পুনর্মুদ্রণ, সাক্ষাৎকার

সাঈদ আহমদের সাক্ষাৎকার, ১৯৯৯

raisu | 1 Feb , 2010  

sayeed-ahmed1.jpg
সাঈদ আহমদ (১/১/১৯৩১ – ২১/১/২০১০)

[নাট্যকার সাঈদ আহমদের সঙ্গে আমার সদ্ভাবের শুরু ১৯৯২ সালে। সেই সময় চিত্রকর কালিদাস কর্মকারের বাংলা মোটরের বাড়িতে একটা পার্টির মধ্যে একদিন যাইচা তাঁর সঙ্গে পরিচিত হই আমি। বিশেষত অ্যাবসার্ড ড্রামা ব্যাপারে আমার তৎকালীন গভীর অনুরাগ তাঁর ব্যাপারে আমারে আগ্রহী করছিল। তিনি ফোন নম্বর দিয়া পরদিন তাঁর বাড়িতে যাইতে বলেন। আমি সকালে তাঁর লালমাটিয়ার বাসায় যাই। তিনি তাঁর সংগ্রহের বই, চিঠিপত্র আর কিছু নথি দেখান। এবং অতিথি আপ্যায়ন করেন। খাওয়ার পরে ফল খাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

আঙুলের গিঁটে সমস্যা থাকায় লিখতে অসুবিধা হইত তাঁর। ওনার অনুরোধে কিছু লেখার ডিকটেশান নিতে রাজি হই আমি। বলা যাইতে পারে, তাঁর লেখ্য গদ্যরীতিটি আমার ভালো লাগতো না। একটা নাটক (নাটকটা তিনি আর শেষ করেন নাই) নিয়া দুই দিন বসার পরে আমি এই বিরক্তিকর কাজটা আর করি নাই। ওই বিরানব্বইয়ে কিছুদিন সাঈদ ভাইরে বেশ কাছ থিকা দেখার সুযোগ হয় আমার। সাঈদ ভাই নিঃসন্তান আছিলেন। এই নিয়া তাঁর কোনো আক্ষেপ আছে কিনা জিগাইলে জানায়ছিলেন বাচ্চাকাচ্চা ব্যাপারটা ভেজালের। এইটা ঠিক যে তাঁর মধ্যে আমি বাৎসল্য রসের ছিটাফোঁটা দেখি নাই।

ঢাকার সাংস্কৃতিক সমাবেশে তাঁর উপস্থিতি সব সময়ই নিতান্ত উজ্জ্বল ব্যাপার আছিল। বিবিধ অনুষ্ঠানে দেখা হইলে—এবং সব সময় পারভিন ভাবি সঙ্গে থাকতেন—সাঈদ ভাই সহাস্য স্নেহ সম্প্রদান করতেন (অন্য অনেকের মতো ওয়ান টু ওয়ান মৃদু হাসির অভ্যর্থনা তিনি করতেন না; যেটি দস্তুর)। সাঈদ আহমদের ব্যাপারে আমার বিবেচনা এই যে তিনি বৈঠক ইত্যাদিতে অনেক চিত্তাকর্ষক থাকতেন। তবে তাঁর ভাষা প্রায়ই ঢাকাইয়া থিকা শুদ্ধের দিকে চইলা যাইতে চাইত। আর তিনি ঘরের চাইতে বাইরে বেশি বন্ধুবৎসল আছিলেন। অর্থাৎ এক কালের এই সচিব ভদ্রলোকটি সমষ্টির মধ্যে বা সমাবেশগুলিতে তাঁর ব্যক্তিত্বের সবলতা ও সাফল্য উপলব্ধি করতেন।

১৯৯৯ সালে মুক্তকণ্ঠ পত্রিকার ‘খোলা জানালা’র জন্য এই সাক্ষাৎকার নেই আমি। ‘খোলা জানালা’র সম্পাদক আবু হাসান শাহরিয়ার সাক্ষাৎকারটার খোলামেলা ও লঘু চালের ব্যাপারটারে সাদরে গ্রহণ করছিলেন। এবং কোনো কর্তন-বর্জন ছাড়াই সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পরে সাঈদ ভাইরে একটা কপি দিয়া আসছিলাম। ইচ্ছা আছিল কখনো সাঈদ ভাইয়ের একটা বুক লেংথ ইন্টারভিউ নিব। সেইটা আর হইয়া উঠল না। তাঁর সাম্প্রতিক প্রয়াণে (২১/১/২০১০) আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করতেছি।—ব্রাত্য রাইসু]

sayeed-ahmed.jpg
১৯৯২ সালে নিউইয়র্কে তোলা ছবিতে সাঈদ আহমদ ও স্ত্রী পারভিন আহমদ; ছবি. নাসির আলী মামুন

আমি কত কথা কইতাম, কিন্ত এখন আফটার ব্রেইন হেমারেজ কথা কইতে পারি না। আর বড় কষ্ট কইরা কথা কইতে হয়। আস্তে আস্তে আস্তে আস্তে একটু ইমপ্রুভমেন্টের দিকে যাইতে আছি। আমার জীবনে একটা গণ্ডগোল হইয়া গেছে। বড় রকমের গণ্ডগোল। দুই বছর আড়াই বছর আগে আমারে কইলো যে তুমি দিল্লিতে আসো…

কে কইল?

গভর্ণমেন্ট অফ ইন্ডিয়া’র কালচারাল মিনিস্ট্রি। কইল যে তুমি দিল্লিতে আসো। তোমার সঙ্গে একটা বইয়ের পরামর্শ হবে। বই লেখার ব্যাপারে তারপরে আমি দিল্লি গেলাম। এই সব লিখো না।

ঠিক আছে অন্য প্রসঙ্গে যাই। শামসুর রাহমানের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক নিয়া বলেন।

শামসুর রাহমানের বাবা আর আমার বাবা দুই পার্টনার ছিল। নরায়ণগঞ্জে ডায়মন্ড টকিজ করত। নাইনটিন থারটি নাইনের যুদ্ধের আগে।

তাইলে তো আপনেরা অনেকদিন থেকে কালচারের সঙ্গে, কালচারের ব্যাপারটা তাইলে পারিবারিক ভাবেই।

মোটামুটি। তো আমার বাবা আর শামসুর রাহমানের বাবা মোখলেছুর রহমান…

আর আপনের বাবার নাম ছিল—

মীর্জা ফকির মোহাম্মদ।

আপনার বড় ভাই?

বড় ভাই, নাছির ভাই বড় ছিলেন। আর নাজির ভাই মেজো আর থার্ড ব্রাদার হামিদুর রাহমান। আর আমি ফোর্থ ব্রাদার।

ব্রাদার তো আর না আপনি।

না ব্রাদার না, আমি ফোর্থ।

তাহলে ‘রাহমান’ শুধু হামিদুর রাহমানেরই ছিল। আর কারও না।

না। আর ওইটাও রাগ কইরা। ও স্কুলে পড়ার সময় ওর নাম রাখলো অ্যাহমাদ। কিন্তু মাস্টারের সঙ্গে রাগ কইরা কইল, যা শালা, এই নাম রাখুমই না।

রাগ করলো কেন?

মাস্টার মাইর দিছিল অরে।

মাস্টারের নাম কি আহমেদ ছিল?

না। একটা হুজুকেই নাম বদল করে দিল।

তো ‘রহমান’ না লিইখা ‘রাহমান’ লিখল যে?

‘রাহমান’টা প্রোনানসিয়েশন করতো। আর একটু অ্যাংলিসাইজড্ ভার্সনও হইল!

