আর্ট, রিয়ালিটি আর ডিজিটালের চক্করে বাংলা সিনেমা

রাজীব আহমেদ | ১৪ জুন ২০০৯ ১:৩২ অপরাহ্ন

dubshantar.jpg
ডিজিটাল ফর্ম্যাটের ছবি ডুবসাঁতার; পরিচালক ছবিটিকে ‘ডিজিটাল মুভি’ হিসাবে পরিচয় করিয়ে দিতে চাইছেন।

পঞ্চাশোর্ধ কোনো এক কবীর সাহেব (বা অন্য কোনো সাহেবও হতে পারেন। তবে সাহেব হতে হবে।) এখন আর সিনেমা হলে মুভি দেখতে যান না। বয়সটা বোধহয় এক্ষেত্রে বড় সমস্যা নয়। তার মধ্যবিত্ত মন তাকে বলে: কবীর, এখন আর সিনেমা হলে যাইও না। ওখানে এখন রিকশাঅলারা যায়—হলের পরিবেশ বলে কিছু নেই আর। মুভিগুলো তো যাচ্ছেতাই। অশ্লীলতায় ভরা, স্থুলতায় ভরা, কদর্যে ভরা। এদেশের আর কিছুই হবে না, কবীর।
—————————————————————–
অর্ধেকেরও বেশি সিনেমা হল আজ বন্ধ হয়ে আছে। কিছু কিছু হল টিকে আছে এক টিকেটে দুইটি বিদেশী ছবি দেখিয়ে। এ সময়ে দরকার ছিল একটি মুভমেন্টের–সেটা হলো মেইনস্ট্রিম মুভিকে বাঁচিয়ে রাখার মুভমেন্ট। যেমনটা হলিউড ঠেকাতে তৈরি হয়েছিল ফ্রেঞ্চ নিউ ওয়েভ। আমরা কেউ ওদিকে নজর দেই না। আমরা ধরেই নিয়েছি ওটা যাওয়ার মতো জায়গা না—আমাদের মতো এলিটদের জায়গা ওটা না।
—————————————————————-
কিন্তু তিনি কি মুভি দেখা বাদ দিয়েছেন? না তা নয়;তিনি এখন ডিভিডিতে মুভি দেখেন, স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলিতে মুভি দেখেন। মুভি দেখার মাধ্যম এবং পরিবেশটা পাল্টে নিয়েছেন নিজের মতো করে। তার সামনে এখন অপশন অনেক বেশি, নিজের ইচ্ছামতো মুভিটা নিয়ে গবেষণাও করতে পারছেন। এই তো সেদিন ঐশ্বর্য রাইয়ের একটা নৃত্যদৃশ্য (কজরা রে…) দেখে রীতিমতো উত্তেজিত হয়ে বিশেষ বিশেষ জায়গাগুলি আগে-পিছে করে দেখেছেন। শুধু তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (বা অন্য কোনো নামও হতে পারে।) মৃদু তিরস্কার করেছিলেন এই বলে যে, তার নাকি বুড়ো বয়সে ভীমরতি হয়েছে।
—————————————————————–
জাতি হিসাবে আমরা ইরানিদের চেয়ে কম রক্ষণশীল। কিন্তু শিল্প-সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রে ইরানের ঐতিহ্য সুদীর্ঘ এবং বিস্তৃত। ফলে তারা যখন ছবিতে কথা বলতে যায় তখন তাদের রক্ষণশীল সমাজের উপযোগী রাজনীতি, নারী-পুরুষ সম্পর্ক ও প্রকৃতি নিয়ে কথা বলতে হয় তাদের—এ কারণেই তাদের ছবিগুলিতে এত শিশুর আধিক্য আর নিষ্পাপতা নিয়ে প্রায় মিশনারী কচকচানি—মানব জীবনের টোটালিটি তাদের ছবিতে অনুপস্থিত।
—————————————————————-
এই কথার উত্তরে তিনি বলেছিলেন যে নায়িকারা যদি দেখাতে পারে তাহলে তার দেখতে দোষ কী? কবীর সাহেবের মধ্যবিত্ত শ্রেণিচরিত্র আবার তাকে ডাক্তার জাকির নায়েকের ধর্মীয় বিবৃতি ও বিতর্ক শুনতেও বাধ্য করে, যখন কিনা তিনি টিভির চ্যানেল পাল্টাতে পাল্টাতে পিস টিভি অথবা এদেশের ইসলামিক টিভি চ্যানেলে চলে আসেন অজ্ঞাতসারে। ডাঃ নায়েকের বাগ্মীতা যতখানি না তাকে চ্যানেলটি দেখতে বাধ্য করে তার চেয়ে বেশি বাধ্য করে ধর্মীয় চেতনা ও আখেরাতের চিন্তা।

