কবিতা

বিলবোর্ড-নিবাসিনী

সুমন রহমান | 17 Jun , 2009  

rks2.jpg

চিরকাল দূরে থেকে-থেকে তুমি সুদূরের প্রণয়ভাগী হয়ে গেছো
চিত্রার্পিতা, বিলবোর্ড-নিবাসিনী, তোমার গমনোদ্যত পা
মুড়িয়ে দেয়ার জন্য আমি জমাচ্ছি আমার সকল অপরিণামদর্শিতা
সর্বব্যাপী প্রেমোক্র্যাসির ধোঁয়ায় তোমার যতোটুকু শ্বাসকষ্ট
আমি তার ততোধিক নীল নেবুলাইজার
তুমি আসছো মোরগের বিষ্ঠাভরা জংলা পার হয়ে
মিডিয়াগাছের ছায়াফাঁদ বাঁচিয়ে
আমার ডাকবাক্সের ধূলায়, আমার নিখিল বিজ্ঞাপনহীনতায়!

আমি তো তোমার অপলকময়তা দেখে-দেখে
কাঁথামুড়ি দিয়ে পাশ ফিরতাম
নয়তো তোমার গল্পঘরের বারান্দায় বসে দেখতাম
নৈশকোচগুলো গ্যারেজে ফিরছে একে-একে
ঠাণ্ডা চা আর পোঁতানো পপকর্ন গিলছে টহল পুলিশ—
একটা সিএনজি স্কুটার আরেকটাকে পেছনে-বেঁধে
চলে যাচ্ছে দূরে, কোনো সমকামী অভীপ্সার দিকে
এতসব দেখে-দেখে, তোমার নম্র উপেক্ষার ধ্যানে এ জীবন কাটিয়ে দিতাম
ফুটপাতে, শেষরাত্রির প্রিজনভ্যানে!

তোমার চুলে নিরুত্তাপ স্মরণসভার গন্ধ, যেন তুমি
কখনো মানুষ ছিলে, এখন কুঠুরি, দরজা-জানালা বন্ধ
কলতাবাজার কবরস্থান থেকে পালিয়ে আসা লম্বা-লম্বা সিপাহীদের ছায়া
তোমাকে পাহারা দেয়
তোমার বামচোখের ভেতর একটি ঘুরানো সিঁড়ি
উপরে উঠতে-উঠতে হারিয়ে গিয়েছে মহাশূন্যে
তোমার ডানচোখে অতীতকালের একটি চিৎকার জমে বরফ হয়ে আছে

আমি সেই রাত্রেই কসাইটুলি থেকে কুড়াল চুরি করে আনলাম
দেহপসারিনীদের ছেঁড়াখোঁড়া অভিলাষকে চিরদিনের মত বিদায় জানালাম
তখনো অনেক বাকি ভোর, মফস্বলগামী নিউজপেপার
স্তূপাকার হয়ে আছে জনশূন্য বাস টার্মিনালে
এদের ভাঁজে-ভাঁজে আমি বিছিয়ে দিলাম আমার না-লেখা প্রেমপত্রগুলোকে
ছোট আর একান্নবর্তী শহরগুলোর আলোবাতাসে ওরা
বড় হয়ে উঠবে একদিন!

এসে দেখি, তোমার গল্প থেকে এমন মোহময় সাবানের গন্ধ ছড়াচ্ছে
আর তা তন্ময় হয়ে গিলছে কয়েকটি নির্ঘুম কাক
তুমি কি ওদের সাথেই উড়বে নাকি, বিলবোর্ডবাসিনী!
ওরা কিন্তু সত্যি-সত্যি কাক নয়—কর্পোরেট মেটাফিজিক্স—
তোমাকে তোমারই স্মৃতির ভেতর কয়েদ করতে এসেছে, তারপর
বাসি মেট্রোপলিটনের পিঁপড়াগুলোকে ছেড়ে দেবে ওরা
তোমার সবুজ শাকসবজির আকাঙ্ক্ষার ভেতর

তবু, কোনোদিন ভোরবেলা জেগে আমি অবাক দেখবো শাদা বিলবোর্ড
অচেনা রূপসী, নতুন কমোডিটি—তোমার শ্রান্ত ডানাজোড়া আর
খুঁজেও পাবো না
যাদের আমি চোখের জলে এতকাল লুকিয়ে রেখেছিলাম!

সিঙ্গাপুর ১২ জুন ২০০৯

(অলঙ্করণ: রোকেয়া সুলতানা)

sumonrahman.70@gmail.com


35 Responses

  1. “চিত্রার্পিতা, বিলবোর্ড-নিবাসিনী, তোমার গমনোদ্যত পা
    মুড়িয়ে দেয়ার জন্য আমি জমাচ্ছি আমার সকল অপরিণামদর্শিতা”

    “তবু, কোনোদিন ভোরবেলা জেগে আমি অবাক দেখবো শাদা বিলবোর্ড
    অচেনা রূপসী, নতুন কমোডিটি—তোমার শ্রান্ত ডানাজোড়া আর
    খুঁজেও পাবো না”

    —অসাধারণ!

