে গেলে যা হয়।”

পেশাগত দায়িত্ব আর নিজস্ব লেখালেখির বাইরে ‘কথা’ নামে একটি লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেন তিনি। পত্রিকাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কথাসাহিত্যে যারা নতুন কিছু করতে চায় বা নতুন নতুন ধারা সৃষ্টি করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য এ পত্রিকাটি। বর্তমান কথাসাহিত্যে যে কাজ হচ্ছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। বিভিন্ন সাহিত্য সাময়িকী বা সাহিত্য পত্রিকায় কথাসাহিত্যিকেরা যা লিখছেন তাতে আমরা পুরোপুরি তৃপ্ত নই। আমরা চাই আমাদের কথাসাহিত্যে আরও নতুন কিছু সৃষ্টি হোক, আরও নতুন নতুন ধারা সূচিত হোক। সেই লক্ষ্যেই ‘কথা’ পত্রিকাটির সৃষ্টি। অন্যান্য লিটল ম্যাগাজিনের মত কোনো গোষ্ঠীগত চর্চায় আমরা বিশ্বাসী নই। আমাদের এখানে আমরা সবার লেখাই ছাপি। কোনো নির্দিষ্ট দল বা কোনো বিশেষ ঘরানার লেখাই যে কেবল ছাপব তা নয়। মূলত কথাসাহিত্যে যাঁরা নতুন কিছু করতে আগ্রহী এবং যাঁদের মাঝে আমরা নতুন কিছু করার সেই স্পৃহা বা উদ্যোগ দেখি তাঁদের লেখাই আমরা প্রকাশ করি। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় যারা লিখছেন কিংবা অন্যান্য ছোট পত্রিকাতেও যারা লিখেছেন তাদের মাঝে যাদের লেখাতে আমরা নতুন কিছু করার চেষ্টা বা নতুন কিছু সৃষ্টির সেই ক্ষমতা দেখি তাদের কাছেই আমরা লেখা চাই। সেসব লেখাই ছাপি। আমরা সাহিত্যচর্চায় একটি প্রগতিশীল ধারার সূচনায় বিশ্বাসী।”

পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল কবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “২০০৩ সালের জানুয়ারিতে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর প্রায় প্রতিবছরই একটি করে সংখ্যা বের হয়েছে। শেষ সংখ্যাটি বের হয়েছে এ বছর মার্চে। এটি ছিল ‘কথা’র ষষ্ঠ সংখ্যা। ইচ্ছা ছিল ফেব্রুয়ারিতেই বের করব। কিন্তু বিভিন্ন কারণে একটু দেরি হয়ে গেল। সামনের সংখ্যার কাজ শুরু হয়ে গেছে। ইচ্ছা আছে বইমেলা ২০১১-এ আগামী সংখ্যাটা বের করব। সেজন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য থাকে প্রতি বইমেলাতেই একটি করে সংখ্যা বের করার। কিন্তু বিভিন্ন কারণে মাঝে মাঝে তা হয়ে ওঠে না। এবার যেমন একটু দেরি হয়ে গেছে। তবে সংখ্যা বের হওয়াটাই তো মূল কথা। তাই যে মাসেই বের হোক আমরা চেষ্টা করি অন্তত প্রতি বছর যেন একটা করে সংখ্যা বের করতে পারি।”