এই দেশের মুভি এবং মিডিয়ার সাথে দীর্ঘদিন এবং স্বল্পদিন যারা কাজ করছেন তাদের বেশির ভাগেরই শ্রেণিচরিত্র মধ্যবিত্তের। আমাদের দেশের কিছুটা ভাববাদী কিছুটা যুক্তিবাদী দোদুল্যমানতার মধ্যবিত্ত শ্রেণী যখন কোনো শিল্পমাধ্যমে নেতৃত্ব দেয় তখন তারা তাদের মত এবং পথ প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় হয়,যা সকল সময়েই চূড়ান্তভাবে হঠকারি এবং লং-রানে পশ্চাদপদ বলে প্রতীয়মান হয়। এর এক ভয়াবহ উদাহরণ আমাদের মুভি ইন্ডাস্ট্রি।

অনেকেই বলেন (কবীর সাহেব অবশ্য এমনটা বলেন না।) যে দেশে বেশির ভাগ মানুষ ঠিকমতো খেতে পায় না, যেখানে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে আবার বিনোদন কীসের!

কথা খারাপ না, কিন্তু রাষ্ট্র মহাশয়,আপনাদের আর কত যুগ লাগবে এ জাতির মৌলিক চাহিদা পূরণে জানা যাবে কি? আর যারা এই মুভি ইন্ডাস্ট্রির সাথে জড়িত তারা কি এ জাতির অংশ নয়? এদের মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে কীভাবে? নাকি আপনারা বলতে চান সবাই কর্পোরেটের দালালি এবং গুণগান করে বেঁচে থাকবে।

রাষ্ট্র মহাশয় তাতেও উত্তেজিত হবেন না এবং শীতল কণ্ঠে বলবেন: পূর্বসূরীদের দৃষ্টান্ত গ্রহণ করুন। তাদের দীক্ষা এবং ত্যাগ-তিতিক্ষাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে ইন্ডাস্ট্রি বাদ দিয়ে ব্যক্তি উদ্যোগে মুভি বানান—নিজে দেখুন, বুদ্ধিজীবিদের দেখান তারপর বিদেশে পাঠিয়ে দেখেন কোনো পুরস্কার-টুরস্কার পাওয়া যায় কি না।

এখন বারো মাসে তের হাজার ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল হচ্ছে। কোথাও না কোথাও ঘটনাটা ঘটেও যেতে পারে। কিন্তু দেশের দর্শকদের জন্য ভাল সিনেমা বানানোর ব্যাপারে কি কোনো কিছু করবার নেই রাষ্ট্র-মহাশয়?

আছে না কত কিছু করবার। আছে… বিদেশে পাঠিয়ে পুরস্কার আনুন, দুই চারটা পত্রিকার সম্পাদক, দুই একটা টেলিভিশনের সাথে ভাল সম্পর্ক রাখুন। আপনার ছবি দেখার জন্য স্মরণকালের ঐতিহাসিক ভিড় পরিলক্ষিত হবে।

পাঠক, নিশ্চয়ই ওয়াকিবহাল আছেন যে একসময় আমাদের দেশের তরুণরা সোভিয়েত প্রীতিকে অন্তরে রেখে আইজেনস্টাইন, তারকোভস্কিকে আইডল মনে করে শিল্পমানসম্পন্ন, সাহিত্যনির্ভর চলচিত্র তৈরির পায়তারা করেছিল। এটা ছিল সেই সময়কার বাম-বুদ্ধিজীবী মদদপুষ্ট কিছু হবু-বুদ্ধিজীবী মুভিমেকারদের সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক অবস্থান। কিন্তু ওইসব সুদৃশ্য ফ্রেমসর্বস্ব গল্প বলার বৃথা চেষ্টা কোনোরূপ মুভমেন্ট তৈরি করতে পারে নাই। কোনোরূপ আবেদন তৈরি করতে পারে নাই। যদিও তারও আগে সত্যজিৎ রায় বা ঋত্বিক ঘটক এবং ব্রেসো-গদার-ত্রুঁফো অনুসারীরা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতকে কিছুটা আলোর মুখ দেখিয়েছিলেন (উদাহরণ: জহির রায়হান)।

এখন সমস্যা আরো ঘনীভূত হয়েছে। গত শতাব্দীর শেষভাগে এখানকার কিছু মুভিমেকার হঠাৎ করে ইরানি ছবির প্রদর্শন এবং ডিসকোর্স নিয়ে একটা জোয়ার তৈরি করলেন। এবং বলতে লাগলেন এসব ছবি বিশ্ব-চলচ্চিত্রে একটা বড়সড় সাইজের বোয়াল মাছের মতো নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। (তারা অবশ্য বোয়াল মাছ বলেন নাই, তবে যা বলছিলেন তা অনেকটা এরকমই।) এবং কম বাজেটে কীভাবে মনোমুগ্ধকর গল্প বলা যায় তার দৃষ্টান্ত হিসাবে ইরানি ছবিগুলো আসতো। এমনকি এর কিছু সময় পরে দাপটশালী বঙ্গদেশীয় এক মুভি-মেকারকে অনেকে আব্বাস কিয়ারোস্তামির সঙ্গে তুলনা করা শুরু করে দিলেন।

