যেভাবে ছবি আঁকা হয়

মনিরুল ইসলাম, তাঁর ‘দি ডে বিফোর’ নিয়ে

নাবীল অনুসূর্য | ২ জুলাই ২০১০ ১২:২৪ পূর্বাহ্ন

monirul-islam-3.jpg
মনিরুল ইসলাম, (জন্ম. চাঁদপুর ১৯৪৩)

মাস খানেক আগে একদিন বিকেল বেলায় শিল্পী মনিরুল ইসলাম সময় দিলেন। তিনি তখন যে ছবিগুলি আঁকছিলেন তার একটি নিয়ে কথা বলতে অনুরোধ করা হয়েছিল তাঁকে। একটি ছবি দেখিয়ে জানালেন তিনদিন আগে
monir_khasra-2.jpg……..
মূল ছবির আগে; স্কেচ: দি ডে বিফোর
……..
আরম্ভ করেছেন সেই ছবি। বললেন, “দেখলে মনে হয় এটমিক একটা রের মতো। এটমিক বোম আমরা যতোটুক জানি ধ্বংসাত্বক। যতোটুক আমরা দেখছি হিরোশিমা-নাগাসাকিতে ডাইরেক্টলি অ্যাপ্লাই করা হইছে, যেইটা কিছুই না এখন। দেখা যায় এটমিক ওয়ার্ল্ড এত ধ্বংসাত্বক, আমরা আর্টিস্টরা একটু কাল্পনিক চিন্তা করি। আর্টিস্টরা কিন্তু চাঁদে চলে গেছে অনেক আগে। ফ্যান্টাসিতে, কল্পনাতে, কল্পনা দিয়ে সাইন্টিফিক ওয়েতে। নাসাতে অনেক আর্টিস্ট কাজ করে, ওরা অনেক ইমেজিনারি প্ল্যানেটের ছবি আঁকে, ওইটাই ওদের সাবজেক্ট। তবে ওরা সাইন্টিস্টদের সাথে কানেক্টেড, কীরকম হইতে পারে…, ওদের বলে স্পেস পেইন্টার না স্কেপ পেইন্টার।
—————————————————————-
আগে রাজারা করতো, এখন এক হাত বদলাইয়া আরেক হাতে আসছে, এখন ব্যাংকারদের হাতে আসছে। ওদের হাতে টাকা আছে, ওরাই কমিশন জব দেয়, পেট্রন করে। এখন ম্যানিপুলেট এই একটা সেক্টরের লোকরাই করতেছে এবং করে যাবে।… হ্যাঁ একটা জিনিস, ঐ লিবার্টি, ছবি আঁকার লিবার্টি। আগে যেমন বাধ্যবাধকতা ছিলো ছবি আঁকতে। বাইবেলিক ছবি আঁকতে হবে। কমিউনিজম ছিল কতগুলো ব্লকে, এমন ছবি আঁকতে হবে যাতে সোসাইটির কাজ হয়। তখন হইলো কী, ঐ কোদাল দিয়ে কাটতেছে, ফ্যাক্টরির ছবি, ফ্যাক্টরির কাজ হইতেছে।
—————————————————————-
তো এই ছবি আমি চিন্তা করতেছি অনেকভাবে। যে এইটা কি আমি নিজের এলিমেন্টস দিয়ে করবো? ছবিতে অনেক জিনিশ আছে, স্ট্রাকচার আছে, স্পেস আছে, তারপর কালার, ড্রয়িং, কম্পোজিশন। আবার রিভার্স করতে পারি–একটা সুন্দর এটম বোম। কিন্তু সুন্দর মোটেও না, ধ্বংসাত্বক জিনিস। কিন্তু আমি তো সাইন্টিস্ট না। সাইন্টিফিক্যালি একটা এটমের কী কতোটুক ক্ষতিকর তারাই বলতে পারবেন। আমি চাইতেছি আমার ফ্যান্টাসি গ্রো করতে। এই যে আমার নিজের ফ্যান্টাসি গ্রো করা এটম বোমরে নিয়া, সেটাই আমার কাজ। যেহেতু আমরা সাইন্টিস্ট না। এইটা আমার ফ্রিডম। যেইটা ছিলো না আগে। এইটা সাইন্টিফিক এজ, এটমের যুগ। সেইটার ভিতর আমি কী করতে পারি, সেটাই আমার বক্তব্য এই ছবির। পুরো এটমিক থট নিয়ে এই ছবি। যেটার ইনফরমেশন আমরা যতোটুক পাইছি, কী হয়, কী হইতে পারে, ডেস্ট্রাকশন, কোটি কোটি লোক মইরা যাইতেছে, তারপরে ক্যান্সার হইতেছে অনেক মানুষের; এখনেরগুলা যে আরো কতো পাওয়ারফুল, এইটাও জানি না। তবে আমি চাইতেছি এইটুকু পেপারের ভিতর একটা স্পেস করে, একটা এটম বোমের যে রে, তার কালার, দেখতে খুব সুন্দর লাগে। আমরা ভিডিওতে দেখছি, যখন বোমা ফেলা হয়, অপূর্ব সুন্দর একটা আমব্রেলার মতো, একটা ব্যাঙের ছাতার মতো, একটা রে আসে। কিন্তু ওইটার এফেক্টটা এত সুন্দর না। অবশ্য ভিজ্যুয়ালি আমি চাইতেছি যে ছবিতে কীভাবে একটা নতুন রূপ দেওয়া যায় এটম বোমের–বোম না, এটোমিক রের। এইটা সম্ভব না স্পেসিফিক্যালি দেওয়া যে মানুষ মরতেছে, রোগ হইতেছে। ডেস্ট্রাকশন, সবকিছুর। পার্টলি এটার একটা ভিজ্যুয়ালি সারাংশ, ছোট্ট কইরা জড়ো কইরা এইটার যে ভিতরগত, টোটালি ইমাজিনেশন, সেইটাই আমি দেখি কী হয়, এখনো আমি জানি না। ’