এ সময়ের সাহিত্যচর্চা সম্পর্কে তাঁর অভিমত জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সাহিত্য তো আসলে অনেক বিস্তৃত একটা ক্ষেত্র। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ সমালোচনা সবকিছুই তো সাহিত্য। আমি যেহেতু গল্প বেশি লিখি তাই গল্পের কথাই ভাল বলতে পারব। গল্পের ক্ষেত্রে একটা বিষয় আমি লক্ষ্য করে দেখেছি যে, বর্তমানে গল্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশ কম। মানুষ উপন্যাস বেশি পড়তে চায়। উপন্যাস নিয়ে লেখকদের মাঝে নানান রকম এক্সপেরিমেন্টাল চিন্তা-ভাবনা কাজ করছে কিন্তু সে তুলনায় গল্পের ক্ষেত্রে কাজ হচ্ছে কম। আর যেটুকু হচ্ছে তাতে আমি খুব একটা আশাবাদি হতে পারছি না। এখনকার সাহিত্যে সমাজ পরিবর্তনের কথা কিংবা সামাজিক অবক্ষয় এ বিষয়গুলো ঠিকভাবে উঠে আসছে না। এক্সপেরিমেন্টের নামে বিভিন্নজন বিভিন্ন রকম লিখছে কিন্তু গোটা সমাজকে নাড়া দেবার লেখা তৈরি হচ্ছে না। সামাজিক ও ব্যাক্তিগত সমস্যা, রাজনৈতিক অবস্থা এ বিষয়গুলো লেখার মাঝে সেভাবে উঠে আসছে না। একেবারেই যে আসছে না তা নয়, তবে আরও আসা দরকার বলে আমি মনে করি।”

লেখালেখি নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানতে চাই তাঁর কাছে। তিনি বলেন, “লেখালেখি নিয়ে পরিকল্পনা মানে তো লেখালেখি করা, লিখে যাওয়া। যতদিন সম্ভব লিখে যেতে চাই। লেখালেখি ছাড়া তো আর উপায় নাই। লেখা দরকার তাই লিখছি, এটাকে আমি একটা কাজ বলে মনে করি। লেখালেখিটা আমার অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে, আমার কাছে এটা একটা দায়িত্ব বলে মনে হয়। সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই আমি লিখে যাচ্ছি এবং আরও যেতে চাই।”

চঞ্চল আশরাফ
chanchal-ashraf.jpg
গত কয়েকদিন ধরে একই সাথে বেশ কিছু প্রবন্ধ ও একটি ছোট গল্পসহ আরও কিছু লেখা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন লেখক চঞ্চল আশরাফ। তিনি বলেন, অনেকগুলো লেখা একসাথে চালিয়ে যাওয়া আমার অভ্যাস। আমি কখনোই কোনো বিশেষ একটি লেখা নিয়ে থাকি না। আমি একই সাথে ছোটগল্প, প্রবন্ধ, সমালোচনা ইত্যাদি লিখতে থাকি। আমি দিনে তিন বার লিখতে বসি এবং তিন বার তিনটি বিষয় নিয়ে লিখতে বসি। হয়তো সকালে বসলাম একটি প্রবন্ধ নিয়ে তো রাতে বসলাম কোনো গল্প নিয়ে। আবার আমি মাঝরাতে যে লেখা লিখছি সকালে হয়তো সে লেখা নিয়ে নাও বসতে পারি। আসলে লেখালের্খির জন্যই আমি দিনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করি এবং প্রবন্ধ, সমালোচনা কিংবা গল্প যাই হোক না কেন প্রতিদিনই একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে লিখতে চেষ্টা করি। এজন্যই হয়ত একই সাথে একাধিক বিষয় নিয়ে লেখা হচ্ছে। একটা লেখা শেষ করে আরেকটা ধরব, এই প্রবণতাটা আমার মধ্যে কাজ করে না।”
—————————————————————-
“আসলে সাহিত্যচর্চায় এখন যা চলছে তাতে আমি আনন্দিত হওয়ার মত কিছু দেখছি না। কবি-সাহিত্যিকদের সংখ্যা আগের থেকে অনেক বেড়েছে কিন্তু সে তুলনায় লেখার মান তো বাড়ছে না। আমার পর্যবেক্ষণ হল দীর্ঘকাল ধরে বাংলা সাহিত্যে এমন লেখক খুবই কমই দেখা যাচ্ছে যাদের নিজস্ব একটা দৃষ্টিভঙ্গি আছে।”
—————————————————————-
এই মুহূর্তে সাহিত্যপত্রিকা ‘উলুখাগড়া’র জন্য একটি গল্প লিখছেন তিনি। গল্পের বিষয় সম্পর্কে তিনি বলেন, “অনেকেরই হয়তো মনে থাকবে বেশ কিছু দিন আগে ভূমিকম্প নিয়ে আমাদের নাগরিক জীবনে বেশ একটা ভীতির সঞ্চার হয়েছিল। অনেকেই বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। কেউ কেউ মানসিকভাবে বেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। ওই সময়টার প্রেক্ষাপটে আমি আমার গল্পটা সাজিয়েছি। ভূমিকম্পের পটভূমিতে আমি মানব সম্পর্কের কিছু বিষয়কে তুলে ধরেছি। মানবজীবনে মানুষে-মানুষে যে সম্পর্ক কিংবা দাম্পত্য, এ সম্পর্কগুলো কিন্তু নশ্বর নয়। সব সম্পর্কেই ধ্বস নামে, ধ্বংস আসে, বিবর্তন ঘটে। সেটা ভূমিকম্পের মতোই আচমকা এসে হানা দেয়। ভূমিকম্প যেমন অভবিতব্য নয় এর যেমন কোনো পূর্বাভাস হয় না তেমনি মানুষের সম্পর্কের যে বাস্তবতা তারও কোনো পূর্বাভাস হয় না। ভূমিকম্প ও মানুষের সম্পর্ক এই দু’টা বিষয়কে আমি একটা অ্যালিগরি বা রূপক হিসেবে উপস্থাপন করতে চেষ্টা করেছি।”