এর পরের ঘটনা ভয়াবহ। সদ্য কৈশোর পেরুনো স্বপ্নবাজ ক্ষুদে মুভিমেকারদের নিয়ে বাংলা টিভি-নাটকের কামলা বানানোর নতুন পদ্ধতি আবিষ্কৃত হলো। শুরু হলো অল্প মজুরির অডিও-ভিস্যুয়াল শিল্প-দাসত্ব।

এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। সেটা হচ্ছে, এইসব ইরানি মুভিকে পাশ্চাত্যে দেখা হয় কট্টর শিয়া শাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক অবস্থান হিসাবে। এবং আমাদের দেশে এটাকে জাকজমক করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার অর্থ হচ্ছে আমরাও প্রায় এরকমই ধর্মীয় পরিমণ্ডলে বেড়ে উঠছি সুতরাং মুভি তৈরির ক্ষেত্রে আমাদেরও ইরানিদের মতো সংযমী হতে হবে। রাজনীতি, নারী-পুরুষের অবাধ সম্পর্ক বা যৌনতা নিয়ে এখানে কিছু দেখানো যাবে না বা কথা বলা যাবে না। এই ফতোয়া যতটা ইরানি চলচ্চিত্র প্রভাবিত কাঠবুদ্ধিজীবীদের ততটা সরকার কিংবা তার প্রতিনিধিদের নয়। তারা বলে: যা করবে খুবই অল্প পয়সায় করবে,দেখো না ইরানিরা কেমন করে!

আমাদের রাজনৈতিক-সামাজিক অবস্থা ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও ইরানি মডেলের ধীর সংস্কারের পক্ষে এই বুদ্ধিজীবীরা। সত্য কথাটি হচ্ছে, জাতি হিসাবে আমরা ইরানিদের চেয়ে কম রক্ষণশীল। কিন্তু শিল্প-সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রে ইরানের ঐতিহ্য সুদীর্ঘ এবং বিস্তৃত। ফলে তারা যখন ছবিতে কথা বলতে যায় তখন তাদের রক্ষণশীল সমাজের উপযোগী রাজনীতি, নারী-পুরুষ সম্পর্ক ও প্রকৃতি নিয়ে কথা বলতে হয় তাদের—এ কারণেই তাদের ছবিগুলিতে এত শিশুর আধিক্য আর নিষ্পাপতা নিয়ে প্রায় মিশনারী কচকচানি—মানব জীবনের টোটালিটি তাদের ছবিতে অনুপস্থিত।

দুঃখজনক হচ্ছে, আমাদের ছবি-বুদ্ধিজীবীদের দক্ষিণ আমেরিকা বা বর্তমান ইউরোপীয় মুভি বিষয়ে কিছু বলতে দেখা যায় না। অথচ চাইনিজ,জাপানিজ,মেক্সিকান, ব্রাজিলিয়ান,স্প্যানিশ, জামার্ন, ফ্রেঞ্চ, ইংলিশ এবং কিছু ক্ষেত্রে আমেরিকান ছবিগুলোও পৃথিবীর মানুষের মুভি সম্পর্কে ট্রাডিশনাল ধারণা পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। ড্যারেন অরোনোফস্কি, গ্যাসপার নো, টম টাইকার, ওলফগ্যাং বেকার, আলমাদোভার, আলেহান্দ্রো গনজালেস ইনারিতু, ডেভিড লিঞ্চ, মাইকেল হানাকি, জ্যঁ পিয়েরে জুনেট, ওং কার ওয়াই, সোডারবার্গ এদের মুভিগুলি একই সাথে আর্ট হাউস সিনেমার দর্শকদের প্রভাবিত করেছে তেমনি পেয়েছে বক্স-অফিস সাফল্য। এসব পরিচালকদের বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা সামাজিক অসঙ্গতির বিরুদ্ধে (যেন এখানকার ছবি-বুদ্ধিজীবীদের কথা শুনে শুনে তারা বানাচ্ছেন।) ছবি বানান, একই সঙ্গে সব রকম বুদ্ধিবৃত্তিক গোড়ামির বিরুদ্ধেও অডিও-ভিস্যুয়াল আঘাত হানেন। যে বিরোধিতা এখানকার বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে দেখা যায় না—এর বিপরীতে ইরানি ছবিগুলিকে মনে হয় ম্রিয়মাণ মরালে ভরা ঈশপের গল্পের শব্দ-ছবিরূপ।