তার ছবি আঁকা নিয়ে তিনি বললেন, ‘ছবি তো আমি আরম্ভ করি অনেক। তো একটা কোনো সাবজেক্ট থট নিয়ে ছবি আঁকি না। ছবি আঁকার পর চিন্তা করি। বিভিন্ন চিন্তাধারা আসে আরকি। মৃত্যু আছে, হাসি আছে, কান্না আছে, তো এই একেকটা সাবজেক্ট পাশাপাশি… তো এমনি আমরা সোশ্যাল ছবি যখন ইয়া করি, সুন্দর… বলে যে আর্ট ইজ বিউটি, বিউটি ইজ আর্ট… আরেকটা বলে যে বিউটি ইজ ট্র্রুথ, ট্রুথ ইজ বিউটি, কিন্তু অনেক সময় সাম ট্রুথ ইজ ভেরি ক্রুয়েল, ওগুলো বিউটি না। হ্যাঁ, কারণ অনেক ক্রুয়েল জিনিস এতো ইয়ে, ট্রুথ, ইউ ক্যা’নোট একসেপট ইট ইজিলি। সেইক্ষেত্রে যে যে… অবশ্য পাস্ট একশ দুইশ বছর আগে আর্টিস্টরা বিউটি অন টপ অফ বিউটি ছবি আঁকত। সুন্দরী একটা মডেল থাকতো, তারপর মডেলটার আরো চিন্তা কইরা কী করে আরো বিউটি করা যায় তা কইরা ছবি আঁকতো। সুন্দরকে আরো সুন্দর কইরা ছবি আঁকতো। কিন্তু এই একশ দুইশ বছরে অনেক চেঞ্জ হইছে।

তো এখন দুইটা জিনিস। একটা হইলো ইমেজ, আরেকটা হইলো অ্যাবস্ট্রাক্ট। অ্যাবস্ট্রাক্টটা কী? অ্যাবস্ট্রাক্ট যেইটা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এখন গোলাপ ফুলটা আঁকলে পাঁপড়ি আছে, কালার আছে, সফট প্যালেট আছে, এইটা নিয়া যদি আমি জলরং করি, একটা ইমেজ নিয়া আঁকতাছি, যেইটাকে আমরা বলি রিয়েলিস্টিক ছবি। এইটা দেখা যায়, ধরা যায়। কিন্তু ঐ গোলাপের গন্ধ আঁকতে গেলে, ইনভিজিবল। ঐ গন্ধটা তো আর দেখা যায় না। তখন আর্টিস্ট তার নিজের ল্যাংগুয়েজ দিয়ে, তার অনুভূতি দিয়ে, ফর্ম দিয়ে হোক, লাইন দিয়ে হোক আঁকলে সেই জিনিসটা অ্যাবস্ট্রাক্ট হয়ে যাবে।

