সেন্ট মার্টিনের সমুদ্র দেখে আমি মুগ্ধ। বাংলাদেশের সমুদ্রের পানি এত নীল আর স্বচ্ছ! বিশ্বাস হয় না। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ক্যামেরা নিয়ে সমুদ্রের সৌন্দর্যের ছবি তুলতে বের হলাম আর পাচঁজন টুরিস্টের মত। মাত্র দুদিনের জন্য আসা। যত পারা যায় ছবি তো তুলতে হবে। পেছন দিকের কোরাল বিচ ধরে হাঁটতে হাঁটতে দেখা এক দল ব্যস্ত মানুষের সাথে। বাচ্চারা দৌড়ে দৌড়ে গামলায় সামুদ্রিক গুল্ম তুলছে , আর বড়রা ভারা ভরে নিয়ে যাচ্ছে সৈকতে। সেখানেও আবার দু’তিনজন মিলে সমুদ্রের তীরে তা বিছিয়ে দিচ্ছে শুকাবার জন্য। ‘ভালো সাবজেক্ট ছবি তোলার জন্য’ – মনে মনে খুশি হয়ে ছবি তোলা শুরু করলাম।

বাচ্চারা দৌড়ে এসে পৌজ দেয় ক্যামেরার সামনে। বড়রা নির্বিকার। সবুজ কামিজ পরা এক মহিলার বিষন্ন নির্বিকার চোখ আকৃষ্ট করল আমাকে। পিছু পিছু ঘুরি। নাম জিজ্ঞাসা করলে যা বলে তা আমার বোধগম্য হয় না । আবার জিজ্ঞাসা করলে ভ্রু কুঁচকে যেভাবে তাকায় তাতে ওখানেই থেমে যাই। পাছে বকা দেয়, ছবি তুলতে নিষেধ করে এই ভয়ে কথা না বাড়িয়ে ওদের তালে তালে আমার কাজ চালিয়ে যাই। মনে মনে ভেবে নেই ওর নাম ‘খুশি’। এমন অসুখি চেহারার মেয়ের নাম কেন ‘খুশি’ মনে হল আমি জানি না। কিন্তু নামটা আমার মাথায় ঢুকে যায়।

প্রায় ঘণ্টা খানেক সময় পর ওরা আমার সাথে সহজ হয়ে ওঠে। খুশির বিষণ্ন মুখে হালকা হাসি দেখা যায়। কথা অল্প অল্প এগোয়।

এই সামুদ্রিক গুল্ম কুড়িয়ে খুশিদের সংসার চলে। তার পরিবারের সবাই এখন এই কাজ করে। ভাই, ভাইবউ, বোনজামাই, ভাইবোনের বাচ্চারা আর মা। খুশির মা জানায় ‘বার্মা’ (মিয়ানমার) থেকে লোক আসে এই শুকনা গুল্ম কিনতে। পুরো পরিবারের কুড়ানো গুল্মের দাম পাওয়া যায় কোনো কোনো মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। কখনও আরো কম। খুশির স্বামীর কথা জিজ্ঞাসা করলে খুশি সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকে কয়েক মুহূর্ত – ‘সাগরে নিছে গত বছর। মাছ ধরতে গেছিল, ঝড়ে হারায় গেছে।’ খুশি আবার কথা বলা বন্ধ করে। তার দীর্ঘ ছায়া পরে সমুদ্রের নীল পানিতে! দূরে ভাই ও ভাইবউ একে অন্যকে সাহায্য করছে।

ছেঁড়া দ্বীপে যাওয়ার জন্য আমার ডাক পড়ে যায়। খুশির কাছ থেকে আর জানা হয় না এত সুন্দর সমুদ্রের রূপ কি খুশিকে আকৃষ্ট করে? যার টানে প্রতিদিন দলে দলে টুরিস্টরা ভিড় জমায়।

ঢাকা, অক্টোবর ২০০৭

snigdhaphoto@yahoo.co.in

free counters

বন্ধুদের কাছে লেখাটি ইমেইল করতে নিচের tell a friend বাটন ক্লিক করুন:


14 Responses

  1. সায়েদ তালাত says:

    আমি কয়েকদিন আগে ঘুরে এলাম সেন্ট মার্টিন থেকে। অদ্ভুত। ফিরে আসার পরে এখনো সমুদ্র আমাকে ডাকছে। আমাকে বার বার ডাকছে দ্বীপের নারকেল গাছগুলো।

    আপনি কি ছেড়া দ্বীপে লাশের কঙ্কালটা দেখেছেন? সম্ভবত সমুদ্রই ভাসিয়ে এনেছে। অথবা কোনো পর্যটকের লাশও হতে পারে। একা বেচারা পড়ে আছে সেই নির্জন দ্বীপে।

  2. রাহা says:

    সুন্দর একটা ওয়েব , মাঝে মধ্যে ঢু দেয়া যাবে ।
    কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ ।

  3. ইশতিয়াক রউফ (অভি) says:

    খুব ভাল লাগলো ছবি দেখে। আমাদের ভার্সিটির (ভার্জিনিয়া টেক) স্টুডেন্ট ইউনিয়নে বাংলাদেশের ছবি টানাবে। কিছু দেওয়া যায়? আমাদের কাছে ছবি চেয়েছে কিছু। ভাল ছবির স্বত্বের জন্য টাকা লাগলে ছাত্ররা চাঁদা তুলে যোগাড় করে দেব।

  4. মানসুর নাসিম says:

    bdnews24.com -কে ধন্যবাদ এরকম একটা web site করার জন্য ।

  5. আপনার ছবিগুলোন আমার পছন্দ হয়েছে। অনেক ভালো লেগেছে।

  6. মুহাম্মদ তসলিম says:

    সত্যি খুব ভাল লেগেছে ছবিগুলো। ধন্যবাদ bdnews24 কে।

  7. নুরুজ্জামান লাবু says:

    খুব ভালো লাগলো আপনার ছবিগুলো দেখে। সবগুলি ছবি আমি ডাউনলোড করে নিয়েছি। কোনো সমস্যা আছে কি?

  8. কেশব অধিকারী says:

    সেই যে সবুজে বসনে আবৃতা, নাম দিয়েছেন খুশী! আমার মনে হল ওর নাম হওয়া উচিৎ ছিল কষ্ট! ও বার বার সাগরের কাছে ছুটে আসে, ছুটে আসে কার মায়ার টানে, আপনার অনিঃশেষ প্রবন্ধ আমার উপলব্ধিকে পরম মমতায় সেখানে টানে। টেনে আনে চোখের জলও!

    – কেশব অধিকারী

  9. ahmed sajon says:

    আসলে আমার কাছে সাগরের চাইতে পাহাড় ও বনজঙ্গল বেশি ভালো লাগে। বিশেষ করে রাঙামাটি আমার সব চাইতে প্রিয় শহর। রাঙামাটির অপরূপ সৌন্দর্যে আমি সব সময়ই মুগ্ধ। রাঙামাটি জেলার প্রায় সকল যায়গাই অপূর্ব। আমি অনুরোধ করব রাঙামাটিকে যেন আরও উন্নত পরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

  10. নয়ন says:

    আরো নতুন নতুন জিনিস দেখতে চাই আপনার কাছে।

  11. মামুন says:

    আমি ২০০৮সালো ঘুরে সেন্ট মার্টিন থেকে। অদ্ভুত। ফিরে আসার পরে এখনো সমুদ্র আমাকে ডাকছে। আমাকে বার বার ডাকছে দ্বীপের নারকেল গাছগুলো।

  12. Shah Alamgir Badsha says:

    সত্যিই এক কষ্টময় জীবনে এদের, এখানে শিশুরা শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না । প্রকৃতির সাথে লড়াই করে এদের বাঁচতে হয় । ছবি গুলো খুবই সুন্দর !

    – শাহ আলমগীর বাদশা

  13. ছবি গুলো খুব সুন্দর। অক্টোবর ২০০৭ এ সেন্ট মার্টিনের সমুদ্র যেমন ছিলো এখ্ন কী আর তেমন মতো আছে ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.