২.
এবারে আসি ডিজিটাল মুভি প্রসঙ্গে। হাল নাগাদ ডিজিটাল মুভি বিষয়ে একটা অস্পষ্ট আলোচনা সরগরম হয়ে উঠেছে। চলচ্চিত্রকার নূরুল আলম আতিক একটি মুভি বানিয়েছেন ডিজিটাল ফর্ম্যাটে। মুভির নাম ডুবসাঁতার। ছবিটাকে তিনি ‘ডিজিটাল মুভি’ হিসাবে পরিচয় করিয়ে দিতে চাইছেন। এর কারণটা স্পষ্ট নয়। কেন এটা ডিজিটাল মুভি?

আমি যতটুকু জানতে পেরেছি, তিনি এটাকে টিভির জন্য বানাননি। এর বাইরে তিনি যাকে ডিজিটাল মুভি বলছেন তার সঙ্গে বিদ্যমান ডিজিটাল ফর্ম্যাটের ভিডিও ফিকশনের কোনো পার্থক্য নেই। সেক্ষেত্রে টিভিতে প্রদর্শন না করলেই কেন ভিডিও ফিকশন ডিজিটাল মুভিতে রূপ নেবে—এ প্রশ্নটা ডিজিটাল মুভি মেকারদের প্রতি জারি রইল।

কেন ফর্ম্যাটটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল? ডিজিটাল ফর্ম্যাটের মুভি এর আগে কাজী হায়াত (ক্যাপ্টেন মারুফ) এবং দেবাশীষ বিশ্বাস (শুভবিবাহ) বানিয়েছেন। তারও আগে তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ বানিয়েছেন অন্তর্যাত্রা। এছাড়াও ভিডিও ফিকশন নামে বা ভিডিও ছবি নামে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী,নূরুল আলম আতিক, গিয়াসউদ্দিন সেলিম ছাড়াও অনেকে ডিজিটাল ফর্ম্যাটে ভিডিও ফিকশন আগেই বানিয়েছেন।

ডুবসাঁতার—ডিজিটাল মুভি” শিরোনামে ফেইসবুকে অবশ্য আলোচনা ও বিতর্কের একটি জায়গা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল মুভি বিষয়ে সেখানে আলোচনা খুব আগায় নি। আলোচনাকারীদের একজন ইশতিয়াক জিকো কিছু প্রশ্ন তুলে ধরেছিলেন যেগুলি অমীমাংসিত থেকে গেছে। প্রশ্নগুলি এরকম:

১. এ ধরনের ডিজিটাল মুভি কোথায় প্রদর্শিত হবে?
২. ছবিগুলোর টার্গেট অডিয়েন্স কারা?
৩. ছবির লগ্নিকৃত টাকা কীভাবে উঠে আসবে?
৪. টাকা উঠে আসার ব্যপারে আগাম কোনো সার্ভে করা হয়েছিল কি?
৫. ছবির ডিস্ট্রিবিউশনের কোনো আগাম পরিকল্পনা ছিল কি? থাকলে প্ল্যানটা সবার সামনে প্রকাশ করা যায় কি?
৬. এ ছবি কোনো ন্যাশনাল অথবা মাল্টিন্যাশনাল কম্পানির স্পন্সরে চলবে কি?

আমাদের দেশের মূলধারার চলচ্চিত্র আজ কোমাতে আছে,এ বিষয়ে কারও সন্দেহ থাকবার কথা না। রমরমা পাইরেটেড ডিভিডি ব্যবসা মানুষের স্বাদ বদলে দিয়েছে। তাই যেনতেন ছবি বানিয়ে পার পাওয়ার কিছু নাই। মুভির হলগুলি এখন কবীর সাহেবের সেই রিকশাঅলা আর মধ্যবিত্তের স্কুলপালানো ডানপিটে ছেলেদের বিনোদন মাধ্যম। অর্ধেকেরও বেশি সিনেমা হল আজ বন্ধ হয়ে আছে। কিছু কিছু হল টিকে আছে এক টিকেটে দুইটি বিদেশী ছবি দেখিয়ে। এ সময়ে দরকার ছিল একটি মুভমেন্টের—সেটা হলো মেইনস্ট্রিম মুভিকে বাঁচিয়ে রাখার মুভমেন্ট। যেমনটা হলিউড ঠেকাতে তৈরি হয়েছিল ফ্রেঞ্চ নিউ ওয়েভ। আমরা কেউ ওদিকে নজর দেই না। আমরা ধরেই নিয়েছি ওটা যাওয়ার মতো জায়গা না—আমাদের মতো এলিটদের জায়গা ওটা না।