আমার নিজের ফ্যামিলির তিনজন লোক হারাইছি এই তিনমাসে। বিশেষ করে আমার মা। তিনমাস আমার লুজিংয়ের, আমার মা, এটার থটগুলা অ্যাবস্ট্রাক্ট টোটালি। কারণ এটার কোনো ফটোগ্রাফিক ইমেজ নাই, এটার যে ফিলিংস তার কোনো শেপ নাই। এই যে মিউজিক, গান শোনা যায়, কিন্তু গান তো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। মানুষের দুঃখ, হাসি, কান্না, এগুলা ইনভিজিবল। এগুলা টোটাল ফিলিংস। এগুলা যখন আর্টিস্ট আঁকতে যায়, মানুষের মুখ ছাড়া, ঐটা তখন অ্যাবস্ট্রাক্ট রূপ ধারণ করে। যেহেতু আমাদের কোনোও ল্যাংগুয়েজ নাই। লেখকদের বেলায়, ওরা অক্ষর দিয়ে সেন্টেন্স তৈরি করে। ঐ সেন্টেন্সের ভিতর দিয়ে গ্রো করতেছে তাদের রাইটিংস। সেইটা তো আমাদের নাই। কোনো রকম গ্রামার নাই, কিচ্ছু নাই। আর্টিস্টরা সব দেখে, রং দেখে একরকম, ফিল করে একরকম, প্যালেট একরকম, তারপর, একেকজন মিস্ত্রী যেমন ইন্সট্রুমেন্ট একেকভাবে ইউজ করে, বাট একচুয়েলি তার লাস্ট রেজাল্টটা কী সেইটা ইম্পর্টেন্ট। সে কী করলো। সেটা যা দিয়েই করুক। এই টুয়েন্টিথ সেঞ্চুরিতে এসে আর্টিস্টদের এত মেটারিয়েলস হয়ে গেছে, দুইশ বছর একশ বছর আগেও এগুলো ছিলো না, তখন তৈলরং ছিল খালি। এখন তো অ্যাক্রিলিক কালার, যেইটা প্লাস্টিক মিডিয়া, তারপর আরো মেটারিয়েলস তৈরি হইতেছে আর্টের, বাঁশের গুঁড়া, ইটের গুড়া, কাঠ, কেউ ম্যাটেল দিচ্ছে, একটা ফ্রিডমের ব্যাপার, না? তো আসল জিনিস হইতেছে একজন আর্টিস্ট তার কম্পোজিশনের জন্য, ছবির স্বার্থের জন্য, যে লাস্টে ছবিটা কী দাড়ায়–তার ফিলিংস এবং তার আন্ডারস্ট্যান্ডিং কী হইতে পারে, তার ইন্টেলেকচুয়াল ভ্যালু কী হইতে পারে, সবগুলো মিলায়া। সেই ছবি ভালোও হইতে পারে, জঘন্য হইতে পারে। আবার আর্ট এবং ক্র্যাফটসম্যানশিপ এক না, একটা ডোলা বানানো সুন্দর কইরা, চেয়ার বানানো, বেতের চেয়ার, বা একটা পাটি বানানো, এটা আর্টিস্টের কাজ না। এইটা ক্র্যাফটসম্যানের কাজ। আর্টটাও ক্র্যাফটসম্যানশিপ হয়ে যায়, যখন এইটা আস্তে আস্তে মরে যায়। অনেক সময় ছবির, কোথায় শেষ করতে হবে আমরা জানি না, ছবি আরম্ভ করা যত ইজি, শেষ করা, কোথায় শেষ হবে ছবি, সেটাই সবচেয়ে বড়ো, শেষ করতে হবে আমার। এবং মিনিমাইজ করা, আসল জিনিস রেখে বাকিগুলা ফেলে দেওয়া। যতোটুকু স্পেস ক্রিয়েট করা যায়, যতো সিম্পলি বলা যায়। যেইটাকে বলা হয় মিনিমাল আর্ট। পুরা ক্যানভাসে একটা লাইন, আর কিচ্ছু না!