শামসুর রাহমানের ‘রাহমান’ও কি এখান থিকাই আসছে?

শামসুর রাহমানও ঐখান থিকাই আইছে।

ওনারা দুইজন না কি খুব ভাল বন্ধু ছিলেন?

হ্যাঁ, ছোটকাল থিকা।

তো একজন রাহমান দেইখা যখন আরেকজন রাহমান রাখলেন, তখন হামিদ আপত্তি করেন নাই?

না না, আপত্তি তো করবই না। বরং খুশিই হইছে যে তুমিও রাহমান আমিও রাহমান।

শামসুর রাহমান কি আপনার চেয়ে বড়?

আমার থেকেও দুই বছরের বড়, হামিদও দুই বছরের বড়। তো আমার, শামসুর রাহমানের, অন্যান্যদের বন্ধু-বান্ধব সবই ইসলামপুরের বড় মাঠে আড্ডা মারছে। আমাদের বাড়িতেই আড্ডাটা জমতো। ঘর ছিল হামিদুর রাহমানের ঘর। আরেকটা নাজির আহমদের ঘর। আমি টিং টুং কইরা ঘুরতে আছি, বইতে দেয় না। কোনওখানেই বইতে দেয় না।

মানে আপনি কোনওখানে বইতে না পাইরাই বিদেশ চইলা গেছিলেন।

আর বইতে…। তোমার একটা কথার সূত্র ধইরাই আমি কী কইরা নাট্যকার হইলাম কই… আমার যে নাটকের সখ তা সবারই শখ।

আপনার আব্বা যেহেতু সিনেমা হল চালাইতেন, ঐখান থিকা আপনেরা নাটক জিনিসটা পাইছেন?

আমাদের নাটক-ঘরও ছিল।

এটা কোথায়?

লায়ন থিয়েটার। প্রফেশনাল নাটক ছিল। প্রফেশনাল নাটক ছিল, আর আমার বাবার সম্পত্তি ছিল নাটকের।

বুঝলাম না।

নাটকের সম্পত্তি। নাটকের সম্পত্তি মানে, আমার বাংলা একটু…

‘‘স্বত্ব’ ছিল?

স্বত্ব ছিল।

নাটকের জগতে তাইলে ওইভাবেই আসছেন, পারিবারিক ভাবে।

হ্যাঁ হ্যাঁ। নাটক… আমার বাবা, চাচা স্বত্বাধিকারী ছিলেন।

আপনারে আপনার ভাইরা বসতে দিত না আড্ডায়।

না, পরে আমার বাবা উনিশ শ পঁয়তাল্লিশে মারা যান। আর চাচা মারা যাওয়ার পরে, আমার ছেলেবেলার কথা, যে আমি ‘অডম্যান আউট’ কোনওখানেই জায়গা পাই না, তো আমার ভাই আবৃত্তি করত, নাটক করত, এফডিসির চেয়ারম্যান ছিল।

নাজিউর রহমান?

নাজির আহমদ। তো ঐ, ঐটা তো পাইছে এক ধন। হামিদুর রাহমান আরেক ধন পাইল পেইণ্টিঙের। আর আমার বড় ভাই নাসির আহমদ। ও পাইল…ব্যবসা করত, কিন্ত ও-ও শিল্পরসিক ছিল। খুব ভলো অ্যাকটিং করতো। ফার্স্ট হইত সলিমুল্লা মুসলিম হলে। কিন্তু আমার জীবন থাকলেও কোনোখানে পাত্তা পাই নাই। তো কইলাম যে একটু ড্রইং করি, তো বললো যে পরে কইর।

কে বললো?

আমার কোনো আত্মীয়। তো আমি বললাম যে একটু আবৃত্তি করে শোনাই। বললো যে আবৃত্তি পরে কইর। তো আমার জিদও চাপলো, যে কোনো কাজই দেয় না। আমি তো বড় কাজের মানুষ। তো বললো যে গানবাজনা তুমি করতে পারো। গানবাজনা তো শিখলাম। গানবাজনা তো শিখলাম।

তো, গানের উপর যেই লেখাগুলি এইগুলি আপনি ইংরেজিতে করতেছেন যে?

কারণ ইংরেজিতে কোনো বই নাই। কোনো ওস্তাদের উপরে ইংরেজিতে বই নাই। ইংরেজিতে করলে বইটা বিদেশীও বুঝব, দেশীও বুঝবে। আমাদের খালি বাঙলায় আছে। বাঙলায় লাভ কী? বাঙলায় লাভ কী মানে বাঙলা তো সীমিত…

মানে রিডার সীমিত?

রিডার মানে, কোনও লাভ পাইতেছে না। আমরা ইংরেজিও বুঝি, বাঙলাও বুঝি। কিন্ত ইংলিশ স্পিকিং রিডার কোনও লাভ পাইতাছে না। তো অনেক বই হইতাছে ইংলিশ রিডারের জন্য। ইংলিশ স্পিকিং পাবলিকের জন্য। ইংলিশ স্পিকিং দেশের জন্য। তো এটা…

আমাদের এইখানে হয় নাই সেভাবে?

না কোনও কিছুতেই হয় নাই।

আমরা তো এক কাম করতে পারি, ইংরেজি রিডারদের বাঙলা শিখাইতে পারি।

না, আমার এত জোর নাই। আর, তোমার শেখানোর তো শেখাও।

তাতে তো লাভ আছে। শিখাইলে ওদের কাছ থেকে ধরেন পয়সাও পাইলাম, বৈদেশিক মুদ্রা।

না, না, পয়সাই পাইবা, আর ভিক্ষার ঝুলি দিব। ইংলিশ রিডারের পড়ার মতো বই নাই। হাবিব তানভিরের কাজ দেখলাম, হাবিব তানভিরের উপরে দুই-চাইরটা বই আছে ইংলিশে। ইন্ডিয়ায় ইংলিশ হইতে আছে। কিন্ত আমরা ইংলিশে করি না। তো ভাল, তুমি যদি না করো খুব ভালো। কিন্ত আমি চাই ইংলিশ রিডারের কাছে পৌঁছার। ইংলিশ রিডাররা জানুক যে আমার এই ধন ছিল।

আচ্ছা, এইজন্যেই কি আপনি কালবেলা নাটকটা দ্য থিং ইংরেজিতে লিখলেন প্রথমে।

না, ‘থিং’ পয়লা এক্সপেরিমেন্ট করলাম।

এটা কি পাশ্চাত্য ধরনের নাটক বইলাই ইংরেজিতে লিখলেন?

না, না, না, বলছি…

সাঈদ ভাই, আপনার সাথে কথা বলা খুব টাফ। আপনি একটা সাবজেক্ট থিকা আরেক সাবজেক্টে ঢুইকা যান। এইটা কি ইচ্ছা কইরা করেন?

না, না, না, আমি তো স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে।

না মানে এইটা কি ইচ্ছা কইরাই করেন আপনি?

না, না।

তাইলে এইটা হয় কেন?