গল্পের কাজ মোটামুটি শেষ হলেও তা নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছেন না বলে তা আবার নতুন করে লিখছেন বলে জানালেন। তিনি বলেন, “গল্পটা নিয়ে আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। সেজন্য গল্পটা আমি আবার পড়ছি এবং আবার নতুন করে লিখছি। আমি আসলে গল্পটা রি-রাইট করছি বলা চলে। এখনও অনেক কাজ বাকি আছে। যেহেতু গল্পটা সামনে ছাপা হতে যাচ্ছে, তাই আগে থেকে এর নামটা বলতে চাচ্ছি না।”

এই মুহূর্তে একই সাথে অনেকগুলো প্রবন্ধ লিখছেন তিনি। নানা জায়গা থেকে প্রবন্ধ লেখার জন্য অনুরোধ আসায় প্রবন্ধ নিয়ে চাপের মধ্যে আছেন বলে জানালেন।

এই মুহূর্তে সাহিত্যপত্রিকা ‘নিসর্গ’র জন্য কবিতার ভাষা বিষয়ক একটি প্রবন্ধ লিখছেন তিনি। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, “বগুড়া থেকে ‘নিসর্গ’ নামে একটি সাহিত্যপত্রিকা বের হয়। ওখান থেকে আমাকে কবিতার ভাষা বিষয়ক একটি প্রবন্ধ লিখতে বলা হয়েছে। কবিতার ভাষা কেমন হতে পারে বা কেমন হওয়া উচিৎ কিংবা অতীতে কেমন হয়েছে এই বিষয়গুলো প্রবন্ধে উঠে আসবে। এছাড়া বাংলা কবিতায় ভাষার প্রয়োগ, বাংলা কবিতার অতীত-ভবিষ্যৎ-বর্তমান, বাংলা কবিতায় ভাষার বিবর্তন, গতিশীলতা, স্থবিরতা ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়েই লিখছি।”

এই মুহূর্তে ‘উপন্যাসের শিল্পতত্ত্ব’ নামে আরও একটি প্রবন্ধ লিখছেন তিনি। এই প্রবন্ধে তিনি মিখাইল বাখতিনের (Mikhail Mikhailovich Bakhtin, 1895-1975) আলোচিত উপন্যাসতত্ত্ব ‘Discourse in the Novel (1935)’-এর আলোকে বাংলা উপন্যাসের ধারা নিয়ে আলাপ করেছেন বিষয়ে আলোকপাত করছেন। এছাড়াও সাহিত্যপত্রিকা ‘নতুন ধারা’তে ধারাবাহিকভাবে একটি প্রবন্ধ লিখছেন তিনি। ‘বাংলাদেশের কবিতা’ শিরোনামের এই প্রবন্ধ সিরিজের পরবর্তী পর্বের লেখা নিয়েও বেশ ব্যস্ত আছেন বলে জানালেন।