‘যা বলতেছিলাম, ছবির বিগিনিং আমরা একটা করি, রং যা আছে, আমরা ইয়া দেখি না, ইয়োগাতে যেমন আছে ভিজ্যুয়ালাইজেশন, শেষ করার আগে কী হবে, দেখা সম্ভব না। তবে একটা গ্ল্যান্স, একটা সিনেমার শাটার বা একটা ক্যামেরার শাটার যে স্পিডে হয়, গ্ল্যান্সের মতো, ইমাজিনারি একটা কিছু দেখি। সেইটা আবার চলে যায়। আবার ছবি যেইটা আজকে আঁকলাম এক ধরনের মন নিয়া, কালকে এইটা অন্যভাবে করতে পারি। শেষ করতে গিয়ে এই ছবিটা পুরাটা চেঞ্জ করতে পারি। ফ্রেশ আজকে আমার যে থট, যেইটা নিয়া আরম্ভ করছি, কালকে এইটা নাই। এইজন্য অনেক ছবি যেই প্রসেস যেই থট নিয়া আরম্ভ করছি কিন্তু লাস্টে দেখা গেল ওইটা নাই, অন্য ছবিতে গিয়ে দাঁড়াইলো। তারপর আসে… আর্ট অনেক সময় পাওয়ারফুল দেন আর্টিস্ট হিমসেল্ফ। আর্টটা ব্যক্তি আর্টিস্টের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। যেটা অনেক সময় চলে যায়। ইউ লেফট। আর্টই তোমাকে ছেড়ে চলে যায়। তখন ঐ ছবি রাইখা দেই। রাইখা দেই কারণ ওইটা আর শেষ করা সম্ভব না। আমি যদি ঐ ছবি নিয়া থাকি আমি জানি যে ঐ ছবি শেষ হবে না। তখন কনফিউজড হয়ে যাবো। আবার অনেক সময় হয় যে এত আইডিয়া, একই ছবি অনেকভাবে করা যায়। শত শত ওয়েতে, সেটা আবার খারাপ। কারণ এত পসিবিলিটি থাকে, ওই ছবি আর শেষ হয় না।’