আমার বলার যদি থাকে আমার সুযোগ যদি থাকে আমি বলব।

মানে আপনি ঐ-সময় বলতে চান, পরে আর বলা হয় না।

না, পরের কথা পরে।

যেমন ধরেন আমরা ছিলাম আপনার নাটকে। কীভাবে ঢুকলেন, সেইটার মধ্যে আপনার হঠাৎ কী ভাব জাগলো আপনি গানের জিনিসগুলা নিয়া আসলেন।

না, আমি বললাম যে, আমি এইটাই বলব যে গানের বই, গানের বই না, ‘মিউজিশিয়ানস অব বেঙ্গল’ কইরা আমি ধারাবাহিক লিখছি আর ইন্ডিপেন্ডেন্টে ছাপাইছি তারপরে ইংরেজিতে করছি, বিদেশীর চোখে পড়বে আর বিদেশির চোখ ভালো করে আমাদের দেখবে।

বিদেশীর চোখ তো আপনারে ভাল কইরাই দেখছে। অনেক বিদেশী আপনেরে দেখছে।

না আমারে না, ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদ খানরে দেখে নাই। ওস্তাদ ফুলঝুরি খানরে দেখে নাই। ফুলঝুরি খান মরছে না বাঁচছে…

জানে না তো ইংলিশ রিডাররা!

কিছুই জানে না। পংকজ মল্লিকের উপরে বই আছে। হেমন্তের উপরে বই আছে। আর রবিশংকরের উপরে দেদার বই আছে। কিন্ত আমাদের কোনো মিউজিশিয়ানকে জানে না। কারণ বইও নাই।

ইংরেজিতে নাই।

হ্যাঁ।

আচ্ছা, আমি শুনলাম রবিশংকর নাকি ঐহানে অত দাম পায় না।

না, না, না।

পায়?

হ্যাঁ পায়।

কয় যে পায় না, কেন কয়?

না, না এইটা কটাক্ষ করেছে।

কেন করে?

ও, ও দাম পায়। লুইটা নিছে। এই ওয়ান ব্যক্তি যে ইন্টেলেকচুয়্যালও আর সেতারিস্টও। একটিই লোক। আর ওর মাঝখানে ঐতিহ্যের ভাণ্ডার। সে উদয় শংকরের ভাই, ওর বাবা ছিল সাইণ্টিস্ট।

আচ্ছা, আপনার মধ্যে আমি খেয়াল করছি আপনারা হেরিটেজ বা পারিবারিক ঐতিহ্য এগুলিরে খুব মূল্য দেন।

না, পারিবারিক আছে তো আছে, নাই তো নাই।

আপনারা দাম তো দেন।

না রবিশংকররে দাম দেই।

কারণটা পরিবার?

পরিবার আছে, ওর ভাই আনন্দ, কমলা শংকর, এ, ও, সব।

না ধরেন, আপনার যদি, আপনার বাবা যদি কৃষক হইত, আপনি তাইলে কীভাবে নিতেন?

কৃষকের পোলা কৃষক হইছে…।

ধরেন কৃষকের পোলা আপনি নাট্যকার। নাট্যকার হইছেন। ‘কৃষকের পোলা’ মাইনা নিতেন এইটা?

হ্যাঁ, মাইনা নিতাম। খুব বড় গলায় কইতাম যে আমার বাবা লেখাপড়া শেখে নাই, আমি লেখাপড়া শিখছি, আমি নাট্যকার।

কিন্ত ঐতিহ্যের কথা তো তখন আর বলতে পারতেন না।

বলতাম না। বলতাম না।

কিন্ত ঐতিহ্য আছে সেইটা কেন বলবেন না, তাই তো?

ঐতিহ্য আছে। সবগুলোতে ঐতিহ্য। ওস্তাদ আয়াত আলী খাঁ, ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরু, ওস্তাদ খাদিম হোসেন খাঁ সবই ঐতিহ্য।

মানে ঐতিহ্যের ধমক।

না, ধমক নয়, ঐতিহ্য করছে।

এখন কথা হইল যে, ঐতিহ্যের কারণেই কোনো জিনিস বেশি দাম পাইয়া যায় না?

কোনোখানেই দাম পায় না, ঐতিহ্য হোক না হোক তোমার যেইটা পাওয়ার সেটা পাবে। আর ঐতিহ্য হলো অ্যাডেড জিনিস। যে ঐতিহ্য, ঐ খাঁ সাহেবের ছেলে আলাউদ্দিন খাঁর ছেলে আলী আকবর খাঁ—ঐতিহ্যবাহী। কিন্ত বাজাতে পারবে কি না সেইটা হইল আসল কথা। কতদিন পরে বোল খুইলা যাইত যে আলাউদ্দিন খাঁর ছেলে বাজাইতে পারে না।

তাইলে ঐতিহ্যের কথা বইলা মজাটা কোথায়?

মজা তো নাই। ঐতিহ্যের কথা একটা কথা আছে, তারপরে নিজের কাছে ঐটা খেলাধুলা করালে চলবে না।

আপনের বেলায় যেমন, আপনি তো নিজের ঐতিহ্য ছাইড়াই গেছেন। আপনি [অ্যাবসার্ড] নাটকে গেছেন। যেই ঐতিহ্য আমাগো নাই। তাইলে তো পাশ্চাত্য ঐতিহ্যের দিকে গেছেন আপনে, তাই না?

না পাশ্চাত্য ঐতিহ্য পুরাপুরি না। কারণ আমার মনে হয় আমি অনেক জায়গায় লিখছি, বলছি যে পাশ্চাত্য নাটকে, ওয়েটিং ফর গডো একটা জিনিস আলাদা এক্সপেরিমেন্ট করতে গেছি। আর গডোর প্রতীক্ষা আর আমার প্রতীক্ষা এক না। ঐটা আমি বলছি বেকেটরেও, যে এক না।

বেকেট আপনার লেখা পড়ছিল?

বেকেটের লগে কথাবার্তা সবসময় হইত।

বেকেট নাকি কারও কিছু পড়ত না।

না পড়ত।

বেকেটের হামবড়াই ছিল বেশি।

না ছিল, একটু হামবড়া ছিল, একটু বেশি হামবড়া ছিল কারণ ও…

প্রতীক্ষা করতে করতে হামবড়াই চইলা আসছিল?

না না প্রতীক্ষা তো সেটা ফিলোসফি অফ লাইফ। অনেক দিন থেকেই আছে। কথা আমার জড়াইয়া যায়।

না এইটা ঠিক আছে। এমনিতেই তো আপনি এক কথা থিকা আরেক কথায় যান গা।

না, ও তো ভালো সময় হইত। এখন ডিরেল হয়ে যায়। লাইন হারায় যায়।

মানে এখন আপনার ইচ্ছার উপর নির্ভরীশল না কথা। মানে সাবজেক্ট চেঞ্জ হইয়া যায়। হয়ত একটা কথার উচ্চারণ করতে গিয়া দেখলেন কথাটা একটু শক্ত, তো নরম সাবজেক্টে চইলা গেলেন কথা নরম করতে।

বাঙলায় বললে হয় যে আমি কলকাতার ভাষা বলতে বলতে ইস্ট বেঙ্গলের ভাষায় এলাম। আর বলতে বলতে ঢাকার ভাষায় এলাম—ঢাকাইয়া ভাষায় আইলাম। তো আমি ইকোয়েলি কমফোর্টেবল।

আপনারা যে ঢাকার ভাষায় এলেন এটা খুবই ভাল জিনিস। ঐটা ছাইড়া দিলেন কেন?