    “ছোট আর একান্নবর্তী শহর”

    —মুগ্ধ, অভিভূত আমি!

    চিত্রার্পিতা বিলবোর্ড-নিবাসিনীরা কসমোপলিটন আর মেট্রোপলিটন পেরিয়ে ছোট আর একান্নবর্তী শহরগুলোতে ইতোমধ্যেই ভিড় জমাতে শুরু করে দিয়েছে। কোনো এক অজপাড়াগাঁয় কোনোদিন ভোরবেলা জেগে মোরগের বিষ্ঠাভরা জংলার পাশেই মিডিয়াগাছের ছায়ায় অচেনা রূপসী, নতুন কমোডিটি-পরিবৃতা তার শ্রান্ত ডানাজোড়া খুঁজে পেয়ে সর্বব্যাপী প্রেমোক্র্যাসির ধোঁয়ায় হাঁসফাঁস করতে করতে হয়তো আমাদের মট্রোপলিটন মন ছোট আর একান্নবর্তী, বিজ্ঞাপনহীন একটি পৃথিবীর স্বপ্নে বিভোর হবে!

    সুমন রহমানকে টুপিখোলা অভিনন্দন।

    – এহসানুল কবির

  2. আদনান সৈয়দ says:

    ভালো লাগলো। ধন্যবাদ জানাই লেখককে।

    “তবু, কোনোদিন ভোরবেলা জেগে আমি অবাক দেখবো শাদা বিলবোর্ড
    অচেনা রূপসী, নতুন কমোডিটি—তোমার শ্রান্ত ডানাজোড়া আর
    খুঁজেও পাবো না
    যাদের আমি চোখের জলে এতকাল লুকিয়ে রেখেছিলাম!”

    চৈত্রের এই ভীষণ খরায় এ ধরনের কবিতা আবারো ভাবায়… বহুদূর নিয়ে যায়।

    – আদনান সৈয়দ

  3. নাসিফ আমিন says:

    এ লেখা খুব একটা বিস্মিত করিল না।

    – নাসিফ আমিন

  4. পূর্বা রহমান says:

    অসাধারণ!!!

    অতি আধুনিক! সুমন রহমানকে টুপিখোলা অভিনন্দন। (কাটপিস মারলাম।)

    বিশ্বাস করতে পারছি না এটা আমারি চেনাজানা কোনো মানুষের লেখা? সুমন আপনার ইদানিং কালের লেখা নিয়ে কোনো বই করছেন নাকি? আপনার ফেসবুকে লেখা বেশ কিছু কবিতা পড়ে একটা কথা না বলে পারছি না, আশা করবো আপনি কিছু মনে করবেন না। অনুবাদে ইচ্ছা হলে জীবনানন্দর কবিতা নিয়ে ভাবতে পারেন। আপনার জন্যই বোধহয় তিনি অপেক্ষায় আছেন । সিরিয়াসলি, আপনের বেশির ভাগ কবিতা পড়েই মনে হৈছে, আপনি নেরুদা’কে হজম করেছেন । আমি এ পর্যন্ত জীবনানন্দের কবিতার ইংরেজি অনুবাদ পাইনি, যেটা পড়লে তার বাড়ি বরিশাল বোঝা যায়। কবিতার অনুবাদ কবিতা, রি-ট্রান্সলেশান না। আমার ইসকুলে একটা ছোট্ট গল্প আছে, যারা কবিতা পড়ে। মূলত: নেরুদা। আমি একদিন জি. দাস-এর কথা বললাম, তারা পড়তে চায়। কিন্তু অনুবাদ কৈ?

    – পূর্বা রহমান

  5. এস.এম. রেজাউল করিম/মনু says:

    ‘…একটা সিএনজি স্কুটার আরেকটাকে পেছনে-বেঁধে
    চলে যাচ্ছে দূরে, কোনো সমকামী অভীপ্সার দিকে…’

    যৌনতায় active-passive discourse-এর পুনরুৎপাদন–এইটা কবির অভীপ্সা নাকি চিন্তার paradox?

    ‘…অচেনা রূপসী, নতুন কমোডিটি—তোমার শ্রান্ত ডানাজোড়া আর খুঁজেও পাবো না…’

    কবি সম্ভবতঃ রূপসী বদলপ্রক্রিয়ার বিরুদ্ধেই বলছেন কিন্তু সেটা বলতে গিয়ে আদতে বদলে কবির অস্বস্তি/বেদনা কবিতায় হাজির। কবি একগামিতার পাহারাদার হয়ে যাচ্ছেন কি?