monir_khasra-1.jpg…….
‘দি ডে বিফোর’ স্কেচের আরেকটি
………
তার সাথে কথা হলো ছবি নিয়েও। ছবির জগত নিয়েও তিনি অনেক কথা বললেন। ‘ছবি বাংলাদেশের ৯৮% লোক বোঝে না। আমারে আইসা জিজ্ঞেস করে, ভাই কী আঁকলেন বুঝি না, বুঝায় দেন। এখন ছবি যেগুলা বুঝা যায়, সেগুলা আমার কাছে মনে হয় পোস্টার। পোস্টার সব বলে দেয়, ক্লিয়ারলি, ইমেজ দিয়ে হোক, ল্যাংগুয়েজ দিয়ে হোক, যে এই জায়গায় এতটার সময় মিটিং হবে। বক্তা যে তার ছবি দেওয়া থাকে। ছবি তো এমন না। হ্যাঁ, ছবি বোঝার জন্য আমরা বাইচ্চাকালে যা পড়ছি, ইলাস্ট্রেশন, রাক্ষসের ছবি, রাজরাণীর ছবি, যেগুলা ক্লিয়ারলি বাচ্চাদের জন্য, ঐ বইয়ের জন্য, জাস্ট পড়ার জন্য আরকি–সুন্দর কইরা আঁকা হয়। তবু বাচ্চাদের ইন্ডিভিজ্যুয়াল ইমাজিনেশন দরকার, ঐ ছবিও পুরাটা না। এরপর ছবির একেকটা সাবজেক্ট, যেমন একটা সকাল থেইকা দুপুরের বিকালের, একটা দিনের, শরতের বা ¯িপ্রংয়ের, ব্যক্ত করতে গেলে এক হাজার ছবিতেও সম্ভব হবে না। এইটা হইলো একটা ফিলিংস। ন্যাচার যে বৈচিত্র্যময়, একেকটা সেকেন্ডে চেঞ্জ হইতেছে, আর পারফেকশন বলতে কিছু নাই। আমরা যা দেখি তাও ঠিক দেখি না। কারণ ৩ ফুট দূরের থেকেও সবুজ দেখা যায়। ১০ ফুট দূরের থেকে ঐ সবুজটা নীল দেখা যায়। তারপর এর ভিতর ন্যাচার চেঞ্জ হইতেছে প্রতি সেকেন্ডে। এবং যতো ফটোগ্রাফি করি আমরা আর ছবি আঁকি, পারফেকশন বলতে কিছুই নাই। আমরা করি কী, ঐ ফিলিংসটা রাখি। দেখে কী মনে হয়, কী মনে করি। বর্ষার ছবি আঁকতে গেলে বর্ষার ছবি আঁকা হয় না, বর্ষার বোধটা আঁকি। বৃষ্টি পড়তেছে, বর্ষায় আমার ভিতরে কী হইতেছে। তখন অনেক কিছু, আমার ছোটকালেরই মেমোরি আসে বর্ষার। কচুপাতাগুলো, সেই পানি পড়া, সাউন্ড পাওয়া, টিনের বাড়ির উপর, বর্ষার যে একটা আওয়াজ, অনেকটা ক্লোরোফর্মের মতো, ঘুমাইতে ভাল লাগতো, তো এই সব মিলিয়ে এই যে একটা ফিলিংস, তারপর রাত্রে হইলো ক্যাথা নিয়ে শোয়া-বসা এগুলোর তো ছবি হয় না। তাই সাধারণ মানুষরে আমি বলি যে, ছবি বুঝার কিছু নাই! ছবিটা হইলো বোবা জিনিস। এইটা বোবা হয়েই দেখতে হবে। এর ভিতর আর্টের জগত খুব কমপ্লেক্স হয়ে গেছে। খুব কমপ্লেক্স। আগে ক্ল্যাসিক্যাল যুগে রিয়ালিজম ছবি হইতো। তখন রাজারাণীরাই আর্টিস্ট পুষত, তাদের ফ্যামিলির ছবি আঁকত। বাধ্যবাধকতা ছিল। তখন বাইবেলিক ছবি আঁকতে হইতো, ইউরোপে যেরকম দেখা যাইতো। এর বাইরে যাওয়া যাবে না। ছবির সাবজেক্টে সোশ্যাল টাচ করা যাবে না। কিছু কিছু আর্টিস্ট টাচ করছে, গয়া, র‌্যামলান, যখন তারা কিক্ড আউট ফ্রম দেয়ার কিংডম। রাজা যখন তাদের আউটকাস্টেড করে দিছে তখন তারা সোশ্যাল কিছু কিছু ছবি করছে। এখন এইটা অন্য হাতে চলে গেছে। আর্ট যেইটা, পেট্রন করা, আগে রাজারা করতো, এখন এক হাত বদলাইয়া আরেক হাতে আসছে, এখন ব্যাংকারদের হাতে আসছে। ওদের হাতে টাকা আছে, ওরাই কমিশন জব দেয়, পেট্রন করে। এখন ম্যানিপুলেট এই একটা সেক্টরের লোকরাই করতেছে এবং করে যাবে। হ্যাঁ একটা জিনিস, ঐ লিবার্টি, ছবি আঁকার লিবার্টি। আগে যেমন বাধ্যবাধকতা ছিলো ছবি আঁকতে। বাইবেলিক ছবি আঁকতে হবে। কমিউনিজম ছিল কতগুলো ব্লকে, এমন ছবি আঁকতে হবে যাতে সোসাইটির কাজ হয়। তখন হইলো কী, ঐ কোদাল দিয়ে কাটতেছে, ফ্যাক্টরির ছবি, ফ্যাক্টরির কাজ হইতেছে। আবার আমাদের রিলিজিয়নেও অনেকটা ইয়া আছে মানে ইমেজ প্রহিবিটেড, কিন্তু ইমেজটা প্রহিবিটেড কিন্তু এখন দেখি এটা ঠিক না। ঠিক না, কারণ হচ্ছে আমাদের দেশে তিনটা চ্যানেল চারটা চ্যানেল, দুই-তিনটা চ্যানেল আছে আমাদের নিজেদের চ্যানেল যেখানে ইমেজ আল্টিমেটলি বক্তাদের ক্যামেরার সামনে বসতে হয়। এবং বক্তাদের মেকআপও নিতে হয়। হ্যাঁ যেখানে আমাদের ছবি আঁকা নিষেধ, ইমেজ, সেখানে এখন কম্পিউটারে, টেলিভিশনে ইমেজ আসতেছে। এটা একটা নেগেটিভ পজিশন। তো আর্টিস্টের উপর যদি ল ইম্পোজ করা হয়, এটা করতে হবে, এটা পারবা না, তাহলে তো ছবির মৃত্যু হয়ে গেলো। আর্টিস্ট তখন পারে না। সে র্ফ্রি মাইন্ড না হলে পারে না, হি ইজ এ্যাবাভ অল, এ্যাবাভ অল মিন্স তার ফ্রিডম দরকার। সেইটা আমরা অর্জন করছি এত বছর পরে। আমাদের কেউ বলতে পারবে না কী আঁকবো।