না আমি তো, ঢাকার ল্যাঙ্গুয়েজে আমার মনটাই আছে।

শিক্ষিত লোকের সঙ্গে তো কন না দেখি।

না আমি তো জার্মান কালচারাল সেন্টারে, ব্রিটিশ কাউন্সিলে কই।

কিন্ত এখন তো বলতেছেন না ঐভাবে।

বলতেও আছি। আমি খাচ্ছি, দাচ্ছি বলছি না। আমি খাইতাছি, দাইতাছি—আবার খাইছি, দাইছি, ঢাকার ভাষায়ও বলতাম।

হাসনাত আবদুল হাই নভেরা বইটাতে আপনারে নিয়া আসছেন, আপনার ঐ ল্যাঙ্গুয়েজটা নিয়া আসছেন। ঢাকাইয়া ভাষার যে ব্যাপারটা এইটা তো আব্দুর রাজ্জাকের মধ্যেও আছে, উনি তো খুব র্চচা করছেন এইটার।

রাজ্জাক সাব বহুত…

খান্দানি?

মইরা গেছেন? রাজ্জাক স্যার?

কে রাজ্জাক স্যার? না। মরেন নাই তো। মরছেন শওকত ওসমান।

আমি শুনছিলাম রাজ্জাক সাহেবের অবস্থা খুব খারাপ।

হ, সিঙ্গাপুর লইয়া গেছে।

রাজ্জাক সাহেব লন্ডন গেল ফিফটিতে। আমার ভাই নাজির আহমদ বিবিসির ইনচার্জ। তো স্যারের লগে কথাবার্তা হইল। স্যার বাড়িতে খাওয়াইল-টাওয়াইল।

উনি তো খুব ভাল রান্নাবাড়ি করেন।

হুঁ। রাজ্জাক সাহেব বাড়ি আওনের কতা ভাবছিল। টাকা নাই। বেটোরি জাহাজে। আমার ভাই খুবই ঘনিষ্ঠ ছিল। আমাগো লগে তো ওঠাবসা ছোটকাল থিকাই। আত্মীয়তাও আছে। কিন্ত খুব গরিব ছিল। বহুত গরিব ঘরের ছিল। কিন্ত অদ্ভুত ব্যাপার, মেধাবী ছিল। আর উনি বললেন যে, নাজির আমার জাহাজের ভাড়া নাই। তো বলল যে আমি দেখুম। আপনি তো যাইবেন, তো গোছগাছ কইরা লন, আমি টিকেটের ভাড়া দিয়া দিমুনে কোনওমতে।

টাকা ফিরত দিছিলেন আর?

না, না।

টাকা ফিরত দেন নাই?

ফেরতের প্রশ্নই আসে না, উনি টাকা নিয়া সোজা গেলেন গিয়া ‘বেটোরি’ জাহাজে। বেটোরি পোলিশ জাহাজ ছিল।

ঐটাতে নাকি আগুন লাগছিল।

আগুনও লাগছিল।

পরে নাকি নামতে চান নাই, উনি বলছেন বই নামাও তারপরে নামুম।

তো কিংবদন্তি তো অনেক রকম। কিন্ত হি ওয়াজ এ স্কলার।

নট রাইটার?

না খালি আহরণ করছেন, দিতে পারেন নাই। ঢাকাইয়া কথায় কয় ‘হিটকায়’।

‘হিটকায়’ মানে হাসে?

ওর ছিল যে, বিজ্ঞ লোক তো নাই, কার লগে কথা কমু! আর এইটাও হিটকানেরই কথা।

হিটকানো মানে?

হিটকানো মানে তাচ্ছিল্য করা।

ওনার মধ্যে ছিল এইটা?

আছে, অনেকদিন থেকেই আছে। ছোটকাল থিকাই আছে। কিন্ত বিজ্ঞ লোক।

তাচ্ছিল্যটা করেন?

তাচ্ছিল্য বহুত।

যে এতই তাচ্ছিল্য যে কার লাইগ্যা লেহুম? উনি নাকি থিসিস করেন নাই।

হ্যাঁ, পড়ল না। হ্যারল্ড লাস্কি, পলিটিক্যাল সায়েন্স পড়াইত। উনি বললেন যে থিসিস করুম না। থিসিস করুম না। তো অন্য লোকেরা বলল যে থিসিস দিবা তো পিএইচডি পাইবা। আরও ভি লাস্কির লগে আছিলা, লাস্কি তো সন্তুষ্টই। বলে যে না থিসিস-থুসিস বাদ আমি যা যানি তো জানি।

ওইটা কি লাস্কি মারা যাওয়ার পরে?

হ্যাঁ লাস্কি মারা যাওয়ার পরে।

শোক পাইছিলেন বোধ হয়।

না লাস্কি মারা যাবার আগেও অনেকবার কইছেন যে তুমি থিসিসটা দিয়া যাও। বলল যে স্যার দিমু না। কী হইব? আর ঐ সুবাদে প্রফেসারও হয় নাই।

এইটা কেন, কেন উনি এগুলি করছেন, আপনার কী ধারণা?

আমি তো ঘনিষ্ঠভাবে মিশছি।

কী মনে হয়, কেন এ রকম করতেন?

মনের ব্যথা, আর মনের ব্যথা হইল যে খুব বড় লোকের ছেলে ছিল না। এত ধাক্কা খাইছে, এ কথা শুনছে আর আমাদের সোসাইটিতে পাত্তা পায় নাই।

আপনাদের প্রতি যে ঘৃণা, ঘৃণাটা ঐখান থিকাই আসছে?

হ্যাঁ, হ্যাঁ, কিন্ত রাজ্জাক সাহেব পার এক্সিলেন্স বিজ্ঞ লোক। কিন্ত কিছুই দিতে পারেন নাই। বইও লেখেন নাই। কারণ আমার মনে হয় ওর ঘৃণা এত ছিল যে ঘৃণা করতে করতে ভগবান হইয়া গেল। আর খেদ নেই, আর চাওয়া-পাওয়া নেই। এইটা আমার মনে হয়।

আপনার লগে দেখা সাক্ষাৎ হইত?

হ্যা, কথা কইলেই একটু পুরানো দিনের কথা বলত।

ঘৃণা করতেন আপনাদের?

না, না, আমাদের প্রতি ঘৃণা ছিল না। তার কারণ ছিল যে আমার বাবা-চাচার হামবড়াই ছিল না। তো বলত যে আমিও ইসলামপুরে আছি তুমিও ইসলামপুরের। আর হামবড়া ভাব ছিল না। সেইজন্যে আমাদের সঙ্গে খারাপ তো ছিলই না বরং দেখা হইলে পরে বলত যে, শোন, কী কথা…

‘আপনি’ কইরা কইতেন উনি?

না আমার তো মনে হয় না। আর নাজির ভাইরেও ‘তুমি’ কইরাই সম্বোধন করতেন উনি। নাসির ভাইরে সমসাময়িক করতেন। কিন্ত নাজির ভাইরে কইতেন ‘তুমি’। ‘নাজির আসো।’

আপনি বেকেটের কথা কইতে চাইছিলেন। বেকেটের লগে আপনার দেখা হইছিল?

তুমি তো জান না।

বেকেটের সঙ্গে যে আপনের দেখা হইছিল?

হ্যাঁ, তিন চাইরটা ট্রিপে কথা হইল। আর, তুমি তো জান না।

আর কোন বাঙালি কথা কইছিল বেকেটের লগে?

না আমিই। বাঙালি শুকনা মাঠে গোল দেয়।

রাজ্জাক স্যারের কথা কইছিলেন নাকি বেকেটের কাছে?

রাজ্জাক সাহেবের কথা, প্রশ্নই ওঠে না।

বেকেটরে কী বলছেন আপনি। কত সনে দেখা হইছে?