তবে এফডিসিতে গিয়েই বা কী লাভ? সেখানে ছবি বানানোর ক্যামেরা পাওয়া যায় না, সেগুলি নিয়মিত ভাড়া খাটে বিজ্ঞাপন তৈরিতে—মেইনস্ট্রিমের বোকা-সোকা মুভি মেকাররা এখন নিজেদের এফডিসিতেই সুবিধা পাওয়ার দিক থেকে দ্বিতীয় সারিতে চলে গেছেন। বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাতারা প্রায়শই প্রথম শ্রেণীর সুবিধাভোগী হিসাবে ক্যামেরা ও এফডিসির সকল সুবিধা ভোগ করে থাকেন এখন।

এদিকে আরেক ফান্ডা চালু করেছে আমাদের টিভি চ্যানেলগুলি। তারা আজ বাংলা সিনেমার রক্ষাকর্তার ভূমিকায় আবির্ভূত,শেষ পর্যন্ত বড় পর্দার রক্ষণাবেক্ষণ নাকি করবে ছোটপর্দাই। এ যেন শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের চরিত্র। বড়দা বিপদে পড়েছেন ছোড়দা জমিজমা সব লিখে নিয়ে বলছেন,’দাদা তোমার তো অনেক বিপদ তোমার ঝিলের পাড়ের ছ’বিঘে জমি আমার নামে লিকে দ্যাও দেকিনি। সর্বসাকুল্যে চারশ উনসত্তর টাকা চাইর আনা পাবা। একন একশ উনসত্তর টাকা আর এই ন্যাও চাইরানা …রাকো বাকিডা লাগলি নিয়েনে।’অসহায় বড়দা,ছোড়দার নামে জমি ‘লিকে দিল’, কারণ বড়দার অনেক বিপদ।

সেইসাথে আছে স্ট্যান্টবাজি। মুভির গল্প ঠিক হওয়ার আগেই মুভি বানানেওয়ালারা আজ-কাল ঘোষণা দিয়ে দিচ্ছেন: সম্পূর্ণ হ্যান্ডহেল্ডে চিত্রায়িত করবো।… এরপর একটা মুভি বানাবো যেখানে কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক থাকবে না… কিছু দৃশ্য থাকবে যেগুলো ফ্লাশব্যাক সাদাকালো আর বাকিটা রঙিন… যদিও গল্প এখনো ভাবি নাই। এর পর বানাবো ৩৫ মিমি ক্যামেরায়.. উফ্, ডেপথ অফ ফিল্ড.!.. ওয়াইড শট থাকবে প্রচুর… পুরা গ্রিন আর ব্লু ব্যাকগ্রাউন্ড !.. অবশ্য গল্পটা একটু স্যাটায়ারে করবো… কারণ স্যাটায়ারের কমেডিতে অনেক মজা পায় দর্শক। এইভাবেই আর্ট আর রিয়েলিটির অলৌকিক সম্মেলন ঘটিয়ে থাকেন আমাদের মুভিমেকাররা।

কবীর সাহেব আর কী করবেন!

paangkhaa@hotmail.com

free counters

বন্ধুদের কাছে লেখাটি ইমেইল করতে নিচের tell a friend বাটন ক্লিক করুন:

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিক্রিয়া (7) »

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাঈদ জুবেরী — জুন ১৪, ২০০৯ @ ৩:০১ অপরাহ্ন

      “টিভিতে প্রদর্শন না করলেই কেন ভিডিও ফিকশন ডিজিটাল মুভিতে রূপ নেবে—এ প্রশ্নটা ডিজিটাল মুভি মেকারদের প্রতি জারি রইল।”

      – সাঈদ জুবেরী

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আহমাদ মাযহার — জুন ১৫, ২০০৯ @ ২:৪৪ পূর্বাহ্ন

      বাংলাদেশের ডিজিটাল মুভি সম্পর্কে যে ৬ টি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে তার উত্তর খোঁজা সত্যি খুব জরুরি।

      সিনেমার পক্ষে ডিজিটাল, অ্যানালগ বা ফিল্ম এইসব তো মাধ্যমের কারিগরি বিভিন্নতা মাত্র। এই তিনের যে মাধ্যমেই সিনেমা উপস্থাপন করতে চাওয়া হোক না কেন তাকে দৃশ্য ও ধ্বনির মাধ্যমেই মানুষের মধ্যে অনুভূতি বা আবেদন সৃষ্টি করতে হবে। দর্শকের কাছে তো শেষ পর্যন্ত দৃশ্যের ও শ্রাব্যের সম্মিলিত প্রয়োগটুকুকেই পৌঁছাতে হবে! সেটা বড় পর্দাতেই হোক বা ছোট পর্দাতেই হোক। শিল্পমাধ্যম হিসাবে এটাই হচ্ছে তার ক্ষমতার জায়গা।

      এবারে আসা যাক প্রদর্শন বিষয়ে। দর্শকদের সামনে প্রদর্শনই যদি না করা যায় তাহলে দৃশ্যশ্রাব্য বানিয়ে কী লাভ, বিশেষত যেখানে বিপুল বিনিয়োগের প্রশ্ন জড়িত সেখানে বিনিয়োগ ফিরে আসার দাবিকে উপেক্ষা করবার তো উপায় নেই!