    – এস.এম. রেজাউল করিম/মনু

  6. তারিক টুকু says:

    বেশ ভালো লাগলো।

    “তোমার চুলে নিরুত্তাপ স্মরণসভার গন্ধ, যেন তুমি
    কখনো মানুষ ছিলে, এখন কুঠুরি, দরজা-জানালা বন্ধ
    কলতাবাজার কবরস্থান থেকে পালিয়ে আসা লম্বা-লম্বা সিপাহীদের ছায়া
    তোমাকে পাহারা দেয়”

    …..
    “তবু, কোনোদিন ভোরবেলা জেগে আমি অবাক দেখবো শাদা বিলবোর্ড
    অচেনা রূপসী, নতুন কমোডিটি—তোমার শ্রান্ত ডানাজোড়া আর
    খুঁজেও পাবো না
    যাদের আমি চোখের জলে এতকাল লুকিয়ে রেখেছিলাম!”

    মনে থাকবে।

    – তারিক টুকু

  7. সুমন রহমান says:

    @ এস.এম. রেজাউল করিম/মনু

    ১. “কবি” নয়… উত্তম পুরুষ চরিত্রটিকে বর্ণিত বাস্তবতায় লোকেট করতে পারলে সম্ভবত আপনার এই প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন। কবিতায় তাকে কবির ব্যক্তিত্বের সাপেক্ষে কোথাও কোথাও একটু রিলোকেট করা হয়েছে মাত্র।

    ২. “কবি সম্ভবত রূপসী বদলপ্রক্রিয়ার বিরূদ্ধেই বলেছেন”… মনে হয় না। তাও যদি এই ভাবনাকে পলিটিক্যালি দেখতে চান তবে সম্ভবত Commodity fetishism তত্ত্ব আপনাকে ক্লু দিতে পারবে।

    – সুমন রহমান

  8. দুর্দান্ত! অসাধারণ!
    অভিনন্দন সুমন রহমান।

    “তবু, কোনোদিন ভোরবেলা জেগে আমি অবাক দেখবো শাদা বিলবোর্ড
    অচেনা রূপসী, নতুন কমোডিটি—তোমার শ্রান্ত ডানাজোড়া আর
    খুঁজেও পাবো না
    যাদের আমি চোখের জলে এতকাল লুকিয়ে রেখেছিলাম!”

    – নুরুজ্জামান মানিক

  9. এ. কে. এম. ওয়াহিদুজ্জামান (এ্যাপোলো)) says:

    সুন্দরম!

    “আমি তো তোমার অপলকময়তা দেখে-দেখে
    কাঁথামুড়ি দিয়ে পাশ ফিরতাম
    নয়তো তোমার গল্পঘরের বারান্দায় বসে দেখতাম”

    সত্যি… খুবই সত্যি।

    “তবু, কোনোদিন ভোরবেলা জেগে আমি অবাক দেখবো শাদা বিলবোর্ড
    অচেনা রূপসী, নতুন কমোডিটি—তোমার শ্রান্ত ডানাজোড়া আর
    খুঁজেও পাবো না
    যাদের আমি চোখের জলে এতকাল লুকিয়ে রেখেছিলাম!”

    ভয়।
    যেন সত্যি না হয়।

    আরো লিখুন।
    – এ. কে. এম. ওয়াহিদুজ্জামান (এ্যাপোলো))

  10. Akm Khairuzzaman says:
    ….তোমার বামচোখের ভেতর একটি ঘুরানো সিঁড়ি
    উপরে উঠতে-উঠতে হারিয়ে গিয়েছে মহাশূন্যে
    তোমার ডানচোখে অতীতকালের একটি চিৎকার জমে বরফ হয়ে আছে….

    বাহ বাহ… সুন্দর।

    কবি সুমন রহমানকে আমার এক রাশ শুভেচ্ছা এত সুন্দর একটি কবিতা উপহার দেয়ার জন্য। কবির প্রতিভায় আমি মুগ্ধ। বারবার পড়লাম কবিতাটি। আই ডোন্ট নো হাউ ক্যান ইউ রাইট নাইস পোয়েমস লিভিং ইন এ কমার্শিয়াল সিটি লাইক সিঙ্গাপুর। ইউ মাস্ট হ্যাভ এ নাইস ভিশন। কীপ ইট আপ অ্যান্ড টেক কেয়ার।

    – Akm Khairuzzaman

  11. “…তোমার নম্র উপেক্ষার ধ্যানে এ জীবন কাটিয়ে
    দিতাম
    ফুটপাতে, শেষরাত্রির প্রিজনভ্যানে!”
    “…তোমার চুলে নিরুত্তাপ স্মরণসভার গন্ধ…”
    “তোমার বামচোখের ভেতর একটি ঘুরানো সিঁড়ি
    উপরে উঠতে-উঠতে হারিয়ে গিয়েছে মহাশূন্যে”,- অসাধারণ সবগুলো দৃশ্যকল্প-উপমা…

    “তোমার ডানচোখে অতীতকালের একটি চিৎকার জমে বরফ হয়ে আছে”,
    – এই লাইনটা পড়ে কেন যেন হুমায়ুন আজাদের কথা মনে পড়ল…

    খুব ভালো লাগলো সুমন রহমানের সাম্প্রতিক কবিতাটি পড়ে…।

    – সালাউদ্দিন ফেরদৌস

  12. মাহবুব পিয়াল says:

    সাধুবাদ জানাই সুমনকে। পড়তে ভাল লাগে; কিন্তু তাকে কেন যেন পাচ্ছি না।

    – মাহবুব পিয়াল

  13. Imrul says:

    কবিতাটাতে একটা পুরান সুর আছে, যেইটার ভিতর আমরা মনে হয় একটা সময় বুঁদ হয়ে থাকতাম … কবিতা হিসাবে এইটা অনেকটা মধ্যরাতে নদী, পশুর নদী পেরিয়ে কিংবা ছোট খালার চলে যাওয়ার সহধর্মী বলে মনে হইছে… কারণ এইটার মধ্যে একটা এপিক ব্যাপার আছে… ।

    কবিতার এই অনুভূতিটার মধ্যে একটা প্র্যাকটিক্যাল ইম-ম্যাচুরিটি আছে, যেইটা আমি নিজের ভিতর খুব ফিল করি, মানে অ্যাজ ইফ টাইপের একটা ফিলিংস… প্রায়ই মনে হয় যে, এইটা না থাকলে আসলে কবিতা-ই হয় না… এই বিষয়টাকে হয়তো আরো অন্যভাবেও বলা যাইতে পারে… ।

    সুমন রহমানের কবিতা পড়লে সবসময়ই অন্যরকম একটা ব্যাপার ঘটে… ভিতরটা হালক হালকা হয়ে আসে, একটা শূন্যতার বোধ জেগে উঠে… করপোরেট মেটাফিজিক্স-এর ভিতর বসে ক্লান্তি আরো বাড়তে থাকে…।

    – Imrul

  14. শামীমা বিনতে রহমান says:

    এই কবিতাটিকে আমি পুরাপুরি আরবান মেটাফোর বলতে চাই।

    আরবানিটি নিয়া খুব মহব্বত বা মাতামাতি আমার নাই, বাট ঢাকা শহরের সেমি মেট্টোপলিটনে কাকগুলা যখন কর্পোরেট মেটাফিজিক্স হয়, তখন আমি বামচোখের ভেতরকার মহাশূন্যগামী ঘুরানো সিঁড়ি আর ডান চোখের জমা বরফের উত্তাপই নেই। অতীতকালের চিৎকারে তো বরফই জমে।

    উপমার ব্যবহার, তার ভেতরে উদ্ভাস, উল্লাস, বেদনার আঁচড়: ছেঁড়া-ছেঁড়া, খাবলা-খাবলা, আবার একটা সুতায় যেমন বানছেন; এইটা রিফ্লেকশন অব আরবান মেটাফোর। এই কবিতাটা মনে হইছে আমি। এইটা আমারই কবিতা।

    ‌’কবি যে কোন চুলোয় যাবে, কেউ জানে না’; কিন্তু এই কবিতাটা আমার। আমাদের।

    আপনার কবিতা আর আমার গল্প–আসুন আমরা মেটাফোরের লন টেনিস খেলি। হাঃ হাঃ হাঃ সিরিয়াসলি।

    – শামীমা বিনতে রহমান

  15. সুমন রহমান says:

    পুরানা প্রেমের সমস্যা মনে হয় এটা @ মাহবুব পিয়াল। এখানে যাকেই পাওয়া যাচ্ছে তাকেই “সুমন রহমান” হিসেবে পাঠ করে ফেললে সম্ভবত সমস্যা মিটে যাবে।

    – সুমন রহমান

  16. সোহেল হাসান গালিব says:

    যে কোনো কবিতার টেকনিককে দুভাবে বিচার করা যায়। ফিশান এবং ফিউশান পদ্ধতি। সমালোচনার জন্য এগুলা জুৎসই শব্দ কিনা জানি না। তবে এই কবিতাটা ফিশান পদ্ধতির। অনুভূতির একটা কেলাস চূর্ণ চূর্ণ হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এবং তৎপর চূর্ণটাই কেলাসে রূপান্তরিত হচ্ছে। যেমন : স্মরণসভা থেকে চোখের ভেতরকার ঘুরানো সিঁড়ি।

    এ-টাইপ কবিতার বিপদ হলো, যে কোনো মুহূর্তে তা ঝুলে পড়তে পারে। কবির দক্ষতা এখানেই যে, তা ঝুলে পড়ে নি। তবে সুরের ক্ষেত্রে, ‘ওরা কিন্তু সত্যি-সত্যি কাক নয়’ কথাটা একটু কানে লাগলো। এটা বলবার দরকার ছিলো কিনা কিংবা বললেও অন্যতর হতে পারতো কিনা ভাবনায় বিষয়।

    প্রবাসজীবনের কবিতা এক অর্থে অন্তরীণকালের কাব্যও বটে। এ ধরনের কবিতার ভেতর কেমন যেন একটা আকুতি থাকে। উদাহরণ দেয়া যাবে প্রচুর। এ কবিতাটিও বেশ সংক্রামক। এটা অবশ্য কাব্যবিচারের উৎপ্রসঙ্গ। কবির অবস্থান জানি বলে মিলিয়ে দেখলাম।

    – সোহেল হাসান গালিব

  17. শামসেত তাবরেজী says:

    আমার কাব্যতৃষ্ণা বড় তীব্র, মদ্যপদের মত। কিন্তু তেমন লেখা খুব একটা পাই কই? বলিষ্ঠ লেখা প্রায় উবে গেছে নানাবিধ রাষ্ট্রীয় শয়তানির সঙ্গে-সঙ্গে। এর মধ্যে সুমন যখন একটা লেখেন, আমার রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখার ডাক্তারি পরামর্শ সত্বেও তা উপরের দিকে ধায়। বিশেষ দু-একটা চরণ ভাল হলেই কবিতা উৎরে যায়, আমি তা বিশ্বাস করি না। সুমনের লেখার গুণই হল শুরু থেকে শেষতক তিনি কবিতাটা নির্মাণ করেন। যে-জ্ঞানকাঠামোর ভিতর দিয়ে সুমন চিন্তা করেন, কবিতা লেখার সময় সেটা আবিল হয়ে যায় না। এটা হল সুমনের লেখার মস্ত একটা গুণ। আমার ইদানিং মনেই হয়, কবিতা দর্শনেরই আর এক ভাই অথবা দর্শনচর্চার আর এক ব্যক্তিগত পদ্ধতি। সুমন এখানেও সচেতন এবং তাঁর মুন্সিয়ানা যথেষ্ট। আমার যেমন বিশ্বাস, শিল্প-টিল্প নেহাৎ গদগদ মধ্যবিত্তের বিষয়, সুমনের লেখায় আমি সেই চ্যালেঞ্জ-টাও দেখি। মধ্যবিত্তের এই শিল্পের বিরুদ্ধে ওর যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হোক।

    – শামসেত তাবরেজী

  18. hasiba ali borna says:

    ভাল লেগেছে… প্রথম কয়েক ছত্র অসাধারণ, শেষটাও!

    – hasiba ali borna

  19. শাহীন মোমতাজ says:

    কাল পড়েছি। আজকেও পড়লাম। হয়তো আগামীকালকেও পড়তে হবে এই কবিতাটা। মফস্বলে বসে কবিতাটাকে এর কলকব্জাসমেত ধরে ফেলবার শক্তি সঞ্চয় করার জন্য সম্ভবতঃ আর কোনো বিকল্প নাই। আপাতত কেবলই

    “তোমার গমনোদ্যত পা
    মুড়িয়ে দেয়ার জন্য আমি জমাচ্ছি আমার সকল অপরিণামদর্শিতা
    সর্বব্যাপী প্রেমোক্র্যাসির ধোঁয়ায় তোমার যতোটুকু শ্বাসকষ্ট
    আমি তার ততোধিক নীল নেবুলাইজার
    তুমি আসছো মোরগের বিষ্ঠাভরা জংলা পার হয়ে
    মিডিয়াগাছের ছায়াফাঁদ বাঁচিয়ে
    আমার ডাকবাক্সের ধূলায়, আমার নিখিল বিজ্ঞাপনহীনতায়!”

    এই অংশে বারবার চোখ চলে যাচ্ছে। যতবার পড়ি, ততবারই।

    – শাহীন মোমতাজ

  20. সরকার হায়দার says:

    অসাধারণ !!!

    প্রিয় ঢাকা শহর বিলবোর্ডমুক্ত হবে কি কোনোদিন?

    – সরকার হায়দার

  21. মুক্তি মণ্ডল says:

    অনেক দিন এমন টাটকা কবিতা পড়া হয় না। কবিতাটা পড়তে পড়তে চোখের আরাম যেমন পেলাম, মনের আরামও পেলাম।

    মোট কথা, কবিতার ভিতর সহজভাবে ঢুকতে পারলাম। কবিতায় ব্যবহৃত শব্দগুলাও খুব সাধারণ কিন্তু ভাল লাগছে। এই কবিতার ভিতর একটা র-নেস আছে, খুব গভীর একটা সুরের টানও পাচ্ছি। আর মনোসরণীতে বেজে চলছে একখানা ‘কেমন কেমন’ ‌’ভাব’। সুমন রহমান, পপকর্ন শব্দটা আমার কাছে তেমন ভাল লাগে নাই। ভূট্টা হলে আমার কাছে মনে হচ্ছে আরো জমতো। আরো কয়েকবার পড়বো…।

    – মুক্তি মণ্ডল

  22. আহমাদ মাযহার says:

    কবিতার কতগুলো শর্ত চিরকালীন বলে মনে হয়। সময়ের নতুন অনুষঙ্গ সেই শর্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে পাঠকের মনে নতুন অনুভূতির স্পর্শ দেয়। সত্যিকারের কবিই এই উপলব্ধির নবীনতাকে ভোক্তাদের সামনে নিয়ে আসতে পারেন। পারেন কবি সুমন রহমানও। এই জন্য আমি তাঁর কবিতার অনুরাগী। সুমন রহমান তাঁর ‘‌বিলবোর্ড-নিবাসিনী’ কবিতায় বাণিজ্যিক তৎপরতাস্পৃষ্ট সমকালের অনুভব ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর সেই অনুভূতির উপস্থাপনা সচেতন বুদ্ধির ক্রীড়ায় পরিণত হয় নি। সম্ভবত সে-কারণেই এই কবিতা আমাকে স্পর্শ করেছে। সম্ভবত বললাম এই কারণে যে শব্দ-ধ্বনি-অলঙ্কারসমন্বিত কবিতার ভাষ্য ভোক্তাহৃদয়ে পরিপূর্ণ বাঙ্ময় কোনও অর্থ পৌঁছে দিতে পারে না। সুতরাং আমি যা অনুভব করছি কবি তা-ই অনুভব করাতে চাইছেন এমনটি নাও হতে পারে!