বেকেটের সঙ্গে আমার… একটা আর্টিকেল লিখলাম ওয়েটিং ফর গডো নিয়ো। আমরা বেকেটের পারফরমেন্স দেখলাম লন্ডনে, ওয়েটিং ফর গডো। তো আমি দুই চাইর বন্ধু নিয়া দেখতে গেলাম বেকেটের প্লে। প্লে দেইখা কিছুই বুঝলাম না।

বেকেটের নাটক প্রথম কবে দেখলেন আপনি?

পঞ্চাশের দিকে।

তো আপনি নাটকের কিছু বুইঝাই পাইলেন না?

কিছুই বুঝলাম না।

কোনটা, গডোরটা?

গডোর। আমি তো ভাবতেই পারিনি যে এই নাটকও আছে। তারপর একটু জানতে পারলাম। ঐ বন্ধু-বান্ধবের মাধ্যমে। ওরা সবাই ড্রামাটিক আর্টের ছিল, আর মিউজিকের ছিল, পেইনটিঙের ছিল। তো জানতে পারলাম যে এইটা একটা নতুন ফর্ম। আগে কেউ লেখে নাই। পাঁচটা নাটক পইড়া ফালাইলাম। ওর চাইরটা পাঁচটা নাটক পইড়া ফালাইলাম। রাইত-রাইত জাইগা। তারপর একটু বুঝতে পারলাম যে এইখানে একটা বেয়াড়া কথা কইছে। অর্থ বুইঝা পাই নাই। আমার বুঝতে অইব। স্কলার বা বিজ্ঞ লোক বা আমার থেকে বেশি জানে, ওদের সঙ্গে কথাবার্তা ওঠাবসা ছিল। তা আমি বললাম আমি তো বুইঝাই পাই না। এতক্ষণ পর্যন্ত দুই ঘণ্টা স্টেজে কী করে। তো আস্তে আস্তে বুইঝা পাইলাম। তারপরে আমি করাচিতে আসছি, ফিফটি সিক্সে চাকরি নিয়া। তো আমি সিক্সটিতে লেখলাম একটা বেকেটের উপরে আর্টিকেল। ইংরেজি কাগজে ছাপলো।

চোখে পড়লো বাইরের লোকের…

বাইরের লোকের চোখে পড়ল। আর আমার পাবলিশার বেকেটরে পাঠাইলো লন্ডন থিকা। করাচির থিকা লন্ডনে। লন্ডন থিকা প্যারিসে গালিমার। একটা কোম্পানি আছে পাবলিশার। তো ওর কাছে গেল আর্টিকেলটা। গালিমার পাঠাইল বেকেটের কাছে। তারপরে বেকেট আমারে সবসময়, ইয়েতে, ক্রিসমাসের সময় একটা কার্ড পাঠাইত। একটা বই পাঠাইত, যেটা লিখেছে বা মঞ্চস্থ হয়েছে। ঐ একটা বই পাঠাইত, আর চকলেট পাঠাইত। চকলেটও পাঠাইত।

অনেকদিন আগে, ৯২ সালের দিকে আপনের লগে আমি যখন কাজ করতাম তখন একটা নাটকের ডিকটেশন দিছেন আপনে কিছুদিন। একটা নাটক শেষ করার কথা ছিল। ঐটা কি লিখতেছেন বা লেখছেন?

না, লেখার পারিনি, লেখা হয় নি, এক অঙ্ক বোধ হয় হইছিল। তারপরে আর লিখিই নাই।

ওইটা আর লিখবেন না?

এখন তো আর লেখার জো নাই। আমার মস্তিষ্কে যে জোর পড়ে ওটা লেখা হবে না। লেখা হবে না বলি না, লেখা হবার কথা নয়। কারণ আমার মস্তিষ্কে জোর পড়ে।

চাপ পড়ে খুব বেশি?

খুব চাপ পড়ে।

তাহলে ওইটা কী করবেন, ওই নাটকটা কী করবেন?

নাটক লিখব না।

আচ্ছা, আচ্ছা। কাহিনীটা তো খুব মজার ছিল। ঐ যে এক লোক তারে ইয়ে করতে পাঠায়, তারে খুন করার জন্য একজন লোক ভাড়া করে। কিন্ত পরে তার মনে হয়, না খুন হইতে সে রাজি না। কিন্ত যে ভাড়া খাইছে, টাকা খাইছে সে তো তারে মারবই, ঐটা। লেখলে পারেন, একাঙ্কের মধ্যে নিয়া আসেন।

আমি তো এখন খুব সংক্ষেপে জীবন কাটাইতে চাই।

জীবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সময় বইছে বইলা?

হ্যাঁ অত কাজ…

আর নিতে রাজি না?

না, নিতে রাজি। কত কাজ! আর ঐটা রাজি না, নাটক বাদ।

নাটক শেষ! আপাতত বাঙলায় আর লিখবেন না?

না বাঙলা না, আমি তিনটা পেপারে ধারাবাহিক লিখতে আছি। একটা হইল শৈলী, শৈলীতে ধরাবাহিক না হলেও একটা সংখ্যা…

গ্যাপ দিয়া গ্যাপ দিয়া লিখছেন?

গ্যাপ দিয়া।

নাটক আপনে কয়টা লিখছেন, তাইলে তিনটা?

না, না, পাঁচটা।

কেমনে আপনার তো নাটক হইল গিয়া কালবেলা, তৃষ্ণায়, মাইলপোস্ট

একদিন প্রতিদিন আর ‘সিরাজ-উদ-দৌলা’। সিরাজ-উদ-দৌলা মানে শেষ নবাব

অ্যাবসার্ড নাটক কয়টা? তিনটা?

তা তিনটা।

প্রথম তিনটা অ্যাবসার্ড নাটক আর এইটা যদি লেখতেন তাহলে হইতো আরেকটা অ্যাবসার্ড নাটক।

হ্যাঁ।

তা এইটা তো আর লিখবেন না!

এত খাটনি দিতে পরব না, আমার মনে হয়। কারণ আমি লিখছি শৈলীতে, জনকণ্ঠতে, লিখতে আছি।

এইগুলি বাদ দিয়া নাটকটা লেখেন।

না, নাটক, ‘নাটক জিনিসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ’, হাঃ হাঃ হাঃ! এখন শৈলীতে লিখতে আছি, জনকণ্ঠে লিখতে আছি, প্রণোদনায় লিখতে আছি।

এইগুলি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হইয়া গেছে গা?

হ্যাঁ আমি স্মৃতিচারণ লিখছি, অনেক স্মৃতিচারণ প্রণোদনায় আছে। প্রণোদনা হায়াৎ মামুদের ভালো ম্যাগাজিন। আর হায়াৎ মামুদের ছেলেপুলেদের নিয়া এই জাহাঙ্গীর নগর ইউনির্ভাসিটির ছেলেপুলে সব আছে। তো ঐ প্রণোদনায় লিখতে আছি। শৈলীতে লিখতে আছি, জনকন্ঠে লিখতে আছি।

মুক্তকণ্ঠেও তো শুনছি আপনার লেখার কথা ছিল। ঐ দারিয়ো ফো নিয়া লেখার কথা ছিল, ঐটা কি লেখেন নাই আর?

না।

কেন, দারিয়ো ফোর সাথে আপনার দেখা হইছিল না?

দারিয়ো ফোর সাথে দেখা হইছিল কিন্ত অল্পক্ষণের জন্য। কিন্ত ওর নাটক সম্পর্কে আমি লিখতে আছিলাম, কিন্ত অন্য জিনিস…

করতে করতে আর হইয়া ওঠে নাই?

হইয়া ওঠে নাই। আর আমি এইটা খেয়াল করতে পারলাম না।

দারিয়ো ফো-টা?