      লেখক টেলিভিশনে চলচ্চিত্র প্রদর্শনকে সহ্য করতে পারছেন না। কিন্তু চলচ্চিত্র দর্শকদের চলচ্চিত্র ক্ষুধা মেটাতে টেলিভিশনের বাস্তবতাকে এখনই অস্বীকার করবার কোনও উপায় তো দেখছি না। অন্তত বাংলাদেশে এটা এখনও বাস্তব। আরও বেশকিছুকাল বাস্তব থাকবে বলেই মনে হয়। অথচ প্রকৃতপক্ষে টেলিভিশন বিনোদন মাধ্যম নয়, প্রধানত তথ্যের প্রচার মাধ্যম। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় এটা প্রধানত বিনোদনের মাধ্যম হিসাবেই সবার কাছে এখনও কার্যকর। একই কারণে এখনও বাংলাদেশের সিনেমার দর্শকেরা টেলিভিশনের দিকে তাকিয়ে থাকেন। সিনেমাকে ব্যাপক দর্শকের কাছে নিয়ে যেতে পারছে টেলিভিশন–এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় না নিয়ে সিনেমার অগ্রযাত্রা বাংলাদেশে আরও দীর্ঘকাল সম্ভব হবে না।

      সিনেমার স্রষ্টাদের মধ্যে যারা বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর তাঁরা যখন বাংলাদেশের মানুষের সাংস্কৃতিক জীবনকে ধারণ করতে পারেন তখন নির্মাতা হিসাবে খানিকটা সফল হন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁরা বাংলাদেশের মানুষের সংস্কৃতিকে অনুধাবন করতে পারেন না। পুঁজির প্রভাবে এবং শৈল্পিক যোগ্যতায় এই শিল্পমাধ্যটি এখন যে শক্তি অর্জন করেছে তার ধারেকাছে যাবার মতো যোগ্যতা যে আমাদের সিনেমাবুদ্ধিজীবীদের একজনেরও নেই একথা তাঁরা একেবারেই অনুভব করতে পারেন না বলে নানা বড় বুলি ছেড়ে শেষ পর্যন্ত মূষিক প্রসব করেন।

      রাজীব আহমেদ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সত্য উচ্চারণ করেছেন বটে তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সিনেমাবুদ্ধিজীবীদের ভাবনাঘুর্ণ্যাবর্তেই ঘুরপাক খেয়েছেন। পথের দিশার আভাসও খুঁজে পান নি।

      – আহমাদ মাযহার

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এহসানুল কবির — জুন ১৫, ২০০৯ @ ৩:১০ অপরাহ্ন

      “নাকি আপনারা বলতে চান সবাই কর্পোরেটের দালালি এবং গুণগান করে বেঁচে থাকবে।” —আর্ট, রিয়ালিটি আর ডিজিটালের ঘোলাপানিটা যারা তৈরি করেছেন, জারি রাখছেন কিংবা জারি রাখার গাছের গোড়ায় পানি দিয়ে যাচ্ছেন তাদের উদ্দেশে রাজিব আহমেদের এটা একটা গোড়া-ধরে-টান-মারা প্রশ্ন।

      লেখকের প্রতি আহমাদ মাযহারের অনুযোগ (“লেখক টেলিভিশনে চলচ্চিত্র প্রদর্শনকে সহ্য করতে পারছেন না। “)-এর প্রত্যুত্তরও ওই প্রশ্নটার ভিতরেই দেওয়া আছে।

      “সিনেমাকে ব্যাপক দর্শকের কাছে নিয়ে যেতে পারছে টেলিভিশন—এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় না নিয়ে সিনেমার অগ্রযাত্রা বাংলাদেশে আরও দীর্ঘকাল সম্ভব হবে না।”—বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে আহমাদ মাযহারের এই মন্তব্য যতটুকু সত্য বা বাস্তবসম্মত, তার চেয়ে অনেক বড় সত্য হল দর্শককে টেলিভিশনের কাছে নিয়ে যাওয়ার অর্থ শেষ পর্যন্ত তাকে ওই কর্পোরেট কুমিরের খাদ্য বানানোই। সুতরাং বিকল্প মাধ্যম (সেটা বিকল্প টেলিভিশন চ্যানেলও হতে পারে)-এর জন্মকে ত্বরান্বিত করা ছাড়া আপাতত কোনো অ-কর্পোরেট পথ খোলা নাই। যেটা আছে বলে বোকা অথবা সুবিধাবাদিরা মনে করে অথবা করাতে চায় সেটা আসলে ওই বড়দারই পথ, ছোড়দার নামে জমি লিখে দেওয়ারই আত্মবিধ্বংসী পথ।