এ বছর একুশে বইমেলাতে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর স্মৃতিমূলক গ্রন্থ ‘আমার হুমায়ুন আজাদ’। বইটি সম্পর্কে তিনি বললেন, “হূমায়ুন আজাদের সাথে আমার ব্যক্তিগত কিছু স্মৃতি ও কিছু কথা নিয়ে বইটি লিখেছি। যদিও এটি আমার ব্যাক্তিগত অনুভূতির আলোকে লেখা তবে এক অর্থে একে নৈর্ব্যক্তিকও বলা চলে। কারণ কখনো হয়ত তাঁর সাথে আমার কোনো বিষয় নিয়ে তর্ক হয়েছে, কখনো আলোচনা হয়েছে কখনো আবার বিচ্ছেদও ঘটেছে। সবকিছু মিলিয়ে তাঁর সাথে আমার যে স্মৃতি তাই নিয়েই এ বইটি।”

সামনের বইমেলাতে একটি প্রবন্ধ সংকলন বের করার কথা ভাবছেন বলে জানালেন। তিনি বললেন, “এই মুহূর্তে আমি প্রবন্ধ বাছাইয়ের কাজ করছি। ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আমার লেখা যত প্রবন্ধ আছে তার থেকে বাছাই করা প্রবন্ধগুলো নিয়ে একটি সংকলন বের করব। এখনো বইয়ের নাম নিয়ে ভাবা শুরু করিনি। প্রবন্ধ বাছাই নিয়েই বেশি ব্যস্ত আছি। কোন প্রবন্ধটা একটু কমাতে হবে বা কোনটা একটু বাড়াতে হবে কিংবা কোনটার একটু কারেকশন আছে বা কোনটা আবার নতুন করে লিখতে হবে এসব নিয়েই চিন্তাভাবনা করছি।”

তিনি বললেন, “লেখালেখির প্রয়োজনে সবসময় নানারকম বই পড়তে হয়। যখন যে কাজ করি তখন সেই বিষয়ের উপর বইগুলো বিশদভাবে পড়তে হয়। ভালো না লাগলেও পড়তে হয়। ফলে যেটা হয় মাঝে মাঝে মন বিদ্রোহ করে বসে! তখন পরাধীনতার এই শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে আমি অন্য বই পড়ি।” এই মুহূর্তে তপন রায়চৌধুরীর ‘বাঙালনামা’ ও বুদ্ধদেব বসুর ‘তিথিডোর’ বই দু’টি পড়ছেন তিনি। এছাড়াও দেবেশ রায়ের ‘আপাতত শান্তিকল্যাণ হয়ে আছে’ বইটি মাত্র পড়া শুরু করেছেন বলে জানালেন। ‘আপাতত শান্তিকল্যাণ হয়ে আছে’ বইটি পড়ার পেছনে একটি মজার কারণ আছে বলে জানালেন। বললেন, “দেবেশ রায়ের সাথে শিবাজী চট্টোপাধ্যায়ের একটি সাক্ষাৎকার পড়েছিলাম বেশ কিছু দিন আগে। সেখানে শিবাজী চট্টোপাধ্যায় দেবেশ রায়ের ‘তিস্তা পাড়ের বৃত্তান্ত’ বইটির খুব সুনাম করছিলেন। তখন প্রত্যুত্তোরে দেবেশ রায় বলেন যে তাঁর ‘তিস্তা পাড়ের বৃত্তান্ত’ বইটি নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। বইটিতে নাকি বেশ কিছু দুর্বলতা আছে যেটা অনেকেই ধরতে পারেনি। বইটিতে কী কী দুর্বলতা আছে সেটা জানতে হলে তাঁর ‘আপাতত শান্তিকল্যাণ হয়ে আছে’ বইটি পড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। অন্যান্য অনেকের মত আমিও ‘তিস্তা পাড়ের বৃত্তান্ত’ পড়েছি এবং মুগ্ধ হয়েছি কিন্তু দুর্বলতাগুলো ধরতে পারিনি। তাই তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী ‘আপাতত শান্তিকল্যাণ হয়ে আছে’ বইটি পড়ছি! ‘তিস্তা পাড়ের বৃত্তান্ত’-এর মত তাঁর এই বইটিও চমৎকার। পড়তে খুবই ভালো লাগছে। উপন্যাসটি মূলত বাংলাদেশের দিনাজপুর ও তিস্তা সন্নিহিত আসাম লাগোয়া অঞ্চলের বৈচিত্র্যপূর্ণ নৃ-গোষ্ঠী রাজবংশী সম্প্রদায়কে নিয়ে লেখা।”