এখন অনেক ভার্সেটাইল সাবজেক্ট নিয়া ছবি আঁকা হইতেছে। বিভিন্ন ধরনের আর্টিস্টরা বিভিন্ন ধরনের ছবি আঁকতেছে। কেউ বাংলাদেশের ছবি আঁকতেছে, কেউ কসমস ওয়ার্ল্ড নিয়া সাইন্স ফিকশন ছবি আঁকতেছে, কেউ স্টিল লাইফ করতেছে, কেউ ইউনিভার্সাল থট নিয়ে ছবি আঁকতেছে, কেউ ফিউচারিস্ট, ভবিষ্যতে কী হবে সেসব নিয়ে ছবি আঁকতেছে। ছবির জগত এই যে কমপ্লেক্স হয়ে গেছে না, এর ভিতর ছবি যে আঁকা হইতেছে সেটার স্বাদ নিতে হবে। আমার মনে হয় ছবি দেখা মানে হচ্ছে স্বাদ নেওয়া। হ্যা, স্বাদ নিলেই যে বুঝতে হবে এমন কিছু নাই। এটা কি একটা চা’র কাপ নাকি? একটা সাধারণ লোকে তিনটা দোকান ঘোরে, তারপর একটা দোকানে গিয়ে বলে হ্যাঁ, এইটা। এই যে ঘোরা, দশটা দোকান দেইখা একটা জিনিস তার পছন্দ হইলো দিজ ইজ দ্যা সেন্স অফ আর্ট। এইটাই আর্ট। যদি জিগ্যেশ করে কেন ভালো লাগলো, বলতে পারবে না। হ্যাঁ বলবে যে এইটা সুন্দর লাগে। এই যে কথাটা সিম্পল সুন্দর লাগে, তারপর সেটার আর্টিস্ট, আর্টক্রিটিক বলবে হ্যাঁ এইটার ফর্ম সুন্দর, ডিজাইন সুন্দর, কথা দিয়া বললো। ওই লোকটা যা দেখলো তার ভেতরও এগুলা আছে, কিন্তু তার এক্সপ্রেসিভ পাওয়ার নাই। বেসিক্যালি একই জিনিস। এইটা হয় সব ক্ষেত্রেই। মানুষের জন্ম থেকেই একটা এসথেটিক সেন্স গ্রো করে। কারো কম থাকে, কারো বেশি থাকে। সেইটা চলে গেলে মানুষের মনুষত্ব থাকে না। সেন্স অফ এথিকস এন্ড এসথেটিকস। যে কোনো লোকের এইটা নিয়ে জন্ম হয়। পরিবেশ অনুযায়ী কেউ ব্যবহার করে, কেউ সেটা ব্যাডলি ইউজ করে, ইউজ করতে জানে না, নিচুভাবে ইউজ হয়, যেহেতু সে ঐ এটমোস্ফিয়ারে গ্রো হয় নাই এবং এডুকেশনও পায় নাই। তারপর আসে তার ফ্রাস্টেশন, ভায়োলেন্স গ্রো করতেছে, সেগুলার কজ আছে, সোশ্যাল ফ্যাক্টও অনেকগুলা। কজ আছে, পলিটিক্যাল হইতে পারে, সোশ্যাল, অনেক কিছু সে পায় নাই। যেইটা তার পাওয়ার ছিল। আলটিমেটলি, তার ফ্রাস্টেশন তাকে রিবোল্ট করে, তখন তার সেন্সগুলো মরে যায়, সেন্স অফ এথিকস এসথেটিকস ওগুলোর চিন্তাই করে না।’