দারিয়ো ফো-টা আমি কনসেনট্রেট করতে পারলাম না। তো আমি বললাম যে না আমি লিখব না।

মানে আপনি আর ঐভাবে লিখতে আগ্রহী না, লেখা যদি কনসেনট্রেট করতে না পারেন তাইলে লিখতেছেন না।

হ্যাঁ, আমি অনেক জিনিস লিখতে আছি, স্মৃতিচারণ তো, বটেই। জনতার ভিড়ে, না ‘থিয়েটারে, মিউজিয়ামে, জনতার ভিড়ে’ ক্যাপশন দিয়া আমি স্মৃতিচারণ লিখতে আছি।

প্রণোদনায়?

প্রণোদনায় আর ইয়েতে জনকণ্ঠে লিখতে আছি স্মৃতিচারণ।

তাইলে আপনার তো অনেক স্মৃতি!

হ্যাঁ অনেক স্মৃতি আছে। আর ইয়েও, স্মৃতিচারণ, শৈলীতেও, শৈলীতেও স্মৃতিচারণ।

আপনি, ঠিকই আছে স্মৃতিচারণ করতেছেন। কিন্ত পত্রিকাগুলি স্মৃতিচারণ দিয়াই ভরাট হইয়া যাইতেছে। মানে ধরেন নতুন কোনও কিছু তো আর প্রডিউস করতেছে না। স্মৃতিচারণের উপর পত্রিকাগুলা চলতেছে। দেখবেন মানুষ মরলে সংখ্যা করে। মানুষের জন্মদিনে সংখ্যা করে। এই স্মৃতিচারণ করতে করতে পত্রিকাগুলি ঢিলা হইয়া যাইতেছে। বুদ্ধিজীবীদের কিছু নাই আর।

যা আছে, সেই আছে।

সেই আছাটাই আবার বারংবার কইরা স্মৃতিচারণ করতেছে। আচ্ছা বুদ্ধিজীবীদের সম্পর্কে কিছু বলেন।

না না না, আমি ও সম্বন্ধে কোনও কথাই বলব না।

ভয় পাইতেছেন?

না ভয় না, আমি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি দু বছর থেকে।

বুদ্ধিজীবীদের কাছে থেকে?

না আমার কাজ দিল্লিতে হল, লন্ডনে হল, আমেরিকায় হল আর কিছু কাজ ঘরেও করতাম, কিন্ত শামসুর রাহমানের সঙ্গে দেখা নাই।

উনি তো কবি, ঠিক বুদ্ধিজীবী তো উনি না।

না কবি, তো কবিতা পড়াও আমার দরকার। ওরও দরকার আমারে। কিন্ত ওর পাত্তা পাই না। পাত্তা পাই না মানে আমিও পাত্তা দেই না। আমি ব্যস্ত ও—ও ব্যস্ত, খুব ব্যস্ত। আর খালি ‘অমুক জায়গায় বক্তৃতা দিয়েছিলাম।’

প্রধান অতিথি?

প্রধান অতিথি, প্রধান অতিথি!

প্রধান অতিথিকে তো টাকা দেয়, জানেন কি না?

আমি তো টাকা নেই না।

প্রধান অতিথি হইলে টাকা দেয় আমি শুনছি। যে-কারণে প্রধান অতিথির কোনও দিন অভাব হয় না।

হাঃ হাঃ হাঃ।

বুদ্ধিজীবীদের সম্পর্কে কন।

বুদ্ধিজীবী বেচারা আছে, জীবিত আছে, সেই ভাল।

বুদ্ধিও আছে, জীবিতও আছে!

আর ঘাটাইয়া দরকার নাই। হামিদের কথাটা কইয়া নেই, তারপরে অন্য সব।

আচ্ছা বলেন।

হামিদের কথাটা বলব যে এইটায় (হামিদুর রাহমান। শিল্পকলা একাডেমী, ডিসেম্বর ১৯৯৭) রফিকুল ইসলাম বাঙলার অধ্যাপকও লিখেছিল। একটু অসুবিধায় আছে হামিদ। কারণ একটা লেখায় অ্যানি ইসলাম বলেছে, ভোরের কাগজের পাতায়, নভেরাই ইয়ের রূপকার।

শহীদ মিনারের?

শহীদ মিনারের। হামিদের সঙ্গে ছিল, সারাক্ষণ হামিদের সঙ্গে ছিল আর উদ্বুদ্ধ করত, আর ও রূপকার হয়ে গেল!

ও, উদ্বুদ্ধকারিনীই রূপকার হইছে।

হ্যাঁ, আর আমিও একটা সেমিনারে গিয়েছিলাম। ঐ বইটার পরে। ফেব্রুয়ারি মার্চে বইটা বাইর হইল আমি গেলাম মে-তে। তো সেমিনারে দেখলাম যে খুব চোটপাট। সব ‘রূপকার নভেরা।’

তো এটা অ্যানি ইসলাম কীভাবে টের পাইলেন যে রূপকার নভেরা?

অ্যানি ইসলাম বলল যে ‘আমার মনে হয়।’

মনে হয় নিয়াই এত বড় কথা কইয়া ফেললেন?

হ্যাঁ।

তা মনে হওয়ার রূপকার তো তাইলে অ্যানি ইসলাম।

তো এইটা সেন্ট পার্সেন্ট মিথ্যা।

তো এই যে শহীদ মিনারের রূপকার কইতাছে নভেরারে, এইটার ব্যাপারে আপনি কি কোথাও কিছু বলছেন?

সৈয়দ শামসুল হক বলছে যে নভেরাই করতে পারে, নভেরাই করেছে।

নভেরাই করতে পারে এইটা সৈয়দ শামসুল হক কীভাবে টের পাইলেন?

এলহাম হইল।

এলহাম মানে?

এলহাম মানে নবুয়তের এলহাম।

মানে হঠৎ করে অনুধাবন করতে পারলেন?

হ্যাঁ, অনুধাবন করতে পারলেন নভেরাই করতে পারে।

আপনারা কোনও কিছু বলেন নাই সৈয়দ হককে?

আমি কই নাই, আমার বই-এ লিখছি।

বইয়ে বলছেন, তাইলে তো আপনার সঙ্গে সৈয়দ হকের মনোমালিন্য হইছে একটু।

না, মনোমালিন্য তো হয় নাই।

তো নভেরার প্রতি আপনার কোনও টান ছিল না তো কখনও, না?

আমার বন্ধুভাব ছিল।

টান ছিল না, প্রেম ছিল না, ভয় পাইতেন নভেরারে?

না, না।

আচ্ছা এই যে উনি বললেন রূপকার এইটা আপনারা কীভাবে প্রটেক্ট করতেছেন। কারণ হামিদুর রাহমানকে তো ছোট করা হচ্ছে।

যে এইটা তো এখন…

তো নভেরার ব্যাপারে আপনি বলেন, নভেরার ব্যাপারে আপনার কোনও মন্তব্য করার থাকলে, মানে নভেরা কী ধরনের মানুষ, বা শিল্পী? আমাদের এইখানে তো লাফালাফি আছে নভেরারে নিয়া।

না, শিল্পী। প্রথম শিল্পী আমাদের।

‘নারী শিল্পী’?

নারী শিল্পী, পুরুষ শিল্পী একই জাতের। নভেরাই ছিল প্রথম শিল্পী।

জয়নুল না?

না, স্কাল্পচারের কথা কইতেছি।

প্রথম স্কাল্পটর কি নভেরাই ছিল?