লেখালেখির বাইরে এই মুহূর্তে আর কী করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “লেখালেখির বাইরে আমি আসলে লেখালেখিই করছি! কারণ লেখালেখি ছাড়া আর যা কিছু করছি তার কোনোটাকেই আমি কাজ বলে মনে করি না। যেসব কাজ মানুষ প্রয়োজন মেটাতে করে থাকে সেগুলোকে আমি কাজ বলি না। যেমন, গরু ঘাস খায় এটা তার দরকার বলে খায়; এটাকে আমি কাজ বলি না। তেমনি আমি চাকরি করি কারণ এটা আমার দরকার তা নাহলে আমার খাবার জুটবে না। তাই চাকরিকেও আমি কাজ বলে মনে করি না। আমার কাছে লেখালেখি, সঙ্গীত, চিত্রকলা এগুলোই কাজ। কারণ এগুলোই টিকে থাকে। কাজ হচ্ছে এমন একটা জিনিস যার বস্তুগত ও বস্তুর ঊর্ধ্বে অর্থাৎ ম্যাটেরিয়াল ও ইমম্যাটেরিয়াল দু’রকম মূল্যই আছে। সাহিত্য, শিল্পকলা এগুলোই হচ্ছে কাজ কারণ কেবল এদেরই একটা অ্যাবস্ট্র্যাক্ট ভ্যালু আছে যেটা অন্যান্য সাংসারিক বা স্বভাবসুলভ সামাজিক কাজের নেই। তাই লেখালেখির বাইরে আর যা করছি সেগুলোকে কিছু করা বলে আমি গণ্য করছি না।”

এ সময়ের সাহিত্যচর্চা নিয়ে কী অভিমত জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আসলে সাহিত্যচর্চায় এখন যা চলছে তাতে আমি আনন্দিত হওয়ার মত কিছু দেখছি না। কবি-সাহিত্যিকদের সংখ্যা আগের থেকে অনেক বেড়েছে কিন্তু সে তুলনায় লেখার মান তো বাড়ছে না। আমার পর্যবেক্ষণ হল দীর্ঘকাল ধরে বাংলা সাহিত্যে এমন লেখক খুবই কমই দেখা যাচ্ছে যাদের নিজস্ব একটা দৃষ্টিভঙ্গি আছে। যে কোনো সাহিত্যের দু’টা দিক থাকে। একটা হচ্ছে Attitude towards life আর অন্যটা হচ্ছে Attitude towards arts। এখনকার লেখায় Attitude towards arts অর্থাৎ লেখার যে শিল্পমূল্য সেটা পাওয়া গেলেও Attitude towards life অর্থাৎ জীবনবোধের ব্যাপারটা সেভাবে আসছে না। বর্তমানে সাহিত্য জগতে আমরা একটা ‘ব্যারেন পিরিয়ড’ বা নিষ্ফলা সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তবে এটা একান্তই আমার তাৎক্ষণিক বিবেচনা। সাহিত্যে সমকালীন কোনো সিদ্ধান্তই চট করে নেয়া যায় না। সাহিত্যে সত্যিকার কিছু ঘটে থাকলে সেটা বোঝা যায় অন্তত ত্রিশ বছর কি তারও পরে। তাই আমার মতে সময়ই বলে দেবে আমাদের সাহিত্য কোন দিকে এগোচ্ছে।”