      অনেকেই জানেন, কর্পোরেট কুমিরের আঁতুড়ঘর খোদ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রেও নানা বিকল্প মাধ্যম চালু আছে যেগুলা কর্পোরেটের নুন খায় না, গুণও গায় না।

      আর বিকল্প মাধ্যম তৈরি করতে রাঘব-বোয়াল লাগে না; একই উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে অনেকগুলা চুনোপুটির একত্র হওয়া লাগে শুধু। বলে রাখা ভালো, চুনোপুটি তারা শুধু পুঁজির ক্ষেত্রেই; অন্যান্য ক্ষেত্রে রাঘব-বোয়ালেরও বাড়া।

      নমস্কার রাজিব আহমেদ, হক কথাগুলাকে হিম্মতের সঙ্গে সম্প্রচার করার জন্য।

      – এহসানুল কবির

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আহমাদ মাযহার — জুন ১৬, ২০০৯ @ ৪:০৬ পূর্বাহ্ন

      কর্পোরেটের দালালি করেই তো দেখি এখন আমাদের সিনেমা কোমায় থাকা অবস্থায় বেঁচে আছে! এর বাইরে বাংলাদেশের সিনেমার অস্তিত্ব কোথায়? আর অস্তিত্ব যদি থেকেও থাকে সে সিনেমাকে কি শিল্পমাধ্যম হিসাবে বাংলাদেশের সিনেমাবুদ্ধিজীবীরা সমর্থন করতে পারবেন? বাংলাদেশের সিনেমার জন্য এটা নিঃসন্দেহে গ্লানিকর! কিন্তু বাংলাদেশের কোন সিনেমাস্রষ্টা আছেন এর বাইরের এ প্রশ্নেরও কি কোনও স্পষ্ট জবাব আছে? এমনকী আমাদের বিকল্পধারার নির্মাতারা তো তাঁদের সিনেমা বানানোর অনুশীলনটাকেও বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছেন হয় কর্পোরেট পুঁজির পণ্যের বিজ্ঞাপন বানিয়ে, না হয় বিশ্বায়নপুঁজির পোষ্য এনজিওর প্রচারণামূলক প্রামাণ্য চিত্র বানিয়ে!

      এই সিনেমা যে প্রকৃত সিনেমা নয় তা সকলেই জানেন। কিন্তু এই বাস্তবতার বাইরে কীভাবে যাবেন সে দিশা কেউ খুঁজে পান না। আমি এই দিকটির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই বলেছি যে, ‌‌“রাজীব আহমেদ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সত্য উচ্চারণ করেছেন বটে তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সিনেমাবুদ্ধিজীবীদের ভাবনাঘুর্ণ্যাবর্তেই ঘুরপাক খেয়েছেন। পথের দিশার আভাসও খুঁজে পান নি।”

      রাষ্ট্রব্যবস্থার কাছেই বা আমরা দাবি জানাব কীভাবে যেখানে রাষ্ট্র নিজেই বেঁচে রয়েছে কর্পোরেটের জলহাওয়ায়! এই রাষ্ট্র তো বিশ্বায়ন পুঁজির সরাসরি পোষ্য! আমার মনে হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তবতা এহসানুল কবির বুঝলেও বাংলাদেশের বাস্তবতা ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারেন নি। তিনি বিকল্প হিসাবে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের যে উদাহরণ দিলেন তা হয়তো আমলে নেয়া যেত যদি বাংলাদেশে বিকল্প পুঁজির কোনও অস্তিত্ব থাকতো। এ-কথা নিশ্চয়ই স্বীকার করতে হবে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বুর্জোয়া রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কৃতি বহাল আছে অনেক দিন ধরে। নানা বিপর্যয় সামলে ওঠার বা নতুন প্রবর্তনার ধাক্কা সামলে নেয়ার শক্তি মার্কিন সমাজ-অর্থনীতি ব্যবস্থার রয়েছে। ফলে সে সমাজে নানা বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে ভিন্ন ভিন্ন পুঁজির অবস্থান নিতেও দেখা যায়। আমাদের সমাজে এখনও জাতীয় পুঁজিই ঠিকভাবে গড়ে ওঠেনি বরং বিশ্বায়নপুঁজির গ্রাসে পরিণত হয়েছে। আমি বাংলাদেশের সিনেমার টেলিভিশন-নিভর্রতাকে এই বাস্তবতার নিরিখেই দেখতে চেয়েছি।