হ্যা, নভেরাই ছিল, লন্ডন থিকা আসলো। ও তো পাস করে নাই।… অথচ জাগায় জাগায় হইচই যে নভেরা ফাটাইয়া ফালাইল। কোনও কালা চামড়া ফাটায়া ফালাইছে!

বিলাতে ফাটাইতে পারে নাই?

বিলাতে তো ধর্তব্যের মধ্যেই নাই।

বিলাতে কালা চামড়ারা নিজেদের কপাল ফাটাইতে পারে নিশ্চয়ই। নভেরারে নিয়া এখানকার লাফালাফির কারণটা কী?

এইটা হইছে…

হাসনাত আবদুল হাই বই লিখে করেছেন এইটা?

হ্যাঁ, হাসনাত তো মুখরোচক একটা কাহিনী করেছে। কিন্ত নভেরা তো অর্ডিনারী গার্ল, অর্ডিনারী শিল্পী, কিন্ত প্রথম। আর তিনটা বানাইছিল সারা…

বাঙলা জীবনে?

বাঙলা জীবনে। তিনটার একটা প্রদর্শনীও করছিল। দেখছ নাকি?

না আমি যাই নাই।

জাদুঘরে; দশটা বারটা, পনেরটা স্কাল্পচার ছিল। আর ঐখানে, স্কাল্পচার পচতে ছিল, এখন উদ্যোগ হয়েছে। আমাদের ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার করতে হবে।

না এখন নভেরারে নিয়া যে লাফালাফিটা, যেইভাবে দেখানো হয়, এইটা কেন? পাশ্চাত্যের একটা নকলকারক ছিলেন উনি। নারীবাদী দৃষ্টিকোণ থিকা দেখার ব্যবস্থা করতেছে আমাদের বুদ্ধিজীবী লেখকরা।

ভাস্কর্য শিল্প মোটামুটি ছিল। নারী হওয়াতে একটু এট্রাকটিভ হল। আর কয় যে ফাটাইয়া ফালাইল লন্ডনে গিয়া, লন্ডনে আর ফাটানোর জায়গা নাই।

যেমন ধরেন যে আমাদের যে আর্টিস্টরা আসে বাইরে থিকা, আইসা বলে যে আমেরিকার দুইজন আর্টিস্ট-এর মধ্যে একজন। চারজনের মধ্যে একজন, পঞ্চাশ জনের মধ্যে একজন, বলে না এইরকম?

বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ড অনেক বড় জায়গা। আমাদের এই একটুক জায়গা, এইটুক জায়গায়…

নভেরা নাকি আপনার ভাইয়ের ইয়ে ছিলেন? এইটা কি মোটামুটি আপনারা মাইনা নিছিলেন?

হ্যাঁ।

আপনারা তো উদার ছিলেন বেশ।

হ্যাঁ।

তাইলে আপনার ভাইয়ের যে স্ত্রী, উনি রাগ করতেন না, এই ব্যাপারে?

না, ও তো চইলা গেল, তারপরে বিয়ে করছে হামিদ।

তাইলে তো প্রেম ছিল তাদের।

প্রেমই… একটা ফেসিনেশন ছিল।

বিয়ে ছাড়াই যে একসঙ্গে থাকত এ নিয়ে আপনার ফ্যামিলির কোনও সমস্যা হইত না?

সমস্যা তো হইত, আমার মায়ের সমস্যা হইত। কিন্ত নভেরার হামিদের সমস্যা হইত না।

নভেরা নাকি আপনার বইনের গহনা টহনা নিয়া গেছিল গা?

হ্যাঁ, সব মাইরা দিছে। তুমি জানলা কী কইরা?

এই পড়ছি একটু। আপনার ইন্টারভিউ নিব বইলা হাসনাত আবদুল হাইয়ের ঐ বইটা কালকে দেখলাম। তো দেখতে ছিলাম যে আপনেরে কীভাবে দেখেন হাসনাত আবদুল হাই। তো ভালই দেখছেন, খারাপ না। অনেক জিনিস আনতে পারছেন আপনার। নিয়া আসতে পারছেন। আরেক জায়গায় দেখলাম নভেরা আপনারে বলছে মানে আর্টের ব্যাপারে মোটামুটি জানেন। আপনার ব্যাপারে নভেরা মোটামুটি জানত নাকি?

মোটামুটিই জানত। কখনও তো কেউ বলেনি যে গভীরভাবে চিস্তাভাবনা করছে। আমি একবছর কাটাইলাম স্কাল্পচারের বই, বড় বড় বই ইন্ডিয়ান স্কাল্পচারের বই পড়লাম, তারপরে আমি বললাম যে আমি লিখব। আমি তো ইংরেজিতে ভাল ছিলাম, বাঙলাতেও ভাল ছিলাম, আর্টেও ভাল ছিলাম। তো আমি লিখব, তোমাকে বাঁচাব কারণ তোমার পরীক্ষা দেয়ার জো নাই।

তখন থিসিসটা আপনি লিখে দিছেন তারে?

হ্যাঁ।

বিনিময়ে কিছু দেয় নাই সে?

বিনিময়ে যৎকিঞ্চিৎ টাকা পয়সা দিছিল। তারপরে আমারই খাইয়া তুমি তো দেখ নাই, একটা আর্টিকেল লিখছিলাম স্মৃতিচারণ, গত সপ্তাহেই জনকণ্ঠতে বাইর হইছিল, গত সপ্তাহে।

নভেরার হাসবেন্ড নাকি আপনাদের এলাকায় থাকেন?

হু।

কোথায়?

ঐখানে।

পরিচয় আছে তার সঙ্গে?

আমার সঙ্গে তো ছিল, আইজি ছিল।

পুলিশের?

পুলিশের।

ও তাঁর থিকাই ভাইগা গেল আপনের ভাইয়ের লগে?

না, ও ভাইগা বিলাত চইলা গেল।

ঐখানে দেখা হইছে আপনের ভাইয়ের লগে?

ঐখানে দেখা হইছে।

তো আইজি সাহেব পরে কেস-টেস করেন নাই?

আইজি তো কেস করছিল বোধহয়। কিন্ত পরে ছাড়াছাড়ি হইয়া গেছে।

পরে ছাড়াছাড়ি হইয়া গেছে, ছয়মাস নাকি কয়মাস বাইরে থাকলে তো এমনিই ছাড়াছাড়ি হইয়া যায় শুনছি।

হয়।

তো উনি কি পরে আর কোনও উদযোগ নেন নাই? ওনার সঙ্গে আলাপ হইছে এই ব্যাপারে আপনার?

না, আমার সঙ্গে আলাপ হয় নাই। পুলিশের চাকরি করত, আমার সঙ্গেও হৃদ্যতা ছিল। সে সময় এসপি ছিল।

নাম কি ভদ্রলোকের?

কী নাম…

ভুইলা গেছেন?

ভুইলা গেছি, এসপি না, এএসপি ছিল।

আচ্ছা আপনার যে ০১/০১/১৯৩১ সালে জন্ম, মানে এটা তো অনেকেরই, আগের দিনের লোকদের নাকি প্রায়ই ১/১-এ জন্ম হইত।

হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমারও গোলেমালে ওইরকমই হইছিল। আমার মা বলত যে, আমার মায়ের দশটি ছেলেপুলে। তো আমাদের পাকের ঘরে আম্মা, আমি গেলাম যে আমার জন্ম কোনখানে? কত তারিখে? বলল যে সঠিক জানি না, কিন্ত একটা বড় তুফান হইছিল।

তখন আপনি হিসাব কইরা দেখলেন যে একত্রিশ সালে তুফান হইছিল?