monir_khasra-3.jpg………
আরেকটি খসড়া, অ্যাক্রেলিক ও ডিজিটাল পেইন্টিং, দি ডে বিফোর
………
এর কিছুদিন পর আবার তাঁর বাসায় গেলাম তাঁর সেই ছবিটি নিয়ে কথা বলতে। কিন্তু গিয়ে দেখলাম ছবিটির কাজ তেমন আগায়নি। আসলে তিনি কম্পিউটারে খসড়া তৈরি করে কাজ করতে অভ্যস্ত। তাই তাঁর কাজ ক্যানভাসে আগাতে পারেনি এখনো, আগাচ্ছে পরিকল্পনার ক্ষেত্রে। তিনি ছবিটি নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা জানালেন। ‘এখন যে কমপ্লিক্সিটি হয়ে গেছে সমাজে, যুদ্ধ, আর যুদ্ধ এইটা আগের মতো নাই, কঠিন, যেইটা আইনস্টাইনরে একবার জিজ্ঞেস করছিল যে আপনি থার্ড ওয়ার সম্বন্ধে কী বলেন? সে বললো, আমি থার্ড ওয়ার সম্বন্ধে কিছু বলতে পারবো না এইটা খুব কনফিউজিং। কিন্তু ফোর্থ ওয়ার যদি হয় বলতে পারি, মানুষ আবার আরম্ভ করবে প্রিমিটিভ ইয়া নিয়া। ধারণা করা যায় না কী বীভৎস হবে থার্ড ওয়ার, যদি হয় আর কি। এখন নিউক্লিয়ার বোমা যে শক্তিশালী হয়ে গেছে, ২২টা মাথা,… এখন আমার মনে হয় যুদ্ধ হলে যুদ্ধে কেউ জিতবে না। যুদ্ধে যে জিতে সেও হাইরা গেছে। এত পাওয়ারফুল যুদ্ধ হবে। এইটার রিফ্লেক্টে দুনিয়ার অর্ধেক ধ্বংস হয়ে যাবে। তো এটম বোম নিয়ে যে ছবিটা করতেছি সম্পূর্ণটা কাল্পনিক। কাল্পনিক এই হিসাবে একটা সিম্বল দিতে হয়, সিম্বলিক বোঝার জন্য বোমার একটা বিস্ফোরণ যখন হয় একটা ব্যাঙের ছাতার মত, এখানে একটা ফর্ম বানাবো, ব্যাঙের ছাতার মত কতগুলা এটমিক ফর্ম। তো ওইগুলা ডিজাইন হিসাবে। এবং এটার পুরাটা কল্পনা। কারণ এইটুকু একটা ক্যানভাস স্পেসের ভিতর আমার সাধ্য নাই এইটার পরিণতি কী হয়, পরিণতি সুন্দর তো না, এইটা নেগেটিভ। সেখানে কিছু ড্রয়িং, আমি কম্পিউটারের কিছু হেল্প নেই, লেআউট করার জন্য। আমি প্রায় পনোরো দিন চিন্তা করতেছি, হ্যাঁ, ফাঁকে ফাঁকে, কন্টিনিয়াসলি না। ছবি আঁকতেছি, স্কেচ করতেছি, কারণ এটা একটা ইয়ে ছবি না, টোটালি একটা প্লাস্টিক ইমেজ করে নিতেছি, রিয়েলিটি, আউট অফ রিয়েলিটি। না, রিয়েলিটি সম্ভব না। এইটার কিছু ইমেজ আমি দেব, কিছু ডেড, আর সিম্বলিক কিছু গ্রেভ ইয়ার্ড, আর ডেস্ট্রাকশনের কিছু লাইন। অ্যাবস্ট্রাক্টলি কিছু, যেইটা আমাকে ইনভেন্ট করতে হবে। ডেস্ট্রাকটিভ লাইন কিছু, আর সেমটাইম ব্যালান্স করার জন্য, আমাকে কালার ডিস্ট্রিবিউশন, লাইন, ফর্ম এগুলা চিন্তা করতে হবে। কারণ আমি তো ছবি একটা বানাইতেছি। তবে ছবিটা যে লাস্ট ওখানে গিয়া কীভাবে দাঁড়াবে বলতে পারতেছি না। কারণ এখানে আমি ফর্ম দিচ্ছি খালি একটা, এটমিক ফর্ম, যেইটা আমরা দেখছি। এরপর আমাকে ইনভেন্ট করতে হইবো এইটার পরিণতি কী হইতে পারে। এইটুকু স্পেসের ভিতর। চেষ্টা করতেছি কী হয়। তারপর ছবির নিচে যে এই লাল শেডটা দেখা যাইতেছে, এই লাল শেডটা হইতেছে যে এখানে যে একটা ভাইব্রেশন হইতে পারে, সেইটা আমি নিজেও দেখি নাই কোনো সময়ে। তারপর আমি প্রথমে চিন্তা করছিলাম ডাস্ট কিছু, তারপর রেডটা অনেকটা ফায়ারের, লাল আমরা চিন্তা করি ফায়ার, লাল রোজও হতে পারে। তবে যেহেতু ইমেজটা এটমিক ইমেজ, লাল তারপর আরো যেগুলা ভায়োলেন্ট কালার, ব্ল্যাকটা ইউজ করবো। অনেকটা ব্যাড নেগেটিভ ইয়া আরকি, আমরা অনেক সময় বলি চারিদিকে কালো দেখি, মানে কালো মানেই খারাপ আর কি। কালো রংটা আসলে রঙের অ্যাবসেন্স, কালো কোনো রঙ না। কিন্তু ডার্ক বা কালো থাকলে শ্যাডোর একটা ইম্প্রেশন আসে। তারপর এইটায় একটা স্পেস রাখবো, যাতে স্পেস থাকে, এইটুক জায়গার ভিতর আমাকে স্পেসও ক্রিয়েট করতে হবে।