    – আহমাদ মাযহার

  23. সুমন রহমান says:

    সোহেল হাসান গালিব এবং মুক্তি মণ্ডল এর দুটো বিষয়ে সমালোচনার উত্তরে কিছু না বলা অসমীচীন হবে বোধ হয়। বিষয়টা আমার কাব্যবিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত যেহেতু। আমি ঠিক মনে করি না যে কবিতা মানেই “সর্বোৎকৃষ্ট শব্দের সর্বোত্তম বিন্যাস”। আমার বিবেচনায় এই ধারণা রোমান্টিক এবং পরিণামে আধিবিদ্যক। গালিব যেমন “ওরা সত্যি সত্যি কাক নয়” শ্রবণে একটু খটকা পেয়েছেন, বা মুক্তি যেমন “পপকর্ন” ব্যবহার থেকে “ভুট্টা” শব্দের ব্যবহার প্রেফার করছেন, তেমনি এখানে আরো আরো “বিকল্প” পেয়ে যাওয়া সম্ভব। আমার মতে এই বিকল্পগুলো বিদ্যমান প্রপঞ্চকে খারিজ করে না, বরং আরো সম্ভাবনা হাজির করে। কারণ কবিতা, নেরুদা যেমন বলেন, আদতে একটা ইমপিউর জিনিস। একে তিলোত্তমা বানাতে গিয়ে আমরা প্রায়ই এর প্রাণ হরণ করি, “সোনার পিত্তলমূর্তি”তে পরিণত করি, কিন্তু প্রকৃত কবিতা, লোরকা যাকে “দুয়েন্দে” বলেন, বা যা কিনা জীবনানন্দীয় বিপন্নতার বিস্ময়, তা হারিয়ে যায়।

    – সুমন রহমান

  24. সেলিনা শিরীন শিকদার says:

    এটা কি ফুটপাথবাসীর নিঃসঙ্গ কণ্ঠের নিঃস্বতার প্রতিধ্বনি আপনার রাজনীতি সচেতন কণ্ঠস্বরে ধাক্কা খেয়ে তৃতীয় মাত্রায় আমাকে দিয়েছে বিষণ্ন ব্যঞ্জনা? এটা কি সেইসব গৃহহীনের গোপন আর্তনাদ যার মনো-সামাজিক একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে পথের পরিবেশের সাথে, মানুষটি তাই বিলবোর্ডে আকাঁ নারীর দিকে চেয়ে চেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে আবেশে? (তাঁর অজানা সব কারণে) বহুজাতিক সংস্থার বিজ্ঞাপন বিন্যাস বদলে গেলে কিংবা রাজধানীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু হলে যখন বদলে যায় তাঁর বান্ধব বিলবোর্ড চিত্র (কিংবা এমনই কোনো আপন পরিবেশ) — তখন তার মাঝে সৃষ্টি হয় ক্ষুব্ধতা, বেদনা কিংবা অস্থিরতা অথচ তার কিছুই বলার থাকে না? বিশ্ব রাজনৈতিক অর্থনীতি বুঝি এমনই সন্ত্রাসী বিন্যাসে অলৌকিক সব ভেল্কি খেলে আমাদের সাথে? আর আপনি এমন নিবিড় নাগরিক ফুটপাথবাসী চিত্রকল্পে সাজিয়েছেন এই কবিতা স্বার্থপরের মতো একা একা? সুমন কবি, এবার আপনি বলুন আপনাকে কেন ঈর্ষা করা জরুরী না?

    অনেক অনেক অভিনন্দন।

    – সেলিনা শিরীন শিকদার

  25. পূর্বা says:

    সেলিনা ,

    আপনার তরজমা খুবি অর্থপূর্ণ হইছে, আমারও এই রকম মনে হইছে কবিতাখানি পাঠ কইরা।

    – পূর্বা

  26. soroishwarja says:

    ভালো লাগা তাড়িয়ে নিয়ে এলো। যে কারণে এই বক্সে প্রতিক্রিয়া…। অসম্ভব সুন্দর লেখা।

    – soroishwarja

  27. রেজাউল করিম/মনু says:

    সুমন রহমান,

    আমি যে উত্তর পাচ্ছি—কবিতার উত্তম পুরুষ থেকে কবি যদি তফাতে থাকেন তবে ঐ paradox কোনো তরফেই থাকে না। কবি স্বীকার করে নিলেন কবিতার উত্তম পুরুষ ঐ discourse-এই ভাবেন। এইভাবে কবির দায়মুক্তি ঘটলো।

    নতুন প্রশ্নও পাইলাম একটা-কবিতায় কোনো মতাদর্শিক পরিসর পুনরুৎপাদনের দায় কবির উপর আদৌ না বর্তাতে পারে কি?