বড় তুফান হইছিল কী কারণে বা কোন সনে শুনি নাই। তারপরে আমারে কইল যে তোমার দাদীর কাছে যাও, তোমার দাদীরে জিজ্ঞেস করো। আমি দাদীরে জিজ্ঞেস করলাম, দাদী আমার জন্ম কোন সময়? কইল যে একটা বড় তুফান হইছিল, কী সনে জানি, কিন্ত একটা বটগাছ পইড়া গেছিল। এই তথ্য আমাকে দিল। কিছুই হল না, আমি এতেই…

সন্তষ্ট আছেন?

সন্তষ্ট যা থাকার আছি।

আপনাদের সময় জন্মতারিখটা তো অত গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।

জন্ম লিখে দিতাম আমরা।

জন্ম হইত না তখন?

না হইত। আর জন্মতারিখ, মাস্টার আমাকেও বলেছিল যে লেখ জন্ম ০১/০১/৩১। মার্চে পরীক্ষা হইত আর পরীক্ষার আগে দিয়া তারিখটা একটা সেট কইরা, জন্মতারিখ লিখি। তো ০১/০১/৩১ আমার জন্মতারিখ, এই রকমই আছে আল্লার দরবারে। বুঝলা, আমি আর কথা বলব না, অনেক হইয়া গেছে। আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি যে আমি ক্ষুদ্র একটা মানুষ। নাড়াচাড়া করতে আছি দুইটা বাটি, দুইটা বদনা, তিনটা কলসি—এই খেলাই খেলছি।

আপনের লেঙ্গুয়েজের মজা আছে সেইটার ব্যাপারে বলতেছিলেন।

লেঙ্গুয়েজের মজা তো হারাইয়া গেছে। কারণ আমি ভাষা প্রয়োগ পারি না, ভাষা জানিও না। জানি না মানে ভাষা ভুলে গেছি। আমার ডিকশন আর কনভারসেশনের ফর্ম হারিয়ে গেছে। অনেক কষ্ট করে একটাই রাখছি।

না আপনার তো একটা মজা ছিল যে আপনি ঢাকাইয়া লেঙ্গুয়েজে খুব সুন্দর কথা বলতে পারতেন। আমার মনে হয় এখনও আপনি পারবেন এটা।

কিন্ত এখন অনেক কষ্ট করতে হয়।

শুদ্ধ ভাষায় বলতে কষ্ট হইতে পারে, কিন্ত ঢাকাইয়া ভাষায় বোধহয় কোনও কষ্ট হবে না।

হ্যাঁ, ঢাকাইয়া ভাষায় বলতে পারি। কিন্ত যদি শুদ্ধ ভাষা কইতে হয় আমার বারটা বাইজা যাইব। আর ঐ পাঁচমিশালী কইরাও, কারণ ভাষা আমার আয়ত্তে নাই। আমার আয়ত্তে যেটুকু আছে নিজের ভাষাটা? অ্যান্ড ভাষার… আমি তো গল্প বলতাম সুন্দরই। আর বিশ্ব নাটকে প্রগ্রাম করতাম সুন্দর। কিন্ত এখন গলায় ঐ জিনিসটা নাই। ঐ জিনিসটা করতে গেলে অনেক খাটতে হয়। তো আর খাটুম কতদিন? সাতষট্টি বছর হইয়া গেছে।

ধন্যবাদ।

আচ্ছা ধন্যবাদ। তো তুমি, তোমারে, আশা করব তোমার আগমন। তো তুমি, এইটা প্রত্যুক্তি করলে চলবে না, রাইসুর আর আমার হৃদ্যতা ভইরা থাক, একটু দেখাইয়া লইয়া যাইও। আমার চিন্তা কোনও ব্যক্তিকেই আঘাত করা নয়। আমি নিজের জান বাঁচাইয়া এই ধরা থেকে সরতে পারলে ভালো হয়।

‘ধরা’ শব্দটা খেয়াল করছেন নাকি, ধরা মানে হইল ধইরা রাখছে যে—ধরাধাম। তাইলে যাই সাঈদ ভাই।

আইচ্ছা আইচ্ছা।

লেখকের আর্টস প্রোফাইল: ব্রাত্য রাইসু
ইমেইল: bratya.raisu@gmail.com


ফেসবুক লিংক । আর্টস :: Arts

free counters


4 Responses

  1. কামরুজ্জমান জাহাঙ্গীর says:

    সাক্ষাৎকারটি আবারও পড়লাম। অনেকদিন আগে তা পড়া ছিল, অনেকটা ভুলেই গিয়েছিলাম। আবারও তা মনে করিয়ে দেয়ার জন্য ব্রাত্যকে শুভেচ্ছা। সাঈদ আহমদ আমাদের মডার্ন নাটকের একেবারে অগ্রদূত হিসাবেই গণ্য হবেন। শেষ নবাব নাটকটি নিয়ে আরও কথাবার্তা হতে পারত। এটি লিখতে তিনি সম্ভবত ১২ বছর সময় ব্যয় করেছেন। সিরাজ-উদ-দৌল্লাকে নিয়ে তিনি ছাড়াও আরও অন্তত তিনটি নাটক আছে। তাতে নানান ফ্যাকড়াও আছে। কেউ তাকে এমন নায়ক বানিয়েছেন, যেন বাঙলাদেশের চিন্তা বা স্বাধীনতার জন্যই তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন! কেউ তাকে বাঙালির সমন্বয়বাদী নেতা বানাচ্ছেন। কেউ তাকে মুসলমান বানাচ্ছেন। সাঈদ আহমদের চিন্তা-ভাবনা অনেকটাই যথোচিত। তার কালবেলা, তৃষ্ণা নাটক খুবই উন্নতমানের সাহিত্য।

    তার কথায় মাঝে মাঝে ঢাকাইয়া লোকাল টান আছে। আবদুর রাজ্জাক তো এই কাজের হাফেজই ছিলেন। তা ব্যবহার করছেন ব্রাত্য, এবাদুরসহ কেউ কেউ।

    বর্তমানে এই ধরনের ভাষার বাজার তৈরি হয়েছে। ঢাকাইয়াকেন্দ্রিক টিভি সিরিয়ালে তা বিক্রিও হচ্ছে। এতে এ ভাষার যে মাধুর্যময় ব্যবহারটা আছে, তার উপরে হস্তক্ষেপ হচ্ছে। কারণ এই ভাষা কর্তৃক অন্য ভাষার উপর একধরনের প্রভাববিস্তারি ব্যাপার-স্যাপার বুঝা যায়। এতে ভাষাজনিত উপনিবেশ বিস্তারের একটা সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। সময়ই বলে দিবে এর বিস্তার কোন্ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকে!

    – কামরুজ্জমান জাহাঙ্গীর

  2. জাইরাস ইমরান says:

    ধন্যবাদ রাইসু, সাঈদ ভাই-এর এই সাবলীল স্বতস্ফূর্ত সাক্ষাৎকারের জন্য।

    – জাইরাস ইমরান

  3. আরাফাত says:

    বিরক্তিকর, অর্ধেক পড়েই কাহিল হয়ে গেছি…।

    – আরাফাত

  4. ইমরান says:

    ‘ধরা’ শব্দটা খেয়াল করছেন নাকি, ধরা মানে হইল ধইরা রাখছে যে—ধরাধাম। তাইলে যাই সাঈদ ভাই।

    – ইমরান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.