ছবির আসলে ব্যাখ্যা হয় না, পয়েন্ট বাই পয়েন্ট, তখন ছবিটা ইলাস্ট্রেশন হয়ে যায়। ছবিটা একেকজন একেকভাবে দেখে। কেউ দেখবে সুন্দর কেউ দেখবে বীভৎস। কারণ আমি চাই না ছবির সাবজেক্টটা একটা মেসেজ হয়ে যাক, যে আমার বাণী এইটা। কেউ বলবে এইটা ব্যাঙের ছাতার মতো, কারো কাছে মাছ মনে হবে। মানুষ আসলে গ-ির কাছে যা কিছু আছে ওইগুলা নিয়াই কনস্ট্রাকশন করে। অনেক সময় আকাশে মেঘ দেখা যায়, দেখে শিংয়ের মতো মনে হয়, যা চিন্তা হইতেছে তাই ক্রিয়েট হয়। সাধারণ মানুষ ছবি একটা পেইন্টিং হিসেবে দেখে, পোস্টার হিসেবে দেখলে হি ইজ রং। তবে ছবির প্ল্যানিং আপাতত আর নাই। শেষপর্যন্ত কী দাঁড়াবে, তবে একটা ক্রশ দিবো আমি, ক্রশটা ইউনিভার্সাল হয়ে গেছে, সিম্বল জিনিস হয়ে গেছে, ট্রাফিক লাইট রেড ইয়েলো গ্রিন, এগুলা সিম্বলিক জিনিস, ইয়েলো হলো প্রিকশন, রেড স্টপ, গ্রিন লাইন ক্লিয়ার, এগুলা হলো সিম্বলিক জিনিস। এরকম অনেক সিম্বলিক জিনিস আমাদের হয়ে গেছে। যেগুলা আর বলার দরকার নাই, লেখারও দরকার নাই।’

এখন তার এই নিউক্লিয়ার নিয়ে ছবি কবে শেষ হবে, আর শেষমেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা তিনিও বলতে পারলেন না। কেবল তার ছবি নিয়ে পরিকল্পনাটুকুর অনিশ্চয়তার নিশ্চয়তাই দিতে পারলেন। ছবি শেষ হলে সেই ছবির একটা ছবি তিনি ইমেইলযোগে পাঠাবেন, কথা দিয়েছেন। তখন লেখার সঙ্গে ছবিটি যুক্ত করা হবে। আপাতত সেই ছবির (যা এখনও আঁকছেন শিল্পী) পূর্বরূপের কয়েকটি খসড়া এখানে দেয়া গেল।
—-
শিল্পী মনিরুল ইসলামের জন্ম ১৯৪৩ সালে। ১৯৬৬ সালে তিনি আর্ট কলেজের (বর্তমানে চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৬৯ সালে স্কলারশিপ পেয়ে স্পেনে চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সেখানে শিক্ষকতা করেন। স্পেনে তিনি ফ্রিল্যান্স আর্টিস্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং এখনো করছেন। এ পর্যন্ত তিনি স্পেন, তুরস্ক, হল্যান্ড (বর্তমান নেদারল্যান্ডস), কুয়েত, কানাডা, আমেরিকা, বৃটেন, ভারত, বাংলাদেশ, মিশরসহ বিভিন্ন দেশে ৩০ টিরও বেশি একক প্রদর্শনী করেছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৫টির মত যৌথ প্রদর্শনী করেছেন। তিনি স্পেন, যুগোশ্লাভিয়া, নরওয়ে, আমেরিকা, মেক্সিকো, ইরাক ও বাংলাদেশে মোট ১৩টি স্বীকৃতি পেয়েছেন, যার মধ্যে আছে একুশে পদক, বাংলাদেশ (১৯৯৯), অর্ডার অফ অফিসার অফ কুইন ইসাবেলা, স্পেন (২০০৭) ও ন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড অফ স্পেন (১৯৯৭)। স্পেন ও মিশরে ৬টি আন্তর্জাতিক এক্সিবিশনের জুরি মেম্বার হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। এছাড়া মরক্কো, স্পেন, পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশে বেশ কিছু ওয়ার্কশপও করেছেন।

nabeelaljahan@gmail.com

free counters

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (2) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডা:সিদ্ধার্থ সরকার — জুলাই ২, ২০১০ @ ১১:৫৬ অপরাহ্ন

      বেশ ভালো লাগলো।

      -ডা:সিদ্ধার্থ সরকার

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আলী — জুলাই ২৬, ২০১০ @ ৪:০৪ অপরাহ্ন

      ষাট ও সত্তরের দশকে চাঁদপুরে চিলড্রেনস ট্রেনিং সেন্টার নামে একটা শিশু প্রতিষ্ঠান ছিল। নূরী স্যার ছিলেন প্রধান। রেলওয়ে কলোনির মাঠে তারা কুচ-কাওয়াজ করতো। রেল লাইনের অপর পারে থাকতেন আপনি। তখন হিল্লোল নামে একটা দেয়াল পত্রিকা বের হত। তাতে আপনি অঙ্গসজ্জা করেছেন, মনে আছে কি?

      – আলী

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com