    – রেজাউল করিম/মনু

  28. সুমন রহমান says:

    বিমর্ষ লাগছে, রেজাউল করিম/মনু, এটা ভেবে যে “দায়” বা “দায়মুক্তি”র ভাবনার চক্করে আপনি হয়তো কবিতার স্বাদটাই নিতে পারছেন না! যে প্রশ্নগুলো আপনাকে হন্ট করছে এই কবিতাটিকে ঘিরে, তার সাথে বোঝাপড়া না-করেই আমি এই লেখা লিখেছি এমন নয়। সেই ইশারা আমি আগের মন্তব্যে দিয়ে রেখেছিলাম, বিস্তারে যাই নি এই ভেবে যে এখানে কবিতা যেভাবে সঞ্চারিত হচ্ছে তাতে এর পাঠকরা এই ধরনের নীরস আলোচনায় বিরক্তবোধ করতে পারেন। টেক্সটে কিংবা রঙের আঁচড়ে লেখকের যতটুকু সামাজিক দায়বোধ বা মতাদর্শিক অরিয়েন্টেশন ফুটে ওঠে তাকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসার দরকারও হয়ত আছে। তবে সেটা গৌণ উদ্দেশ্য হলে ভালো। মুখ্য উদ্দেশ্য হতে পারে, বর্তমান প্রেক্ষিতে, এই কবিতাটি আপনাকে বিনোদিত করল কি করল না সেটাই। পরিশেষে, কিছুদিন আগে ফেসবুকে কবি মুজিব মেহদীর উদ্দেশ্যে করা আপনারই একটা মন্তব্য খানিক প্যারাফ্রেজ করে আপনাকে বলি: কবিতা যদি মতাদর্শিক সারভেইল্যান্স ছাড়া আপনার মাঝে আর কোনো নান্দনিক তৎপরতা তৈরি করতে না পারে, তবে আপনার জন্য করুণা!

    – সুমন রহমান

  29. শিমুল সালাহ্উদ্দিন says:

    ভক্তের কথা না ধরা এবং না শোনাই ভালো। কবিতা মুগ্ধতা দিয়েছে। শুভকামনা।

    – শিমুল সালাহ্উদ্দিন

  30. সুমন রহমানের ‘বিলবোর্ড-নিবাসিনী’ কবিতাটা পড়লাম। আমার কাছে এই কবিতাটিকে মোটেও কোনও নতুন কবিতা মনে হয়নি। এই কবিতার বিষয় বৈচিত্র অনুসন্ধানের দিকটি থেকে শুরু করে কাব্যভাষা, কবিতার চিত্রকল্প এবং এর গতি প্রকৃতি সব কিছুকে কখনও মনে হয়েছে তিরিশের কোনও প্রধান কবিতার ইংরেজি অনুবাদের ফের ২০০৯সালীয় বাংলা অনুবাদ পড়ছি। কখনও মনে হয়েছে পঞ্চাশের এবং পরবর্তীতে বাঙলা ভাষার প্রধানতম কবির কবিতার ভাষার কাছ থেকে ধার করা চিত্রকল্প নিয়ে রচিত। অনেক চেষ্টা করেও কোনও ভাবেই সুমন রহমানের নিজস্ব ভাষাটিকে খুঁজে পাচ্ছি না। এইটা আমার একধরনের অক্ষমতাও হতে পারে। আমার সীমাবদ্ধ দৃষ্টিতে যেটুকু ধরা পড়েছে তা কিছুটা বর্ণনা করতে চেষ্টা করলাম।

    কবিতা হিসেবে যদি এর ভালো মন্দ দিকগুলিকে নিয়ে অঙ্ক কষি তবে দেখবো হয়তো আকারের দিক থেকে দীর্ঘাকৃতির হওয়ার কারণে প্রভাব লক্ষ করা পূর্বোক্ত কবিদের এলায়িত তরল বাক্যের চাইতেও কোথাও যেন গড়িয়ে পড়েছে তেলের শিশি উল্টে ফেলার মতো করে।

    ‘তোমার চুলে নিরুত্তাপ স্মরণসভার গন্ধ, যেন তুমি
    কখনো মানুষ ছিলে, এখন কুঠুরি, দরজা-জানালা বন্ধ
    কলতাবাজার কবরস্থান থেকে পালিয়ে আসা লম্বা-লম্বা সিপাহীদের ছায়া
    তোমাকে পাহারা দেয়’….

