কবিতা

ঈদের কবিতা: বিশ্বাসের বারান্দা ও প্রথম পরশ

শিমুল সালাহ্উদ্দিন | 12 Aug , 2019  


তুমি এলে পারতে

নগরের জ্যামজটে
থমকাতে থমকাতে
ঘুমন্ত আমাকেই
চমকাতে চমকাতে
আকাশ উল্টো করে
সমুদ্র সরোবরে
বহুদূর পারি দিয়ে
তুমি এলে পারতে!

দুজনেই একলাতে
ভোর ভোর কুয়াশাতে
হুট করে দেখা করে
ভোঁতা চোখ মগজেতে
হুট করে মিশে যেতে
পারতে তো পারতে।
তুমি চেলে পারতে!

পারতে না বলো সোনা!
কত কত দামে বোনা
এইসব অভিমান
মোর চেয়ে বেশি মোর
ভালো চাহিবারই গান
না গাইলে, পারতে।

এই রাত দমবাঁধা
প্রশ্বাস যেনো ধাঁধা
ভুলে যাই কখনোবা,
ঠিক ঠাক টানতে
তুমি যত মনে হও
অভ্যাস ভুলে রও
পারি না যে পারি না যে
তুমি নাই এইটুকু মানতে।
এই হিমালয় বোঝা
প্রতিদিন লয়হীন
একা একা, টানতে।

সব অভিযোগ ভুলে
সব অভিমান গুলে
শাদাশার্ট নীল করে
পকেটের ঠিক কাছে
লিপস্টিক লাল ফুলে
ঠোঁট এঁকে ছাড়তে।
তুমি এলে পারতে।

আমি জানি ঠিক ঠিক
তুমি চেলে পারতে,
হুট করে বুকে পড়ে
হু হু হাউ মাউ কেঁদে
দুমদাম কিলঘুষি মারতে।
তুমি এলে পারতে।

কতদিন দেখি নাকো
ঠোঁটে মুখ লেপি নাকো
তুমি এলে পারতে!
অন্তত ভালোবেসে
আরো আরো মারতে,
তুমি এলে পারতে।

অথচ কী কপাল
এ জীবনে কোনদিন
শেখো নাই, হারতে।

ইচ্ছে

তোমার অভিমানের পাশে গুটিশুটি বেড়ালছানার মতো বসে থাকতে ইচ্ছে করে
তোমার রাগান্বিত থরথর অধরের কাছে ভীত মরালের মতো, কিম্ভুত;
মিঠেআলুর বাঁকের মতো চিবুকের কাছে ইচ্ছে হয় পরশ হয়ে বসি
কলকল নদীর মতো তোমার হাসির পাশে তুফান বেগে বইতে ইচ্ছে করে আমার

আমার খুব তোমার জেদের মতো প্রচণ্ড হতে ইচ্ছে করে
তোমার অভিমানের মতো ভীষণ, তোমার আদরের মতো সরল

আমার খুব তোমার ইচ্ছে হতে ইচ্ছে করে

অথচ তোমার ইচ্ছেগুলোর ডানা কে বা কারা ছিড়ে দিয়েছে,
কার কার ইচ্ছে হতে গিয়ে তাদের পথের পাশে ফেলে এসেছো
তোমার সুঠাম সুবর্ণ ইচ্ছেগুলো

দীর্ঘ ঘুমহীন রাতের শেষটার মতো তোমার ইচ্ছেগুলোতে আবার
স্বাধীন পাখির ডানা জুড়ে দিতে ইচ্ছে করে আমার
ইচ্ছে করে, নিথর তোমার ইচ্ছেশরীরে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করি
যেনো চ্ছলচ্ছল জলের কল্লোলের মতো নেচে ওঠে তারা

হঠাৎ দৌঁড়ে এসে সবটা দিয়ে জড়িয়ে ধরে বলে,
ভালোবাসি শিমুল, ভালোবাসি কবি, আমি তোমার

স্বপ্নের কবিতা

বহুদিন পর তাকে দেখলাম, স্বপ্নে।
ভয় পেয়ে পেয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরছে।
স্বপ্নের এক বাস্তব তাকে খুব তাড়া করছে।

ভয় পেয়ে পেয়ে বড় হয়েছিলো সে, চারিপাশের
ভয় জয় করে প্রেমে তো পড়েছিলো, প্রেমের

বহুদিন পর তাকে দেখলাম, স্বপ্নে।
একা একা খুব, বড় মানুষের মতো বাচ্চা মানুষ করছে,
জামাইয়ের শার্ট জাঙ্গিয়া মোজা ছাদে মেলে ধরছে
দিনে একুশবার তার পুতুলটারে তুলুপুলুতুলু ধরছে

নড়ছে অথচ নড়ছে,
বুকের লকেটে আদিম আমার সেই ছবিটাই নড়ছে
যেনো ইচ্ছে হচ্ছে বলি, আয় নিয়ে যা সব, আয় সব নে
বহুদিন পর তাকে স্বপ্নে দেখলাম, স্বপ্নে।।

সেই একই রকমের আছে, উদার, বলছে সব তোর, নে নে
বহুদিন পর খালি তাকে দেখলাম আমি, যত্নে।

হায় সকলি মনে করতে হয়

হায় সকলি মনে করতে হয়
নাম ক্রিয়া আর বিষণ্ন অব্যয়
হায় সকলি মনে করতে হয়
বুকে তোমার আমার বরাভয়

হায় সকলি লাগায় চোখে ধাঁধা
ভেতর ঘরে আমারি যেতে বাঁধা
তোমার তবু বিষণ্নতার ভয়
হায় সকলি মনে করতে হয়