      সিনেমার সঙ্গে পুঁজির সম্পর্ক যতটা গভীর অন্যান্য শিল্পমাধ্যমের ততটা নেই। সিনেমার যুদ্ধে অনেকগুলো চুনোপুঁটির একত্র হতে হলে নিদেনপক্ষে পুঁটিকে তো খুঁজে পেতে হবে? একত্র হওয়ার কথা তো পরে আসছে। সারাদেশের মাত্র কয়েক হাজার শিল্পরসিক সিনেমাদর্শকের জন্য সফলভাবে সিনেমা বানিয়ে হয়তো সিনেমার স্রষ্টা হিসাবে পরিতৃপ্তি পাওয়া যেতে পারে কিন্তু সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের সিনেমার প্রকৃত মঙ্গল তাতে হবে সে কথা জোর দিয়ে বলার সময় এখনও আসেনি। কারণ ভালো সিনেমার জন্য কেবল পুঁজি আর সদিচ্ছাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন যথেষ্ট পেশাগত সংস্কৃতির সামর্থ্য। এদিকে আমাদের ঘাটতি এখনও বিপুল। সেটাও কাটিয়ে ওঠার সংগ্রাম করতে হবে।

      বিকল্পধারায় যাঁরা সিনেমা বানিয়ে শিল্পস্রষ্টা হিসাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা নিশ্চয়ই জানেন যে, একটা মানসম্পন্ন সিনেমা হলে হাউসফুল হলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কত টাকা পান। কতগুলো সিনেমা হলে কতদিন হাউসফুল গেলে মুনাফা ফেরত আসতে পারে সে হিসাবও নিশ্চয়ই তাঁদের কাছে আছে!

      যেনতেন প্রকারে দর্শক টানতে না চেয়ে যাঁরা শিল্পসৃষ্টি করতে চান তাঁরা যদি মুনাফা ফিরবে না এই ভয়ে সিনেমা বানানো বাদ দেন তাহলে কি সিনেমার মঙ্গল হবে? নাকি সিনেমা বানানো এবং সিনেমার দর্শকের সামনে হাজির হওয়া—এই দুইয়ের সংগ্রামই চালিয়ে যাওয়া ভালো হবে? প্রকৃত বাস্তবতাকে অনুধাবন করেই তো সিনেমার পক্ষে আমাদের রণকৌশল ঠিক করতে হবে! টেলিভিশনের প্রসঙ্গ আমি এই অবস্থা বিবেচনা করেই তুলেছি। কর্পোরেট পুঁজির তাঁবেদারি বহাল রাখবার জন্য বলি নি।

      – আহমাদ মাযহার

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Moinul Haque — জুন ২৩, ২০০৯ @ ৭:০৪ পূর্বাহ্ন

      লেখাটি পড়লাম। শ্রেণী বিভক্ত সমাজ বাস্তবতায় গণসংস্কৃতির অবস্থাও বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকল শ্রমিক পরিবারের মত। সাম্রাজ্যবাদের লগ্নি পুঁজির পাহারাদার ‘রাষ্ট্র মহাশয়’ নিশ্চয় কর্পোরেট মিডিয়ার সেই সংস্কৃতি রক্ষা করবে যা নিশ্চিত ভাবে তাদের বাণিজ্যিক আধেয় হিসেবে কাজ করবে। এর বিপরীতে জাতীয় গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে উর্ধে তুলে ধরতে শ্রেণী সচেতন শিল্পসম্মত মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে। ধন্যবাদ রাজীব আহমেদকে তার লেখার জন্য। আগামি লেখায় সাধারণের বিনোদন ও গণ সংস্কৃতির সংকট থেকে উত্তরণ সম্পর্কে মত ব্যক্ত করার আহবান রইল।

      মঈনুল হক
      যশোর

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আবু শাহেদ ইমন — জুলাই ৫, ২০০৯ @ ১:০১ পূর্বাহ্ন

      লেখাটা পড়ে ভালো লাগল।

      – আবু শাহেদ ইমন

    • প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন mahmud ullah — december ২, ২০১১ @ ৬:৪১ অপরাহ্ন

      ভাল লাগলো ।

আর এস এস

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

 
প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন:
১. ছদ্মনামে করা প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে করা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না। বিষয়সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান।
২. বাংলা লেখায় ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
৩. পেস্ট করা বিজয়-এ লিখিত বাংলা প্রতিক্রিয়া ব্রাউজারের কারণে রোমান হরফে দেখা যেতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।
 


Disclaimer & Privacy Policy  |  About us  |  Contact us

© bdnews24.com