    এবং

    ‘তবু, কোনোদিন ভোরবেলা জেগে আমি অবাক দেখবো শাদা বিলবোর্ড
    অচেনা রূপসী, নতুন কমোডিটি—তোমার শ্রান্ত ডানাজোড়া আর
    খুঁজেও পাবো না’

    এই লাইন ক’টি ভালো লেগেছে।

    – মশিউর রহমান খান

  31. আমিনুল বারী শুভ্র says:

    ‘বিলবোর্ড-নিবাসিনী’ আমার প্রিয় কবিতার তালিকায় যুক্ত হওয়া আরেকটি নাম। ঠিক যে কারণে প্রিয়’র তালিকা জুড়ে আছে ‘ছোট খালার চলে যাওয়া’, ‘লালাবাই’, ‘মধ্যরাতে নদী’, কিংবা ‘পশুর নদী পেরিয়ে’। বিষয়বৈচিত্র্য, চিত্রকল্প আর অনন্য গল্প বলার ভঙ্গির পাশাপাশি কবিতাটি রাজনৈতিক সচেতনতায় বিশিষ্ট। আটপৌরে জীবনের ভেতর করপোরেট মেটাফিজিক্স!

    কিন্তু, চমকে উঠলাম মশিউর রহমান খানের প্রতিক্রিয়াটি দেখে। ঊনি এ কবিতায় কোনো নতুনত্ব পাননি। উনি পেয়েছেন ‘তিরিশের কবিতার ইংরেজি অনুবাদের ফের ২০০৯সালীয় বাংলা অনুবাদ’ পঞ্চাশের এবং পরবর্তীতে বাঙলা ভাষার প্রধানতম কবির কবিতার ভাষার কাছ থেকে ধার করা চিত্রকল্প এবং বিনয়বশত বোধগম্যতার অক্ষমতাকে হাজির করেছেন ।

    কিন্তু, উনি কোনো যুক্তি কিংবা উদাহরণে গেলেন না। আর নতুনত্ব বলতে ঠিক কোনটাকে বোঝেন (!) মশিউর রহমান খান? মন্তব্যের সাথে বিষয়গুলি হাজির নাজির থাকলে আপনার মন্তব্যটি এত দায়িত্বজ্ঞানহীন মনে হতো না। ‘তিরিশের কোনও প্রধান কবিতার’ কিংবা ‘পঞ্চাশের এবং পরবর্তীতে বাঙলা ভাষার প্রধানতম কবির কবিতার ভাষার’ মত স্টান্ট ব্যবহার না করে আপনার নিজের মন্তব্যকে জাস্টিফাই করা উচিত।

    আপনি ত্রিশ বা পঞ্চাশের কোন কবিতা দিয়ে আপনি আপনার মন্তব্যটি জাস্টিফাই করছেন এটা না জানালে এর উদ্দেশ্য এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে আমাদের সন্দেহ দৃঢ়মূল হতে বাধ্য।

    – আমিনুল বারী শুভ্র

  32. নূর সিদ্দিকী says:

    বলা যায় অনেকদিন পর এমন কবিতা পড়লাম। ভাল লাগল। শুধু ভাল লাগল বললে বোধ হয় খানিকটা কমই বলা হয়। অনেকগুলো চিত্রকল্প আর গল্পের মেলবন্ধন মনে হয়েছে আমার কাছে। আমি বিশ্বাস করি এই কবিতার বিশেষ কোনো লাইনকে আলাদা করে তুলে ধরার মানেই হলো পুরো কবিতাকেই তুলে ধরে। ছবি কি ভেঙে ভেঙে দেখা যায়?

    তোমার গল্প থেকে এমন মোহময় সাবানের গন্ধ ছড়াচ্ছে
    আর তা তন্ময় হয়ে গিলছে কয়েকটি নির্ঘুম কাক
    তুমি কি ওদের সাথেই উড়বে নাকি, বিলবোর্ডবাসিনী!
    ওরা কিন্তু সত্যি-সত্যি কাক নয়—কর্পোরেট মেটাফিজিক্স—
    তোমাকে তোমারই স্মৃতির ভেতর কয়েদ করতে এসেছে, তারপর
    বাসি মেট্রোপলিটনের পিঁপড়াগুলোকে ছেড়ে দেবে ওরা
    তোমার সবুজ শাকসবজির আকাঙ্ক্ষার ভেতর

    তবু, কোনোদিন ভোরবেলা জেগে আমি অবাক দেখবো শাদা বিলবোর্ড
    অচেনা রূপসী, নতুন কমোডিটি—তোমার শ্রান্ত ডানাজোড়া আর
    খুঁজেও পাবো না
    যাদের আমি চোখের জলে এতকাল লুকিয়ে রেখেছিলাম!

    – নূর সিদ্দিকী

  33. লীনা says:

    এই কবিতাতো হিট!

    – লীনা

  34. মনসুর আজিজ says:

    ভালো লাগলো। নিজস্ব কাব্যভাষা আছে কবিতাটিতে।

    – মনসুর আজিজ

  35. নান্নু মাহবুব says:

    তোমার চুলে নিরুত্তাপ স্মরণসভার গন্ধ…
    নীল নেবুলাইজার…
    …অনেকদিন মনে থাকবে।

    – নান্নু মাহবুব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.