pshanchita@gmail.com

—–

আরো লেখক সংবাদ

জাফর আলমমামুন হুসাইনআফরোজা সোমা

free counters

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (4) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লীনা — জুলাই ২৫, ২০১০ @ ২:৪৮ অপরাহ্ন

      ভালো লাগল।

      – লীনা

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাহবুবুল হক — জুলাই ২৮, ২০১০ @ ১২:০১ অপরাহ্ন

      চঞ্চল আশরাফ-এর সাক্ষাৎকারের শেষ অনুচ্ছেদে তিনি যে মন্তব্য করেছেন তার সাথে হয়তো অনেকেই একমত হবেন না। অনেকে বিরূপ মন্তব্যও করতে পারেন। কিন্তু তাতে তার সিদ্ধান্তের কাঁটা একচুলও নড়বে না তা আমি জানি। একদিকে শূন্য দশক, নব্বই দশক ইত্যাদি সময়কেন্দ্রিক গবেষণা শুরু হয়ে গেছে, ভুভুজেলার মত তীব্রস্বরে যার যার দশককে মহিমান্বিত করার শ্লীল-অশ্লীল চর্চা চলছে আর অন্যদিকে তিনি বলছেন ‌’সকলই গরল ভেল’ তা কি করে হয়। তবে ব্যরেন পিরিয়ড বলে কোন পিরিয়ড শিল্প সাহিত্যে নেই, ধার করে হোক আর অনুকার করে হোক সময়ের সাদা পাতায় কিছু আঁকিবুকি পড়বেই। তবে হ্যাঁ চঞ্চল আশরাফ এর সাথে আমিও সহমত, সাহিত্যে জীবনবোধের ব্যপারটা ক্রমশ গভীরতা হারাচ্ছে। কেমন যেন ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের মত হয়ে যাচ্ছে । কবির প্রবন্ধগ্রন্থ বের হচেছ জেনে পুলকিত হলাম।

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গীতা দাস — জুলাই ২৯, ২০১০ @ ১:৫০ অপরাহ্ন

      হায়াৎ মামুদ-এর সাম্প্রতিক কাজকর্ম জেনে ভাল লাগল।

      কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর-এর অনুবাদ নিয়ে লেখালেখি পড়ার জন্যে ‘শ্বাশতিকী’ সংগ্রহ করতে হবে।

      আর চঞ্চল আশরাফের মতামত যে কোনো সাহিত্যের দু’টা দিক থাকে। একটা হচ্ছে Attitude towards life আর অন্যটা হচ্ছে Attitude towards arts। এখনকার লেখায় Attitude towards arts অর্থাৎ লেখার যে শিল্পমূল্য সেটা পাওয়া গেলেও Attitude towards life অর্থাৎ জীবনবোধের ব্যাপারটা সেভাবে আসছে না। আমার মনে হয় দুটোর সমন্বয় প্রয়োজন। নির্জলা একটাও নয়।

      – গীতা দাস

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাগুফতা শারমীন — জুলাই ৩১, ২০১০ @ ৭:০৫ অপরাহ্ন

      “সাহিত্যে সমকালীন কোনো সিদ্ধান্তই চট করে নেয়া যায় না। সাহিত্যে সত্যিকার কিছু ঘটে থাকলে সেটা বোঝা যায় অন্তত ত্রিশ বছর কি তারও পরে।” এ একেবারে নির্জলা চঞ্চল আশরাফ, ভাল লাগলো পড়ে।

      – সাগুফতা শারমীন

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com