ডিমরুটি আর চায়ের পেয়ালাতে
রোজ সকালের বিরক্ত মুখগুলো
খুব চেয়েছে ভাঙা সাঁকোর জয়,
হয় সকলি মনে করতে হয়

অথচ এই মৃত চাঁদের দেশে
এসেছিলে ভীষণ ভালোবেসে
মুচড়ে দেয়া মনে রেখে হাত
বলেছিলে, তোমার নেই ভয়।
হায় সকলি মনে করতে হয়

মন হারিয়ে মনে করার খেলা
খেলছি দুজন ভিন দুনিয়ায় বসে
নিরবতাতে মেনে নিচ্ছি ক্ষয়
হায় সকলি মনে করতে হয়

করতে মনে কষ্ট লাগে খুব
হয়না লাঘব আত্মযাতনারা
কোন মলমে ঢাকবে পরাজয়!
হায় সকলি মনে করতে হয়।

এমন যদি হতো কোনদিন
মগজ ছিড়ে মন বেরিয়ে গেছে
শরীরখানির হয়েছে বিলয়
তখনো কি বলতে তুমি একা
হায় সকলি মনে করতে হয়!!

বিশ্বাসের বারান্দা

সবাই কী নিভৃতে খোঁজে এমন একটা নিজের বারান্দা
যেখানে দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরালেই নেমে আসে বৃষ্টি
আর তৎক্ষণাৎ বেজে ওঠে আলাদা করা রিং টোন
অভিযোগ রাগ প্রতিশোধ অভিমান ভুলে
হয়তো কেউ ফোন করেছে

কঠিনকণ্ঠ কুশল জিজ্ঞাসার পর
কান্নার ওপার থেকে তার
নমনীয় গলা ও গোঙানির শব্দ, গাঢ় নিঃশ্বাস,
অভিযোগের ফর্দ আর শেষই হতে চায় না,
অবিশ্বাস লতানো পরগাছার মতো
মনের অন্ধকার বেয়ে পুরোঘর-চালা ছেয়ে দিতে চায়।

সেগুলো কেটে ছেটে এই বারান্দায় আবার দুটো
নতুন বেলিগাছ লাগাবো ভাবি, সিগারেট টানতে
ভুলে যাওয়া ফোন কানে নিজেকে আমি ডাকা বেয়ারা লোকটা।

রজনীগন্ধার ঝাড় হবে টবে আর বারান্দাটার
একটা নতুন নামও থাকবে, ‘বিশ্বাসের বারান্দা’।

প্রথম পরশ

সে এক স্পর্শের সাক্ষী হয়েছি, শোনো,
কোনো ভাষার সক্ষমতা নাই তারে
ঠিকঠাক বর্ণনা করে

এমন সুন্দর সে, আত্মার সাথে কথা বলে
এমন সাবলীল সে, আনে তুলে
সমস্ত ওঙ্কার জারুলজঙ্গলের

যেনো সে আমার চোখের ভেতর ডুবে
যেনো সে আমার বুকের ভেতর ঢুকে
সাঁতরে আসে আমার আনখশির
নবীজির
মেরাজের মতো তার চিহ্নহীন নিঃশব্দ ভ্রমণে
আচমনে আচমনে
ফিনিক ফোটা রক্তে ভিজে যায় আমার হৃদয়,
চরাচরময়
যেনো কসাইয়ের নৈমিত্তিক ছুরি
একটুও ঢেউ না তুলে বাতাসে,কাজ করে যায়—

সে এমন সুন্দর, বিনীতার নির্ভার ঢলে পরা হাসির মতো
সেই স্পর্শ এমোন, সবকিছু বিবর্ণ করে তোলে;সমস্ত অতীত,
পুরোটা পুরাকাল জুড়ে তার
সুগন্ধ ছড়িয়ে দেয় সময়ের স্বাভাবিক নিয়ম ভেঙেচুড়ে আর
সমস্ত কালাকাল জুড়ে সেই পরশ ছাড়া কিছুই থাকে না চাইবার।

সে এক স্পর্শের সাক্ষী হয়েছি, শোনো
কোনো ভাষার সক্ষমতা নাই তারে ঠিকঠাক বর্ণনা করে
শিমুল পেয়েছে তা, রাখো বুকে তারে জড়ায়ে আদরে।

মুড়ি খাও

ভাবতেছিলাম, নদীর ধারে
তোমায় নিয়া যাবো
হাওয়াই বোটে উঠবো দুজন
গুড় মিশিয়ে প্রচুর মুড়ি খাবো
কিন্তু তুমি এই আমারে
মুড়ি খাইতে দিয়া
কার লগে যে ভাগলা আজি
হাওয়াই নৌকা নিয়া!

ভাগলা তো আর ভাগলা খালি,
উধাও দিলা ডুব
আমি একলা খাই যে মুড়ি,
বিপণ্ন উজবুক।।


3 Responses

  1. Afsan Chowdhury says:

    The first one is very fresh, almost like romantic rap. Original style. The rest are good but a bit conventional. The last one not so good. But you communicate which is great. And you don’t pretend, even better. Congrats. . .

  2. Salil Mozumder says:

    Shimul bhai, congratulation for your nice poem. I have read everyone.

  3. আবুল মোমেন says:

    প্রিয় শিমুল, তোমার কবিতাগুলো ঈদের এই অলস বিকেলবেলায় খুব আনন্দ দিলো। তোমার রক্তাক্ত হৃদয় ছিড়ে ছিড়ে যেন লিখেছ কবিতাগুলো। শুভকামনা তোমার জন্য। যে ‘তুমি’ এলে পারতো, সে যেনো চলে আসে, এই শুভকামনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.